চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১২ পিএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়কে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় তাকে এই নোটিশ দেয়া হয়।


সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবর প্রকাশের পর সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয় তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকে বিএনপির যেসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি, তার অধিকাংশই ছিল তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে। আজ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবাদ জানালাম।’


পরে চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়কে পাঠানো শোকজ নোটিশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হলো।’


নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশে এ নোটিশ দেয়া হয়েছে।


শোকজের বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমি সংগঠনের প্রতি অনুগত। যেহেতু আমাকে শোকজ করা হয়েছে, আমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা দেব।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওই পোস্টের কমেন্টেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি এবং দেশে ২২ হাজার কোটি টাকা লোকসানের বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলাম।’


এর আগে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।


নতুন দাম অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। যা দেশের ইতিহাসে প্রতি লিটার জ্বালানির সর্বোচ্চ দর।




রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৩ পিএম

অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, আবাসিক হলের আসন বাতিলের হুমকির অভিযোগ এবং অডিটরিয়ামের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবির প্রতিবাদে রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অধ্যক্ষ নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রীরা। এ সময় ‘দফা এক দাবি এক, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ’ এবং ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের পাশাপাশি সম্প্রতি দুই আবাসিক শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যুৎ বিলের নামে জরিমানা দাবির ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পূজার ছুটির আগে কলেজ অডিটোরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি প্রথমে রাত ১০টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত করা হয়। তবে অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৪টা থেকে ৫টা বেজে যায়।

নির্ধারিত সময়ের পরও অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছা। পরে ওই শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক রাতের অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী তাবাসসুম বলেন, ‘দুইটা স্টুডেন্টের সিট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করার কারণেই এই আন্দোলনটা। আমরা ম্যাডামের কাছে হাত-পা জোড় করে ক্ষমা চাইলে ম্যাডাম বলেন, আমাদের স্যরি অ্যাকসেপ্ট করেছেন এবং শাস্তিস্বরূপ এক রাতের অডিটোরিয়ামের বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আমাদের স্টুডেন্টদের পক্ষে এই টাকা দেওয়া সম্ভব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা মওকুফ করা যায় কি না বলতে গেলে আমাদের একজন স্টুডেন্ট ম্যাডামের পা ধরেছে। কিন্তু ম্যাডাম ওই স্টুডেন্টকে পা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে চলে গিয়েছেন। বলতে গেলে একেবারে লাথি মারা ও ধাক্কা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে এসব বিষয় নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাদের বক্তব্য না শুনে ধমক দেন। এর পরপরই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবস্থান নেন ছাত্রীরা।

আন্দোলনকারীরা জানান, প্রায় এক বছর আগে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এ কলেজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অধ্যক্ষ একের পর এক অযৌক্তিক নিয়ম চাপিয়ে দিচ্ছেন। এর আগে বদরুন্নেসা কলেজে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দুই হলের ফ্রিজ ও বিদ্যুতের সুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ তাদের।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমান কলেজের আবাসিক হলগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকলেও মাসিক ফি ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। আগামী বছর আরও ১০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অধ্যক্ষ তার সরকারি বাংলোতে নিয়মবহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের সাবলেট দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অধ্যক্ষকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করার বিষয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা ইয়াছমিন বলেন, ‘আজ সকালে আমি ও আমাদের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আপার (অধ্যক্ষের) রুমে বসে ছিলাম। হঠাৎ অনেকগুলো মেয়ে কথা বলার নাম করে ভেতরে ঢুকে আমাকে ও সম্পাদককে বাইরে ডেকে আনে। আমার সিক্সথ সেন্স কাজ করছিল যে কিছু একটা হতে পারে, তাই আমি অধ্যক্ষের অফিস সহায়ক নাসিমাকে ভেতরে থাকতে বলি। যেই আমাকে টান দিয়ে বাইরে এনেছে, সঙ্গে সঙ্গে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আপার দরজাটা বন্ধ করে তালা দিয়ে তারা স্লোগান শুরু করে দেয়।’

জরিমানা ও আসন বাতিলের বিষয়ে উপাধ্যক্ষ বলেন, ‘কলেজ ক্যাম্পাসে বর্তমানে নির্মাণকাজ চলায় অনেক বহিরাগত শ্রমিক কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাত ১২টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে বলা হয়েছিল। ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কেবল ভয় দেখাতেই প্রাথমিকভাবে দুই ছাত্রীর আসন বাতিলের কথা বলা হয়েছিল। তবে পূজার ছুটির পর গত রোববার সিদ্ধান্ত হয়, ফাইনাল ইয়ারের ওই দুই শিক্ষার্থীর আসন বাতিল করা হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোর ৫টা পর্যন্ত অডিটোরিয়ামে এসি ও ফ্যান চলায় ১২ হাজার ৬০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল এসেছে। এ টাকা হোস্টেলের সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাথাপিছু ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে সংগ্রহ করে পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল।‘’

উপাধ্যক্ষ জানান, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকেরা কয়েক দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলেও তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে অনড় রয়েছেন। বিকেল ৫টার পর অধ্যক্ষকে আর ক্যাম্পাসে দেখতে চান না বলেও শিক্ষার্থীরা আলটিমেটাম দিয়েছেন।

