বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি ব্যবস্থা থাকলেও ব্যতিক্রমও আছে। ফিলিপাইন ও ভ্যাটিকান সিটি এমন দুটি দেশ, যেখানে সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ নেই। তবে দাম্পত্যে সংকট তৈরি হলে দেশ দুটিতে স্বামী-স্ত্রীর সামনে কিছু আইনি ও ধর্মীয় বিকল্প আছে।
ফিলিপাইন
ফিলিপাইনে অধিকাংশ বিবাহিত দম্পতির জন্য প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদের সাধারণ আইন নেই। তবে আইনি বিচ্ছেদ (আইনগতভাবে আলাদা থাকা), বিয়ে বাতিল এবং বিয়েকে শুরু থেকেই অবৈধ ঘোষণার ব্যবস্থা আছে।
আইনি বিচ্ছেদ মানেই বিবাহবিচ্ছেদ নয়। আদালত স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা থাকার অনুমতি দিলেও তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকে। ফলে তাঁরা সাধারণত নতুন করে বিয়ে করতে পারেন না।
শারীরিক নির্যাতন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক কিংবা সঙ্গীকে পরিত্যাগ করার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনি বিচ্ছেদের আবেদন করা যায়। অন্যদিকে বিয়ে বাতিল বা অবৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে বিয়েটি আইনগতভাবে বৈধ ছিল কি না, তা বিবেচনা করা হয়।
তবে ফিলিপাইনে মুসলিমদের জন্য পৃথক পারিবারিক আইন আছে। নির্দিষ্ট শর্তে এই আইনের আওতাভুক্ত দম্পতিরা তালাক, খুলা কিংবা আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ পান।
এ ছাড়া বিদেশে হওয়া কিছু বিবাহবিচ্ছেদ নির্দিষ্ট শর্তে ওই দেশটিতে স্বীকৃতি পেতে পারে। তবে এককথায় একবার বিয়ের পর বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রথম সম্পর্ক থেকে আইনগতভাবে বের হয়ে নতুন করে বিয়ে করে সম্পর্কে থিতু হওয়া প্রায় অসম্ভব।
অনেকেই তাই দেশ পরিবর্তন করে নতুন দেশে থিতু হয়ে সেখানকার আইনে পছন্দের মানুষকে বিয়ে করে আবার সংসার শুরু করেন। তবে সেই সুযোগ খুব কম মানুষই পায়।
ভ্যাটিকান সিটি
এখানে বিয়ে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। ভ্যাটিকান সিটিতে ক্যাথলিক চার্চের ধর্মীয় আইন অনুযায়ী, বৈধ ও পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন বিয়েকে সাধারণভাবে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে সেখানে প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই।
তবে নির্দিষ্ট শর্তে কোনো বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করার সুযোগ আছে। এর মানে, বিয়েটি শুরু থেকেই ধর্মীয় আইনের শর্ত পূরণ করেছিল কি না, তা যাচাই করা। সম্পর্ক ভেঙে গেছে বলেই বিয়ে অবৈধ হয়ে যায় না।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকতে পারেন। কিন্তু আলাদা থাকা মানেই বৈবাহিক বন্ধনের অবসান নয়। ফলে দ্বিতীয় বিয়ে করার সুযোগ নেই বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে সেই দেশের আইনে প্রথম বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করে তারপর আইনগতভাবে দ্বিতীয় বিয়ের দিকে আগানো যেতে পারে। যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও জটিল।
ছবি : সংগৃহীত
শরীরের বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে বের করতে কিডনি প্রতিনিয়ত কাজ করে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় তা বোঝা যায় না। ফলে বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও কিডনির ভেতরে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. চৈত্রালি গাওড়ে জানিয়েছেন, কিডনির রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা কঠিন। কারণ, অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই তখন স্পষ্ট কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে সাধারণ কিছু রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে উপসর্গ দেখা দেয়ার আগেই কিডনির কার্যক্ষমতার পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
কিডনির সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ কী
কিডনির সমস্যা হলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ সব সময় সরাসরি কিডনির রোগের ইঙ্গিত দেয় না। তাই লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ। কিডনির সমস্যার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
> চোখের চারপাশে বা গোড়ালিতে ফোলাভাব।
> প্রস্রাবের পরিমাণ বা প্রস্রাব করার ঘনত্বে পরিবর্তন।
> প্রস্রাবে ফেনা দেখা যাওয়া।
> প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
> দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি।
> বমি বমি ভাব কিংবা ক্ষুধা কমে যাওয়া।
> কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই শরীরে চুলকানি।
> রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।
