ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪২ পিএম

২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে পাকিস্তান ১-০ গোলে ভারতকে হারিয়েছিল। ২২ বছর পর আজ ঢাকায় সাফ ফুটবলে আবার উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। এই ম্যাচে ভারত ৩-২ গোলে পাকিস্তানকে পরাজিত করেছে।


ম্যাচের ১৩ মিনিটে ভারত লিড নেয়। বা প্রান্ত দিয়ে মুহাম্মদ সুহাইল ভাটের উদ্দেশ্যে বল বাড়ান। তিনি আলতো ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান। ছয় মিনিট পর পাকিস্তানি ডিফেন্ডারদের মাঝে দারুণ দক্ষতায় সুহাইল আহমেদ ভাট পুনরায় গোল করেন। ৩০ মিনিটে ম্যাংলেংথাম কিপজেনের গোলে ভারত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। 


চার মিনিট পর পাকিস্তান পেনাল্টি পায়। শায়ক দোস্তর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। এই মিস করায় পাকিস্তান গোল না করেই প্রথমার্ধে ড্রেসিংরুমে ফেরে।


ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায় পেনাল্টি মিসই। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি সময়ে দুই গোল করে পাকিস্তান। রেফারি চার মিনিট ইনজুরি সময় দেন। ঐ চার মিনিটের মধ্যে পাকিস্তান দুই গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন। ৯১ মিনিটে নাজিব উল্লাহ পাকিস্তানের পক্ষে টুর্নামেন্টে প্রথম গোল করেন। দুই মিনিট পরই বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত ভলিতে আলমগীর গাজী আরেকটি গোল করেন।


পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে খেলায় ফিরে পেনাল্টি মিসের আফসোস পুড়ছে। ২০০৯ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সাফের স্বাগতিক ছিল। দুই আসরেই ভারত ও পাকিস্তান অংশগ্রহণ করলেও মুখোমুখি হয়নি। ২০০৩ সালের পর আবার ২০২৬ সালে দুই দল ঢাকায় সাফে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ক্রিকেটে হ্যান্ডশেক নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল।


আজ দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে সৌহার্দ্যতা ছিল বেশ। খেলার পর দুই দলের ফুটবলাররা করমর্দন করেছেন। কোনো দলের ফুটবলার মাঠে আহত হলে অন্য দলের ফুটবলাররা এগিয়ে গেছেন সহায়তায়। 




ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ পিএম

‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ মানেই উৎসব ও উন্মাদনা। ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ তিন আসরেই বাংলাদেশে উৎসবের উপলক্ষ্য এনেছিল সাফ। কিন্তু এবার এর ছিটেফোঁটা নেই। ঘণ্টা খানেক পরই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে সাফের ১৫তম আসরের পর্দা উঠছে। অথচ টুর্নামেন্টটি নেই কোনো আলোচনায়!


সাফে অংশ নিতে আসা প্রতিযোগী দল, সমর্থক, মিডিয়া সবাই ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। এত ভোগান্তির সাফ কেউ আগে দেখেনি। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘আমি নিজে দেশে ও বিদেশে একাধিক সাফ খেলেছি। কোনো সাফই এরকম নিষ্প্রাণ লাগেনি। হামজা (চৌধুরী) বাংলাদেশের হয়ে খেলছে ফুটবলে, নব উন্মাদনায় সাফ ঢাকায় হচ্ছে, একটা বড় উৎসব হতে পারত। এর কিছুই নেই।’


বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থক মেহেদী হাসান সাফের সূচি ও টিকিটের দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সাফের স্বাগতিক, অথচ শুক্র-শনিবার কোনো ম্যাচ নেই। যে দিনগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস ছুটি থাকে। আবার বাংলাদেশের ম্যাচগুলো রাত ৮টায়। এত রাতে ম্যাচ দেখে দর্শকদের বাড়ি ফিরে পরদিন সকালে অফিস-স্কুল-কলেজ যাওয়া কঠিন। এর পাশাপাশি ১০০০ টাকা দামে অতিমূল্যের টিকিট তো আছেই।’


স্বাগতিক দেশ টুর্নামেন্ট সফল করার জন্য নানা আয়োজন ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। বাফুফে স্বাগতিক হলেও সাফ নিয়ে তারা কিছুই করছে না। সব কিছুই সাফের দায়িত্বে। আবার সাফ নিজেও কিছু করছে না। টুর্নামেন্টের স্বত্ব কিনে সব কিছু করছেইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান টিএসএ। তাদের অনেক কিছুতেই লেজেগোবরে অবস্থা!


