শেকড়ের টানে গ্রামে ফেরা, প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মৃতিময় সময় কাটানো আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক আনন্দঘন দিন স্বজনের টান, সুহৃদের ভালোবাসা আর বন্ধুদের আন্তরিকতা যখন এক সুতোয় গাঁথা হয়, তখন সাধারণ একটি দিনও হয়ে ওঠে অসাধারণ। ব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর নাগরিক কোলাহল পেছনে ফেলে একসঙ্গে কিছু সময় কাটানোর আনন্দই আলাদা।
সেই আনন্দকে সঙ্গী করে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের নিয়ে ১৬ অক্টোবর আয়োজন করা হয়েছিল এক আনন্দময় পারিবারিক ভ্রমণ। রূপগঞ্জের ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ গ্রামীণ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো, পার্কে ঘুরে বেড়ানো, সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করা এবং সবশেষে পূর্বচলের নীল মার্কেটে হাঁসের মাংস দিয়ে ভূড়িভোজের মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
শেকড়ের টানে গ্রামের বাড়ি পার্ক ভ্রমণের শুরুতেই ছিল ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ যাওয়ার আনন্দ। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গ্রামের পথে পা রাখতেই যেন বদলে যায় চারপাশের চেনা দৃশ্যপট। গ্রামের নির্মল পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি, পরিচিত পথঘাট আর শৈশবের স্মৃতিমাখা আবহ মনকে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে। গ্রামের বাড়ি পার্ক মানেই শুধু একটি ঠিকানা নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শেকড়ের টান, পারিবারিক ঐতিহ্য, প্রিয়জনদের স্মৃতি এবং হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অসংখ্য অনুভূতি।
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের একসঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া যেন সেই আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। একদিকে পারিবারিক বন্ধনের উষ্ণতা, অন্যদিকে পুরোনো স্মৃতির হাতছানি। গল্প, হাসি আর খুনসুটিতে সময় কাটতে থাকে আপন ছন্দে। কেউ স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেন, কেউ পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেন জীবনের নানা অভিজ্ঞতা।
গ্রামের বাড়ি পার্কে এমন একসঙ্গে সময় কাটানোর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আপনজনদের আরও কাছ থেকে অনুভব করা। সম্পর্কের ব্যস্ততা ও দূরত্বের মাঝে যে আন্তরিকতার জায়গাটি কখনো কখনো আড়ালে পড়ে যায়, এমন আয়োজন তাকে আবারও উজ্জ্বল করে তোলে।
পার্কে ঘোরাঘুরি, আনন্দ আর আড্ডায় গ্রামের বাড়ি পার্কে ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয় পার্কে ঘুরে বেড়ানো, পরিচিত গণ্ডির বাইরে খোলা পরিবেশে সবার সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে হাঁটাহাঁটি করা, ছবি তোলা আর হাসি-আড্ডায় মেতে ওঠার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় আনন্দের নতুন উপলক্ষ।
এ ধরনের ভ্রমণে গন্তব্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সঙ্গীদের উপস্থিতি। একই দৃশ্য কারও কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্য, কারও কাছে ছবি তোলার উপলক্ষ, আবার কারও কাছে বন্ধুদের সঙ্গে কিছু নির্ভার সময় কাটানোর সুযোগ। সবার ভাবনা ও অনুভূতি মিলেমিশে ভ্রমণকে করে তোলে প্রাণবন্ত।
কর্মব্যস্ত জীবনে মানুষ অনেক সময় কাছের মানুষদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সুযোগ পায় না। পার্কের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে সেই সুযোগ তৈরি হয় সহজেই। দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ ভুলে সবাই যখন একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন বয়সের ব্যবধান কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যায়।
সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দময় সময়
ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে যাওয়া। দুটি স্থানে ঘুরে দিনের আনন্দকে আরও বিস্তৃত করতে এই গন্তব্য যোগ করে নতুন মাত্রা। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের সঙ্গে এমন একটি অবকাশযাপনের স্থানে সময় কাটানোর মধ্যে রয়েছে আলাদা রোমাঞ্চ। পরিচিত মানুষদের সঙ্গে নতুন পরিবেশে ঘোরাঘুরি, গল্প করা এবং একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোকে স্মৃতিতে ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়।
রিসোর্টে পৌঁছানোর পর ভ্রমণসঙ্গীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ আরও ছড়িয়ে পড়ে। কেউ চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করেন, কেউ সঙ্গীদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠে, আবার কেউ স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একসঙ্গে ছবি তোলা, হাসিমুখে স্মৃতি ধরে রাখা এবং পরস্পরের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভ্রমণটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।
