ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড
চলমান সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পর্ষদ বাতিল করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন থেকে তিনি পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আগের পর্ষদ ভেঙে বাংলাদেশ ব্যাংকই এই পর্ষদ গঠন করেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন গভর্নর। এদিন ব্যাংকটিকে বিশেষ ধার হিসেবে আড়াই হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়। তাঁকে অপসারণসহ ৭ দফা দাবিতে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন করে আসছে একটি পক্ষ। এ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে টাকা তুলে নিচ্ছেন আমানতকারীরা। দৈনিক যে পরিমাণ টাকা জমা হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি তুলে নেওয়ার কারণে তারল্য সংকটে অনেক সেবা সীমিত করতে হয়েছে ব্যাংকটিকে। ব্যাংকটির অনলাইন স্থানান্তর, এটিএম থেকে টাকা উত্তোলনসহ অনেক ধরনের সেবা মিলছে না। গত সপ্তাহে গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর এমডিদের এক বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের এ সংকট অন্য ব্যাংকে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা জানিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। গ্রাহকদের চাপ সামলাতে ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে গত সপ্তাহে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার চেয়ে আবেদন করে।
রোববার সন্ধ্যায় ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হুসাইনের নেতৃত্বে শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
এরপর রাত ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পর্ষদ সদস্যের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারা ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানি, আমানতকারী ও জনসাধারণের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হুসাইনের নেতৃত্বে রোববার বিকেল ৪টায় ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যান। সন্ধ্যা ৭টার পর তারা বের হন। ওই সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিক থেকে নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে ব্যাংকটিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হুসাইন সাংবাদিকদের বলেন, চলমান পরিস্থিতির মধ্যে নগদ জমা ও উত্তোলন প্রায় সমান সমান। তবে আরটিজিএস, ইএফটিসহ অনলাইন মাধ্যমে তহবিল স্থানান্তর বেড়ে যাওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক রোববার প্রথম তাদের আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে। এই অর্থ পাওয়ার পর লেনদেনের বর্তমান অবস্থা এবং তা দিয়ে কতটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, ‘গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে চাই– লেনদেনে কোনো সমস্যা হবে না। আমানতকারীরা সময়মতো টাকা ফেরত পাবেন। দ্রুত এটিএম বুথ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ সব লেনদেন স্বাভাবিক হবে।’
চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কেন আলোচনা হবে? এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেখবে। আমরা শুধু পরিচালনাগত দিক নিয়ে আলোচনা করেছি।’
পবিত্র ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবসে গত ২৪ মে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ হারান। এর আগে গত ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে এমডিকে ৩১ মে পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় পর্ষদ। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত ১৭ মার্চ ব্যাংকটিতে নিয়োগ পাওয়া জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত পরিচালক আব্দুল জলিলকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে ১ জুন থেকে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল, এমডি ওমর ফারুক খানের পুনর্বহালসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন চলছে। এর পেছনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন আছে বলে আলোচনা আছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সাল থেকে ইসলামীসহ শরিয়াহভিত্তিক ছয়টি ব্যাংক তারল্য সংকটে চলছিল। ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাব ঘাটতি রেখেও বিশেষ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে এ রকম সুযোগ বন্ধ করে দেয়। নতুন করে টাকা উত্তোলনের চাপ সামলাতে তখন ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ধার হিসেবে ৬৫ হাজার কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বিশেষ ধার হিসেবে নেওয়া ১৩ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিলেও অন্য ব্যাংকগুলোর কাছে ৫২ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। এ রকম অবস্থায় এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে সরকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি শুরুর আগে গত মে মাস শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব দেনা পরিশোধ করে ব্যাংকটির চলতি হিসাবে সাত হাজার কোটি টাকার বেশি স্থিতি ছিল। তবে গত কয়েক দিনে প্রচুর টাকা উত্তোলনের কারণে চলতি হিসাবে স্থিতি প্রায় শূন্যে নেমে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার দেওয়ায় আবার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এখন সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা করেন।
ইসলামী ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, চলমান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংকটির পরিচালকরা ব্যাংকে আসতে পারছিলেন না। যে কারণে নীতিনির্ধারণী কোনো সভা হচ্ছিল না। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অনলাইনে একটি সভা হলেও তা নিয়ম মেনে হয়নি। ওই পর্ষদ সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। আবার কোনো এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়নি। এ রকম অবস্থায় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত আটকে আছে। আবার ব্যাংকটিতে এখন নিয়মিত এমডি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা আশা করেন।
ইসলামী ব্যাংকের সংকট পুরো ব্যাংক খাতে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা জানিয়ে গত সপ্তাহে ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন এবিবি উদ্বেগ জানায়। গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক থেকে দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানান সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়।
ইসলামী ব্যাংক এক সময় জামায়াতপন্থিদের হাতে ছিল। তবে ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয় এস আলম গ্রুপের হাতে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারানোর পর ইসলামীসহ মোট ১৭টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসে নামে-বেনামে শুধু এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। যার বড় অংশই বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছে– এমন অভিযোগ তদন্ত করছে সরকার।
আদিল চৌধুরী
আর্থিক সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আদিল চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত ব্যাংকের কার্যালয়েও যাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত বছরের ৭ জুলাই তিন বছরের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন আদিল চৌধুরী। এর আগে তিনি ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে ন্যাশনাল ব্যাংকে তার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এলো। এর আগেও ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুল আলম খান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন।
