প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, তিনি উপলব্ধি করেছেন, এ বৈঠকের একটি দিক ছিল প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন, যুগপৎ আন্দোলনের যারা শরিক দল ছিল, তারা যাতে দূরে চলে না যায়। সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, ‘এখানে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাটিটিউডটা এ রকম ছিল...যেহেতু উনি ক্ষমতায় আছেন, যারা ক্ষমতায় নেই বা দূরে আছে, কাছের লোকগুলো তারা যাতে দূরে না চলে যায়।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকতাটা ভালো হয়েছে; কিন্তু আলোচনার প্রশ্ন যদি বলেন, কোনো এজেন্ডা ছিল না। কেউ বক্তৃতা করেছেন, কেউ কেউ সরকারের অংশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ রকম বলেছেন যে আমরা অংশীদার হতে চাই ক্ষমতার। কেউ কেউ এ রকম বলেছেন যে যাঁরা যাঁরা যেভাবে চালাচ্ছেন সেগুলো আমরা কিছুই জানি না। আমরা অংশ নিতে পারছি না।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বিগত কয়েক মাসে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভালোমন্দের বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান মাহমুদুর রহমান মান্না।
বিরোধী দলের কঠোর আন্দোলন ও ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বিএনপির শরিকদের নিয়ে সামনের কর্মসূচি বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এটা আমি সবার পক্ষ থেকে বলতে পারব না। নিজের পক্ষ থেকে বলি যে বিরোধী দল যে কর্মসূচি দিচ্ছে বা দেবে, সেটা দেখব। তাদের প্রধান অভিযোগ যে বিএনপি বা ক্ষমতাসীন যারা আছে তারা সংস্কার করছে না, তারা জুলাই সনদ মানে না এবং তারা এখন একেবারে নতুন একটা পথে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে, সচিবালয় নিয়ে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে, বিচারকদের নিয়োগের বিষয় নিয়ে...বহু ব্যাপারে প্রশ্ন করার মতো আছে। আমাদের যে ঐক্যবদ্ধ সংস্কার প্রস্তাব ছিল, বিএনপির প্রস্তাব বর্তমানে বা তার কার্যকলাপ তার সঙ্গে যায় না। কিন্তু এগুলো এখানে আলোচনা হয়নি। সে আলোচনা করার সুযোগ নেই।’
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি, কিন্তু আমরা এই সরকারের সাফল্য চাই। সরকার যেন তার যোগ্যতা দিয়ে সফলতা অর্জন করে। এটা নয় যে ওনারা ক্রাইসিসে পড়ে আমাদের ডাকলেন আর আমরা তাঁদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে গেলাম। এ রকম কোনো সভা এটা হয়নি।’
সামনের দিনে বিএনপির শরিকদের নিয়ে আরও ঘন ঘন বৈঠক হবে, বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, ‘সেটা বলেছেন উনি, দেখা যাক যদি করে তারা আমরা বৈঠকে আসব, নিশ্চয়ই আসব। কিন্তু ঘন ঘন বৈঠক হবে, এটা একটা মুখের কথা যেন না হয়ে থাকে।’
ছবি : সংগৃহীত
আত্মপ্রকাশের সাড়ে সাত মাসের মাথায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মূলত সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে মনিরা শারমিনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আহ্বায়কের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনসিপির সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতুকে। তিনি আগের কমিটিতে ছিলেন সদস্যসচিব। আর সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম। তিনি আগের কমিটিতে ছিলেন মুখ্য সংগঠক (তৃতীয় শীর্ষ পদ)।
আজ রোববার দুপুর সোয়া ১২টার পর এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নারীশক্তির তিন সদস্যের নতুন আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে এনসিপির সংরক্ষিত নারী আসনের দুই সংসদ সদস্য মাহমুদা ও নুসরাতের সঙ্গে সংগঠনটির (নারীশক্তি) মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মনজিলা ঝুমাকে।
গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ করে। প্রথমে সংগঠনের আহ্বায়ক পদে মনিরা, সদস্যসচিব পদে মাহমুদা ও মুখ্য সংগঠক পদে নুসরাতের নাম ঘোষণা করা হয়।
এরপর গত ১৮ এপ্রিল সংগঠনের ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। আজ সেই কমিটি ভেঙে দেওয়া হলো। এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশ জাতীয় নারীশক্তির বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) অনুমোদন করা হলো। এই কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
গত এপ্রিলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রথমে মনিরা ও মাহমুদার নাম দলীয়ভাবে চূড়ান্ত করেছিল এনসিপি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাছাইয়ে মনিরার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নুসরাতও সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
তবে নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দিতে যাওয়ায় প্রথমে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে ইসি। শেষ পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হন।
