‘অ্যাপেক্স’ সিনেমার দৃশ্য

  • প্রকাশ : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ এএম

এখন সব বড় তারকাকে অবধারিতভাবে নেটফ্লিক্সের ‘কর্তব্য’ পালন করতে হয়। শার্লিজ থেরন সেটা কয়েক বছর ধরেই করেছেন। এসব সিনেমা হয় ঝাঁ–চকচকে, কিন্তু ভেতরে প্রাণ থাকে না। কিছু আশাজাগানিয়া মুহূর্ত থাকলেও ‘অ্যাপেক্স’ তাই মোটাদাগে চলনসই সিনেমা। তবু সারা দুনিয়ার মানুষ দেখছে, গত ২৪ এপ্রিল মুক্তির পর থেকেই এখনো নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক টপ চার্টের শীর্ষে ছিল সারভাইভ্যাল থ্রিলারটি। এখন রয়েছে দুইয়ে। মুক্তির প্রথম ১০ দিনেই হয়েছে ৮ কোটি ভিউ!


আইসল্যান্ডীয় নির্মাতা বালতাসার কোরমাকুরের সিনেমাটি পুরোনো ঢঙের। শুরুর দৃশ্যটাও দুর্দান্ত, যা মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমা ‘ক্লিফহ্যাঙ্গার’কে। নরওয়ের এক সুউচ্চ পাহাড় চূড়া আরোহণে ব্যস্ত সাশা (শালিজ থেরন) ও টমিকে (এরিক বানা)। ভয়ংকর ট্রল ওয়ালের খাড়া পাহাড়ে শীতকালে চড়া সহজ নয়। দিনের শুরুতে তাঁরা তাঁবু থেকে মাথা বের করে চারপাশ দেখেন, আর দর্শক তখন হাঁ করে আবিষ্কার করে—তাঁদের তাঁবু ঝুলছে প্রায় ৯০ ডিগ্রি খাড়া এক পাথুরে পাহাড়ের গায়ে। তাঁদের ছোট্ট আশ্রয়ের নিচে আছে শুধু ভয়ংকর এক অতল খাদ। প্রথম দৃশ্য থেকেই পরিচালক কোরমাকুর ও চিত্রগ্রাহক লরেন্স শের এমন সব মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া ড্রোন শট ব্যবহার করেন, যা পুরো ছবিজুড়েই বিপদের অনুভূতিকে তীব্র করে তোলে।


ঝড় ঘনিয়ে এলেও সাশা থামতে চায় না। আঙুল রক্তাক্ত ও ব্যান্ডেজে মোড়া থাকা সত্ত্বেও সে আরও ওপরে উঠতে চায়। কিন্তু বাস্তববাদী টমি দিন শেষ করার পরামর্শ দেয়। সামান্য পা ফসকে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত সে সাশাকে রাজি করায়। টমি সাশাকে জানায়, এ ধরনের চরম অ্যাডভেঞ্চারে সে নিজের সীমায় পৌঁছে গেছে এবং আর এগোতে চায় না। ফলে পরদিন নিরাপদে নিচে নামার চেষ্টায় ট্র্যাজেডি ঘটলে তা খুব একটা অপ্রত্যাশিত লাগে না।


পাঁচ মাস পর, গল্প চলে আসে অস্ট্রেলিয়ায়। টমিকে হারিয়ে শোকাহত সাশা এখানে এসেছে একা ক্যাম্পিং করতে, নির্জনতা খুঁজতে। কাল্পনিক ওয়ানডারা ন্যাশনাল পার্কে পৌঁছে সে এক পার্ক রেঞ্জারের (অ্যারন পেডারসন) সঙ্গে দেখা করে। তিনি সাশাকে সতর্ক করেন—এত নির্জন জায়গায় একা যাওয়া নিরাপদ নয়। তাঁর অফিসের দেয়ালে ঝোলানো অসংখ্য ‘নিখোঁজ ব্যক্তি’র পোস্টারই সেই আতঙ্কের ইঙ্গিত দেয়।


