মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’
আসন্ন ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের (অস্কার) ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’। আজ রোববার সকাল ১০টায় ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমাটির নাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের (বিএফএফএস) উদ্যোগে গঠিত অস্কার বাংলাদেশ কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সিনেমার নাম ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি ও অস্কার বাংলাদেশ কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
৯৯তম অস্কারে বাংলাদেশের সিনেমা পাঠানোর জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এর মধ্যে মোট পাঁচটি সিনেমা জমা পড়ে।
সিনেমাগুলো হলো রেদওয়ান রনির ‘দম’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, নূরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের ‘দেলুপি’ এবং মনিরুল আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চাঁনখারপুল’।
পরবর্তীতে ‘মানুষের বাগান’ সিনেমাটি স্বেচ্ছায় প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। বাকি চারটি সিনেমার মধ্য থেকে সিলেকশন কমিটির সদস্যদের দীর্ঘ বিশ্লেষণ ও সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ‘রইদ’কে অস্কারে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
ছয় সদস্যের অস্কার বাংলাদেশ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ড. জহিরুল ইসলাম। কমিটির সদস্যরা হলেন সাজ্জাদ শরিফ, শাহীন দিল-রিয়াজ, রাশেদ জামান, সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীম ও শাহরীন আক্তার সুমি।
‘রইদ’ মূলত সাধু ও তাঁর স্ত্রী পাগলির সম্পর্কের সরল অথচ গভীর আখ্যান। প্রেম ও নীরবতার মধ্য দিয়ে মানবজীবনের চিরন্তন এক আদিম প্রেমের গল্প তুলে ধরা হয়েছে সিনেমাটিতে। সিদ্দিক আহমেদ, মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিদ ফারুক ও শুকর্ণ শাহেদ ধীমানের চিত্রনাট্যে নির্মিত ছবিটির গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।
নির্বাচিত সিনেমার নির্মাতা, প্রযোজক, শিল্পী ও কলাকুশলীদের অভিনন্দন জানিয়েছে অস্কার বাংলাদেশ কমিটি। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেছে, ‘রইদ’ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরতে সক্ষম হবে।
অভিনেত্রী ইধিকা পাল
কলকাতার অভিনেতা দীপক অধিকারী দেবের সঙ্গে একের পর এক সিনেমায় জুটি বেঁধে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী ইধিকা পাল। এবার ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির আরেক নায়কের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন তিনি।
কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার জানিয়েছে, পরিচালক পথিকৃৎ বসুর আগামী সিনেমায় জিতের বিপরীতে ইধিকাকে দেখা যেতে পারে। সিনেমাটি এসকে মুভিজের প্রযোজনায় তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে।
যদিও এই সিনেমার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রযোজনা সংস্থার তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। জিৎ বা ইধিকাও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
কিছুদিন হল পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘কুইন ভিক্টোরিয়া এবং গোয়েন্দা কাণাইচরণ’ সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন ইধিকা। এর মধ্যে ‘কুইন ভিক্টোরিয়া এবং গোয়েন্দা কাণাইচরণ’ সিনেমায় যিশু সেনগুপ্ত অভিনয় করেছেন।
ইধিকা পাল বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও বেশ পরিচিত। কয়েকবছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিয়তমা’ ও ‘বরবাদ’ সিনেমায় ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন ইধিকা।
দুইটি সিনেমাই বেশ 'জনপ্রিয়' হয়।
নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী
ফেসবুকে প্রায়ই ট্রলের শিকার হন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী। তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও ট্রল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়। তবে এসব নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন এই অভিনেতা।
তিনি জানালেন, জীবনে এমন কোনো কাজ তিনি করেননি, যা নিয়ে তাঁকে ট্রল করা যায়। বরং তাঁর সরাসরি ও প্রতিবাদী স্বভাবকেই অনেকে নিজেদের মতো করে ট্রলের বিষয় বানিয়ে ফেলেন।
সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওমর সানী বলেন, ‘আসলে আমাকে নিয়ে ট্রল হওয়ার মতো কোনো কাজ আমি আমার জীবনেও করিনি। হয়তোবা আমার কর্মকাণ্ডকে ট্রলের মতো করে ওরা নিজেরাই তৈরি করে ফেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতগুলো ফালতু লোক আছে, যাদের অনেকে বট বাহিনীও বলে- যারা ট্রলের মতো করে। কিন্তু ট্রল হওয়ার মতো কোনো কাজ আমার নেই।’
কথা প্রসঙ্গে নিজের স্বভাবের কথা উল্লেখ ওমর সানী বলেন, ‘আমার একটাই জিনিস হচ্ছে, আমি একটু প্রতিবাদী। আমি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করি। এই সরাসরি কথা বলাটা অনেকের ভালো লাগে না। যাদের আঁতে ঘা লাগে, তারা এসব ছড়ায়। এসবে তাই পাত্তা দিই না। যারা এসব করে, তারা ফালতু লোক।’
এ সময় নিজের ব্যবহৃত একটি ঘড়ির প্রসঙ্গও টানেন ওমর সানী। তিনি বলেন, ‘অনেকেই বাংলাদেশে বলছে, “ভাই, আমার ঘড়িটা দেখছেন? এই ঘড়িটা কিন্তু প্রায় ২৯ লাখ টাকার।” আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনটা দেখেছি। আমার হাতেও একটা ঘড়ি আছে। হয়তো আমি ওমর সানীকে এই ঘড়ি পরতে দেখে অনেকের কাছে খুব দামি মনে হচ্ছে। আসলে এটার দাম অত না, এটা মাত্র ১১০০ টাকা।’
ওমর সানীর মতে, নিজের সামর্থ্য বা সম্পদ নিয়ে তিনি কখনো ফুটানি করেন না। তিনি বললেন, ‘আমি এটা প্রাউডলি বলতে পারি, কোনো দিন কোনো কিছুতে আলগা বাহাদুরি করিনি। আমার মার্সিডিজ থাকার পরও আমি ফুটানি করি না। এটা নিয়ে বড় করে কথা বলার কিছু নেই।’
কোনো পোস্ট বা মন্তব্যের জেরে কখনো নিজের পোস্ট মুছে ফেলেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর সানী বলেন, ‘না, এ রকম কখনো মনে হয়নি। কারণ, আমি পোস্ট কখনো ডিলিট করার মতো করিনি। একবার হয়তোবা করেছিলাম কিংবা দুবার করেছিলাম। কিন্তু আমি কাউকে ছোট করে কখনো পোস্ট করিনি। কেউ এমনটা দেখাতেও পারবে না।’
শিল্পীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলা প্রসঙ্গে ওমর সানীকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ‘যারা যারা শিল্পী, তারা তো কমই কথা বলে। আর যারা কোনো শিল্পীই নয়, ওরাই বেশি কথা বলে।’
রেখার সঙ্গে চুম্বনে বিতর্ক
১৯৭৯ সালের হিট সিনেমা ‘দো শিকারি’-তে অভিনেত্রী রেখার সঙ্গে প্রবীণ অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের চুম্বন দৃশ্য একসময় ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল।
সেই সময় মূলধারার সিনেমায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যকে বেশ সংবেদনশীল ও দুঃসাহসী বিষয় হিসেবে দেখা হতো। দৃশ্যটি নিয়ে তৈরি হয়েছিল তুমুল বিতর্ক। কয়েক দশক পর সেই ঘটনা নিয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের কাছে স্মৃতিচারণ করেছেন বিশ্বজিৎ।
বর্তমান সময়ের সিনেমার সঙ্গে তুলনা করে বিশ্বজিৎ বলেন, এখনকার প্রেক্ষাপটে ওই দৃশ্যকে আর তেমন বড় বিষয় মনে হয় না। তাঁর কথায়, ‘আজকের যুগে দাঁড়িয়ে ওই ঘটনার আর কোনো বিশেষ অর্থই নেই। এখন পর্দায় চুমু খাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। আজকাল সিনেমায় বেডরুমের যে ধরনের দৃশ্য দেখানো হয়, সেগুলো দেখলে আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই।’
তবে তার মতে, সিনেমার ইতিহাস ও দীর্ঘ যাত্রায় বিতর্ক একটি স্বাভাবিক বিষয়। সময়ের সঙ্গে এসব বিতর্কও একসময় থিতিয়ে যায়।
ওই চুম্বন দৃশ্য নিয়ে এত আলোচনা হলেও রেখার সঙ্গে তার পেশাগত সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানান বিশ্বজিৎ। পরবর্তীতে তাদের দেখা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের দেখা হয়েছে এবং সম্পর্কও স্বাভাবিক ছিল।
শুধু তা-ই নয়, বিশ্বজিৎ যখন প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে সিনেমা নির্মাণ করেছেন, তখন তার ছবিতেও অভিনয় করেছেন রেখা।
