খালেদা জিয়া। ফাইল ফটো
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার এই ‘সংকটাপন্ন’ শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
কাতারভিত্তিক আল জাজিরা খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বরাতে শিরোনাম করেছে, খুবই সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি খালেদা জিয়া। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য উদ্ধৃত করে গালফ নিউজও একই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তানের ডন নিউজ, আরব নিউজ এবং ভারতের এনডিটিভি খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু ও হিন্দুস্তান টাইমসও গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদটি প্রকাশ করেছে।
আরব নিউজ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই ক্রিটিকাল।
ডা. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা গত তিন দিন ধরে একই রকম রয়েছে। তিনি বলেন, চিকিৎসার সিদ্ধান্ত মেডিকেল বোর্ড নেবে এবং অনুমতি মিললেই তাকে বিদেশে নেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। হাসপাতেলে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতার জন্য তার পরিবার ও দলের নেতাকর্মীরা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ততার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। বিএনপির সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ২০১১ সালে দলটির নির্বাহী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির একজন সমর্থক।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে আসিফ আকবর বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির একজন সাবেক সদস্য ছিলাম। পদত্যাগ করেছি ২০১১ সালে। আমি বর্তমানে বিএনপির একজন সমর্থক। আমার নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলেছিলেন- ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়-যেটাতে বর্তমান বিএনপি নাই।’
এনসিপির প্রোগ্রামে গিয়ে তার এমন বক্তব্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি আসিফ আকবর দল পরিবর্তন করতে যাচ্ছেন।
ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আসিফ বলেন, ‘সংগঠনটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করা এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়া। দেশের খেলাধুলায় নানা অসংগতি রয়েছে।’
আসিফ জানান, তিনি অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট কোচিং থেকে উঠে এসেছেন। ১৪ বছর বয়স থেকেই ক্রীড়াঙ্গনের নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক তাকে বিসিবির সাবেক পরিচালক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও তিনি বলেন, ‘আমি আসলে বিসিবির সাবেক ডিরেক্টর না।’
বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক ও বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন আসিফ আকবর। তার দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিভিন্ন কমিটির নির্বাচন সঠিকভাবে হলেও বিসিবির ক্ষেত্রে তা হয়নি।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিসিবির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রত্যাশিত অবস্থানে যেতে পারেননি। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সবগুলো কমিটির নির্বাচন সঠিক ছিল। একমাত্র বিসিবিতে তারা সঠিক কিছু পায়নি। সঠিক কিছু না পাওয়ার কারণে অটোপাশ এমপি হতে পারে নাই, মন্ত্রী হয়েছেন। তার ঢাকা মহানগর উত্তরের দলীয় সদস্য পদ চলে গেছে। এখন উনি শুধু মন্ত্রী পদ নিয়ে আছেন, সেটাও যে কবে যায়?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় মিডিয়াতে আমার বক্তব্যে প্রচারের পর তার সেই পদও টলমলে হয়ে যাবে। কারণ, একজন গোলরক্ষকের হাতে ক্রিকেট থাকতে পারে না। ফুটবলে তার কোনো ভূমিকা নেই, তাকে কেউ পাত্তা দেয় না।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। পুরোনো ছবি