চিকিৎসক চৈত্রালি গাওড়ের মতে, প্রস্রাবের পরিমাণ, ধরন বা বৈশিষ্ট্যে কোনো পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে কিডনির সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ক্ষতি করতে পারে। আবার কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, এই দুই সমস্যার সম্পর্ক পরস্পরনির্ভর।
কিডনি ভালো আছে কি না বুঝতে ৩টি পরীক্ষা
কিডনির স্বাস্থ্য মূল্যায়নে সাধারণত রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা এবং রক্তচাপ পরিমাপ করা হয়। প্রতিটি পরীক্ষাই কিডনির অবস্থা সম্পর্কে আলাদা ধরনের তথ্য দেয়।
১. রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা
কিডনির কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায় হলো রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা পরীক্ষা করা। ক্রিয়েটিনিন শরীরের একটি বর্জ্য পদার্থ, যা সাধারণত কিডনি রক্ত থেকে ছেঁকে বের করে দেয়। রক্তে এই পদার্থের মাত্রা পরিমাপ করে ইজিএফআর বা এস্টিমেটেড গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট নির্ণয় করা হয়। এর মাধ্যমে কিডনি কতটা কার্যকরভাবে রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করছে, তার একটি আনুমানিক ধারণা পাওয়া যায়।
চিকিৎসক চৈত্রালি গাওড়ে জানান, সিরাম ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর কিডনির কার্যক্ষমতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে শুধু একটি পরীক্ষার ফল দেখেই কিডনির অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। কারণ, বয়স, পেশির পরিমাণ এবং শরীরে পানির ভারসাম্যের মতো বিষয় পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই ফল অস্বাভাবিক হলে চিকিৎসক প্রয়োজনে আবার পরীক্ষা করতে দিতে পারেন অথবা অন্যান্য শারীরিক তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে তা মূল্যায়ন করতে পারেন।
২. প্রস্রাবে অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন রেশিও
কিডনির সমস্যা শনাক্ত করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো প্রস্রাবে অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন রেশিও বা ইউএসিআর।
অ্যালবুমিন এক ধরনের প্রোটিন। সাধারণত কিডনি রক্ত ছেঁকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়ার সময় প্রয়োজনীয় প্রোটিন শরীরে ধরে রাখে। কিন্তু কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অ্যালবুমিন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে। ইউএসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের উপস্থিতি যাচাই করা হয়। কিডনির ছাঁকনক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আগেও এই পরীক্ষায় কিডনির ক্ষতির প্রাথমিক সংকেত পাওয়া যেতে পারে।
চিকিৎসক গাওড়ের মতে, প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের উপস্থিতি শনাক্ত করার জন্য এই পরীক্ষা সাধারণত ব্যবহার করা হয়। কিডনির কার্যক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দৃশ্যমান হওয়ার আগেই এটি কিছু অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
৩. রক্তচাপ পরীক্ষা
কিডনির স্বাস্থ্য মূল্যায়নে রক্তচাপ মাপাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উচ্চ রক্তচাপ যেমন কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তেমনি কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তাই কিডনির অবস্থা মূল্যায়নের সময় রক্তচাপ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। শুধু রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেই কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। আবার রক্তচাপ বেশি হলেই যে কিডনির রোগ হয়েছে, তাও নয়। অন্যান্য পরীক্ষার ফল ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হয়।
কত দিন পরপর কিডনি পরীক্ষা করাবেন
যাদের কিডনির রোগের পরিচিত কোনো ঝুঁকি নেই, তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে কিডনির কার্যক্ষমতা যাচাই করতে পারেন। তবে কত ঘন ঘন পরীক্ষা করাতে হবে, তা বয়স ও ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, কিছু মানুষের নিয়মিত বিরতিতে কিডনি পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হতে পারে। যেমন—
> ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি।
> উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এমন ব্যক্তি।
> স্থূলতায় আক্রান্ত ব্যক্তি।
> পরিবারে কিডনির রোগের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তি।
> হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।
> নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ব্যবহার করেন এমন ব্যক্তি।
> এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা উচিত।
কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তাই নিজেকে সুস্থ মনে হওয়া মানেই কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে, এমন নয়। ডা. চৈত্রালি গাওড়ের মতে, রক্ত ও প্রস্রাবের সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে কখনো কখনো উপসর্গ দেখা দেয়ার আগেই কিডনির কার্যক্ষমতার পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব।
ছবি : সংগৃহীত
মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা বা যেকোনো সাময়িক অস্বস্তিতে দ্রুত উপশমের জন্য অনেকে নিজেই ফার্মেসি থেকে পেইনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে সেবন করেন। প্রাথমিক অবস্থায় এতে কষ্ট কমলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন এসব ওষুধ সেবনের ফলে অলক্ষ্যে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে—বিশেষ করে তা কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে।
চলুন, জেনে নিই আরো যেসব ক্ষতি হতে পারে শরীরের।
পেটের সমস্যা ও হজমে গোলযোগ
ঘন ঘন পেইনকিলার খেলে পেটের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। এর ফলে খাবার হজম হতে চায় না এবং বদহজম, গ্যাস ও পেটে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়।
স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই কিডনির ক্ষতি
পেইনকিলারের অন্যতম বিপজ্জনক দিক হলো—এটি কোনো আগাম স্পষ্ট সতর্কবার্তা ছাড়াই কিডনির ক্ষতি করতে পারে। কিডনির একটা বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো শারীরিক লক্ষণ স্পষ্ট হয় না। ফলে অনেকে পুরোপুরি সুস্থ বোধ করলেও সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন। ততক্ষণে অনেক সময় কিডনির ক্ষতি আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না।
কী পরিমাণ ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ
এক বা দুই দিন সাময়িক পেইনকিলার খেলে সাধারণ সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে একাধিকবার এটি খেলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত বয়সে, ডায়াবেটিস বা আগে থেকেই কিডনির সমস্যা থাকলে অল্প পেইনকিলারেও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
অহেতুক অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব
অনেকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর, ঠাণ্ডা লাগা বা ভাইরাসজনিত শ্বাসকষ্টেও অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকেন। অথচ অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের ওপর কোনো কাজ করে না।
বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া : অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সরাসরি কিডনির কোষের ক্ষতি করতে পারে কিংবা কিডনিতে প্রদাহ তৈরি করতে পারে।
নিয়ম না মানা : চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত না খেলে অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্সের পাশাপাশি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।
কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
কিছু নির্দিষ্ট মানুষের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি থাকে:
> আগে থেকেই কিডনি রোগ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি,
> বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও গর্ভবতী নারী,
> দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতায় ভোগা মানুষ,
> হার্ট ফেলিউর বা লিভারের রোগে আক্রান্ত রোগী।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
যেকোনো ব্যথায় ওষুধ খেয়ে তাৎক্ষণিক কষ্ট চেপে না রেখে ব্যথার মূল কারণ নির্ণয় করা জরুরি। নিয়মিত পেইনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন মনে হলে নিজ থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ছবি : সংগৃহীত
সকালের সূর্য যেমন দিনের ছন্দ নির্ধারণ করে, তেমনি দিনের শুরুতে সঠিক খাবার ও পানীয় গ্রহণ সুস্থ থাকতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পানীয় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সামান্য সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো পানীয়ই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের বিকল্প নয়।
এমনই পাঁচটি পানীয়ের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে আজকের এ স্বাস্থ্যকথা।
লেবু মিশ্রিত পানি
সকালে এক গ্লাস লেবু মিশ্রিত পানি পান করলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা পাওয়া যায়। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ রক্তচাপ সামান্য কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু লেবু মিশ্রিত পানি পান করলে উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। বাড়তি চিনি বা লবণ না মিশিয়ে এ পানীয় পান করাই ভালো।
বিটরুটের রস
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাবনাময় পানীয়গুলোর মধ্যে বিটরুটের রস অন্যতম। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক নাইট্রেট, যা শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সহায়তা করে। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালিকে শিথিল করতে এবং রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।
কিছু গবেষণায় বিটরুটের রস পান করার পর রক্তচাপ কমার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এর প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। সকালে পরিমিত পরিমাণে তাজা বিটরুটের রস পান করা যেতে পারে। এতে অতিরিক্ত লবণ বা চিনি মেশানো উচিত নয়।
নারকেল পানি
নারকেল পানিতে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের প্রভাবের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নারকেল পানি শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করে।
তবে নারকেল পানি খেলেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্যাকেটজাত নারকেল পানি কেনার আগে উপাদান তালিকায় বাড়তি চিনি ও সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে নেওয়া উচিত। যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে কিংবা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত বেশি পরিমাণে নারকেল পানি পান করা উচিত নয়।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে পলিফেনলসহ বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। এসব উপাদান রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদে গ্রিন টি পান করার সঙ্গে রক্তচাপ সামান্য কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তবে গ্রিন টিতে ক্যাফেইনও থাকে। ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই গ্রিন টি পান করার পর অস্বস্তি বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হলে পরিমাণ কমানো উচিত। বাড়তি চিনি ছাড়া গ্রিন টি পান করাই ভালো।
আমলকি মিশ্রিত পানি
আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি, পলিফেনল ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আমলকি মিশ্রিত পানি পান করলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায় কিংবা সরাসরি উচ্চ রক্তচাপ কমে-এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
সকালে এক গ্লাস পানিতে পরিমিত পরিমাণে আমলকির রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা লবণ যোগ করা এড়িয়ে চলা উচিত। আমলকি খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলমূল ও শাকসবজি রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
পানীয়ের পাশাপাশি যা জরুরি
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে শুধু সকালে একটি নির্দিষ্ট পানীয় পান করার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। এ জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কমানো। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তচাপ মাপা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা জরুরি।
মনে রাখতে হবে, কোনো ঘরোয়া পানীয়ই উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার বিকল্প নয়। রক্তচাপ দীর্ঘদিন বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে এসব পানীয় বেছে নেওয়া যেতে পারে, তবে সবার ক্ষেত্রে এগুলোর প্রভাব এক রকম নাও হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
কিডনি আমাদের শরীরের বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু কিডনির সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই শরীরের কিছু পরিবর্তন অবহেলা করা উচিত নয়।
১. প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন
প্রস্রাবের পরিমাণ, রং বা ঘনত্বে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
কিডনি শরীরের অতিরিক্ত তরল ঠিকমতো বের করতে না পারলে পা, গোড়ালি বা শরীরের অন্যান্য অংশ ফুলে যেতে পারে।
৩. চোখের চারপাশ ফুলে থাকা
বিশেষ করে সকালে চোখের চারপাশে ফোলাভাব দেখা দিলে এবং তা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তশূন্যতা বা শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমার কারণে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
৫. প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া
বারবার প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা গেলে প্রস্রাবে প্রোটিন যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে ফেনা হলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়।
৬. রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া
রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন কিডনি রোগের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, প্রোস্টেটের সমস্যা ও অন্যান্য কারণেও এটি হতে পারে।
কখন সতর্ক হবেন?
এই লক্ষণগুলো নিয়মিত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে রক্তের ক্রিয়েটিনিন ও eGFR পরীক্ষা এবং প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করে কিডনির অবস্থা মূল্যায়ন করা যায়।
মনে রাখবেন: কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনো লক্ষণই থাকে না। তাই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
ছবি : সংগৃহীত
রোদ থেকে ত্বক বাঁচাতে অনেকেই সানস্ক্রিনের ওপর ভরসা করেন। সানস্ক্রিন না মেখে বেরোলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিতে ত্বকের ক্ষতি হয়। খুব তাড়াতাড়ি ত্বক পুড়ে কালচে দাগ যায়। এ কারণে ‘সানবার্ন’বা রোদে পোড়া থেকে বাঁচতেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয়। তবে সানস্ক্রিনে থাকা রাসায়নিক ত্বকের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
‘আনন্দবাজারের’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানস্ক্রিনে থাকা 'অক্সিবেনজ়োন' ত্বকের অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। অনেক সময়ে সানস্ক্রিন মাখলেই মুখে বা চোখে জ্বালা করে অনেকের। রোদ থেকে বাঁচাতে সানস্ক্রিনে এমন এক রাসায়নিক মেশানো হয়, যা দীর্ঘ সময় ত্বকের সংস্পর্শে এলে নানারকম চর্মরোগের কারণ হতে পারে। এ কারণে বাজারচলতি সানস্ক্রিন নয়, ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন রোদ থেকে বাঁচার ক্রিম।
শিয়া বাটার ও কোকো বাটার
উপকরণ:২ চামচ শিয়া বাটার, ১ চামচ কোকো বাটার, ১ চামচ ভিটামিন-ই তেল,১ চামচ রাস্পবেরি বীজের তেল
প্রণালী:
শিয়া বাটার ও কোকো বাটার একসঙ্গে মিশিয়ে হালকা আঁচে গলিয়ে নিন। একটু ঠান্ডা হলে এই মিশ্রণে ভিটামিন-ই তেল মিশিয়ে দিন। এর পরে মেশান রাস্পবেরি বীজের তেল। মিশ্রণটি ফ্রিজে রেখে জমাট বাঁধতে দিন। এটি খুব ভাল ময়েশ্চারাইজ়িং সানস্ক্রিনের কাজ করে।
তিলের তেল ও গ্লিসারিনের সানস্ক্রিন
উপকরণ: ৩ চামচ তিলের তেল, ১ চামচ গ্লিসারিন, আধ কাপ পানি
প্রণালী:
সব কয়টি উপাদান একটি স্প্রে বোতলে মিশিয়ে ভালভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। রোদে বেরোনোর আগে শিশুর মুখে, হাত-পায়ে স্প্রে করে হালকা হাতে মালিশ করে দিন। এটি মাখা থাকলে রোদে পুড়ে ত্বকে কালচে দাগ হবে না।
চোখের জন্য উপকারী পানীয়
চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পুষ্টিকর খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চোখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কয়েক ধরনের পানীয় রাখতে পারেন। যেমন-
গাজরের রস
গাজরের রসে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন এবং ভিটামিন এ থাকে। এই উপাদানগুলো চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে ভালো কাজ করে।
পালং শাকের রস
নিয়মিত পালং শাকের জুস খেলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বা বয়সজনিত দৃষ্টিশক্তি কমার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
সাইট্রাস ফলের রস
লেবু বা কমলালেবুর মতো সাইট্রাস ফলের রসে ভিটামিন সি থাকে। এটি চোখের রক্তনালী সুস্থ রাখে। সেই সঙ্গে ছানি পড়ার ঝুঁকি কমায়।
বিটরুটের রস
বিটরুটের রসে থাকা নাইট্রেট এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের অপটিক নার্ভে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে।
গ্রিন টি
গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাটেচিন উপাদান চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে খুবই উপকারী।
ডাবের পানি
ডাবের পানিতে শরীরের প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট ও পানির ভারসাম্য বজায় থাকে। নিয়মিত এই পানি খেলে চোখে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি থাকে। সেই সঙ্গে চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাও কমে যায়। সূত্র: এশিয়ানেটনিউজ