‘অ্যাপেক্স’ সিনেমার দৃশ্য

  • প্রকাশ : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ এএম

এখন সব বড় তারকাকে অবধারিতভাবে নেটফ্লিক্সের ‘কর্তব্য’ পালন করতে হয়। শার্লিজ থেরন সেটা কয়েক বছর ধরেই করেছেন। এসব সিনেমা হয় ঝাঁ–চকচকে, কিন্তু ভেতরে প্রাণ থাকে না। কিছু আশাজাগানিয়া মুহূর্ত থাকলেও ‘অ্যাপেক্স’ তাই মোটাদাগে চলনসই সিনেমা। তবু সারা দুনিয়ার মানুষ দেখছে, গত ২৪ এপ্রিল মুক্তির পর থেকেই এখনো নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক টপ চার্টের শীর্ষে ছিল সারভাইভ্যাল থ্রিলারটি। এখন রয়েছে দুইয়ে। মুক্তির প্রথম ১০ দিনেই হয়েছে ৮ কোটি ভিউ!


আইসল্যান্ডীয় নির্মাতা বালতাসার কোরমাকুরের সিনেমাটি পুরোনো ঢঙের। শুরুর দৃশ্যটাও দুর্দান্ত, যা মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমা ‘ক্লিফহ্যাঙ্গার’কে। নরওয়ের এক সুউচ্চ পাহাড় চূড়া আরোহণে ব্যস্ত সাশা (শালিজ থেরন) ও টমিকে (এরিক বানা)। ভয়ংকর ট্রল ওয়ালের খাড়া পাহাড়ে শীতকালে চড়া সহজ নয়। দিনের শুরুতে তাঁরা তাঁবু থেকে মাথা বের করে চারপাশ দেখেন, আর দর্শক তখন হাঁ করে আবিষ্কার করে—তাঁদের তাঁবু ঝুলছে প্রায় ৯০ ডিগ্রি খাড়া এক পাথুরে পাহাড়ের গায়ে। তাঁদের ছোট্ট আশ্রয়ের নিচে আছে শুধু ভয়ংকর এক অতল খাদ। প্রথম দৃশ্য থেকেই পরিচালক কোরমাকুর ও চিত্রগ্রাহক লরেন্স শের এমন সব মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া ড্রোন শট ব্যবহার করেন, যা পুরো ছবিজুড়েই বিপদের অনুভূতিকে তীব্র করে তোলে।


ঝড় ঘনিয়ে এলেও সাশা থামতে চায় না। আঙুল রক্তাক্ত ও ব্যান্ডেজে মোড়া থাকা সত্ত্বেও সে আরও ওপরে উঠতে চায়। কিন্তু বাস্তববাদী টমি দিন শেষ করার পরামর্শ দেয়। সামান্য পা ফসকে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত সে সাশাকে রাজি করায়। টমি সাশাকে জানায়, এ ধরনের চরম অ্যাডভেঞ্চারে সে নিজের সীমায় পৌঁছে গেছে এবং আর এগোতে চায় না। ফলে পরদিন নিরাপদে নিচে নামার চেষ্টায় ট্র্যাজেডি ঘটলে তা খুব একটা অপ্রত্যাশিত লাগে না।


পাঁচ মাস পর, গল্প চলে আসে অস্ট্রেলিয়ায়। টমিকে হারিয়ে শোকাহত সাশা এখানে এসেছে একা ক্যাম্পিং করতে, নির্জনতা খুঁজতে। কাল্পনিক ওয়ানডারা ন্যাশনাল পার্কে পৌঁছে সে এক পার্ক রেঞ্জারের (অ্যারন পেডারসন) সঙ্গে দেখা করে। তিনি সাশাকে সতর্ক করেন—এত নির্জন জায়গায় একা যাওয়া নিরাপদ নয়। তাঁর অফিসের দেয়ালে ঝোলানো অসংখ্য ‘নিখোঁজ ব্যক্তি’র পোস্টারই সেই আতঙ্কের ইঙ্গিত দেয়।


শুরুতেই সম্ভাব্য হুমকির আভাস পাওয়া যায়। স্থানীয় এক ভয়ংকর ক্যাঙারু শিকারি (ম্যাট হোয়েলান) ও তার মাতাল সঙ্গী (রব কালটন) সাশাকে বারবার বিরক্তি করে। এরপরেই দৃশ্যপটে হাজির হয় তুলনামূলক নিরীহ, সদা হাস্য স্থানীয় যুবক বেন (ট্যারন এগারটন)। পেট্রলপাম্পে সে সাশাকে বলে, সরাসরি রাস্তা না নিয়ে একটু ঘুরপথে যেতে, কারণ দৃশ্যগুলো নাকি অসাধারণ সুন্দর। সে মিথ্যা বলে না, প্রকৃতিই সেখানে ছবির অন্যতম আকর্ষণ।


পরদিন সকালে সাশা নদীতে কায়াকিং করতে নামে। দৃশ্যগুলো ‘দ্য রিভার ওয়াইল্ড’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। পাথর, জলপ্রপাত আর ভয়ংকর স্রোতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জীবন বাঁচানোর লড়াই। আসল বিপদ শুরু হয় তখনই, যখন সাশার ব্যাগ চুরি হওয়ার পর বেন হাজির হয়ে তাকে নতুন সরঞ্জাম ও সকালের নাশতার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু খুব দ্রুতই বোঝা যায়, তার উদ্দেশ্য ভয়ংকর। কিছুটা সময় পর বোঝা যায়, হাতের ক্রসবো দিয়ে বেন আসলে সাশাকে শিকার করতে চায়! এরপর শুরু হয় শিকারি বেন আর সাশার ইঁদুর-বেড়াল দৌড়।


‘অ্যাপেক্স’-এর গল্প এগোয় চেনা টেমপ্লেট মেনেই। ‘উলফ ক্রিক’, ‘কিলিং গ্রাউন্ড’, ‘ফ্রি সোলো’ থেকে শুরু করে ‘ওয়েক ইন ফ্রাইট’—অনেক সিনেমার সঙ্গেই এটির মিল আছে। কোরমাকুর অস্ট্রেলিয়ার পাহাড়ি প্রকৃতি ও ঘন জঙ্গলকে দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সাশার প্রাণপণ দৌড়ের দৃশ্যগুলো প্রবল রোমাঞ্চ তৈরি করে।


এগারটন বেন চরিত্রটিকে যথেষ্ট শীতল ও ভয়ংকর করে তুলেছেন। কখনো অদ্ভুত হাস্যরস, কখনো শিশুসুলভ আচরণ—সব মিলিয়ে তার মধ্যে মানসিক বিকারের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। যখন সে সাশাকে ধরে নিজের ভয়ংকর আস্তানায় নিয়ে যায়, তখন সাশা ভয়াবহতা বুঝতে শুরু করে। এগারটন দারুণভাবে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন উচ্চারণও রপ্ত করেছেন।


তবে এসব মুহূর্তের চেয়ে বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হলো—কখন কার হাতে নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে, সেই টানাপোড়েন। এগারটনের উন্মাদ চিৎকার আর ভয়ংকর ক্রোধ ভরা চোখের বিপরীতে থেরনের সংযত দৃঢ়তা ও সহনশীলতা তৈরি করেছে দুর্দান্ত এক দ্বন্দ্ব। সাশা চরিত্রে শালিজ থেরন কোনো অজেয় সুপারহিরো নন বরং সত্যিকারের আতঙ্কিত ও বিধ্বস্ত এক নারী। তাই যখনই সে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পায়, সেটি দর্শকের জন্য রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সরু গিরিখাতে আটকে পড়ার পর তার পাহাড়ে ওঠার দক্ষতা আবার কাজে লাগে। পর্দায় যারা শার্লিজকে দেখেছেন, তাঁরা জানেন—সবচেয়ে কঠিন অ্যাকশন চরিত্রও সামলানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা তাঁর আছে। এবার তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম প্রকৃতির মধ্যে, যেখানে একদিকে প্রকৃতির ভয়ংকর শক্তি, অন্যদিকে এক উন্মাদ সিরিয়াল কিলার—দুইয়ের সঙ্গেই লড়তে হয়। তবে এটিকে তাঁর জন্য খুব কঠিন অভিনয় বলেও মনে হয় না। একেবারে দায়সারা নয়, কিন্তু নিজেকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জও করেননি। বরং মনে হয়, তাঁর বাকি অ্যাকশন ক্যারিয়ারে তিনি হয়তো সব সময়ই ‘ফিউরিওসা’র ছায়া বয়ে বেড়াবেন।


২০২৪ সালে রোমান্টিক ড্রামা ‘টাচ’-এর পর কোরমাকুর আবার ফিরেছেন তাঁর চেনা সারভাইভ্যাল থ্রিলারের জগতে। এখানে তিনি তুলে ধরেছেন এমন এক রোমাঞ্চপিপাসু নারীর গল্প, যার কাছে নিজের সীমা পরীক্ষা করাই যেন জীবনের উদ্দেশ্য, বিশেষ করে যখন সব প্রতিকূলতা তার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। কোরমাকুর তাঁর লোকেশন ব্যবহারে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। গল্পের প্রতিটি মোড়, গুহা, নদীর স্রোত আর জলপ্রপাতকে তিনি এমনভাবে কাহিনির সঙ্গে মিশিয়েছেন যে প্রতিটির সম্ভাবনাই পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়েছে।


তবে সিনেমাটি কেবল এই সময়ের গল্প বলে, একবারে সহজবোধ্য ভাষায়; চরিত্রের গভীরে যেতে চায় না। ফলে সাশা আর বেনের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার অংশগুলো কখনো কখনো কিছুটা পুনরাবৃত্তিমূলক মনে হতে পারে। সাশার মতো শক্ত মনের একজন চরিত্র সহজে ভয় পাবে না, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এত বুদ্ধিমান একজন মানুষ কেন একেবারে অচেনা কারও পরামর্শে জনবিরল পথে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

গল্প খুব ছকবাঁধা হলেও মাত্র ঘণ্টা দেড়েকের ‘অ্যাপেক্স’ একবার দেখা যেতেই পারে।




পরিমনি

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৫ এএম

জন্মদিনে চট্টগ্রাম থেকে উড়োজাহাজে করে চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্য শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন কেউ একজন। শনিবার রাতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী নিজেই এমন উপহার পাওয়ার কথা জানান। তবে ফুল পাঠানো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। রোববার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে আলোচনা। 


কে সেই ব্যক্তি, যিনি পরীমনির জন্য এত দূর থেকে উড়োজাহাজে শিউলি ফুল পাঠালেন? এই আলোচনায় যোগ দেন অভিনেতা ও পরিচালক শাহরিয়ার নাজিম জয়ও। রসিকতা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেই পোস্টের মন্তব্যে পরীমনি তার জবাবও দিয়েছেন।


কয়েক দিন আগে ফেসবুকে পরীমনি লিখেছিলেন, ‘২ মণ শিউলি ফুল দরকার। ২৪ অক্টোবর দুপুর ১২টায়!’ তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসেন চট্টগ্রামের এক নারী।উড়োজাহাজে করে ঢাকায় পাঠান শিউলি ফুল। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এমন ভালোবাসার কথা জানিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন পরীমনি। তবে তখনো জানাননি, কে পাঠিয়েছেন এত ফুল।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) ছিল পরীমনির ৩৪তম জন্মদিন। এদিন সন্ধ্যায় ঢাকার পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কাছের বন্ধু, সহকর্মী ও সাংবাদিকদের নিয়ে জন্মদিন উদ্‌যাপন করেন তিনি। পুরো আয়োজনেই ছিল শিউলি ফুলের ছোঁয়া। রেস্তোরাঁর সিঁড়ি সাজানো হয় শিউলি ফুল দিয়ে। পরীমনি নিজেও পরেছিলেন শিউলি ফুলের নকশা করা শাড়ি। সাজসজ্জা থেকে পোশাক—সবকিছুতেই ছিল একই ভাবনা।


জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরীমনি বলেন, ‘শিউলি ফুলের কথা মাথায় রেখেই সব করেছি। ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছিলাম, কেউ আমাকে অনেকগুলো শিউলি ফুল এনে দাও। কিন্তু এটা আসলে সম্ভবও না। এই ফুল চার-পাঁচ ঘণ্টাও ঠিক রাখা যায় না। কিন্তু একজন আমাকে চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইটে করে শিউলি ফুল পাঠিয়েছে।’


