সংগৃহীত ছবি
আজ ২০ তারিখ শাকসু নির্বাচন না হওয়ায় তারেক রহমানের সিলেটের সমাবেশ বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকাল তিনটায় ভাস্কর্য চত্বরে শাকসু স্থগিতের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের ডাকা এক মানববন্ধন তিনি এ আহ্বান জানান।
ইব্রাহিম খলিল বলেন, ২০ তারিখে শাকসু নির্বাচন না হলে তাদের তথাকথিত দেশনায়ক তারেক রহমানের সিলেটের সমাবেশ বন্ধ করে দিন। ছাত্রসমাজকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেটের সড়কপথ, রেলপথ- সবকিছু বন্ধ করে দিন।
যারা শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করে, তাদের সমাবেশ করার কোনো অধিকার থাকতে পারে না। ইব্রাহিম খলিল বলেন, আমরা আপনাদের কল্যাণকামী।
শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায় না। ভোটাধিকার হরণের কাজ আগে করেছিল, ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার পেটুয়া বাহিনী ছাত্রলীগ।
মানববন্ধনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, সোশ্যাল মিডিয়া সম্পাদক সালেম হোসেন সিয়াম সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজপথে শেকৃবি শিক্ষার্থীরা
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরাতন গবেষণা মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার ও সেখানে এশিয়া বাণিজ্য মেলার কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এ সময় মাঠে চলমান মাটি পরীক্ষা বা সয়েল টেস্টের কাজ বন্ধ করে পরীক্ষার সরঞ্জাম ও স্যাম্পল সংগ্রহের দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের লাগানো সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিয়ে আসেন তাঁরা।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ডের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অবস্থান নিয়ে তাঁরা সচিবালয় নির্মাণের জন্য চলমান সয়েল টেস্টের কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও স্যাম্পল সংগ্রহের দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাগানো সাইনবোর্ডটি উপড়ে ফেলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে রেখে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা মাঠটি ফিরিয়ে না দেওয়ায় ব্যবহারিক শিক্ষা ও উচ্চতর কৃষি গবেষণা ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া ওই মাঠে কোনো ধরনের বহিরাগত কার্যক্রম বা নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে অন্য কোনো স্থাপনা বা কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।
এদিন বেলা ১১টার দিকে গবেষণা মাঠের জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে স্থায়ীভাবে উদ্ধার ও সুরক্ষার দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের কাছে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। এতে আগামী তিন দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে মাঠটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা মাঠ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা এবং জমি উদ্ধারে হাইকোর্টে রিট করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মাঠে এশিয়া প্যাসিফিক বাণিজ্য মেলার কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. আশিক আহমদ বলেন, “চোখের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অথচ প্রশাসনের কোনো হেলদোল নেই। আমরা প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে সিন্ডিকেট সভা ডেকে জোরালো আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিতে হবে এবং ওই জায়গা যে আমাদের, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার জানান, গবেষণা মাঠ রক্ষার আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তরের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বাণিজ্য মেলার মাঠ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিটি রয়েছে। কমিটি রিটের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তারা সিদ্ধান্ত জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে কমিটির সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত কাজ শুরু করার কথা জানান তিনি।
তবে মেলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা জানান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই তাঁরা মেলার কাজ করছেন। তাঁর দাবি, মেলার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নিয়ম মেনেই অর্থ ব্যয় ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শেকৃবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই দিন মাঠটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৫ সালে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে এর প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। পরে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, গবেষণার জন্য নির্ধারিত জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া না হলে শিক্ষা ও গবেষণার কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই মাঠটি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন
পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছোট-বড় বিবেচনা না করে ব্যক্তির উপযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, জীবনে সফলতা অর্জনে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত পেশায় দক্ষতা অর্জন জরুরি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘হুইচ ক্যারিয়ার ইজ রাইট ফর ইউ? আ রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আমরা জীবনের লক্ষ্য নিয়ে রচনা পড়লেও, বাস্তবে লক্ষ্যহীন জীবন হলো হাল ছাড়া নৌকার মতো। এখন তোমাদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণের সবচেয়ে উত্তম সময়। জীবনে কোনটা ছোট বা বড় পেশা, তা না ভেবে কার জন্য কোন পেশা উপযুক্ত, সেটির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’