এ প্রসঙ্গে বিশ্বজিৎ বলেন, ‘সেই ঘটনার পর রেখা আমার চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন। আমি নিজে প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে তাঁর সঙ্গে কথা বলি এবং তিনি আমার সিনেমায় অভিনয় করেন।’
কয়েক দশক ধরে বিনোদন অঙ্গনে কাজ করলেও সিনেমার প্রতি তার আগ্রহ এখনো অটুট। নিয়মিত প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে নতুন সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন এই অভিনেতা। ‘অ্যানিম্যাল’, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’, ‘আরআরআর’ ও ‘বাহুবলী’র মতো বড় বাজেটের সিনেমাও সম্প্রতি বড় পর্দায় দেখেছেন তিনি।
নিজের সিনেমাপ্রেমের কথা জানিয়ে বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আমার একটাই নেশা- সিনেমা দেখা, আর সেটা সিনেমা হলে গিয়েই দেখা। সিনেমা থেকে এখনও শেখার ইচ্ছে আমার রয়েছে।’
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দো শিকারি’ সিনেমায় রেখা ও বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিনোদ খান্না ও আমজাদ খান।
সূত্র: দ্য ওয়াল
‘দার–ই–নাজাত’–এর দৃশ্য
পাকিস্তানের আলোচিত নাটক ‘দার–ই–নাজাত’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে জারিয়াব ও আবু বকরের একটি দৃশ্য নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন। নাটকে জারিয়াব চরিত্রে অভিনয় করেছেন দুরেফিশান সেলিম।
যে দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক
নাটকের ১৪ ও ১৫তম পর্বে জারিয়াবকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের প্রেমিক ও শৈশবের বন্ধু জামিলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভুগছেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে জারিয়াবের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন আবু বকর। দৃশ্যটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করেন দর্শকেরা।
তাঁদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, জারিয়াবের একজন পুরুষের সাহায্যের চেয়ে মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। আবার কেউ মনে করেন, নারীর কষ্ট থেকে মুক্তির সঙ্গে নাটকটিতে একজন পুরুষের উপস্থিতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুরেফিশানের জবাব
গত রোববার ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে এ সমালোচনার জবাব দেন দুরেফিশান। তাঁর মতে, ‘দার–ই–নাজাত’ নারীদের এমন কোনো বার্তা দিচ্ছে না যে কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসতে তাঁদের একজন পুরুষের প্রয়োজন; বরং নারী ও পুরুষের জন্য সমাজের আলাদা নিয়মকেই প্রশ্ন করছে নাটকটি।
দুরেফিশান বলেন, একজন পুরুষ ভুল করার পর অনুতপ্ত হয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পান। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে তাঁদের পুরোনো সিদ্ধান্তের দায় অনেক বেশি দিন বহন করতে হয়।
দুরেফিশানের আরও বক্তব্য, কোনো চরিত্রের সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে দর্শকের একমত হওয়া জরুরি নয়। চরিত্রটির অনুভূতি বোঝার চেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মানুষ জটিল; সবকিছুকে শুধু ঠিক–ভুলের হিসাবেও দেখা যায় না।
জামিল ও জারিয়াবের গল্প
দুরেফিশানের বক্তব্যে উঠে এসেছে জারিয়াব ও জামিলের জীবনের পার্থক্যও। ধর্মের পথে ফেরার পর জামিল জারিয়াবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পরে তিনি বিয়ে করেন এবং নতুন জীবন শুরু করার পথে এগিয়ে যান।
অন্যদিকে জারিয়াব নিজের অতীত নিয়ে অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। বিয়ের আগে জামিলের সঙ্গে সম্পর্কে থাকার বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দেয়। ফলে নতুনভাবে জীবন শুরু করার কথাও সহজে ভাবতে পারেন না তিনি।
দুরেফিশানের মতে, এখানেই নাটকের মূল প্রশ্ন—ভুল করার পর একজন পুরুষ যে সহজে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ পান, একজন নারীও কি একই সুযোগ পান?
