স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার সঙ্গে জাহের আলভী। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১:০০ পিএম

অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় আত্মহত্যা করেছেন। মিরপুর পল্লবী থানার ওসি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


স্ত্রীর মৃত্যুর খবরটি অভিনেতা জাহের আলভী নিজেও নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করা এই অভিনেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানান।


এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন ইকরা। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও স্বাভাবিকভাবেই অনলাইনে উপস্থিতি ছিলেন তিনি, যা দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করছেন। কী কারণে এমন আত্মাহত্যার সিদ্ধান্ত তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।


পাঠকদের জন্য অভিনেতার স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার শেষ পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল।


আমার বোনের মাতৃত্বযাত্রার এক তিক্ত অভিজ্ঞতা। অক্টোবর ২০২৪, শুনুন তার মুখ থেকেই- ২০২৪ সালের ১৩ই অক্টোবর—দিনটি আমার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। সেদিন ৩২ সপ্তাহে হঠাৎ আমার ওয়াটার ব্রেক হয়। দ্রুত আমি লালমাটিয়ায় অবস্থিত মাদার কেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হই, যেখানে পুরো প্রেগন্যান্সি জুড়ে আমি ডা. সেলিনা খানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়ে আসছিলাম।


হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তারা আমাকে পরীক্ষা করে দ্রুত ভর্তি করে নেয়। কিন্তু তখন জানতে পারি, ডা. সেলিনা খান জরুরি একটি অপারেশনের কারণে দুই থেকে তিন দিনের ছুটিতে আছেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাকে জানানো হয় যে ওয়াটার ব্রেক হওয়ায় একটি আল্ট্রাসাউন্ড করা জরুরি।


কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হল—সেই সময় হাসপাতালে কোনো আল্ট্রাসাউন্ড টেকনিশিয়ান উপস্থিত ছিলেন না। যিনি আল্ট্রাসাউন্ড করেন, তাকে ফোন করে ডাকা হয়।


অনেক অনুরোধের পর তিনি হাসপাতালে আসার আগে আমার কাছ থেকে আগাম যাতায়াত ভাড়া দাবি করেন। একজন ভর্তি রোগী হিসেবে এই পরিস্থিতি আমার জন্য ছিল অত্যন্ত বিব্রতকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক। তবুও জরুরি অবস্থার কথা ভেবে অনুরোধ করে তাকে আসতে রাজি করাই। পরে আল্ট্রাসাউন্ড করে জানানো হয় যে ভেতরের পানি তখনও অক্ষত রয়েছে।


এরপর আমাকে দোতলায় একটি বেডে শুইয়ে রাখা হয়। স্যালাইন চলতে থাকে, এবং বলা হয় যতটা সম্ভব নড়াচড়া না করতে। ক্যাথেটার পরানো অবস্থায় আমি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়ি।


১৪ ও ১৫ অক্টোবর—এই দুই দিন কোনো পুনরায় আল্ট্রাসাউন্ড বা স্পষ্ট মেডিকেল আপডেট আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার শারীরিক অবস্থা কী, আমাকে বাড়ি যেতে দেওয়া হবে কি না, নাকি ডেলিভারির প্রস্তুতি নিতে হবে—এসব বিষয়ে কোনো পরিষ্কার তথ্য পাইনি। অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন দুটি কেটেছে।


১৬ই অক্টোবর যা ঘটলো, তা ছিল আমার কল্পনার বাইরে। আমাকে দোতলা থেকে তিনজন স্টাফ কাঁধে ভর দিয়ে হুইলচেয়ারে করে নিচে নামান। এমনভাবে একজন সম্ভাব্য সিজারিয়ান রোগীকে স্থানান্তর করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও অস্বস্তিকর মনে হয়েছে আমার কাছে।


পরে আল্ট্রাসাউন্ড করে জানানো হয়—আমার শরীরে আর কোনো অ্যামনিয়োটিক ফ্লুইড নেই; জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন করতে হবে। সেই সময় ডা. সেলিনা খান উপস্থিত ছিলেন।


