• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এইদিন আলাদা ব্যালটে ভোটাররা যে গণভোটে ভোট দেবেন সেখানে সুনির্দিষ্ট করে খুব অল্প করে মাত্র চারটি বিষয় লেখা থাকবে। এই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের সমর্থন আছে কিনা, সেই প্রশ্নে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' ভোট দিবেন ভোটাররা।

গত বেশ কয়েকদিন ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে গণভোট নিয়ে প্রচারণা শুরু করে সরকার। প্রথমে সরকারের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র গণভোট নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে প্রচারণা শুরু করে। পরে অবশ্য সেই অবস্থা থেকে সরে এসে সরাসরি গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের প্রচারণা শুরু করে। কয়েকদিন আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ নিয়ে রেডিও টেলিভিশনে প্রচারের জন্য একটি ভিডিও বার্তাও দেন। যেখানে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, "হ্যাঁ' ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে দেশ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে"।


সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট, দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠকের পর গণভোটে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাবনা সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথাও জানিয়েছে সরকার। গণভোটের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব থাকলেও এর মধ্যে কোন কোনটিতে বিএনপি, কোনটিতে জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। প্রথমে প্রস্তাবনা ছিল যে যে সব প্রশ্নে যে রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে সেই দল ক্ষমতায় গেলে ওই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে না। তবে, শেষ পর্যন্ত এই নিয়ে সমাধানে ব্যর্থ হয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গণভোটে হ্যাঁ জয় পেলে আগামী সংসদে এই ৮৪টা ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। আর যদি না জয় পায় তাহলে জুলাই সনদই কার্যকর হবে না।


গণভোটে হ্যাঁ জয় পেলে আগামী সংসদের সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিন বা ৯ মাসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কারে বাধ্য থাকবে। না করলে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সংবিধান সংশোধনের বিল পাস বলে গণ্য করা হবে। সরকার গণভোটের ব্যালটে যে চারটি বিষয় যুক্ত করেছে, তাতে ভোটারদের অনেকের পক্ষেই বোঝা সম্ভব নয় আসনে গণভোট 'হ্যাঁ' দিলে কি কি পরিবর্তন পাবেন আর না দিলে কোন কোন পরিবর্তন আসবে না। তাই গণভোটে হ্যাঁ অথবা না জিতলে কি কি বিষয়ে পরিবর্তন আসবে কিংবা আসবে না, সেটি তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।


ভাষা, জাতি ও মৌলিক সংস্কার

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। অন্যসব মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে। বাংলাদেশের নাগরিকরা এতদিন বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত হলেও সংস্কারের পর পরিচয় হবে বাংলাদেশি। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে, প্রয়োজন নেই গণভোটেরও। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- সংবিধান সংশোধনে সংসদের নিম্নকক্ষে দুই তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অন্যদিকে সংবিধানের প্রস্তাবনা- ৮,৪৮, ৫৬ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোট লাগবে। বর্তমান সংবিধানে ৭ এর ক ও খ অনুযায়ী সংবিধান রহিত করলে, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান ছিল, জুলাই সনদে সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।


বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ বর্তমান সংবিধানের মূলনীতি। তবে গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের মূলনীতি হবে – সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতি। বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে সেই অনুচ্ছেদ যুক্ত হবে- সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। সংবিধানে বর্তমানে ২২টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। তবে জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়েছে- নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি।


রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী: ক্ষমতা ও ভারসাম্য

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারি হয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে। এর ফলে মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়। সনদে নতুন যে প্রস্তাবনা আনা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে- জরুরি অবস্থা জারি করতে হলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। সেই সভায় বিরোধী দলীয় নেতা/উপনেতাও উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিকে, জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা যাবে না।


বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। এই ভোট দিতে হয় প্রকাশ্যে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গোপন ব্যালটে উচ্চকক্ষ ও নিম্মকক্ষের সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি তার নিজ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। যদিও এই প্রস্তাবে ভিন্নমত ছিল বিএনপির।


রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। জুলাই সনদে সেখানে সংসদের উভয় কক্ষের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্মকক্ষ ও উচ্চকক্ষ দুই কক্ষের দুই তৃতীয়াংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে। আগে সরকারের অনুমোদনে যে কোন অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারতেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার সম্মতি দিলে অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।


