আজমেরী হক বাঁধন
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই খোলামেলা কথা বলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। অভিনয়জীবনের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক এবং জীবনদর্শনও প্রায়ই আলোচনায় আসে।
রোববার (৩১ মে) এক সাক্ষাৎকারে বিয়ে ও প্রেমের অভিজ্ঞতা নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী।
গত বছরের শুরুতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন জানিয়েছিলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য পাত্র খোঁজা হচ্ছে এবং উপযুক্ত কাউকে পেলে তিনি বিয়ের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। বিষয়টি নিয়ে মজার ছলে বাঁধন বলেন, ‘আমি মজা করেই বলতে চাই, তিনি ভেগে গেছেন। আসলে কেন এগোলেন না, সেটা আমি বলতে পারব না। তবে কেন জানি মনে হয়, ছেলেরা আমাকে একটু ভয় পায়।’
বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পাত্র ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কটি বেশ ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছিল, এমনকি ছেলেটির পরিবারও তাঁকে পছন্দ করত। কিন্তু পারিবারিক আলোচনা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবে এ নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ বা অভিযোগ নেই।
বাঁধন বলেন, ‘তিনি ভীষণ ভদ্র একজন মানুষ। তাঁর পরিবারও দারুণ। পারিবারিকভাবে সবকিছু ভালোভাবেই এগোচ্ছিল, কিন্তু পরে আর এগোয়নি। এ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই।’
বিয়ের আলোচনা থেমে যাওয়ার পর ২০২৫ সালের শুরুতে বিনোদন অঙ্গনের বাইরের একজনের সঙ্গে নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বাঁধন। কিন্তু সেই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তিনি জানান, পরে বুঝতে পেরেছেন এটি তাঁর জীবনের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল এবং সম্পর্কটি ভেঙে যাওয়াই শেষ পর্যন্ত ভালো হয়েছে। দুবার বিয়ের অভিজ্ঞতা থাকা এই অভিনেত্রী এখন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আরও সতর্কতা ও ভেবেচিন্তে নিতে চান।
অভিনয়জীবনে বাঁধন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির মাধ্যমে। এই ছবির মাধ্যমে তিনি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। কাজের ক্ষেত্রে সব সময় বেছে বেছে এগোনো এই অভিনেত্রী সর্বশেষ ঈদে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা নিয়ে আলোচনায় ছিলেন। তবে এবার ঈদে তাঁর কোনো নতুন সিনেমা মুক্তি পায়নি।
জীবনের নানা উত্থান-পতন, সম্পর্কের সাফল্য-ব্যর্থতা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদীই থাকতে চান বাঁধন, সেভাবেই চলছে পরিকল্পনা।
এআই ছবিতে আশির দশকের লুকে তাসনিয়া ফারিণ ও তমা মির্জা
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডের নতুন এক হাওয়া বইছে। নেটিজেনরা যেন হুট করেই ফিরে গেছেন আশির দশকে। ফেসবুক খুললেই টাইমলাইনে ভেসে উঠছে আশির দশকের হলিউড-বলিউডের ক্লাসিক পোস্টার বা ভিন্টেজ ফটোশুটের ছবি। ওভারসাইজড ব্লেজার, পোলকা ডট পোশাক, চওড়া কলারের শার্ট, রট্রো হেয়ার স্টাইলে ধরা দিচ্ছেন তারকারা।
নিজের বর্তমান ছবিকে এআই-এর মাধ্যমে বদলে নিয়ে নেটিজেনরা দেখে নিচ্ছেন, চার দশক আগের সেই স্নিগ্ধ ফ্রেমে নিজেকে কেমন দেখাত। এই রেট্রো রূপান্তরের ছোঁয়া বাদ পড়েনি বিনোদন জগতের তারকাদের জীবন থেকেও।
নতুন ট্রেন্ডে নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী পূর্ণিমা, সাফা কবির, তমা মির্জা, তাসনিয়া ফারিণ, বিদ্যা সিনহা মিম তৌসিম মাহাবুব, আরশ খান, জিয়াউল ফারুক অপূর্বসহ অনেকে।
নজর কাড়া একটি ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছেন, নতুন ট্রেন্ড
চিত্রনায়িকা তমা মির্জা নিজের এমন একটি রেট্রো মেকওভারের ছবি অনুরাগী ও অনুসারীদের সাথে ভাগ করে নিয়ে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ট্রেন্ড অনুসরণ করছি।’
অভিনেত্রী তানজিকা আমিন ছবিটি প্রকাশ করে লিখেছেন, গা ভাসাইলাম
অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা লিখেছেন, কালজয়ী গান আর পুরোনো দিনের স্টাইলের সেই সোনালী যুগে ফিরে যাওয়া!
অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম লিখেছেন, আশির দশকের লুক।
সাফা কবির লিখেছেন, আশির দশকের এই উন্মাদনা এখন পুরো ইন্টারনেট জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আর চরকি এতে দারুণ এক চমৎকার ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে! আশির দশকের এই লুকে ডা. ইরিনকে কেমন লাগছে?
অন্যদিকে, ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব আশির ধাঁচের একটি ফ্রেমে বন্দী হয়ে লিখে জানিয়েছেন, ‘আশির দশকের কোনো এক বিকেল থেকে।’
অভিনেত্রী সাফা কবীর ও তাসনিয়া ফারিণও পিছিয়ে নেই এই ডিজিটাল নস্টালজিয়া থেকে। নিজের আশির দশকের রূপ প্রকাশ করে সাফা কবীর লিখেছেন, ‘আশির দশকের উন্মাদনা এখন পুরো ইন্টারনেটজুড়ে, আর চরকি বিষয়টিকে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে! আশির দশকের লুকে ডা. ইরিনকে কেমন লাগছে?’ একই ধারায় তাসনিয়া ফারিণ কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়েই যেন মন্তব্য করেছেন, ‘ভালোই হতো।’
সংগীতশিল্পী পড়শীও নিজের একটি সত্তাকে ৪০ বছর আগের সেই পুরোনো ক্যানভাসে আবিষ্কার করে বেশ রোমাঞ্চিত। ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘১৯৮০ সালে যদি থাকতাম, তাহলে মনে হয় এমন থাকতাম।’
চিত্রনায়িকা মৌসুমী
প্রায় তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী। অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি তিনি; বরং প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও সময়-সুযোগ মিললে যুক্ত হচ্ছেন নানা ধরনের শুটিংয়ের কাজে। এবার তাঁকে দেখা যাবে নতুন একটি সিনেমায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হতে যাওয়া সিনেমাটির নাম ‘আ বিউটিফুল লাই’। সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য রচনা করছেন নির্মাতা নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল। সিনেমাটির পরিচালনায়ও তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মৌসুমীকে কেন্দ্র করে নতুন এই কাজের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন নির্মাতা। সিনেমাটির শুটিং শিগগির শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসেবে নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে এর পরিধিও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লোকেশনে গল্পের প্রয়োজনে শুটিং করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে শুটিং, সহশিল্পী, মুক্তি ও অন্যান্য বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
‘আ বিউটিফুল লাই’ নিয়ে শুরুতে প্রাথমিকভাবে টেলিছবি হিসেবে নির্মাণের কথা ভেবেছিলেন নির্মাতা। গল্পের ব্যাপ্তি ও নির্মাণের সম্ভাবনা বিবেচনায় এখন এটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় রূপ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সে অনুযায়ী চিত্রনাট্যেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। গল্পের ধরনও বেশ আলাদা।
‘আ বিউটিফুল লাই’ মূলত একটি রোড ট্রিপের গল্প। এর সঙ্গে রয়েছে থ্রিলারের আবহ। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটে চলার মধ্যে গল্পের চরিত্রদের জীবনে ঘটতে থাকবে নানা ঘটনা। সেই ঘটনাগুলোর কেন্দ্রে থাকবে একটি মিথ্যা। সেই মিথ্যাকে ঘিরে গল্প এগোবে ভিন্ন এক বাস্তবতার দিকে।