আমরা জানতে চাই—হাসপাতালে কি এনআইসিইউ সুবিধা আছে? যদি নবজাতকের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন হয় তবে কী হবে? উত্তরে বলা হয়, এখানে এনআইসিইউ নেই; প্রয়োজনে পাশের হাসপাতালে নেওয়া হবে।


একজন মা হিসেবে আমার উদ্বেগ ছিল স্বাভাবিক—মা ও শিশু আলাদা হাসপাতালে থাকলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তখন আমাদের জানানো হয়, চাইলে আমরা অন্য হাসপাতালে চলে যেতে পারি।


কিন্তু প্রশ্ন হল—যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এখানে না থাকে, তবে আমাকে আগেই কেন জানানো হয়নি? কেন দুই দিন ধরে আমাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা হলো? কেন একটি মা ও শিশু হাসপাতালে আল্ট্রাসাউন্ড সার্ভিস নিয়মিতভাবে উপস্থিত থাকবে না?


আরও উদ্বেগজনক বিষয় ছিল—এর আগে যখন এনআইসিইউ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম, তখন আমাকে বলা হয়েছিল, “কিছু হবে না, এনআইসিইউ লাগবে না।” চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এমন আশ্বাস কি যথেষ্ট?


ডা. সেলিনা খান নিঃসন্দেহে একজন দক্ষ ও সুনামধন্য চিকিৎসক। তবে তিনি যখন উপস্থিত ছিলেন না, তখন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল রোগীর যথাযথ পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছ তথ্য প্রদান ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। সেই জায়গায় আমি অবহেলা ও সমন্বয়ের অভাব অনুভব করেছি।


এই দুই দিন যদি আমার বা আমার সন্তানের কোনো বড় ক্ষতি হতো—তাহলে দায়ভার কে নিত? এই পরিস্থিতির মধ্যে অবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আমাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার।


সকালবেলা জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে আমাকে দ্রুত গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডা. সারোয়াত জাহান জুবায়রা ম্যাম এর তত্ত্বাবধানে আমাকে অত্যন্ত মানবিক ও পেশাদারভাবে গ্রহণ করা হয়। প্রয়োজনীয় সব তথ্য নিয়ে দ্রুত ফর্ম পূরণ করে আমাকে ভর্তি করা হয়। মাত্র পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যেই ওটি প্রস্তুত ছিল।


ডা. জুবায়রা ম্যাম জরুরি সিজারিয়ান ডেলিভারির মাধ্যমে আমাকে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের মা হওয়ার সৌভাগ্য দেন আলহামদুলিল্লাহ। সেই মুহূর্তের দ্রুত সিদ্ধান্ত, দক্ষতা এবং মানবিক আচরণ আমার এবং আমার সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।


আমি বিশ্বাস করি, তিনি যদি সেই সময় জরুরি সহায়তা না দিতেন, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। আমি ডা. জুবায়রা ম্যাম এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁর পেশাদারিত্ব, দ্রুততা এবং মানবিকতা আমার জীবনের এক সংকটময় মুহূর্তকে আশীর্বাদে পরিণত করেছে।


আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই—রোগী ব্যবস্থাপনা, জরুরি সেবা, তথ্য প্রদান এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতির বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ হোন। একজন মা যখন প্রসবের জন্য হাসপাতালে যান, তখন তিনি শুধু চিকিৎসা নয়—নিরাপত্তা, নিশ্চয়তা ও মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করেন।


আমার এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করার উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা নয়; বরং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মা এমন অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টের মধ্যে না পড়েন—সেই সচেতনতা তৈরি করা। 


উল্লেখ্য, এই পোস্টটি মূলত এডভোকেট রাকা ফরহাতের। তিনি শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এই পোস্টটি করেছিলেন। রাকার ওই পোস্টটিও নিজের টাইমলাইনে গতকাল শেয়ার করেছিলেন ইকরা। কিন্তু আজ আর তিনি পৃথিবীতে নেই।


