‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে কবি, চিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যত দিন জামায়াতে ইসলামী নাম নিয়ে রাজনীতি থাকবে, তত দিন আওয়ামী লীগও থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন কবি, চিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার।
তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর নাম নিয়ে রাজনীতি করার তিনি ঘোরবিরোধী। একই সঙ্গে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে জনগণের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত একটি ঔপনিবেশিক ‘অস্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থার জায়গায় নতুন ‘গঠনতন্ত্র’ প্রণয়ন এবং গণসার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করাই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের একমাত্র পথ।
আজ রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার, রাজনৈতিক ঐক্য এবং অর্জন-ব্যর্থতার মূল্যায়ন নিয়ে ‘৩৬ জুলাইয়ের অবদান বিতর্ক ও ব্যর্থতার দায় পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংলাপে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ফরহাদ মজহার এ কথা বলেন। এ সংলাপের আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।
বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে ফরহাদ মজহার বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রথম একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বিশ্ব ইতিহাসে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই জাতীয় অর্জনের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস বা দর-কষাকষি করা যাবে না, এমনকি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও নয়।
তিনি বলেন, ‘আমি বারবার একটা কথা বলেছি, যদিও তাঁরা অনেকে রাগ করেছেন—আমি বলেছি, যত দিন জামায়াতে ইসলামী থাকবে, তত দিন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ থাকবে। আমি জামায়াতে ইসলামী নাম নিয়ে রাজনীতি করার ঘোরবিরোধী। কারণ, ইসলাম আমাদের ধর্ম। তার নীতিগত ও নৈতিক দিক একটি নতুন রাষ্ট্র ও নতুন সমাজ গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
গঠনতন্ত্রের পক্ষে যে যুক্তি দিলেন ফরহাদ মজহার
১৯৭২ সালের সংবিধান সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই।’ সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সেখানে এক বাক্যে জনগণকে রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক বলা হয়েছে, কিন্তু ঠিক পরের বাক্যে সংবিধান বা আইনি দলিলকে জনগণের ওপরে স্থাপন করে জনগণের সার্বভৌমত্বকে নাকচ করা হয়েছে।
ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস টেনে ফরহাদ মজহার বলেন, তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে এলএফওর (লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার) অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ীরা দেশে ফিরে এসে গণপরিষদ দাবি করে এই সংবিধান চাপিয়ে দিয়েছিল। ‘সংবিধান’ ও ‘গঠনতন্ত্র’-এর আইনি পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জনগণ সংবিধানের ঊর্ধ্বে, জনগণ সংবিধানের অধীন নয়। জনগণ চাইলে যখন খুশি নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে পারে। কনস্টিটিউশন বা সংবিধান শব্দটি কলোনিয়াল শাসকেরা ব্যবহার করত লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণিকে দিয়ে গণবিরোধী শাসন চালাতে। অন্যদিকে গঠনতন্ত্র হলো জনগণ নিজেরা একত্র হয়ে সম্পদের মালিকানা, ব্যাংক, বিনিয়োগ, বৈদেশিক বাণিজ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে তা স্থির করা।’
পূর্ণ শক্তির অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে বাধা
২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পরপরই রাষ্ট্রক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় গুরুতর গলদ ছিল বলে মনে করেন ফরহাদ মজহার। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে দেওয়া হয়নি।
এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) এবং বিএনপি—এই তিন শক্তি মিলে আমাদের একটি পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করতে দেয়নি। সম্প্রতি প্রকাশিত কালের কণ্ঠে রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর সাক্ষাৎকারেই তার প্রমাণ মিলেছে। ৮ আগস্ট পুরোনো সংবিধান ও রাষ্ট্রপতিকে বহাল রেখে যে সরকার গঠন করা হয়েছে, তা মূলত একটি সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব।’
গণমাধ্যমের ভূমিকারও সমালোচনা করে ফরহাদ মজহার বলেন, হাসিনাহীন কিন্তু হাসিনা-ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে গঠিত এই সরকারকে সাংবাদিকেরা ভুলভাবে ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ বলে প্রচার করেছেন। বাস্তবে এটি ছিল পুরোনো সংবিধানের অধীন প্রেসিডেন্ট দ্বারা পরিচালিত একটি সেনাসমর্থিত উপদেষ্টা সরকার, যা দিয়ে মূল সংবিধান বদলানো অসম্ভব।
অভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের সাহসিকতার প্রশংসা করে ফরহাদ মজহার বিএনপি ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, রাস্তায় বৃষ্টিতে ভিজে আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর যেন পুলিশি নির্যাতন না চালানো হয় এবং তারেক রহমান যেন তরুণদের সঙ্গে বেইমানি না করেন। বেগম খালেদা জিয়াও কখনো তরুণদের সঙ্গে বেইমানি করতে চাননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ধর্মের নামে তাণ্ডব চালানো ও মাজার ভাঙচুরের ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘যাঁরা মাজার ভাঙছেন, ধর্মকে মানুষকে ভয় দেখানো বা অত্যাচার করার অস্ত্র বানাচ্ছেন, তাঁদের আমরা চিনি। গাজাকে ধূলিসাৎ করে রিয়েল এস্টেট বানানোর মতো এটাও একধরনের আগ্রাসন। পেট্রোডলারের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চাপিয়ে দিয়ে কেউ দাবি করতে পারেন না যে তাঁরাই ইসলামের একমাত্র কর্তৃত্বের হকদার। ইসলামে কারও এই ধরনের একক কর্তৃত্ব দাবি করার সুযোগ নেই।’
গণ–অভ্যুত্থানের অর্জনকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে তুলে ধরার তীব্র বিরোধিতা করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘২০ বছর ধরে যেখানে কথা বলা যাচ্ছিল না, সেখানে এখন কথা বলা যাচ্ছে, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে—এটা কোনো ব্যর্থতা হতে পারে না। ব্যর্থতার গল্প না বলে এখন দেখতে হবে আগামী দিনে আমাদের কী কী করা বাকি রয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তরুণেরা যে পথ দেখিয়েছে, সেখান থেকে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।’
আলোচনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪—উভয় চেতনাকেই ধারণ করে সামনে এগোতে হবে। তিনি বলেন, একটি সরকারের পতন ঘটানো এবং একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন দক্ষতার বিষয়। দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং পুরোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তন না হলে কোনো সরকারই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারবে না।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান। এতে আরও সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, এ বি এম খালিদ হাসান, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া প্রমুখ।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেছেন, “জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের সময় জামায়াতে ইসলামী তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি করেছিল। সংসদে আইনটি পাসের সময় জামায়াতে ইসলামী কোনো ‘না’ ভোট দেয়নি। এর অর্থ, ‘না’ ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দল তার ১৯৭১ সালের ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে।”
আজ শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর গ্রান্ডে জামায়াতের সাবেক নেতা ও সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।
জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে ১৯৭১ সালের অপরাধের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর লেখা প্রকাশিত বইয়ে এ সংক্রান্ত তথ্য উঠে এসেছে।
বিষয়টি আলোচনায় টেনে এনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ব্যারিস্টার রাজ্জাক যে রাজনৈতিক দর্শন এবং নীতি অনুসরণ করেন তার আলোকে ২০১৬ সালে একটি বিবৃতি (স্টেটমেন্ট) খসড়া করেছিলেন। যেখানে তিনি একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার চেষ্টা করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘সেই স্টেটমেন্টটা যদি ২০১৬ সালে স্বাক্ষর করা হতো, তাহলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো।’
আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ‘প্রকাশিত এই বইটিতে জামায়াতের অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আজকে জামায়াতের যারা প্রথম সারির আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বা আমাদের এই অঙ্গনে পরিচিত জামায়াতের নেতারা আছেন আমার প্রত্যাশা ছিল আজকের আলোচনায় তারা থাকবেন। তারা কেউ উপস্থিত হতে পারেননি। এটা তাদের দীনতা, এটা তাদের ব্যর্থতা, এটা তাদের সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা। তারা উপস্থিত হয়ে বইয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারতেন, কারণ এটাই গণতন্ত্র। ব্যারিস্টার রাজ্জাকের সব কথার সঙ্গে একমত হবেন এটা যেমন সত্যি না, আবার তাঁর সমালোচনা গ্রহণ করতে পারবেন না- এটাও সঠিক না। এই বইয়ের মধ্যে বিএনপি সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে, ভালো, আমরা এটা গ্রহণ করি। আমরা যদি এটা ধারণ করতে না পারি, সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো না।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ এ মুক্তিযোদ্ধাদের একটা সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেই সংজ্ঞার মধ্যে ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের বিরোধিতা করেছিল, সেই কথাটি নিবন্ধিত করা আছে। এটাতে ২০২৫ সালের সংশোধনীতে কিছু সংশোধনী আনা হলো। আমরা ২০২৬ সালে এটা সংসদ অধিবেশনে কার্যকর করতে গেলে বিশেষ কমিটিতে এই বিষয়টা আনা হয়। তখন দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জামায়াতের নামটা এখান থেকে বাদ দেওয়া যাবে কিনা।’
আইনমন্ত্রী বলেন, “সেখানে সংশোধনীতে বলা হলো যে, ‘মুক্তিযোদ্ধা কারা?’ সংজ্ঞায় বলা আছে, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আল বদর, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামী পার্টির বিরোধিতা করেছেন, সংগ্রাম করেছেন দেশ স্বাধীনের জন্য- তারা হলেন মুক্তিযোদ্ধা। জামায়াতের দাবি ছিল, জামায়াতের নামটা ওখান থেকে বাদ দিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা বললাম, ঐতিহাসিক সত্যটাকে আমরা তো অস্বীকার করতে পারি না। আলোচনার এক পর্যায়ে এসে ওখানে শুধু লেখা হলো ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’, ‘তৎকালীন নেজামে ইসলাম’। পরে পার্লামেন্টে এই আইনটা উপস্থাপন করা হলো। আপনারা জানেন যে, পার্লামেন্টে আইন পাস করতে গেলে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট দেওয়ার বিধান রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর কোনো সদস্য এতে ‘না’ ভোট দেননি। এটা রেকর্ডেড।”
অনুষ্ঠানে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা বইটিকে ‘জ্ঞানকোষ’ বলে অভিহিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই বইটি আমার কাছে সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী মনে হয়নি। এটা জীবন্ত এক মানুষের এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো মনে হয়েছে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক একটা সমাজকে তাঁর জীবন দিয়ে যেভাবে দেখেছেন, তাঁর জীবন দর্শন যেমন ছিল এই বইটা তাঁর একটা প্রতিচ্ছবি।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের চিন্তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু একটা মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জায়গা থেকে আমার ধারণা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা বইটি একজন আইনবিদের জন্য লিখিত গদ্য।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামিক শাসন কায়েম করে চাপিয়ে দেব, সেটা একটা ভ্রান্তনীতি। বরং সমাজ থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গঠিত হোক, রাষ্ট্র পরিচালিত হোক- সেটাই হবে প্রকৃত ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের সঠিক পথ।’
প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ বইয়ে এ বিষয়টিসহ নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী
গুজব, গুঞ্জন ও অপতথ্য বাদ দিয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তাই লেখা যাবে না।’
আজ (বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নিয়মিত আয়োজন মিট দ্য রিপোর্টার্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ঝুঁকির দিকে রয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতার মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গঠনের আগের পাঁচ বছর সঠিকভাবে টিকা না দেয়ায় হামে শিশুদের মৃত্যু বেশি হয়েছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
‘শেখ হাসিনাকে নিয়ে আপনারা কী করতে চান? আপনাদের উদ্দেশ্যটা কী? নিশ্চয়ই কোনো গভীর উদ্দেশ্য আছে’- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বুধবার দুপুরে বাংলাদেশের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী, ঘাতককে আশ্রয় দিয়েছে ভারত- এই দাবি করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে আপনারা যে চক্রান্তের জাল তৈরি করছেন, সেটা অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আপনি ১৪০০ শিশু, তরুণ, কিশোর, ছাত্র-জনতার খুনিকে...রক্তপিপাসু এক প্রধানমন্ত্রী...আশ্রয় দিয়েছেন। অথচ বাংলাদেশ সরকার বারবার বলেছে তাকে হস্তান্তর করার জন্য। তার সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে গুলি চালিয়েছে, হত্যা করেছে, এরকম অসংখ্য লোকও সেখানে পালিয়ে রয়েছে।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, অতীতে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এক সাবেক মেজরকে ভারত যদি শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করতে পারে, তাহলে ‘যারা ১৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে, রক্ত পান করেছে, তাদেরকে কেন হস্তান্তর করছে না? বাংলাদেশের আদালতে আইনের মাধ্যমে যাদের বিচার হচ্ছে, তারা কেন হস্তান্তরিত হচ্ছে না?’
তিনি দাবি করেন, ভারতের এক মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার পেছনে ‘ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের হাত আছে। তারা সেই মুখ্যমন্ত্রীকেও কনভিন্স করতে চেয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে আপনারা গ্রাহ্য করেন না...আপনারা সন্ত্রাসী পাঠিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের হত্যার চক্রান্ত করেন। তারপরেও আপনারা বলেন, আপনাদের সাথে সম্পর্কের কথা।’
‘সামনাসামনি কথা হলে অনেক সুমধুর কথা বলেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আপনারা যে চক্রান্তের জাল তৈরি করছেন, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে, তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট,’ বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী হাওয়া উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে, যেখানে প্রধান তিন দলের প্রার্থীরা এখন লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা উত্তরে তরুণ নেতা আসিফ মাহমুদ এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম চূড়ান্ত করে ঘোষণা করেছে। এই নতুন সমীকরণের বিপরীতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজেদের দলের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে কৌশলে নির্বাচনী ছক সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।
এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াত সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করবে না। তারা প্রার্থী বাছাই করে সমর্থন দেবে। ফলে ব্যালটে দলীয় প্রতীক না থাকলেও ভোটের মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, তারা ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে মো. শফিকুল ইসলাম খান ও দক্ষিণে মো. আবদুস সালামের নাম প্রায় চূড়ান্ত করেছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাদের দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের সময়ই নাগরিক সেবার পাশাপাশি তাদের সিটি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিএনপি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা না করলেও দুই সিটিতে তাদের প্রার্থী নিয়ে তেমন কোনো টানাপোড়েন নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্জীব হয়ে পড়েছিল। এখন সে অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। চেষ্টা করছি, নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার।’
নির্বাচন ও নাগরিক সেবা-দুটোর জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘জনগণ যা চায়, সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করছি। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
যদিও বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, আপাতত দুজনই ঠিক আছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটা এখনই বলা মুশকিল। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নানা মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপ হবে।
জামায়াতের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত
প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে পছন্দের প্রার্থী অনেকটা নিশ্চিত। তারা ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) সমর্থন দেবে। সেলিম উদ্দিন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের শাখার আমির এবং সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি।
গত জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতের সহযোগী সদস্য। এর আগে সেলিম উদ্দিন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
অন্যদিকে সাদিক কায়েমের নির্বাচনী পরিচিতি মূলত ডাকসুর ছাত্ররাজনীতিকেন্দ্রিক। সেলিম উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সেবামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সাদিক কায়েমও জামায়াতের ঘরোয়া কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামীর একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, সাদিক কায়েম যেহেতু এখনো ডাকসুর প্রতিনিধিত্ব করছেন, সে কারণে জামায়াতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণটা প্রকাশ্য হচ্ছে না।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার বলেন, ‘মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে যাচ্ছেন এবং তিনি খুব সাড়া পাচ্ছেন। আমরা আশাবাদী, নগরবাসী তাকে বিজয়ী করে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগোবেন।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার ঢাকায় দলীয় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ বিষয়ে কথা বলেন।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য তারা সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও সিটি করপোরেশনে প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতেও দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তিনি গণমাধ্যমের সূত্র উল্লেখ করে উত্তরে সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে সাদিক কায়েম প্রার্থী বলে জানান।
প্রথম নির্বাচনে আসিফ, আবার ভোটের মাঠে পাটওয়ারী
এনসিপি দুই সিটিতে সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত রোববার দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করেন।
আসিফ মাহমুদের জন্য এটি হবে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রথম পরীক্ষা। সংসদ বা স্থানীয় সরকারের কোনো পর্যায়েই তিনি আগে নির্বাচন করেননি। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন।
সিটি নির্বাচন সামনে রেখে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেদের ভোটার এলাকাও পরিবর্তন করেছেন। আসিফ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ও পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন। এরপরই তাদের দুই সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
তিন দলের তিন ধরনের প্রার্থী
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, বিএনপি সামনে রাখছে সিটি প্রশাসনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দুজনকে। জামায়াতের উত্তরের প্রার্থী নগর সংগঠনের নেতা, দক্ষিণের প্রার্থী ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ। যদিও বিএনপির দক্ষিণের প্রার্থী আবদুস সালামও একজন ভালো সংগঠক। তিনি দীর্ঘ সময় মহানগর দক্ষিণে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন। সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়রও ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য। আর উত্তরের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। আর এনসিপি বেছে নিয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সম্মুখসারির দুই মুখকে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেবে না। তবে তৃণমূলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, স্থানীয়ভাবে যিনি জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য, তাকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নির্দলীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন কতটা ভোটে প্রভাব ফেলে, সেটিও বড় প্রশ্ন।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন তাই তিন রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পরীক্ষাও হতে পারে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সংগঠন নাকি নতুন রাজনৈতিক পরিচিতি-কোনটি ভোটারদের বেশি টানে, তা বোঝা যাবে নির্বাচনে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, দেশের বাইরে কোথাও তার এক টাকাও পাওয়া গেলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে যেই কথা বলা আছে যে ৪ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা—এক টাকাও যদি দেশের বাইরে কোথাও পাওয়া যায়, আমি ওইদিনই রাজনীতি ছেড়ে দেব। আপনারা জাস্ট প্রমাণ করে দেখান যে এক টাকা আসিফ মাহমুদ দেশের বাইরে কোথাও বিনিয়োগ করেছে বা একটা ধূলিকণা দেশের বাইরে সে কিনেছে।’
সোমবার সন্ধ্যায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার মাইন্ডসেটটা ওয়ার্ক করে, কেউ যদি আমাকে বলে যে তুমি ১০ বছর জেল খাটবা নাকি দেশের বাইরে চলে গিয়ে আরামে জীবনযাপন করবা, আমি তখন ১০ বছর জেল খাটাটাকে চুজ করবো। কারণ আমার ন্যাশনালিজমের পাওয়ারটা এতটাই স্ট্রং। কিন্তু ন্যারেটিভ উৎপাদন এবং ভিলিফিকেশনের জন্য তো আসলে প্রমাণ লাগে না। ওনারা এটাই করতে চাচ্ছেন এবং এটাই করছেন।’
সরকারকে প্রশ্নের বাইরে রাখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার আহ্বান থাকবে যে, আপনারা একটু সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং একটু ক্রিটিক্যাল মাইন্ডসেটে দেখবেন। যাদের হাতে ক্ষমতা, তাদেরকে কখনো আনকোয়েশ্চেনডভাবে (প্রশ্নহীনভাবে) বিলিভ করার আসলে সুযোগ নাই। এবং দুঃখজনকভাবে আমাদের মিডিয়াকেও ক্রিটিক্যালি না দেখে এখন আর উপায় নাই।’
তার দুর্নীতির সঙ্গে পরিবারের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘একটা অভিযোগে বলা হইছে যে এই পাচারের সাথে আমার দুই ভগ্নিপতি এবং ভাগ্নে জড়িত। তো আমার আসলে ভগ্নিপতি দুইজন নাই, আমার বড় বোনই শুধুমাত্র বিবাহিত, একজন ভগ্নিপতি আছেন। এবং আমার যেই ভাগ্নে আছে, তার বয়স হচ্ছে আড়াই থেকে তিন বছর। একটা আড়াই থেকে তিন বছর বয়সের বাচ্চা, যে মাত্র হাঁটা শিখেছে, আপনারা তাকে পর্যন্ত এটার মধ্যে টেনে আনলেন! এটা কতটা লজ্জাজনক। আমার ফ্যামিলির সদস্যরাও এটার ভিকটিম হচ্ছেন। একটা আড়াই থেকে তিন বছরের বাচ্চাকে আপনারা এলিগেশন দিচ্ছেন ‘মানি লন্ডারিংয়ের’। এটা খুবই দুঃখজনক।’’
সাদিক কায়েম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু সাদিক কায়েমকে আন্তরিক স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ভিন্নতা ভুলে নগরবাসীর সেবার মানোন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ শুভকামনা জানান এনসিপির এই নেতা।
সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী লেখেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতায় মতের ভিন্নতা থাকুক, তবে থাকুক সৌহার্দ্য, সৌজন্য ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতা। আসুন, ঢাকার জন্য প্রতিযোগিতা হোক, কে কতটা ভালো সেবা ও পরিবর্তন দিতে পারি।’
এর আগে গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দুই সিটির আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।