শচীন টেন্ডুলকারপুত্র অর্জুন টেন্ডুলকার বিয়ে করলেন তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা সানিয়া চন্দককে
ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারপুত্র অর্জুন টেন্ডুলকার বিয়ে করলেন তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা সানিয়া চন্দককে।
আজ ৫ মার্চ ভারতের মুম্বাইয়ে আয়োজিত হয় তাঁদের জমকালো বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। ক্রিকেট ও বলিউড জগতের তারকাদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে তারকাখচিত।
অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর পর নবদম্পতি একসঙ্গে বাইরে এসে আলোকচিত্রীদের সামনে পোজ দেন। হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকা অর্জুন ও সানিয়ার সেই মুহূর্তের ছবি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
লাল পোশাকে নজরকাড়া নবদম্পতি
অর্জুন ও সানিয়া বেছে নিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী লাল রং। অর্জুন পরেছিলেন লাল রঙের ভারী কারুকাজ করা জ্যাকেট, সঙ্গে লাল কুর্তা ও আইভরি প্যান্ট।
অন্যদিকে পেশায় প্রাণিচিকিৎসক সানিয়া চন্দক পরেছিলেন লাল ও গোলাপি রঙের শাড়ি–গাউন। ভিন্ন রঙের ব্লাউজের কারণে পোশাকে আধুনিকতার ছোঁয়া এসেছে। সঙ্গে ছিল পান্না ও হীরার নেকলেস, মিলিয়ে পরেছিলেন কানের দুল ও মাথার অলংকার।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছবি
পরে নবদম্পতির সঙ্গে যোগ দেন পরিবারের সদস্যরা। ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে শচীন টেন্ডুলকার পরেছিলেন কারুকাজ করা আইভরি রঙের ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাক। অর্জুনের মা অঞ্জলি টেন্ডুলকার এসেছিলেন গাঢ় গোলাপি ডিজাইনার শাড়িতে, সঙ্গে ছিল হীরা ও পান্নার গয়না।
টেন্ডুলকার পরিবারের আরেক সদস্য, অর্জুনের বোন সারা টেন্ডুলকারও নজর কাড়েন তাঁর সাদামাটা কিন্তু আকর্ষণীয় সাজে। তিনিও পরেছিলেন গোলাপি শাড়ি।
তারকাখচিত আয়োজন
বিয়ের সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন বলিউড ও ক্রিকেটের বহু পরিচিত মুখ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শাহরুখ খান, গৌরী খান ও তাঁদের মেয়ে সুহানা খান। এসেছিলেন আমির খান, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, অভিষেক বচ্চন ও অমিতাভ বচ্চন।
ক্রিকেট জগৎ থেকেও উপস্থিত ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, হরভজন সিং ও রাহুল দ্রাবিড়সহ অনেকে।
সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাই। ছবিঃ সংগৃহীত
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে সালমান খান ও ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাস্তব জীবনের পাশাপাশি পর্দায়ও তাদের জুটি দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। তবে একপর্যায়ে সেই সম্পর্কে ভাঙন ধরে। ঐশ্বরিয়ার অভিযোগ ছিল, সালমানের মদ্যপান, দুর্ব্যবহার এবং মৌখিক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তিনি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
একসময় তাদের প্রেম ছিল বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলোর একটি। পর্দার রসায়নও মুগ্ধ করেছিল দর্শকদের। কিন্তু সেই প্রেমের গল্পের শেষটা হয়েছিল তিক্ততায়। সম্পর্ক ভাঙার পর সালমান খানের সঙ্গে আর কখনো কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। সালমানের সঙ্গে কাটানো সময়কে নিজের জীবনের ‘দুঃস্বপ্ন’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জানিয়েছিলেন, বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেননি সালমান। তিনি বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতেন। ঐশ্বরিয়া ফোন ধরতে অস্বীকৃতি জানালে সালমান নিজের শরীরে আঘাত করতেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন অভিনেত্রী।