আদিল চৌধুরীর পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ খেলাপি ঋণের বোঝা, ধারাবাহিক লোকসান এবং আমানত প্রত্যাহারের চাপ ব্যাংকটির সামগ্রিক কার্যক্রমকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। ২০২২ সাল থেকে টানা লোকসানে রয়েছে ব্যাংকটি। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের প্রভাবে ব্যাংকটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
ব্যাংকটির আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকার পান্থপথে নির্মাণাধীন ‘টুইন টাওয়ার’ ভবন ইজারা দেয়ার অনুমতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির আয় বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়েও গত কয়েক বছরে বড় পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন সিকদার গ্রুপ ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর গ্রুপটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদে মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ এবং আর্মানা গ্রুপ সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা যুক্ত হন।
এদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের পর ব্যাংকটির নেতৃত্বে কে আসছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরিচালনা পর্ষদ পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
মাত্র তিন দিন আগে দাম কমানোর পর দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক লাফে দুই হাজার ২১৬ টাকা বেড়ে ভ্যাটসহ দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম এক লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম রাখা হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।
সংগঠনটি জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজ অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে। যেহেতু স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে পৃথকভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি এবং পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালা বহাল থাকবে।
এর আগে ২৪ জুলাই স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে তিন হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ দুই লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম এক লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল এক লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা
রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আলাদা করে কোনো আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম খতিয়ে দেখার সময় যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
আরিফ হোসেন বলেন, সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে ছিলেন, তাই তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে আলাদা কোনো অনুসন্ধান চালাবে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে ব্যাংকভিত্তিক যে তদন্তগুলো চলছে, সেখানে কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘গ্রাহকরা ব্যাংকের কাস্টমার।
আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকে ইন্সপেকশন করে। তদন্তের সময় কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কোনো ব্যক্তি অনিয়ম করলে, সেই অনিয়মের সঙ্গে পর্ষদ জড়িত কি না সেটাও দেখা হয়।’
তিনি যোগ করেন, ‘এটা ব্যাংক নিজেরাই অডিট করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকও করে এবং এক্সটার্নাল অডিটও হয়।
এটা কোনো ব্যক্তি বিশেষকে টার্গেট করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক করবে না। বিশেষ প্রায়োরিটি নিয়ে কিংবা টার্গেট করে কাজ করছে, এমন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর এক দিন পর আজ রবিবার বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানের বাসায় ওঠেন তিনি।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছে।
রবিবার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ফিকি এফডিআই কনফারেন্স-২০২৬: ড্রাইভিং ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ফর জবস অ্যান্ড প্রসপারিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ইনভেস্টরস এক্সপোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে যেমন নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিপুল সম্ভাবনাও। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নিরাপদ ও টেকসই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার সরলীকরণ, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বিদেশি বিনিয়োগ চায়।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ভ্যাট ও কর ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতীকী ছবি
চলতি করবর্ষে আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন প্রথম প্রান্তিকেই দাখিল করে প্রণোদনা পেতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন সেবা চালু করেছে এনবিআর।
করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু করে বুধবার এনবিআর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর ফলে এখন থেকেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাচ্ছে।
এনবিআর বলছে, করসেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বুধবার থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের এই সুবিধা দিচ্ছে; এতে করে করদাতারা এখন ঘরে বসেই তাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারবেন।
২০২৬-২০২৭ করবর্ষ হতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নিট প্রদেয় করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা প্রণোদনা পাওয়ার বিধান রয়েছে।
ফলে এ সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা প্রণোদনা পাবেন। এই সময়ের পর দাখিলকৃত রিটার্নের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না বরং ডিসেম্বর পরবর্তী সময়ে দাখিলকৃত রিটার্নে অতিরিক্ত কর প্রদান করতে হবে।
তাই এনবিআর 'যথাসময়ে রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের ‘বিশেষ অনুরোধ করছে' বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি চালুর পর থেকে পদ্ধতিটা করদাতাদের মাঝে সাড়া ফেলে।
২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ আখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন।
এদিকে এনবিআর এবারেও গত করবর্ষের মতই বিশেষ আদেশ জারির মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
তবে, ৬৫ বছর বা তার চেয়ে বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি অথবা বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার পরিবর্তে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
এছাড়াও, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাগণ অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্মকর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
জাতীয় রাজস্ব বের্ডের www.etaxnbr.gov.bd সিস্টেমে করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস এর মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপা<ই সঠিক তথ্য দিয়ে নির্ভুলভাবে রিটার্ন প্রস্তুতপূর্বক রিটার্ন জমা দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হলে তা সমাধানের জন্য রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা সরকারি ছুটি ছাড়া অফিস চলাকালীন কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সেবা দেবেন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এদিকে ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৭৯০ টাকা, সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৭ টাকা।