প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় উদ্যানটিকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণ করে নতুন বৃক্ষরোপণ ও সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে।
উদ্যানটিতে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং ও জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটির সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথ রয়েছে।
সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি উদ্যান প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। উদ্যানে স্থাপিত গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীর নাগরিক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।
স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে। এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের পতাকা
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ইএসডিপি-এমওসি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) চুক্তি সই ও কর্মী নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের প্রায় এক বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উভয় দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি নতুন চুক্তি ইএসডিপি-এমওসি (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষে দেশটির মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বর্তমান সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের ইতিহাসে এটি একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর আসন্ন জাপান সফরের সময় এই চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
আগামী ১ এপ্রিল ২০২৭ তারিখ থেকে এই চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান। এই চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ ৫ (পাঁচ) বছর। মেয়াদ শেষে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও ৫ বছরের জন্য বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে সামগ্রিক মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানে অভূতপূর্ব সুযোগ ও সুরক্ষা লাভ করবেন।
চুক্তিটির মূল সুবিধাগুলো তুলে ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কর্মী প্রেরণ ও গ্রহণের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। এর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ঘটবে, যার ফলে কর্মীরা উচ্চ বেতন এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির আওতায় কর্মীরা জাপানি স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষাপ্রাপ্ত হবেন এবং কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমান সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে নারী বিদেশি কর্মীদের প্রতি গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে কোনো ধরনের চাকরিচ্যুত বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসূতির কারণে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যবাধকতামূলক বিধান এই চুক্তিতে রাখা হয়নি। এই চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানেরও উদ্বোধন করেন।
সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি উদ্যান প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। উদ্যানে স্থাপিত গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীর নাগরিক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ৮৩৪ শহীদের নাম
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।
স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভেতরে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে। এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আজ মহাঅষ্টমী। অষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ কুমারী পূজা। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা। রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ পূজা।
হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। শ্রীরাম কৃষ্ণের কথামতে, কুমারী পূজার বিষয়ে বলা হয়েছে, শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ বেশি প্রকাশ পায় এবং মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ্য।
শাস্ত্রমতে, এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভাগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুজ্বিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চোদ্দতে পীঠ নায়িকা, পনেরোতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে তাকে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।
নির্বাচিত কুমারীকে মহাষ্টমীর দিন ভোরে গোসল করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। তাকে সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দেওয়া হয়। কুমারীকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপাচারে (ষোলো উপাদান) দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এ সময় চারদিকে শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি আর দেবী স্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে।