শুরুতেই সম্ভাব্য হুমকির আভাস পাওয়া যায়। স্থানীয় এক ভয়ংকর ক্যাঙারু শিকারি (ম্যাট হোয়েলান) ও তার মাতাল সঙ্গী (রব কালটন) সাশাকে বারবার বিরক্তি করে। এরপরেই দৃশ্যপটে হাজির হয় তুলনামূলক নিরীহ, সদা হাস্য স্থানীয় যুবক বেন (ট্যারন এগারটন)। পেট্রলপাম্পে সে সাশাকে বলে, সরাসরি রাস্তা না নিয়ে একটু ঘুরপথে যেতে, কারণ দৃশ্যগুলো নাকি অসাধারণ সুন্দর। সে মিথ্যা বলে না, প্রকৃতিই সেখানে ছবির অন্যতম আকর্ষণ।


পরদিন সকালে সাশা নদীতে কায়াকিং করতে নামে। দৃশ্যগুলো ‘দ্য রিভার ওয়াইল্ড’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। পাথর, জলপ্রপাত আর ভয়ংকর স্রোতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জীবন বাঁচানোর লড়াই। আসল বিপদ শুরু হয় তখনই, যখন সাশার ব্যাগ চুরি হওয়ার পর বেন হাজির হয়ে তাকে নতুন সরঞ্জাম ও সকালের নাশতার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু খুব দ্রুতই বোঝা যায়, তার উদ্দেশ্য ভয়ংকর। কিছুটা সময় পর বোঝা যায়, হাতের ক্রসবো দিয়ে বেন আসলে সাশাকে শিকার করতে চায়! এরপর শুরু হয় শিকারি বেন আর সাশার ইঁদুর-বেড়াল দৌড়।


‘অ্যাপেক্স’-এর গল্প এগোয় চেনা টেমপ্লেট মেনেই। ‘উলফ ক্রিক’, ‘কিলিং গ্রাউন্ড’, ‘ফ্রি সোলো’ থেকে শুরু করে ‘ওয়েক ইন ফ্রাইট’—অনেক সিনেমার সঙ্গেই এটির মিল আছে। কোরমাকুর অস্ট্রেলিয়ার পাহাড়ি প্রকৃতি ও ঘন জঙ্গলকে দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সাশার প্রাণপণ দৌড়ের দৃশ্যগুলো প্রবল রোমাঞ্চ তৈরি করে।


এগারটন বেন চরিত্রটিকে যথেষ্ট শীতল ও ভয়ংকর করে তুলেছেন। কখনো অদ্ভুত হাস্যরস, কখনো শিশুসুলভ আচরণ—সব মিলিয়ে তার মধ্যে মানসিক বিকারের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। যখন সে সাশাকে ধরে নিজের ভয়ংকর আস্তানায় নিয়ে যায়, তখন সাশা ভয়াবহতা বুঝতে শুরু করে। এগারটন দারুণভাবে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন উচ্চারণও রপ্ত করেছেন।


তবে এসব মুহূর্তের চেয়ে বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হলো—কখন কার হাতে নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে, সেই টানাপোড়েন। এগারটনের উন্মাদ চিৎকার আর ভয়ংকর ক্রোধ ভরা চোখের বিপরীতে থেরনের সংযত দৃঢ়তা ও সহনশীলতা তৈরি করেছে দুর্দান্ত এক দ্বন্দ্ব। সাশা চরিত্রে শালিজ থেরন কোনো অজেয় সুপারহিরো নন বরং সত্যিকারের আতঙ্কিত ও বিধ্বস্ত এক নারী। তাই যখনই সে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পায়, সেটি দর্শকের জন্য রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সরু গিরিখাতে আটকে পড়ার পর তার পাহাড়ে ওঠার দক্ষতা আবার কাজে লাগে। পর্দায় যারা শার্লিজকে দেখেছেন, তাঁরা জানেন—সবচেয়ে কঠিন অ্যাকশন চরিত্রও সামলানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা তাঁর আছে। এবার তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম প্রকৃতির মধ্যে, যেখানে একদিকে প্রকৃতির ভয়ংকর শক্তি, অন্যদিকে এক উন্মাদ সিরিয়াল কিলার—দুইয়ের সঙ্গেই লড়তে হয়। তবে এটিকে তাঁর জন্য খুব কঠিন অভিনয় বলেও মনে হয় না। একেবারে দায়সারা নয়, কিন্তু নিজেকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জও করেননি। বরং মনে হয়, তাঁর বাকি অ্যাকশন ক্যারিয়ারে তিনি হয়তো সব সময়ই ‘ফিউরিওসা’র ছায়া বয়ে বেড়াবেন।


