হান্টা ভাইরাস
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক ক্রুজ শিপে হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং কয়েকজনের মৃত্যুর খবরে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এটি করোনাভাইরাসের মতো দ্রুত ছড়ায় না, তবে এর উচ্চ মৃত্যুঝুঁকি একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
হান্টা ভাইরাস কী
হান্টা ভাইরাস মূলত একটি জুনোটিক বা প্রাণীবাহিত ভাইরাস, যা সাধারণত ইঁদুর বা এ-জাতীয় বন্য প্রাণীর মাধ্যমে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এটি কোনো একক ভাইরাস নয়, বরং একগুচ্ছ ভাইরাস, যা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত।
ইতিহাস
হান্টা ভাইরাসের নামকরণ হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার হান্টান নদীর নামানুসারে। ১৯৫০-এর দশকে কোরিয়ান যুদ্ধের সময় প্রথম এই ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দেয়।
পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এ ভাইরাসের একটি নতুন রূপ ‘হান্টা ভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম’ (এইচপিএস) শনাক্ত হয়, যা ফুসফুসকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
কীভাবে ছড়ায়
এটি মূলত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা মল থেকে ছড়ায়। যখন ইঁদুরের বর্জ্য শুকিয়ে ধুলার সঙ্গে বাতাসে মিশে যায়, তখন শ্বাসের মাধ্যমে সেই দূষিত বাতাস মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটে।
এ ছাড়া আক্রান্ত ইঁদুরের কামড় বা দূষিত কোনো খাবার খেলেও এই রোগ হতে পারে।
বিরল ক্ষেত্রে ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ নামের হান্টা ভাইরাসের একটি ধরন মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।
লক্ষণ ও সমস্যা
হান্টা ভাইরাসের প্রধান দুটি রূপ হলো-
১. এইচপিএস (পালমোনারি সিনড্রোম): এতে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসে পানি জমে যায়।
২. এইচএফআরএস (হেমোরেজিক ফিভার): এতে কিডনি অকেজো হওয়া এবং রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দেয়।
প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেকটা সাধারণ ফ্লুর মতো- জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা ও ক্লান্তি। কয়েক দিন পর শুরু হয় তীব্র শ্বাসকষ্ট, কাশি ও রক্তচাপ কমে যায়। হান্টা ভাইরাস অত্যন্ত প্রাণঘাতী।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৩৮-৫০ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০ জন আক্রান্তের মধ্যে ৪ জনই মারা যেতে পারেন।
ডায়াগনসিস ও চিকিৎসা
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। হান্টা ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই।
আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে অক্সিজেন সাপোর্ট ও অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করার চেষ্টা করা হয়।
প্রতিরোধের উপায়
বাড়িঘর ও কর্মক্ষেত্র ইঁদুরমুক্ত রাখার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা।
ইঁদুরের উপদ্রব আছে, এমন জায়গা পরিষ্কার করার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা।
খাবার সব সময় ঢেকে রাখা।
অব্যবহৃত বা অন্ধকার ঘর পরিষ্কার করার সময় সরাসরি ঝাড়ু না দিয়ে ব্লিচিং পাউডার-মিশ্রিত পানি ব্যবহার করা, যাতে ধুলা না ওড়ে।
শস্যদানা ও খাবারদাবার নিরাপদে সংরক্ষণ করা। ফাঁদে আটকে কিংবা বিষ দিয়ে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে ইঁদুর মারা যাবে না। বরং পরিচ্ছন্নতার দিকে জোর দিতে হবে। কোনো জায়গা পরিপাটি, পরিচ্ছন্ন করে রাখা হলে ইঁদুর থাকে না।
রাজধানীর গুলশান-২-এ আজ শুক্রবার বাদ আসর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে আমিন ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড কাইরোপ্র্যাকটিক সেন্টার।
আধুনিক ফিজিওথেরাপি ও কাইরোপ্র্যাকটিক সেবার মাধ্যমে মানুষের শারীরিক সুস্থতা, ব্যথা ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনসেবায় অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছে।