২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার শপথ নিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা। বিদ্যমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ ছিল না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- এক ব্যক্তি এক জীবনে ১০ বছরের বেশি অর্থাৎ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। অন্যদিকে, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারেন। তবে জুলাই সনদে বাস্তবায়ন হলে একাধিক পদে থাকতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী। যদিও এই বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত জানিয়েছিল বিএনপিসহ পাঁচটি দল।


সংসদ, নির্বাচন ও সরকার ব্যবস্থা

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান উপদেষ্টাসহ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি দল, বিরোধীদল, দ্বিতীয় বিরোধীদলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশের সংসদ এক কক্ষ বিশিষ্ট থাকলেও এবার জুলাই সনদে সেটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০ জন। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারেই উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে বলেও জুলাই সনদে বলা হয়েছে।


দেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে নারীদের সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। এটি বাড়ানোর কোন কথা বলা নেই বিদ্যমান সংবিধানে। সেটি ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে জুলাই সনদে। সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সরকারি দল থেকেই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। গণভোটে সনদ কার্যকর হলে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। তবে, জুলাই সনদে বলা হয়েছে- বাজেট ও আস্থাবিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে।


এতদিন বিদেশের সঙ্গে সরকারের কোন চুক্তি করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হতো না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন চুক্তি করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে তা অনুমোদন করতে হবে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে এতদিন নির্বাচন কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকলেও গণভোটে জুলাই সনদ পাশ হলে একক কর্তৃত্ব হারাবে ইসি। তখন ইসির সাথে বিশেষজ্ঞ কমিটিও এই দায়িত্ব পালন করবে। এর আগে নানা নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি থাকলেও এর নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।


কী পরিবর্তন আসবে আইন ও বিচার ব্যবস্থায়  

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে বলা আছে রাষ্ট্রপতি যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন। তবে, জুলাই সনদের এই অংশে বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে আপিল বিভাগ থেকে।


আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা সরকার নির্ধারণ করার কথা আছে বিদ্যমান সংবিধানে। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে প্রধান বিচারপতির চাহিদার ভিত্তিতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। আগে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণেও থাকলেও জুলাই সনদে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টে ন্যস্ত করার মতো বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে জুলাই সনদে।


এর আগে সংবিধানে থাকলেও কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ হয়নি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ন্যায়পাল নিয়োগ হবে। একইভাবে সরকারি কর্মকমিশন নিয়োগ, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ বিরোধী দলের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে। যদিও এগুলো নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানিয়েছে বিএনপিসহ সাতটি দল। সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা বিদ্যমান আইনে না থাকলেও জুলাই সনদে তা যুক্ত করা হয়েছে।


আইন সংশোধনে সংস্কার হবে ৩৭টি

৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের বাইরে আর যে ৩৭টি সংস্কার প্রস্তাব আছে জুলাই সনদে সেগুলো সংশোধন করা যাবে 'আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদের কমিটিসমূহ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার, অধিকারের সীমা এবং দায় নির্ধারণের অঙ্গীকার থাকছে জুলাই সনদে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সীমানা পুন:নির্ধারণে আইন প্রণয়ন, বিচারকদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সাবেক বিচারপতিদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠন, বিচার বিভাগের জনবল বৃদ্ধি, জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাকে অধিদপ্তরে রূপান্তর, বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীদের সম্পত্তির বিবরণ, আদালত ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও ডিজিটালাইজ করা, আইনজীবীদের আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয় রাখা হয়েছে 'আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য।


এছাড়া জনপ্রশাসন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, প্রজাতন্ত্রের কর্মে জনবল নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ), সরকারি কর্ম কমিশন (শিক্ষা) এবং সরকারি কর্ম কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠন করার কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে। অন্যদিকে, ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুইটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন করার কথাও বলা হয়েছে জুলাই সনদে। ১২ই ফেব্রুয়ারির গণভোটের প্রশ্নের এসবের কিছুই উল্লেখ থাকবে না। সেখানে মাত্র ছোট ছোট চারটি পয়েন্টের কথা উল্লেখ করে ভোটারদের কাছ থেকে হ্যাঁ অথবা না ভোট গ্রহণ করা হবে।