এদিকে পারিবারিক সূত্র জানায়, দুপুর দেড়টার দিকে বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তবে ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জাহের আলভী ও আফরা ইবনাত ইকরা। 




  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ পিএম

রাজধানীর মগবাজারে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে বিশাল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না এই সংগীতশিল্পী। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে গুলি চালিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।


এদিকে স্বামীর গাড়িতে গুলির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আসিফ আকবরের স্ত্রী সালমা আসিফ মিতু। তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনার পেছনে কাউকে সন্দেহ করার মতো কোনো কারণ তাদের জানা নেই।


শনিবার সকাল ১০টার দিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সালমা আসিফ মিতু বলেন, ‘আসিফ আমাকে এটুকু বলেছে, কে বা কারা আমার গাড়িতে গুলি করেছে। আমার গাড়ির ক্ষতি করেছে। আমি ওপর থেকে সিসিটিভিতে দেখেছি। গুলির শব্দ শুনেছি। এরপর নিচ থেকে দারোয়ান ডাকাডাকি করেছে। তারপর নিচে আসছি। এরপর কেউ একজন দৌড়ে পালিয়েছে।’


কাউকে সন্দেহ করছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে সন্দেহজনক কেউ নেই। আমরা এই জীবনে আজ পর্যন্ত কাউকে কখনো সন্দেহ করতে পারিনি। সন্দেহ করার মতো কোনো ঘটনা তো আসিফের সঙ্গে কখনো ঘটেওনি।’


সালমা আসিফ মিতু আরও বলেন, ‘আসিফ বরাবরই সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলেছে। সব সময় ন্যায্য কথা বলেছে। তবে এই ঘটনা অবিশ্বাস্য। বুঝতে পারছি না, কিসের থেকে কী হয়েছে। জানি না, কী হবে। আসিফ এখন ঘুমাচ্ছে। সুস্থ আছে।’


এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, মগবাজারের বিশাল সেন্টারে আসিফ আকবরের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয় রয়েছে। ভবনটির সামনে তার ব্যক্তিগত গাড়ি পার্ক করা ছিল। ভোরের দিকে দুর্বৃত্তরা গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।


পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বিশাল সেন্টার মার্কেটের নিচে পার্কিংয়ের জায়গায় আসেন। সেখানে রাখা আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে একটি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান তিনি।


পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘটনার সময় আসিফ আকবর বিশাল সেন্টারের তৃতীয় তলায় তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন বলে জানতে পারে পুলিশ।


ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর গাড়ির পেছনের জানালা খুলে ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।


ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, কারা এ হামলা চালিয়েছে এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।




 



 



পরীমণি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম

একসময় চিত্রনায়িকা পরীমণির জন্মদিন ঘিরে থাকত তারকাখচিত বর্ণাঢ্য আয়োজন। অভিজাত পাঁচতারা হোটেলে আলোকসজ্জা, ব্যতিক্রমী থিমে সাজানো অনুষ্ঠানস্থল, বিশেষ পোশাক আর কেক কাটার পর্ব-সব মিলিয়ে দিনটি পরিণত হতো উৎসবের উপলক্ষ। সহকর্মী ও তারকাদের উপস্থিতিতে জমে উঠত পুরো আয়োজন। 


সময়ের পরিক্রমায় জন্মদিন উদযাপনের সেই চেনা ছবিতে এসেছে পরিবর্তন। এখন আর আগের মতো বড় পরিসরে উৎসব করার দিকে ঝোঁক নেই এই অভিনেত্রীর। ২০২৩ সালে প্রিয় নানাকে হারানোর পর থেকে জন্মদিনের আনন্দ উদযাপনে আগের মতো আগ্রহ খুঁজে পাননি তিনি। 


এবারও থাকছে না সেই চেনা জাঁকজমক; বরং কাছের মানুষদের নিয়ে এক সন্ধ্যা কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন এই অভিনেত্রী। এবারের আয়োজনের নাম ‘শিউলিসন্ধ্যা’।


১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর ভান্ডারিয়ায় জন্ম পরীমণির। তাঁর আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। শৈশবের বড় একটা সময় কেটেছে পিরোজপুরের নানাবাড়িতে। মাকে হারানোর পর নানা শামসুল হক গাজীর স্নেহে বেড়ে ওঠেন তিনি। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা ছিলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ। ফলে প্রিয় মানুষটির চলে যাওয়া পরীমণির জীবনে তৈরি করেছে গভীর শূন্যতা, যার প্রভাব পড়েছে জন্মদিন উদযাপনেও।


জন্মদিন এলে কী উপলব্ধি হয়-এমন প্রশ্নে পরীমণির বক্তব্য স্পষ্ট, ‘প্রতিবছরই জন্মদিন নতুন নতুন উপলব্ধি নিয়ে আসে। দিনটির সঙ্গে আমার আবেগের সম্পর্ক এখন অনেক গভীর। নানাকে হারানোর পর জন্মদিনে কেক কাটা কিংবা সবাইকে নিয়ে হইহুল্লোড় করার কথা আমার মাথায় আসেনি। জন্মদিনে এবার কোনো কেক কাটা হবে না। কাছের মানুষদের নিয়ে কিছুটা সময় কাটানোর ইচ্ছা রয়েছে। যারা আমার কাছের প্রিয় মানুষজন, তাদের নিয়ে একটুখানি একটা সন্ধ্যা তো কাটাতেই পারি। সেই ভাবনা থেকে ‘শিউলিসন্ধ্যা’ আয়োজনটি করেছি। আশা করছি সবার অংশগ্রহণে এটি সফল ও সার্থক হবে।’


শরতের শিউলি ফুলের আবহে প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মৃতিচারণ, আড্ডা আর ভালোবাসা ভাগাভাগি করে নেওয়ার আয়োজনটি আজ সন্ধ্যায় পূর্বাচলের একটি রেস্তোরাঁয় হবে বলে জানিয়েছেন পরিমণি। ঝলমলে জন্মদিনের পরিবর্তে কাছের মানুষদের নিয়ে সময় কাটানোর এই পরিকল্পনা পরীমণির জীবনের নতুন উপলব্ধিরই যেন প্রতিচ্ছবি। 


এদিকে জন্মদিনের আগেই নতুন কাজ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন পরীমণি। গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’-এ অভিনয় করছেন তিনি। এতে তাঁকে দেখা যাবে একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশকের চরিত্রে।  


‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’-এর পর আবারও গিয়াসউদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় চার বছর পর কাজ করছেন পরীমণি। ৬০ মিনিটের ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাবে আইস্ক্রিনে। মুক্তির তারিখ অবশ্য এখনও ঘোষণা করা হয়নি। 


ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততার পাশাপাশি, নতুন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার প্রস্তুতি-সব মিলিয়ে এবারের জন্মদিন পরীমণির কাছে অন্যরকম। উৎসবের জৌলুস কমলেও প্রিয়জনদের সান্নিধ্য আর নতুন কাজের ব্যস্ততায় দিনটি হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয়। এমনটি মনে করেছেন চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই। 


জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ এএম

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর মগবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোরবেলায় মগবাজারে শিল্পীর ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সে সময় আসিফ আকবর গাড়িতে ছিলেন না। ফলে কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।


কী কারণে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এই হামলার পেছনে তাঁর ব্যক্তিগত, পেশাগত বা অন্য কোনো ধরনের পূর্বশত্রুতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।


ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নেপথ্য কারণ উদঘাটনসহ জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।


উল্লেখ্য, দেশের সংগীতাঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর ক্রীড়াঙ্গনেও সমানভাবে পরিচিত। তিনি অতীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


দিলজিত দোসানজে ও অমিতাভ বচ্চন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৭ পিএম

টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বলিউডের শাহেন শাহ অমিতাভ বচ্চনের বাড়ি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এসেছে। এই অবস্থায় জুহুতে অমিতাভের বাড়ি ‘জলসা’র সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে মেইলে সরাসরি মুম্বাইয়ের মেয়রকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। মেয়র রিতু রাজেশ তাওড়ের কাছে শুক্রবার একটি হুমকির মেইল আসে। 