তবে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের নিয়োগ রাষ্ট্রপতির আদেশে হওয়ায় এভাবে সাদা কাগজে পদত্যাগ নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন উপাধ্যক্ষ। তিনি জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ও শিক্ষা সচিবকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কলেজ প্রশাসন সর্বোচ্চ সহনশীল ভূমিকা পালন করছে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। তারা তালা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা জানান, ডিজি মহোদয় ও বিভিন্ন কলেজের প্রিন্সিপালরা আসায় তিনি এখন ব্যস্ত আছেন। তাই তিনি পরে যোগাযোগ করতে বলেছেন।


নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩১ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ উদযাপন উপলক্ষে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর সাহিত্যের মাধ্যমে বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিলেন। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে নজরুলের পদচারণা ছিলনা। অসাম্প্রদায়িক চেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি একজন সার্বজনীন সাহিত্যিকের আসনে উন্নীত হয়েছিলেন।

নজরুলকে জানতে হলে তার দর্শনকে আমাদের ভালোভাবে জানতে হবে। আমরা এ মহান কবির মানবতাবাদকে ধারণ করে একটি উদারনৈতিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যাবো। উপাচার্য আরও বলেন, জাতীয় কবিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নজরুল বর্ষ ঘোষণার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কবির গান, কবিতা ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ প্রসারিত হচ্ছে। বক্তব্যে নজরুল বর্ষের সফলতা কামনা করে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


সেমিনারের কি-নোট স্পিকার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা সাধারণত তাঁকে বিদ্রোহী, সাম্যের কিংবা মানবতার কবি হিসেবে চিহ্নিত করি। এগুলো তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলেও নজরুলের সৃষ্টিশীলতার পরিসর এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত। নজরুলকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে তাঁর সাহিত্যভাবনা, সৃজনশীলতার স্বাতন্ত্র্য, ভাষার ব্যবহার এবং সাহিত্যের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।

নজরুল বাংলা সাহিত্যে এমন এক সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যখন সাহিত্যের একটি নির্দিষ্ট ধারা বেশ প্রভাবশালী ছিল। কিন্তু নজরুল তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে সেই প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন ভাষা, প্রকাশভঙ্গি এবং নতুন বিষয়বস্তুর সংযোজন ঘটিয়েছেন। তাঁর কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ ও সাংবাদিকতায় যে বৈচিত্র দেখা যায়, তা বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত রীতিকে নতুনভাবে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। ফলে নজরুলকে কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই।


তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়েও নজরুলের সাহিত্যভাবনার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। সমাজে যখন বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা কিংবা কর্তৃত্বের প্রশ্ন সামনে আসে, তখন নজরুলের সাহিত্য আমাদের নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। নজরুলের সাহিত্যকে বিভিন্ন আঙ্গিকে পাঠ ও বিশ্লেষণ করতে পারলেই তাঁর সৃষ্টির নতুন নতুন মাত্রা উন্মোচিত হবে।


নজরুল বর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। সেমিনারে আলোচক হিসেবে ছিলেন সাহিত্যিক ও নজরুল গবেষক ড. আবুহেনা আবদুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নজরুল বর্ষ উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. শিবলুর রহমান। এ সময় নোবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদবি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর।

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদবি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর। যা উপাচার্যের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান। 


বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক ড. আজম খান এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইনের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে প্রকৃতপক্ষে সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।


বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, বিজ্ঞপ্তিতে এমন উল্লেখ দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। তিনি কাউকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে যাননি, মৌখিক বা লিখিত কোনোভাবেই নয়। ওই দিন তিনি আনুষ্ঠানিক ছুটিতে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মডারেশনের কাজে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ভুল জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আরও সচেতন থাকা উচিত। 


শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূইয়া বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে আসার পরপরই জনসংযোগ দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে যাওয়ায় শিক্ষক সমিতির একজন সদস্যকে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে পাঠিয়েছিলেন। অধ্যাপক ড. আজম খান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে নয়, বরং ভারপ্রাপ্ত সভাপতির প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


তিনি আরও বলেন, জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছে এবং সংশোধনের কথা জানিয়েছে। এ জন্য দপ্তর থেকে তার কাছে দুঃখ প্রকাশও করা হয়েছে।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, “বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আজম খান এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিলাল হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে মিটিং এ। মূলত তারা প্রতিনিধি হিসেবে এসব দায়িত্ব পালন করছেন, এটি বোঝানোই বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য ছিল।


তিনি আরও বলেন, আমাদের বিজ্ঞপ্তি তিন স্তরের অনুমোদন শেষে প্রকাশ হয়। ভিসি স্যার ফাইনাল দেখেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফাই পেজে আপলোড করা হয়েছে। তবে এটা আমরা সংশোধন করছি।


উল্লেখ্য, বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও দি ইবনে সিনা ট্রাস্টের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী (বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে রেফারকৃত), কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের যোগ্য নির্ভরশীলদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিশেষ ছাড় দেওয়ার কথা রয়েছে।


