একটি প্রতারণার মামলায় ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন দুই নারী। আদালত জামিন না দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর দুদিন পর বাদী পক্ষে দাবি করা হয়েছে ওই দুই নারী আসামির একজনের বদলে তার ছোট বোন কারাগারে গেছেন। আদালত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় আসামি পক্ষের আইনজীবী নি:শর্ত ক্ষমা চেয়ে এ মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেছেন।
আসামি বড় বোনের পক্ষে ছোট বোনের আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাওয়ার এ ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার। তবে বৃহস্পতিবার এ আসামির রিমান্ড শুনানিকালে বাদী পক্ষে দাবি করা হয়, কাঠগড়ায় উপস্থিত নারী আসল আসামি নন। তিনি অন্য কেউ। বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
এটি জানাজানি হয় রোববার; যখন এ মামলার চার আসামির আইনজীবী রাজু আহম্মেদ রাজিব ‘আয়নাবাজি’ কাণ্ডের পর এ মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে আদালতে আবেদন করেন।
আইনজীবী, তদন্ত কর্মকর্তা ও আদালত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ‘বড় বোনের বদলে ছোট বোনের’ আত্মসমর্পণ ও কারাগারে যাওয়ার ‘আয়নাবাজির’ মত এ ঘটনা জানা গেছে।
আদালত সংশ্লিষ্টরা বলেন, শারমিন আক্তার একা ও লাইলী শাহনাজ খুশি নামে এ দুই আসামি মঙ্গলবার উত্তরা পূর্ব থানার প্রতারণার ওই মামলায় আত্মসমর্পণ করেন। সেদিন তাদের কারাগারে পাঠান বিচারক।
পরে একাকে জিজ্ঞাসাবাদে ১০ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে শুনানি শুরু হয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে।
শুনানিকালে একাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার বাদী আজিজুল আলমের বন্ধু বাদল আহম্মেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কাঠগড়ায় দাঁড়ানো নারী মামলার আসামি একা নন বলে শুনানিকালে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে জানান বাদল। এসময় বোরকা ও নেকাপ পরিহিত ছিলেন ওই আসামি।
এমন তথ্যে আদালত ওই নারীকে মুখ দেখাতে বলেন। তখন আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না কাঠগড়ায় দাঁড়ানো নারীর।
পরে ব্চিারক এই নারী আসামি শারমিন আক্তার একা কিনা তা যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী আজিজুল আলম বলেন, “আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত আমি যাকে আসামি করেছি সেই একা ইনি নন। এটা তার ছোট বোন। তবে নাম জানি না। আদালতের সাথে প্রতারণা করেছে। একা না হয়ে একা সেজে কারাগারে রয়েছে।"
তার বন্ধু বাদল আহম্মেদ বলেন, "সেদিন আমি আদালতে উপস্থিত ছিলাম। ওই আসামি মুখে পর্দা দিয়ে রেখেছিল। বডির স্ট্রাকচার দেখে বুঝি সে একা না। আদালতকে জানাই। আদালত জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের সাথে আসামির চেহারার মিল পাননি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।"
মামলার চার আসামি শারমিন আক্তার একা, লাইলী শাহনাজ খুশি, এ আর রাসেল ও আব্বাসের পক্ষে মামলা পরিচালনা করতেন আইনজীবী রাজু আহম্মেদ রাজিব।
এ ঘটনার পর ক্ষমা চেয়ে রোববার আদালতে করা আবেদন তিনি বলেন, “আত্মসমর্পণ করার সময় একা ও খুশি বোরকা ও নেকাপ পরিহিত থাকায় আইনজীবী হিসেবে আসামিদের নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসাবাদ করে সরল বিশ্বাসে আদালতে হাজির করাই। এর আগে আসামিদের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না। ব্যক্তিগতভাবে তাদের বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিলাম না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, বাদী ও বাদীপক্ষের আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করে পরে উপলব্ধি করতে পারি, আসামিরা আমাকে প্রতারিত করেছে।"
আদালত তার আবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আতিকুর রহমান। সোমবার একার রিমান্ড বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজু আহম্মেদ রাজিব বলেন, “এই আসামি যে একা না ঠিক পাইনি। এখন এর বেশি কিছু বলছি না।"
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “আয়নাবাজির মত ঘটনা ঘটেছে। আসামি একার হয়ে একজন প্রক্সি দিয়েছিল। বাদীপক্ষ বিষয়টি আদালতকে জানায়। আদালত বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলেছেন।"
তিনি বলেন, “ওরা একটা চক্র। ওদের কাজই হলো আয়নাবাজির মত ঘটনা ঘটানো, এমন কাজ করা।”
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার এসআই মাহবুবুল আলম বলেন, "একজনের হয়ে আরেকজন কারাগারে গেছে। বিষয়টা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ওই আসামি কারাগারে আছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব কিছু জানা যাবে। তারপর আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেব।"
মামলার পূর্বাপর
প্রাচীন পিলারের ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে, ‘কুফরি-কালাম, শয়তানের নি:শ্বাসের’ মাধ্যমে এক ব্যবসায়ী ও প্রবাসীর কাছ থেকে ‘প্রতারণামূলকভাবে’ ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে একটি চক্রের বিরুদ্ধে এ মামলা চলছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভয়-ভীতি দেখিয়ে চক্রটি ১৪-১৬ কোটি টাকার জমিও লিখে নিয়েছে। এ ঘটনায় আজিজুল আলম নামের ওই ব্যবসায়ী উত্তরা পূর্ব থানায় চক্রের ২৪ সদস্যের নামে মামলা করেন।