সেইসঙ্গে হুমকি দেওয়া হয়েছে গায়ক-অভিনেতা দিলজিত দোসানজেকেও। ২৭ নভেম্বর মুম্বাইয়ে দিলজিতের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। হুমকি মেলে বলা হয়েছে, সেই অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হবে। এসব হুমকির ঘটনায় নতুন করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলিউডে।


হুমকি বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে মুম্বাই পুলিশ। এর আগে অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর হামলা হয়েছে। 


মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে ডিসিপি মণীশ কালওয়ানিয়া জানিয়েছেন, বিএএমসি-র কাছে একটি হুমকি মেইল এসেছে। মুম্বাইয়ের দাদরের স্কুলেও হামলার হুমকি এসেছে। তবে এই হুমকির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।


ভারতের একাধিক শহরে দিলজীতের অনুষ্ঠান করার কথা আগামী কয়েক দিনে। টাইগারের ওপর হামলার পরেই দিল্লিতে দিলজিতের অনুষ্ঠানের অনুমতি মেলেনি দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে। জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার কারণেই দিল্লিতে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হচ্ছে না।


কলকাতা বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক


কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তল্লাশিতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে বিমানবন্দরের নারীদের শৌচাগারে একটি চিরকুট পান এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এতে ৩০ নম্বর গেটে বোমা রাখা আছে বলে লেখা ছিল। চিরকুটটি পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিমানবন্দরজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।


চিরকুট পাওয়ার পরপরই এয়ারপোর্ট থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য ও বম্ব স্কোয়াডের দল বিমানবন্দরে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান চালায়। তবে, কোথাও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে। বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রী ও বিমানবন্দরকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।


উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর জুহু এলাকায় এক ফুটবল ক্লাব থেকে বের হচ্ছিলেন টাইগার। গাড়িতে ওঠার পরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতকারীরা। টাইগার গুরুতর আহত হননি। কিন্তু তার গাড়ির চালক ও আর এক ব্যক্তির গুলি লাগে। ঘটনার পর থেকে ত্রাস ছড়িয়েছে মুম্বাইয়ের টিনসেল টাউনে।


জেমস ও হাসান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৭ পিএম

রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে আজ একই মঞ্চে গান শোনাবেন দেশের ব্যান্ড সংগীতের দুই জনপ্রিয় তারকা নগরবাউলের জেমস ও আর্কের হাসান। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে মঞ্চে হাজির হচ্ছেন তারা।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ৩টা থেকে যমুনা শপিং কমপ্লেক্সের কার্নিভাল অ্যারেনায় শুরু হবে ‘রক এন রিদম ৫.০: নো লিমিটস ইন দ্য জোন’ শীর্ষক কনসার্ট।


আয়োজক প্রতিষ্ঠান অ্যাডভেন্টর কমিউনিকেশনস জানিয়েছে, কনসার্টে নগরবাউল ও আর্কের পাশাপাশি পারফর্ম করবে দেশের আরও তিন জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজ, অর্থহীন ও শূন্য। ওয়ারফেজের সঙ্গে বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেবেন গিটারিস্ট ওনি হাসান। তিনি একক পরিবেশনাতেও মঞ্চে থাকবেন। এ ছাড়া একক পরিবেশনা করবেন এ কে রাহুল।


কনসার্টে নিজ দল নগরবাউলকে নিয়ে পারফর্ম করবেন জেমস। দেশে দীর্ঘদিন পর টিকিট কনসার্টে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশা করি শ্রোতা-দর্শক নতুন কিছু শুনতে ও দেখতে পাবেন।’


কনসার্টের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৯৯ টাকা। একটি টিকিট দিয়ে ভেন্যুতে একবারই প্রবেশ করা যাবে। রি-এন্ট্রির সুযোগ থাকবে না। ছোট হাতব্যাগ বা পার্স ছাড়া বড় কোনো ব্যাগ নিয়ে ভেন্যুতে প্রবেশ করা যাবে না।


