সংগৃহীত ছবি
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রথম দিনে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে। সব বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে, চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ৩০ মিনিট আগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
চলতি বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। সারাদেশের দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
নকল-অনিয়ম ঠেকাতে কড়াকড়ি
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পরিচালনা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষার্থী প্রবেশ, কক্ষ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ডিজিটাল নজরদারিসহ সব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষার কক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক থাকবে। কোনো কক্ষে দুজনের কম দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। ৫ বাই ৬ ফুট দৈর্ঘ্য বেঞ্চে দুজন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন।
পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সবাইকে নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে।
প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনাতেও রাখা হয়েছে একাধিক নিরাপত্তা স্তর। পরীক্ষা শুরুর তিনদিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে।
পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের প্রহরায় কেন্দ্রে আনা হবে এবং মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক
পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও এবার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে এবং ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড, ব্র্যান্ড, ডিভাইস সিরিয়াল নম্বর ও ডিভিআর/এনভিআর সংযোগের তথ্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে বলা হয়েছে।
সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর থাকলে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৈথিল্য ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরাও কাঁটাযুক্ত ঘড়ি ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস বহন করতে পারবে না।
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতি বন্ধ রাখা, টয়লেট তল্লাশি, প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পরিবহনে পুলিশের সম্পৃক্ততা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কন্ট্রোল রুম চালু
এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫।
এছাড়া যোগাযোগের জন্য ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ ও ০১৭৫6১০৩১৫২ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ই–মেইল ঠিকানা: controller@dhakaeducationboard.gov.bd।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। নকল, প্রশ্নফাঁসসহ যে কোনো ধরনের অপরাধ রুখতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা ঘিরে বিরূপ তথ্য ছড়ালে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’
ছবি: সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সুন্দর ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে এবং জবিয়ানদের সব অধিকার আদায়ে ছাত্রদল অতীতেও কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। সব প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন কোনো বাঁকা পথে বা মববাজির মাধ্যমে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট না করে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এ ধরনের অপসংস্কৃতি মেনে নেবে না।
মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, গত দুদিন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। সামনের দিনেও সেই ধৈর্য বজায় রাখবে। তবে কোনো ধরনের ‘মববাজি’ বা শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জিন্দাবাদ’, ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস-আমরাই গড়ব’ এবং ‘শিক্ষা, ঐক্য, প্রগতি ছাত্রদলের মূলনীতি’, ‘দিল্লি গেছে স্বৈরাচার, পিন্ডি যাবে রাজাকার’ এবং ‘রাজাকারের স্বৈরাচার, মিলে মিশে একাকার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ নির্বাচিত অন্য নেতারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এরপর দুপুর ১টার দিকে তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে ক্যাম্পাসে অছাত্র-বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ ৯ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন। পরে জকসুর পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অ্যাম্বু
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) চার শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. এহসানুল হক রাফি, রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব ও মাহিন জামান।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ল্যাব শেষে বের হওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী মিরাজকে অনুসরণ করে পকেট গেটের সামনে তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁদের ভাষ্য, এ সময় ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুমন সরকার ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার দপ্তর সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত এবং ৪৮তম ব্যাচের ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বর্ষণ বণিক মিরাজকে মারধর করেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা ৪৯তম ব্যাচের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দেবনাথ সৌমিক চন্দ্র, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের সুজিত রায় ও ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আবিদ হাসান শিশিরসহ কয়েকজন এতে সহযোগিতা করেন বলেও জানান তাঁরা। একপর্যায়ে মিরাজের পরনের জামা ছিঁড়ে যায়। পরে পর্ব মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে বর্ষণ বণিক তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন পর্ব।
ঘটনার বিষয়ে মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “গতকাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুটেক্সের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের নামে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এর প্রতিবাদে আমি ফেসবুকে একটি পোস্টে মন্তব্য করি। সেখানে আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের মিষ্টি বিতরণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলাম। আমার ধারণা, ওই মন্তব্যের জেরেই আজ আমার ওপর হামলা করা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এফএসডি ল্যাব থেকে বের হলে পকেট গেটের সামনে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরেন। প্রান্ত আমাকে জোর করে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রাজি না হওয়ায় আমার কলার ধরে টান দিলে টি-শার্ট ছিঁড়ে যায়। পরে আমাকে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।”
