হলিউডে ব্লকবাস্টার সিনেমা তৈরির স্বপ্ন বহুদিনের। ১৯৭৫ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গের জস সিনেমা উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে ১০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে নতুন ইতিহাস গড়েছিল। সেই থেকে বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য হয়ে ওঠে বক্স অফিসে বিপুল আয়। তবে একটি সিনেমা কীভাবে শতকোটি ডলারের ব্যবসা করে, সেই প্রশ্নের সহজ কোনো উত্তর নেই।
ফোর্বসের বিনোদনবিষয়ক লেখক টিম ল্যামারসের বিশ্লেষণ বলছে, সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর সাফল্যের পেছনে দুটি বিষয় বিশেষভাবে কাজ করেছে—দর্শকের সঙ্গে গল্পের সংযোগ এবং পরিচিত চরিত্র ও ফ্র্যাঞ্চাইজির আকর্ষণ। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসের হিসাব বিশ্লেষণ করে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে পরিচিত গল্প, জনপ্রিয় চরিত্র, আবেগ এবং দর্শনীয় নির্মাণশৈলী মিলে তৈরি হয়েছে একেকটি ব্লকবাস্টার।
সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা ১০ সিনেমা
মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে টিকিটের দাম সমন্বয় না করে বিশ্বব্যাপী আয়ের হিসাবে সর্বকালের সেরা ১০ সিনেমার তালিকায় আটটি ছবির আয় ২০০ কোটি ডলারের বেশি। বাকি দুটি ছবিও সেই মাইলফলকের খুব কাছাকাছি।
‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ (২০১৯)—২৯৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।
‘অ্যাভাটার’ (২০০৯)—২৯২ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ (২০২৬)—২৫১ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ (২০২২)—২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
‘নে ঝা ২’ (২০২৫)—২২৭ কোটি ডলার।
‘টাইটানিক’ (১৯৯৭)—২২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেন্স’ (২০১৫)—২০৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।
‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ (২০১৮)—২০৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।
‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ (২০২১)—১৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার।
‘জুটোপিয়া ২’ (২০২৫)—১৮৭ কোটি ডলার।
শীর্ষে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’
২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ এখনো বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার তালিকায় শীর্ষে। অ্যান্থনি ও জো রুশো পরিচালিত ছবিটি ছিল মার্ভেলের মূল অ্যাভেঞ্জারদের দীর্ঘদিনের গল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস ইভানস, ক্রিস হেমসওয়ার্থ ও স্কারলেট জোহানসনের মতো তারকারা অভিনয় করেছেন এতে।
২০১৮ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’-এর শেষে থানোসের আঙুলের এক চুটকিতে মহাবিশ্বের অর্ধেক প্রাণী বিলীন হয়ে যায়। সেই ঘটনার পাঁচ বছর পরের কাহিনি নিয়ে নির্মিত এন্ডগেম। হারিয়ে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনতে অ্যাভেঞ্জাররা শুরু করে সময়ভ্রমণের এক বিপজ্জনক অভিযান।
ছবিটির সাফল্যের বড় কারণ ছিল দর্শকের দীর্ঘদিনের আবেগ ও অপেক্ষা। ২০০৮ সালে আয়রন ম্যান দিয়ে যে গল্পের সূচনা, এক দশকের বেশি সময় ধরে সেই গল্পের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন দর্শকেরা। ফলে প্রিয় চরিত্রগুলোর বিদায়, ত্যাগ ও আবেগঘন পরিণতি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেছিলেন তাঁরা। যদিও ২০২৪ সালে মার্ভেল ঘোষণা দেয়, আবারও ফিরছেন অ্যাভেঞ্জাররা। আসছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’।
‘অ্যাভাটার’ বদলে দিয়েছিল সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা
জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার’ মুক্তি পায় ২০০৯ সালে। কাল্পনিক গ্রহ প্যান্ডোরার পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিতে দেখা যায়, সাবেক সেনাসদস্য জেক সালি সেখানে গিয়ে এক ভিন্ন জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। নাভি জনগোষ্ঠীর সদস্য নেইতিরির প্রেমে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যায় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। পৃথিবীর মানুষের লোভ ও প্যান্ডোরার প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দাঁড়ান তিনি।
‘টাইটানিক’-এর পর আবারও বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন ক্যামেরন। তবে শুধু গল্প নয়, ছবিটির ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ও চোখধাঁধানো দৃশ্যও দর্শকদের আকৃষ্ট করেছিল। বড় পর্দায় নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম হয়েছিল ছবিটি। টিকিটের বাড়তি দাম দিয়েও দর্শকেরা সিনেমাটি দেখতে আগ্রহী হয়েছিলেন।
১৩ বছর পর মুক্তি পায় ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’। এবার প্যান্ডোরার জলজ পরিবেশ ও মেটকায়িনা জনগোষ্ঠীকে ঘিরে এগিয়েছে গল্প। প্রথম ছবির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সিক্যুয়েলটিও বিশ্বব্যাপী ২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করে। ক্যামেরনের পরিচালনায় ২০০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করা সিনেমার সংখ্যা দাঁড়ায় তিনে—‘টাইটানিক’, ‘অ্যাভাটার’ও ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’।
চীনা অ্যানিমেশনও দেখিয়েছে চমক
তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনা অ্যানিমেশন সিনেমা ‘নে ঝা ২’। ইউ ইয়াং পরিচালিত ছবিটি ২০১৯ সালের ‘নে ঝা’র সিক্যুয়েল। চীনা পুরাণের জনপ্রিয় চরিত্র নে ঝাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই অ্যাকশন-ফ্যান্টাসি ছবির গল্প।
বিশ্বব্যাপী ২২৭ কোটি ডলার আয় করা ছবিটির সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে চীনের বাজার থেকে। মোট আয়ের প্রায় ২২০ কোটি ৯০ লাখ ডলারই এসেছে দেশটি থেকে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ছবিটির আয় ছিল মাত্র ২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের মতো। অর্থাৎ হলিউডের বাইরের একটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পুরাণভিত্তিক অ্যানিমেশনও যে বিশ্ব বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেতে পারে, তার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে ‘নে ঝা ২’।
তালিকায় ব্যতিক্রম ‘টাইটানিক’
সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার তালিকায় ‘টাইটানিক’ কিছুটা ব্যতিক্রম। কারণ, অন্য ছবিগুলোর অধিকাংশই কল্পবিজ্ঞান, সুপারহিরো কিংবা ফ্যান্টাসিনির্ভর। কিন্তু জেমস ক্যামেরনের ১৯৯৭ সালের এই সিনেমার গল্পের ভিত্তি বাস্তব একটি ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা।
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও কেট উইন্সলেট অভিনীত ছবিটিতে জ্যাক ও রোজের প্রেমের গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১৯১২ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া টাইটানিক জাহাজের মর্মান্তিক ঘটনা। শ্রেণিবৈষম্য, প্রেম, বিচ্ছেদ ও মৃত্যুর মতো সর্বজনীন আবেগ ছবিটিকে দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
১১টি অস্কার জেতা ছবিটি শিল্প ও বাণিজ্য—দুই ক্ষেত্রেই বিরল সাফল্য পেয়েছে। তালিকার সেরা ১০ সিনেমার মধ্যে একমাত্র ‘টাইটানিক’ই সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে অস্কার জিতেছে।
পরিচিত চরিত্র ও গল্পই কি সাফল্যের চাবিকাঠি?
সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর তালিকা বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শীর্ষ ১০ ছবির মধ্যে টাইটানিক বাদে বাকি নয়টি সিনেমাই কোনো না কোনো জনপ্রিয় ঘরানা কিংবা পরিচিত গল্পের সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে আটটি ছবিই আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ।
সুপারহিরো সিনেমার আধিপত্যও চোখে পড়ার মতো। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ ও ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’—চারটি ছবিই এই ঘরানার।
পরিচিত চরিত্র ও গল্পের প্রতি দর্শকের আগ্রহকে কাজে লাগাতে চায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ, শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করে সম্পূর্ণ নতুন গল্প ও চরিত্র নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে প্রতিষ্ঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তি নির্মাণ তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করে তারা।
তবে শুধু পরিচিতি থাকলেই সাফল্য আসে না। দর্শকের সঙ্গে গল্পের আবেগের সংযোগও জরুরি। পর্দার চরিত্রের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করতে পারলে কিংবা তাদের আনন্দ-বেদনার সঙ্গে একাত্ম হতে পারলে সেই সিনেমা দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। আবার সেই অভিজ্ঞতা ফিরে পেতে দর্শক ছবিটি দ্বিতীয়বারও দেখতে চান।
সুপারহিরো সিনেমায় ক্লান্তি, তবু আশা ছাড়ছে না হলিউড
‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ মুক্তির পর সুপারহিরো সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহে ভাটা পড়তে শুরু করে। চলচ্চিত্রবিশ্বে এই প্রবণতা পরিচিতি পেয়েছে ‘সুপারহিরো ফ্যাটিগ’ নামে। একের পর এক সুপারহিরো সিনেমা মুক্তি পেলেও আগের মতো সাফল্য পাচ্ছে না অনেক ছবিই।
২০১৯ সালের পর ডিজনির প্রযোজিত মার্ভেল সিনেমাগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করতে পেরেছে মাত্র একটি-২০২৪ সালের ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন। ছবিটি আয় করে ১৩৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
অবশ্য কিছু ছবি ভালো ব্যবসা করেছে। ২০২২ সালে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস’ আয় করে ৯৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। একই বছর ব্ল্যাক প্যান্থার: ওয়াকান্ডা ফরএভার আয় করে ৮৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার। তবু সামগ্রিকভাবে মার্ভেলের আগের সাফল্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এখন মার্ভেলের ভরসা আবারও পরিচিত তারকারা। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ছবিতে ফিরছেন আগের অ্যাভেঞ্জারদের অনেকেই। এই ছবি সুপারহিরো ঘরানার হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে পারে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।
এক বিলিয়ন ডলারের সাফল্য কি বারবার পাওয়া সম্ভব
বড় বাজেটের সিনেমা নির্মাণ করলেই যে বক্স অফিসে সাফল্য আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। জেমস ক্যামেরন ও ক্রিস্টোফার নোলান—এই দুই নির্মাতাই যেন একাধিকবার প্রমাণ করেছেন, কীভাবে দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনা যায়। ক্যামেরনের টাইটানিক ও অ্যাভাটার সিরিজের পাশাপাশি নোলানের ‘দ্য ডার্ক নাইট’ ফ্র্যাঞ্চাইজিও বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছে। নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ ও আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে তারকা থাকলেই যে সিনেমা সফল হবে, সেই ধারণাও এখন আর নিশ্চিত নয়। ২০২৬ সালে টম ক্রুজ অভিনীত অ্যাপোক্যালিপটিক ব্যঙ্গধর্মী ছবি ‘ডিগার’ বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ বড় তারকার উপস্থিতিও সব সময় দর্শক টানতে পারে না।
