বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য দেন নূরুল কবীর।
ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেছেন, খালেদা জিয়া কেবল একটি জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, যা দলমত–নির্বিশেষে লাখ লাখ মানুষের জানাজায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় নূরুল কবীর এ কথাগুলো বলেন। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ যোগ দেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
নূরুল কবীর বলেন, ‘মানুষ ও রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার যে গুণটি আমাকে বরাবরই আকৃষ্ট করেছে, তা হলো তাঁর রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধ। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা ও সংযমের ঘাটতি প্রকট ছিল। তখন আমি লক্ষ করেছি—তিনি নিরন্তর ও বিনা ব্যতিক্রমে একজন রাজনীতিক হিসেবে নিজের ওপর ও তাঁর পরিবারের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে যে আঘাত ও দুর্ভোগ নেমে এসেছে, সেসবের প্রতিক্রিয়ায় তিনি কখনোই প্রকাশ্যে নিজের বেদনা, ক্ষোভ কিংবা নিন্দাসূচক কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করেননি।’
নিউ এজ সম্পাদক বলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে এটি খুব সহজ কথা হতে পারে। কিন্তু এই যে সংযম, পরিমিতিবোধ এবং আত্মমর্যাদা—রাজনীতিতে অনেক অনুসারী থাকতে পারেন, অনেক মত ও পথদর্শন থাকতে পারে; কিন্তু যিনি যেই রাজনীতির, যেই সংস্কৃতিরই অনুসারী হন না কেন, বিষয়টি আজকের বাংলাদেশের অসহিষ্ণুতার সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’
খালেদা জিয়ার জানাজার প্রসঙ্গ তুলে নূরুল কবীর বলেন, সেদিন বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিএনপির এক নেতা লাখ লাখ মানুষকে কথা দিয়েছিলেন যে তাঁদের রাজনীতি খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আদর্শে পরিচালিত হবে। এ কথা রাখতে বিএনপিকে অনুরোধও করেন তিনি।
শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। সাবেক এই সরকারপ্রধানের স্মরণে আয়োজিত সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, মনির হায়দার প্রমুখ।
শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।
শুক্রবার বেলা আড়াইটার পর কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবার্তা পাঠ করেন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন। এরপর সভায় একে একে বক্তব্য দেন লেখক ফাহাম আব্দুস সালাম, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, খালেদা জিয়ার চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী দেবাশীষ রায়, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক শফিক রেহমান, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ডিপিআইয়ের সভাপতি আব্দুস সাত্তার দুলাল, সাবেক কূটনীতিক আনোয়ার হাশিম, আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ, লেখক ও গবেষক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। এরপর খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে স্মরণসভা শেষ হয়।
ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল চেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির তরফে এই নিয়োগ ‘বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে দাবি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দলের এ অবস্থান তুলে ধরেন।
২৩ জুলাই সামসুল আলমকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন-ইসি সচিবালয়ে এক বছরের চুক্তিতে অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়ার খবর এসেছে সংবাদ মাধ্যমে। তিনি ইসি সচিবালয়ের উপসচিব হিসেবে ২০১৮ অবসরে যান। সংসদের বিরোধী দল জামায়াত তার চুক্তিভিক্তিক নিয়োগের বিরোধিতা করছে।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “সামসুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি বিএনপির একটি নির্দিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
“এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিককে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি চরম প্রতারণা। এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”
অবিলম্বে সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক সংস্থায় সর্বজনগ্রাহ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।
তিনি বলেন, “দেশবাসী দেখতে পাচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি’। বর্তমানে এই নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, যা জাতির সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।”
গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নেতাদের নিয়োগের সমালোচনা করেন।
জামায়াতের সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম, মোয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।
বিএনপির দলীয় মনোগ্রাম