কুমারী পূজার তাৎপর্য প্রসঙ্গে পুরোহিতরা বলেন, অনেক চিন্তাশীল মানুষ অনুভব করছেন, আধুনিক পৃথিবীতে সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংকট নিরসন করে অগ্রগামী হতে হলে মাতৃজাতির প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। জগতের অনেক স্থানে নারীকে সম্মান দেওয়া হয় পত্নীরূপে বা সহকারিণীরূপে। কিন্তু নারীর সবচেয়ে মহিমময় রূপ তার মাতৃরূপ। তাই এই মহাষ্টমী তিথিতে আমরা জগতের সব মাতৃজাতিকে উদ্দেশ্য করে কুমারী মাতাকে প্রণাম জানাই। তার মাধ্যমে আদ্যাশক্তিকে আমাদের প্রণাম নিবেদন করি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) দশমীর মাধ্যমে বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা। দশমীর দিন বিকেল ৩টার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জনের কথা বলা হয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃত্বে পলাশীর মোড় থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়ে সদরঘাটের ওয়াইজ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হবে।
আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং থেকে গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন পর্যন্ত রেললাইনের পশ্চিম পাশের ঘুণ্টিঘর এলাকায় অর্ধশত মানুষের আনাগোনা। কিশোর থেকে তরুণ, মধ্যবয়সী এমনকি বৃদ্ধরাও রয়েছেন। নারীও আছেন কয়েকজন। তাদের কেউ কাঠের ও প্লাস্টিকের বাক্স বা প্যাকেট নিয়ে বসে আছেন, কেউ ঘুরছেন।
তাদেরই কেউ কেউ পকেট থেকে কাগজের পুরিয়া বের করে ক্রেতার হাতে দিয়ে টাকা নিচ্ছেন। দেখে মনে হয়, হাটে কোনো পণ্য বেচাকেনা চলছে। বেচাকেনা চলছে ঠিকই তবে প্রচলিত পণ্য নয়, মাদকদ্রব্য। সেখানে মূলত গাঁজাই বেশি বিক্রি হতে দেখা গেল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টা প্রকাশ্যেই চলে মাদক কেনাবেচা। গতকাল রোববার বিকেলের চিত্র এটি।
শনিবার বিকেলে দয়াগঞ্জের ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানের ভিডিও তিনি নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করেন। তাতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে কিছু বলছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর পাশ থেকে একজন বলে ওঠেন, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন।
প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিমন্ত্রীর এমন অভিযান নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। এর পরই সেই এলাকার চিত্র দেখতে রোববার সেখানে যান প্রতিবেদক। তিনি সেখানে অবাধে মাদকদ্রব্য বিক্রি হতে দেখেন। আগের দিন অভিযানে কয়েকজনকে আটক করা হলেও এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।
কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচা চলে। ২৪ ঘণ্টাই গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা মাদক পাওয়া যায়। প্রতি পুরিয়া গাঁজার দাম ১২০ টাকা। একজন খুচরা বিক্রেতা দিনে কয়েক হাজার টাকার মাদক বিক্রি করেন। যারা বড় চালান নিয়ে আসেন, তারা লাখ টাকার বিক্রি করেন।
এক নারী মাদক বিক্রেতার সঙ্গে সেখানে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘গাঁজা বিক্রি বন্ধ হলে আমাকে এখানে দেখা যেত না। আমার ছেলেমেয়েরাও এগুলো খাওয়া শিখেছে।’
আরেক নারী বলেন, ‘আমার স্বামী মাদক নিতে নিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমিও বিক্রি করি, চলতে তো হবে।’
সেখানকার স্থানীয়রা জানান, আগে থেকেই সেখানে মাদক কেনাবেচা হয়। কয়েক মাস ধরে কেনাবেচা অনেক বেড়েছে। পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও ক্রেতা ভেবে ডাকাডাকি করে মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগেও এখানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হতো। কয়েক মাস ধরে কেনাবেচা বেড়েছে। অফিসে যাওয়া-আসার সময় মাদক ব্যবসায়ীরা ডাকাডাকি করে। বাধ্য হয়ে এই পথ এড়িয়ে চলি।’
বাসিন্দাদের এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হলেও মাদক কেনাবেচা থেমে নেই। গত শনিবার এলাকার জনপ্রতিনিধি ঢাকা-৫ আসনের এমপি ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। তিনি অন্তত ৩০-৪০ বার পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা একেক সময় একেক কথা বলে। তাদের জনবল কম, গাড়ি নেই– এসব কথা বলে। এর আগে সেখানে অভিযান চালাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মাদক ব্যবসায়ীরা দূর থেকে গুলি করে দেয়। সে কারণে তাঁর হাতে অস্ত্র ছিল। কিন্তু তিনি গুলি করেননি, কাউকে ভয়ও দেখাননি। অভিযান করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।
গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘জায়গাটিতে মাদক কেনাবেচা হওয়ায় আমরা প্রায় অভিযান চালাই। যখনই অভিযানে যাই তখন ২০-৩০ জনকে গ্রেপ্তার করি। কিন্তু আবার সেখানে কেনাবেচা চলে। মূলত স্থানটিতে ভাসমান লোকজন অনেক বেশি। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমাদের তালিকায় যারা আছে, তাদের অধিকাংশকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
