ছবি: সংগৃহীত।
দীর্ঘ ৯ মাসের ধারাবাহিক ও গঠনমূলক আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক-সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার গড় শুল্কহার ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
গতকাল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত জানানো হয়েছে। চুক্তিতে কেবল শুল্ক নয়, বরং পণ্য, সেবা, কাস্টমস প্রক্রিয়া, বাণিজ্য সহজীকরণ, রুলস অব অরিজিন, স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষা, কারিগরি বাধা, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, সরকারি ক্রয়, শ্রম, পরিবেশ, প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা, পারস্পরিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আগে থেকেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রিপস চুক্তিতে অনুস্বাক্ষরকারী। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তিতে নতুন কোনো অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়নি।
চুক্তিতে তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম সুতা আমদানি করে তা দিয়ে তৈরি পোশাক সে দেশে রপ্তানি করলে ‘শূন্য শুল্ক’ বা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক, যার ওপর ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক কার্যকর হবে না, যদি কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা হয়।
একইভাবে চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ২৫০০টি পণ্য শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক, কাঠ, কাঠজাত পণ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী। এ ছাড়া বাংলাদেশ তার বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য ৭১৩২টি ট্যারিফ লাইন/এইচএস কোড অফার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ৪,৯২২টি ট্যারিফ লাইনে চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা (এর মধ্যে ৪৪১টি আগেই শূন্য শুল্ক ছিল) পাবে। ১৫৩৮টি ট্যারিফ লাইনে ৫ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক শূন্যে নামানো হবে (প্রথম বছরে ৫০ শতাংশ হ্রাস, পরবর্তী চার বছরে বাকি ৫০ শতাংশ সমান হারে)। ৬৭২টি ট্যারিফ লাইনে শুল্ক শূন্য করা হবে ১০ বছরের মধ্যে (প্রথম বছরে ৫০ শতাংশ হ্রাস, পরবর্তী ৯ বছরে ৫০ শতাংশ সমান হারে)। তবে ৩২৬টি ট্যারিফ লাইনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়নি।
চুক্তিতে পেপারলেস ট্রেড, মেধাস্বত্ব অধিকার (আইপিআর) প্রয়োগ জোরদার এবং ই-কমার্সে স্থায়ী মরাটোরিয়াম সমর্থনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত ৯টি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবে বাংলাদেশ সম্মতি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য আমদানিতে এফডিএ সনদের ভিত্তিতে পূর্বানুমতি ছাড়াই অনুমোদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কৃষিপণ্য, দুগ্ধ, মাংস ও পোলট্রি আমদানিতে মার্কিন সনদ গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক এসপিএস ব্যবস্থা স্বীকৃতির কথা বলা হয়েছে। উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার প্রক্রিয়া ২৪ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার অঙ্গীকারও রয়েছে।
বীমা, তেল, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ খাতে মার্কিন বিনিয়োগে ইকুইটি সীমা উদারীকরণ, দুর্নীতিবিরোধী বিধান প্রয়োগ এবং ডব্লিউটিওর মৎস্য ভর্তুকি চুক্তি গ্রহণের বিষয়গুলো চুক্তিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুযায়ী শ্রম আইন এবং পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সিবিপিআর, পিআরপি ও পিডিপিও স্বীকৃতির পাশাপাশি বোয়িং উড়োজাহাজ, এলএনজি, এলপিজি, সয়াবিন, গম ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বৃদ্ধির প্রচেষ্টার বিষয়গুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মালয়েশিয়া বা কম্বোডিয়ার মতো চুক্তিতে ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ে মার্কিন পরামর্শের যে শর্ত ছিল, বাংলাদেশের চুক্তিতে তা নেই।
চুক্তির রুলস অব অরিজিনে কোনো নির্দিষ্ট ভ্যালু অ্যাডিশনের পরিমাণ উল্লেখ না থাকায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া সহজ হবে। তবে এই চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে চুক্তি বাতিলের সুযোগ না থাকলেও বাংলাদেশের অনুরোধে এতে একটি ‘এক্সিট ক্লজ’ বা চুক্তি বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভোক্তা পর্যায়ে গৃহস্থালিতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা, যা দাম বাড়ার আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।রোববার বিইআরসি এ-সংক্রান্ত পৃথক আদেশ ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে। নতুন এই মূল্য একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম বৃদ্ধি, জাহাজভাড়া, ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে বেসরকারি এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, আগস্ট মাসের জন্য সৌদি আরামকো ঘোষিত প্রোপেনের মূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের মূল্য ৬৪০ মার্কিন ডলার। গড়ে সৌদি আরামকোর কন্টাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) ধরা হয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৬৩৩ মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে প্রতি মেট্রিক টনে ১৮০ মার্কিন ডলার জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৬৯ পয়সা বিবেচনায় নিয়ে এই নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। এই কেজিপ্রতি দর অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দামও নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩২ টাকা। এছাড়া ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৬৪ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৯৭ টাকা, ১৬ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১৩০ টাকা এবং ১৮ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩৯৭ টাকায় বিক্রি হবে। তুলনামূলক বড় আকৃতির সিলিন্ডারের মধ্যে ২০ কেজির দাম ২ হাজার ৬৬৩ টাকা, ২২ কেজির দাম ২ হাজার ৯২৯ টাকা, ২৫ কেজির দাম ৩ হাজার ৩২৯ টাকা, ৩০ কেজির দাম ৩ হাজার ৯৯৫ টাকা, ৩৩ কেজির দাম ৪ হাজার ৩৯৪ টাকা, ৩৫ কেজির দাম ৪ হাজার ৬৬০ টাকা এবং সর্ববৃহৎ ৪৫ কেজি ধারণক্ষমতার সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৯৯২ টাকা।
সিলিন্ডার গ্যাসের পাশাপাশি রেটিকুলেটেড ও অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। বাসা-বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি রেটিকুলেটেড এলপিজির মূল্য প্রতি কেজি ১২৯ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। আর গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির মূল্য প্রতি লিটার ২৮ টাকা ৭৫ পয়সা বা প্রতি ঘনমিটার ২৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা।
তবে বেসরকারি খাতের গ্যাসের দাম বাড়লেও সরকারি এলপিজির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিইআরসির পূর্বের নির্দেশনানুযায়ী সরকারি ১২ দশমিক ৫ কেজি সিলিন্ডারের ভোক্তা মূল্য পূর্বের ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সাতেই অপরিবর্তিত থাকবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি সতর্ক করে দিয়েছে যে, এলপিজি মজুদকরণ, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক কিংবা খুচরা বিক্রির কোনো ধাপেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া যাবে না। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেনজীর আহমেদ
বাংলাদেশের অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সেখানে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে খবর দিয়েছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
এশিয়া পোস্ট লিখেছে, কারামুক্তির পর বেনজীর আহমেদের সঙ্গে তাদের প্রতিবেদকের কথাও হয়েছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই কারামুক্ত হন সাবেক আইজিপি।
এশিয়া পোস্ট লিখেছে, বেনজীরকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে শুনানি হয়। পরে বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়।
জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত দিয়েছে, বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।
বেনজীরের পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে কালবেলা লিখেছে, জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত আরোপ করলেও সাবেক এই পুলিশ প্রধান দুবাই থেকে ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টায় আছেন।
এদিকে ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এখনো বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে কিছু জানে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরে এআইজি এ এইচ এম শাহদাত হোসাইন রোববার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সংবাদমাধ্যমে আসা খবরটি তিনি দেখেছেন এবং এ ব্যাপারে এনসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন।
“তারা আমাকে বলেছে, এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।"
আওয়ামী লীগ আমলের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা হয়।
সেই নোটিসের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ১২ জুন ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানায়।
এরপর ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে। এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত বেনজীরকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেবে সরকার।
সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠানো হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এর এক মাস পর বেনজীরকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ‘নীতিগত সম্মতি’র পাশাপাশি আরো কিছু তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দেয় দুবাই পুলিশ।
এই নথি চালাচালির মধ্যেই বেনজীরের জামিনে মুক্তি পাওয়ার খবর এল, যা তার প্রত্যাপর্ণের বিষয়টিই অনিশ্চয়তায় ফেলে দিল।
পাসপোর্টে জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার চলছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন।
প্রাথমিক-গণশিক্ষা-মন্ত্রণালয়
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের দিনক্ষণ জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন।
এতে আরও বলা হয়, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানের পর পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। বিষয়টি সকলের অবগতির জন্য পাঠানো হলো।
এদিকে চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও বিদ্যালয়ের পদায়ন চান সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। এ দাবিতে আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরুর কথা রয়েছে তাদের।
এদিন সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জডড়ো হতে শুরু করেন প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তারা জানিয়েছেন কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
প্রশাসন সংস্কার ও মেধাভিত্তিক পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে বাড়ছে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য, ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়া এবং মেধাবী কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করার অভিযোগের পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ঘটনা ঘটছে। এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়হান কাওছারকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয় গত ২৫ মার্চ। পরে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়।
বিএনপি সরকারের গত সাড়ে পাঁচ মাসে নানা কারণে ১১ জন সচিবকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পদোন্নতি পেলেও তাদের কোথাও কাজে লাগাতে পারছে না সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব করা হয় ১৭৯ জনকে। তাদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও রয়েছেন। কিন্তু ২৪ ও ২৫ ব্যাচে মেধা তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চার কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়নি।
২৪ ব্যাচের দুই কর্মকর্তা দুই দফায় বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হযেছে। মেধা তালিকা মানা হয়নি। আন্তঃক্যাডার কর্মকর্তাদের বৈষম্য আরও বেড়েছে।
আগের চেয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত হওয়া কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৭ বছর কোনো পদোন্নতি পাইনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সচিব হিসেবে পদোন্নতির পর কেন জনপ্রশাসনে সংযুক্ত হলাম- কিছুই বুঝতে পারছি না।’
সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এটা অনেক ভালো দিক। কিন্তু এই সংস্কারে আমলাতন্ত্রই প্রধান বাধা। কারণ তারা নতুন কিছু চায় না।
তিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমলাদের আন্তরিকতার সঙ্গে ফাইল উপস্থাপন করতে হবে। এর পর মন্ত্রী-এমপিরা সিদ্ধান্ত দেবেন। কিন্তু আমলারা সংস্কারের সেই প্রস্তাব উপস্থাপনই করেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ ছিল, সেগুলোর মধ্যে অনেক প্রস্তাব তারা বাদ দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনকে পরিবর্তন করতে হলে সরকারপ্রধানকে সরাসরি তদারক ও সমন্বয় করতে হবে।
সংস্কারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নেই
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশে মেধাভিত্তিক নিয়োগ-পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর কথা বলা হয়েছিল। একই ধরনের অঙ্গীকার রয়েছে জুলাই ঘোষণাপত্র, ৩১ দফা এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও। কিন্তু প্রশাসনের বর্তমান চিত্রে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, কেবল সরকার পরিবর্তন করলেই প্রশাসনের চরিত্র বদলায় না। পদোন্নতি, পদায়ন, মূল্যায়ন ও জবাবদিহির কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার ছাড়া একই ধরনের সংকট বারবার ফিরে আসবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ: মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের কম সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশের অগ্রগতি নেই। জনপ্রশাসন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ; সরকারি কর্মচারীর জন্য নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন; সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় হলফনামায় সই করার মতো সুপারিশের বাস্তবায়ন নেই।
দণ্ডপ্রাপ্তরা পেলেন পদোন্নতি
আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সমন্বয়ক মুহম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আন্তঃক্যাডার বৈষম্য কমেনি বরং আরও বেড়েছে। কারণ শিক্ষা ক্যাডারের বদলি নীতিমালা-২০২৬ এ প্রশাসন ক্যাডারের ক্ষমতা বেড়েছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে এডিসি শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলির ক্ষমতায় যুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরেও শিক্ষা ক্যাডারের বদলিতে প্রশাসন ক্যাডারের হস্তক্ষেপ রয়েছে। যুগ্ম সচিবের পদোন্নতির তালিকায় থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত উপসচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। ডেমরার সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁকে তিন বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করলেও তাঁর দণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. শাহীনুর ইসলামকে বালুমহাল কেলেংকারিতে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) থাকাকালে তিস্তা নদীর বালুমহালের ইজারা গ্রহীতার চেক ব্যাংকে জমা না দিয়ে অর্থপ্রাপ্তির ভুয়া চুক্তি করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এক বছরের জন্য বেতন গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপে অবনমিতকরণের দণ্ড দেওয়া হয়। তিনিও পদোন্নতি পেয়েছেন।
স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের উপসচিব মুহাম্মদ মকবুল হোসেনকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে দুর্নীতির দায়ে শাস্তি দেওয়া হয়। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে কর্মরত থাকাকালে নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও অসদাচরণের দায়ে তাঁকে দুই বছরের জন্য দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার দণ্ড দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল তাঁর এ দণ্ড বাতিল করেন। তিনিও আছেন পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে।
কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, মেধাভিত্তিক প্রশাসন গঠন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত জনপ্রশাসনের অঙ্গীকার- এসব প্রত্যাশা নিয়ে প্রশাসনে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন কর্মকর্তারা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পদোন্নতি, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আগের সরকারের সময়কার বিতর্কিত ধারা বহুলাংশে বহাল রয়ে গেছে।
মেধা ও কর্মদক্ষতার বদলে নানা বিবেচনায় পদোন্নতির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। এতে যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ আবারও বঞ্চিত। অনেকে দ্বিতীয় দফায় ওএসডি হয়েছেন।
অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা বা বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তার যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি প্রশাসনের ভেতরে নতুন অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং মাঠ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই সীমিত। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়ছে
একদিকে নিয়মিত পদোন্নতি ও পদায়নে জটিলতা, অন্যদিকে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে শুধু সচিব পদে ২২ জন কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এতে অপেক্ষমাণ কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, অবসরোত্তর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ব্যতিক্রম হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মে পরিণত হচ্ছে।
এসএসবির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে
পদোন্নতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বোর্ডের কার্যক্রম যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। মূল্যায়নের সুস্পষ্ট মানদণ্ড প্রকাশ না হওয়ায় পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি দেওয়ার পর তা বাতিল করা হয়।
প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, মেধা, জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা, সততা ও পেশাগত সাফল্যের ভিত্তিতে মূল্যায়নের পরিবর্তে অন্য বিবেচনা প্রাধান্য পাচ্ছে- এমন ধারণা প্রশাসনের ভেতরে জোরালো হচ্ছে। বাড়ছে বঞ্চনাবোধ।
রাজধানীর জিগাতলায় ট্যানারি মোড়ের সন্দীপন স্কুলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনা ও দিবাযত্নের ব্যবস্থা রয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ৪ বছর বয়সী শিশুরাও পড়ে। অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে দুপুরের খাবার দেওয়া হয় বিদ্যালয় থেকেই।
গ্যাস সংকটের আগে খাবার রান্না করা হতো সকাল ১০টার পর থেকে। চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকায় নিভু নিভু আগুনে এখন আর দিনের বেলায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েক দিন বিদ্যালয়ের সামনের ভবনের পার্কিংয়ের স্থানে লাকড়ির চুলায় রান্না করা হয়।
তবে বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাতে রান্না করা হচ্ছে। কারণ, তখন গ্যাসের চাহিদা কম থাকায় চুলায় কিছুটা চাপ বাড়ে।
বিদ্যালয়ের বাবুর্চি রহিমা বেগম জানান, রাত ২টার দিকে রান্না শুরু হয় এবং ভোরের আগেই তা সম্পন্ন করতে হয়। এরপর আর গ্যাস থাকে না। এই খাবারই শিশুদের দুপুরে ‘মিড-ডে মিল’ হিসেবে দেওয়া হয়। সারারাত জেগে রান্না করার কারণে শরীরের ওপর চরম ধকল যাচ্ছে বলে জানান এ বৃদ্ধা।
দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গৃহিণীদের প্রাত্যহিক রুটিন আগের মতো নেই। পারিবারিক বাজেটেও চাপ পড়েছে। দিনের বেলা একদম গ্যাস না থাকায় অধিকাংশ গৃহিণীকে বাধ্য হয়ে মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে রান্না সেরে রাখতে হচ্ছে। অনিদ্রার কারণে অনেকের শারীরিক অসুস্থতা বাড়ছে। অনেক সময় সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবার অর্ধেক রান্না হতেই গ্যাসের চাপ মিলিয়ে যাওয়ায় থমকে যাচ্ছে পুরো সংসারের কাজ।
কেউ কেউ হোটেল থেকে খাবার কিনে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় রান্না করে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছেন। বহুতল ভবনের বারান্দা কিংবা ছাদে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ ঝুঁকছেন এলপিজি সিলিন্ডার কিংবা ইনডাকশন চুলার মতো বিকল্প পদ্ধতিতে। বাজারে সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট এবং বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহারে খরচের বোঝা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
একদিকে মাসের শেষে লাইনের গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সিলিন্ডার, বিদ্যুৎ ও হোটেল থেকে কেনা খাবারের পেছনে চলে যাচ্ছে আয়ের বড় অংশ। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকট এখন আরও তীব্র হয়েছে। ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব পড়েছে।
রাজধানীর মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা বিজৎ পাল শনিবার জানান, সম্প্রতি গ্যাসের যে সংকট শুরু হয়েছে তা সামলাতে তিনি স্ত্রীকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিজে হোটেলে খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু হোটেলের খাবারে অতিরিক্ত তেল থাকায় পেটের পীড়ায় ভুগছেন। আদাবরের বাসিন্দা অরুণিমা জানান, গ্যাস না থাকায় শ্যামলীতে ভাইয়ের বাসা থেকে রান্না করে এনে ফ্রিজে রেখে খেতে হচ্ছে। তাঁর ভাইয়ের বাসায় এলপি গ্যাসের চুলা আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এই দুর্ঘটনার আগে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো।
এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে ৯০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে ২১৫ কোটি ঘনফুটে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘প্রকৌশলীরা দিন-রাত কাজ করছেন টার্মিনাল মেরামতে। বিশেষভাবে প্রস্তুত যন্ত্রপাতি হাতে এসেছে। আশা করছি, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে।’
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং রুট ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে আজ (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।
একই সঙ্গে জিপিএস সংযুক্ত না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া কিংবা ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ডিভাইস সচল থাকার তথ্য বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রদর্শন করতে হবে।
জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি বিবরণ বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় এবং সংস্থাটির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।