গুলশান-২-এ শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজের উত্তর পাশে, বাড়ি নম্বর ১৯/২০ (১ম তলা), রোড নম্বর ১১৩-এ অবস্থিত সেন্টারটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. এনামুল হক।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. আলামিন হোসেন জানান, মানুষের শারীরিক সুস্থতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং রোগীবান্ধব সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হবে। রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি, শারীরিক পুনর্বাসন ও কাইরোপ্র্যাকটিক-সংক্রান্ত সেবা প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজে ফিরে আসতে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে আধুনিক মেশিনে থেরাপি দেওয়ার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। শারীরিক ব্যথা ও চলাচলজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য উপযুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে। এ নতুন উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে তিনি সবার দোয়া, সহযোগিতা ও শুভকামনা কামনা করেন।
বর্তমান সময়ে যক্ষ্মা বা টিবি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। যাদের এইচআইভি, ডায়াবেটিস বা আগে টিবি হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে টিবি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মধ্যে টিবি হওয়ার প্রবণতা বেশি।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২ লাখ শিশু যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলেও রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার অভাবে থেকে যাচ্ছে প্রায় ৪৩ শতাংশ।
১. লিম্ফ নোড টিবি
শরীরের লিম্ফ নোড বা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এই ধরনের টিবির প্রধান লক্ষণ। এতে ঘাড় বা বগলের কাছে ব্যথাহীন ফোলা ভাব দেখা যায়। যেহেতু এতে ব্যথা থাকে না, তাই রোগীরা অনেক সময় এটাকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু অবহেলা করলে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
২. হাড় ও মেরুদণ্ডের টিবি
এতে পিঠে ব্যথা হতে পারে, যা সাধারণ ব্যথা নয়। মেরুদণ্ড বা হাড়ের টিবি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং দীর্ঘমেয়াদী।
উপসর্গ: দীর্ঘদিনের পিঠের ব্যথা (যা সাধারণ মাসল পেইন মনে হতে পারে), জ্বর, ওজন কমে যাওয়া এবং অরুচি। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মেরুদণ্ড বেঁকে যেতে পারে বা প্যারালাইসিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। হাড়ের টিবির চিকিৎসা সাধারণ টিবির তুলনায় দীর্ঘ হয় (প্রায় ৯ মাস থেকে ১ বছর)।
৩. মস্তিষ্কের টিবি
এটি বিরল হলেও অত্যন্ত প্রাণঘাতী। একে ‘টিবি মেনিনজাইটিস’ বলা হয় এবং এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরনের টিবির মধ্যে একটি।
এই ধরনের ক্ষেত্রে রোগীর প্রচণ্ড মাথাব্যথা, খিঁচুনি, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া এবং আচরণে অসংলগ্নতা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি বেশি। শুরুতে সাধারণ ভাইরাল জ্বর মনে হলেও দ্রুত চিকিৎসা না করালে এটি মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
রোগ ধরা পড়তে দেরি
ফুসফুসের টিবি সংক্রামক হলেও, হাড় বা গ্রন্থির টিবি সাধারণত একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়ায় না। তবে এর নির্ণয় পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে জটিল। কাশি না থাকায় কফ পরীক্ষার সুযোগ থাকে না। উপসর্গগুলো অনেক সময় ক্যানসার বা অটো-ইমিউন রোগের সঙ্গে মিলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান বা বায়োপসি ছাড়া ফুসফুস বহির্ভূত টিবি ধরা পড়ে না।
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি করা যাবে না—
> শরীরের কোনও অংশে ব্যথাহীন ফোলা ভাব
> বিকেলের দিকে হালকা জ্বর ও রাতে ঘাম হওয়া
> অকারণে ওজন কমে যাওয়া
> দীর্ঘদিন ধরে হাড় বা জয়েন্টে ব্যথা, যা ওষুধে কমছে না।
স্বাস্থ্য ডেস্ক
পিরিয়ড চলাকালীন পেটে যন্ত্রণাসহ শারীরিক নানা রকম অস্বস্তির সম্মুখীন হন মেয়েরা। জরায়ুর পেশি সঙ্কোচন-প্রসারণের ফলে এবং হরমোনের অসংগতির কারণে এই ধরনের সমস্যা হতে পারে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘ডিসমেনোরিয়া’ বলা হয়। অনেক নারীরাই বলেন, পিরিয়ড শুরু হলে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট, যেমন- কোমর, হাঁটু কিংবা পায়ের গোছের ব্যথা বেড়ে যায়। পিরিয়ডের সঙ্গে কি জয়েন্টের ব্যথার কোনো যোগসূত্র রয়েছে?
এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, এই গোটা প্রক্রিয়াটিই হরমোনের ওঠা-পড়ার উপর নির্ভর করে। ঋতুচক্র শুরুর আগেই পেশির সঙ্কোচন-প্রসারণ শুরু হয়। ফলে শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন বৃদ্ধি পায়। সেখান থেকেই এই ধরনের ব্যথা বা অস্বস্তি শুরু হতে পারে। এই কষ্ট কমাতে সাধারণত গরম সেঁক, ব্যথা কমানোর কিংবা প্রদাহনাশক ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনেকেই মনে করেন, এই সময়ে ব্যায়াম করলে পেটে যন্ত্রণা আরও বেড়ে যেতে পারে। ক্লান্তি কিংবা দুর্বলতা বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকেরা শরীর চর্চা করার পক্ষেই। এই সময়ে হরমোনের অসংগতি মন-মেজাজও খারাপ থাকে। ব্যায়াম করলে সেই সংক্রান্ত সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
তবে এ সময়ে ভারী কোনো ব্যায়াম না করলেও হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে। কার্ডিও, স্ট্রেচিংয়ের মতো ব্যায়াম করলেও শরীরের ক্ষতি হবে না। তবে পিরিয়ডের সময় সবচেয়ে ভাল কাজ দেয় যোগাসন। তবে সকলের শারীরিক অবস্থা এক রকম নয়। তাই ব্যায়াম করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেওয়াই ভালো।এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন খনিজের অভাব হলে পিরিয়ডজনিত কষ্ট বেড়ে যেতে পারে। ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি হলে পিরিয়ডজনিত কষ্ট বেড়ে যেতে পারে। তাই এই সময়ে বেশি করে মাছ, বিভিন্ন ধরনের বীজ কিংবা বাদাম, বিভিন্ন ধরনের শাক খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সিফিলিস একটি যৌনবাহিত রোগ। এই রোগের জীবানুর নাম ট্রেপনোমা প্যালিডাম। অনিয়ন্ত্রিত যৌন মিলন ও সিফিলিস আক্রান্ত কারো সঙ্গে যৌন মিলনে এই রোগ হয়ে থাকে। তবে সিফিলিস আক্রান্ত কারো রক্ত গ্রহণের মাধ্যমেও এই রোগ হয়। আবার গর্ভাবস্থায় মায়ের সিফিলিস থেকে থাকলে সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
যেসব মানুষ বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করছেন এবং প্রত্যেক শহরে ভিন্ন ভিন্ন শয্যাসঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন, তাদের সিফিলিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি। সাধারণত আক্রান্ত কারো সঙ্গে যৌন মিলনের ২-৪ সপ্তাহ পরে এই রোগের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে কারো কারো ক্ষেত্রে ৩ মাস পর্যন্ত দেরি হতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন সিফিলিস হয়েছে?