দয়াগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে আইনের ব্যত্যয়ের তথ্যপ্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন
প্রকাশ্যে অস্ত্র তাক করে মাদকসেবীদের ধাওয়া এবং আইন ভেঙে গুলি ছোড়ার ভয় দেখানোর ঘটনায় আলোচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানিয়ে ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’
ইশরাক হোসেন পোস্টের শুরুতেই লিখেছেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’
শনিবার ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গেণ্ডারিয়া এলাকায় ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি রোববার দিনভর আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল। এ নিয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং সরকারের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়। রোববার দুপুরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকার ও বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন ইশরাক।
এর আগে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (স্বাস্থ্যকেন্দ্র) হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেন বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদত্যাগসংক্রান্ত সংবিধানের ৫৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করতে পারবেন এবং মন্ত্রী অনুরোধ রাখতে অসমর্থ হলে প্রধানমন্ত্রী তাকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে প্রতিমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর তাকে একটি খসড়া পদত্যাগপত্র সরবরাহ করা হয়।
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। তবে সূত্র জানায়, বৈঠক শেষে আবারও ইশরাক হোসেনকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কী আলোচনা হয়, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের। সে হিসেবে এ ঘটনায় আপনার ভূমিকা কী? জবাবে সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।’
বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখানোর ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভারও। কারণ, সরকারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণ পুরো মন্ত্রিসভাকে বিব্রত করেছে।
বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে দলীয় রাজনীতিতে আসা ইশরাক হোসেন নানা সময়ে বিতর্কের জন্ম দেন। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিউইয়র্কে মারা যাওয়ার পর ইশরাক হোসেন তার বাবার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ ও রাজধানীর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরের বছর ৩৩ বছর বয়সে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে বিএনপির তরুণ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ওই নির্বাচনে অবশ্য হেরে যান বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী ইশরাক হোসেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীর রাজনীতিতে সামনের সারিতে ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি শপথ নিতে পারেননি। এ নিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ান ইশরাক। ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত প্রধান ফটকে তালা দিয়ে নগর ভবন অবরোধ করে রাখেন ৪০ দিন। এতে নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা ঘিরে আন্দোলনও করেন ইশরাক।
রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলার জেরে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট একের পর এক বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। ছুটিতে দেশে আসা কর্মীরা কাজে ফিরতে পারছেন না। যাত্রা পিছিয়ে যাওয়ায় তাদের ভিসার মেয়াদ ও চাকরি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।গতকাল রবিবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০ জনেরও বেশি যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে।
সরেজমিনে বিমানবন্দরে দেখা যায়, রিয়াদগামী যাত্রীরা হাতে টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এয়ারলাইন্সের কাউন্টারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। কেউ ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন, কেউ ট্রলির ওপর মালাপত্র নিয়ে অসহায় বসে আছেন, কেউ-বা আবার বিকল্প ফ্লাইটের সন্ধান করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা অন্য পরিবহনে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় আসার পর ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।তাদেরই একজন টাঙ্গাইলের মীর্জাপুরের মালেক। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ২ নম্বর টার্মিনালে ট্রলি নিয়ে বিরস ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন।
চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার মেঘ। জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘এক মাসের ছুটিতে এসেছিলাম। ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে প্রথম টিকিট ক্যান্সেল হয়েছে। এখন দুবাই হয়ে মদিনায় যাচ্ছি। এতে ৮০ হাজার টাকা বাড়তি দিয়ে যেতে হচ্ছে। কারণ যদি যেতে না পারি মরণ ছাড়া গতি নেই।’
কুমিল্লার চান্দিনার মো. শরীফ সরকার বলেন, ‘তিন মাসের ছুটিতে বাড়ি এসেছি। আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আর যেতে পারব না। চাকরি হারানোর ভয়ে এজন্য তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছি। কিন্তু (রবিবার) এয়ারপোর্টে এসে শুনি সকাল ১১টায় রিয়াদ-দাম্মাম ফ্লাইটটি ক্যান্সেল হয়ে গেছে। আবার জানানো হলো রাত সাড়ে ৮টার ফ্লাইটে মদিনা হয়ে দাম্মাম নেওয়া হবে।’
হতাশ কণ্ঠে মো. শরীফ সরকার বলেন, ‘যাইতে পারি কি না আল্লাহ জানেন।’নাটোরের বড়াই গ্রামের আতিকুল ইসলাম চাকরি নিয়ে প্রথম বারের মতো সৌদি আরব যাচ্ছেন। গত ১২ অক্টোবর বিমানবন্দরে এসেই জানতে পারেন তার ফ্লাইট ক্যান্সেল হয়ে গেছে। গতকাল রবিবার দ্বিতীয় দফায় এসেও জানতে পারেন ফ্লাইট কখন কটায় ছাড়া হবে তা অনিশ্চিত। অগত্যা বাবা আদম আলীকে ব্যাগ অ্যান্ড ব্যাগেজসহ ট্রলির ওপর বসিয়ে রেখে ছুটলেন গুলশান-২ এ গালফ এয়ারের অফিসে। আদম আলী জানান, ‘আমি কৃষক মানুষ অনেক আশা নিয়ে আমার সর্বস্ব দিয়ে ছেলেকে বিদেশে পাঠাচ্ছি। যদি যেতে না পারে আমার ছেলের আকামা থাকবে না। আমার মুখের ভাষা বন্ধ হয়ে যাবে।’
প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফিরে এসে আতিকুল ইসলাম জানান, রাত ৮টায় তার ফ্লাইট এবং অন্য রুট হয়ে যাওয়া হবে।
কুমিল্লার বামন পাড়ার মো আসাদ বলেন, ‘সৌদি এয়ারলাইন্সে রাত ১১টায় আমার ফ্লাইট ছিল। কিন্তু আমি জানিই না আমার ফ্লাইট ক্যান্সেল হয়েছে। যদি যাইতে না পারি তাহলে আমার সব ছারখার হয়ে যাবে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মো. মাইনুদ্দীন বলেন, ‘রাত ১টা ৪০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সে সরাসরি ফ্লাইট ছিল। কিন্তু তারা জানিয়েছে, দুবাই হয়ে মদিনা যেতে হবে। এতে করে বাড়তি ভাড়া গুনতে না হলেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
নোয়াখালী থেকে এসেছেন সৌদি আরবের রিয়াদ প্রবাসী আব্দুল মান্নান। দেশে ছুটি কাটিয়ে রবিবার দুপুরে তার ফেরার কথা ছিল। আগেই বিমানের টিকিট কেটে যাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে জানতে পারেন, তার ফ্লাইট বাতিল। এখন কবে কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন, তা তিনি জানেন না। ঠিক সময়ে কাজে যোগ দিতে না পারলে চাকরি নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে তার। আব্দুল মান্নান বলেন, ‘চার মাস আগে দেশে এসেছিলাম। নোয়াখালী থেকে ঢাকায় এসে ফ্লাইট ধরার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এখন হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। কবে যেতে পারব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। সৌদি আরবে আমার জরুরি কাজ আছে। তারিখমতো ফিরতে না পারলে ভয়াবহ সমস্যায় পড়তে হবে। ফ্লাইটের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হলে আমাদের ভোগান্তি কিছুটা কমত।’
শরীফ সরকার, মালেক, আসাদ কিংবা আব্দুল মান্নানের মতো হাজার হাজার প্রবাসীর যাত্রা আটকে গেছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেবিচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১১৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এতে এসব ফ্লাইটের ১৮ হাজার ৩৬২ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৫২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৬৬টি। এসব ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরা। কেউ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে বিমানবন্দরে আটকে গেছেন, কেউ বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করেও নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। এর মধ্যে বিকল্প রুটের টিকিটের দাম কয়েক গুন বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে আর্থিক চাপেও পড়েছেন যাত্রীরা।
জানতে চাইলে বেবিচকের সহকারী পরিচালক জনসংযোগ কাওছার মাহমুদ বলেন, ‘এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে বিকল্প হিসাবে সৌদি আরবের দাম্মাম ও মদিনাগামী ফ্লাইটে যাত্রীদের পাঠানোর চেষ্টা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে বিনা খরচে অন্য ফ্লাইটে যাত্রীদের সমন্বয় করা হবে। গত সোমবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের বিকল্প ফ্লাইটে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) হিসাবে, গত বছরের ১২ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশে যাওয়ার ছাড়পত্র নিয়েছিলেন ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬ জন। এ বছরের একই সময়ে সংখ্যাটি কমে হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৬৩২ জন, অর্থাৎ প্রায় ৩২ শতাংশ কমেছে। শুধু সৌদি আরবে যাওয়ার ছাড়পত্র নেওয়া কর্মীর সংখ্যা ৫ লাখ ৭২ হাজার ৫৪ থেকে কমে হয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ৫৬৭ জন। এই কমার হার প্রায় ৪৬ শতাংশ।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরবে গেছেন ৬ লাখের বেশি বাংলাদেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এই সময়ে দেশটি থেকে ৫৮৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের তুলনায় এটি ৩৭ শতাংশ বেশি।