স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার সঙ্গে জাহের আলভী। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১:০০ পিএম

অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় আত্মহত্যা করেছেন। মিরপুর পল্লবী থানার ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


স্ত্রীর মৃত্যুর খবরটি অভিনেতা জাহের আলভী নিজেও নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করা এই অভিনেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানান।


এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন ইকরা। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও স্বাভাবিকভাবেই অনলাইনে উপস্থিতি ছিলেন তিনি, যা দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করছেন। কী কারণে এমন আত্মাহত্যার সিদ্ধান্ত তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।


পাঠকদের জন্য অভিনেতার স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার শেষ পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল।


আমার বোনের মাতৃত্বযাত্রার এক তিক্ত অভিজ্ঞতা। অক্টোবর ২০২৪, শুনুন তার মুখ থেকেই- ২০২৪ সালের ১৩ই অক্টোবর—দিনটি আমার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। সেদিন ৩২ সপ্তাহে হঠাৎ আমার ওয়াটার ব্রেক হয়। দ্রুত আমি লালমাটিয়ায় অবস্থিত মাদার কেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হই, যেখানে পুরো প্রেগন্যান্সি জুড়ে আমি ডা. সেলিনা খানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়ে আসছিলাম।


হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তারা আমাকে পরীক্ষা করে দ্রুত ভর্তি করে নেয়। কিন্তু তখন জানতে পারি, ডা. সেলিনা খান জরুরি একটি অপারেশনের কারণে দুই থেকে তিন দিনের ছুটিতে আছেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাকে জানানো হয় যে ওয়াটার ব্রেক হওয়ায় একটি আল্ট্রাসাউন্ড করা জরুরি।


কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হল—সেই সময় হাসপাতালে কোনো আল্ট্রাসাউন্ড টেকনিশিয়ান উপস্থিত ছিলেন না। যিনি আল্ট্রাসাউন্ড করেন, তাকে ফোন করে ডাকা হয়।


অনেক অনুরোধের পর তিনি হাসপাতালে আসার আগে আমার কাছ থেকে আগাম যাতায়াত ভাড়া দাবি করেন। একজন ভর্তি রোগী হিসেবে এই পরিস্থিতি আমার জন্য ছিল অত্যন্ত বিব্রতকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক। তবুও জরুরি অবস্থার কথা ভেবে অনুরোধ করে তাকে আসতে রাজি করাই। পরে আল্ট্রাসাউন্ড করে জানানো হয় যে ভেতরের পানি তখনও অক্ষত রয়েছে।


এরপর আমাকে দোতলায় একটি বেডে শুইয়ে রাখা হয়। স্যালাইন চলতে থাকে, এবং বলা হয় যতটা সম্ভব নড়াচড়া না করতে। ক্যাথেটার পরানো অবস্থায় আমি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়ি।


১৪ ও ১৫ অক্টোবর—এই দুই দিন কোনো পুনরায় আল্ট্রাসাউন্ড বা স্পষ্ট মেডিকেল আপডেট আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার শারীরিক অবস্থা কী, আমাকে বাড়ি যেতে দেওয়া হবে কি না, নাকি ডেলিভারির প্রস্তুতি নিতে হবে—এসব বিষয়ে কোনো পরিষ্কার তথ্য পাইনি। অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন দুটি কেটেছে।


১৬ই অক্টোবর যা ঘটলো, তা ছিল আমার কল্পনার বাইরে। আমাকে দোতলা থেকে তিনজন স্টাফ কাঁধে ভর দিয়ে হুইলচেয়ারে করে নিচে নামান। এমনভাবে একজন সম্ভাব্য সিজারিয়ান রোগীকে স্থানান্তর করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও অস্বস্তিকর মনে হয়েছে আমার কাছে।


পরে আল্ট্রাসাউন্ড করে জানানো হয়—আমার শরীরে আর কোনো অ্যামনিয়োটিক ফ্লুইড নেই; জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে। সেই সময় ডা. সেলিনা খান উপস্থিত ছিলেন।


আমরা জানতে চাই—হাসপাতালে কি এনআইসিইউ সুবিধা আছে? যদি নবজাতকের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন হয় তবে কী হবে? উত্তরে বলা হয়, এখানে এনআইসিইউ নেই; প্রয়োজনে পাশের হাসপাতালে নেওয়া হবে।


একজন মা হিসেবে আমার উদ্বেগ ছিল স্বাভাবিক—মা ও শিশু আলাদা হাসপাতালে থাকলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তখন আমাদের জানানো হয়, চাইলে আমরা অন্য হাসপাতালে চলে যেতে পারি।


কিন্তু প্রশ্ন হল—যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এখানে না থাকে, তবে আমাকে আগেই কেন জানানো হয়নি? কেন দুই দিন ধরে আমাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হলো? কেন একটি মা ও শিশু হাসপাতালে আল্ট্রাসাউন্ড সার্ভিস নিয়মিতভাবে উপস্থিত থাকবে না?