কিছুক্ষণ পরই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে, অথচ আসরের ট্রফিও উন্মোচন হয়নি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আনার ঘোষণা দিয়েছিল টিএসএ। সেটাও এখনও নিশ্চিত নয়। দুই খেলার মাঝে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কতটুকু কীভাবে হবে সেটিও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। 


সাফকে বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে আসছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো। কিন্তু সাংবাদিকরাই পদে পদে ভোগান্তিতে পড়েছেন। গতকাল ভারতের অনুশীলন কাভার করতে পারেনি বাংলাদেশি মিডিয়া। স্বাগতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে অনেকটা অসদচারণই করেছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। গতকাল হোটেলের ছোট একটি কক্ষে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। কার্ড সংগ্রহ করতেও সাংবাদিকদের ঝক্কি পোহাতে হয়।


অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের পর আবার প্রেস বক্সের জন্য আলাদা পাস নিতে মধ্য দুপুরে আসতে হয়েছে সাংবাদিকদের। খেলা শুরু বিকেল সাড়ে ৩টায়। এত আগে পাস বন্টন ও বন্টন সংখ্যা নিয়েও সাংবাদিকদের অসন্তোষ ছিল। এর পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহে বাফুফে ও সাফের ইঁদুর দৌড় খেলা তো রয়েছেই। 


জামাল ভূইয়া। ছবি: বাফুফে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৩ পিএম

জাতীয় ফুটবল দলে দীর্ঘদিন নিয়মিত অধিনায়ক ছিলেন জামাল ভূইয়া। অধিনায়ক থাকলেও গত কয়েক মাসে বেশিরভাগ ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন না, এমনকি অনেক ম্যাচে মাঠেই নামা হতো না। নেতৃত্ব হারানোর পর আজই প্রথম মাঠে নামবেন তিনি। এ ম্যাচের শুরুর একাদশে আছেন জামাল।


গোলরক্ষক পজিশনে মেহেদী হাসান শ্রাবণের ওপর আস্থা রেখেছেন ডুলি। অধিনায়ক তপু বর্মণের সঙ্গে ডিফেন্সে থাকছেন জিদান ইউসুফ। ইন্দোনেশিয়া আসিয়ান কাপে শৃঙ্খলা নিয়ে অভিযোগ উঠা সাদ উদ্দিনের ওপর কোচ ভরসা রেখেছেন। জায়ান আহমেদও রয়েছেন ডিফেন্স লাইনে।


বিশ্বনাথ ঘোষকে ফরোয়ার্ড পজিশনে অনুশীলন করিয়েছেন গত কয়েক দিন। এই ম্যাচে তার পজিশন নিয়ে একটু কৌতুহল রয়েছে। যদিও খেলোয়াড় তালিকায় ডিফেন্ডার হিসেবেই রয়েছেন। তবে কোচ তাকে ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলালে অবাক হওয়ার থাকবে না। আক্রমণভাগে বাংলাদেশের চালিকাশক্তি মূলত সামিত সোম ও রাকিব হোসেন।


বাংলাদেশ একাদশ:


মেহেদী হাসান শ্রাবণ (গোলরক্ষক), জিদান ইফসুফ, তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, জামাল ভূইয়া, জায়ান আহমেদ, তারিক কাজী, সামিত সোম, রাকিব হোসেন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম।


পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩০ পিএম

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সিতে ২৩ বছরের দীর্ঘ পথচলার ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।


পর্তুগালের সাত নম্বর জার্সিকে বিদায় জানিয়ে রোনালদো লিখেছেন, ‘আমাদের জাতীয় দলের সাত নম্বর জার্সিটি তুলে রাখার সময় এসেছে। জার্সিটি কখনোই শুধু আমার ছিল বলে মনে করিনি। তবে ২৩ বছর ধরে এটি পরার, রক্ষা করার এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেডিয়ামে বয়ে নিয়ে যাওয়ার সৌভাগ্য ও দায়িত্ব আমার হয়েছে।’




সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না জানিয়ে রোনালদো আরও লিখেছেন, ‘আজ সেই জার্সি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার সময় এসেছে। সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। কারণ কিছু সিদ্ধান্ত শুধু মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয়েরও ভূমিকা থাকে।’


২০০৩ সালের আগস্টে পর্তুগাল জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল রোনালদোর। এরপর ২৩ বছরের পথচলায় নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩৪ ম্যাচ খেলার পাশাপাশি করেছেন রেকর্ড ১৪৬ গোল। পুরুষ ফুটবলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও গোলের সংখ্যায় তার ধারেকাছেও নেই কেউ।জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। এ ছাড়া পর্তুগালের হয়ে দুবার উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপাও জিতেছেন তিনি। দীর্ঘ এই যাত্রায় পেয়েছেন অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্য।


বিদায়বার্তায় নিজের ক্যারিয়ারের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন রোনালদো। তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালের আগস্টে শুরু হওয়া যে যাত্রা আমার জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছে, তার সমাপ্তি ঘটল। জাতীয় দলের হয়ে সবকিছু ফিরে দেখলে শুধু ম্যাচ, গোল, রেকর্ড কিংবা ট্রফি চোখে পড়ে না। মনে পড়ে মানুষগুলোর কথা। বিদেশে থাকা পর্তুগিজদের কথা, যারা ৯০ মিনিটের জন্য হলেও নিজেদের মাতৃভূমির আরও কাছে অনুভব করেছেন। এমন লাখো পর্তুগিজের কথা, যাদের কখনো দেখিনি, অথচ তারা আমার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছেন। কারণ ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, ফুটবল মানুষের গল্প।’


জাতীয় দলের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন রোনালদো। তার ভাষায়, ‘পুরো ক্যারিয়ারে আমি নিজের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। জিততে চেয়েছি, আরও ভালো হতে চেয়েছি, ইতিহাস গড়তে চেয়েছি। সব সময় নিজের কাছে সর্বোচ্চ প্রত্যাশা রেখেছি। এই জার্সির জন্য আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি।’


আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেমন স্মরণীয় জয় এসেছে, তেমনি আছে হতাশার মুহূর্তও। সেসব স্মৃতিও আড়াল করেননি পর্তুগিজ অধিনায়ক। রোনালদো বলেন, ‘এমন কিছু বিকেল ও রাত ছিল, যা কখনো ভুলব না। এমন কিছু জয় ছিল, যা চিরকাল মনে থাকবে। আবার কিছু পরাজয় আছে, যেগুলো মনে করলেও এখনো কষ্ট হয়। ভুল করেছি, কষ্ট পেয়েছি। কখনো কখনো পর্তুগালের মানুষ যা চেয়েছে, তা দিতে পারিনি। কিন্তু কখনো হাল ছাড়িনি। আর সবচেয়ে বড় কথা, পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব কখনো হারাইনি।’


রোনালদোর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল গত সেপ্টেম্বরে ওয়েলসের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল পর্তুগাল। এরপরের ম্যাচে তাকে বদলি খেলোয়াড়ের তালিকায় রাখা হলেও মাঠে নামানো হয়নি। পরে পর্তুগাল দলের ক্যাম্প আগেভাগে ছেড়ে যাওয়ায় জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়েন তিনি। যদিও তখন দেওয়া দীর্ঘ বিবৃতিতে অবসরের কথা অস্বীকার করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তই নিলেন রোনালদো।


জাতীয় দলের হয়ে অবসর নিলেও ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এই ঘোষণায় কিছু জানাননি তিনি।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১১ পিএম

ফুটবল মাঠে লাল কার্ড দেখার ঘটনা নতুন নয়। তবে একই ম্যাচে ৫৩টি লাল কার্ড! অবিশ্বাস্য মনে হলেও ব্রাজিলে ঘটেছে এমনই ঘটনা। অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের একটি ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাসহ মোট ৫৩ জনকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ড দেখানোর নতুন বিশ্বরেকর্ড এটি।


বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যে স্থানীয় অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল মামোরে ও উবেরলান্দিয়া। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মামোরে ৩-১ গোলে এগিয়ে থাকার সময় দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোশগিচ মোদেস্তোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় দুই দলের ৪০ জন খেলোয়াড় ও আটজন টিম কর্মকর্তা লাল কার্ড দেখেছেন। এর আগে ম্যাচে আরও তিনজন খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করেছিলেন রেফারি। পাশাপাশি উবেরলান্দিয়ার পরিচালনা পর্ষদের দুই সদস্যকেও মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে লাল কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩।


এত দিন এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড ছিল ৩৬টি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের দুই দল আতলেতিকো ক্লায়পোলে ও ভিক্টোরিয়ানো আরেনাসের ম্যাচে এই ঘটনা ঘটেছিল। এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেল ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের ম্যাচটি।


রেফারির প্রতিবেদনে সংঘর্ষের সূত্রপাতের কারণও উঠে এসেছে। মামোরের খেলোয়াড় দাভি দলের তৃতীয় গোল উদ্‌যাপনের সময় প্রতিপক্ষের ডাগআউটের দিকে কটাক্ষ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উবেরলান্দিয়ার গোলকিপিং কোচ পাওলো সার্জিও দিয়াস দোস সান্তোস মাঠে ঢুকে তার মুখোমুখি হন। এরপর দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।


ঘটনার সময় রেফারিকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার দাবি, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার ভয় দেখিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি।


উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখতে হয়। পরে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। সংঘর্ষের পর দুই দলের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। উবেরলান্দিয়ার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামোরের সরঞ্জাম নষ্ট করার অভিযোগ করেছে প্রতিপক্ষ। অন্যদিকে মামোরের দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে উবেরলান্দিয়ার ড্রেসিংরুমে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে।



  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ পিএম

ফেনেরবাচে ৩ : ২ লিভারপুল


সেই ২০০৮ সালের পর থেকে অপেক্ষা। বাছাইপর্ব খেলে মূল পর্বে ওঠার লড়াই, মূল পর্বে উঠতে পারলে আবার ম্যাচ জেতার লড়াই—এভাবেই গত দেড় যুগ কাটল ফেনেরবাচের। তুরস্কের ক্লাবটি অবশেষে চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যাচ জিতল আজ। ইস্তাম্বুলে নিজেদের মাঠে ইংলিশ পরাশক্তি লিভারপুলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ফেনেরবাচে।


কাকতালীয়ভাবে ইস্তাম্বুলের ক্লাবটির সর্বশেষ জয়ও ছিল এক ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে। ২০০৭-০৮ মৌসুমের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ফেনেরবাচে ২-১ গোলে হারিয়েছিল চেলসিকে। সেই জয়ের ১৮ বছর পর আজই পরের জয়টি পেল তুর্কি ক্লাবটি।


লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালোই হয়েছিল ফেনেরবাচের। তবে ২৫ মিনিটে মিডফিল্ডার ট্রে নিয়োনির গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া ভলি ফেনেরবাচের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। ১৯ বছর বয়সী নিয়োনির লিভারপুলের জার্সিতে এটি প্রথম গোল।


তবে লিভারপুলের সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র চার মিনিট। ২৯ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সমতা ফেরান মেসন গ্রিনউড। তাঁর নেওয়া শট ফেনেরবাচের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করায় কিছুই করার ছিল না লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের।


বিরতির পরও দুই দলের লড়াই ছিল জমজমাট। ৬৬ মিনিটে একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলা। মাঠে নামেন ফ্লোরিয়ান ভির্টৎজ, আলেক্সান্দার ইসাক ও কোডি গাকপো। তিন মিনিট পরই তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টায় আবার এগিয়ে যায় লিভারপুল। গাকপোর ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ইসাক। লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর প্রথম গোল।


