জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির একটি অভ্যন্তরীণ সমঝোতা ছিল। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবেই সরকার গঠনের পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল রাখা হয় এবং বর্তমানে তাকে ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির জায়গা থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। তার অভিযোগ, সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও তুলে তিনি বলেন, লন্ডনে অবস্থানকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও তারা জেনেছেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকাকালে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দায়মুক্তি ভোগ করেন। তবে পদত্যাগ বা দায়িত্ব ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের উদাহরণ টেনে বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় এতদিন সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিষয়ে তদন্ত হয়নি। এখন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি শুধু রাজনৈতিকভাবেই বিতর্কিত নন, আর্থিক অনিয়মের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার দাবি, ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার ঘটনায় সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। এছাড়া বিদেশে সম্পদ গড়া এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
সংগঠনটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ইফতেহার উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সরকারি চাকরিগুলোর নিয়োগ যেন দলীয়করণ থেকে মুক্ত থাকে
ইউজিসি চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয় বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উচ্চশিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ চালু করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মপরিবেশের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।
আজ শনিবার (০১ আগস্ট) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা, যোগাযোগ দক্ষতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তির মতো সফট স্কিল থাকতে হবে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ও ইউজিসি যৌথভাবে কাজ করছে এবং শিগগিরই সারা দেশে সফট স্কিল উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হবে।
তিনি বলেছেন, “আমরা চাই, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গায় পরিণত হোক, যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রি নয়, কর্মজীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করবে। এজন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তোলা হচ্ছে।”
তিনি জানান, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনা হবে। প্রতিটি ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই সংযোগ নিশ্চিত করে প্রথমে ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ এবং পরে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের জ্ঞান, গবেষণা ও শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধের সমন্বয় এই বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের উচ্চশিক্ষায় একটি অনন্য অবস্থান এনে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে বিশেষ স্থান অর্জন করেছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মেধার সঙ্গে নিয়মিত পরিশ্রম ও চর্চার কোনো বিকল্প নেই। পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল থেকে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। সরকার ও ইউজিসি এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আত্মমর্যাদা নিয়ে নিরাপদে পড়াশোনা করতে পারে এবং সবাই সমান সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
ওরিয়েন্টেশন বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোফাজ্জেল হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী।
বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হক, নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. আলীনুর রহমান এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ।
ইবিতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) স্নাতক ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে দুই পর্বে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ইবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়শনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা, জুলাই শহিদদের স্মরণে নিরবতা পালন, নবীনদের ফুল বরণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মহান একটি ব্রত নিয়ে স্থাপিত হয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যলয়ের চেয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্বতন্ত্র। আমি বিশ্বাস করি আমাদের যারা গ্রাজুয়েট তারা দেশে এবং দেশের বাইরে কৃতিত্বের সাথে, যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে।"
তিনি আরও বলেন, "নীতি নৈতিকতা মূল্যবোধের দিক থেকে আমি বিশ্বাস করি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যলয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। আমি বিশ্বাস করি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের যে পরিকল্পনা সেখানে তিনি বহু ভাষিক অর্থাৎ থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ কে গুরুত্ব দিয়েছে এবং আমরা খুব দ্রুত জাপানিজ এবং চাইনিজ ভাষার কার্যক্রম খুব দ্রুত শুরু করব।"
ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি'র বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি যখন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন কথা হয়েছিল এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হবে। পরবর্তীকালে মাহাথির মোহাম্মদ ওআইসি থেকে সেই বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়াতে স্থাপন করেছিল। সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে ওয়াল্ড র্যাঙ্কিং এ ভালো পজিশনে রয়েছে। আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে সেখানে পড়াশোনা করছে। সেখানে ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি সোশ্যাল সাইন্স, মেডিকেল সাইন্স ইত্যাদিসহ সকল সাবজেক্ট সেখানে রয়েছে। আমাদের কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল সাইন্স বা অন্যান্য সাবজেক্টগুলোর স্বল্পতা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "তোমরা যারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছো তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী দিনে বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তোমাদের। তোমাদের বুঝতে হবে তোমরা যে সময়টা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটাচ্ছো এটা তোমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। জীবনে এই সময়টাকে সদা সর্বদা কাজে লাগাবে। তোমার পরিবার, দেশ ও জাতি তোমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করবে, ভালোভাবে লেখাপড়া করবে এবং দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আগামী দিনে এগিয়ে যাবে।"
জুলাই বিপ্লবকে সামনে রেখে আজ ৩১ জুলাই (শুক্রবার) নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি কর্তৃক অনুষ্ঠিত হলো '৩৬ জুলাই আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬'।
এই টুর্নামেন্টের প্রতিপাদ্য ছিল 'যুক্তির ঝড়ে ভাঙুক অন্যায়ের দেয়াল'। উক্ত টুর্নামেন্টে কনভেনরের দায়িত্ব পালন করেন ডিবেটিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট(বাংলা বিতর্ক) নুসাইবা চৌধুরী।
টুর্নামেন্টের মূল পরিচালক ও কনভেনর হিসেবে তিনি বলেন, "আমরা প্রথমে চেয়েছিলাম, আমাদের ক্লাব থেকে জুলাইকে কেন্দ্র করে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করতে। এরপর আমরা ভাবলাম, 'হল টুর্নামেন্ট' আমাদের ক্লাবের একটি সিগনেচার ইভেন্ট। তাই হল টুর্নামেন্ট এবং জুলাইএই দুই বিষয়কে সমন্বয় করে আমরা পাঁচটি ক্লাব থেকে ২০টি দল নিয়ে আজকের এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছি।"
এই টুর্নামেন্টের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে আলোচনা ও যুক্তিবিনিময়ের মাধ্যমে স্মরণ এবং চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করা। আয়োজকদের মতে, বিতর্ক এমন একটি মাধ্যম, যেখানে কোনো বিষয়ের পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে বিষয়টির বিভিন্ন দিক, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা উঠে আসে। একইভাবে, জুলাই আন্দোলন ও জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত বিতর্কগুলো অংশগ্রহণকারীদের এ বিষয়ে গভীরভাবে ভাবতে ও বিশ্লেষণ করতে উৎসাহিত করেছে। এ ছাড়া, ক্লাবের সিগনেচার ইভেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন ও পুরোনো বিতার্কিকদের নিয়মিত বিতর্কচর্চায় উৎসাহিত করাও ছিল এই টুর্নামেন্টের আরেকটি প্রধান লক্ষ্য।
শুক্রবার টুর্নামেন্টের ট্যাব রাউন্ড এবং কোয়ার্টার ফাইনাল রাউন্ড সম্পন্ন হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে 'টিম ব্রেক' পাওয়া দলগুলোর মধ্যে ছিল 'MUH কাপল রোড', 'MUH গোল চত্বর', 'MUH পাঁচগণ্ডা' সহ আরও পাঁচটি দল। প্রথম স্পিকার নির্বাচিতদের মধ্যে ছিলেন জাহিদ হোসাইন, মো. আকরাম হোসাইন, সামিয়া ইসলাম এবং নিশাত তামিম।
কনভেনর তাঁর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ৫ আগস্ট, অর্থাৎ '৩৬ জুলাই', উক্ত টুর্নামেন্টের ফাইনাল রাউন্ড সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন।
বিতর্ক কেবল বক্তব্য উপস্থাপনের বিষয় নয়; বরং যুক্তি, পাল্টা-যুক্তি এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো বিষয়কে গভীরভাবে বিশ্লেষণের একটি প্রক্রিয়া। নিয়মিত বিতর্কচর্চা ও বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি এবং যুক্তি উপস্থাপনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
দেশব্যাপী বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন কর্তৃক জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জুলাইয়ের সম্মুখসারীর নেতা-কর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। এসময় আলিফ হামলার প্রতিবাদসরূপ তারা নিজেদের চোখে ব্যান্ডেজ লাগান।
মানববন্ধনে "আলিফের চোখ ফিরিয়ে দাও, নইলে গদি ছেড়ে দেও", "তারেক জিয়া জানে না, বিপ্লবীরা হারে না", "তারেক জিয়া হাসিনা, ফ্যাসিবাদ মানি না", "আবু সাঈদ-মুগ্ধ, শেষ হয় নি যুদ্ধ।" ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এসময় বক্তারা বলেন, "১৮ বছর বয়সের একটা ছেলেকে নির্মমভাবে রড দিয়ে হামলা করে তার একটা চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য একজন কলেজ পড়ুয়া ছাত্রকে এই বয়সে তার চোখ হারাতে হবে জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এটা প্রত্যাশা করতে পারি না। প্রকৃতপক্ষে জুলাই বিপ্লব পরবর্তীতে আমরা কোন পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না। আমরা ফ্যাসিবাদের আরেকটা পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি। এখনো এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় নি। যদি গণতন্ত্র সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠা হতো তাহলে বিরোধীদলের রাজনীতিকে দমন করার জন্য এইভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা করা হতো না।
এই হামলাকাণ্ড যদি শুধু এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকতো তাহলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু তারা হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়- সহ যেখানেই এনসিপি ও জুলাইয়ের অগ্রনায়করা প্রতিবাদ করতে নেমেছে সেখানেই বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।"
সর্বশেষ তারা বলেন, "এনসিপি যে তিন দফা দাবি দিয়েছে সেটা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি বাস্তবায়ন না করা হয় তাহলে আমাদের এই আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে যেটা আপনারা জুলাই বিপ্লবের সময় দেখেছেন।"
ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অন্যতম সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সভাপতির পদে বহাল রয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পূর্ণকালীন ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে দলীয় শিক্ষক সংগঠনের শীর্ষ পদে থাকা এবং সভাপতি হিসেবে তার স্বাক্ষরিত কিছু বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান বিতর্ক।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য একটি স্বায়ত্তশাসিত, পূর্ণকালীন ও নীতি-নির্ধারণী প্রশাসনিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু তিনি সরাসরি দলীয় শিক্ষক সংগঠনের সভাপতির পদে আসীন থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ‘স্বার্থের সংঘাত’ এড়ানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার বা মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রদান করেন। ফলে তাঁরা সরকারি পদের প্রশাসনিক মর্যাদা ধারণ করেন। সরকারি কর্মকর্তা (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর বিধি ২৫(১) এ বলা আছে "কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক কাজ করে এমন কোনো সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না, কিংবা অন্য কোনো উপায়ে তার সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করতে পারবেন না।"
এছাড়াও , বিধি ২৫(২) এ বলা হয়েছে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা দলীয় পদের দায়িত্ব সামলাতে পারবেন না।
তাছাড়া ,বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও ইউজিসি অনুযায়ী, ভিসি (উপাচার্য), প্রো-ভিসি (উপ-উপাচার্য) এবং ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) পদগুলো হলো সার্বক্ষণিক প্রাধিকারভুক্ত প্রশাসনিক পদ।একজন সাধারণ শিক্ষক ক্লাসের বাইরে শিক্ষক রাজনীতি করতে পারলেও, তিনি যখন ইউজিসি ও সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে 'প্রো-ভিসি' হিসেবে দায়িত্ব পান, তখন তাঁর প্রধান আইনি বাধ্যবাধকতা হয় সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর জন্য নিরপেক্ষ অভিভাবক হিসেবে কাজ করা। দলীয় শিক্ষক সংগঠনের যেকোন পদে বহাল থাকা অবস্থায় প্রশাসনিক উপ-উপাচার্যের দায়িত্বে থাকলে সরাসরি 'Conflict of Interest' বা স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।
এছাড়াও , ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় দেশের তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় নোবিপ্রবিতে রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করে।
ওই আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ,কর্মকর্তা, কর্মচারীর নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন, সহযোগী সংগঠন, অঙ্গ সংগঠন বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সঙ্গে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে সম্পৃক্ত হয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ধরনের দলাদলি নিষিদ্ধ করা হয়।
এছাড়াও , নোবিপ্রবি আইন ২০০১-এর ধারা ৪৭ (৫) ও (৬) এর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রশাসনের ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না।
তবে এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "এটা তো কোনো দলীয় রাজনৈতিক দল না। আমরা এমনিতেই আমাদের সাদাদলের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি "।
তিনি আরও বলেন , এ ব্যাপারে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসাশনিক পদে থেকে এধরনের সংগঠনের সাথে যুক্ত না থাকাই ভালো"
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। পরে ফুল দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন অর্জন ও কার্যক্রম তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পরবর্তীতে রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখার পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নবীনদের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্টদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ডিন পরিষদের আহ্বায়ক বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে নবীনদের পরিচয় করিয়ে দেন।
পরিচয় পর্ব শেষে নবীনদের উদ্দেশ্যে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, 'আমাদের গ্ৰাজুয়েটরা পুরো বিশ্বে দাপটের সাথে সকল সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছে। তোমাদেরও দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন গ্ৰাজুয়েট হিসেবে বাকৃবি থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে হবে। শুধু প্রিন্ট করা শীট বা বিভিন্ন এআই টুলসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পাঠ্যপুস্তক নির্ভর হতে হবে। দেশের কৃষি ও কৃষকদের ভরসাস্থল হতে হবে এবং তাদের পাশে থাকতে হবে।'
প্রধান অতিথি ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন,'বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষির উন্নতি, দেশের উন্নতিতে সবচাইতে বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক, গবেষণালব্ধ সহযোগিতা যে প্রতিষ্ঠান করেছে সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। তোমরা সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তোমরা এই দেশের কৃষির ঐতিহ্যকে ধারণ ও বহন করবে এবং এই ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।'
ছাত্র-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, 'শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মাঝে সম্পর্ক থাকবে অসাধারণ। যদি ছাত্র ও শিক্ষকের মাঝে সুসম্পর্ক না থাকে কোনভাবেই একটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না।'
ইউজিসির বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের অনেকগুলো প্রচেষ্টার মধ্যে একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটালে রূপান্তরিত করা। প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাই স্পিড ইন্টারনেট, ওয়াইফাই সিস্টেম ও স্মার্ট ক্লাসরুম থাকবে। সেই সাথে আমাদের বড় একটি পরিকল্পনা যে প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে নিশ্চিত করা। যেকোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম দিন থেকে বের হয়ে যাওয়া পর্যন্ত এবং এরপরেও প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে ডিজিটালি সংযুক্ত থাকবে।'