সিনেমাটির নামের মধ্যেও যেন গল্পের মূল ভাবনাটি লুকিয়ে রয়েছে। মিথ্যা থেকে যখন একের পর এক ঘটনা তৈরি হয়, সেই মিথ্যার মধ্যেও কখনও কখনও জীবনের সুন্দর মুহূর্ত ধরা দেয়। নির্মাতা সেই বৈপরীত্যকে গল্পের ভেতর তুলে ধরতে চাইছেন।
নতুন এই সিনেমায় যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে মৌসুমীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এর গল্প তাঁকে আগ্রহী করেছে। বিশেষ করে রোড ট্রিপের সঙ্গে থ্রিলারের সংমিশ্রণ এবং মিথ্যাকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে ভালো লেগেছে। মৌসুমী বলেন, ‘আ বিউটিফুল লাই মূলত একটা রোড ট্রিপের গল্প। থ্রিলারধর্মী গল্প। গল্পে যা কিছু ঘটছে, একটা মিথ্যার ওপর ঘটছে। তারপরও ভালো লাগছে মুহূর্তগুলো। সে কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে আ বিউটিফুল লাই।’
গল্পের বিষয়ে খুব বেশি কিছু অবশ্য এখনই প্রকাশ করতে চান না মৌসুমী। তাঁর কথায়, সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত কোন মাধ্যমে মুক্তি পাবে, সেটি এখনও চূড়ান্ত নয়।
মৌসুমী ও নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের অবশ্য এটাই প্রথম কাজ নয়। দেশে থাকাকালীন এই নির্মাতার নির্দেশনায় অভিনয় করেছেন মৌসুমী। এবার দুজনের কাজের ক্ষেত্র যুক্তরাষ্ট্র। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সেখানকার লোকেশন ও পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে গল্পটি পর্দায় তুলে ধরার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
মৌসুমীর প্রবাসজীবনে পরিবারও গুরুত্বপূর্ণ জায়গাজুড়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি মা, বোন ও মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। একসময় ঢাকাই সিনেমার ব্যস্ততম নায়িকাদের একজন ছিলেন মৌসুমী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এলেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ এখনও অটুট। তাই দেশের বাইরে থেকেও যখন নতুন কোনো গল্প তাঁর সামনে আসে, গল্পটি পছন্দ হলে তাতে যুক্ত হচ্ছেন।
‘আ বিউটিফুল লাই’ও তেমনই একটি কাজ। তবে মৌসুমীর ভাষ্যে আপাতত ছবিটির সবচেয়ে বড় পরিচয়–মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হওয়া এক উপভোগ্য রোড ট্রিপের গল্প।
নুসরাত ফারিয়া
নুসরাত ফারিয়া। মডেল ও অভিনেত্রী। আজ তাঁর জন্মদিন। অভিনয়, গান ও উপস্থাপনা-বিনোদনের নানা মাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। বড় পর্দার পাশাপাশি ওটিটিতেও কাজ করেছেন। জন্মদিন, নতুন কাজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন।
এবারের জন্মদিন কীভাবে কাটবে?
গত পাঁচ বছর জন্মদিনে দেশের বাইরে ছিলাম। এ কারণে ঢাকায় জন্মদিন উদযাপন করা হয়নি। এবার ঢাকায় খুব আনন্দেই কাটবে জন্মদিন। তবে বড় কোনো আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব, কাছের মানুষদের সঙ্গে থাকব। জন্মদিনে সবচেয়ে ভালো লাগে মানুষের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা পেতে।
ভক্তরা যেভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করেন, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় উপহার। এখন জন্মদিনকে শুধু আনন্দের দিন হিসেবে দেখি না; বরং গত এক বছরে কী করেছি, কী শিখেছি, কোথায় ভুল করেছি এবং সামনে কী করতে চাই– এসব নিয়েও ভাবি।
শৈশবের জন্মদিনের কথা মনে পড়ে?