রাজধানীর মাতুয়াইল মেডিকেল কলেজের সামনে মধ্যরাতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি একথা লেখেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, মধ্যরাতে মাতুয়াইল মেডিকেল কলেজের সামনে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা। দেশকে অস্থিতিশীল করতে শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে একেরপর এক অগ্নিসন্ত্রাস, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পরেও যদি বিরোধীদল মনে করে তারা চুপচাপ সব দেখে যাবে। তাহলে বলতেই হবে, নৈরাজ্য সৃষ্টিতে বিরোধীদলেরও মৌন সমর্থন আছে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার লিপ্সায় তারা যদি আওয়ামী দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দেয়, এর খেসারত তাদেরও চরমভাবে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদল দেশের মঙ্গল চাইলে রাজপথে নেমে এদের প্রতিহত করুক। তাহলেই বুঝব আসলেই বিরোধীদল প্রকৃতপক্ষে গণহত্যার বিচার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার চায়। অন্যথায় পতিত স্বৈরাচার গোষ্ঠীর সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির আপস মীমাংসার বিষয়ে সন্দেহ সংসয় তো থেকেই যায়।
কর্তৃপক্ষ বুকিং বাতিল করায় ফিনল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার করতে পারেনি আওয়ামী লীগপন্থি সংগঠন গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ন্যান্স (জিসিডিজি)। তবে নির্ধারিত সময়ে অন্যত্র সেমিনারের আয়োজন করে সংগঠনটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে ভার্চুয়ালি যোগ দেন। তবে সেনিমারের আমন্ত্রণপত্রে ১০ জন বক্তার নাম ছিল; তাদের আটজনই অনুপস্থিত ছিলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় সেমিনারটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ভারতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা অডিও বক্তব্য দেন। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কির আলটো বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
এনসিপি জানিয়েছে, ফিনল্যান্ডে তাদের নেতাকর্মীদের তৎপরতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য জানানোর পর আলটো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেমিনারের বুকিং বাতিল করে।
‘বাংলাদেশ অ্যাট এ টার্নিং পয়েন্ট: ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এক্সট্রিমিজম’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিল জিসিডিজি। সংগঠনটির সভাপতি ডা. হাবিবে মিল্লাত। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন সেমিনারে। সঞ্চালনা করেন ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম নামে একটি সংগঠনের যোগাযোগ পরিচালক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামীপন্থিদের বিভিন্ন সেমিনারে উপস্থিত থাকছেন। এ দুজন ছাড়াও সেমিনারে বক্তৃতা করেন ইউরোপের আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নেটওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট নুরে জামান ভূঁইয়া।
একটি কক্ষের জানালার পর্দার সামনে বসে মোবাইল ফোনে সম্প্রচার করা ৩৫ মিনিটের এই সেনিমারের শেষ বক্তা ছিলেন শেখ হাসিনা। ছিল না কোনো ব্যানার, মঞ্চ। সেমিনারে যে বক্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে আগে প্রচার করা হয়েছিল, সেই অতিথিরাও ছিলেন না। অতিথি তালিকায় নাম ছিল হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. পেক্কা তুওমিনেন, রোটারি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক জেলা গভর্নর জেরে জানতুনেন, ভান্তা সিটির কাউন্সিলর সোইলে এরিকসন, হেলসিঙ্কি সিটির কাউন্সিলর এলিনা কাউপিলা, ভান্তা সিটির কাউন্সিলর দ্রিলন ক্লোকোকি ও শেখর আচার্য, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নিলস হেনরিক ওয়াসেনিয়ুস, মানবাধিকারকর্মী মিক্কো ডামসক্যাগ এবং লেখক হাসান ব্লাসিমের। তারা উপস্থিত ছিলেন না।
অল্টারনেটিভ সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, তারা দুইজন অতিথির সঙ্গে কথা বলেছেন। যারা জানান, তাদের সম্মতি ছড়াই সেমিনারের অতিথি হিসেবে নাম ব্যবহার করা হয়েছে। হেলসিঙ্কি সিটির কাউন্সিলর এলিনা কাউপিলা নিজের ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রাম পোস্টেও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এনসিপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটির ফিনল্যান্ড শাখার এনসিপির আহ্বায়ক আহাদ শিকদারের বরাতে বলা হয়েছে, আলটো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ইমেইলে জুলাই গণহত্যায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়। তাদের বলা হয়, আদালতে প্রমাণিত খুনি ইউরোপের কোনো দেশে সেমিনার করতে পারেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেমিনারটির বুকিং বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়।