পরীমনির ইচ্ছা ছিল, পুরো আয়োজনকে শিউলি ফুলের বাগানের মতো সাজাবেন। কিন্তু ফুলের স্বল্পস্থায়িত্বের কারণে সবটুকু কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাই সাজসজ্জার পাশাপাশি নিজের পোশাকেও শিউলি ফুলের আবহ রেখেছিলেন তিনি।


জয়ের রসিকতায় রহস্য


পরীমনির জন্মদিনে চট্টগ্রাম থেকে ফুল আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। এর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে রসিকতা করেন শাহরিয়ার নাজিম জয়।


জয় তাঁর পোস্টে লেখেন, পরীমনির প্রতি এমন ভালোবাসা দেখে চট্টগ্রামের ধনী পরিবারের স্ত্রীদের অনেকেই হয়তো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কোন স্বামী পরীমনির জন্য এত শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন?


রসিকতা সেখানেই থামাননি জয়। তাঁর কথায়, ফুল পাঠানো ব্যক্তিকে খুঁজে পেলে অনেকে হয়তো তাঁকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করবেন। তবে জয় চান, ওই ব্যক্তি যেন ধরা না পড়েন। নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মজার ছলে জানান, তিনিও অনেককে শিউলি ফুল দিয়েছেন, কিন্তু ধরা পড়েননি। তাঁর ভাষায়, ‘এক পাপী আরেক পাপীর পক্ষ নেবে, এটাই তো স্বাভাবিক।’


একই পোস্টে পরীমনির প্রশংসাও করেন জয়। তাঁর মতে, পরীমনি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন। চলচ্চিত্র অঙ্গনকে তিনি নিজের আপন জায়গা মনে করেন। শুধু প্রচারণা কিংবা সংবাদ সম্মেলনের জন্য নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকেও চলচ্চিত্রের মানুষদের ভালোবাসেন ও সম্মান করেন। পোস্টের শেষে পরীমনিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান তিনি।


তবে জয়ের পোস্টে মন্তব্য করে ফুল পাঠানোর রহস্যের একটি অংশ পরিষ্কার করেন পরীমনি। জানান, চট্টগ্রাম থেকে শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন কোনো পুরুষ নন, একজন নারী। ফলে জয়ের রসিকতারও জবাব মেলে। যদিও ওই নারীর নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেননি অভিনেত্রী।

জন্মদিনে নতুন সিনেমার চমক


শুধু শিউলি ফুল নয়, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নতুন সিনেমার খবর দিয়েও চমকে দেন পরীমনি। জানান, ‘ফারজানা’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি। ছবিটি পরিচালনা করছেন তারেক রহমান। এরই মধ্যে সিনেমাটির শুটিংয়ের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।


নতুন সিনেমা প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘জন্মদিনে একটা সারপ্রাইজ আছে। আমার মনে হয়, আপনারা আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন। তাই উত্তর ঠিক করে এসেছি। আমার মনে হলো, এটা সুন্দর সময়। এখানে কাজ নিয়েও কথা বলা যায়।’


সিনেমাটির প্রস্তুতি ও শুটিংয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা ছয় মাস আগেই লুক ঠিক করেছি। কাজ করতে যাওয়ার সময় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। সিনেমাটির শুটিং চলছে। কিছু কাজ বাকি আছে। বাকি কাজ শেষ করে জানাব।’


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক তারেক রহমানও। তিনি জানান, ‘ফারজানা’ সিনেমায় পরীমনিকে সংগ্রামী এক নারীর চরিত্রে দেখা যাবে। পরিচালক বলেন, ‘আমরা সুন্দর একটা জার্নি শুরু করতে যাচ্ছি। পরীমনির চরিত্রটি স্ট্রাগলিং একজন নারীর। আশা করি, জার্নিটা সুন্দর হবে। আপনারা নতুন পরীমনিকে আবিষ্কার করবেন।’


জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান পরীমনি। দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান ভালো কাজ দিয়েই দিতে চান তিনি।


পরীমনি বলেন, ‘শুরু থেকেই সবাই আমাকে যেভাবে ভালোবাসা দিয়েছেন, পাশে থেকেছেন, আশীর্বাদ করেছেন; সবকিছু ছাপিয়ে আমাকে ভালোবেসেছেন, সেই ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এর বিপরীতে আমি সুন্দর সুন্দর কাজ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারব না। সেটাই যেন করতে পারি, দোয়া করবেন।’

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৩ এএম
  • আপডেট : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৩ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৩ এএম

রক মিউজিকের তালে তালে উন্মাদনা, প্রিয় ব্যান্ডের গান আর হাজারো সংগীতপ্রেমীর উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে যমুনা কার্নিভাল এরেনায় বসেছিল রক সংগীতের মহোৎসব। ‘TAAGA MAN Presents Rock n Rhythm 5: No Limits In the Zone’ শীর্ষক এই মেগা কনসার্টে এক মঞ্চে মিলিত হন দেশের জনপ্রিয় রকশিল্পী ও ব্যান্ডগুলো। শুক্রবার বিকেলে দর্শকদের উপস্থিতিতে জমে ওঠে পুরো আয়োজন।

মঞ্চে একে একে পারফর্ম করেন এ কে রাহুল, এআরকে হাসান, ওয়ারফেজ, অর্থহীন, শূন্য এবং অনি হাসান। প্রতিটি পরিবেশনায় দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে কনসার্ট প্রাঙ্গণ। তবে রাতের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নগর বাউল জেমসের পরিবেশনা। প্রিয় শিল্পীকে মঞ্চে দেখার অপেক্ষায় থাকা ভক্তদের উল্লাস আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এরিনা। জেমস মঞ্চে উঠতেই দর্শকদের উন্মাদনা যেন পৌঁছে যায় অন্য উচ্চতায়।

এবারের কনসার্টে বাড়তি মাত্রা যোগ করে দীর্ঘ ১২ বছর পর ওয়ারফেজের সঙ্গে অনি হাসানের পুনর্মিলন। একই মঞ্চে তাঁদের পারফরম্যান্স উপভোগ করতে পেরে উচ্ছ্বসিত ছিলেন রক সংগীতপ্রেমীরা। পুরোনো স্মৃতি আর নতুন প্রজন্মের উচ্ছ্বাস—দুইয়ের মেলবন্ধনে আয়োজনটি পায় ভিন্ন মাত্রা।

আয়োজনটির পেছনে ছিল দর্শকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরির পরিকল্পনা। অ্যাডভেনটর কমিউনিকেশনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জনি বলেন, ‘রক এন রিদমের পঞ্চম সিজনে আমরা এমন কিছু নতুনত্ব নিয়ে এসেছি, যা বাংলাদেশের কনসার্টের অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।  সব মিলিয়ে, তারকাখচিত লাইনআপ, ওয়ারফেজের সঙ্গে অনি হাসানের দীর্ঘ বিরতির পর মঞ্চে ফেরা এবং নগর বাউল জেমসের পরিবেশনা— ‘রক এন রিদম ৫’ হয়ে ওঠে রক সংগীতপ্রেমীদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা। যমুনা কার্নিভাল এরেনায় এদিন শুধু গান নয়, উদ্‌যাপিত হয়েছে বাংলাদেশের রক সংগীতের প্রতি ভালোবাসাও।


নাজনীন নিহা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৯ এএম

ছোট পর্দায় নিজের অভিনয়দক্ষতা দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন নাজনীন নিহা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অভিনয়ে এসেছে পরিণতিবোধ, চরিত্র নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে সচেতনতা। সাম্প্রতিক নাটক ‘ভালো আছো তো’ যেন তারই আরেকটি উদাহরণ। জিয়াউল ফারুক অপূর্বর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করা নাটকটি প্রকাশের পর দর্শকের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি অভিনয়ের জন্য প্রশংসাও কুড়াচ্ছেন তিনি।

এদিকে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ইউটিউব ফিল্ম ‘ইনস্টাগ্রাম’-এর কাজ শুরু করেছেন নাজনীন নিহা। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন খায়রুল বাসার। নতুন এই কাজ নিয়ে ব্যস্ততার মধ্যেই আবারও আলোচনায় এসেছে সিনেমায় অভিনয়ের প্রসঙ্গ। অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে নিহাকে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন অনেকে। তবে বড় পর্দায় অভিষেকের বিষয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করতে চান না তিনি।