এখানে আসার মূল আনন্দ কেবল একটি বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে দেখা নয় বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে একই সময়ে, একই জায়গায় উপস্থিত থাকার আনন্দ। দিনের নানা মুহূর্তে তৈরি হওয়া হাসি, গল্প আর আনন্দের স্মৃতিই পরে হয়ে ওঠে একসঙ্গে কাটানো সময়ের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করার আয়োজন
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ কেবল বেড়ানোর আয়োজন ছিল না এর মধ্যে ছিল সম্পর্ককে নতুন করে অনুভব করার সুযোগ। আত্মীয়তার বন্ধন মানুষকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে, সুহৃদদের আন্তরিকতা কঠিন সময়ে সাহস জোগায়, আর বন্ধুত্ব জীবনের একঘেয়েমির মধ্যে এনে দেয় আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য।
একটি সফল পারিবারিক মিলনমেলার সৌন্দর্য এখানেই যে, সেখানে সবাই নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে নিতে পারেন। কেউ গল্পে, কেউ আড্ডায়, কেউ প্রকৃতির সান্নিধ্যে, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তোলার মধ্যে খুঁজে পান সুখের মুহূর্ত। কিন্তু সবার আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু একটাই একসঙ্গে থাকা। এই ভ্রমণ আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখতে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই প্রয়োজন আন্তরিকতা, সময় দেওয়া এবং একে অন্যের পাশে থাকার মানসিকতা।
স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে আনন্দময় দিনটি
গ্রামের বাড়ি পার্কের মায়া, পার্কে ঘোরাঘুরি আর সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে কাটানো সময় সব মিলিয়ে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ হয়ে উঠেছে আনন্দ ও স্মৃতির এক সুন্দর সময়। এরপর চলে নীলা মার্কেটে হাঁসের মাংস আর রুটি খাওয়ার পালা। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেয়া হয় উপহার সামগ্রী এবং র্যাফেল ড্রতে উপহার পান হাবিব, লিয়ন ও মাসুদ। দিনের শেষে সবাই ফিরে গেছে নিজ নিজ কর্মব্যস্ত জীবনে, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে গেছে একসঙ্গে কাটানো সময়ের অমূল্য স্মৃতি। ছবি হয়তো মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখবে, কিন্তু সেই মুহূর্তের হাসি, আন্তরিকতা আর ভালোবাসার অনুভূতি থেকে যাবে হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে। ভবিষ্যতে যখন আবারও ব্যস্ততা বাড়বে, তখন এই ভ্রমণের স্মৃতিই হয়তো মনে করিয়ে দেবে জীবনের প্রকৃত আনন্দ শুধু সাফল্য কিংবা প্রাপ্তিতে নয় বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত।
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই মিলনমেলা তাই একটি দিনের ভ্রমণেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সম্পর্কের প্রতি ভালোবাসা, শেকড়ের প্রতি টান এবং একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকারের প্রতীক। এমন আয়োজন বারবার ফিরে আসুক, নতুন আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করুক এবং সবার হৃদয়ে ভালোবাসার বন্ধন আরও গভীর করুক। তিনবারে ভোজনে প্রিয় খাবারের মেনুতে ছিল খিচুড়ি, চা, ফ্রাইড রাইস, কোমল পানীয়, হাঁসের মাংস ও রুটি, পানি ইত্যাদি। সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা সে এক অন্যরকম আনন্দ।
এ মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করে জ্যোতিষ সমাদ্দার বাবু, শামীম হোসেন, কবির আহাম্মদ, মনসুর আহমেদ, ওয়াহিদ মুরাদ অপু, অলিদুল রহমান অলি, লিয়াকত হোসেন সুমন, হাবিবুর রহমান, মাসুদ আলম, জসিম মজুমদার, ইমরান হোসেন টিপু, রিদওয়ান আক্রাম, রাজিব, মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ লিয়ন, , আবদুল মোতালেব পলাশ, আমিনুল ইসলাম, সায়কা বানু, বারি দেওয়ান হৃদয়, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেজাউল কবির রাজিব, রেজওয়ানা হোসেন বর্ণা, টিপু সুলতান দিপু এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা।