আহত শিক্ষার্থী রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব বলেন, “মিরাজকে মারধরের সময় তাঁকে রক্ষা করতে আমরা এগিয়ে যাই। এ সময় প্রান্ত একটি বাঁশ নিয়ে মিরাজকে মারতে এগিয়ে আসেন। তখন আমি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করি। ভিডিও করার সময় বর্ষণ বণিক আমার কলার ধরে মুখে ঘুষি মারেন।”
অভিযোগের বিষয়ে মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের উসকানিমূলক কথা বলা ও ‘লীগ’ ট্যাগ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই মিরাজের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি উসকানিমূলক আচরণ করায় পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কির পর্যায়ে যায়। আমরা মারামারি এড়ানোর চেষ্টা করেছি। তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের ফাঁসাতে ও নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।”
এ ছাড়া অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী বর্ষণ বণিকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে বুটেক্স ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, “আজকের এই অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। যেই ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট ছাত্রসংগঠন কর্তৃক হতো, এখন সেই ট্যাগিংয়ের অপরাজনীতি গুপ্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে হচ্ছে। আমরা এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”
বুটেক্সের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দাও তোমরা। অভিযুক্তদের নামের তালিকাসহ আবেদন করো। আমরা সব অভিযোগ গ্রহণ করব এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করব। সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর দোষীদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচি থাকলেও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আয়োজন সীমাবদ্ধ রয়েছে আবাসিক হলের বিশেষ খাবারে। ক্যাম্পাসে দিবসটিকে কেন্দ্র করে কোন আয়োজন না থাকায় এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন না রেখে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হলে আয়োজন থাকায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। কোথাও আলোচনা সভা, কোথাও শহীদদের স্মরণ ও স্মৃতিচারণ আবার কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী কিংবা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পাশাপাশি আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে বুটেক্সে ৫ আগস্ট উপলক্ষে ক্যাম্পাসে কোন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় নি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, ৫ আগস্ট ছুটির দিন হওয়ায় উপস্থিতি কম থাকার কারণ দেখিয়ে ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও পরবর্তী অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করা হয়। কেবল আবাসিক হলগুলোতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি আবাসিক ও অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেন এমন কোনো কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক, স্মরণমূলক বা বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মসূচিও বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা হয়নি।
দিনটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে পালনের সুযোগ ছিল বলে মনে করেন ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. এমদাদ সরকার। তিনি বলেন,"আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হলে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হতে পারে, যা জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আজকের দিবসটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র বা ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাইয়ের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ ছিল।"
জুলাইয়ের চেতনা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সুলতান মাহমুদ বলেন,"জুলাই মানে সাম্যতা ও ন্যায্যতা। মুখে আমরা জুলাইয়ের সাম্যতার কথা বলছি, অথচ আজকের দিনে বুটেক্সে কোনো কেন্দ্রীয় আয়োজন নেই। যারা জুলাইয়ের সুবিধা নেবে, তাদের জুলাইয়ের দায়টাও নিতে হবে। আমরা যারা ৩৬ জুলাই রাস্তায় ছিলাম, আজ তারা কেউ কোনো কিছুতেই নেই। বর্তমান প্রশাসনেরও এই দিনটি নিয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ক্যাম্পাসের দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়।"
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ধ্রুব সাহা রুদ্র বলেন,
"৫ আগস্টে বুটেক্সের হলগুলোতে ফিস্ট ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক আয়োজন নেই। জুলাই আন্দোলনে সামনে থেকে অংশ নেওয়া বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
পাশাপাশি আন্দোলনের পর এসব শিক্ষার্থীর ‘পোস্ট-জুলাই ট্রমা’ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কাউন্সেলিং হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সারোয়ার হোসেন সামি বলেন,"৫ আগস্টের মধ্য দিয়েই বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। অথচ সেই দিনটিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন নেই। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশের স্মৃতি রোমন্থন করা যেত। আন্দোলনে যেসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, তাদের সম্মাননাও দেওয়া যেত।"
টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. শাহ নাফি উদ্দিন তুর বলেন,"সীমিত পরিসরে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু আয়োজন করা হলেও অধিকাংশ অনাবাসিক শিক্ষার্থী এর বাইরে থেকে গেছে। বুটেক্সের অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনাবাসিক হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিগুলো এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।"
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং উপাচার্যের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোন উত্তর পাওয়া যায় নি।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
'শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা' শীর্ষক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষকের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধানে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. তামজীদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত 'শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা' শীর্ষক সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার সঙ্গে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক সম্পৃক্ত আছেন কি না, সে বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের লক্ষ্যেই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাসিনাকে ফেরানোর অভিযোগে কুবির ১১ শিক্ষকের সম্পৃক্ততা, তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে যথাযথ সুপারিশসহ প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাখিল করতে হবে।