এর বিপরীতে কম বাজেটের সিনেমাও যে বিপুল মুনাফা করতে পারে, তার উদাহরণ ‘অবসেশন’। কারি বার্কার পরিচালিত হরর ছবিটির নির্মাণ ব্যয় ছিল মাত্র ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি প্রায় দেড় কোটি ডলারে কিনে নেয় ফোকাস ফিচার্স। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই ছবিটি আয় করে ১ কোটি ৭১ লাখ ডলার। শেষ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকায় ২৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ২৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলার আয় করে। বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৫২ কোটি ডলার।
একইভাবে কেন পারসনসের স্বল্প বাজেটের হরর ছবি ব্যাকরুমস নির্মাণে খরচ হয়েছিল ১ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় দাঁড়ায় ৪০ কোটি ডলার। এই দুই ছবির নির্মাতারই ইউটিউবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে আগে থেকে দর্শক তৈরি হয়েছিল। সেই দর্শকেরাই পরে তাঁদের সিনেমা দেখতে প্রেক্ষাগৃহে গেছেন। অর্থাৎ নতুন গল্পের পাশাপাশি নতুন নির্মাতারাও দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করছেন।
সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর তালিকা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—বক্স অফিসে সাফল্যের কোনো নির্দিষ্ট সূত্র নেই। পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি, জনপ্রিয় তারকা, বড় বাজেট কিংবা চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়াল-কোনোটিই এককভাবে সাফল্যের নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
বরং দর্শকের সঙ্গে গল্পের সংযোগ তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি সিনেমা দর্শককে আনন্দ দিতে পারলে, আবেগে নাড়া দিতে পারলে কিংবা নতুন অভিজ্ঞতা দিতে পারলে বক্স অফিসে সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
কোয়েল মল্লিক
একটি চিঠির জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা, প্রিয় মানুষের কণ্ঠ শুনতে এসটিডি বুথে ছুটে যাওয়া, ক্যাসেটে পছন্দের গান রেকর্ড করে উপহার দেওয়া-নব্বইয়ের দশকের প্রেমে এমন ছোট ছোট মুহূর্তই ছিল আনন্দের বড় উপলক্ষ। যোগাযোগের মাধ্যম সীমিত হলেও অনুভূতি প্রকাশে ছিল না কোনো কমতি। সেই সময়ের প্রেম, আবেগ আর স্মৃতির ঝাঁপি খুলে এবার টেলিভিশনের পর্দায় আসছে নতুন ধারাবাহিক ‘ডিয়ার ৯০’স’। তবে শুধু নস্টালজিয়া নয়, এই ধারাবাহিকের বড় আকর্ষণ অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। প্রথমবারের মতো টেলিভিশনের ধারাবাহিকে দেখা যাবে তাকে।
আগামী ২৩ নভেম্বর থেকে সোনি আটে প্রচারিত হবে ধারাবাহিকটি। নব্বইয়ের দশককে গল্পের পটভূমি করে সাজানো হয়েছে এর কাহিনি। সে সময়ের প্রেম, বন্ধুত্ব, স্বপ্ন, অপেক্ষা আর সম্পর্কের নানা সমীকরণ উঠে আসবে এতে। স্মার্টফোন কিংবা সামাজিক মাধ্যমের যুগে দাঁড়িয়ে অতীতের সেই দিনগুলো যেন অন্য এক পৃথিবী। যেখানে একটি চিঠি হাতে পাওয়া কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলার সুযোগও হয়ে উঠত বিশেষ স্মৃতি। ‘ডিয়ার ৯০’স’ সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের অনুভূতিগুলোই নতুন করে সামনে আনতে চায়।
সম্প্রতি প্রকাশিত ধারাবাহিকটির প্রোমোতেও রয়েছে নব্বইয়ের দশকের আবহ। গোলাপি শাড়িতে কোয়েল মল্লিককে দেখা গেছে হাসিমুখে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণা করতে। পেছনে বাজছে সেই সময়ের জনপ্রিয় প্রেমের গান। নতুন এই কাজ নিয়ে উচ্ছ্বসিত কোয়েল মল্লিক।
তাঁর মতে, নব্বইয়ের দশকের প্রেমে ছিল এক ধরনের সারল্য ও জাদু। অপেক্ষা, ছোট ছোট উপহার কিংবা সামান্য কোনো মুহূর্তও তখন অনেক বড় আনন্দের কারণ হয়ে উঠত। ‘ডিয়ার ৯০’স’-এর গল্প তাঁকে সেই দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। এমন একটি গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগছে তাঁর। দর্শকরাও ধারাবাহিকটি দেখতে গিয়ে নিজেদের জীবনের পুরোনো কোনো স্মৃতির সঙ্গে মিল খুঁজে পাবেন বলে আশা করছেন অভিনেত্রী।
সুরিন্দর ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রযোজনায় নির্মিত ধারাবাহিকটিতে কোয়েলের পাশাপাশি অভিনয় করবেন শঙ্খজিৎ সেনগুপ্ত ও অপরাজিতা মুখার্জি।
বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের ৬১তম জন্মদিনে চলচ্চিত্র জগতের বহু তারকা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে সবার মাঝেই আলাদা করে নজর কেড়েছে অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খানের একটি পোস্ট। সুপারস্টারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি যেন তার আসন্ন ‘কিং’ সিনেমায় একটি বিশেষ উপস্থিতির ইঙ্গিতও দিয়েছেন।গত ২ নভেম্বর ইনস্টাগ্রামে শাহরুখ খানের জন্মদিনে একটি বিশেষ ছবি শেয়ার করেন কারিনা। সেই ছবিতে কারিনা এবং শাহরুখের সিল্যুট বা ছায়াছবি একসঙ্গে নাচতে দেখা গেছে। যদিও ছবিতে তাদের মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি, তবুও পর্দায় তাদের বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন নিয়ে ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এইটুকুই যথেষ্ট ছিল।‘কিং’ সিনেমায় তার যুক্ত থাকা নিয়ে চলা সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে কারিনা তার জন্মদিনের বার্তায় সিনেমার নাম উল্লেখ করেছেন। পোস্টটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন কিং! সাম্রাজ্যের চিরকালের শাসক। চলো একসঙ্গে নাচি... আর অপেক্ষা করতে পারছি না। ২৪-১২-২৬।’একসঙ্গে নাচার এই প্রসঙ্গটি আসন্ন অ্যাকশন এন্টারটেইনার ছবির জন্য নির্মিত ‘ড্যাডি কুল’ শিরোনামের একটি বিশেষ গান নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই গানের মাধ্যমেই শাহরুখের সঙ্গে পর্দায় ফিরছেন কারিনা। তবে অভিনেত্রীর শেয়ার করা ছবিটি সিনেমার শ্যুটিংয়ের সময়কার কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, কারিনা এবং শাহরুখ এর আগেও বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছেন। এই জুটি ‘অশোকা’, ‘কভি খুশি কভি গম’ এবং ‘রা.ওয়ান’-এর মতো প্রজেক্টে কাজ করেছেন। ফলে ‘কিং’ সিনেমায় তাদের এই পুনর্মিলন ভক্তদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
কারিনার এই জন্মদিনের পোস্টটি তাদের পর্দার পেছনের রসায়নের ইঙ্গিত দেওয়ায়, এখন দর্শকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ‘কিং’ সিনেমায় এই দুই তারকাকে একসঙ্গে দেখার জন্য।
সূত্র: ফিল্মফেয়ার
টিকটক তারকার মেহেদি অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে নিহত ১, আহত ১৩
পাকিস্তানের শিয়ালকোটে জনপ্রিয় এক টিকটক তারকার মেহেদি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ঘিরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে শিয়ালকোটের একটি ক্রিকেট মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা হতাহতের তথ্য জানান। খবর জিও নিউজের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই টিকটকারের নাম মুহাম্মদ আনসার জাট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘মিস্টার পাতলো’ নামে পরিচিত।
উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার রাতে শিয়ালকোটের ডাসকা রোডের ফারাজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা ছিল। অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য আয়োজকেরা স্টেডিয়ামের ফটক খুলে দিলে হঠাৎ হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এতে অনেকেই মাটিতে পড়ে যান এবং পদদলিত হন।
শিয়ালকোট পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ১৪ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী মুহাম্মদ আকিলের অবস্থা গুরুতর ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। এতে চারটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স অংশ নেয়। আহত ব্যক্তিদের শিয়ালকোটের আল্লামা ইকবাল মেমোরিয়াল টিচিং হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বেশিরভাগ আহতকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উদ্ধারকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তিদের বয়স ২২ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে। তারা নারোওয়াল, গুজরানওয়ালা, শেখুপুরা, খানেওয়াল, ওকারা, শিয়ালকোট, গুজরাট ও বাহাওয়ালপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
তবে স্থানীয় দুই বাসিন্দা মুহাম্মদ আসিফ ও আমির আলীর দাবি, পদদলিত হওয়ার ঘটনায় ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের ভাষ্য, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই উপস্থিত লোকজন আহত কয়েকজনকে নিজেদের উদ্যোগে আশপাশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যান।
শিয়ালকোটের জেলা জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী নাভিদ ইকবাল বলেন, ক্রিকেট মাঠে এত বড় জমায়েতের আয়োজন সম্পর্কে উদ্ধারকারী সংস্থাকে আগাম জানানো হয়নি।
দুর্ঘটনার পর শিয়ালকোটের জেলা পুলিশপ্রধান (ডিপিও) দোস্ত মুহাম্মদ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও এলিট ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার নির্দেশে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব হয়।
এ সময় আয়োজকদের সমালোচনা করেন জেলা পুলিশপ্রধান। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেডিয়ামের ফটক খুলে দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিপিও আরও বলেন, নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। দুর্ঘটনার সব দিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বলিউড বাদশা শাহরুখ খান।
বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের জন্মদিন মানেই মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত তার প্রাসাদোপম বাড়ি ‘মান্নাত’র সামনে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে প্রতি বছরই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে হাজির হন হাজারো অনুরাগী। হাতে ফুল, কেক ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে শাহরুখের অপেক্ষায় থাকেন তারা।
তবে এবার জন্মদিনে মান্নাতের সামনে চেনা সেই আয়োজন দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই বাড়িটির দেয়ালে বিশাল স্ক্রিনের মতো কাঠামো ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
আগামী ২ নভেম্বর ৬১ বছরে পা দেবেন শাহরুখ। জন্মদিনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে যখন নানা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, তখনই তার নতুন সিনেমা ‘কিং’ নিয়ে ছড়িয়েছে বিশেষ চমকের গুঞ্জন। শোনা যাচ্ছে, জন্মদিনে ভক্তদের জন্য বিশেষ কোনো উপহার দিতে পারেন অভিনেতা।
শাহরুখের জন্মদিনকে ভক্তরা ‘এসআরকে ডে’ হিসেবে উদযাপন করেন। তবে এবার অভিনেতার টিমের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ফ্যান ক্লাবকে জানানো হয়েছে, এ বছর আগের মতো এসআরকে ডে উদযাপন করা হবে না। একইসঙ্গে ভক্তদের হতাশ না হওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। আর এতেই তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল।
SRKians, this is MASSIVE! Mannat has transformed into a fortress, with the latest KING content set to light up the gigantic screen! This is nothing short of spectacular! 🔥👑❤️
#ShahRukhKhan
#KING
#SRK https://t.co/d9fzFZ6xZJ
— Shah Rukh Khan Warriors FAN Club (@TeamSRKWarriors) October 31, 2026বলিউডে গুঞ্জন, জন্মদিনে মান্নাতে উপস্থিত হয়ে ভক্তদের দেখা না দিলেও নতুন সিনেমা ‘কিং’ নিয়ে বিশেষ চমক দিতে পারেন শাহরুখ। সিনেমাটির পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের একের পর এক রহস্যময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট এবং প্রথম গান প্রকাশের ইঙ্গিত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
এদিকে মান্নাতের সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ চলায় বর্তমানে পরিবার নিয়ে পালি হিলের একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্টে থাকছেন শাহরুখ। ফলে জন্মদিনে মান্নাতের ছাদে দাঁড়িয়ে ভক্তদের উদ্দেশে তার পরিচিত ভঙ্গিতে হাত নাড়ার দৃশ্য দেখা যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
তবে সম্প্রতি মান্নাতের কয়েকটি ছবি প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাড়িটির সামনের অংশে দেখা গেছে বিশাল স্ক্রিনের মতো একটি কাঠামো। সেটি দেখেই শাহরুখভক্তদের একাংশের ধারণা, জন্মদিন উপলক্ষে মান্নাতের দেয়ালে দেখানো হতে পারে ‘কিং’ সিনেমার বিশেষ কোনো ঝলক।
যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্মাতা কিংবা শাহরুখের টিমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সিনেমাটির টিজার, গান কিংবা বিশেষ কোনো ভিডিও মান্নাতে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে সিদ্ধার্থ আনন্দের রহস্যময় পোস্ট ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহরুখের জন্মদিনেই প্রকাশ্যে আসতে পারে ‘কিং’ সিনেমার প্রথম গান। আর সেই গানে কণ্ঠ দিতে পারেন সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং।
সব মিলিয়ে এবারের জন্মদিনে মান্নাতে শাহরুখের উপস্থিতি থাকুক বা না থাকুক, ভক্তদের চোখ এখন ‘কিং’ সিনেমার সম্ভাব্য চমকের দিকে। মান্নাতের দেয়ালে সত্যিই কি দেখানো হবে নতুন সিনেমার ঝলক, নাকি অপেক্ষা করছে অন্য কোনো উপহার? সেই উত্তর মিলবে শাহরুখের জন্মদিনেই।
সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাই। ছবিঃ সংগৃহীত
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাস্তব জীবনের পাশাপাশি পর্দায়ও তাদের জুটি দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। তবে একপর্যায়ে সেই সম্পর্কে ভাঙন ধরে। ঐশ্বরিয়ার অভিযোগ ছিল, সালমানের মদ্যপান, দুর্ব্যবহার এবং মৌখিক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তিনি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
একসময় তাদের প্রেম ছিল বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলোর একটি। পর্দার রসায়নও মুগ্ধ করেছিল দর্শকদের। কিন্তু সেই প্রেমের গল্পের শেষটা হয়েছিল তিক্ততায়। সম্পর্ক ভাঙার পর সালমান খানের সঙ্গে আর কখনো কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। সালমানের সঙ্গে কাটানো সময়কে নিজের জীবনের ‘দুঃস্বপ্ন’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জানিয়েছিলেন, বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেননি সালমান। তিনি বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতেন। ঐশ্বরিয়া ফোন ধরতে অস্বীকৃতি জানালে সালমান নিজের শরীরে আঘাত করতেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন অভিনেত্রী।
২০০২ সালে এ সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে একটি আবেগঘন বিবৃতি দেন ঐশ্বরিয়া। সেখানে তিনি জানান, নিজের সুস্থতা, মানসিক স্থিরতা, মর্যাদা এবং পরিবারের সম্মানের কথা বিবেচনা করে সালমানের সঙ্গে সব ধরনের পেশাগত সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিবৃতিতে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘নিজের ভালো থাকা, মানসিক সুস্থতা, মর্যাদা এবং পরিবারের সম্মান ও আত্মসম্মানের স্বার্থে যথেষ্ট হয়েছে। আমি আর কখনো মি. সালমান খানের সঙ্গে কাজ করব না। সালমান অধ্যায়টি আমার জীবনের একটি দুঃস্বপ্ন ছিল। ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ, সেই অধ্যায়ের অবসান হয়েছে।’
সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ঐশ্বরিয়া আরও বলেন, দীর্ঘদিন তিনি তার আচরণ ও ভুলত্রুটি নিয়ে নীরব থেকেছেন। কিন্তু সালমান, তার পরিবার ও বন্ধুরা দায়িত্বজ্ঞানহীন গুজব ছড়িয়ে বারবার তার এবং তার পরিবারের সম্মানহানি করেছেন।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, সম্পর্কের কঠিন সময়ে তিনি সালমানের পাশে ছিলেন। তার মদ্যপান ও দুর্ব্যবহার সহ্য করেছেন। বিনিময়ে তাকে মৌখিক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অবিশ্বস্ততা এবং অসম্মানের শিকার হতে হয়েছে। একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী হিসেবে প্রায় দুই বছর আগেই তিনি এ সম্পর্কের ইতি টেনেছিলেন।
ঐশ্বরিয়া আরও অভিযোগ করেন, তার নীরবতার সুযোগ নিয়ে অনেকে নিজের মতো করে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন। তার চরিত্র নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে এবং সহশিল্পীদের সঙ্গে তার স্বাভাবিক পেশাগত সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এসব ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ্যে আনতে চাননি ঐশ্বরিয়া। তার ভাষায়, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি কিংবা নতুন করে কুৎসা ছড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তার শান্তি ও মানসিক স্থিরতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, একটি প্রায় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐশ্বরিয়া ওই বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেই বিবৃতির মধ্য দিয়ে সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতে তার সঙ্গে কাজ না করার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন অভিনেত্রী।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
আদনান আজাদ ও অপু বিশ্বাস
ঢালিউড তারকা অপু বিশ্বাসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা চলছে। তাঁকে নিয়ে এ আলোচনা নতুন কোনো সিনেমা নিয়ে নয়। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মেহেদি পরানোর সময় হঠাৎ তাঁকে চুমু দিচ্ছেন এক যুবক। এরপর লাজুক ভঙ্গিতে হেসে ওঠেন অপু। গতকাল শনিবার দিনভর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কে এই যুবক, তা নিয়েও তৈরি হয় কৌতূহল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাঁর নাম আদনান আজাদ। তাঁরা দুজন একটি প্রচারণামূলক ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন।
ভিডিওতে অপু বিশ্বাস ও আদনান আজাদকে দেখা গেছে হবু বর-কনের সাজে। মেহেদি পরানোর আয়োজন ঘিরে দুজনের মধ্যে চলছিল নানা খুনসুটি। একপর্যায়ে দুষ্টুমি করতে করতেই অপুকে চুমু দিয়ে বসেন আদনান। এমন আকস্মিক ঘটনায় কিছুটা লজ্জা পেয়ে হেসে ওঠেন অভিনেত্রী। তাঁদের এই রোমান্টিক মুহূর্তই নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুমুর এই দৃশ্য ইচ্ছা করেই ধারণ করা হয়েছে, যাতে আলোচনা হয়।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর আদনান আজাদের সঙ্গে রোমান্টিক আবহের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন অপু বিশ্বাস। ছবিগুলো প্রকাশের পর থেকেই তাঁদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই জানতে চান, কে এই আদনান আজাদ?
প্রায় ১৮ বছর আগে গাজী মাজহারুল আনোয়ার পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সিনেমা ‘পাষাণের প্রেম’-এ একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন অপু ও আদনান। ওই সিনেমার মাধ্যমেই নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় আদনানের। পরে অপু শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে ঢালিউডে জনপ্রিয়তা পান। অন্যদিকে অভিনয় ও মডেলিংয়ে যুক্ত থাকলেও চলচ্চিত্রে নিয়মিত হতে পারেননি আদনান।
সম্প্রতি তাঁদের একসঙ্গে ফটোশুটের পেছনে নতুন সিনেমায় কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন অপু। তাঁর ভাষ্য, আদনান বড় পরিসরে একটি ভালো সিনেমা নির্মাণ করতে চান। এ জন্য দেশের বাইরে থেকে ভালো একটি দল নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এ বিষয়ে দুজনের মধ্যে কথাবার্তাও চলছে।
অভিনয় ও মডেলিংয়ের পাশাপাশি আদনান আজাদ বন্য প্রাণী ও প্রকৃতির আলোকচিত্রী হিসেবেও পরিচিত। এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর অপু বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর নতুন করে বড় পর্দায় ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও আলোচনা চলছে।