পথচলার শেষে গন্তব্যের স্মৃতি যতটা না মনে থাকে, তার চেয়ে অনেক বেশি অমলিন হয়ে থাকে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কাটানো আনন্দময় মুহূর্তগুলো। সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু হয় এবং এর সফল সমাপ্তি ঘটে রাত ৯টায় সবার নিজ নিজ ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের উদ্যোগে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা এবং বর্তমান সমাজে শিক্ষকের মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের সভাপতি শাহজাহান শোভন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক, সংগঠক ও সমাজকর্মী মোস্তফা হুমায়ূন হিমু, সংস্কৃতিকর্মী মু. মোস্তফা কামাল বাদল, সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অলিদুর রহমান অলি, কবি আতিক শাহরিয়ার, শাহীন কাউসার, সমাজকর্মী সালাম খান তরুণ, জহিরুল ইসলাম দুখুসহ শিক্ষক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, একটি জ্ঞাননির্ভর ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষকের মর্যাদা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই অর্থনীতিতে বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার তুলে ধরতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঁশ দিবস।
চলতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘Bamboo Beyond Borders’, যার অর্থ ‘সীমানা ছাড়িয়ে বাঁশ’। গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী এই উদ্ভিদ এখন পরিবেশবান্ধব শিল্প, নির্মাণ, খাদ্য ও জীবিকার অন্যতম সম্ভাবনাময় উপাদান হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাঁশ শুধু গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী উপকরণ নয়; পরিবেশ সুরক্ষা, শিল্প, হস্তশিল্প ও অর্থনীতিতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আসবাবপত্র, কাগজ, ঘরবাড়ি নির্মাণসহ দৈনন্দিন নানা পণ্য তৈরিতে বাঁশের ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
বিশ্ব বাঁশ সংস্থার উদ্যোগে প্রতি বছর ১৮ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়। ২০০৫ সালে World Bamboo Organization (WBO) প্রতিষ্ঠার পর বাঁশের সম্ভাবনা ও ব্যবহার নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম আরও জোরদার হয়। পরে ২০০৯ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্ব বাঁশ কংগ্রেসে ১৮ সেপ্টেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব বাঁশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
পরিবেশের জন্যও বাঁশ গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত বেড়ে ওঠা এই উদ্ভিদ কার্বন শোষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বাঁশকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র শিল্প ও হস্তশিল্পে বহু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো বাঁশের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা, এর টেকসই ব্যবহার বাড়ানো এবং দৈনন্দিন জীবনে বাঁশভিত্তিক পণ্যের ব্যবহারকে উৎসাহিত করা।
‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বই হাতে লেখক রবার্ট কিয়োসাকি। সংগৃহীত ছবি
‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক রবার্ট কিয়োসাকি বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। আর্থিক সাফল্যের কৌশল শেখানোর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই লেখকের রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের সঙ্গে প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ জড়িত বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ৭৯ বছর বয়সী কিয়োসাকি অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই তার বিপুল ঋণের কথা বলে আসছেন। তার দাবি, আয় তৈরি করে এমন সম্পদ কেনার জন্য ঋণ নেওয়া ধনী ব্যক্তিদের ব্যবহৃত একটি কৌশল।
সম্প্রতি ‘গেট রিচ এডুকেশন’ পডকাস্টে কিয়োসাকি বলেন, ‘আমি ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণে আছি।’ তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমি যা করি, আপনারা তা করবেন না।’
তবে কিয়োসাকির সাবেক স্ত্রী ও ব্যবসায়িক অংশীদার কিম কিয়োসাকি জানিয়েছেন, ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণের অঙ্কটি নিয়ে ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। এটি রবার্ট কিয়োসাকির ব্যক্তিগত ঋণ নয়।
‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম জানান, অংশীদারদের সঙ্গে তাদের প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইউনিটের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এসব সম্পত্তির বিপরীতে বিপুল ঋণ নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রযুক্তিগতভাবে ঋণের পরিমাণ ১.২ বিলিয়ন ডলার হলেও এর খুব সামান্য অংশ কিয়োসাকির ব্যক্তিগত দায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিয়োসাকির বিনিয়োগ কৌশলের কারণেই এই বিপুল ঋণের সৃষ্টি হয়েছে। সম্পত্তির মূল্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেই বর্ধিত মূল্যের বিপরীতে আরও ঋণ নেন। সম্পত্তি বিক্রি না করে ঋণ নেওয়ায় এই অর্থ সাধারণত করমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ ছাড়া কিয়োসাকি তার বিভিন্ন বিনিয়োগ আলাদা আলাদা ‘লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানি’ বা এলএলসির অধীনে রাখেন। ফলে কোনো একটি বিনিয়োগে সমস্যা দেখা দিলে অন্য সম্পদগুলোকে তার প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।
নিজের এই কৌশল সম্পর্কে কিয়োসাকি বলেন, সবকিছু যদি ‘নরকে’ও চলে যায়, তাহলে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে হবে। ধনীরা এভাবেই ‘ফায়ারওয়াল’ তৈরি করে বিনিয়োগ করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এর হিসাব অনুযায়ী, কিয়োসাকি বছরে প্রায় ৩০ লাখ ডলার আয় করেন। এই হিসাব সঠিক হলে মোট ঋণের মধ্যে তার ব্যক্তিগত অংশ আনুমানিক ৩ থেকে ৬ কোটি ডলার হতে পারে।
‘ট্যাক্স মাভেরিক এআই’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী ডেভিড এ. পেরেজ কিয়োসাকির কৌশলকে ‘ভালো কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তার মতে, সম্পত্তির বিপরীতে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অস্বাভাবিক নয়। তবে এতে বন্ধকের কিস্তি ও সুদের খরচ বাড়তে পারে এবং নগদ প্রবাহ কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে ‘জেপিটিডি পার্টনার্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা জন পুল আরও সতর্ক করে বলেন, ঋণ ভালোও হতে পারে, খারাপও হতে পারে। তবে ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে একজনকে অবশ্যই জানতে হবে তিনি কী করছেন।
তার মতে, ঋণের মাধ্যমে বিনিয়োগের কৌশল সম্পদের মূল্য বাড়ার সময় ভালো কাজ করে। কিন্তু সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা থেমে গেলে এটি ভয়াবহ আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রবার্ট কিয়োসাকি ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইকে কেন্দ্র করে বিশাল আর্থিক শিক্ষা সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। ১৯৯৭ সালে প্রথম প্রকাশিত বইটি বিশ্বজুড়ে ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ জানিয়েছে।
বইটিতে কিয়োসাকি তার নিজের বাবাকে ‘পুওর ড্যাড’ এবং শৈশবের বন্ধুর বাবাকে ‘রিচ ড্যাড’ হিসেবে তুলে ধরে অর্থ ও বিনিয়োগ সম্পর্কে দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির তুলনা করেছেন। কিয়োসাকি দীর্ঘদিন ধরে রিয়েল এস্টেটের মতো আয়-উৎপাদনকারী সম্পদে বিনিয়োগ, কর কমানো এবং বিনিয়োগের জন্য নেওয়া ঋণ ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে নেওয়া ঋণের মধ্যে পার্থক্য করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ঢাকায় কর্মরত পটুয়াখালী জেলার সাংবাদিকদের সংগঠন ‘পটুয়াখালী জার্নালিস্টস ফোরাম (পিজেএফ), ঢাকা’র বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও আগামী ২০২৬-২০২৮ দ্বি-বার্ষিক মেয়াদের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাড্ডা-হাড্ডি লাড়াইয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাভিশনের নির্বাহী সম্পাদক বদরুল আলম নাবিল, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন এটিএন নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার আমিনুল ইসলাম। শুক্রবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির ক্রাব অডিটোরিয়ামে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কমিটিতে বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সাব-এডিটর জওহার ইকবাল খান সহ-সভাপতি, দৈনিক এদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শহীদ রানা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, দর্পণ প্রতিদিনের বার্তা সম্পাদক গনেশ চন্দ্র হাওলাদার অর্থ সম্পাদক, দেশ টিভির স্টাফ রিপোর্টার মো. তাইমুন ইসলাম রায়হান সাংগঠনিক সম্পাদক, দ্য ডেইলি কান্ট্রি টুডের সাব-এডিটর মো. আসাদুজ্জামান (সজীব) দপ্তর সম্পাদক, দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তাইফুর রহমান তুহিন প্রচার-প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন একুশে টেভিশনের মো. আরিফুল ইসলাম, দৈনিক এ দিনের রিপোর্টার মোহাম্মদ কামরুল হাসান (শিশির), দৈনিক সরেজমিনের রিপোর্টার রিপন হাওলাদার, অপরাধ চিত্র পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আলমগীর হোসেন ও শারমিন আজাদ।
নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অ্যাডভোকেট মাওলানা মো. রুহুল আমিন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আকন আবদুল মান্নান, ফোরকান আহমদ ও মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক নির্বাচন পরিচালনা করেন ও ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফোরামের সকল পর্যায়ের সদস্যরা সাধারণ সভা ও নির্বাচনে উপস্থিত থেকে ভোট প্রদান করেন।