এ প্রসঙ্গে নিহা বলেন, ‘আমি এখনো আসলে বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমা বলতে যা বোঝায়, তাতে কাজ করার জন্য প্রস্তুত নই। অবশ্যই সিনেমায় অভিনয় করব। তবে তা এখন নয়। আমার মনে হয়, নিজেকে প্রস্তুত করার এখনো অনেক বাকি। সময় হলেই আমি সিনেমায় অভিনয় করব, তখন সবাই জানতে পারবেন।’

সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সময় নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এই অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, নাটকে অভিনয় করতেই আমি এখনো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। সিনেমা অনেক বড় একটি বিষয়। সেখানে অভিনয়ের জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করেই কাজে নামতে চাই। সে কারণেই একটু সময় নিচ্ছি।’ ২০২৩ সালে ‘লাভ সেমিস্টার’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নাজনীন নিহা।

এরপর ‘মন দুয়ারী’, ‘মেঘবালিকা’, ‘মায়া পাখি’, ‘চুপকথা’, ‘কাছের কেউ’, ‘দূরের মানুষ’, ‘ঘ্রাণ’, ‘তখন যখন’, ‘যুগল’ ও ‘নীলাঞ্জনা’র মতো নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। ধারাবাহিক কাজের মধ্য দিয়ে এই প্রজন্মের আলোচিত অভিনেত্রীদের তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন নিহা। দর্শকের আগ্রহের পাশাপাশি নির্মাতাদের কাছেও বাড়ছে তার গ্রহণযোগ্যতা। তবে চলচ্চিত্রে পা রাখার আগে অভিনয়ে নিজেকে আরও পরিণত করে তোলাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৪ পিএম

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর মগবাজার এলাকার বিশাল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।


এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আসিফ আকবরের ছবি ও গুলিবিদ্ধ গাড়ির ছবি দিয়ে একটি পোস্ট করেন তিনি।


পোস্টে ওমর সানী লেখেন, ‘গায়ক আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি করা একটা অশনি সংকেত। এটা হওয়া উচিত না, আসিফ তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আল্লাহ ভালো রাখুন তোমাকে।’


এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, গুলি চালানোর সময় গাড়িতে ছিলেন না আসিফ আকবর। ফলে তিনি অক্ষত রয়েছেন।


তবে কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো বিরোধের সঙ্গে এ ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


ওসি জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।


আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় শোবিজ অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভক্তদের মধ্যেও এ ঘটনা নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৯ পিএম

বলিউড অভিনেতা সালমান খানের প্রশংসা করায় অভিনেতা টাইগার শ্রফকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন এক অভিযুক্ত। অভিনেতার ওপর হামলার ঘটনায় তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে একটি সিনেমার প্রচার অনুষ্ঠানে সালমান খানকে ‘ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র টাইগার’ বলে প্রশংসা করেছিলেন টাইগার শ্রফ। এই মন্তব্য লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করার অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন ওই অভিযুক্ত।


গত ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ের জুহুতে একটি মাঠে ফুটবল খেলা শেষে ফেরার সময় টাইগার শ্রফের বিএমডব্লিউ গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই বন্দুকধারী। তারা সাত রাউন্ড গুলি ছুড়ে সহযোগীদের নিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিনেতার গাড়িচালক ও এক পথচারী আহত হন।


পরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সদস্য হামলার দায় স্বীকার করে। ঘটনার পরদিন রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশনে পুনে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।


সালমান খানের সঙ্গে টাইগার শ্রফের ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁর প্রতি সমর্থনের কারণে এ হামলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এর আগে সালমান খানের ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত ব্যক্তিদেরও বিষ্ণোই গ্যাং হুমকি দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের তদন্তসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য অনুসরণ করছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে রেহান নামে এক অভিযুক্তকে বারবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে।


পুলিশের সন্দেহ, ইন্টারনেটভিত্তিক কলের মাধ্যমে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল। পালানোর জন্য ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আন্ধেরিতে পাওয়া যায়। অভিযুক্তরা ট্রেনে যাত্রা করছেন—এমন তথ্যও বার্তার মাধ্যমে হামলাকারীদের জানানো হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।


পুলিশকে এড়াতে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল, ট্রেন ও ক্যাব ব্যবহার করেন। তবে মুম্বাই পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্থান পুলিশের সদস্যরা সুরাট থেকে জয়পুরগামী একটি ট্রেনে তাঁদের আটক করেন। ইন্টারনেট কলের উৎস শনাক্ত করা তদন্তকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তদন্তের তথ্য অভিযুক্তদের কাছে কে পৌঁছে দিচ্ছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।


তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর পর অভিযুক্তরা নিজেদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেন। পুরো পরিকল্পনায় হামলাকারী ও তাঁদের সহযোগীরা ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) কল ব্যবহার করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


তবে নিয়মিত মোবাইল ফোনে করা একটি কল পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা মুম্বাইয়ের বোরিভলি থেকে সুরাট যাওয়ার জন্য একটি ব্যক্তিগত ক্যাব ভাড়া করেছিলেন।


গুলি চালানোর পর তাঁরা আন্ধেরি থেকে লোকাল ট্রেনে বোরিভলি যান। সেখান থেকে ক্যাবে সুরাটে পৌঁছান। ক্যাবচালকের কাছে করা একটি ফোনকল পুলিশের নজরে আসার পর তাঁদের যাত্রাপথ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।


পরে মুম্বাই পুলিশের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেলের একটি দল বোরিভলি থেকে সুরাটে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাবচালক জানান, তিনি অভিযুক্তদের সুরাট রেলস্টেশনে নামিয়ে দিয়েছিলেন। স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ ও ট্রেনের সংরক্ষিত আসনের তালিকা পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অভিযুক্তরা জয়পুরগামী ট্রেনে উঠেছিলেন। পরে রাজস্থানের কোটায় তাঁদের আটক করা হয়।


মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও নুসরাত ইমরোজ তিশা

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৬ পিএম

অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সঙ্গে বিচ্ছেদের খবর পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জনপ্রিয় নির্মাতা ও সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। একই সঙ্গে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।


শনিবার এক প্রতিক্রিয়ায় ফারুকী জানান, সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করে ডিঅ্যাক্টিভেট করে রাখা হয়েছে। দেশের একটি সাইবার অপরাধী গ্রুপ এটি করে বিভিন্ন গ্রুপে উদযাপন করছে বলে জানান তিনি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান ফারুকী। 


বিচ্ছেদের রটনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এসব ভিত্তিহীন গুজবে কান দেওয়ার মতো সময় বা আগ্রহ তার নেই।


ক্ষোভ প্রকাশ করে এই নির্মাতা বলেন, “ওইসব নিউজের ওপর কথা বলার কোনো টাইম নাই, হ্যাভ নো ইন্টারেস্ট। এসবের কোনো ভিত্তি নেই। এসব অপদার্থদের কথায় কান দেওয়ার মত সময় আমার নেই।”


অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে স্থাবর সম্পত্তি থাকা নিয়ে অনলাইনে চলমান আলোচনাকে কৌতুকপ্রদ আখ্যা দিয়ে এই নির্মাতা বলেন, এসব কথা চাইলেই সহজে যাচাই করা সম্ভব। অপপ্রচারের দিকে নজর না দিয়ে নিজের নির্মাণ কাজ নিয়েই কথা বলার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।


বর্তমানে ফারুকী দুটি বিজ্ঞাপনের কাজ শেষ করেছেন, যার শুটিং ঢাকা, ময়মনসিংহ ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই আরও একটি বিজ্ঞাপনের কাজ শুরু করবেন তিনি। পাশাপাশি চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে ফারুকী জানান, দুটি সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছেন তিনি। এর মধ্যে একটি জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের প্রেমের পটভূমিতে তৈরি, যার নাম রাখা হয়েছে ‘টু হেল, উইথ লাভ’। অন্যটি একটি রাজনৈতিক গল্পের সিনেমা।


উল্লেখ্য, ফারুকী ও তিশা ২০১০ সালের ১৬ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২২ সালে তাদের কন্যাসন্তান ইলহাম নুসরাত ফারুকীর জন্ম হয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশের শোবিজ অঙ্গনে নিজেদের সফল কাজের মধ্য দিয়ে সুপরিচিত এই তারকা দম্পতি।