তবে শেষ ১৭ মিনিটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ফেনেরবাচে। ৭৩ মিনিটে সমতা ফেরান আর্চি ব্রাউন। ডান দিক থেকে এনগোলো কান্তের বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে যান ব্রাউন। কোডি গাকপোর গায়ে লেগে বলের দিক পরিবর্তন হলে সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি তিনি।


এরপর ৭৯ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি নামা ভেদাত মুরিকি। ব্রাউনের ক্রসে উঁচুতে লাফিয়ে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান এই কসোভান স্ট্রাইকার। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটিই তাঁর প্রথম গোল।


এই জয়ে ১০ ম্যাচের জয়হীন ধারারও অবসান ঘটাল ফেনেরবাচে। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে এবার চার ম্যাচে ১০ গোল হজম করল লিভারপুল। সর্বশেষ তিন ম্যাচেই অন্তত তিনটি করে গোল খেয়েছে তারা।


ক্লাবটির ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ইতিহাসে টানা তিন ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল হজমের ঘটনা এই প্রথম। তুরস্কের কোনো ক্লাবের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা পাঁচ অ্যাওয়ে ম্যাচেও হারল তারা।


তবে কোচ ইরাওলাকে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা দিতে পারে অন্য একটি তথ্য। বড় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় মাত্র তৃতীয়বার কোনো ম্যাচে দুবার এগিয়ে গিয়েও হেরেছে লিভারপুল। এর আগে রোমা (২০১৮) ও পিএসভির (২০২৫) বিপক্ষে দলটির এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল।


সাকিব আল হাসান, নাহিদ রানা ও শামীম হোসেন

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ পিএম

দুবাইতে অনুষ্ঠিত আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টির (এপিএল) খেলোয়াড় ড্রাফটে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে দল পেয়েছেন বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার। তারা হলেন সাকিব আল হাসান, নাহিদ রানা ও শামীম হোসেন।


মঙ্গলবার ডায়মন্ড ক্যাটাগরি থেকে তরুণ গতিময় পেসার নাহিদ রানাকে দলে ভিড়িয়েছে পাক্তিয়া। একই ক্যাটাগরিতে থাকা অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে বেছে নিয়েছে নানগারহার কসমিক। আর গোল্ড ক্যাটাগরি থেকে শামীম হোসেনকে দলে নিয়েছে অ্যাকসেল ইউনাইটেড কাবুল।


প্লাটিনাম, ডায়মন্ড, গোল্ড, সিলভার ও ইমার্জিং— এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৪৬২ জন খেলোয়াড় এপিএলের ড্রাফটে নাম লিখিয়েছিলেন।


লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, শরিফুল ইসলাম, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, হাসান মাহমুদ, জাকের আলী, শেখ মেহেদী হাসান, তাইজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ড্রাফটে ছিলেন। তবে তারা দল পাননি।


নতুন আঙ্গিকে পাঁচ দল নিয়ে এবারের এপিএল আগামী ২৭ ডিসেম্বর মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে। দলগুলো হলো পাক্তিয়া, নানগারহার, কাবুল, বাল্খ জওয়ান ও কান্দাহার ওয়ারিয়র্স।


টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, আফগানিস্তানের পরিবর্তে পুরো এপিএল সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে।


আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) এর আগে ২০১৮ সালে একবার এপিএল চালু করেছিল। তবে ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও শহীদ আফ্রিদির মতো টি-টোয়েন্টি সংস্করণের তারকা ক্রিকেটারদের আকর্ষণ করলেও মাত্র এক মৌসুম চলার পরই টুর্নামেন্টটি বন্ধ হয়ে যায়।


পারিশ্রমিক সংক্রান্ত তীব্র বিতর্ক এবং টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার কারণেই মূলত সেসময় প্রতিযোগিতাটি বাতিল করা হয়েছিল।