কাঙ্ক্ষিত পেশায় সফলতা অর্জনে কঠোর অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, ‘একাডেমিক পড়া শেষ করে অলস সময় না কাটিয়ে কাঙ্ক্ষিত পেশার জন্য বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করতে হবে। তবেই তোমরা জীবনে সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ‘হায়ার এডুকেশন অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ সাব-প্রজেক্টের উদ্যোগে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হিট প্রজেক্টের এএসপিএম ও হিসাববিজ্ঞান এবং তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাজু আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন হিট প্রজেক্টের এসপিএম ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
এ ছাড়া কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনমিকস অ্যান্ড রুরাল সোশিওলজির অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
টানা ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ক্লাস ও পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। তবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে রোববার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থায় শিক্ষাজীবনের ক্ষতি ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিয়ে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাওয়াকে আন্দোলনের সমাপ্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা আরও জানান, অধ্যাপক শরিফুল আলম পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে কিংবা উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ নিলে তারা আবারও শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করবেন।
শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
নোবিপ্রবিতে তিন দিনের মডেল ইউনাইটেড নেশনস সম্মেলন, অংশ নেবেন ৪০০ শিক্ষার্থী
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আগামী ১২ নভেম্বর শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘এনএসটিইউ মডেল ইউনাইটেড নেশনস (এনএসটিইউএমইউএন) ২০২৬’ সম্মেলন। ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণ বিষয়ে আগ্রহী তরুণদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
‘Recasting the Global Order Amid Rising Power Asymmetries’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে পরিবর্তনশীল বিশ্বরাজনীতি, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ক্ষমতার অসম বণ্টন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্মেলনে সাতটি কমিটি ও ফোরামের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময় করবেন। কমিটিগুলো হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি), জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি), উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন (ইউএনসিএসটিডি), জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ), জাতীয় সংসদ (জেএএসএ) এবং আন্তর্জাতিক প্রেস (আইপি)।
এসব কমিটিতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির ভূমিকায় অংশ নেবেন শিক্ষার্থীরা। আলোচ্য বিষয় নিয়ে গবেষণা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক এবং প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে তাঁরা বৈশ্বিক সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান খুঁজবেন। পাশাপাশি আলোচনা ও দর-কষাকষির মধ্য দিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন তাঁরা।
সম্মেলনে জাতিসংঘের কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, তাঁদের অংশগ্রহণ সম্মেলনের আলোচনা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা পেতে সহায়তা করবে।
এ বিষয়ে এনএসটিইউ মডেল ইউনাইটেড নেশনসের সেক্রেটারি জেনারেল তারেক মুকতার বলেন, ‘এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, কূটনৈতিক দক্ষতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে তারা শুধু বিতর্ক বা মডেল ইউনাইটেড নেশনসের কৌশলই নয়, বরং বাস্তব জীবনে কীভাবে যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে হয়, মতপার্থক্য সামলাতে হয় এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে হয়, তা শিখবে।’
তিনি আরও বলেন, এমন একটি উদ্যোগের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত ও আশাবাদী। সম্মেলনে অর্জিত অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সম্মেলনের ডিরেক্টর জেনারেল তাসনুভা জামিল চৌধুরী বলেন, ‘কূটনীতি মানুষকে শুধু নিজের মত প্রকাশ করতে শেখায় না, বরং ভিন্নমতকে বুঝতে, যুক্তির মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে এবং সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে শেখায়। এই মূল্যবোধগুলোকে ধারণ করেই আসছে এনএসটিইউএমইউএন।’
তিনি বলেন, একটি সফল সম্মেলনের সার্থকতা শুধু সুশৃঙ্খল আয়োজনে সীমাবদ্ধ নয়; অংশগ্রহণকারীদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েও এর সাফল্য প্রকাশ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্কুলপর্যায়ের প্রতিনিধিদের জন্যও অতিথিপরায়ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আয়োজকেরা কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
আয়োজকদের মতে, এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্লেষণী চিন্তা, গবেষণা, জনসমক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন, নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মতবিনিময় ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
আয়োজকেরা আশা করছেন, এনএসটিইউএমইউএন ২০২৬ তরুণদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তিবাদী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
ফারজানা ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সাপেক্ষে বইগুলোর অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে কমিটির পৃথক দুটি সভায় এসব বই অনুমোদন দেওয়া হয়। চতুর্থ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য অনুমোদন পেয়েছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহারের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন, প্রধান তথ্য কমিশনার ড. নাহরিন ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহসহ কমিটির অন্য সদস্যরা।