ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তির নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষ কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসহ রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হচ্ছে এই হাসপাতাল থেকে।
এছাড়া ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার’– এই নীতির আওতায় হাসপাতালের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটের মতো উন্নত চিকিৎসাসেবা সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। হাসপাতালটিতে বস্তিবাসীদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার, আট তলায় দুটি পৃথক ওয়ার্ড (পুরুষ ও মহিলা) চালু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, উদ্বোধনের পর গত আড়াই মাসে বহির্বিভাগে ৬১০ জন সেবা নিয়েছেন। ২৩ জন বিভিন্ন জটিল রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সাত জনের অপারেশন করা হয়েছে। আরও তিন জনকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অপারেশন করা হবে।
৫ মে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যার আইসিইউ বেড উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। একই দিনে তিনি আইসিইউ ইউনিটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন ও গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টারের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে ডা. জুবাইদা রহমান রাজধানীর তিন বস্তির মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই বস্তির নিম্নআয়ের মানুষ এই সুবিধা ভোগ করছেন।
এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় বস্তিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে সরেজমিনে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রান্তিক ও বস্তির সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে দীর্ঘদিনের আর্থিক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
তারা বলেছেন, এতদিন অর্থের অভাবে তারা বড় হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেতে পারতেন না, তারা এখন বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা এবং ওষুধ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত।
কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা আমেনা বেগম বাসসকে বলেন, প্রায় তিন মাস আগে ছানির সমস্যার কারণে এক চোখের অপারেশন করাতে তার ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। বর্তমানে তিনি অপর চোখের অপারেশনের জন্য আবারও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এবার এই চিকিৎসার জন্য তার কোনও টাকা লাগছে না।
বিনামূল্যে এমন উন্নত চিকিৎসাসেবা পেয়ে আবেগাপ্লুত আমেনা বেগম আরও বলেন, ভাগ্য ভালো বলেই আমরা এই বিনামূল্যে সেবা পাচ্ছি। সরকারের এই উদ্যোগ তাদের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য অনেক বড় উপকার বয়ে এনেছে।
রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারের সময় বস্তিবাসীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমার এখন বিনামূল্যে সকল চিকিৎসা পাচ্ছি কুর্মিটোলা হাসপাতালে।
তিনি বলেন, এই হাসপাতালে আমাদের অনেক বেশি সম্মান দেওয়া হচ্ছে। আমাদের যে খাবারটা দেওয়া হচ্ছে, তা বেশ উন্নত।
হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই তিন বস্তির মানুষ ক্যানাসর ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাও এখানে বিনামূল্যে পাচ্ছেন। সেবা নেওয়ার জন্য তাদের কেবল ১০ টাকা মূল্যের একটি টিকিট কাটতে হয়, এরপর বাকি সব ধরনের চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বস্তির প্রকৃত রোগীদের সহজে শনাক্ত করার জন্য বস্তিগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। একটি সমিতির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকেরাই রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এছাড়া হাসপাতালে আসার পর তাদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টারসহ তাৎক্ষণিক সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক– এই তিন বস্তির নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এই তিন বস্তির মানুষকে হাসপাতালে এসে শুধু ১০ টাকা দিয়ে একটা টিকিট কাটতে হয়। বাকি সব দায়িত্ব আমাদের।
তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে ক্যানসার ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাও বিনামূল্যে পাচ্ছেন এসব বস্তির মানুষ। এখানে সবারই সমান এক্সেস রয়েছে। বস্তিতেই ভলেন্টিয়ার নিয়োগ করা আছে। একটা সমিতির মাধ্যমে ওনারাই রোগীদের আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। বস্তি থেকে আসা রোগীদের সঙ্গে নিজস্ব কোনও লোক না থাকলেও হাসপাতালের কর্মীরাই দায়িত্ব নিয়ে তাদের সম্পূর্ণ সেবা দেন।
দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং সংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকার মাদক স্পট থেকে গ্রেপ্তার কয়েকজন
রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং সংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকার মাদক স্পটে এবার পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপি জানায়, দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো– শামসুল হক, মো. ইকবাল হোসেন জিহাদ, আরাফাত হোসেন শামীম, মো. আব্দুল্লাহ রাহুল, মোহাম্মদ হোসেন, সাইমুর, ইমন, অভি, মো. রাফিন, জুনায়েদ হোসেন, মো. সাইদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মো. ইমরান আরাফাত, মো. মারুফ হোসেন, সাহিদুর, মো. উজ্জল, মো. রবিন, মো. মাসুদ, মো. দুলু, ফরিদ বেপারী, মো. জনি, কবির, ইউসুফ, মো. আল রাব্বি, মো. শুভ, মো. শাওন, মো. সেন্টু মিয়া ও একজন শিশু। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে একাধিক অভিযানের পরও স্পটটিতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছিল। পরে শুক্রবার বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে সেখান থেকে ২৮ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে এই স্পটেই গত শনিবার অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত রোববার ইশরাক হোসেনকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেন পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এরপর স্পটটিতে দুই দফায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