আরও উদ্বেগজনক বিষয় ছিল—এর আগে যখন এনআইসিইউ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম, তখন আমাকে বলা হয়েছিল, “কিছু হবে না, এনআইসিইউ লাগবে না।” চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এমন আশ্বাস কি যথেষ্ট?


ডা. সেলিনা খান নিঃসন্দেহে একজন দক্ষ ও সুনামধন্য চিকিৎসক। তবে তিনি যখন উপস্থিত ছিলেন না, তখন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল রোগীর যথাযথ পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছ তথ্য প্রদান ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। সেই জায়গায় আমি অবহেলা ও সমন্বয়ের অভাব অনুভব করেছি।


এই দুই দিন যদি আমার বা আমার সন্তানের কোনো বড় ক্ষতি হতো—তাহলে দায়ভার কে নিত? এই পরিস্থিতির মধ্যে অবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আমাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার।


সকালবেলা জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে আমাকে দ্রুত গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডা. সারোয়াত জাহান জুবায়রা ম্যাম এর তত্ত্বাবধানে আমাকে অত্যন্ত মানবিক ও পেশাদারভাবে গ্রহণ করা হয়। প্রয়োজনীয় সব তথ্য নিয়ে দ্রুত ফর্ম পূরণ করে আমাকে ভর্তি করা হয়। মাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যেই ওটি প্রস্তুত ছিল।


ডা. জুবায়রা ম্যাম জরুরি সিজারিয়ান ডেলিভারির মাধ্যমে আমাকে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের মা হওয়ার সৌভাগ্য দেন আলহামদুলিল্লাহ। সেই মুহূর্তের দ্রুত সিদ্ধান্ত, দক্ষতা এবং মানবিক আচরণ আমার এবং আমার সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।


আমি বিশ্বাস করি, তিনি যদি সেই সময় জরুরি সহায়তা না দিতেন, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। আমি ডা. জুবায়রা ম্যাম এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁর পেশাদারিত্ব, দ্রুততা এবং মানবিকতা আমার জীবনের এক সংকটময় মুহূর্তকে আশীর্বাদে পরিণত করেছে।


আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই—রোগী ব্যবস্থাপনা, জরুরি সেবা, তথ্য প্রদান এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ হোন। একজন মা যখন প্রসবের জন্য হাসপাতালে যান, তখন তিনি শুধু চিকিৎসা নয়—নিরাপত্তা, নিশ্চয়তা ও মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করেন।


আমার এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করার উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা নয়; বরং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মা এমন অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টের মধ্যে না পড়েন—সেই সচেতনতা তৈরি করা। 


উল্লেখ্য, এই পোস্টটি মূলত এডভোকেট রাকা ফরহাতের। তিনি শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এই পোস্টটি করেছিলেন। রাকার ওই পোস্টটিও নিজের টাইমলাইনে গতকাল শেয়ার করেছিলেন ইকরা। কিন্তু আজ আর তিনি পৃথিবীতে নেই।


এদিকে পারিবারিক সূত্র জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তবে ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জাহের আলভী ও আফরা ইবনাত ইকরা। 



সর্বশেষ সব খবর

এআই ছবিতে আশির দশকের লুকে তাসনিয়া ফারিণ ও তমা মির্জা

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৯ পিএম

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডের নতুন এক হাওয়া বইছে।  নেটিজেনরা যেন হুট করেই ফিরে গেছেন আশির দশকে। ফেসবুক খুললেই টাইমলাইনে ভেসে উঠছে আশির দশকের হলিউড-বলিউডের ক্লাসিক পোস্টার বা ভিন্টেজ ফটোশুটের ছবি। ওভারসাইজড ব্লেজার, পোলকা ডট পোশাক, চওড়া কলারের শার্ট, রট্রো হেয়ার স্টাইলে ধরা দিচ্ছেন তারকারা। 