সিফিলিসে আক্রান্ত হলে একেক জনের একেক রকম উপসর্গ দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলসারের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে। এরপর সারাদেহে ব্রনের মতো গুটি দেখা দেয় এবং তা বড় হতে থাকে। কোনো কোনোটির আকার এক সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত পেনিসে আলসার ধরা পড়ে, নারীদের যোনীতে। এছাড়া নারী ও পুরুষের পায়ুপথ বা মলদ্বারেও আলসার হতে পারে।
কারো কারো ঠোঁট এবং জিহ্বাতেও আলসার ধরা পড়ে। এমনকি আঙুলেও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। এমনটা হলে বুঝতে হবে, সিফিলিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম পর্যায়ে রয়েছেন। অনেকেই এই উপসর্গগুলো বুঝতে না পেরে এগুলো এড়িয়ে চলেন। তারা ভাবেন, চিকিৎসকের সাহায্য ছাড়াই এগুলো সারিয়ে ফেলতে সক্ষম হবেন। তবে তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলে কোনোরকম ওষুধ গ্রহণ ছাড়াই আলসার সেরে যায়। কিন্তু তখন সারা শরীরে ফোসকা বা গুটি দেখা দেয়। কোনোটি লাল, কোনোটি গোলাপি আর কোনোটা পোড়া ফোসকার মতো। হাতের তালুতেও দেখা দেয় এই ফোসকা তবে এগুলোতে কোনো চুলকানি হয় না, অ্যালার্জিতে সাধারণত যেটা হয়ে থাকে। এটা রোগের দ্বিতীয় পর্যায়।তৃতীয় পর্যায়ে এসে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হয়, যেমন শ্বাসতন্ত্র, পাকস্থলী, যকৃত, মাংসপেশী এবং হাড়। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো যখন সিফিলিস প্রধান আর্টারিকে আক্রান্ত করে। এ সময় মৃত্যুও ঘটতে পারে।
চতুর্থ পর্যায়ে সিফিলিস শরীরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। হৃদপিণ্ডে জ্বালাপোড়া শুরু হয়, যকৃত বা লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, শরীরের কিছু অংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে পারে এবং মস্তিষ্কে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া এই রোগে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, স্নায়ুকোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিন্তাধারায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
সিফিলিস থেকে মুক্তির উপায়
বেশিরভাগ প্রাণঘাতী রোগ নিয়ে আমাদের সমাজে ট্যাবু রয়েছে। যখনই মানুষ জানতে পারে রোগটি যৌন মিলনের ফলে এক দেহ থেকে অন্যের দেহে ছড়িয়ে পড়ে তখন ওই ব্যক্তির প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায়। এ কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি এ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে রাজি হয় না। বরং এটাকে গোপন রাখতে চায়। সিফিলিস রোগ থেকে পরিত্রাণের প্রধান উপায়ই হলো সচেতনতা।
দেশে নিম্ন আয়ের পরিবারের তুলনায় ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা বেশি। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে পরিচালিত জাতীয় জরিপের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফ-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫’-এর প্রিলিমিনারি প্রতিবেদনে শিশুদের রক্তে ক্ষতিকর ভারী ধাতু, বিশেষ করে সীসার উপস্থিতি নিয়ে একটি তথ্য উঠে এসেছে।
সাধারণত ধারণা করা হয়, দারিদ্র্যের কারণে অসচেতনতা ও পরিবেশ দূষণের শিকার নিম্নবিত্তের শিশুরা বেশি হয়।
তবে এই প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তেই সীসার ক্ষতিকর মাত্রা তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের ৩০ দশমিক ২ শতাংশের রক্তে সিসার মাত্রা বেশি। সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এ হার ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ।
শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রা উদ্বেগজনক। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে ক্ষতি করতে পারে সিসা। ফলে বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও আচরণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব ক্ষতির সব সময় তাৎক্ষণিক লক্ষণ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে শিশুকে সুস্থ দেখালেও তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্নায়ুর বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে দেশের বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদনের ‘হেভি মেটাল এক্সপোজার এন্ড এনিমিয়া’ অধ্যায়ের তথ্যানুযায়ী, পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে শিশুদের রক্তে উচ্চমাত্রার সীসার উপস্থিতির হার নিম্নরূপ:
গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি সিসা রয়েছে। অর্থাৎ এই বয়সী প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে প্রায় ৩৯ জনের রক্তে সিসার মাত্রা গবেষণায় নির্ধারিত সীমায় বা তার ওপরে।
তবে পরিবারের সম্পদ অনুযায়ী এ হারে বড় পার্থক্য রয়েছে। পরিবারের সম্পদ অনুযায়ী শিশুদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের মধ্যে সিসার উচ্চমাত্রার হার ৩০ দশমিক ২ শতাংশ। সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে তা ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ।
দুই শ্রেণির মধ্যে ব্যবধান ২১ দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট। অর্থাৎ সবচেয়ে ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার হার সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
গবেষকেরা দেখেছেন, পরিবারের সম্পদের শ্রেণি যত ওপরে উঠেছে, শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার হারও তত বেড়েছে। পরিবারের সম্পদ, মায়ের শিক্ষা, ঘরের অবস্থা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নেওয়ার পরও এ সম্পর্ক বজায় ছিল।
ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে গবেষক সৈয়দ তৌসিক হোসেন বলেন, ধনী শিশুরা প্যাকেটজাত খাবার বেশি খেতে পারে। এছাড়া তাদের বাসায় আসবাব, দেয়ালের রং ও বিভিন্ন ধরনের তৈজস বেশি থাকে। এসব পণ্যে সিসা থাকতে পারে। ফলে পণ্যগুলোর সংস্পর্শ শিশুদের শরীরে সিসা প্রবেশের সম্ভাব্য পথ হতে পারে।
তবে গবেষণায় এসব উৎস আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে প্যাকেটজাত খাবার, আসবাব বা দেয়ালের রঙের কারণে ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা বেশি, এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি টানা যায় না।
এদিকে ধনী পরিবারের শিশুদের সিসার সংস্পর্শে আসার সুযোগ তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে মনে করেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা।
এসব পরিবারের শিশুরা আমদানি করা খেলনা বেশি পায় জানিয়ে শিশুবিশেষজ্ঞ বলেন, বাসায় সাজসজ্জার নানা সামগ্রীও থাকে। এ ছাড়া পোলট্রির মুরগিকে দেওয়া খাবারে সিসা থাকতে পারে। অপেক্ষাকৃত সম্পন্ন পরিবারের অনেক শিশু মুরগির মাংস বেশি খায়। এসব খাবারের মাধ্যমেও তাদের শরীরে সিসা প্রবেশ করা অস্বাভাবিক নয়।
শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে বিভাগভেদেও।
গত বছরের মিকসের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকায় ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৬৫ দশমিক ২ শতাংশের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রা পাওয়া গেছে। সিলেটে এ হার ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৪২ দশমিক ১ শতাংশ।
অপরদিকে বরিশালে এ হার ২৯ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ, খুলনায় ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রংপুরে ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ।
থাইরয়েড ক্যান্সার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রমবর্ধমানভাবে ধরা পড়ছে। এটি অন্যতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য ক্যান্সার এবং এর বাঁচার হারও বেশি, তবে ডাক্তাররা সতর্ক করে বলছেন যে প্রাথমিক উপসর্গগুলো ব্যথাহীন হওয়ার কারণে নজরে আসে না। এই বিলম্বিত রোগনির্ণয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাকে জটিল করতে পারে।
বৈশ্বিক ক্যান্সার ডেটা অনুযায়ী, গত দুই দশকে থাইরয়েড ক্যান্সারের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে মহিলাদের এবং তরুণদের মধ্যে এটি বেশি।