এদিকে, কমিটির প্রথম সভা বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় আহ্বায়কের দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুসন্ধান কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
জুলাই শহীদদের স্মরণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার ( ৫ আগস্ট) বিকাল ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে সিনিয়র একাদশ বনাম জুনিয়র একাদশের মধ্যে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
খেলা শুরু হওয়ার পূর্বে শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করে উভয় দলের খেলোয়াড়েরা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ গোল শূন্য ড্র হয়। পরে ট্রাইবেকারে জুনিয়র একাদশ ৩-১ গোলে জয়লাভ করে।
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজের তত্ত্বাবধানে এ ম্যাচে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, ইবিসাস সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিমসহ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক কমিটির পক্ষে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র-যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জুলাইয়ের চেতনা জাগ্রত এবং ভ্রাতৃত্ব বন্ধন আরও দৃঢ় করতে আমাদের এ আয়োজন। এছাড়াও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রশাসনের কাছে একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজনের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন ফুটবল ম্যাচ আয়োজন না করায় আমরা এটি আয়োজন করি।
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁকে ঘিরে মিছিল, স্লোগান এবং বড় পরিসরে খাবারের আয়োজনের ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে মো. রুবেল মিয়া প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে হলে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানিয়ে ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’ এবং ‘রুবেল ভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়। পরে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও অন্যান্যদের নিয়ে হলের ডাইনিং রুমে প্রায় ৩০০ জনের খাবারের আয়োজন করা হয়। যদিও তখন আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডাইনিং চালু ছিল না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রুবেল বর্তমানে হলের ৩০১ নম্বর কক্ষে একাই অবস্থান করছেন। কক্ষে দুটি বেডের পাশাপাশি কর্মীদের বসার জন্য কয়েকটি চেয়ারও রাখা হয়েছে। অথচ গত ২১ জুলাই প্রকাশিত হল প্রশাসনের রুম বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, কক্ষটি ৪৭তম ব্যাচের চারজন রি-এড শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে ৩০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, ৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এখনো হলে ওঠেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নীতিমালা অনুযায়ী, সমাপনী বর্ষের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে কৃতকার্য ও অকৃতকার্য—উভয় ধরনের শিক্ষার্থীকেই হলের সিট ছাড়তে হয়। এছাড়া প্রভোস্টের পূর্বানুমতি ছাড়া হলে কোনো ভোজ বা আমোদ-প্রমোদের আয়োজন করা যায় না।
রুবেল ৪৬তম ব্যাচের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ৪৭তম ব্যাচের সঙ্গে রি-এড করলেও গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে চারটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। ইতোমধ্যে ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করেছেন।
৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত ৪৮তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তারেখ শেখ বলেন, “আমি হলে নিয়মিত থাকব না। মূলত পরীক্ষা বা বিশেষ প্রয়োজনে হলে আসব। ৩০২ নম্বর কক্ষে অতিরিক্ত বেড রয়েছে, প্রয়োজনে সেখানেই থাকব।”
একই কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন্না প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে বলেন, “হলে উঠব ভেবেছিলাম, কিন্তু উঠিনি। আর আমি অ্যালটমেন্টও নিইনি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নজরুল হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর বুটেক্সে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বরাদ্দ ছাড়া রাজনৈতিক নেতার হলে অবস্থান এবং প্রকাশ্যে রাজনৈতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর করা উচিত। আর নীতিতে পরিবর্তন এলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো প্রয়োজন।”
বুটেক্স ছাত্রদলের এক পদধারী নেতা বলেন, “সংগঠনের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রুবেল ভাই হলে উঠেছেন। খুব শিগগিরই হল কমিটি ঘোষণা করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. রুবেল মিয়া বলেন, “নজরুল হলে রুম দখলের বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং অসত্য। আমি বারবার আবেদন করার পরেও হল প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেছেন।
ক্যাম্পাসের রানিং স্টুডেন্ট হিসেবে আমি হলগুলোতে অবস্থান করার পুরোপুরি অধিকার রাখি। আশা করি অতিদ্রুত হল প্রশাসন আমার আবেদনটি আমলে নিবেন।”
খাবারের আয়োজনের জন্য হল প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বিষয়ে তাঁদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। ডাইনিং কর্তৃপক্ষও জানায়, এটি রাজনৈতিক আয়োজন—এমন কোনো তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি।
ঘটনার পরদিন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মোতাকাব্বির হাসান তমাল বলেন, “আমি বিষয়টি আগে জানতাম না। খোঁজ নিয়ে হল কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তবে চার দিন পরও রুবেল হলে অবস্থান করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হলের ডাইনিং বা অন্য কোনো সুবিধা ব্যবহার করতে হলে প্রভোস্টের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু এই আয়োজন আমার অনুমতি ছাড়াই হয়েছে। রুবেল হলে সিটের জন্য আবেদন করেছিল, তবে তাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ৩০১ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে তারা ৩০২ নম্বর কক্ষে থাকবে এবং ৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্তরা ৩০১ নম্বর কক্ষে উঠবে। কিন্তু তারা এখনো হলে ওঠেনি। তাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি এক-দুই দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বুটেক্সের সিন্ডিকেটের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।