জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির আট নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার এবং এক যুগ্ম-আহ্বায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির কর্তৃক অনুমোদিত এবং দপ্তর সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) স্বাক্ষরিত দুই পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ শাহরিয়ার, সদস্য মো. ইসরাফিল ইসলাম রাফিল, মাসুম রেজা, ইয়াসিন সাইফ, ইমরান হোসেন ইমন, মনিরুজ্জামান মনির ও মো. সৌরভুর রহমান সুজনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সিদ্ধান্তে ছাত্রনেতা কাব্য সাহাকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিকের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। নোটিশে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে রবিবার দুপুরে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পাসসংলগ্ন ভিক্টোরিয়া পার্কের একটি চায়ের দোকানের কাছে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে তা ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দুই পক্ষের লোকজনকে রড ও পাইপ নিয়ে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান।
এ ঘটনায় তিনজন আহত হন। তারা হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাদুদ, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন এবং বাংলা বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন ইমন।
সংঘর্ষের পেছনে সম্প্রতি সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের আয়োজিত একটি পাঠচক্রকে ঘিরে বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক ভবনে ‘শিক্ষা ভাবনা, ওরিয়েন্টালিজম এবং চিন্তার মৌলিকত্ব’ শীর্ষক পাঠচক্র আয়োজন করেন শামছুল আরেফিন। এ আয়োজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক পোস্ট দেন যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিক। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে নাহিয়ান বিন হক অনিকের দাবি, শামছুল আরেফিনের সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বহিরাগত তাদের ওপর হামলা চালায়। আগের রাতেও তাদের মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে শামছুল আরেফিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল কেটে দেন। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও গত ১৬ সেপ্টেম্বর জবি ছাত্রদলের নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সম্পৃক্ত কয়েকজনও এই বহিষ্কারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ওই ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।
ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে জবি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ দুই সংঘর্ষের ঘটনায় কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘটনা ঘটলো।
নোবিপ্রবিতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের উদ্বোধন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্র্তৃক নির্মিত ৩৩০০০/১১০০০ ভোল্ট এবং ১০/১৪ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন এ বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, এ উপকেন্দ্র চালুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হলো এবং এর মাধ্যমে নোবিপ্রবিতে বিদ্যুৎ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে বলে আমি মনে করি। তিনি আরও বলেন, একমাত্র জাতীয় গ্রিডের সমস্যা অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যতীত এই উপকেন্দ্রের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। এ সময় সুষ্ঠুভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
উদ্বোধনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও পরিচালক (অ.দা) মো. জামাল হোসেন ও পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) প্রকৌ: মোহাম্মদ শরীফ হোসেন। অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) এর ডিজিএম ও পবিস সোনাপুর, নোয়াখালী’র ডিজিএমসহ নোবিপ্রবির শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
‘Special Research Award’ অর্জনকারী ৩৪ শিক্ষককে সম্মাননা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রথমবারের মতো ‘Special Research Award’ অর্জনকারী শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০১৮-২০১৯ থেকে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের ৩৪ জন শিক্ষককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষাদান ও ডিগ্রি প্রদান নয়; নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করাও এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষকদের চিন্তার পরিসর বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গবেষণাভিত্তিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে গবেষণায় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।”
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘Special Research Award’ প্রদান করতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।”
গবেষণার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গবেষণার পরিধি আরও বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্তদের পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তাদেরও গবেষণায় আরও উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘Special Research Award’ শুধু স্বীকৃতি নয়, বরং গবেষণায় আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা। নতুন ও তরুণ গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
২০১৮-২০১৯ থেকে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ‘Special Research Award’ অর্জনকারী ৩৪ শিক্ষকের মধ্যে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ১১ জন, ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ১১ জন, ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে ৫ জন, ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে ৫ জন, ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ১ জন এবং ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ১ জন রয়েছেন।
গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, অধ্যাপক, গ্রন্থাগারিক, প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিবহন প্রশাসক ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। পরে তাঁদের হাতে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
কুবিতে অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, সুষ্ঠু বিচার এবং চার দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘অপ্রতিমকে মারল কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’ এবং ‘দড়ি লাগলে দড়ি নে, খুনিরে ফাঁসি দে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু বিচার, উত্থাপিত চার দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা পুলিশের তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আহ্বান জানান।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহনাজ আফরোজ বলেন, “আমাদের ভাই অপ্রতিমের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। গতকালের পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে আমরা অনেক অসংগতি লক্ষ করেছি। পুলিশ বলছে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু আমরা দেখছি, বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে কেন? আনাস নামের ছেলেটির ঘটনাতেও পুলিশের দ্বিচারিতা আমরা লক্ষ করেছি।”
আরেক শিক্ষার্থী আতিক হাসান অন্তর বলেন, “গতকালের প্রেস ব্রিফিং দেখেই বুঝে গিয়েছি, সেখানে কোনো গাফিলতি হচ্ছে। আমাদের এসপি গোল্ড মেডেলিস্ট। আমার মনে হয়, তিনি কিশোর গ্যাং লালন-পালনের জন্যই যেন মেডেল পেয়েছেন। আপনারা জানেন, তুহিন কিছুদিন আগেও একটি বাইক ছিনতাই করেছে। কিন্তু সেটির কোনো বিচার হয়নি। আমি আজ যদি এখানে দুর্ঘটনার শিকার হই, আমার মনে হয় না এর কোনো বিচার হবে। আমার মনে হয়, এই দেশে জন্ম নেওয়াটাই আমার আজন্ম পাপ।”
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবর্তনের নির্ধারিত তারিখ ও সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে সমাবর্তন আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাতে উপাচার্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাৎকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনের সার্বিক আয়োজন, প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের নির্ধারিত তারিখ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সমাবর্তন সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এরই মধ্যে দ্বিতীয় সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি ও দপ্তরগুলো পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এর আগে গত ২৩ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন জানিয়েছিলেন, আগামী ৩০ জানুয়ারি দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি। এরপর দ্বিতীয় সমাবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ৩০ জানুয়ারি দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ ও শিক্ষাজীবনের অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাই দ্বিতীয় সমাবর্তনকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রস্তুতির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক সোহেল
কুমিল্লায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও অপরাধ বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক সোহেল বলেছেন, “কুমিল্লায় অপরাধচক্র অনেক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার, স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্পাসজুড়ে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে কুবির বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আব্দুর রাজ্জাক সোহেল বলেন, “আমাদের সন্তান অপ্রতিম নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। কুমিল্লায় একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। গত ছয় মাসে কুমিল্লায় ৭৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নতুন কিছু নয়, এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে এবং অপরাধচক্র অনেক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
নিজের অপহরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “কুমিল্লায় যোগদানের পর প্রকাশ্য দিবালোকে আমাকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। ছয় মাস পার হলেও পুলিশ মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মূল চার আসামি এখনো অধরা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা কুমিল্লায় বসবাস করছি, সবাই চরম আতঙ্কে আছি। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সন্তানকে এভাবে জীবন দিতে না হয়।”
এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, পুরো ক্যাম্পাসকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়কে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় তাকে এই নোটিশ দেয়া হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবর প্রকাশের পর সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয় তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকে বিএনপির যেসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি, তার অধিকাংশই ছিল তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে। আজ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবাদ জানালাম।’
পরে চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়কে পাঠানো শোকজ নোটিশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হলো।’
নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশে এ নোটিশ দেয়া হয়েছে।
শোকজের বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমি সংগঠনের প্রতি অনুগত। যেহেতু আমাকে শোকজ করা হয়েছে, আমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওই পোস্টের কমেন্টেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি এবং দেশে ২২ হাজার কোটি টাকা লোকসানের বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলাম।’
এর আগে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। যা দেশের ইতিহাসে প্রতি লিটার জ্বালানির সর্বোচ্চ দর।