সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৮:০৭ এএম

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি দিলেও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। আলাদা দুটি বিল পাসের মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়।


আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে এ দুটি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল হয়।


আর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়।


ফলে আপাতত সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের জন্য আলাদা কোনো আইন থাকছে না। সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার আইনগত ভিত্তিও থাকছে না। বিচারক নিয়োগ ও বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম আগের কাঠামোয় ফিরে যাচ্ছে।


সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি হল যেভাবে


বাংলাদেশে স্বাধীন বিচার বিভাগের দাবি কয়েক যুগ ধরে বিভিন্ন মহল থেকে করা হচ্ছিল। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও সভা-সমাবেশের মধ্যে ১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন ও তার সহকর্মীরা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে মুক্ত করার দাবিতে মামলা করেন।


সেই মামলায় ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত রায় দেয়। সেই রায়ের ২৬ বছর পর বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় করার পদক্ষেপ গত বছর ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সররকারের অনুমোদন পায়। 


তার ১০ দিনের মাথায় ৩০ নভেম্বর 'সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫' জারি হয়।


এ অধ্যাদেশ পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত বিষয়, ছুটির পাশাপাশি নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগের সব কিছু সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় করবে।


অধ্যাদেশ অনুযায়ী ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক ভবন-৪ এ সচিবালয় উদ্বোধন করেন তখনকার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।


‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ’


সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তখন আপত্তি জানান বিরোধী সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান।


পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এই সদস্য বলেন, “বিলটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন।” তার ভাষায়, “ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধী মত দমনের আয়োজন চলছে।”


আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে নাজিবুর রহমান বলেন, বিচার বিভাগ এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় কিছু বিচারককে শোকজও করা হয়েছে।


তিনি বলেন, আগে মন্ত্রণালয়ের কথা না শুনলে বিচারকদের দূরবর্তী জেলায় বদলি করা হতো, এখন সেই পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে।


জামায়াতের এ সদস্য বলেন, হাইকোর্টের একটি রায়ের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।


তার ভাষায়, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে আনা পরিবর্তন অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছে এবং মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত’ হয়েছে। সে অনুযায়ী বিচারিক কার্যসম্পাদনকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়েছে।


নাজিবুর রহমান বলেন, “সে রায় বাস্তবায়িত হয়ে গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে। সেখানে রায়টি স্থগিত হওয়া কিংবা বাতিল হওয়া ছাড়া এটিকে বিলুপ্ত করা, সেই সচিবালয়কে বিলুপ্ত করার জন্য বিল আনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং আদালত অবমাননার শামিল।”


এই সদস্য বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোরও প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “রহিতকরণ বিলটি অসাংবিধানিক। এটা কোনোভাবেই পাস করা যাবে না।”


নাজিবুর রহমান বলেন, সংসদ সার্বভৌম বলে আদালতের রায় না মানার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তা জনমত বিভ্রান্ত করছে।


তিনি একটি বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের কেউই সার্বভৌম নয়; সংবিধানের সীমার মধ্যেই তাদের কাজ করতে হয়। তার ভাষায়, কোনো আইন সংবিধানবিরোধী হলে আদালত সেটি বাতিল করতে পারে।


বিরোধী দলের এ সদস্য বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে বিএনপি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেয়নি। সে অবস্থায় এখন রহিতকরণ বিল আনা জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণার’ শামিল।


জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইন অসাংবিধানিক কি না, তা বলতে পারে; কিন্তু সংসদকে কোনো আইন করতে ‘ডিক্টেট’ করতে পারে না।


মাসদার হোসেন মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আদালত আইন নিয়ে মত দিতে পারে, কিন্তু আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের।


আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায় এবং তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


জামায়াতের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আমরা চাই। ওনাদের পিতারা বিচার বিভাগের কাছে অবিচারের শিকার হয়েছিলেন। সেই স্বাধীনতা যেমন অ্যাবিউজড হয়েছে, যারা সে বিচার করেছিলেন তারা সবচেয়ে স্বাধীন বিচারক ছিলেন।”


তিনি বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে বিচারকদের চাকরি, বদলি, পদায়ন ও শৃঙ্খলাবিষয়ক সুরক্ষা সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত। তবে তার ভাষায়, সেই সুপ্রিম কোর্ট থেকেই ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ এর জন্ম হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচারের অভিযোগও উঠেছে।


খালেদা জিয়ার সাজার প্রসঙ্গ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, “সে সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী, গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী, বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছর থেকে ১০ বছর জেল দিয়েছিলেন।”


রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে বিচারকাজ চালানোর অভিযোগও তোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট একজন বিচারকের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেয়নি।


বিচারকদের শোকজের ব্যাখ্যা


বিচারকদের শোকজ দেওয়ার অভিযোগের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আচরণবিধি অনুযায়ী বিচারক থাকা অবস্থায় কেউ কোচিং সেন্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না।


তার ভাষায়, কেউ কেউ ক্লাস নেওয়ার বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন, কেউ কেউ ফেইসবুকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে হাজির হচ্ছেন। সে কারণেই তাদের বিষয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে।


মন্ত্রী বলেন, সরকার সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের মতো প্রশ্নে আরও আলোচনা ও যাচাই-বাছাই দরকার। পরে কণ্ঠভোটে নাজিবুর রহমানের আপত্তি নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়।


বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলেও আপত্তি


পরে আইনমন্ত্রী ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাসের জন্য প্রস্তাব করেন। এতে আপত্তি দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সদস্য আখতার হোসেন।


রংপুর-৪ আসনের এই সদস্য বলেন, অতীতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই প্রবল ছিল যে, তাতে ‘দলীয় আনুগত্যসম্পন্ন ও বিতর্কিত’ ব্যক্তিরাও বিচারপতির পদে যেতে পেরেছেন।


আইনমন্ত্রীর আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিচারপতিরা সাংবিধানিক সুরক্ষা পেয়েও কীভাবে ‘রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে’ বিচারকার্য চালিয়েছেন, কীভাবে বেগম খালেদা জিয়ার সাজার বাড়ানো হয়েছে এবং কীভাবে বিচারব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে, সেটাই প্রমাণ করে নিয়োগ-প্রক্রিয়ার গোড়াতেই সমস্যা ছিল।


আখতার হোসেন বলেন, “এই যে শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ তৈরি হল, খায়রুল হকের মতো বিচারপতি তৈরি হল, মানিকচোরা শব্দটা এখানকার জন্যে অশোভনীয় হতে পারে, কিন্তু বাইরে এই শব্দটা এভাবেই চলছে।”


তার ভাষায়, বিচারক নিয়োগের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির নিয়োগক্ষমতা কার্যত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শনির্ভর হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই শেখ হাসিনার আমলে ‘মানিক চোরার মতো ব্যক্তিরা’ বিচারপতি হতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।


বিচারক নিয়োগের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো বোঝাতে তিনি ঘুড়ির নাটাইয়ের উদাহরণ টানেন।


তার ভাষায়, “কোনো একটা ঘুড়িকে আপনি আকাশে উড়িয়ে দিয়েছেন, সেই ঘুড়ির নাটাই যদি আপনার হাতে থাকে, ঘুড়িকে আপনি যতই উড়ার স্বাধীনতা দেন না কেন, আকাশের মধ্যে সেই ঘুড়ি সেখানেই পাক খাবে, আপনি যখন টান দেবেন, তখন আপনার কাছেই ফিরে আসবে।”


আখতার হোসেন সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ ও ৪৮ অনুচ্ছেদে প্রধান বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার বিষয়ে কি বলা হয়েছে, তা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, এই কাঠামোর কারণেই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত নিয়োগ সম্ভব হয়েছে।


এনসিপির এ সদস্য বলেন, “সেই ধরনের একটা পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনের দিনে চলুক, এটা তো আমরা কেউই চাই না।”


আখতার হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আনা অধ্যাদেশে বিচারপতি নিয়োগের জন্য একটি ‘জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছিল।


তার মতে, ওই অধ্যাদেশে বয়স, অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চারিত্রিক গুণাবলী ও প্রকাশনার মতো যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা অতীতে ছিল না।


আখতার হোসেন বলেন, অধ্যাদেশটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণার জন্য রিট হয়েছিল, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দিয়েছিল। তার ভাষায়, “সেই অধ্যাদেশের মধ্যে কোনো অসাংবিধানিকতা নাই।”


আখতারের বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তাত্ত্বিকভাবে তিনি বিরোধী সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে একমত যে অতীতে বিচারপতি নিয়োগে ভয়াবহ সমস্যা ছিল।


তিনি বলেন, “বিশেষ করে গত ১৭ বছরের মধ্যে ফ্যাসিস্ট আমলে পার্টি ক্যাডারদেরকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে নিয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করা হয়েছে, যে নিয়োগের মাধ্যমে খায়রুল হকের জন্ম হয়েছে।”


মন্ত্রী বলেন, সরকারও চায় বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হোক, ভালো বিচারপতি নিয়োগ হোক, সুপ্রিম কোর্ট মানুষের ন্যায়বিচারের আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক।