খুব মনে পড়ে। ছোটবেলায় জন্মদিন মানেই ছিল নতুন জামা, কেক, পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো। তখন জন্মদিনের আনন্দটা ছিল খুব সরল। কে কী উপহার দেবে, কেক কখন কাটব- এসব নিয়েই উত্তেজনা থাকত। এখন জীবন অনেক ব্যস্ত, দায়িত্বও বেড়েছে। তাই ছোটবেলার সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে ভালো লাগে। ওই সময়ের আনন্দটা অন্যরকম ছিল।
চলচ্চিত্রের এই সময়কে কীভাবে দেখছেন?
চলচ্চিত্র এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দর্শকের রুচি বদলেছে, গল্প বলার ধরন বদলেছে, মাধ্যমও বেড়েছে। সিনেমার পাশাপাশি ওটিটি এখন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করেছে। ফলে শিল্পীদের জন্য সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি দায়িত্বও বেড়েছে। দর্শক এখন অনেক সচেতন। শুধু তারকা থাকলেই একটা কাজ ভালো হবে-এমনটা তারা ভাবেন না। গল্প, অভিনয়, নির্মাণ–সবকিছুর দিকে তারা নজর দেন। আমি মনে করি, এটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন।
মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘ফুটবল ৭১’ নিয়ে কতটা আশাবাদী?
‘ফুটবল ৭১’ আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের যে ভূমিকা, সেটি আমাদের ইতিহাসের গর্বের অংশ। এমন একটি গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারা আমার জন্য আনন্দের। আমি চাই, আমাদের নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানুক। দর্শক সিনেমাটি ভালোভাবে গ্রহণ করবেন বলে আমি আশাবাদী।
‘লাপাত্তা’য় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?
‘লাপাত্তা’ করতে গিয়ে খুব ভালো লাগছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবার নিয়মিতভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো- এটা আমার কাছে বিশেষ অনুভূতি। এফডিসি আমার চিরচেনা জায়গা। কদিন আগেই সেখানে গানের শুটিং করেছি, এবার ‘লাপাত্তা’র শুটিং করেছি। মেহেদী হাসান হৃদয় এই সময়ের একজন মেধাবী নির্মাতা। দর্শকের পালস বোঝার চেষ্টা করেন তিনি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে গল্পটা।
গল্পের কোন বিষয়টি আপনাকে আকৃষ্ট করেছে?
গল্পের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রটিই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। পুরো গল্পটি তাঁকে ঘিরে এগিয়েছে। এটা শুধু থ্রিলার নয়। এখানে সাসপেন্স, থ্রিল ও আবেগের পাশাপাশি কমেডিও আছে। ফলে চরিত্রটিতে অনেক ধরনের শেড রয়েছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে এমন চরিত্র করার সুযোগ আমাকে আকৃষ্ট করেছে। নাসির উদ্দিন খান, শাহরিয়ার নাজিম জয়– চমৎকার শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছি। আশা করছি, দর্শকও নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা পাবেন।
জীবনের নানা ঝড়-ঝঞ্ঝার পর অভিনয়ে ফিরেছেন। এই ফেরাটা আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
খুব গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে সবকিছু সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না। কিছু পরিস্থিতি মানুষকে থামিয়ে দেয়, কিছু ঘটনা মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। আমিও অনেক কিছু থেকে শিখেছি। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ধৈর্য ধরতে পারি। বুঝেছি, কোনো কঠিন সময়ই চিরস্থায়ী নয়। মানুষের ভালোবাসা অনেক শক্তি দিয়েছে। সেই শক্তিতেই আবার কাজে ফিরতে পেরেছি। এখন সামনে তাকাতে চাই।
প্রায়ই দেশের বাইরে দেখা যায়। সম্প্রতি তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে ঘুরেছেন। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কেমন?
ভ্রমণ আমার খুব পছন্দের। নতুন জায়গা দেখা, নতুন সংস্কৃতি জানা, নতুন মানুষের জীবনযাপন দেখা– এসব আমাকে অনেক কিছু শেখায়। তুরস্কের অভিজ্ঞতা খুব ভালো ছিল। অক্সফোর্ডেও সময়টা উপভোগ করেছি। কাজের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের জন্য কিছু সময় বের করা দরকার। ভ্রমণ আমাকে মানসিকভাবে রিচার্জ করে। ফিরে এসে কাজের প্রতি নতুন উদ্যম পাই।
গান নিয়েও তো আপনাকে ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে?
গান আমার আরেকটি ভালো লাগার জায়গা। ‘লোকে বলে’ নিয়ে ভালো সাড়া পেয়েছি। ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করার অভিজ্ঞতাও চমৎকার। গানটির ভিডিওতে নিজেকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। সামনে আরও দুটি নতুন গান নিয়ে পরিকল্পনা আছে। সময় হলে শ্রোতাদের সঙ্গে সেগুলো শেয়ার করব।
উপস্থাপনায় ফেরার ইচ্ছা আছে?
উপস্থাপনা আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তবে এখন অভিনয় ও গানকে বেশি সময় দিচ্ছি। আমি যে মাধ্যমেই কাজ করি, সেখানে নতুন কিছু করার চেষ্টা থাকে। শুধু কাজ করার জন্য কাজ করতে চাই না। কাজটির মধ্যে যেন নিজের ভালো লাগা এবং দর্শকের জন্য নতুনত্ব থাকে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
অভিনয়ে আরও চ্যালেঞ্জিং চরিত্র করতে চাই। সবেচেয়ে বড় কথা, আমি এখনও স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নপূরণের গল্পটা এখনও শেষ হয়নি। গল্পনির্ভর কাজ করতে চাই। গানে আরও ভালো কিছু করার ইচ্ছা আছে।
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
ইতালির ভেনিসে হামলার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ভেনিস শাখার কর্মী ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ দাবি করা একদল যুবক তাকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একদল যুবক বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। এ সময় তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে তারা। হামলাকারীরা নিজেদের ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ দাবি করে।
এ ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বিস্তারিত জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ফিজিক্যালি হ্যারাস করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই। তারা আমার শরীরে হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে। আমার কানের পাশে আঘাত করেছে।’
এ ছাড়া তার ভাইয়ের স্ত্রীকেও আঘাত করা হয়েছে বলে ভিডিও বার্তায় জানান বাঁধন।
তাকে দমানো এত সহজ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘তারা বলেছে, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন।
বিপাশা বসু
দীর্ঘ কয়েক বছর পর্দার আলো থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা বসু। এবার সেই বিরতি কাটিয়ে অভিনয়ে ফিরছেন তিনি। তবে বড়পর্দার কোনো সিনেমা দিয়ে নয়, ক্রাইম থ্রিলার ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে নতুন ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক হানসল মেহতার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘বারাবাঁকি’-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে বিপাশাকে। ২০২০ সালে ‘ডেঞ্জারাস’ সিরিজে অভিনয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে তার বড় কোনো প্রজেক্ট। ফলে প্রায় ছয় বছর পর অভিনেত্রীর প্রত্যাবর্তন ঘিরে দর্শকের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
হানসল মেহতার ‘বারাবাঁকি’ নির্মিত হচ্ছে সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা অলোক লালের লেখা ‘দ্য বারাবাঁকি নারকোস: বাস্টিং ইন্ডিয়াজ মোস্ট নটোরিয়াস ড্রাগ কার্টেল’ বই অবলম্বনে। আশির দশকের উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলার বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে সিরিজটির গল্প।
সে সময় বারাবাঁকিতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল কুখ্যাত আফিম ব্যবসা ও মাদক কার্টেল। সেই চক্রের বিরুদ্ধে এক দূরদর্শী পুলিশ কর্মকর্তা ও তার দলের পরিচালিত অভিযান ঘিরেই এগোবে সিরিজের কাহিনি। বাস্তব ঘটনা, অপরাধজগতের অন্ধকার দিক এবং টানটান উত্তেজনায় সাজানো হবে ‘বারাবাঁকি’।
জানা গেছে, সিরিজটির গল্পের প্রাথমিক ধারণা শোনার পরই অভিনয়ের বিষয়ে সম্মতি দেন বিপাশা। এই সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবার হানসল মেহতার সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। গল্পে তার চরিত্রটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন্দ্রীয় চরিত্রের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
চরিত্রের প্রয়োজনে নিজের লুকেও পরিবর্তন এনেছেন বিপাশা। নতুন সাজ ও ভিন্ন অবতারে তাকে পর্দায় দেখা যাবে। তবে তার চরিত্রের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে আনেননি নির্মাতারা। ফলে বিপাশার চরিত্র ঘিরে দর্শকের জন্য বিশেষ চমক রাখা হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে মুম্বাইয়ে গোপনে সিরিজটির শুটিং শুরু হয়েছে। বিপাশা বসু ছাড়াও এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন বিশাল জেঠওয়া ও সানি কৌশল।
এর আগে ‘স্ক্যাম ১৯৯২’, ‘স্কুপ’ ও ‘স্ক্যাম ২০০৩’-এর মতো আলোচিত ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করেছেন হানসল মেহতা। বাস্তব ঘটনা ও নির্ভরযোগ্য গল্প বলার জন্য তার নির্মাণ নিয়ে দর্শকের আলাদা আগ্রহ রয়েছে। এবার তার পরিচালনায় বিপাশা বসুর দীর্ঘ বিরতির পর প্রত্যাবর্তন-সব মিলিয়ে ‘বারাবাঁকি’ নিয়ে এরই মধ্যে বলিউডে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
পরীমনি
সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া ছবিতে তার কোলে দেখা যায় এক সদ্যজাত শিশুকে।
ছবিটির সঙ্গে পরীমনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘তিন নাম্বার জন ডান। আলহামদুলিল্লাহ।’
এরপর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে কি তৃতীয় সন্তানের মা হলেন পরীমনি? নাকি আবারও কোনো শিশুকে দত্তক নিয়েছেন এই অভিনেত্রী- এমন প্রশ্নই ঘুরছে সামাজিক মাধ্যমে। শিশুদের প্রতি পরীমনির ভালোবাসার কথা অবশ্য অনেকেরই জানা। নিজের সন্তানদের পাশাপাশি অন্য শিশুদের প্রতিও তার রয়েছে আলাদা টান। বিভিন্ন সময় একাধিক সন্তানের মা হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। এমনকি একসময় মজা করে ১০০ সন্তানের মা হওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেছিলেন পরীমনি।
চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কে থাকাকালীন তাদের ঘরে আসে ছেলে শাহীম মোহাম্মদ পূণ্য। পরে রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ছেলেকে নিজের কাছেই রেখে বড় করছেন পরীমনি। এরপর তিনি একটি কন্যাশিশুকে দত্তক নেন। তার নাম রাখা হয় সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম।
বর্তমানে দুই সন্তান নিয়েই পরীমনির ব্যস্ততা। অভিনয় ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের জন্য সময় বের করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমেও নিয়মিত সন্তানদের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতে দেখা যায় তাকে।
এদিকে সোমবারের ছবিতে পরীমনিকে দেখা যায় গাড়ির ভেতর রোদচশমা পরা অবস্থায়। তার কোলে থাকা সদ্যজাত শিশুটিকে নিয়েই মূলত শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভক্ত-অনুরাগীদের অভিনন্দন ও নানা প্রশ্ন জমতে থাকে।
শিশুটির পরিচয় এবং ‘তিন নাম্বার জন ডান’ ক্যাপশনের রহস্য জানতে পরীমনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার কাছ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে শিশুটিকে ঘিরে রহস্য আরও বেড়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ধারণা করছেন, পরীমনি হয়তো নতুন করে কোনো শিশুকে দত্তক নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ছবির শিশুটি হয়তো তার পরিচিত কারও সন্তান। তবে শিশুটির পরিচয় কিংবা ছবির প্রকৃত প্রেক্ষাপট এখনো নিশ্চিত নয়।
পরীমনির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ফলে এখন সবার অপেক্ষা, ‘তিন নাম্বার জন’ নিয়ে আসলে কী বলতে চেয়েছেন পরীমনি, সেটি কবে নিজেই পরিষ্কার করেন তিনি।