মামলার পর শাখাওয়াত হোসেন শিমুল, নাজমুল হাসান, এ আর রহমান ও আবু ইবনে বিন আব্বাস ওরফে তুষারকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের মধ্যে শিমুল ও নাজমুল জামিন পেয়েছেন।
আজিজুল মামলায় অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি তার বন্ধু মনিরের মাধ্যমে মিজান তার কাছে যায়। তার বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে কি না জানতে চায়। আজিজুল জানান, আছে। পরে মাজহারুল ইসলাম সোহেল ফকির, নাজমুল হাসান ও কামাল তার অফিসে গিয়ে জানায়, প্রাচীন পিলার বিদেশে বিক্রি করে বিদেশি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ‘বিলিয়ন বিলিয়ন’ টাকা আনবে। যার অর্ধেক আজিজুলকে দেবে।
“সোহেলের সুন্নতি লেবাস ও চটকদার কথাবার্তায় আজিজুল বিশ্বাস অর্জন করেন। এরপর থেকে তার কারসাজি শুরু হয়। বিশ্বাস অর্জনের পর তাকে বিভিন্ন কুফরি কালাম ও শয়তানের নিঃশ্বাস ব্যবহার করে হিপনোটাইজ করে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর তারা কোটি কোটি টাকা, স্বর্ণালংকার, জায়গা-জমি হাতিয়ে নেওয়া শুরু করে।
“তাদের কাছে অলৌকিক ও জ্বিনের মাধ্যমে মূল্যবান প্রাচীন পিলার ম্যাগনেট এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে আসতে পারে বলে জানায়। এরপর তারা তার অফিসে মাঝে মধ্যে যাতায়াত শুরু করে এবং তাকে বিভিন্ন ধরনের খাবার ও মিষ্টি খাওয়ায়। খাবার খাওয়ার পর থেকে তার মাথায় কাজ করছিল না। আজিজুল তাদের অনুগত হয়ে যান। তারা যা বলে তারা তাই করে।”
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, “কিছুদিন পর আবার জ্বিনের মা পরিচয়ে এক নারী তাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন দেয়। তারপর থেকে নাজমুল ও সোহেল এবং অন্যদের মাধ্যমে তার কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিতে থাকে। বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে তারা তার কাছ থেকে নগদ কয়েক কোটি টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়।
“পরবর্তীতে জ্বীনের বাদশা (রাসেল) তাকে ফোন করে বলে সোহেল ও নাজমুলকে পাঠিয়েছে। তাদের কাছে ৫ কোটি টাকা দিয়ে দে। যদি না দিস তাহলে তোর ক্ষতি হবে। এভাবে ২০২৫ সালের ১৫ মে পর্যন্ত তারা বিভিন্ন সময় ২০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা প্রতারণা করে নিয়ে নেয়।”
এছাড়া তার উত্তরখান এলাকা ১৪-১৬ কোটি টাকার ২৭ দশমিত ১৫ কাঠা জমি লিখে নেয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।
খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল।
খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন আপন খালাতো ভাই আজিজুর রহমান টাইগার।
রবিবার (২৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে ডিপজলের খালাতো ভাই এ ওয়ান ট্রেডিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টাইগার এ মামলা করেন।
মামলায় ডিপজলের ম্যানেজার আব্দুল গণি এবং ব্যক্তিগত সহকারী খোকনকেও আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মাজহারুল ইসলাম মারুফ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে ডিবি পুলিশের ডিসিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামি ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, আজিজুর রহমান টাইগারের সুনাম, সুখ্যাতি, ব্যাবসায়িক সফলতা, দেশ-বিদেশে পরিচিতিতে ঈষান্বিত হয়ে ডিপজল বিভিন্নভাবে তার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারই ধারাবাহিকতায় ম্যানেজার আব্দুল গণি গত বছরের ৩ অ্যাগাস্ট আজিজুর রহমান টাইগারের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সেখানে অভিযোগ করা হয়, টাইগারের নির্দেশে ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিলশাদ, সাইদুর রহমানসহ ১০-১৫ জন তাদের (ডিপজলের) ভাড়া দেওয়া নাভানা সিএনজিতে জোর করে সাইনবোর্ড ভেঙে তাদের নামে লাগানোর চেষ্টা করে। তারা জমির মালিকানা দাবি করে সামনের মাস থেকে ভাড়া দাবি করে। তবে জিডির তদন্তে টাইগারের সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ। পরদিন ডিপজল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট দেন।
টাইগার দাবি করেন, ওই সম্পত্তির (নাভানা সিএনজি) মালিক তিনি নিজে। ডিপজল ওই সম্পত্তি তার দাবি করে তাকে সমাজে তাকে হেয় করতে চেয়েছেন।
বাদী অভিযোগ করেন, ডিপজল শুধু ফেসবুক পোস্টে ক্ষ্যান্ত হননি। টেলিভিশন, বিভিন্ন পত্রিকায়, অনলাইন নিউজপোর্টালে বিষয়টি প্রচার করে। এতে তার সামাজিক সম্মানহানী করে, ব্যাবসায়িক সুনাম ও কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন।
সুপ্রিম কোর্ট
ছবি : সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এর ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে চলমান মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনার পর হাজতখানায় রাখা হয়। দুপুর ১২টার দিকে তাকে আদালতে তোলা হয়।