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের উপসচিব মো. সামসুল আলম ২০১৮ সালের মার্চে চাকরি থেকে অবসরে যান। পরে তিনি বিএনপির কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। গত বছর গঠিত বিএনপির আসন পুনবির্ন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২৩ জুলাই তাঁকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসি সচিবালয়ে এক বছরের চুক্তিতে অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
একই দিন ১১টি কোম্পানি, করপোরেশন এবং সরকারি সংস্থায় বিএনপির পদধারী নেতাদের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে আমলাদের নিয়োগ করা হতো। সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়োগের নজির রয়েছে। বিএনপির আগের আমলগুলোতে অবশ্য দু-একজন নেতাকে নিয়োগ দেওয়ার নজির রয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী এসব কোম্পানি, করপোরেশন এবং সংস্থায় সরকার যে কাউকে নিয়োগ দিতে পারে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে বাধা নেই।
তবে সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে থাকা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসিতে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়ার নজির নেই। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি এই নিয়োগকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। দলীয় রাজনীতি করা একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করা যায় না। অন্য যেসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হয়েছে, সেগুলো নির্বাহী বিভাগের অংশ, মানে সরকারের অধীন। সরকার চাইলে যে কাউকে নিয়োগ করতে পারে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সরকারের অধীন নয়; অংশও নয়। এর মূল চরিত্রই নিরপেক্ষতা।
তিনি বলেন, ইসিতে দলীয় কাউকে নিয়োগ দেওয়া মানে, এই চরিত্র শেষ হওয়া। তখন আবার ইসির প্রতি অনাস্থা তৈরি হবে। ৫ আগস্টের আগের মতো নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না। সরকারের এই নিয়োগ বাতিল করা উচিত।
বিএনপি করা কর্মকর্তা
বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজ সমালোচনা করলেও নিজের নিয়োগে সমস্যা দেখছেন না মো. সামসুল আলম। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ‘রাতের ভোট’খ্যাত নির্বাচনের ফলাফলের তথ্য চাওয়ায় তাঁকে তৎকালীন ইসি সচিব হেলালুদ্দীনের নির্দেশে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই মাস তিন দিন কারাগারে ছিলেন তিনি।
সামসুল আলমের ভাষ্য, তিনি কখনোই বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। নির্বাচন ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে কথা বলায় তাঁকে আওয়ামী লীগ আমলে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। পরে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে বিএনপির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
জামায়াত-এনসিপির সমালোচনা বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি তো বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদেরই নিয়োগ দেবে। যুক্তরাষ্ট্রে সব পদেই সরকারি দলের কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়। আমি অবসরের পর বিএনপির আসন পুনর্বিন্যাস কমিটিতে ছিলাম মাত্র। এটা কোনো দলীয় পদ নয়। যে কোনো ব্যক্তি তা থাকতে পারেন। তবে আমি এখন নিরপেক্ষ। বিএনপি করি না।
নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ পাওয়া নৈতিক কিনা– এমন প্রশ্নে এই অতিরিক্ত সচিব বলেন, কাজের মাধ্যমেই আগামী দিনে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করব।
গত বছরের ৩ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে গঠিত আসন পুনর্বিন্যাস কমিটির সদস্য ছিলেন সামসুল আলম। একই কমিটিতে সদস্য ছিলেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদা অনুযায়ী, নাকি সরকার থেকে সামসুল আলমকে নিয়োগ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার সমকালকে বলেন, ‘এটা আমি পরিষ্কার নই। আমার ধারণায় নেই।’
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যায় কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমিও তো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, অতিরিক্ত সচিব সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পদ। তাই সরকারের নির্দেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
সামসুল আলম বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের পক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আন্দোলনও করেছেন। নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হয়েও নিয়মিত অফিসার্স ক্লাবের বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচন কমিশনে দলের নেতাকে নিয়োগ দিয়ে দলীয়করণের সব সীমা পার করেছে বিএনপি। অতীতে কেউ এতটা নির্লজ্জতা করেনি। সামসুল আলম যদি চাকরিজীবনে বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে সরকার তাঁকে ভূতপূর্ব পদোন্নতি দিয়ে সম্মান এবং বকেয়া বেতন-ভাতা দিতে পারত। যেমন দেওয়া হয়েছে শত শত বঞ্চিত কর্মকর্তাকে। কিন্তু ৬৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি, যিনি সরাসরি দল করেছেন, তাঁকে কীভাবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিতে পারে?
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, স্থানীয় নির্বাচন এবং আগামী সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করতেই সরকার বিএনপি নেতাকে ইসিতে নিয়োগ দিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও আবদুল বারীর বক্তব্য জানতে পারেনি।
জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন বলেন, সরকারি চাকরিগুলোর নিয়োগ যেন দলীয়করণ থেকে মুক্ত থাকে। সরকারি কর্ম কমিশন যেন কোনো ভাবেই দলীয়করণের আওতায় না পড়ে।
রবিবার (২৬ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তি কতৃক আয়োজিত ''বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ'' শীষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, "যদি পিএসসিতে শুধু সরকারদলীয় লোককে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে একটা আশঙ্কা থেকেই যায় যে সেখানে এক ধরনের আনফেয়ার পরিস্থিতি সেখানে তৈরি হতে পারে। সে কারণেই কিন্তু আমরা সকল রাজনৈতিক দলগুলো মিলে আলোচনা করেছিলাম যে পিএসসিতে নিয়োগ হতে হবে এমনভাবে যেখানে সরকারি দল কথা বলবে বিরোধী দল যারা আছে তারাও কথা বলবে।"
তিনি আরও বলেন, "যদি সরকারি দল-বিরোধীদল সকলের মতামতের ভিত্তিতে একজনকে পিএসসি'র দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়, তাহলে সেই মানুষটা অন্তত পক্ষে নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করবে বলে আমরা আশা রাখতে পারি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গণভোটে অংশ নেওয়ার পরেও, সেই গণভোটের রায় এখনো কার্যকর হয় নি। আমরা প্রত্যাশা করবো বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যেন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হয়।"
এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ড. মাহমুদা আলম মিতু এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। ছবিঃ ফেসবুক
কক্সবাজার ও গাজীপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিটিং ও ঝটিকা মিছিল নিয়ে বিএনপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের আমলের জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন নিয়েও বিএনপির প্রতি প্রশ্ন তোলেন।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
পোস্টে সারজিস বলেন, ‘বিএনপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের গ্ৰিন সিগনালে এবং পুলিশের সহযোগিতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ জেলা কক্সবাজার ও গাজীপুরে ছাত্রলীগের মিটিং ও ঝটিকা মিছিল হয়েছে।’
প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় বিএনপি, এত তাড়াতাড়ি আপনাদের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের উপর স্বৈরাচার আওয়ামীলীগের করা ১৭ বছরের জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন সব ভুলে গেলেন? এত তাড়াতাড়ি শহিদ ওয়াসিমসহ জুলাই অভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া, রক্ত দেওয়া আপনাদের শত শত নেতাকর্মীদের সব ত্যাগ ভুলে গেলেন?’
‘নাকি আপনাদের নেতাকর্মীদের উপরে এতো জুলুম, নির্যাতন কিংবা তাদের রক্ত, জীবনের কোনো মূল্য আপনাদের কাছে নেই? নাকি যা বলেন কিংবা যা করেন সবই লোক দেখানো?’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, ‘নেতাকর্মীদের কথা বাদই দিলাম, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে যেই নির্মমতা হলো, সেসব কীভাবে ৬ মাস যেতে না যেতেই ভুলে গেলেন? মনে রাখবেন, পাপ কিন্তু বাপকেও ছাড়ে না।’
<iframe src="https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2Fsarjis.nirob%2Fposts%2Fpfbid025iBFTsKReLQBtSZy9H2sUwBneMnCereThZ1MZUsrMuBtB7LMss9gXfpoSUB8ihb4l&show_text=true&width=500" width="500" height="252" style="border:none;overflow:hidden" scrolling="no" frameborder="0" allowfullscreen="true" allow="autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share"></iframe>
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সাধারণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ নিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচন শেষ হওয়ায় ১১ দলীয় ঐক্যের কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। ফলে এখন থেকে জোটের সব ধরনের কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকবে। তবে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনও ঐক্যের প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস জোটকে জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনও কর্মসূচির ব্যানার বা প্রচারণায় তাদের দল বা নেতাদের নাম ব্যবহার না করতে। পরে রংপুরের একটি সমাবেশে নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি
সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির দাবি, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যাওয়ার পর তার কোনো আইনগত দায়মুক্তি নেই। তাই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
আখতার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করা হলেও পুরো বক্তব্য এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে তার জন্য একটি ‘সেফ এক্সিট’ তৈরি হতে পারে। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিচারের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি যত অপরাধ করেছেন, সেগুলোর জন্য তাকে অবশ্যই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।’
আখতার হোসেন আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকার বিচার হওয়া প্রয়োজন। তার ভাষ্য, ‘তিনি যদি বিচারের আওতায় না আসেন, তাহলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচারও অপূর্ণ থেকে যাবে।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এতদিন রাষ্ট্রপতি পদে থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। তবে পদত্যাগের পর তার আর কোনো আইনগত দায়মুক্তি নেই। তাই সরকারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমীন, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।