নিজের বর্তমান ছবিকে এআই-এর মাধ্যমে বদলে নিয়ে নেটিজেনরা দেখে নিচ্ছেন, চার দশক আগের সেই স্নিগ্ধ ফ্রেমে নিজেকে কেমন দেখাত। এই রেট্রো রূপান্তরের ছোঁয়া বাদ পড়েনি বিনোদন জগতের তারকাদের জীবন থেকেও।


নতুন ট্রেন্ডে নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী পূর্ণিমা, সাফা কবির, তমা মির্জা, তাসনিয়া ফারিণ, বিদ্যা সিনহা মিম তৌসিম মাহাবুব, আরশ খান, জিয়াউল ফারুক অপূর্বসহ অনেকে। 


নজর কাড়া একটি ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছেন, নতুন ট্রেন্ড 


চিত্রনায়িকা তমা মির্জা নিজের এমন একটি রেট্রো মেকওভারের ছবি অনুরাগী ও অনুসারীদের সাথে ভাগ করে নিয়ে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ট্রেন্ড অনুসরণ করছি।’ 


অভিনেত্রী তানজিকা আমিন ছবিটি প্রকাশ করে লিখেছেন, গা ভাসাইলাম


অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা লিখেছেন, কালজয়ী গান আর পুরোনো দিনের স্টাইলের সেই সোনালী যুগে ফিরে যাওয়া!


অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম লিখেছেন, আশির দশকের লুক।


সাফা কবির লিখেছেন, আশির দশকের এই উন্মাদনা এখন পুরো ইন্টারনেট জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আর চরকি এতে দারুণ এক চমৎকার ভাবনা নিয়ে হাজির হয়েছে! আশির দশকের এই লুকে ডা. ইরিনকে কেমন লাগছে?


অন্যদিকে, ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব আশির ধাঁচের একটি ফ্রেমে বন্দী হয়ে লিখে জানিয়েছেন, ‘আশির দশকের কোনো এক বিকেল থেকে।’


অভিনেত্রী সাফা কবীর ও তাসনিয়া ফারিণও পিছিয়ে নেই এই ডিজিটাল নস্টালজিয়া থেকে। নিজের আশির দশকের রূপ প্রকাশ করে সাফা কবীর লিখেছেন, ‘আশির দশকের উন্মাদনা এখন পুরো ইন্টারনেটজুড়ে, আর চরকি বিষয়টিকে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে! আশির দশকের লুকে ডা. ইরিনকে কেমন লাগছে?’ একই ধারায় তাসনিয়া ফারিণ কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়েই যেন মন্তব্য করেছেন, ‘ভালোই হতো।’


সংগীতশিল্পী পড়শীও নিজের একটি সত্তাকে ৪০ বছর আগের সেই পুরোনো ক্যানভাসে আবিষ্কার করে বেশ রোমাঞ্চিত। ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘১৯৮০ সালে যদি থাকতাম, তাহলে মনে হয় এমন থাকতাম।’

সর্বশেষ সব খবর

চিত্রনায়িকা মৌসুমী

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ পিএম

প্রায় তিন বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী। অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি তিনি; বরং প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও সময়-সুযোগ মিললে যুক্ত হচ্ছেন নানা ধরনের শুটিংয়ের কাজে। এবার তাঁকে দেখা যাবে নতুন একটি সিনেমায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হতে যাওয়া সিনেমাটির নাম ‘আ বিউটিফুল লাই’। সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য রচনা করছেন নির্মাতা নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল। সিনেমাটির পরিচালনায়ও তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত মৌসুমীকে কেন্দ্র করে নতুন এই কাজের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন নির্মাতা। সিনেমাটির শুটিং শিগগির শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসেবে নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে এর পরিধিও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লোকেশনে গল্পের প্রয়োজনে শুটিং করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে শুটিং, সহশিল্পী, মুক্তি ও অন্যান্য বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। 


‘আ বিউটিফুল লাই’ নিয়ে শুরুতে প্রাথমিকভাবে টেলিছবি হিসেবে নির্মাণের কথা ভেবেছিলেন নির্মাতা। গল্পের ব্যাপ্তি ও নির্মাণের সম্ভাবনা বিবেচনায় এখন এটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় রূপ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সে অনুযায়ী চিত্রনাট্যেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। গল্পের ধরনও বেশ আলাদা। 


‘আ বিউটিফুল লাই’ মূলত একটি রোড ট্রিপের গল্প। এর সঙ্গে রয়েছে থ্রিলারের আবহ। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটে চলার মধ্যে গল্পের চরিত্রদের জীবনে ঘটতে থাকবে নানা ঘটনা। সেই ঘটনাগুলোর কেন্দ্রে থাকবে একটি মিথ্যা। সেই মিথ্যাকে ঘিরে গল্প এগোবে ভিন্ন এক বাস্তবতার দিকে। 


সিনেমাটির নামের মধ্যেও যেন গল্পের মূল ভাবনাটি লুকিয়ে রয়েছে। মিথ্যা থেকে যখন একের পর এক ঘটনা তৈরি হয়, সেই মিথ্যার মধ্যেও কখনও কখনও জীবনের সুন্দর মুহূর্ত ধরা দেয়। নির্মাতা সেই বৈপরীত্যকে গল্পের ভেতর তুলে ধরতে চাইছেন। 


নতুন এই সিনেমায় যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে মৌসুমীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এর গল্প তাঁকে আগ্রহী করেছে। বিশেষ করে রোড ট্রিপের সঙ্গে থ্রিলারের সংমিশ্রণ এবং মিথ্যাকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে ভালো লেগেছে। মৌসুমী বলেন, ‘আ বিউটিফুল লাই মূলত একটা রোড ট্রিপের গল্প। থ্রিলারধর্মী গল্প। গল্পে যা কিছু ঘটছে, একটা মিথ্যার ওপর ঘটছে। তারপরও ভালো লাগছে মুহূর্তগুলো। সে কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে আ বিউটিফুল লাই।’


গল্পের বিষয়ে খুব বেশি কিছু অবশ্য এখনই প্রকাশ করতে চান না মৌসুমী। তাঁর কথায়, সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত কোন মাধ্যমে মুক্তি পাবে, সেটি এখনও চূড়ান্ত নয়। 


মৌসুমী ও নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের অবশ্য এটাই প্রথম কাজ নয়। দেশে থাকাকালীন এই নির্মাতার নির্দেশনায় অভিনয় করেছেন মৌসুমী। এবার দুজনের কাজের ক্ষেত্র যুক্তরাষ্ট্র। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সেখানকার লোকেশন ও পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে গল্পটি পর্দায় তুলে ধরার পরিকল্পনা করছেন তিনি। 


মৌসুমীর প্রবাসজীবনে পরিবারও গুরুত্বপূর্ণ জায়গাজুড়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি মা, বোন ও মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। একসময় ঢাকাই সিনেমার ব্যস্ততম নায়িকাদের একজন ছিলেন মৌসুমী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এলেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ এখনও অটুট। তাই দেশের বাইরে থেকেও যখন নতুন কোনো গল্প তাঁর সামনে আসে, গল্পটি পছন্দ হলে তাতে যুক্ত হচ্ছেন। 


‘আ বিউটিফুল লাই’ও তেমনই একটি কাজ। তবে মৌসুমীর ভাষ্যে আপাতত ছবিটির সবচেয়ে বড় পরিচয়–মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হওয়া এক উপভোগ্য রোড ট্রিপের গল্প।

সর্বশেষ সব খবর

নুসরাত ফারিয়া

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম

নুসরাত ফারিয়া। মডেল ও অভিনেত্রী। আজ তাঁর জন্মদিন। অভিনয়, গান ও উপস্থাপনা-বিনোদনের নানা মাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। বড় পর্দার পাশাপাশি ওটিটিতেও কাজ করেছেন। জন্মদিন, নতুন কাজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন।


এবারের জন্মদিন কীভাবে কাটবে?


গত পাঁচ বছর জন্মদিনে দেশের বাইরে ছিলাম। এ কারণে ঢাকায় জন্মদিন উদযাপন করা হয়নি। এবার ঢাকায় খুব আনন্দেই কাটবে জন্মদিন। তবে বড় কোনো আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব, কাছের মানুষদের সঙ্গে থাকব। জন্মদিনে সবচেয়ে ভালো লাগে মানুষের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা পেতে। 


ভক্তরা যেভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করেন, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় উপহার। এখন জন্মদিনকে শুধু আনন্দের দিন হিসেবে দেখি না; বরং গত এক বছরে কী করেছি, কী শিখেছি, কোথায় ভুল করেছি এবং সামনে কী করতে চাই– এসব নিয়েও ভাবি। 


শৈশবের জন্মদিনের কথা মনে পড়ে?