আজ সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪১ এএম

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠন করা জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি আজ মঙ্গলবার প্রথম বৈঠকে বসছে। জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান-সম্পর্কিত মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোর কী হবে, সংবিধান সংশোধন কমিটি কীভাবে কাজ করবে, কত দিনের মধ্যে এ কমিটি প্রতিবেদন দেবে- এসব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 


আজ প্রথম বৈঠকে কমিটির কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার কথা রয়েছে।


সংবিধান সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছিল, সেটি অনুসরণ করছে না নির্বাচিত বিএনপি সরকার। বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করে জাতীয় সংসদ।


এই কমিটির কার্যপরিধি হলো, ‘সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের নিমিত্ত সুপারিশ প্রণয়নপূর্বক সংসদে রিপোর্ট পেশ’। এ কাজ করার ক্ষেত্রে কমিটি কী কী করবে, কীভাবে কাজ করবে, তার বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঠিক হয়নি। কত দিনের মধ্যে কমিটিকে সংসদে প্রতিবেদন দিতে হবে, সেটাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কমিটির সংসদে প্রতিবেদন দিতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে। সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত কমিটিও অংশীজনদের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে আলোচনা করবে। এ ছাড়া কমিটি বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা, জুলাই সনদে থাকা সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব, বিএনপির দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত যেসব দফা ছিল, সেগুলোও পর্যালোচনা করবে। এসবের ভিত্তিতে সংবিধানের কোথায় কোথায় কী কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সে সুপারিশ করবে বিশেষ কমিটি।


সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম বৈঠকে কমিটি নিজেদের কর্মকৌশল ঠিক করবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির অঙ্গীকার আছে। এর বাইরেও বিএনপির নিজস্ব কিছু অঙ্গীকার আছে। সংবিধানে কী কী সংশোধনী আনা যায়, তা নিয়ে বিশেষ কমিটি সংবিধানবিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সব স্তরের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করবে। এরপর কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করে সংসদে পেশ করবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংসদে বিল আনবে। সে বিলের ওপর আবার সংসদে আলোচনা হবে। তারপর বিলের ওপর ভোটাভুটি হবে।


বিরোধী দল থেকে এই কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করেছিল সরকারি দল। তবে কারও নাম দেয়নি বিরোধী দল। গঠনের দিনই এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল। 


সেদিন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদে বলেছিলেন, এ ধরনের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাঁদের ধারণাগত মতপার্থক্য আছে। তাঁরা সংবিধান সংস্কার চান।


সংবিধান সংস্কারের আলোচনা শুরু হয়েছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর একটি ছিল অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, জনমত জরিপসহ বিভিন্নভাবে নেওয়া মতামতের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি ওই কমিশন বিস্তারিত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়। 


পরে ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই দফায় দীর্ঘ আলোচনা করে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ।


সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। এর মধ্যে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধানসহ এ ধরনের কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আসবে। তবে এ ধরনের কিছু প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) ছিল।


ভিন্নমত থাকা বিষয়গুলো বিএনপি যেভাবে চায়, সেভাবে নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছিল। যেমন তারা একটি দলের নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের কথা বলেছে। জুলাই সনদের প্রস্তাবে নিম্নকক্ষে সারা দেশে পাওয়া ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের কথা বলা আছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের নভেম্বরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়েছিল। সেটার আলোকে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির ভিন্নমতের বিষয়গুলো গণভোটে উল্লেখ ছিল না। 


অর্থাৎ ঐকমত্য কমিশনের মূল প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট হয়েছে। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, আরেকটি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।


জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা নেননি। ফলে ওই সংস্কার পরিষদও গঠিত হয়নি। বিএনপি দাবি করেছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ। এ ধরনের শপথ নেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। তবে জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে তারা ভিন্নমতসহ স্বাক্ষর করেছে, সেভাবে বাস্তবায়ন করবে।


বিশেষ কমিটি কি জুলাই সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে, নাকি সেগুলোকে কেবল বিবেচনায় রেখে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নতুন করে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ তৈরি করবে- এমন প্রশ্নও আছে। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, সংবিধান সংস্কারে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো সে মতে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ এএম

আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার সম্মানে আয়োজিত হবে নাগরিক সংবর্ধনা। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে দুদিনের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী। 


সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হবে বলে সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফলে দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিলনায়তনে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও সভাপতির আসন যেন সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল এক কূটনৈতিক দৃশ্যপট প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সরকারপ্রধানের সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরসূচি ও অন্যান্য কর্মসূচি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা গেছে।