‘নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প’
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দুরেফিশান এমন একটি পোস্টও শেয়ার করেছেন, যেখানে ‘দার–ই–নাজাত’কে একজন নারীর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পোস্টটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘কখনো কখনো নিজেকে খুঁজে পাওয়াটাই হতে পারে সেই ভালোবাসার গল্প, যেটি আপনার সব সময় প্রয়োজন ছিল।’
দুরেফিশানের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘দার–ই–নাজাত’কে শুধু হৃদয়ভাঙার পর একজন নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প হিসেবে দেখলে নাটকটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়।
রাইমা সেন
ভারতীয় সিনেমার অভিনেত্রী রাইমা সেন ৪৬ বছর বয়সেও অবিবাহিত। তার সমসাময়িক অনেকেই বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন, কেউ কেউ সন্তানের মা-ও হয়েছেন। ফলে রাইমার বিয়ে নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলেরও শেষ নেই। তবে বিয়ে কিংবা সংসার নিয়ে নিজের ভাবনা এবার খোলামেলাভাবেই জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
ভারতীয় একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাইমা সেন বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, এই বয়সে দাঁড়িয়ে বিয়ে করার তাগিদটাও অনুভব করি না। অ্যাটাচমেন্ট নিয়েও চিন্তা হয়।’
একা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে মা মুনমুন সেন কী ভাবেন- এমন প্রশ্নের জবাবেও খানিকটা চমকে দিয়েছেন রাইমা। তার ভাষ্য, আগে মা এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতেন।
তবে এখন দেশ-দুনিয়ার পরিস্থিতি দেখে উল্টো বিয়ে করতে বারণ করেন। মায়ের পরামর্শ, ‘জোর করে কিছু করো না। পরে কখনো একাকিত্বে ভুগলে অনেকগুলো পোষ্য দত্তক নিও।’
বিয়ের প্রতি আগ্রহ না থাকলেও মা হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে রাইমা বলেন, ‘আমি বাচ্চাদের ভীষণ ভালোবাসি। ভয় লাগে, কী জানি সব ম্যানেজ করতে পারব কি না, ভেবে দেখিনি। তবে আজ মনে হচ্ছে না, কাল ইচ্ছে হতেই পারে।’
ভবিষ্যতে মা হওয়ার সেই সম্ভাবনার কথা ভেবেই অনেক আগেই নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রেখেছেন রাইমা। তিনি বলেন, ‘সেই সব সাত-পাঁচ ভেবে অনেক কাল আগেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ (এগ ফ্রিজ) করে রেখেছি।’
তবে মা হওয়ার সঙ্গে বিয়ের সম্পর্কটিকে এক করে দেখতে নারাজ এই অভিনেত্রী। তার কাছে বিষয়টি বেশ পরিষ্কার। রাইমার কথায়, ‘শুধু মা হওয়ার জন্য বিয়ে নিষ্প্রয়োজন।’
এর আগে অন্য একটি সাক্ষাৎকারে ৪৬ বছর বয়সে অবিবাহিত থাকার অভিজ্ঞতা কেমন- জানতে চাওয়া হয়েছিল রাইমার কাছে। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘দারুণ। আমার মনে হয়, চল্লিশের পরই জীবন শুরু হয়। সত্যি বলতে, নিজেকে এখন অনেক বেশি স্বাধীন লাগে।’
মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের কন্যা অভিনেত্রী মুনমুন সেন। তার দুই কন্যা রাইমা সেন ও রিয়া সেন- দুজনেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। ১৯৯৯ সালে বলিউডের ‘গডমাদার’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি জগতে পা রাখেন রাইমা। এরপর বাংলা ও হিন্দি- দুই ভাষার সিনেমাতেই অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
শাহরুখ খান
ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতার তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন শাহরুখ খান। তবে গত এক বছরে তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৬ অনুযায়ী, শাহরুখ খানের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি।
২০২৫ সালের তালিকায় শাহরুখের সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। অর্থাৎ এক বছরে তার সম্পদের আনুমানিক মূল্য কমেছে ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি।
তবে মনে রাখতে হবে, এসব হিসাব অনুমাননির্ভর। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, তার ওপর মোট সম্পদের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
২০২৬ সালের তালিকায় ভারতের ধনী অভিনেতাদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি রুপি।
গত বছরের তালিকায় অমিতাভের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৩০ কোটি রুপি। অর্থাৎ এবার তার সম্পদের হিসাব অনেকটাই বেড়েছে। তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পাশাপাশি বিনিয়োগ, আবাসন ও অন্যান্য সম্পদও এই হিসাবের অংশ।
তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন সালমান খান। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি রুপি।
এরপর রয়েছেন হৃতিক রোশন। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি রুপি। ২০২৫ সালে হৃতিকের সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ২ হাজার ১৬০ কোটি রুপি। অভিনয়ের পাশাপাশি হৃতিকের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও রয়েছে।
তালিকায় নেই জুহি ও করণ
২০২৫ সালের তালিকায় থাকা দুই পরিচিত নাম এবার আর ২০২৬ সালের তালিকায় নেই। তারা হলেন অভিনেত্রী জুহি চাওলা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহর।
২০২৫ সালে জুহি চাওলার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৭৯০ কোটি রুপি। একই তালিকায় করণ জোহরের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৮০ কোটি রুপি।