‘মুখে ল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মো. দিদার
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কুখ্যাত ‘মুখে ল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মো. দিদারকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন বোটঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জাওরা রাব্বি ও ভান্ডারি ইমনের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘মুখে ল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য দিদার। তার বাবার নাম ইউসুফ আলী এবং মায়ের নাম কুলসুম বেগম। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুরের কাটাশুরের নামার বাজার এলাকায় থাকতেন।
গ্রেপ্তার দিদারের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও মারামারিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর রায়েরবাজার বোটঘাট এলাকায় রায়েরবাজার ফাড়ির আক্কেল আলী নেতৃত্বে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একাধিক ডাকাতি প্রস্তুতি মারামারি সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। তিনি মোহাম্মদপুরের আলোচিত কিশোর গ্যাং ‘মুখে ল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।
ছবি : সংগৃহীত
রাতের বেলা খানিকটা শীতের আবহ তৈরি হলেও ঢাকার চিত্র ভিন্ন। তাপমাত্রা খানিকটা কমার মধ্য দিয়ে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব টের পাওয়া গেলেও গরমের রেশ এখনো বিদ্যমান। তবে এই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে নিত্যপণ্যের বাজারেও। শীত না এলেও এই মৌসুমের কিছু সবজি বাজারে এসেছে। বরাবরের মতোই এসব সবজি বেশ চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে পুরনো সবজিগুলোর দাম খানিকটা কমতে শুরু করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাড্ডা, রামপুরা, সেগুনবাগিচা, মগবাজার ও কারওয়ানবাজারসহ কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছরের মতোই এবারও আগাম বাজারে এসেছে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিম। যে সবজিগুলোর শীতের মধ্যে ব্যাপক সরবরাহ যেমন থাকে তেমনি ভোক্তার চাহিদাও থাকে ব্যাপক। তবে আগাম সবজির উৎপাদন কম থাকায় পণ্যগুলোর দাম থাকে খানিকটা চড়া। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে এখন ছোট ও মাঝারি আকারের ফুলকপি পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত দামে। একইভাবে বাজারে আসা প্রতিটি বাঁধাকপি আকারভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি দামে নতুন আসা শিমের। নতুন শিমের স্বাদ নিতে ভোক্তাকে গুণতে হচ্ছে অন্তত ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। যদিও এই দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ টাকা বা তারও বেশি কম। এ ছাড়া কোথাও কোথাও অবশ্য অল্প পরিমাণে মুলাও বিক্রি করতে দেখা গেছে।
মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টের সবজি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম কে বলেন, সপ্তাহ দুয়েক ধরেই ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিম বাজারে এসেছে। তবে ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে দামও কমছে।
বিক্রেতারা জানান, শীতের সবজির সরবরাহ পুরোপুরি না আসা পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন সবজিগুলো এখনো বাজারে ভোক্তার চাহিদা পূরণ করছে। এর মধ্যে পটোল, বেগুন, ঝিঙা, বরবটি, লাউ, ঢ্যাঁড়স-সহ নানান সবজি রয়েছে। পূজার ছুটির কারণে একদিকে ক্রেতা কম অন্যদিকে নতুন সবজির আগমন, দুই চাপে দাম খানিকটা কমতে শুরু করেছে।
ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন
রাজধানীর আদাবর এলাকায় সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজে বাধা এবং ভবনমালিকদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
গতকাল বুধবার আদাবর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডিবি বলছে, আদাবর এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজের উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়া এবং স্থানীয় ভবনমালিকদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ ডিবি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজির একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর যানজট কমানো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে চারটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব উদ্যোগের বিষয়ে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমানো, গণপরিবহনের চলাচল ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সুফল পেতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়সীমা, বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।
সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘রাজধানীর যানজট নিরসনে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পদক্ষেপ নিলে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া কঠিন। পুরোনো বাস অপসারণ, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ- সব উদ্যোগকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।’
রাজধানীর যানজট এখন শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগ নয়; এটি নগর অর্থনীতি, কর্মঘণ্টা, জ্বালানি ব্যয়, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষকে দীর্ঘ সময় সড়কে কাটাতে হয়। এতে উৎপাদনশীলতা কমে ও নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন সড়ক ও উড়ালসড়ক নির্মাণ করে ঢাকার যানজটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যমান সড়কের কার্যকর ব্যবহার, বাসের রুট ও চলাচল ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহনের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করাও জরুরি।
রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাসের একটি অংশ যান্ত্রিক ত্রুটি, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনের কারণে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ অবস্থায় ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গণপরিবহনের মান উন্নয়নের একটি পদক্ষেপ হতে পারে।
পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার ফলে গণপরিবহনের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। এ কারণে বিকল্প বাসের ব্যবস্থা, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই এবং পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলে সেগুলোর অর্থায়ন, পরিচালন ব্যয় ও পরিবেশগত সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসের চাপ, যাত্রী ওঠানামা, পার্কিং এবং আন্তঃজেলা বাসের প্রবেশ ও বহির্গমন নগর চলাচলে প্রভাব ফেলে। এসব এলাকার টার্মিনাল স্থানান্তর বা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হলে কেন্দ্রীয় সড়কে বাসের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে টার্মিনাল স্থানান্তর শুধু বাস রাখার স্থান পরিবর্তনের বিষয় নয়। নতুন টার্মিনালের অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ, যাত্রীদের যাতায়াতের সময়, ভাড়া, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিতে হবে। শহরের প্রান্তে টার্মিনাল স্থানান্তর করা হলেও সেখান থেকে গন্তব্যে যাওয়ার পর্যাপ্ত বাস, মেট্রোরেল বা অন্যান্য পরিবহন সংযোগ না থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
আন্তঃজেলা বাসের যাত্রা শুরু ও শেষের স্থান এবং মহানগরীর অভ্যন্তরীণ বাস চলাচলের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। টার্মিনালে প্রবেশ ও বের হওয়ার নির্দিষ্ট পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, বাসের অপেক্ষমাণ জায়গা এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা গেলে আশপাশের সড়কে চাপ কমানো সম্ভব।
রাজধানীর পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কারের উদ্যোগ গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংস্কারের আওতায় কোন কোন রুট রয়েছে এবং কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি।
রুট সংস্কার বলতে শুধু সড়কের উপরিতল মেরামত নয়। বাস চলাচলের পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, স্টপেজের অবস্থান, সংযোগকারী সড়ক এবং যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকার বিভিন্ন সড়কে একই পথে একাধিক বাস কোম্পানির প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামানো এবং যাত্রী তোলার জন্য হঠাৎ লেন পরিবর্তনের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আবার কিছু এলাকায় যাত্রীর তুলনায় বাসের সরবরাহ কম থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। রুট সংস্কারের পরিকল্পনায় এসব সমস্যা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
যাত্রী চলাচলের তথ্য, কর্মব্যস্ত সময়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের অবস্থান এবং মেট্রোরেলসহ অন্যান্য পরিবহনের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিয়ে রুট পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বাসের সময়সূচি, যাত্রীর অপেক্ষার সময় এবং রুটভিত্তিক পরিবহন সক্ষমতা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
রুট পরিবর্তনের ফলে কোনো এলাকার যাত্রী যেন সরাসরি পরিবহনসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প রুট ও সংযোগকারী বাস চালু করা গেলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।
রাজধানীর সড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান চলাচল, যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে।
নতুন নীতিমালায় যানবাহনের নিবন্ধন ও পরিচিতি, চালকের যোগ্যতা, নিরাপত্তার মান, অনুমোদিত চলাচল এলাকা, পার্কিং, যাত্রী ওঠানামা এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নির্ধারণ করা যেতে পারে। কোন সড়কে কোন ধরনের যান চলাচল করবে, তা সড়কের ধারণক্ষমতা, যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা, নির্ধারিত স্ট্যান্ড এবং বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা না থাকলে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সুফল সীমিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট চালক, মালিক, যাত্রী ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে তা বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং গণপরিবহনের সহজলভ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চারটি উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন জরুরি। পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা, টার্মিনাল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নতুন স্থানের সঙ্গে নগর পরিবহনের সংযোগ, রুট সংস্কারের সঙ্গে বাস পরিচালনার সমন্বয় এবং অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিকল্প যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
এ জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ এবং পরিবহনমালিকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কোন সংস্থা কী কাজ করবে, কত সময়ের মধ্যে করবে এবং অগ্রগতি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
পরিবহন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, বাসের ফিটনেস পরীক্ষা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত স্টপেজ কার্যকর করা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়নে বাসের গড় যাত্রাসময়, স্টপেজে অপেক্ষার সময়, যানজটের স্থায়িত্ব, সড়ক দুর্ঘটনার হার, গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা এবং পরিবহনের নিয়মিত চলাচলকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা সুফল দিচ্ছে, তা পরিমাপ করা সহজ হবে।
রাজধানীর সড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নীতিমালা বা অবকাঠামোগত পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক তদারকি, আইন প্রয়োগ, জনসম্পৃক্ততা এবং গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা। চারটি উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার যানজট কমানো ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টগণ।
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ২৪ ঘণ্টায় ৫১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় ৫৮টি মামলা দায়ের করা হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মিরপুর বিভাগ ১৪৮, তেজগাঁও বিভাগ ৯৩, লালবাগ বিভাগ ৬১, ওয়ারী বিভাগ ৫৪, রমনা বিভাগ ৪৮, গুলশান বিভাগ ৩৭, মতিঝিল বিভাগ ৩৫, উত্তরা বিভাগ ৩২, গোয়েন্দা বিভাগ ৯ ও সিটিটিসি বিভাগ ১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১১ হাজার ৭০১ পিস ইয়াবা, ২ কেজি ৮৫০ গ্রাম গাঁজা, ২ গ্রাম হেরোইন, মাদক বিক্রির নগদ ৪ হাজার ৬৩৬ টাকা, ১টি মোটরসাইকেল ও ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।