‘এটি দলের সিদ্ধান্ত’
মনিরা নারীশক্তির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়লেও তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। মাহমুদা ও নুসরাতও এনসিপিতে একই পদে রয়েছেন। আর মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পাওয়া মনজিলা এনসিপির স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক।
নারীশক্তির দায়িত্ব ছাড়তে মনিরা নিজ থেকেই এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রের ভাষ্য, মনিরার সঙ্গে মাহমুদা ও নুসরাতের সমন্বয় ঠিকভাবে হচ্ছিল না। এর কারণে সংগঠনের কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরা বলেন, ‘এটি দলের সিদ্ধান্ত। দলের পক্ষ থেকে আমাকে হয়তো অন্য কোনো দায়িত্বের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। আমাদের দুজন নারী সংসদ সদস্য নারীশক্তির শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন। তাঁদের প্রতি আমার শুভকামনা থাকবে।’
ছবি : সংগৃহীত
আত্মপ্রকাশের সাড়ে সাত মাসের মাথায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মূলত সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে মনিরা শারমিনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আহ্বায়কের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনসিপির সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতুকে। তিনি আগের কমিটিতে ছিলেন সদস্যসচিব। আর সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম। তিনি আগের কমিটিতে ছিলেন মুখ্য সংগঠক (তৃতীয় শীর্ষ পদ)।
আজ রোববার দুপুর সোয়া ১২টার পর এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নারীশক্তির তিন সদস্যের নতুন আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে এনসিপির সংরক্ষিত নারী আসনের দুই সংসদ সদস্য মাহমুদা ও নুসরাতের সঙ্গে সংগঠনটির (নারীশক্তি) মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মনজিলা ঝুমাকে।
গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ করে। প্রথমে সংগঠনের আহ্বায়ক পদে মনিরা, সদস্যসচিব পদে মাহমুদা ও মুখ্য সংগঠক পদে নুসরাতের নাম ঘোষণা করা হয়।
এরপর গত ১৮ এপ্রিল সংগঠনের ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। আজ সেই কমিটি ভেঙে দেওয়া হলো। এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশ জাতীয় নারীশক্তির বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) অনুমোদন করা হলো। এই কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
গত এপ্রিলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রথমে মনিরা ও মাহমুদার নাম দলীয়ভাবে চূড়ান্ত করেছিল এনসিপি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাছাইয়ে মনিরার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নুসরাতও সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
তবে নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দিতে যাওয়ায় প্রথমে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে ইসি। শেষ পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হন।
‘এটি দলের সিদ্ধান্ত’
মনিরা নারীশক্তির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়লেও তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। মাহমুদা ও নুসরাতও এনসিপিতে একই পদে রয়েছেন। আর মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পাওয়া মনজিলা এনসিপির স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক।
নারীশক্তির দায়িত্ব ছাড়তে মনিরা নিজ থেকেই এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রের ভাষ্য, মনিরার সঙ্গে মাহমুদা ও নুসরাতের সমন্বয় ঠিকভাবে হচ্ছিল না। এর কারণে সংগঠনের কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরা বলেন, ‘এটি দলের সিদ্ধান্ত। দলের পক্ষ থেকে আমাকে হয়তো অন্য কোনো দায়িত্বের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। আমাদের দুজন নারী সংসদ সদস্য নারীশক্তির শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন। তাঁদের প্রতি আমার শুভকামনা থাকবে।’
জামায়াতে ইসলামী লোগো
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার রবিবার (২৫ অক্টোবর) প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠার নজিরবিহীন তাণ্ডব ও নৃসংশতা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও কালো অধ্যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেদিনের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্যের মধ্য দিয়েই দেশে দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র হত্যা ও নাগরিক অধিকার হরণের বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই ঘটনার দুই দশক পূর্তি হতে চলছে। আজও হত্যাকারীদের বিচার হয়নি যা খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। এই পৈশাচিক ও বর্বর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সংগঠন এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগরীতে আলোচনা সভা। এতে সম্মানিত আমীরে জামায়াত প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এবং ২৮ অক্টোবর সারাদেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়া।