খুব মনে পড়ে। ছোটবেলায় জন্মদিন মানেই ছিল নতুন জামা, কেক, পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো। তখন জন্মদিনের আনন্দটা ছিল খুব সরল। কে কী উপহার দেবে, কেক কখন কাটব- এসব নিয়েই উত্তেজনা থাকত। এখন জীবন অনেক ব্যস্ত, দায়িত্বও বেড়েছে। তাই ছোটবেলার সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে ভালো লাগে। ওই সময়ের আনন্দটা অন্যরকম ছিল।




চলচ্চিত্রের এই সময়কে কীভাবে দেখছেন?


চলচ্চিত্র এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দর্শকের রুচি বদলেছে, গল্প বলার ধরন বদলেছে, মাধ্যমও বেড়েছে। সিনেমার পাশাপাশি ওটিটি এখন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করেছে। ফলে শিল্পীদের জন্য সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি দায়িত্বও বেড়েছে। দর্শক এখন অনেক সচেতন। শুধু তারকা থাকলেই একটা কাজ ভালো হবে-এমনটা তারা ভাবেন না। গল্প, অভিনয়, নির্মাণ–সবকিছুর দিকে তারা নজর দেন। আমি মনে করি, এটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন।


মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘ফুটবল ৭১’ নিয়ে কতটা আশাবাদী?


‘ফুটবল ৭১’ আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের যে ভূমিকা, সেটি আমাদের ইতিহাসের গর্বের অংশ। এমন একটি গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারা আমার জন্য আনন্দের। আমি চাই, আমাদের নতুন প্রজন্ম এই ইতিহাস সম্পর্কে আরও জানুক। দর্শক সিনেমাটি ভালোভাবে গ্রহণ করবেন বলে আমি আশাবাদী।


‘লাপাত্তা’য় কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?


‘লাপাত্তা’ করতে গিয়ে খুব ভালো লাগছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবার নিয়মিতভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো- এটা আমার কাছে বিশেষ অনুভূতি। এফডিসি আমার চিরচেনা জায়গা। কদিন আগেই সেখানে গানের শুটিং করেছি, এবার ‘লাপাত্তা’র শুটিং করেছি। মেহেদী হাসান হৃদয় এই সময়ের একজন মেধাবী নির্মাতা। দর্শকের পালস বোঝার চেষ্টা করেন তিনি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে গল্পটা।


গল্পের কোন বিষয়টি আপনাকে আকৃষ্ট করেছে?


গল্পের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রটিই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। পুরো গল্পটি তাঁকে ঘিরে এগিয়েছে। এটা শুধু থ্রিলার নয়। এখানে সাসপেন্স, থ্রিল ও আবেগের পাশাপাশি কমেডিও আছে। ফলে চরিত্রটিতে অনেক ধরনের শেড রয়েছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে এমন চরিত্র করার সুযোগ আমাকে আকৃষ্ট করেছে। নাসির উদ্দিন খান, শাহরিয়ার নাজিম জয়– চমৎকার শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছি। আশা করছি, দর্শকও নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা পাবেন।


জীবনের নানা ঝড়-ঝঞ্ঝার পর অভিনয়ে ফিরেছেন। এই ফেরাটা আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?


খুব গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে সবকিছু সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না। কিছু পরিস্থিতি মানুষকে থামিয়ে দেয়, কিছু ঘটনা মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। আমিও অনেক কিছু থেকে শিখেছি। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ধৈর্য ধরতে পারি। বুঝেছি, কোনো কঠিন সময়ই চিরস্থায়ী নয়। মানুষের ভালোবাসা অনেক শক্তি দিয়েছে। সেই শক্তিতেই আবার কাজে ফিরতে পেরেছি। এখন সামনে তাকাতে চাই।


প্রায়ই দেশের বাইরে দেখা যায়। সম্প্রতি তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে ঘুরেছেন। ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কেমন?