এদিকে দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে অভাবনীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। 


২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। আবারও দীর্ঘদিন পর তার যুক্তরাষ্ট্র সফরকে স্মৃতিময় করে রাখতে এবং দলীয় প্রধান তথা দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে এক বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা সভার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। 


বিভিন্ন কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে অনলাইনে বিশেষ ভার্চুয়াল যৌথ প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করেছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অসংখ্য নেতাকর্মী দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জড়ো হবেন নিউইয়র্কে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গতকাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো শিডিউল চূড়ান্ত হয়নি। সফরসূচি চূড়ান্ত করা নিয়ে কার্যক্রম চলছে।


উল্লেখ্য যে, সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ওই দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানি, পণ্য আমদানি-রপ্তানি, করিডোর স্থাপনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমওইউ এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। 


এরপর কয়েকটি দেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রী আপাতত অন্য কোনো দেশ সফরে যাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সময়সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে কূটনৈতিক ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বহর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সূচি নির্ধারিত রয়েছে। অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি তিনি সফরকালে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের মূল মিলনায়তনে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে তার বহুল প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ভাষণ তুলে ধরবেন।


ব্যাপক প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর দলীয় চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র আগমন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ২৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানফ্রান্সিসকোতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। 


এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সানফ্রান্সিসকো থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।


বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর যুক্তরাষ্ট্র আসবেন এটা আমাদের জন্য খুশির খবর। আশা করি তাকে ঘিরে সব কর্মসূচি সফল হবে এবং আমরা তাকে সংবর্ধনা দেব।


বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউইয়র্কে আসবেন। তাকে বরণ করতে আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ফলপ্রসূ হবে।


বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, প্রায় বিশ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র আসবেন, এটি আমাদের জন্য খুশির খবর। এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ জয় বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক। বিশ্ব রাজনীতির এ জটিল সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব করা বাংলাদেশের জন্য বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে এক বিশাল সুযোগ তৈরি করবে।


ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে আমরা আনন্দিত এবং আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে।


নিজেদের দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতারা


এদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কোনো কমিটি নেই। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা-ক্ষোভ ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। পদপদবি না পেয়েও অনেক নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ এবং কমিটি না থাকায় অনেকেই পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন। অথচ বছর দুই আগেও শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। 


সর্বশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতারা। সে সময় নিউইয়র্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হেনস্তার ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতায় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়।


যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা জানান, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হলেও আজ তাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। এদিকে প্রায় দেড় বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে কোনো কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে তোলপাড় হয়। যদিও নেতাকর্মীদের দাবি, এখানে দলীয় শৃঙ্খলা কিংবা কোনো ধরনের নিয়ম ভঙ্গের মতো কিছু ঘটেনি। নেতাকর্মীরা শুধু চলমান কর্মসূচি দলীয় ব্যানারে পালন করছেন।


সংশ্লিষ্টরা জানান, শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে বহির্বিশ্বে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল নজিরবিহীন। গত ১৫ বছর অনেকেই বাংলাদেশে আসতে পারেননি। অনেকের পরিবার মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। 


সর্বশেষ ২০০৫ ও ২০১১ সালে আব্দুল লতিফ (সম্রাট) ও জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটি দেওয়া হয়, যা ২০১১ সালে ভেঙে দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের পর তারেক রহমান কয়েকবার কমিটি গঠনের ব্যাপারে আলোচনা ও লন্ডনে বৈঠক করলেও, তা আলোর মুখ দেখেনি। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক গেলে তার কাছে দ্রুত কমিটি গঠনসহ অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয়ে দাবি-দাওয়া জানাবেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও সভাপতির আসন: ইতিহাসের প্রেক্ষাপট ও নতুন সমীকরণ


আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভাষণকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি অভূতপূর্ব দৃশ্যপট তৈরি হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন প্রধান পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের নতুন পথচলা, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সংকট সমাধানে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন-তখন জাতিসংঘ অধিবেশনের সভাপতির আসনে বসে সেই সভা পরিচালনা করবেন বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। 


বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একই দেশের সরকারপ্রধান মূল মঞ্চে ভাষণে আর তারই ক্যাবিনেটের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বসভার সর্বোচ্চ আসনে থেকে সেই অধিবেশন নিয়ন্ত্রণ করছেন-এমন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ আধুনিক বিশ্ব কূটনীতিতে অত্যন্ত বিরল।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও শাসনব্যবস্থার ভিন্নতা জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ এলে অনেকেই ১৯৮৬ সালের কথা স্মরণ করেন। ওই বছর বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্বের গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন। 


তবে বিশ্লেষকদের মতে, সে সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওই সময় বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা বজায় ছিল এবং তৎকালীন শাসন কাঠামোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান ও বিশ্বমঞ্চের সমীকরণটি ভিন্ন ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের পাঁচ দশকের ইতিহাসে প্রথমবার সংসদীয় গণতন্ত্রের অধীনে একই মন্ত্রিসভার শীর্ষ দুই প্রতিনিধি- প্রধান নির্বাহী হিসেবে ‘প্রধানমন্ত্রী’ এবং শীর্ষ কূটনীতিক হিসেবে ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী’-একই সময়ে বিশ্বমঞ্চের ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।


বিশ্লেষকরা বলছেন- অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ


রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ দুই দশক পর তারেক রহমানের নিউইয়র্ক গমন যেমন বিএনপির জন্য রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের প্রতীক, তেমনি জাতিসংঘের মতো মূল বৈশ্বিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্ব একই সঙ্গে ঘটা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে। 


ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশের এ ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক উপস্থিতি বিশ্বদরবারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল আলম বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এবং সভাপতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌথ উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গৌরবময় ও মর্যাদাপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, জাতিসংঘের এই ৮১তম অধিবেশন বিশ্ব কূটনীতির ইতিহাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিএনপি সরকার গঠনের পর এটা বিরাট সাফল্য।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১২ পিএম

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬ এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। 


আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার নিরাপদ, কার্যকর, মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের কারণ হলো, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণের বিধান রয়েছে, যা প্রতিপালন করা হয়নি।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই প্রণীত হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন। 


ইতিমধ্যে গত ২৯ জুন ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে। এই উপদেষ্টা পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। তবে এ বছরের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হলেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সেসব ওষুধের সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতো বহাল থাকবে। 


অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওষুধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যেন জনগণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।


মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ওষুধ শিল্পে স্থবির পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে অচলাবস্থা দূর হবে। বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে। শিল্প মালিকেরা আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। আশা করা যায়, যে আইনি জটিলতা ছিল তা দূর হবে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ত্বরান্বিত করতে দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। 


প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। তিনি জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তারেক রহমান মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। 


পাশাপাশি দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।


উপ প্রেস সচিব আরো জানান, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।


সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এ কারণেই তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।


বেনজীর আহমেদ

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩০ পিএম

দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। দুই শর্তে গত সোমবার (২৭ জুলাই) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন বেনজীর।


গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বেনজীরের জামিনের ক্ষেত্রে সেখানকার আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। শর্ত অনুযায়ী বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো তথ্য পায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর।


আইজিপি হিসেবে বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। 


মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।


২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। 


এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:০২ পিএম

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল গণমাধ্যমে। তবে, খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। 


সংস্থাটি বলছে, গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া ‘মোটরসাইকেলের সামনেও বসছে নম্বর প্লেট’ শীর্ষক খবরটি সঠিক নয়। গতকাল রোববার (২ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।


এর আগে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোটরসাইকেল এআই ক্যামেরার আওতায় আনতে সামনেও নম্বর প্লেট লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ প্রচার করা হয়। 


পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে বিআরটিএর সূত্রের বরাতে জানানো হয়, এআইভিত্তি ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট (সংখ্যা) ঢেকে সড়কে চলাচল করছে কোনো কোনো চালক। এমন পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পেছনে থাকায় ট্র্যাফিক আইন ভাঙলে এআই ক্যামেরা তা কখনও কখনও সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারে না। তাই মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট সামনে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়টি কার্যকর করতে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্টরা কয়েক দফা বৈঠক ও করেছেন।


তবে এ তথ্যের সত্যতা নিয়ে বিআরটিএ জানায়, এ সম্পর্কিত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তাই, পূর্ববর্তী প্রতিবেদনটি সংশোধন করা হলো।