জামায়াতের সকল শাখাকে এ দিবস উপলক্ষে উক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য আহবান জানানো হয়েছে এবং ঘোষিত কর্মসূচি সার্বিকভাবে সফল করতে আমরা দেশের কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
জাইমা জারনাজ রহমান
ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান (জাইমা রহমান) একজন আইনজীবী এবং জাতিসংঘের একজন আইন কর্মকর্তা (লিগ্যাল অফিসার)। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তার দাদা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
আজ ২৫ অক্টোবর, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেওয়া এই তরুণী আজ কেবল একটি বর্ণাঢ্য পরিবারের উত্তরসূরি নন; বরং নিজস্ব মেধা, যোগ্যতা ও দূরদর্শিতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছেন। জন্মদিন মানেই জীবনের আরেকটি বসন্ত পেরিয়ে নতুন দিগন্তে পদার্পণ।
জীবনের নতুন এই বছরে পদার্পণ মুহূর্তে শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা- মেধা, আত্মপ্রত্যয় ও মানবিক মূল্যবোধের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান আগামী দিনে আইন, সমাজ ও বিশ্বমঞ্চে আরও বড় ভূমিকা রাখবেন। শুভ জন্মদিন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান!
বর্ণাঢ্য পারিবারিক ঐতিহ্য:
জাইমা রহমানের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অত্যন্ত প্রভাবশালী এক পরিবারে । তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তার দাদা ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমান বেগম খালেদা জিয়া। তার নানা মরহুম রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান। যিনি পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীও ছিলেন। পারিবারিক এই ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক আবহের মধ্যে বড় হলেও জাইমা রহমান নিজের পথটি বেছে নিয়েছেন আইন ও জনসেবার অঙ্গনে।
শিক্ষা ও আইনি সাফল্যের সিঁড়ি:
ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাড়িতে এক ভিন্ন আবহে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা তারেক রহমান গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বাবার সাথে ২০০৮ সালে লন্ডনে চলে যান। সেই থেকেই তিনি পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে অবস্থান করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি তার বাবা-মায়ের সাথে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
জাইমা যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকায় পড়াশোনা করেন। শৈশব থেকেই শিক্ষার প্রতি জাইমা রহমানের ছিল গভীর অনুরাগ। তিনি যুক্তরাজ্যের সুপরিচিত ‘কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন’ থেকে অত্যন্ত সফলতার সাথে আইনে স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান ‘ইনার টেম্পল’ থেকে ২০১৯ সালে অর্জন করেন কাঙ্ক্ষিত ‘বার-অ্যাট-ল’ (ব্যারিস্টার) ডিগ্রি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশীয় আইনি ব্যবস্থার সাথে নিজেকে যুক্ত করতে ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি সফলতার সাথে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে জাতিসংঘের অলিন্দে:
জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ৭৩তম ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন জাইমা রহমান। তিন সদস্যের এই বিএনপি প্রতিনিধিদলে তার সঙ্গে দলের তৎকালিন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন। ওই সফরের সময় জাইমা রহমান দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রাক্তন গভর্নর ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রাক্তন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডেস্ট্রো এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইমেনস ফেলোশিপ ফাউন্ডেশনের প্রধান রেবেকা ওয়াগনারের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এটি ছিল বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে জাইমা রহমানের প্রথম অংশগ্রহণ।