তবে তার ভাষায়, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি আগে যে অবস্থান নিয়েছিলেন, তা ছিল তৎকালীন সরকারের পক্ষে আইনি অবস্থান তুলে ধরা। এখন তিনি এই সরকারের মন্ত্রী, আর সরকারের নীতি হল-বিচার বিভাগে নিয়োগে ‘সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ নিশ্চিত করা।


আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি বিচারক নিয়োগের বিষয়টি সংবিধানে নয়, আইনে করার কথা বলেছে। সেই অবস্থান থেকেই সরকার বৃহত্তর সাংবিধানিক সংস্কারের পথে যেতে চায়।


তার ভাষায়, “আমরা বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করব। আমরা সংবিধান সংশোধনের যে বিশেষ কমিটি করতে চাচ্ছি, আমরা সেই কমিটির কাছে ফিরে যাই।”


তিনি বলেন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা, মানদণ্ড, কাঠামো ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সব প্রশ্নই সেই আলোচনায় আসতে পারে।


মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক। আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো খায়রুল হক গজায় উঠুক। আমরা চাই না আর কোনো বিচার বিভাগীয় কিলিং হোক।”


পরে কণ্ঠভোটে আখতার হোসেনের আপত্তি নাকচ হয়ে যায়। বিলটিও পাস হয়।


বিল পাসের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, আলোচনার সময় একজন বিচারপতির নামের শেষে একটি বিশেষণ যুক্ত করা হয়েছিল, সেটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৭ পিএম

২০২৪ সালের জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পলাতক সাত আসামির মধ্যে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান ছাড়া অন্যদের অর্ধেক সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।পাশাপাশি তাদের সম্পদ জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণার সময় এই আদেশ দেন। 


মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এই মামলার সব আসামি পলাতক রয়েছেন। 


বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।


মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‌‘আমাদের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করার বিধান আছে। এবারই প্রথম ট্রাইব্যুনাল তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করেছে। সেই ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বিলি বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’


রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং মনে করি, এটি একটি প্রত্যাশিত রায় হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘আজকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই শহীদ ও আহতদের প্রতি আজ ন্যায়বিচার করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

 

সর্বশেষ সব খবর

ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৩ পিএম

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 


বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।


মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই মামলার সব আসামি পলাতক রয়েছেন। 


আগের দিন সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।


এ বছরের জানুয়ারিতে শীর্ষস্থানীয় এই সাত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের অব্যাহতি আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করেন। একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। ওই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। 


গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানিতে তারা আসামিদের ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরেন এবং ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পড়ে শোনান।


অন্যদিকে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান শুনানি করেন। শুনানিতে তারা দাবি করেন, তাদের মক্কেলদের সঙ্গে এসব অভিযোগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যথাযথ তথ্যপ্রমাণ না থাকায় তারা আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগ গঠন না করার আবেদন জানান। 


এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। পরোয়ানা জারির পর গত ২৯ ডিসেম্বর আসামিদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে আনার কথা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কোনো ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ পিএম

জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় সাত নেতার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে মঙ্গলবার। 


বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ আজ সোমবার এই তারিখ ঠিক করেন। ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। 


আজ রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়েছিল। 


মামলার অপর আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই মামলার সব আসামি পলাতক রয়েছেন। 

সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৩ পিএম

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে ৯ হাজার ১৩৯টি। ফলে এ সময়ে দায়েরকৃত মামলার তুলনায় ১ হাজার ৯৯৭টি মামলা বেশি নিষ্পত্তি হয়েছে। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 


এতে বলা হয়, মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে মোট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে যথাক্রমে ৬ হাজার ৮৫৯টি, ৫ হাজার ৪০৬টি, ৫ হাজার ৩৪৯টি, ৫ হাজার ৩১২টি ও ৭ হাজার ৫৫৩টি। অর্থাৎ এ পাঁচ বছরে গড়ে বছরে প্রায় ৬ হাজার ৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর বিপরীতে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে মামলা দায়েরের পরিসংখ্যানেও উল্লেযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আপিল বিভাগে নতুন মামলা দায়ের হয়েছিল যথাক্রমে ৭ হাজার ৮০৬টি, ২৯ হাজার ১৬২টি, ১১ হাজার ৯৩৮টি, ২৯ হাজার ৯১৫টি এবং ১৭ হাজার ৯৮৪টি। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে ৯ হাজার ১৩৯টি।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির ধারাবাহিকতা স্পষ্ট। জানুয়ারি মাসে ২০ কর্মদিবসে ২ হাজার ৭০৫টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৮ কর্মদিবসে ২ হাজার ৭২৪টি, মার্চ মাসে ১০ কর্মদিবসে ১ হাজার ১০৭টি এবং এপ্রিল মাসে ১ হাজার ৩২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া মে মাসে ১৫ কর্মদিবসে ৬৩৮টি, জুন মাসে ১৮ কর্মদিবসে ১ হাজার ৩২১টি, জুলাই মাসে ২২ কর্মদিবসে ৬৮৭টি এবং আগস্ট মাসে ১৯ কর্মদিবসে ৬৩৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। উল্লিখিত আট মাসে আপিল বিভাগে মোট ১৩২ কর্মদিবসে ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। 


পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৫৫১টি। প্রথম আট মাসে দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তি বেশি হওয়ায় ৩১ আগস্ট শেষে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৫৫৪টিতে।  


হাইকোর্ট বিভাগে ৮ মাসে নিষ্পত্তি ৮৭ হাজারের বেশি


সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) মোট ৮৭ হাজার ৫৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ৯৫০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে যা চলতি বছরে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচারপ্রাপ্তি ও মামলা জট নিরসনে উল্লেখযোগ্য গতিশীলতার প্রতিফলন। 


পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৩৯টি, ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৫৬০টি, শুধু জুলাই মাসে ৩২ হাজার ২১১টি এবং শুধু আগস্ট মাসে ২০ হাজার ৮৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টার থেকে মামলা নিষ্পত্তির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে মামলা দায়ের হয়েছে যথাক্রমে ২২ হাজার ৯৯৯টি, ২৭ হাজার ৮০৩টি, ১০ হাজার ২৩২টি এবং ১৩ হাজার ৫৭৩টি। 


মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে ২০২১ সালে ২৩ হাজার ৬৫৪টি, ২০২২ সালে ৮৭ হাজার ৪৭৪টি, ২০২৩ সালে ৭৪ হাজার ২৭৮টি, ২০২৪ সালে ৩৮ হাজার ২৯৭টি এবং ২০২৫ সালে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছিল। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসের (জানুয়ারি-আগস্ট) নিষ্পত্তি করা মামলার সংখ্যা বিগত পাঁচ বছরের যেকোনো পূর্ণ বছরের নিষ্পত্তি করা মামলার তুলনায় বেশি। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের পুরো বছরে নিষ্পত্তি হওয়া ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলার তুলনায় এ সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার ৮৪০টি বেশি। 


পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৬টি। প্রথম আট মাসে দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তি বেশি হওয়ায় ৩১ আগস্ট শেষে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৭৬ টিতে। অর্থাৎ বছরের প্রথম আট মাসে বিচারাধীন মামলা কমেছে ১২ হাজার ৯৮০টি। 


ডেথ রেফারেন্স মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চ


হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) সংক্রান্ত বেঞ্চের পাশাপাশি নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং সংশ্লিষ্ট আপীলগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্ট বিভাগে একটি বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। 


চলতি বছরের জুন মাসে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পর এ পর্যন্ত ২২টি ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন গুরুতর ফৌজদারি মামলাগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৪ পিএম

আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের হরতাল বা ধর্মঘট কর্মসূচি ডাকাকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ধরনের কোন ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


এ সংক্রান্ত আগের জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রায় দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জৈষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসদ। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল ও অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ। 


রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব, বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসিবুল হক ও বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. রাফিউল ইসলাম।


২০১১ সালের আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি গাড়ির আরোহী তারেক মাসুদ মিশুক মনির সহ পাঁচজন নিহত হয়। ওই নিহতের ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ড্রাইভারকে সাজা দেন।


ওই সাজার প্রেক্ষিতে বাস মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে  প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট করে। 


ওই রিট শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১ মার্চ রুল জারি করে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চান ।


আজ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে শুনানি শেষে আজ রুল মঞ্জুর করে রায় দেন এবং স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআরটিএ, বিআরটিসিকে  নির্দেশনা দেন যে আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে আইনগত ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি আইনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। 


আদালত রায়ে বলেন, সংবিধানের ১১২ অনুসারে আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৮ পিএম

আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট যথাযথভাবে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়া সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।


গত ৭ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাসিন্দা মো. আল আমিন এ রিট দায়ের করেন। রিটের পক্ষে আইনজীবী ইউনূস আলী।


রিট আবেদনে ২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়। রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ১২ মের প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়।


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গত বছরের ১২ মে ওই প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।

সর্বশেষ সব খবর