ডা. নিতিন লীখার (সিনিয়র ডিরেক্টর, সার্জিকাল অনকোলজি, ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, পাটপর্গঞ্জ) মতে- থাইরয়েড হলো একটি ছোট, প্রজাপতির আকৃতির গ্রন্থি যা গলার সামনে অবস্থান করে, কিন্তু এটি বিপাক, হার্ট রেট এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ প্রাথমিক থাইরয়েড ক্যান্সার প্রায়শই ব্যথাহীন হয়, তাই অনেক মানুষ প্রাথমিক উপসর্গগুলো লক্ষ্য করেন না। প্রাথমিক শনাক্তকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক অবস্থায় থাইরয়েড ক্যান্সার চিহ্নিত হলে এটি সহজে চিকিৎসা করা যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলও ভালো হয়। কোন বিষয়গুলো লক্ষ্য করা দরকার তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
থাইরয়েড ক্যান্সারের ৭টি প্রাথমিক লক্ষণ যা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়
১. গলায় ব্যথাহীন ফোলা বা গাঁট
থাইরয়েড ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ হলো গলায় গাঁট বা ফোলা। অনেক রোগী এটি দৈনন্দিন কাজের সময় লক্ষ্য করেন, যেমন চুল কাটার সময়, মেকআপ করার সময় বা গহনা পরার সময়। যদিও অধিকাংশ থাইরয়েড গাঁট ভালো কোষের হয়, কোনো নতুন, বড় হওয়া বা শক্ত গাঁট অবশ্যই ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করা উচিত।
২. দীর্ঘস্থায়ী কণ্ঠহ্রাস বা ভয়েস পরিবর্তন
কণ্ঠের দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন, বিশেষ করে সপ্তাহের পরেও ঠিক না হওয়া কণ্ঠহ্রাস, প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। এটি তখন ঘটতে পারে যখন থাইরয়েড টিউমার কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণকারী নার্ভকে প্রভাবিত করে।
৩. গিলে খাওয়ার অসুবিধা (ডিসফ্যাজিয়া)
যখন থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয় বা টিউমার খাদ্যনালীতে চাপ দেয়, গিলে খাওয়া অসুবিধাজনক হতে পারে। অনেক রোগী থ্রোটে কিছু আটকে থাকার অনুভূতি জানান, যদিও ব্যথা নেই।
৪. শ্বাসকষ্ট বা গলার আঁটসাঁট ভাব
কিছু ক্ষেত্রে, বড় হওয়া থাইরয়েড টিউমার ট্র্যাখিয়াকে চাপ দিতে পারে, ফলে শ্বাসকষ্ট হয়, বিশেষ করে শোয়ার সময়। এই লক্ষণ দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।
৫. কানের দিকে ব্যথা ছড়ানো গলা বা গলার ব্যথা
যদি কোনো সংক্রমণ বা আঘাত ছাড়া গলায় ব্যথা থাকে, তা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। থাইরয়েড সংক্রান্ত ব্যথা কখনও কখনও কানে ছড়াতে পারে এবং এটি দাঁত বা ENT সমস্যা মনে হতে পারে।
৬. গলায় লিম্ফ নোডের ফোলা
যে লিম্ফ নোডগুলো শক্ত, ব্যথাহীন এবং সময়ের সাথে কমছে না, তা ক্যান্সার ছড়ানোর ইঙ্গিত দিতে পারে। এই ফোলা নোড প্রায়ই সংক্রমণের কারণে উপেক্ষিত হয়, ফলে রোগনির্ণয়ে বিলম্ব হয়।
৭. দীর্ঘস্থায়ী, অজানা কাশি
এটি একটি কম পরিচিত লক্ষণ। দীর্ঘস্থায়ী শুকনো কাশি, যা অ্যালার্জি, ধূমপান বা শ্বাসনালীর সংক্রমণের কারণে নয়, তা থাইরয়েড ক্যান্সারের সংকেত হতে পারে। থাইরয়েডের বড় হওয়া এই কাশি উদ্রেক করতে পারে।
প্রাথমিক শনাক্তকরণের গুরুত্ব
এই উপসর্গগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক থাকা মানে অবশ্যই ক্যান্সার নয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ উপেক্ষা করলে রোগ প্রায়শই পরবর্তী পর্যায়ে ধরা পড়ে। ইতিবাচক বিষয় হলো প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময় করা সহজ।
রোগনির্ণয় সাধারণত গলা আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এবং ফাইন-নিডল অ্যাস্পিরেশন বায়োপসি করে করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে চিকিৎসায় সার্জারি, রেডিওএক্টিভ আয়োডিন থেরাপি বা টার্গেটেড ট্রিটমেন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
প্রাথমিক অবস্থায় থাইরয়েড ক্যান্সার শান্ত থাকতে পারে, তবে শরীর প্রায়ই সূক্ষ্ম সতর্কবার্তা দেয়। গলার দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন, কণ্ঠের পরিবর্তন, গিলে খাওয়ার অসুবিধা বা অজানা কাশি লক্ষ্য করলে সময়মতো রোগনির্ণয় সম্ভব এবং কার্যকর চিকিৎসা করা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্দেহ হলে পরীক্ষা করানোই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপদ।