SelfGuard এর উদ্ভাবক ইফতেখার নাহিম
ডিজিটাল যুগে মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি হলো মনোযোগ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনবরত নোটিফিকেশন, রিলস, শর্ট ভিডিও এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্টের কারণে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে সেই মনোযোগ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল আসক্তি দিন দিন বাড়ছে, যা তাদের পড়াশোনা, কর্মদক্ষতা এবং মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষা বর্ষের আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার নাহিম তৈরি করেছেন সেল্ফগার্ড নামের একটি ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং অ্যাপ। অ্যাপটির নির্মাতার দাবি, এটি শুধু একটি অ্যাপ-ব্লকার নয়; বরং ব্যবহারকারীদের সময় ব্যবস্থাপনা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং সুস্থ ডিজিটাল জীবনযাপন নিশ্চিত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ।
সেল্ফগার্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা জানান, ব্যক্তিগতভাবে কাজ কিংবা কোডিংয়ের সময় বারবার ফোনের নোটিফিকেশন এসে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই অ্যাপটি তৈরির চিন্তা শুরু হয়। পরে তিনি উপলব্ধি করেন, এই সমস্যা কেবল তার একার নয়; বরং বর্তমান প্রজন্মের অসংখ্য মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফোকাস ও স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণকারী অ্যাপ থাকলেও সেগুলোর অনেকগুলোতেই ব্যবহারকারীরা সহজে নিয়ম ভাঙতে পারেন। সেল্ফগার্ডের ক্ষেত্রে 'নো বাইপাস সিকিউরিটির' ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা কার্যকরভাবে বজায় রাখার চেষ্টা করে। নির্মাতার মতে, এটি ব্যবহারকারীদের আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।
অ্যাপটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রাইভেসি ফার্স্ট নীতি। নির্মাতা জানান, বর্তমানে অনেক অ্যাপ বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারী তথ্য সংগ্রহ করে ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষণ করে। তবে সেল্ফগার্ড এর ক্ষেত্রে ব্লক ফিল্টারিংসহ প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইসেই সম্পন্ন হয়।
তার দাবি অনুযায়ী, অ্যাপটির অ্যাক্সেসিবিলিটি সার্ভিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য শুধুমাত্র ডিভাইসের ভেতরে রিয়েল-টাইমে প্রক্রিয়াজাত হয় এবং কোনো রিমোট সার্ভারে সংরক্ষণ বা প্রেরণ করা হয় না। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর ব্লক রুলস, কী-ওয়ার্ড, ফোকাস সেশন, স্ট্রিক এবং অন্যান্য তথ্য এসকিউএল সিফার এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা হয়। এছাড়া অ্যাপটিতে কোনো থার্ড-পার্টি বিজ্ঞাপন বা ট্র্যাকিং অ্যানালিটিক্স সংযুক্ত করা হয়নি।
ইফতেখার নাহিম জানান, তিনি অ্যাপটির সাফল্য কেবল ডাউনলোড বা ইনস্টলের সংখ্যায় মূল্যায়ন করে না। বরং ব্যবহারকারীর স্ক্রিনটাইম কমানো, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করাকেই প্রকৃত সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গুগল প্লে স্টোরেও অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। একাধিক রিভিউতে ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, অ্যাপটি মনোযোগ ধরে রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি এড়াতে সাহায্য করছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ২০তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থীও অ্যাপটিকে উপকারী বলে মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট থেকে দূরে থেকে মনোযোগ ধরে রাখতে বিশেষভাবে কার্যকর। এ ছাড়া আরেকজন ব্যবহারকারী জানান, ডিভাইসে অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট ব্লক করতেও অ্যাপটি কার্যকরভাবে কাজ করছে। অ্যাপটির নির্মাতা প্রতিটি রিভিউয়ের জবাবে ব্যবহারকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং প্রতিক্রিয়াগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। আগ্রহীরা চাইলে গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.selfguardapp.android
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সেল্ফগার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ইফতেখার নাহিম বলেন, 'নিজের গোপনীয়তা শতভাগ সুরক্ষিত রেখে অ্যালগরিদমের হাত থেকে নিজের সময় ও স্বপ্নের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যই সেল্ফগার্ড।'
তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে সেল্ফগার্ড-কে একটি সাধারণ মোবাইল অ্যাপের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ের 'ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং মুভমেন্ট' এ পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, ক্যাম্পাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) রোভার স্কাউট গ্রুপের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রোক্টর অধ্যাপক ড. কাজী ফরহাদ কাদির, সহযোগী উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম, বাকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক কৃষিবিদ ড. মো. জহিরুল আলম এবং অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (সংস্থাপন) ড. মো. নাজমুল হকসহ বাকৃবি রোভার স্কাউট সদস্যরা।
বাকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক কৃষিবিদ ড. মো. জহিরুল আলম বলেন, কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোভার স্কাউটের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বর্ষের রোভার স্কাউট শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, রোভার স্কাউটের ডেনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতি সোমবার এ ধরনের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য, কর্মসূচির আগে নবনিযুক্ত ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা। এ সময় তাঁকে ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
মিতু-সোহান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গাজীপুর ছাত্রকল্যাণ পরিষদের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে রোকসানা আক্তার মিতুকে সভাপতি এবং তামাসুল ইসলাম সোহানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির অনুমোদনপত্রের মাধ্যমে নতুন কমিটির বিষয়টি জানানো হয়।
নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফাহমিদা সুইট, এস.এম. সজিব ও তানজিল ভূঁইয়া। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন শিপন চন্দ্র গোপ, ইনাম এহসান, তানজিলা আক্তার, লিজা আক্তার রিতা, সহিদুল সুমন সর্দার, আসিফ জুবাইন, মেহের আফরোজ চেতি ও সেহেরিন আক্তার ইমা।
সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. শাকিল খান, খাইরুল হাসান দ্বীপ, মোবাশ্বির আলম সেজান, সাইফুল ইসলাম, জাহিদ হাসান অভি, তাহসিন আজিজ খান, নাইম সরকার, শেখ শিহাব, জিসান হাসান ও আল-শাহরিয়ার ইমরান।
কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন দপ্তর সম্পাদক রানা শাহেদ রনি, উপ-দপ্তর সম্পাদক ইসরাত জাহান মায়ানুর, প্রচার সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ, উপ-প্রচার সম্পাদক বর্ণালী সাহা বর্ষা, অর্থ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, উপ-অর্থ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হাসান, উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক তাওহিদা সুলতানা তিশা, আইন বিষয়ক সম্পাদক তৌফিকুর রহমান নাঈম, উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক সহিদুল ইসলাম সজীব, প্রকাশনা ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক তামান্না আক্তার, উপ-প্রকাশনা ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক তানজিন আক্তার দিপা, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আহসানাফ আল ফাত্তাহ, উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফফাত আরা, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক আমরিণ জাহান সাইমা এবং উপ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদা আক্তার লিতা।
এ ছাড়া গণযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মো. আরিফ খান, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সৌরভ মাহমুদ, উপ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সুরাইকা ইসলাম বিনতী, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক সানজিদুল ইসলাম রাতুল, উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. নাঈম, সাহিত্য সম্পাদক ইউসূফ আহাম্মেদ, উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক রিপতু, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শাহরিয়ার রহমান, উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আহমেদ জুবায়ের তালহা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মারিন ফারাহ, মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক তিতাস দাস এবং উপ-মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হৃত্তিক কুমার।
কমিটিতে কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন নুসরাত তামান্না, মো. নয়ন হোসাইন, ফারজানা ফেরদৌস শেলী, লাইছা নিশাত নেওয়াজ, রাবেয়া, মো. ইনজামুল, মো. মিরাজ, তাহিয়া, মারজানা ও রিতু বর্মন।
নবনির্বাচিত সভাপতি রোকসানা আক্তার মিতু বলেন প্রথমেই কমিটিতে যুক্ত সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি৷ সকলের অংশগ্রহণে সংগঠনটি আবারও নতুনভাবে তার যাত্রার প্রামাণ্যচিত্র রেখে যাবে। সকলের সহযোগিতায় সুন্দর সময় পার করবো আমরা ইনশাআল্লাহ্। উক্ত কমিটি গাজীপুর ছাত্রকল্যাণ পরিষদকে সমৃদ্ধ করবে সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি৷
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তামাসুল ইসলাম সোহান বলেন, “ছাত্রকল্যাণ শুধু একটি সংগঠনের দায়িত্ব নয় - এটি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার। ঐক্য, সহযোগিতা ও মানবিকতার শক্তিতে গাজীপুরের প্রতিটি শিক্ষার্থীর পাশে থেকে জ্ঞান, সম্ভাবনা ও কল্যাণের পথকে আরও প্রশস্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। আজকের সেবাই হোক আগামীর সুন্দর সমাজের ভিত্তি।”
উপদেষ্টা মন্ডলীর পক্ষ থেকে নতুন কমিটিকে গাজীপুর জেলার শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও শিক্ষার্থীবান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফির সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শাখা সভাপতি ইউসুব আলী। এ সময় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক হাফেজ এমাদুর রহমান, স্কুল অ্যান্ড কলেজ সম্পাদক জায়েদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক সোয়াইব আহম্মেদ, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফরহাদ রেজা ওসামা এবং প্রকাশনা ও সাহিত্য সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ নাকিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাঁচটি আবাসিক হলের সভাপতিসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দ্রুত অপসারণ; রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সুপারিশ বা প্রশাসনিক প্রভাবের ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ বন্ধ; মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও নীতিমালা অনুসরণ করে সিট বরাদ্দ; বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত; প্রতিটি হলের সিট বণ্টনের তালিকা প্রকাশ করা যেন কোনো শিক্ষার্থী বা সংগঠন সিট বাণিজ্য বা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না পায়; হলগুলোতে বহিরাগত প্রবেশ ও রাজনৈতিক অপচর্চা বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত; সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হলের ডাইনিংয়ে সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি দ্রুত সময়ে মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ ও শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল কোনো রাজনৈতিক দলের অবৈধ প্রভাব বিস্তার কিংবা দলীয় লোকজনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে আশ্রয় দেওয়ার জায়গা হতে পারে না। হলের সিট একজন শিক্ষার্থীর অধিকার এবং তা মেধা, বৈধতা, জ্যেষ্ঠতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালার ভিত্তিতে বণ্টন করা উচিত।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে দীর্ঘদিন ধরে সিট বণ্টন নিয়ে বৈষম্য, অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি শহীদ জিয়াউর রহমান হলে বৈধ সিট না থাকা সত্ত্বেও একজন রাজনৈতিক কর্মীর দীর্ঘদিন অবস্থানের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য হলেও অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের অবস্থানের অভিযোগ সামনে এসেছে।
ইউসুব আলী বলেন, একজন বৈধ শিক্ষার্থী আবাসিক সিটের জন্য অপেক্ষা করবে, অথচ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ অবৈধভাবে হলে অবস্থান করবে- এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার প্রশ্নে উপরোক্ত দাবি গুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। আমরা সংঘাত চাই না, আমরা ন্যায়সংগত সমাধান চাই। আমরা দখলদারিত্ব চাই না, আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার চাই। আমরা দলীয় প্রভাব চাই না, আমরা মেধা ও বৈধতার ভিত্তিতে আবাসিক ব্যবস্থা চাই।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যদি যথাযথ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে, আমরা তা স্বাগত জানাব। একই সঙ্গে কোনো ধরনের অনিয়ম, বৈষম্য কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করা হলে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আমাদের দাবি স্পষ্ট হল হবে শিক্ষার্থীদের জন্য, সিট হবে মেধার ভিত্তিতে, প্রশাসন হবে নিরপেক্ষ, ক্যাম্পাস হবে নিরাপদ।
অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল
‘তোর পাওয়ার গুনে গুনে আর ২৮ দিন আছে, ২৮ দিন পরে তোরে হল থেকে পিটাইয়া বের করব, আমি নাসিম যদি এই হলে থাকি।’-এভাবেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল সংসদের সহসভাপতিকে (ভিপি) হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। হুমকির একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীশ দীপঙ্কর হলে এই ঘটনা ঘটে। ওই হলের ছাত্র সংসদের ভিপি রিপুল চাকমাকে এই হুমকি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘটনাস্থলে হলের এক আবাসিক শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রিপুল চাকমা ও শেখ নাসিম উদ্দিন দুজনই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে এক তরুণ ব্যাগ নিয়ে হলে আসেন। রিপুল চাকমা ওই তরুণের কাছে পরিচয় জানতে চান। তখন ওই তরুণ বলেন, তিনি হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে উঠেছেন। তখন অবৈধভাবে হলে শিক্ষার্থী তোলা হচ্ছে অভিযোগ এনে বিষয়টি হলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক নূরে আলমের কাছে জানান। এরপর শিক্ষক নূরে আলম হলের কক্ষটি পরিদর্শনে যান। তাঁর সঙ্গে রিপুল চাকমা এবং কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
৩১৩ নম্বর কক্ষটিতেই থাকেন ছাত্রদল নেতা শেখ নাসিম উদ্দিন। হলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক কক্ষটিতে নতুন করে কাউকে তোলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে রিপুল চাকমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শেখ নাসিম উদ্দিন। একপর্যায়ে রিপুল চাকমাকে হল থেকে পিটিয়ে বের করার হুমকি দেন।
রিপুল চাকমা বলেন, ‘ঘটনাটি আবাসিক শিক্ষকের সামনেই ঘটেছে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নাসিম আমাকে মারার জন্য তেড়ে আসেন। উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা তাঁকে সরিয়ে দেন। ঘটনার ভিডিও আমার কাছে আছে।’
তিনি বলেন, ‘পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য এবং চাকসু নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আমাদের এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়।’
জানতে চাইলে শেখ নাসিম উদ্দিন দাবি করেন রিপুল চাকমা তাঁকে গালাগাল করেছেন। এ ছাড়া ভিপির ক্ষমতা দেখিয়ে হলের গেটে তালা দেওয়ার কথা বলায় তিনি রিপুলের ওপর ক্ষুব্ধ হন।
তবে হলের গেটে তালা লাগানোর কথা বলা এবং গালাগালের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিপুল চাকমা।
শেখ নাসিম উদ্দিন বলেন, ‘কয়েকজন জুনিয়র আমার কক্ষে ঘুরতে এসেছিল। এরপর অবৈধভাবে হলে শিক্ষার্থী তুলছি-এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে রিপুল হলের আবাসিক শিক্ষককে ডেকে নিয়ে আসেন। আগেও রিপুল একাধিকবার একই কাজ করেছেন। যদিও কোনোবারই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এবারও ভিপি পরিচয়ে ক্ষমতা দেখাতে আসায় তাঁর সঙ্গে আমার কিছুটা কথা-কাটাকাটি হয়েছে।’
অতীশ দীপঙ্কর হলের প্রাধ্যক্ষ ও সহযোগী অধ্যাপক এ জি এম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘মূলত হলের আবাসিক শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর সেখানে ছিলেন। তাঁরা বিষয়টি মীমাংসা করেছেন। এটি দুটি পক্ষের ভুল-বোঝাবুঝির ঘটনা। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হোসেন বলেন, ‘একটি কক্ষে অবৈধভাবে কোনো শিক্ষার্থী উঠেছেন, হল সংসদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে হল প্রশাসন অভিযান চালায়। তবে সেখানে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। পরে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘কারও কোনো অভিযোগ থাকলে, লিখিতভাবে দিতে বলেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘কেউ যদি দলের পরিচয়ে শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কাজ করে থাকে এবং সেটি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গাঁজা সেবন অবস্থায় দুই শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সেল। আটককৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী সুফিয়ান ও একই বিভাগের নাহিদুজ্জামান।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠের পশ্চিম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠ সংলগ্ন অন্ধকার স্থানে বসে গাঁজা প্রস্তুত করছিল। একপর্যায়ে নিরাপত্তা সেলের এক কর্মী তাদের হাতেনাতে গাজাসহ ধরে। পরে তাদেরকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। বিভাগের চেয়ারম্যানের অবগতির ভিত্তিতে আগামীকাল (মঙ্গলবার) প্রক্টর অফিসে মিটিং ডাকা হয়েছে।
সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে প্রক্টরিয়াল বডির জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত দুই শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এটা অন্যায় কাজ করেছি। আমরা নিয়মিত সেবন করি না। গাঁজা সাপ্লাইয়ের সাথে যারা জড়িত ছিল এমন কয়েকজনের নামও দিয়েছে তারা।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স। যার কাছে পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধেই একশনে যাওয়া হবে। প্রক্টরিয়াল বডি সহ আমাদের নিরাপত্তা কর্মীরা সারারাত সজাগ থাকে। কেউ অন্যায় কাজ করার সুযোগ পাবে না। ওই শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতিকে অবহিত করা হয়েছে। দিনে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নোবিপ্রবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সেমিনার কক্ষে সামাজিক সংগঠন স্বজন এর উদ্যোগে সচেতনতামূলক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি তাদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। পড়াশোনা, পারিবারিক প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার, সম্পর্কসহ নানা কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে সমস্যাগুলো নিজের মধ্যে চেপে না রেখে পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বলা জরুরি।
উপাচার্য আরও বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক সুস্থতা পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক যোগাযোগ এবং ইতিবাচক জীবনযাপনের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
একই সঙ্গে বন্ধু, সহপাঠী ও স্বজনদেরও আশপাশের মানুষের আচরণ ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের প্রতি সচেতন দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
সেমিনারে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।