২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সভায় প্রথমবারের মতো যোগ দেন, সেখানে দলীয় নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং রুহুল কবির রিজভী, ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের একটি দলও উপস্থিত ছিলেন। পেশাগত জীবনের সূচনায় জাইমা রহমান দেশের অন্যতম সেরা ল’ ফার্ম 'সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস'-এ কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রজ্ঞার সাথে সাংবিধানিক আইন, করপোরেট ও বাণিজ্যিক বিষয়াবলি এবং কর সংক্রান্ত জটিল সব আইনি ইস্যু পরিচালনা করেন। আইনপেশায় এই দক্ষতা তাঁকে পৌঁছে দেয় আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আইনি কাঠামোর সর্বোচ্চ চূড়ায়।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে 'লিগ্যাল অফিসার' (আইন কর্মকর্তা) হিসেবে নিযুক্ত হন। বর্তমানে তিনি সভাপতির এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয়াবলি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তদারকি করছেন।
মানবিক সত্তা ও নতুন দিনের স্বপ্ন:
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি জাইমা রহমানের হৃদয়জুড়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর মমতা। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিয়োজিত বাংলাদেশের স্বনামধন্য সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা 'সুরভী'-র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি তৈরি, বিচারপ্রার্থী মানুষের অধিকার নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গ সমতা এবং আধুনিক ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো দূরদর্শী বিষয়ে কাজ করার প্রতি তাঁর রয়েছে বিশেষ আগ্রহ।
হেফাজতে ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
পাবনা সদরের একটি আবাসিক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সম্প্রতি স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত এক শিক্ষককে আটক করে।
এই পরিস্থিতির পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নিপীড়ন বা যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, ঠিক তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়।
শনিবার সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এসব কথা বলেন। সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী গণমাধ্যমকে এই বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণ ও নীতিভ্রষ্টতার অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটি এই অবস্থান ব্যক্ত করল। উল্লেখ্য, বেশ কিছু কওমি ও সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা সুস্পষ্টভাবে জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শিশু নির্যাতনের বিষয়টিকে একটি ‘পুরোনো সামাজিক ব্যাধি’ হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ স্কুল, মাদ্রাসা কিংবা সমাজের অন্যান্য স্থানেও কম-বেশি এই সমস্যাটি বিদ্যমান রয়েছে।
নিজস্ব কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ দেশের ৬টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড এবং তাদের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশাবলী জারি করেছে।
উক্ত নির্দেশনায় প্রতিটি মাদ্রাসায় অবিলম্বে ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন বা সক্রিয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো শিশু নির্যাতন বা অনৈতিক আচরণের লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা বোর্ডগুলোতে শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ সেল এবং সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে এই সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পাওয়া গেলে কিংবা অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সেই মাদ্রাসার অধিভুক্তি বা সনদ স্থগিত অথবা বাতিল করার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে হেফাজত নেতারা জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্কুল-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নিরাপত্তা নীতি অনুসরণের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো ধরনের নৈতিক পদস্খলনের জন্য দোষীকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি—উভয় ধরনের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শিথিলতা বা আপস করা হবে না।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার সন্ধ্যায় পল্টন থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী।
তিনি জানান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিলেন ১৯ জন। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী। এ সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়। পল্টন থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ভোলা, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছেন। সন্ধ্যার দিকে বায়তুল মোকাররম এলাকায় ঝটিকা মিছিল করার উদ্দেশ্যে তারা জড়ো হয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গ্রেফতারের পর তাদের পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।