প্রসিকিউশন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে মোজাফফর হোসেনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউশন জানায়, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে বৃহস্পতিবার হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জিয়া হত্যার আসামি মোজাফফর
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
এদিন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসিকিউশন জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে আজ হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করবে প্রসিকিউশন।
এর আগে, ২১ জুলাই জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন।
উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত ২১ জুলাই দিন ধার্য ছিল। ওই দিন আরও দুই মাস সময় চেয়েছে প্রসিকিউশন। কিন্তু মোজাফফরের সঙ্গে তার যোগসাজশের অভিযোগ থাকায় নতুন তারিখ দেননি আদালত। এজন্য তাকেও আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
হাইকোর্ট
নারী লাশের পোস্টমর্টেম করতে বাংলাদেশের পোস্টমর্টেম করা হাসপাতালগুলোতে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. মনির উদ্দিন। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেছেন।
রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। এর আগে বাংলাদেশের পোস্টমর্টেম করা হাসপাতালগুলোতে একজন করে নারী ডোম নিয়োগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়। আইনজীবী মো. মনির উদ্দিন এ আবেদন করেন।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ রাষ্ট্র। ইসলাম ধর্মসহ সব ধর্মের নারীর লাশ সতর বা পর্দার অন্তরালে রাখা বিধান রয়েছে। ময়নাতদন্ত একটা আইনি প্রক্রিয়া হলেও নারীর ক্ষেত্রে পরপুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। ইতিপূর্বে পুরুষ কর্তৃক বাংলাদেশে মৃত নারীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে নারী ডোম থাকলে গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা পাবে। সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে যদি কোনও নারী মারা যায় তাহলে তার পরিবার এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে। এমন পরিস্থিতিতে যখন জানতে পারে কোনো পুরুষ সদস্য তাদের পরিবারের প্রিয় নারী সদস্যের পোস্টমর্টেম করবে তাহলে তা হয় আরও হৃদয়বিদারক। যদি কোনো নারী ডোম তাদের কাজটি করতো তাহলে ওই দুঃসময়ে তারা একটু সান্ত্বনা পেতো। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান যুগে নারীরা সব ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে কাজ করছে।
এতে আরও বলা হয়, ময়নাতদন্তের মতো জায়গায় যদি নারী ডোম থাকে তাহলে ধর্মীয় বিষয়টি রক্ষা পাবে এবং বৈষম্য দূর হবে। আধুনিক সমাজের নারী রোগীদের বা মরদেহের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি যুগোপযোগী চাহিদা। মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী মৃত্যুর পরও একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিশ্চিত করা জরুরি। মর্গে অনেক সময় পুরুষ ডোমের দ্বারা মৃত নারীর শরীরে বিকৃত যৌনাচারের ঘটনা ঘটেছে।
আবেদনে বলা হয়, গত ২২ অক্টোবর, ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা এক তরুণীর লাশের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার করার অভিযোগ উঠে মর্গের ডোম আবু সাঈদের (২৯) বিরুদ্ধে। মর্গের চিকিৎসক এ বিষয়ে নিশ্চিত করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়; যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া ২০ নভেম্বর ২০২০ সালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে লাশের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে যতন কুমার পালের ভাগ্নে মুন্না ভগত (২০) ডোমকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর সে নিজের দোষ স্বীকার করেছে।
এছাড়া এক-দুই জন নয়, ১০০ জন নারীর লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা নিজের মুখে স্বীকার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহীওর এক মর্গ রক্ষী কেনেট ডগলাস (৬০)। সে ১৯৭৬ সালের থেকে ১৯৯২ সালে রাতের শিফটে কাজ করার সময় মর্গে আসা ১০০টি নারী লাশের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছে। এসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে বাংলাদেশের যেসব হাসপাতালে পোস্টমর্টেম হয়, সবগুলো হাসপাতালে একজন নারী ডোম নিয়োগ এবং মহিলা লাশের সম্ভ্রম রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
তবে সে আবেদনে সাড়া না পাওয়ায় তিনি জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
সুপ্রিম কোর্ট
হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৬ হাজার ৩৪০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ৬ হাজার ৩১৭টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চে ২৩টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত সাত কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ২৬ হাজার ১৫৩টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৬ হাজার ৭৪৭টি পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা ও পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৩২ হাজার ৯০০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।