মঙ্গল গ্রহ
মঙ্গল গ্রহকে ঘিরে মহাকাশপ্রেমী ও গবেষকদের কৌতূহলের শেষ নেই। অতীতেও নাসার পাঠানো স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন মুখরোচক দাবি উঠেছে, যার বেশির ভাগই বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যায় খণ্ডন করা হয়েছে। তবে মঙ্গল গ্রহের সিডোনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত কিছু অদ্ভুত প্রাকৃতিক পাহাড়ি টিলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মঙ্গল গ্রহের কিছু শিলার গঠন মানুষের মুখের অবয়ব, পিরামিড ও প্রাচীন দালানকোঠার ধ্বংসাবশেষের মতো দেখা গেছে।
আর তাই অ্যানসিয়েন্ট অ্যালিয়েন্স টিভি সিরিজের বিশ্লেষক জেসন মার্টেল দাবি করেছেন, নাসার অরবিটারের তোলা ছবিতে একটি উঁচু পাহাড়ি এলাকা এবং একটি সমতল অববাহিকার মধ্যে স্পষ্ট সীমানা দেখা গেছে। এটি কোনো প্রাচীন জলাশয়ের তীরের রেখা বা কোস্টলাইন হতে পারে।
মার্টেলের দাবি, এই সীমানা ধরে রহস্যময় কাঠামোগুলোর বিন্যাস পৃথিবীর প্রাচীন ও আধুনিক উপকূলীয় শহরগুলোর গড়ে ওঠার ধারণার সঙ্গে মিলে যায়। তিনি তার ব্লগে এই তথাকথিত সিডোনিয়া বসতিকে ভেনিস, আলেকজান্দ্রিয়া, আমস্টারডাম, সিঙ্গাপুর, দুবাই ও ম্যানহাটানের মতো পানিকেন্দ্রিক শহরের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তাঁর মতে, মানুষের মুখসদৃশ কাঠামোটি এমন স্থানে তৈরি করা হয়েছিল, যেন তা থেকে পুরো জলাশয় ও পাশের শহর নজরদারি করা যায়। মানুষের সভ্যতায় পানি, বাণিজ্য ও যাতায়াতের সুবিধার্থে নদী বা সাগরের তীরে নগর গড়ে তোলার ইতিহাস থাকলেও মঙ্গলের ক্ষেত্রে এই দাবি সম্পূর্ণ চাক্ষুষ অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, সম্পূর্ণ বিষয়টি ভৌগোলিক বিশ্লেষণের বদলে কেবল দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। অববাহিকার একটি সমতল অংশ থাকা মানেই সেখানে অতীতে সাগর বা হ্রদ ছিল, এমন কোনো তথ্য প্রমাণ করা যায় না। এ ছাড়া কোনো শিলাখণ্ড দেখে আমাদের মস্তিষ্ক পরিচিত অবয়ব বা মানুষের মুখ খুঁজে পাওয়ার যে প্রবণতা দেখায়, তাকে বিজ্ঞানের ভাষায় প্যারেডোলিয়া বলা হয়।
মার্টেল নিজেও স্বীকার করেছেন, তিনি কোনো ভূতত্ত্ববিদ নন এবং এই পরিবর্তনগুলো সত্যিই পানির কারণে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। আর তাই কোনো রাসায়নিক বা শিলাগত প্রমাণ ছাড়া মার্টেলের দাবিকে কেবল মহাকাশপ্রেমীদের কাল্পনিক ব্যাখ্যা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
হাবিব উন নবী খান সোহেল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে, বিশেষ করে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তাঁদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও নেতৃত্বের গুণাবলীর কারণে তিনি এ ধরনের দায়িত্ব পালনের যোগ্য।
বর্তমানে হাবিব উন নবী খান সোহেল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলার মাধ্যমে তিনি বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতায় পরিণত হয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তিনি একাধিকবার হামলা, মামলা ও কারাবরণের মুখোমুখি হলেও দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচির প্রতি অবিচল থেকেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক মামলা হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোকে তাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা বলে মনে করেন। তাঁদের বক্তব্য, এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দল ও নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
তাদের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ, সাংগঠনিক সক্ষমতা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং প্রশাসনিক বিষয়ে অভিজ্ঞতা রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে তাঁকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি দেশের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক অবদান এবং নেতৃত্বের যথাযথ মূল্যায়নের অংশ হিসেবে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেখতে চান তাঁরা।
বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও নাশকতার অভিযোগে সাড়ে চার শর বেশি মামলা ছিল, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো নেতার বিরুদ্ধে থাকা সর্বোচ্চ বা অন্যতম সর্বোচ্চ মামলার রেকর্ড হিসেবে গণমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে।
তবে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, হাবিব উন নবী খান সোহেলের পৈতৃক নিবাস রংপুরের গুপ্তপাড়ায়। তাঁর বাবার চাকরির সুবাদে জন্ম ও শৈশব কেটেছে দিনাজপুরে। বর্তমানে তিনি ঢাকায় স্বপরিবারে বসবাস করছেন এবং সেখান থেকেই রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।