আয়োজকেরা জানিয়েছেন, কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক অনুমতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।


মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৮ এএম

দীর্ঘ আট বছর পর আবারও র‍্যাম্পে ফিরেছে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের আলোচিত ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’। আর এবারের বিশেষ ডিজাইনের ব্রা পরে র‍্যাম্পে হেঁটেছেন মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। হীরা ও মূল্যবান রত্নে সাজানো ব্রাটির দাম ৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬১৭ কোটি টাকারও বেশি।



রোববার (১৮ অক্টোবর) মার্কিন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোতে ফিরল ফ্যান্টাসি ব্রা। এর প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করতে নকশা ও অলংকারে বিশেষ আয়োজন করেছে ব্র্যান্ডটি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ হাজার ৪১০টি প্রাকৃতিক হীরা। মাঝখানে রয়েছে ৭৫ দশমিক ৫৪ ক্যারেটের উজ্জ্বল কাটের বিরল হলুদ হীরা।



অন্তর্বাসটি তৈরি করতে ১৫ জন কারিগরের এক হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এর ওজন প্রায় চার পাউন্ডের কাছাকাছি। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ফ্যান্টাসি ব্রা। এর আগের রেকর্ডের তুলনায় দাম প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার বেশি।



র‍্যাম্পে কাইলির পরনে ছিল হালকা কাপড়ের মিনিস্কার্ট, স্বচ্ছ হিল এবং সাদা পালকের ডানা। তবে পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে হীরাখচিত ব্রাটি। এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যান বলেন, এবারের শোর অন্যতম ভাবনা ছিল ভক্তদের উন্মাদনা ও প্রত্যাশা। গত বছরের শোতে ফ্যান্টাসি ব্রা ফিরিয়ে আনার দাবি ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই এবার জমকালোভাবে এটি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার ভাষায়, কাইলি একজন ‘সাংস্কৃতিক শক্তি’, যিনি ফ্যাশন, টেলিভিশন ও সৌন্দর্যজগতের বাইরেও ব্যাপক প্রভাব রাখেন। জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড কো ব্রাটির অলংকার নির্মাণে কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব আরাবো জানান, ব্রাটিতে সাত ধরনের কাটের হীরা ব্যবহার করা হয়েছে। হীরার উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রয়োগ করা হয়েছে চার ধরনের সেটিং কৌশল।



তবে এত দামি অলংকার তৈরি করাই ছিল একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। ব্রাটি যেন কাইলির শরীরের সঙ্গে মানানসই হয় এবং চলাফেরায় অসুবিধা না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়েছে। কারণ, নকশাটি তৈরি হয়েছে মূলত সোনা ও হীরা দিয়ে, এতে কোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়নি। কাইলির শরীরের মাপ নিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত নকশা তৈরি করা হয়।



ফ্যান্টাসি ব্রার ইতিহাস প্রায় ৩০ বছরের। ১৯৯৬ সালে ক্লডিয়া শিফার এক মিলিয়ন ডলারের প্রথম ফ্যান্টাসি ব্রা পরে প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৯৯ সালে হেইডি ক্লুম পরেন ১০ মিলিয়ন ডলারের ‘মিলেনিয়াম ব্রা’।



২০০০ সালে জিসেল বুন্ডশেনের পরনে ছিল ১৫ মিলিয়ন ডলারের ‘রেড হট ফ্যান্টাসি ব্রা’। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এলসা হস্ক পরেছিলেন এক মিলিয়ন ডলারের অ্যাটেলিয়ার স্বরোভস্কি ফ্যান্টাসি ব্রা।



ফ্যাশন দুনিয়ায় ফ্যান্টাসি ব্রা একদিকে যেমন প্রচারণার বড় আকর্ষণ, অন্যদিকে এটি গয়না নির্মাণের জটিল কারিগরি দক্ষতারও উদাহরণ। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ভাষ্য, এবারের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং তাদের জন্য বিশেষ কিছু উপহার দেওয়া।