ভ্রমণ আমার খুব পছন্দের। নতুন জায়গা দেখা, নতুন সংস্কৃতি জানা, নতুন মানুষের জীবনযাপন দেখা– এসব আমাকে অনেক কিছু শেখায়। তুরস্কের অভিজ্ঞতা খুব ভালো ছিল। অক্সফোর্ডেও সময়টা উপভোগ করেছি। কাজের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের জন্য কিছু সময় বের করা দরকার। ভ্রমণ আমাকে মানসিকভাবে রিচার্জ করে। ফিরে এসে কাজের প্রতি নতুন উদ্যম পাই।


গান নিয়েও তো আপনাকে ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে?


গান আমার আরেকটি ভালো লাগার জায়গা। ‘লোকে বলে’ নিয়ে ভালো সাড়া পেয়েছি। ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করার অভিজ্ঞতাও চমৎকার। গানটির ভিডিওতে নিজেকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। সামনে আরও দুটি নতুন গান নিয়ে পরিকল্পনা আছে। সময় হলে শ্রোতাদের সঙ্গে সেগুলো শেয়ার করব।


উপস্থাপনায় ফেরার ইচ্ছা আছে?


উপস্থাপনা আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তবে এখন অভিনয় ও গানকে বেশি সময় দিচ্ছি। আমি যে মাধ্যমেই কাজ করি, সেখানে নতুন কিছু করার চেষ্টা থাকে। শুধু কাজ করার জন্য কাজ করতে চাই না। কাজটির মধ্যে যেন নিজের ভালো লাগা এবং দর্শকের জন্য নতুনত্ব থাকে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।


ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?


অভিনয়ে আরও চ্যালেঞ্জিং চরিত্র করতে চাই। সবেচেয়ে বড় কথা, আমি এখনও স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নপূরণের গল্পটা এখনও শেষ হয়নি। গল্পনির্ভর কাজ করতে চাই। গানে আরও ভালো কিছু করার ইচ্ছা আছে। 

সর্বশেষ সব খবর

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩০ পিএম

ইতালির ভেনিসে হামলার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ভেনিস শাখার কর্মী ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ দাবি করা একদল যুবক তাকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


ভিডিওতে দেখা যায়, একদল যুবক বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। এ সময় তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে তারা। হামলাকারীরা নিজেদের ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ দাবি করে।


ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

এ ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বিস্তারিত জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ফিজিক্যালি হ্যারাস করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই। তারা আমার শরীরে হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে। আমার কানের পাশে আঘাত করেছে।’


এ ছাড়া তার ভাইয়ের স্ত্রীকেও আঘাত করা হয়েছে বলে ভিডিও বার্তায় জানান বাঁধন।


তাকে দমানো এত সহজ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘তারা বলেছে, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’


৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫০ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫০ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


বিপাশা বসু

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫০ পিএম

দীর্ঘ কয়েক বছর পর্দার আলো থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা বসু। এবার সেই বিরতি কাটিয়ে অভিনয়ে ফিরছেন তিনি। তবে বড়পর্দার কোনো সিনেমা দিয়ে নয়, ক্রাইম থ্রিলার ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে নতুন ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক হানসল মেহতার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘বারাবাঁকি’-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে বিপাশাকে। ২০২০ সালে ‘ডেঞ্জারাস’ সিরিজে অভিনয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে তার বড় কোনো প্রজেক্ট। ফলে প্রায় ছয় বছর পর অভিনেত্রীর প্রত্যাবর্তন ঘিরে দর্শকের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।


হানসল মেহতার ‘বারাবাঁকি’ নির্মিত হচ্ছে সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা অলোক লালের লেখা ‘দ্য বারাবাঁকি নারকোস: বাস্টিং ইন্ডিয়াজ মোস্ট নটোরিয়াস ড্রাগ কার্টেল’ বই অবলম্বনে। আশির দশকের উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলার বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে সিরিজটির গল্প।


সে সময় বারাবাঁকিতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল কুখ্যাত আফিম ব্যবসা ও মাদক কার্টেল। সেই চক্রের বিরুদ্ধে এক দূরদর্শী পুলিশ কর্মকর্তা ও তার দলের পরিচালিত অভিযান ঘিরেই এগোবে সিরিজের কাহিনি। বাস্তব ঘটনা, অপরাধজগতের অন্ধকার দিক এবং টানটান উত্তেজনায় সাজানো হবে ‘বারাবাঁকি’।


জানা গেছে, সিরিজটির গল্পের প্রাথমিক ধারণা শোনার পরই অভিনয়ের বিষয়ে সম্মতি দেন বিপাশা। এই সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবার হানসল মেহতার সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। গল্পে তার চরিত্রটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন্দ্রীয় চরিত্রের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।


চরিত্রের প্রয়োজনে নিজের লুকেও পরিবর্তন এনেছেন বিপাশা। নতুন সাজ ও ভিন্ন অবতারে তাকে পর্দায় দেখা যাবে। তবে তার চরিত্রের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে আনেননি নির্মাতারা। ফলে বিপাশার চরিত্র ঘিরে দর্শকের জন্য বিশেষ চমক রাখা হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।


এরই মধ্যে মুম্বাইয়ে গোপনে সিরিজটির শুটিং শুরু হয়েছে। বিপাশা বসু ছাড়াও এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন বিশাল জেঠওয়া ও সানি কৌশল।


এর আগে ‘স্ক্যাম ১৯৯২’, ‘স্কুপ’ ও ‘স্ক্যাম ২০০৩’-এর মতো আলোচিত ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করেছেন হানসল মেহতা। বাস্তব ঘটনা ও নির্ভরযোগ্য গল্প বলার জন্য তার নির্মাণ নিয়ে দর্শকের আলাদা আগ্রহ রয়েছে। এবার তার পরিচালনায় বিপাশা বসুর দীর্ঘ বিরতির পর প্রত্যাবর্তন-সব মিলিয়ে ‘বারাবাঁকি’ নিয়ে এরই মধ্যে বলিউডে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

সর্বশেষ সব খবর

পরীমনি

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:২৯ পিএম

সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া ছবিতে তার কোলে দেখা যায় এক সদ্যজাত শিশুকে।


ছবিটির সঙ্গে পরীমনি ক্যাপশনে লেখেন, ‌‘তিন নাম্বার জন ডান। আলহামদুলিল্লাহ।’


এরপর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে কি তৃতীয় সন্তানের মা হলেন পরীমনি? নাকি আবারও কোনো শিশুকে দত্তক নিয়েছেন এই অভিনেত্রী- এমন প্রশ্নই ঘুরছে সামাজিক মাধ্যমে। শিশুদের প্রতি পরীমনির ভালোবাসার কথা অবশ্য অনেকেরই জানা। নিজের সন্তানদের পাশাপাশি অন্য শিশুদের প্রতিও তার রয়েছে আলাদা টান। বিভিন্ন সময় একাধিক সন্তানের মা হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। এমনকি একসময় মজা করে ১০০ সন্তানের মা হওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেছিলেন পরীমনি।


চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কে থাকাকালীন তাদের ঘরে আসে ছেলে শাহীম মোহাম্মদ পূণ্য। পরে রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ছেলেকে নিজের কাছেই রেখে বড় করছেন পরীমনি। এরপর তিনি একটি কন্যাশিশুকে দত্তক নেন। তার নাম রাখা হয় সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম।


বর্তমানে দুই সন্তান নিয়েই পরীমনির ব্যস্ততা। অভিনয় ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের জন্য সময় বের করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমেও নিয়মিত সন্তানদের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতে দেখা যায় তাকে।


এদিকে সোমবারের ছবিতে পরীমনিকে দেখা যায় গাড়ির ভেতর রোদচশমা পরা অবস্থায়। তার কোলে থাকা সদ্যজাত শিশুটিকে নিয়েই মূলত শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভক্ত-অনুরাগীদের অভিনন্দন ও নানা প্রশ্ন জমতে থাকে।


শিশুটির পরিচয় এবং ‘তিন নাম্বার জন ডান’ ক্যাপশনের রহস্য জানতে পরীমনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার কাছ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে শিশুটিকে ঘিরে রহস্য আরও বেড়েছে।


সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ধারণা করছেন, পরীমনি হয়তো নতুন করে কোনো শিশুকে দত্তক নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ছবির শিশুটি হয়তো তার পরিচিত কারও সন্তান। তবে শিশুটির পরিচয় কিংবা ছবির প্রকৃত প্রেক্ষাপট এখনো নিশ্চিত নয়।


পরীমনির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ফলে এখন সবার অপেক্ষা, ‘তিন নাম্বার জন’ নিয়ে আসলে কী বলতে চেয়েছেন পরীমনি, সেটি কবে নিজেই পরিষ্কার করেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর