গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দ্য বেভারলি হিলটন হোটেলে বাংলাদেশ সময় গতকাল সোমবার ভোরে বসেছিল গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের ৮৩তম আসর।
কয়েক বছর আগের বিতর্ক, সংস্কার আর অনিশ্চয়তার অধ্যায় পেরিয়ে এখন আয়োজনটি অনেকটাই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে। এবারের আয়োজন তারই আরেকটি প্রমাণ। এবারের আসরে যেমন ছিল পূর্বানুমেয় বিজয়ীদের জয়রথ, তেমনি ছিল অপ্রত্যাশিত চমক, রসিকতা আর শিল্পীদের ব্যক্তিগত মুহূর্তে ভরা ঝলমলে আয়োজন।
অস্কার মৌসুমের সূচনালগ্নে গোল্ডেন গ্লোব বরাবরই একটি ‘টেম্পারেচার চেক’। সমালোচক, প্রযোজক ও দর্শক সবারই ধারণা থাকে, কোন সিনেমা ও কোন অভিনয়শিল্পীরা এগিয়ে আছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কয়েকটি আলোচিত ছবি ও অভিনয়শিল্পীদের পারফরম্যান্স প্রায় শুরু থেকেই ‘ফ্রন্ট-রানার’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলোর অনেকটাই পুরস্কারের মঞ্চে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে এই পূর্বানুমেয়তার মধ্যেই ছিল কিছু চমক। কয়েকটি বিভাগে এমন কিছু নাম এবার উঠে এসেছে, যাদের জয় নিয়ে আলোচনা কম হয়েছিল।
৮৩তম আসরে জয়ীদের নাম ঘোষণা হতেই স্পষ্ট হয়ে গেল, আসরটি যেন দুটি ছবির। একদিকে রাজনীতিকে তীব্র ব্যঙ্গের ভেতর দিয়ে দেখানো সিনেমা ‘ওয়ার ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’, অন্যদিকে উইলিয়াম শেক্সপিয়রের জটিল পারিবারিক জীবনের গল্প নিয়ে এক আবেগঘন আখ্যান ‘হ্যামনেট’।
গোল্ডেন গ্লোবস যেহেতু অস্কারের মতো নয়, তাই এখানে সিনেমার ভাগ হয় ঘরানা অনুযায়ী। এবারে সেরা কমেডি বা মিউজিক্যাল সিনেমার সম্মাননা পায় ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’, ড্রামা বিভাগে সম্মাননা পায় ‘হ্যামনেট’। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি প্রযোজিত ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ চারটি পুরস্কার জেতে। পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার পল থমাস অ্যান্ডারসন নিজের ঝুলিতে নেন সেরা পরিচালনা ও সেরা চিত্রনাট্যের ট্রফি। অন্যদিকে ফোকাস ফিচার্স প্রযোজিত ‘হ্যামনেট’ জেতে দুটি পুরস্কার, এগুলোর মধ্যে জেসি বাকলি সেরা অভিনেত্রী হিসেবে সম্মানিত হন, এক শোকাহত মায়ের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য।
এবারের আসর সঞ্চালনা করেন নিকি গ্লেজার। টানা দ্বিতীয়বারের মতো সঞ্চালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে কাউকেই ছাড় দেননি। বারি ওয়েইস থেকে শুরু করে জেফ্রি এপস্টেইনের নথি, এমনকি নেটফ্লিক্সের কাছে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সম্ভাব্য বিক্রি- সবই ঠাঁই পায় তাঁর রসিকতায়। নিজেরাই নিজেদের নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকা হলিউডকে তিনি বিদ্রূপ করে বলেন, ‘এই মুহূর্তে পৃথিবীতে যা ঘটছে, তার মধ্যে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এটাই।’ তবে রাতটি শুধুই হাসির ছিল না। বাস্তব রাজনীতির ছায়াও পড়েছে এই উৎসবে। মার্ক রাফালো ও ওয়ান্ডা সাইকসসহ কয়েকজন তারকা পরেছিলেন বিশেষ কোটপিন, যাতে লেখা ছিল ‘আইচ আউট’ ও ‘বি গুড’, মুলত মিনিয়াপোলিসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে নিহত রেনে ম্যাকলিন গুডের স্মরণে।
অভিনয় বিভাগে রোজ বার্ন জেতেন সেরা অভিনেত্রী [কমেডি বা মিউজিক্যাল] ‘ইফ আই হ্যাড লেগস আই’ড কিক ইউ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। অভিনেতা টিমোথি শালামে তাঁর বহু প্রতীক্ষিত প্রথম গোল্ডেন গ্লোব পান মার্টি সুপ্রিম সিনেমায় পিংপং খেলোয়াড়ের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। পরপর চারবার মনোনয়ন পেলেও খালি হাতে ফেরার স্মৃতি মনে করে তিনি মঞ্চে উঠে জানান, কৃতজ্ঞতাই তাঁকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।
ড্রামা বিভাগে সেরা অভিনেতা হয়েছেন ওয়াগনার মউরা, ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ সিনেমায় রাজনৈতিক শরণার্থীর ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য। পুরস্কার নিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি মানসিক ট্রমা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যেতে পারে, তবে মূল্যবোধও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যেতে পারে।’
টেলিভিশন বিভাগে গোল্ডেন গ্লোবস প্রায় এমির পথই অনুসরণ করেছে। ড্রামা, কমেডি ও লিমিটেড সিরিজ বিভাগে যথাক্রমে ‘দ্য পিট’, ‘দ্য স্টুডিও’ ও ‘অ্যাডোলেসেন্স’ প্রত্যাশিতভাবেই দাপট দেখিয়েছে। টেলিভিশনের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ছিল ‘অ্যাডোলেন্স’। নেটফ্লিক্সের এই সিরিজটি মোট চারটি পুরস্কার জিতে নেয়। একটিমাত্র শটে এগোনো এক খুনের তদন্তের গল্পটি শুধু দর্শকদের নয়, বিচারকদেরও মুগ্ধ করেছে। স্রষ্টা স্টিফেন গ্রাহাম জেতেন সেরা অভিনেতা (লিমিটেড সিরিজ), আর তাঁর সহশিল্পী ওউয়েন কুপার মাত্র ১৬ বছর বয়সে হয়ে যান এই বিভাগে সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী। ‘দ্য পিট’ সিরিজে এক ক্লান্ত কিন্তু লড়াকু চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেতা হন নোয়া ওয়াইল। অন্যদিকে ‘প্লুরিবাসে’ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর সম্মাননা পেয়েছেন রিয়া সিহর্ন, এটি তার প্রথম গোল্ডেন গ্লোব জয়। ক্যাথি বেটস, হেলেন মিরেনের মতো অভিনেত্রীদের পেছনে ফেলে তিনি পেয়েছেন সম্মাননা। ‘দ্য স্টুডিও’তে অগোছালো এক স্টুডিও এক্সিকিউটিভের ভূমিকায় সেরা অভিনেতা (টিভি কমেডি) হন সেথ রোজেন। আর হ্যাকস এ এক স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের চরিত্রে অভিনয় করে তৃতীয়বার গোল্ডেন গ্লোব জেতেন জিন স্মার্ট।
এবারের আসরের সবচেয়ে আবেগঘন বক্তব্যগুলোর একটি আসে অভিনেত্রী টেয়ানা টেলরের কাছ থেকে। ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ সিনেমায় বিপ্লবীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোমলতা কোনো দুর্বলতা নয়। আমাদের আলো জ্বলার জন্য অনুমতির দরকার নেই।’ এ বছর প্রথমবারের মতো গোল্ডেন গ্লোবস সম্মান জানাল পডকাস্টকেও। সেরা পডকাস্টের পুরস্কার পায় গুড হ্যাং উইথ অ্যামি পোলার। সবশেষে, দক্ষিণের বিভক্ত আমেরিকায় প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত ভ্যাম্পায়ার ছবি সিনার্স জিতে নেয় বক্স অফিস ও সিনেম্যাটিক অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার।
এবারের আসরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বিজয়ীদের বক্তৃতা। কেউ কেউ মঞ্চে উঠে ব্যক্তিগত সংগ্রাম, পরিবার বা সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সংক্ষিপ্ত অথচ আবেগঘন ভাষায়। আবার কেউ কেউ সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও ছুঁয়ে গেছেন, খুব সরাসরি না হলেও ইঙ্গিতে। লাল গালিচায় তারকাদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। একদিকে পুরনো হলিউড গ্ল্যামারের প্রতি শ্রদ্ধা। অন্যদিকে আধুনিক কাট, সাহসী পোশাক। আবার অনেক তারকাই যেন চেষ্টা করেছেন ট্রেন্ডের পেছনে না ছুটে নিজেদের ব্যক্তিত্বকে পোশাকের মাধ্যমে তুলে ধরতে।
এক সময় মনে হয়েছিল, গোল্ডেন গ্লোব তার প্রাসঙ্গিকতা হারাতে বসেছে। কিন্তু এবারের আসর দেখিয়ে দিল, এই অনুষ্ঠান এখনো শিল্পী ও ইন্ডাস্ট্রির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি শুধু পুরস্কার নয়; এখান থেকে শুরু হয় অস্কারমুখী যাত্রার বিশ্লেষণ ও প্রত্যাশা।
অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী
কিংবদন্তি ভারতীয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ‘ডিসকো ড্যান্সার’খ্যাত এই অভিনেতা বর্তমানে ভারতের দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, শারীরিকভাবে অস্বস্তি অনুভব করায় দুই দিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তার ডান হাতে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগেও একই হাতে অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। তবে এবার ঠিক কী কারণে পুনরায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিনেতার পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
অস্ত্রোপচারের পর অভিনেতার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সালমান খান
বলিউড সুপারস্টার সালমান খান ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে দায়ের করা এক মামলায় আদালত তাকে তলব করেছেন। একই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তার বোন আলভিরা অগ্নিহোত্রীকেও।
বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চণ্ডীগড়ের ব্যবসায়ী অরুণ গুপ্তা অভিযোগ করেছেন, সালমান খানের দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর নাম ব্যবহার করে তাকে গয়নার শোরুম খুলতে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু ব্যবসা শুরুর পর চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
অরুণ গুপ্তার দাবি, শোরুমে তার মোট ৩ কোটি রুপি বিনিয়োগ ছিল। ব্যবসা শুরুতেই প্রায় ১ কোটি রুপি ব্যয় হয়। তবে ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর জুয়েলারি বিক্রির লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহায়তা না করায় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে শোরুমটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সালমান খানের পক্ষ। তাদের দাবি, অরুণ গুপ্তার সঙ্গে সালমানের কোনো প্রত্যক্ষ চুক্তি ছিল না। তিনি কেবল ব্র্যান্ডের লাইসেন্স ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন।
মামলাকারীর আরও দাবি, ‘বিগ বস’-এর সেটে সালমান খানের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল এবং শোরুম উদ্বোধনে যাওয়ার আশ্বাসও পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সালমান খান বা আলভিরা অগ্নিহোত্রী প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
আদালত আগামী ৫ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। একই সঙ্গে স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালকদের পাশাপাশি সালমান খান ও আলভিরা অগ্নিহোত্রীকেও তলব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আয়োজনের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: বাসস
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে ৬২ বছর পর গান গাইলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। এ সময় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সুরের মূর্ছনায় দর্শকে মোহিত করে অগণিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করলেন কিন্নরকণ্ঠী। বানভাসি অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগীত পিপাসুদের হৃদয় জয় করে নিলেন তিনি।
‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো’ শিরোনামের এই একক সংগীতানুষ্ঠানে নিজের জনপ্রিয় ও কালজয়ী দশটি গান গেয়ে শোনান দেশবরেণ্য এই শিল্পী।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় সংগীত তারকা ৭৪ বছর বয়সি রুনা লায়লা সংগীত ভুবনের এক দীপশিখা। তিনি প্রমাণ করেছেন সংগীত কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়, এটি হয়ে উঠেছে সৌন্দর্যবোধ, মানবিকতা ও দেশাত্মবোধের মেলবন্ধন।
পুরো অনুষ্ঠানে শুধু একটি কথাই প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল- কেমন করে সাবলীলভাবে এসব গান গাইলেন, কেউ কেউ বলেছেন- রুনা লায়লার তুলনা রুনা লায়লাই। ক্যারিয়ারে কণ্ঠ থেকে তিনি যে সুর ছড়িয়েছেন, সেই সুরে তারুণ্যের উন্মাদনাই ফুটে উঠেছে। শিল্পকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছরের ইতিহাসে এটাই রুনা লায়লার প্রথম একক সংগীতানুষ্ঠান।
দেশাত্মবোধক গান দিয়ে শুরু করেন রুনা লায়লা ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো’ অনুষ্ঠান। একে একে নিজের জনপ্রিয় দশটি গান পরিবেশন করেন।
বন্যার্ত মানুষের সাহায্যার্থে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এগিয়ে আসেন কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী রুনা লায়লা।
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিনের সভাপতিত্বে এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, সচিব কানিজ ফাতেমা।
মিলনায়তনের ভেতর ও বাইরে কানায় কানায় পূর্ণ আসরে তার প্রতিটি গানের পরিবেশনা শেষে নাট্যজন আফজাল হোসেনের উপস্থাপনায় দর্শক শ্রোতাদের মুহুর্মুহু করতালি ও করতালির মাধ্যমে গানের আবেদন শিল্পীকে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছে।
সালমান খান
বলিউড সুপারস্টার সালমান খান এবার প্রকাশ্যে জানালেন জেলে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতা। রিয়েলিটি শো অ্যালায়েন্স-এ ভাই সোহেল খানকে সমর্থন জানাতে গিয়ে কারাগারের কঠিন পরিবেশের কথা তুলে ধরেন তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত শো-টির একটি প্রোমোতে সালমান বলেন, 'অনেক বছর আগে যখন আমি জেলে ছিলাম, তখন আমাদের সামনে লোহার গ্রিল ছিল। খুব ছোট একটি জায়গায় ৬০-৭০ জন মানুষ থাকত। সবার জন্য ছিল মাত্র একটি ভারতীয় স্টাইলের বাথরুম। সেখানে কখনও টিকটিকি থাকত, আবার অনেক সময় পানি ও ময়লায় ভরে থাকত।'
এর আগে পডকাস্টেও বলেছিলেন জেলের অভিজ্ঞতা জানিয়েছিলেন সালমান। চলতি বছরের শুরুতে ভাগ্নে আরহান খানের পডকাস্ট ডাম্ব বিরিয়ানিতে জেলে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছিলেন সালমান।
সেখানে তিনি বলেন, 'অনেকে বলে থাকেন আমি ক্লান্ত। এটা নিয়ে মানুষ হতাশায় ডুবে যায় কিন্তু আমি বলি, উঠে দাঁড়াও। যতই ক্লান্ত হও না কেন, কাজ করো। অনেকে বলে ঘুম হয় না। আমি বলি, ঘুমিও না, কাজ করো। দেখবে নিজে থেকেই ঘুম চলে আসবে। এসব অজুহাত আমি বুঝি না।'
সালমান খানের ভাষায়, 'আমি সাধারণত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ঘুমাই। মাসে একদিন হয়তো সাত ঘণ্টা ঘুম হয়। শুটিংয়ের ফাঁকে পাঁচ মিনিট সময় পেলেও চেয়ারেই ঘুমিয়ে নিই। আর এমন জায়গায়, যেখানে কিছুই করার ছিল না-যেমন জেলে-সেখানেই ঘুমিয়েছি। কারণ সেখানে করার মতো আর কিছুই ছিল না।'
তিনি আরও বলেন, ‘কাজ কিংবা পরিবারের ক্ষেত্রে সব সময় চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। পরিবার, বন্ধু এবং নিজের কাজের পাশে থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার (ব্ল্যাকবাক) শিকার মামলায় সালমান খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০০৬ সালে এই মামলায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জামিন পান।
পরে ২০১৮ সালে একই মামলার একটি রায়ে আবারও তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সে সময় কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর তিনি পুনরায় জামিনে মুক্তি পান।
সূত্র: এনডিটিভি
ইলিয়াস কাঞ্চন
যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসের বেশি সময়ের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।
আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। খবরটি নিশ্চিত করেছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘রোববার বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে মেয়ে ও জামাতাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই। আজ বিকেল পাঁচটায় তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।’
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিলে থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চলে তার চিকিৎসা।
গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরাতে পারেনি। পরে চিকিৎসক জানান, তার ব্রেন ক্যানসারের কথা।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় মধ্যে প্রায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিয়েছেন। তিন ধাপে সব মিলিয়ে মোট শ খানেক কেমোথেরাপি নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
লিটন এরশাদ বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশে বাইরে থাকতে থাকতে ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই অস্থির হয়ে ওঠেছেন। দেশে ফেরার জন্য তার মন টানছিল। পরিবারকেও বলছিলেন, তৃতীয় ধাপের থেরাপি যেহেতু শেষ হয়েছে, কয়েক মাসের জন্য দেশে ফিরতে চান। কাঞ্চন ভাইয়ের ইচ্ছাতে তাকে দেশে আনা হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। অবস্থার উন্নতিও খুব একটা নেই। তৃতীয় ধাপের থেরাপি গত ৩০ জুলাই শেষ হয়েছে। এরপর আবার তার নতুন চিকিৎসা শুরু হবে। তার আগে দেশে কিছুদিন কাটাতে চাইছেন।’
কতদিন দেশে থাকবেন-এ প্রশ্নে লিটন বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই সম্ববত ৭ থেকে ১০ দিন দেশে অবস্থান করবেন। এরপর আবার যুক্তরাজ্যে যাবেন।’
সাদিয়া জাহান প্রভা।
অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। তবে মাঝেমধ্যেই স্যোশাল মিডিয়ায় রহস্যময় পোস্ট করে ভক্তদের কৌতূহলে রাখেন তিনি। এবারও তেমনই এক আবেগঘন বার্তা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি নতুন ছবি প্রকাশ করেছেন প্রভা। ছবিগুলোতে সফট প্যাস্টেল রঙের পোশাক, মিনিমাল সাজ এবং স্নিগ্ধ এথনিক লুকে ধরা দিয়েছেন তিনি। খোলা চুলে গোলাপি-সাদা সালোয়ার-কামিজে তার উপস্থিতি নজর কেড়েছে ভক্তদের।
তবে ছবির চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে ক্যাপশনটি। সেখানে প্রভা লিখেছেন, ‘তোমাকে ছাড়া এখনও বেঁচে আছি। আবার দেখা হবে- সেই দিনটির অপেক্ষায় প্রতিটি দিন গুনছি।’
কার উদ্দেশে এমন আবেগঘন বার্তা লিখেছেন, সে বিষয়ে কিছুই জানাননি অভিনেত্রী। ফলে পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই ধারণা করছেন, প্রিয় কোনো মানুষকে উদ্দেশ্য করেই হয়তো এই কথাগুলো লিখেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রভার পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
প্রকাশিত ছবিগুলোতে কখনো পার্কের বেঞ্চে বসে, কখনো ফুলের দিকে হাত বাড়িয়ে, আবার কখনো রাস্তার পাশে ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে দেখা গেছে তাকে। সব মিলিয়ে তার স্বাভাবিক ও নান্দনিক উপস্থিতি ভক্তদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এদিকে অভিনয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রভা। সম্প্রতি তিনি ফয়েজ আহমেদ রেজা পরিচালিত ‘লুক আ লাইক’ শিরোনামের একটি ফিকশনে অভিনয় করেছেন। ফিকশনটি শিগগিরই বঙ্গ প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।