২০০২ সালে এ সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে একটি আবেগঘন বিবৃতি দেন ঐশ্বরিয়া। সেখানে তিনি জানান, নিজের সুস্থতা, মানসিক স্থিরতা, মর্যাদা এবং পরিবারের সম্মানের কথা বিবেচনা করে সালমানের সঙ্গে সব ধরনের পেশাগত সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিবৃতিতে ঐশ্বরিয়া বলেন, ‘নিজের ভালো থাকা, মানসিক সুস্থতা, মর্যাদা এবং পরিবারের সম্মান ও আত্মসম্মানের স্বার্থে যথেষ্ট হয়েছে। আমি আর কখনো মি. সালমান খানের সঙ্গে কাজ করব না। সালমান অধ্যায়টি আমার জীবনের একটি দুঃস্বপ্ন ছিল। ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ, সেই অধ্যায়ের অবসান হয়েছে।’
সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ঐশ্বরিয়া আরও বলেন, দীর্ঘদিন তিনি তার আচরণ ও ভুলত্রুটি নিয়ে নীরব থেকেছেন। কিন্তু সালমান, তার পরিবার ও বন্ধুরা দায়িত্বজ্ঞানহীন গুজব ছড়িয়ে বারবার তার এবং তার পরিবারের সম্মানহানি করেছেন।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, সম্পর্কের কঠিন সময়ে তিনি সালমানের পাশে ছিলেন। তার মদ্যপান ও দুর্ব্যবহার সহ্য করেছেন। বিনিময়ে তাকে মৌখিক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অবিশ্বস্ততা এবং অসম্মানের শিকার হতে হয়েছে। একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী হিসেবে প্রায় দুই বছর আগেই তিনি এ সম্পর্কের ইতি টেনেছিলেন।
ঐশ্বরিয়া আরও অভিযোগ করেন, তার নীরবতার সুযোগ নিয়ে অনেকে নিজের মতো করে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন। তার চরিত্র নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে এবং সহশিল্পীদের সঙ্গে তার স্বাভাবিক পেশাগত সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এসব ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ্যে আনতে চাননি ঐশ্বরিয়া। তার ভাষায়, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি কিংবা নতুন করে কুৎসা ছড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই। দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তার শান্তি ও মানসিক স্থিরতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, একটি প্রায় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐশ্বরিয়া ওই বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেই বিবৃতির মধ্য দিয়ে সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতে তার সঙ্গে কাজ না করার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন অভিনেত্রী।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
আদনান আজাদ ও অপু বিশ্বাস
ঢালিউড তারকা অপু বিশ্বাসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা চলছে। তাঁকে নিয়ে এ আলোচনা নতুন কোনো সিনেমা নিয়ে নয়। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মেহেদি পরানোর সময় হঠাৎ তাঁকে চুমু দিচ্ছেন এক যুবক। এরপর লাজুক ভঙ্গিতে হেসে ওঠেন অপু। গতকাল শনিবার দিনভর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কে এই যুবক, তা নিয়েও তৈরি হয় কৌতূহল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাঁর নাম আদনান আজাদ। তাঁরা দুজন একটি প্রচারণামূলক ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন।
ভিডিওতে অপু বিশ্বাস ও আদনান আজাদকে দেখা গেছে হবু বর-কনের সাজে। মেহেদি পরানোর আয়োজন ঘিরে দুজনের মধ্যে চলছিল নানা খুনসুটি। একপর্যায়ে দুষ্টুমি করতে করতেই অপুকে চুমু দিয়ে বসেন আদনান। এমন আকস্মিক ঘটনায় কিছুটা লজ্জা পেয়ে হেসে ওঠেন অভিনেত্রী। তাঁদের এই রোমান্টিক মুহূর্তই নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুমুর এই দৃশ্য ইচ্ছা করেই ধারণ করা হয়েছে, যাতে আলোচনা হয়।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর আদনান আজাদের সঙ্গে রোমান্টিক আবহের বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন অপু বিশ্বাস। ছবিগুলো প্রকাশের পর থেকেই তাঁদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই জানতে চান, কে এই আদনান আজাদ?
প্রায় ১৮ বছর আগে গাজী মাজহারুল আনোয়ার পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের সিনেমা ‘পাষাণের প্রেম’-এ একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন অপু ও আদনান। ওই সিনেমার মাধ্যমেই নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় আদনানের। পরে অপু শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে ঢালিউডে জনপ্রিয়তা পান। অন্যদিকে অভিনয় ও মডেলিংয়ে যুক্ত থাকলেও চলচ্চিত্রে নিয়মিত হতে পারেননি আদনান।
সম্প্রতি তাঁদের একসঙ্গে ফটোশুটের পেছনে নতুন সিনেমায় কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন অপু। তাঁর ভাষ্য, আদনান বড় পরিসরে একটি ভালো সিনেমা নির্মাণ করতে চান। এ জন্য দেশের বাইরে থেকে ভালো একটি দল নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এ বিষয়ে দুজনের মধ্যে কথাবার্তাও চলছে।
অভিনয় ও মডেলিংয়ের পাশাপাশি আদনান আজাদ বন্য প্রাণী ও প্রকৃতির আলোকচিত্রী হিসেবেও পরিচিত। এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর অপু বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর নতুন করে বড় পর্দায় ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে চলচ্চিত্র–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও আলোচনা চলছে।
তানিয়া বৃষ্টি
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সুখবর দিলেন তারকা অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। প্রায় নয় মাস বিরতির পর আবারও অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি। ইকসান রনির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ‘অংশীদার’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কাজে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি নাটকটির দৃশ্যধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
অভিনয়ে ফেরা প্রসঙ্গে তানিয়া বৃষ্টি বলেন, ‘ইকসান রনির পরিচালনায় ‘বাবাও মানুষ’ নামে একটি নাটকে আগে অভিনয় করেছিলাম। নাটকটি দর্শকের কাছ থেকে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছিল। নতুন নাটকটি সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় একজন নারীর নিরন্তর সংগ্রামের গল্প। আমাদের সমাজে এখনও এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যেখানে শুধু কন্যাসন্তান থাকার কারণে নানা সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তিতে মেয়েদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা প্রায়ই দেখা যায়।’
তানিয়া বৃষ্টির কথায়, ‘এই নাটকে এমন বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সমস্যার একটি ইতিবাচক সমাধানের দিকও দেখানো হয়েছে। আমার বিশ্বাস, গল্পটি দর্শকের ভালো লাগবে এবং সমাজের মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা পৌঁছে দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে অসীম শুকরিয়া, কিছুটা সুস্থ হয়ে আবার নিজের পেশাগত কাজে ফিরতে পেরেছি। নিজের চিরচেনা ভুবনে ফিরতে পেরে ভালোই লাগছে। আল্লাহ যেন আমাকে সম্পূর্ণ সুস্থতা দান করেন, সবার কাছে সেই দোয়া চাই।’
দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তানিয়া আরও বলেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থা এমন ছিল যে, হয়তো আর অভিনয়ে ফিরতে পারতাম না। তবে এখন আগের তুলনায় আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি। আপনারা হয়তো অনেকেই মনে করেন, আমার নাটকে কাজ করা উচিত নয়। সেটি আপনাদের পরামর্শ। কিন্তু এমন অনেক মানুষও আছেন, যারা সব সময় চাইতেন আমি আবার অভিনয়ে ফিরি। তারা আমাকে ভালোবাসেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দীর্ঘ সময়ে সব সময় আমার পাশে ছিলেন। আমাকে সম্মান দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমাকে কাজে ফেরার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। পাশাপাশি অভিনয়কেও ভীষণভাবে মিস করতাম।’
‘অংশীদার’ নাটকে তানিয়া বৃষ্টির পাশাপাশি অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেত্রী ডলি জহুর, ফজলুর রহমান বাবুসহ আরও অনেকে। নাটকটির সংলাপ রচনা করেছেন ফারুক আহমেদ রানা ও নন্দী জুয়েল।
বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই চলছেন তানিয়া বৃষ্টি। অবসর সময়ের বড় একটি অংশ কাটে তাঁর ছয়টি পোষা বিড়ালের সঙ্গে। কোথাও বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও অনেক সময় পোষা বিড়ালগুলোকে সঙ্গে নিয়ে যান তিনি। তাদের সঙ্গেই সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই অভিনেত্রী।
নাটকটি সম্পর্কে পরিচালক ইকসান রনি বলেন, ‘অংশীদার আমাদের সমাজের পরিচিত একটি বাস্তবতার গল্প। এখানে নারীর ন্যায্য অধিকার, আত্মমর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। অসুস্থতা কাটিয়ে তানিয়া বৃষ্টি আবার কাজে ফিরেছেন, বিষয়টি আমার কাছে আনন্দের। তিনি বেশ আগ্রহ ও আনন্দ নিয়েই নাটকটিতে অভিনয় করেছেন।’
নাটকটি শিগগিরই একটি টেলিভিশন চ্যানেল এবং ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হবে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তানিয়া বৃষ্টির মস্তিষ্কে ব্রেইন টিউমার শনাক্ত হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর চিকিৎসা। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় অভিনয় থেকে দূরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। প্রায় নয় মাস চিকিৎসা ও বিশ্রামে থাকার পর অবশেষে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন এই অভিনেত্রী।
সারা আলি খান কেদারনাথ মন্দিরে। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ মন্দিরে গিয়ে পূজা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান। তার এ কর্মকাণ্ডকে ইসলামি শরিয়তবিরোধী দাবি করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন ইসলামি ধর্মীয় নেতা মৌলানা মুফতি শেহাবুদ্দিন রজভি বেরেলভি। একই সঙ্গে সারাকে তওবা করে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। গত ২৫ অক্টোবর কেদারনাথ মন্দিরে যান সারা আলি খান। সেখানে অন্য ভক্তদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে পূজো দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায় তাকে। মন্দির দর্শনের সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে সারার মন্দিরে পুজো দেওয়ার বিরোধিতা করেন মৌলানা মুফতি শেহাবুদ্দিন। তার দাবি, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মুসলিমদের অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে গিয়ে পূজা-অর্চনা বা ধর্মীয় আচার পালন করার অনুমতি নেই। নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযোজ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভিডিওবার্তায় মৌলানা জানান, কয়েকজন মুসলিম যুবক সারা আলি খানের কেদারনাথ মন্দিরে পূজো দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই তিনি এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। সারার মন্দিরে গিয়ে পূজো দেওয়া এবং সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে মৌলানা বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিতে এ কাজ অনুচিত। এ জন্য অভিনেত্রীকে তওবা করে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না করলে আল্লাহর কাছে তিনি অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবেন বলেও দাবি করেন ওই ধর্মীয় নেতা।
কেদারনাথ মন্দিরে সারা আলি খানের যাতায়াত এবারই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার সেখানে গিয়েছেন তিনি। মন্দিরটির সঙ্গে নিজের গভীর আবেগের কথাও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
২০১৭ সালে ‘কেদারনাথ’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় বেশ কিছুদিন ওই এলাকায় ছিলেন সারা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, কেদারনাথ তাকে ব্ল্যাক কফি পান, পাহাড়ে ট্রেকিং এবং পাহাড়ি খাবারের প্রতি ভালোবাসার মতো নানা অভ্যাস ও আগ্রহের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।
২০১৮ সালে মুক্তি পায় অভিষেক কাপুর পরিচালিত ‘কেদারনাথ’ সিনেমা। এতে সারা আলি খানের বিপরীতে অভিনয় করেন প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত।
নাসিরুদ্দিন শাহ। ছবি: সংগৃহীত
কেন্দ্রীয় সরকার, বিজেপি এবং দলটির আইটি সেলের তীব্র সমালোচনা করে সরব হয়েছেন খ্যাতিমান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে অভিহিত করেছেন। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট (SRFTI) এবং সম্প্রতি জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নিপীড়নের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন। কাউকেই ছাড় না দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে দেশের তরুণ সমাজের পাশেই রয়েছেন তিনি। ভিডিওর শুরুতেই তাকে নিজের টি-শার্টে ‘দিমাগি নকশাল’ লেখা একটি ব্যাচ লাগাতে দেখা যায়।
ফেসবুক পোস্টে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, গর্বের সঙ্গে তিনি নিজেকে দিমাগি নকশাল মনে করেন। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তাদের মতো মানুষদের ওপর আর কী কী তকমা সেঁটে দিয়েছে তা তিনি জানেন না। অ্যান্টি ন্যাশনাল কিংবা টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের মতো তকমা তো রয়েছেই। তার মতে, দেশে যদি সত্যি কোনো টুকরে টুকরে গ্যাং থেকে থাকে, তবে তা হলো এই অবৈধ শাসনব্যবস্থা।
সরকারকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে অভিনেতা বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের মনোবল ভেঙে দেওয়া, শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা এবং গণতন্ত্রকে বিপদের মুখে ফেলার জন্য শাসক ও তার আশপাশের বেইমান দল আর কত দূর যাবে? জেএনইউ থেকে শুরু করে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউট এবং এখন জামিয়া মিলিয়ায় ছাত্রদের ওপর যে অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তার কোনো কিছুই ভোলা হবে না। সব কিছু মনে রাখা হবে। বিজেপির আইটি সেলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তাদের সাধ্যমতো পুরো শক্তি প্রয়োগ করে যা খুশি তারা করতে পারে।
তবে এর মাধ্যমে না তো দেশের তরুণদের মনোবল ভাঙা সম্ভব হবে, না শিক্ষাব্যবস্থা নষ্ট করা যাবে এবং না কড়া গণতন্ত্রকে বিপদের মুখে ফেলা যাবে। দেশের এই তরুণ প্রজন্মকে তিনি স্যালুট জানান এবং তাদের জন্য নিজের সমস্ত প্রার্থনা থাকার কথা ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক মাধ্যমে সরকারের সমালোচনায় মুখ খুলেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। এর আগে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সমর্থনে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে আরও অনেকের সঙ্গে একত্র হয়েছিলেন এই অভিনেতা।
স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ অভিনেতা স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন। ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’ সিরিজে ক্যাপ্টেন জ্যাঁ-লুক পিকার্ড এবং ‘এক্স-মেন’ চলচ্চিত্র সিরিজে প্রফেসর চার্লস জেভিয়ার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলঝেইমার রোগ ও লিউই বডি ডিমেনশিয়ায় ভোগার পর তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সময় স্ত্রী সানি ও পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন। পরিবার ও বন্ধুদের সান্নিধ্যে, সংগীত, প্রার্থনা, কান্না ও হাসির মধ্য দিয়ে জীবনের শেষ সময় কাটান তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তার শান্ত ও প্রশান্ত মুখচ্ছবি পরিবারের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের অভিনয়জীবন ছয় দশকেরও বেশি সময়ের। মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে কাজ করে তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’ সিরিজে ক্যাপ্টেন জ্যাঁ-লুক পিকার্ড চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।
পরে ‘এক্স-মেন’ চলচ্চিত্র সিরিজে প্রফেসর চার্লস জেভিয়ার চরিত্রে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ সময় ধরে চরিত্রটিতে অভিনয়ের মাধ্যমে মার্ভেলের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত হন তিনি। ২০১০ সালে নাট্যশিল্পে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ব্রিটিশ রাজপরিবার ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করে। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র ও বিনোদনজগতের অনুরাগীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।