  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২২ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (পিডিএফ) ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটির এর যৌথ উদ্যোগে বিদেশে উচ্চশিক্ষা, পিএইচডি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বুধবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের ৩১৫ নম্বর কক্ষে ‘ব্রেকিং ব্যারিয়ার্স, বিল্ডিং ফিউচারস হায়ার স্টাডি অ্যাব্রড, পিএইচডি অ্যান্ড রিসার্চ’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।


সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন JnURHSS-এর সভাপতি এবং স্ট্যাটএইড রিসার্চ ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সুজন মিয়া। তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, পিএইচডি করার প্রক্রিয়া এবং গবেষণার আন্তর্জাতিক সুযোগ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।


তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সুযোগ, আবেদনের প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ভালো একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার অভিজ্ঞতা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, মানসম্মত গবেষণা প্রস্তাব (রিসার্চ প্রপোজাল) এবং উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সুপারভাইজার নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।


এ ছাড়া স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়, পিএইচডিতে আবেদনের যোগ্যতা, গবেষণার ক্ষেত্র নির্বাচন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিভিন্ন কৌশল নিয়েও আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণামুখী দক্ষতা ও একাডেমিক প্রস্তুতি গড়ে তোলার পরামর্শ দেন আলোচক।


আয়োজকদের পক্ষ থেকে পিডিএফ এর সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা পেয়েছেন বলে আশা করছি।"


এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা, জবি পিডিএফ শাখার সদস্য ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন এবং ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের মোট ১৬ জন শিক্ষার্থীকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অর্থদণ্ড এবং ৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


গত ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


২৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন সাক্ষরিত এক স্মারকে এ তথ্য জানানো যায়।


স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৬ মে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দ্বারা র‍্যাগিংয়ের শিকার হন।


এ ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. জুবায়ের হোসেনকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মন্ডল ও সজল পালকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


এছাড়াও গত ১৪ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক উপস্থিত হতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। 


এ ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মো. মারুফ সরোয়ারকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. মিশন রহমান ও মো. খায়রুল ইসলামকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাইদিস সালেহীন স্বপ্নীল, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মন ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


এছাড়াও অভিযুক্ত সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের থেকে মুচলেকা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, আগস্ট মাসে ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজের ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ পাই। তারা পুলিশের কাছেও অভিযোগ করেছিল। পরে অডিও, ভিডিও ও ছবি সহকারে ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের দপ্তরে অভিযোগ জমা দেয়। তদন্ত কমিটি বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে শাস্তির সুপারিশ করে।


ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ক্ষেত্রেও ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা বোর্ডের সভায় শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


তিনি আরও বলেন, র‍্যাগিং ও বুলিংয়ের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে দুই মাস আগে প্রায় সব ডিসিপ্লিনে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০০টি পোস্টার দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের ঐতিহ্য বজায় রাখতে চাই। তবে এর অর্থ এই নয় যে নতুন শিক্ষার্থীদের অশালীন আচরণের মাধ্যমে অপদস্থ বা শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কঠোর।


  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪১ পিএম

পুরোনো গবেষণার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে ষষ্ঠ দিনের মতো আন্দোলন করছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা।


বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হয়ে চীন মৈত্রী সিগন্যালে অবস্থান নেন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এ সময় সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।


অবরোধ কর্মসূচি শেষে দুপুর দেড়টার দিকে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি কুশপুত্তলিকা দাহ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।


এ সময় তাঁরা ‘আমাদের মাঠ আমাদের থাক, আমলা সচিব বাইরে থাক’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ এবং ‘সচিবালয় না শেকৃবি, শেকৃবি শেকৃবি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘বাতাস চাই, কংক্রিটের বিস্তার নয়’, ‘সচিবালয়ের জায়গা নয়, গবেষণার মাঠ চাই’ এবং ‘মাঠ যদি হারিয়ে যায়, প্রজাপতিরা কোথায় যাবে’ এমন প্রতিবাদী বার্তাও দেখা যায়।


আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রতিবাদী গানে মুখর হয়ে ওঠে সড়ক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাতুল বলেন, ‘আমাদের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে, এ জন্য আমরা দুঃখিত। কিন্তু আমরা বলতে চাই, আজ যদি ঢাকা শহর থেকে গাছপালা হারিয়ে যায়, তাহলে অক্সিজেন পাবেন কোথায়? শহরের বুকে যে পাখিগুলো আছে, সেগুলো কোথায় যাবে? আপনাদেরও খাবারের প্রয়োজন হয়। এই খাবারের জোগান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেয়। গবেষণার মাঠ হারিয়ে গেলে আপনারা সেগুলো কোথায় পাবেন?’


এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এক মতবিনিময় সভায় সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর সব ধরনের ক্লাসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।


পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সব ব্যাচের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।


গত ২৭ অক্টোবর থেকে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি দাবি করে তা হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে চলমান মাটি পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন তাঁরা। পরদিন মেলা বন্ধের আলটিমেটাম দেওয়ার পর মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

২৯ অক্টোবর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জাতীয় যুবমেলাসহ সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে মাঠের স্থাপনা অপসারণ না করা এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গত ২ নভেম্বর মাঠটি চাষ করে নিজেদের দখলে নেন আন্দোলনকারীরা।