২০২৪ সালে রোমান্টিক ড্রামা ‘টাচ’-এর পর কোরমাকুর আবার ফিরেছেন তাঁর চেনা সারভাইভ্যাল থ্রিলারের জগতে। এখানে তিনি তুলে ধরেছেন এমন এক রোমাঞ্চপিপাসু নারীর গল্প, যার কাছে নিজের সীমা পরীক্ষা করাই যেন জীবনের উদ্দেশ্য, বিশেষ করে যখন সব প্রতিকূলতা তার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। কোরমাকুর তাঁর লোকেশন ব্যবহারে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। গল্পের প্রতিটি মোড়, গুহা, নদীর স্রোত আর জলপ্রপাতকে তিনি এমনভাবে কাহিনির সঙ্গে মিশিয়েছেন যে প্রতিটির সম্ভাবনাই পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়েছে।


তবে সিনেমাটি কেবল এই সময়ের গল্প বলে, একবারে সহজবোধ্য ভাষায়; চরিত্রের গভীরে যেতে চায় না। ফলে সাশা আর বেনের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার অংশগুলো কখনো কখনো কিছুটা পুনরাবৃত্তিমূলক মনে হতে পারে। সাশার মতো শক্ত মনের একজন চরিত্র সহজে ভয় পাবে না, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এত বুদ্ধিমান একজন মানুষ কেন একেবারে অচেনা কারও পরামর্শে জনবিরল পথে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

গল্প খুব ছকবাঁধা হলেও মাত্র ঘণ্টা দেড়েকের ‘অ্যাপেক্স’ একবার দেখা যেতেই পারে।




মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২৬ পিএম

এ প্রজন্মের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। গেল কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছে তার। 


এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে। বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন।




মামলার এজাহারে স্নিগ্ধা চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিজ্ঞাপনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলে তাকে একটি হাসপাতালে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নেননি। পরে ন্যায়বিচারের আশায় থানায় মামলা করেন।


ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান তাকে ‘জেবা তাকিয়া’ নামের অন্য এক নারী মনে করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সেই সময় ইমন পরিস্থিতি শান্ত না করে উল্টো স্নিগ্ধাকে ওই পরিচয় মেনে নেওয়ার জন্য ইশারা করেন। অভিনেত্রী দাবি করেন, জেবা তাকিয়া চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। তিনি স্নিগ্ধাকে তাকিয়া ভেবে মারধর করেছেন।


স্নিগ্ধা বলেন, ‘তিনি রশি দিয়ে আমার দুই পা বাঁধল। এবং সেই রশি সম্পর্কে আমাকে বলে, এই রশি দিয়ে হাসিনা-রাজাকারদেরকে ফাঁসি দিয়েছে! তারেক রহমান আইসা আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে। হাসিনা আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে। সালাউদ্দিন আমার পায়ের কাছে পড়ে থাকে! তোর মতো মেয়ে মরলে আমার কিছু যায় না। আমি প্রতিদিন মাটি চাপা দিয়ে রাখি।’


তিনি যোগ করেন, ‘আমি ওই রুমের মধ্যে একা। তার যত লোকজন আছে সবাইকে বের করে দিয়েছে। আমার হাত বাঁধছে, আমার পা বাঁধছে, আমার ফোনটা ছুঁড়ে মারছে, মেরে আমার গলা চিপে ধরছে!’


অভিনেত্রী জানান, মারধরের সময় চেয়ারম্যানকে তিনি বলেন, আপনার নিজের সন্তান আছে, আল্লাহ রহম করেন। তখন অভিযুক্ত অভিনেত্রীর চুল টেনে ধরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাথি মারেন, যার ফলে তার শরীর ফুলে গেছে। 


শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে তিনি বলেন, আমার বাবা-মা আমাকে জীবনে টোকা দেয় নাই! আমার বাবা-মা জীবনে আমাকে একটু টোকা দেয় নাই। সে আমার চুল টেনে ধরে লাথি মেরেছে। এগুলা ফুলে ফুলে আছে।


অভিনেত্রীর দাবি, ব্যক্তিজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি প্রথমে আইনি পদক্ষেপ নেননি। পরে তিনি খিলক্ষেত থানায় গিয়ে মামলা করার উদ্যোগ নেন।


স্নিগ্ধা চৌধুরী বাংলাদেশের একজন পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। তিনি ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। গত ঈদে সিনেমাহলে মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে নায়িকা স্নিগ্ধার আকুতি

‘বিচার না পেলে আত্মহত্যা করবো’


অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ পিএম

এ প্রজন্মের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। গত কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রেশার কুকার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছে তার।


এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিজ্ঞাপনের চুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালে ডেকে নিয়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। এই অভিযোগ এনে মামলাও করেছেন স্নিগ্ধা।




সেই মামলায় এরইমধ্যে জামিন পেয়েছেন অভিযুক্ত। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেন স্নিগ্ধা চৌধুরী। সেখানে তিনি জানান, তাকে বারবার হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি এই ঘটনায় বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।


তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘টাকার কত ক্ষমতা? একটা মেয়েকে ডেকে নিয়ে এভাবে নির্যাতন করার পরও তাকে গ্রেফতার করা হলো না। বরং একজন প্রতিমন্ত্রীর আন্ডারে তার জামিন হয়ে গেছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাই। তিনি একজন বড় মনের মানুষ। তার ঘরেও আমার মতো একজন মেয়ে আছেন। আমার বিশ্বাস তিনি এই ঘটনাটা দেখবেন। আমি যেন ন্যায়বিচার পাই সেটা নিশ্চিত করবেন।’ 


বিচার না পেলে আত্মহত্যা করবেন জানিয়ে স্নিগ্ধা আরও বলেন, ‘আমাকে প্রতিনিয়ত মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যেখানে আমার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা জরুরি সেখানে উল্টো অপরাধী অগ্রিম জামিন পেয়ে যায়। কোন দেশে আছি আমরা? যদি আমার কিছু হয় বা অপমৃত্যু হয় তবে ওরা সবাই দায়ী থাকবে।’


 চুক্তি সইয়ের নামে হাসপাতালে ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ, অভিনেত্রীর মামলা

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০৬ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০৬ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


মাহিরা খান

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০৬ পিএম

সামাজিক মাধ্যমে তাদের পারস্পরিক প্রশংসা কিংবা সহমর্মিতার ছবি দেখে ভক্তদের মনে হতেই পারে পাকিস্তানি বিনোদন জগতের শীর্ষ তারকাদের বুঝি প্রগাঢ় বন্ধুত্ব! তবে সেই ধারণায় এবার নিজেই জল ঢেলে দিলেন বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান। তিনি জানান, শিল্পীদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলেও পর্দার পেছনের বাস্তব চিত্রটি পুরোপুরি ভিন্ন।


সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এক ইভেন্টে আয়োজিত গাজায় মানবতাবাদী ত্রাণ তহবিলের এক চ্যারিটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন মাহিরা। ব্রিটিশ-পাকিস্তানি ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময়ের একপর্যায়ে তাকে প্রশ্ন করা হয় পরবর্তী প্রজেক্টে সাজাল আলি, হানিয়া আমির ও ইকরা আজিজের মধ্যে কার সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি?


প্রশ্নটি শুনেই জবাব দেওয়ার আগে বিষয়টি পরিষ্কার করে নেন মাহিরা। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের সবার সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে আছি, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের কারো সাথেই আমার বন্ধুত্ব নেই।’


অভিনেত্রী ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, যার যার ব্যস্ত সূচির কারণে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ বা আড্ডা দেওয়ার সুযোগ একেবারেই হয়ে ওঠে না। তবে সহকর্মীদের সঙ্গে কোনো ধরনের রেষারেষি বা তিক্ততার কথা নাকচ করে দেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক শত্রুতার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে মাহিরা জোর দিয়ে বলেন, তাদের মাঝে কোনো বৈরিতা নেই।


এমনকি সহশিল্পী সাজাল আলির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে মাহিরা মন্তব্য করেন, যদি ভবিষ্যতে কোনো সিনেমায় তারা দুজন একসাথে অভিনয় করার সুযোগ পান, তবে তা পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা হতে পারে।


লন্ডনের সেই অনুষ্ঠানে দেওয়া মাহিরার এমন স্পষ্ট ও খোলামেলা মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনুরাগীরা তার এই সততার প্রশংসা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিশেষ করে সাজালের সঙ্গে পর্দায় তাকে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।


উল্লেখ্য, কাজের জায়গায় মাহিরা খানকে সবশেষ দেখা গেছে ‘লাভ গুরু’, ‘নিলোফার’ ও ‘আগ লাগে বস্তি মে’ প্রজেক্টে। এছাড়া ‘রাজিয়া’, ‘হাম কাহান কে সাচে থে’, ‘এক হ্যায় নিগার’, ‘সাদকে তুমহারে’, ‘বিন রায়’ এবং ‘কায়েদ-ই-আজম জিন্দাবাদ’-এর মতো তুমুল জনপ্রিয় প্রজেক্টে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। খুব শিগগিরই তাকে ওয়াহাজ আলির বিপরীতে নতুন ড্রামা সিরিজ ‘মিত্টি দে বাওয়ে’-তে দেখা যাবে।


পিয়া জান্নাতুল। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ পিএম

নিরাপত্তা চেয়ে করা আইনজীবী ও আলোচিত মডেল জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া ওরফে পিয়া জান্নাতুলের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন বনানী থানা পুলিশকে জিডির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।


প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোস্তফা কামাল বলেন, পিয়া জান্নাতুলের জিডির বিষয়ে বনানী থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 




এর আগে গত ৮ জুলাই পিয়া জান্নাতুল বনানী থানায় জিডি করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, অতীত বা বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত নন তিনি। তার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও নেই।


সম্প্রতি একজন নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সম্পূর্ণ মানবিক ও আইনসম্মত অবস্থান গ্রহণ করার পর গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আপত্তিকর বার্তা পাচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে হুমকিমূলক ফোনকল আসছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেন পিয়া।


শুধু তাই নয়, প্রায় তিন মাস ধরে কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন স্থানে অনুসরণ করছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কবোধ করছেন।


তার আশঙ্কা, যে কোনো সময় তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ পুলিশি সুরক্ষা কামনা করেন পিয়া জান্নাতুল।

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩০ এএম
  • আপডেট : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩০ পিএম


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩০ এএম

বিজ্ঞাপনের চুক্তির কথা বলে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রোববার (২৬ জুলাই) রাতে খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন।


জানা গেছে, বিজ্ঞাপনের চুক্তি স্বাক্ষরের প্রলোভন দেখিয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরীকে হাসপাতালে ডাকা হয়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।


অভিনেত্রীর দাবি, ব্যক্তিজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি প্রথমে আইনি পদক্ষেপ নেননি। পরে তিনি খিলক্ষেত থানায় গিয়ে মামলা করার উদ্যোগ নেন।


স্নিগ্ধা চৌধুরী বাংলাদেশের একজন পরিচিত মডেল ও অভিনেত্রী। তিনি ২০১৮ সালে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন। গত ঈদে সিনেমাহলে মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’।


রাকুল প্রীত সিং

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২৩ পিএম

অভিনয়ের কোনো স্বপ্ন, পরিকল্পনা কিংবা শৈশবের আকাঙ্ক্ষা ছিল না বলিউড অভিনেত্রী রাকুল প্রীত সিংয়ের। মোটা অঙ্কের এক পারিশ্রমিকই তাঁকে প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। 


সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনের শুরুর গল্প তুলে ধরে অভিনেত্রী জানান, কলেজে পড়ার সময় হঠাৎ একটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পান। ছবিটির জন্য তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা জানানো হয়। সে সময় একজন কলেজছাত্রীর কাছে এত বড় অঙ্কের অর্থ ছিল অকল্পনীয়। তাই টাকার লোভেই তিনি প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছিলেন।


রাকুল জানান, তখন তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল নিজের একটি গাড়ি কেনা। বন্ধুদের মধ্যে সবার আগে গাড়ির মালিক হতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই প্রথম সিনেমায় অভিনয়ে রাজি হন। তবে তখনও তিনি ভাবেননি, এই সিদ্ধান্তই তাঁর ভবিষ্যৎ বদলে দেবে। প্রথম ছবির কাজ শেষ হওয়ার পর অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়।


একই সঙ্গে নির্মাতা-প্রযোজকদের কাছ থেকেও নতুন নতুন কাজের প্রস্তাব আসতে থাকে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। একের পর এক দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন রাকুল প্রীত সিং। 


পরে বলিউডেও সফলভাবে অভিষেক ঘটে তাঁর। বর্তমানে দক্ষিণী সিনেমা ও হিন্দি সিনেমা- দুই অঙ্গনেই সমান জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।


রাকুলের মতে, শুধু অর্থের জন্য নেওয়া সেই একটি সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। যে অভিনয়জগতে আসার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না, সেখানেই আজ তিনি পরিচিত ও সফল অভিনেত্রীদের একজন।