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রশ্নে ফিনল্যান্ডের দৃঢ় অবস্থান সম্পর্কে আমরা অবগত। তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত অপরাধী সংগঠন আওয়ামী লীগ সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার আয়োজনের চেষ্টা করায় তা জানানোর সিদ্ধান্ত হয়।
জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দলটির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। কারামুক্তির পরপরই জামায়াত আমিরের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আখতারুজ্জামান।
এর আগে সকালে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর কারাফটকে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জামায়াতে নেতাকর্মীরা। পরে তিনি সরাসরি জামায়াত আমিরের বাসভবনে যান।
বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় গত ২ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।গত ১ নভেম্বর হাইকোর্ট তার বজামিন মঞ্জুর করেন। পরে ২ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রাখেন। আজ সকালে তিনি কারামুক্ত হন।
বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, বিএনপি হচ্ছে মুনাফিকের দল। তারা জন্মগতভাবেই জাতির সাথে, রাষ্ট্রের সাথে প্রতারণা করে আসছে।
রাষ্ট্র সংস্কারের যে ৩১ দফার কথা বিএনপি বারবার বলে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে বিএনপি সেই ৩১ দফা ছুড়ে ফেলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রত্যকটি জায়গায় অন্ধ দলীয়করণে মেতে উঠেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের মূল দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করা। এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে তারা ৫ বছর শাসন করলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল উত্থাপন করেনি।
শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমের রক্তের উপর দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে নিজেদের মতো ম্যানিপুলেশন করতে চায়। PSC সংস্কার করতে চায় না। ভাইভার নম্বর ৪-৫ গুণ বাড়িয়ে আবার তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা এবং শুধুমাত্র লিস্ট নিয়ে নিজেদের নেতাকর্মীদের চাকরি দেওয়ার জন্য জনগণের সাথে, তরুণ প্রজন্মের রক্তের সাথে বেইমানি করার ছক আর কৌশল তারা করছে।
তিনি আরও বলেন, চা খাওয়ার দাওয়াতের নাম করে PSC-এর সদস্যদেরকে পদত্যাগ করানো হচ্ছে। আমরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলতে চাই—যদি জনগণের সাথে, তরুণ প্রজন্মের চাকরি নিয়ে আবারও এই বেইমানি এবং প্রতারণার আশ্রয় আপনারা নেন, শেখ হাসিনাকে তখন সামলাতে পারেন নাই, সে তখন আপনাদের সামলানোর ক্ষমতা নাই।
সাদ্দাম হুশিয়ারী করে বলেন, জুলাই সনদই আপনাদের অস্তিত্ব। জুলাই সনদই আপনাদের ক্ষমতার ভিত্তি, জনগণের ম্যান্ডেটই আপনাদের ক্ষমতার ভিত্তি। সুতরাং সেটাকে যদি ডিনাই করেন, আপনাদের ওই ক্ষমতার মসনদ দুমড়ে-মুচড়ে শেষ হয়ে যাবে।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু হয়েছে। সকাল ৭টায় লংমার্চ শুরুর আগে উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান যুব সমাজকে লক্ষ্য করে বলেন, তোমরা কারও ছলনায় কান দিও না। আরেকটি বিপ্লব আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের সাত দফা দাবির মধ্যে মূল দাবি হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা। যদি এ দাবি আদায় হতো তাহলে বাকি ৬টি দাবি মাথাচাড়া দিতো না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে, আশাহত করেছে। বিএনপি যদি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে তাহলে চড়া মূল্য দিতে হবে। বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি। বরং, তারা নতুন নতুন জঞ্জাল সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছে, তারা তাদের পরিণতি ভোগ করছে। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, আপনারা আমাদের দাবি মেনে নেন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুন। আমাদের দাবি আদায় করে আমরা ছাড়বো।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তিগত ও দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামিনি। এসব জনগণের দাবি। আমাদের আগের দুটি লংমার্চ জনগণের সহযোগিতায় সফল হয়েছে।
এর আগে দাবি আদায়ে ১১ দল গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম লংমার্চ করে চট্টগ্রাম অভিমুখে, দ্বিতীয়টি ১৯ সেপ্টেম্বর করে রংপুর অভিমুখে।