• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ এএম

শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানোর পরিবেশ সৃষ্টি, জাতীয় পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা ও কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নকে শিক্ষা খাতের তিন অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।


আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নতুন সরকারের এ পদক্ষেপের কথা জানান। এসময় শিক্ষা নিয়ে নতুন সরকারের ১২টি পরিকল্পনা থাকার কথাও তুলে ধরা হয়। পরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজও কথা বলেন।


সর্বশেষ বিএনপি সরকারে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মিলন এবার একই সঙ্গে শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পেয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনে আজ বৃহস্পতিবারও তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন।


আগের দফায় দেশে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় নকল কমাতে ভূমিকা রেখে প্রশংসা পাওয়া মিলন আশা করছেন অতীতের মতো তার আর নকলবিরোধী অভিযানের প্রয়োজন হবে না।


এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এক সময় দেশে মব হয়েছে, শিক্ষার্থীরা অটোপাস নিয়েছে। এই সংস্কৃতিতে আর ফিরে যাবে না দেশ।”


প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষকদের চাহিদা মেটানোর কাজ সরকারই করবে তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকদের নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে আর আন্দোলন করতে হবে না।


“আপনি শিক্ষকতা করবেন, পাশাপাশি আন্দোলন করবেন-এটা হতে পারে না। আপনাদের দাবি-দাওয়া যা আসে, আমরা তা দেখব। রাজপথ দখল করে কোনো দাবি-দাওয়া আদায়ের প্রয়োজন নেই।


“আমরা বুঝি কোনটা দিতে হবে, কোনটা দিতে হবে না। আমরা তাদের (শিক্ষক) পক্ষেই থাকি, কেননা তারা তো মানুষ গড়ার কারিগর।”


দুর্নীতি রোধে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে করতে অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বদলি হবে মেধার ভিত্তিতে, কোনো প্রকার দুর্নীতি ছাড়া। অ্যাপে সব তথ্য থাকবে, অটোমেটিক সিস্টেমে বদলি হবে।”


এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়াটিও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চালুর আশা প্রকাশ করে মিলন বলেন, তা চালু না হওয়া পর্যন্ত ‘সিস্টেমে’ কোনো ত্রুটি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।


ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি নীতিমালার আওতায় আনার বিষয়ে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন শিক্ষামন্ত্রী।


তিনি বলেন, যত্রতত্র অনিবন্ধিত বা অস্থায়ী অবকাঠামোয় স্কুল পরিচালনা গ্রহণযোগ্য নয়। স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে অগ্নি নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত মানদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ থাকবে না।


বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, “এই ট্রাস্ট দ্রুত পুনর্গঠন ও বকেয়া ভাতা পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।”


শিক্ষা নিয়ে ১২ পরিকল্পনা


সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষা নিয়ে নতুন সরকারের ১২টি পরিকল্পনা থাকা কথা তুলে ধরে বলেন, সরকার শিক্ষা খাতকে রাষ্ট্রের প্রথম বিনিয়োগ, মানবসম্পদের মূল কারখানা এবং জাতি গঠনের প্রধান প্রকল্প হিসেবে দেখবে।


“আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করব না, আমরা শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র গড়ব।”


এ খাতের উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন, উন্নয়ন ব্যয়কে অগ্রাধিকার, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' নীতি গ্রহণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাস্তবায়ন, মাধ্যমিক থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা, পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষায় কারিগরি সংস্কার, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান চর্চার প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তর এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।


তিনি বলেন, এগুলো তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন তারা।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০০ পিএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফকে মারধর এবং তার আবাসিক হলের কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের সামনে এসব ঘটনা ঘটে।


আহত শিক্ষার্থীরা হলেন ২৩ ব্যাচের মো. রাতুল হাসান রুম্মান ও ২১ ব্যাচের হোসাইন শরীফ। এ ঘটনায় রাতুল হাসান রুম্মান শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে কক্ষ ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত ও লুট হওয়া মালামালের বিষয়ে পৃথক মামলা করার কথা জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফ।


‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে সূত্রপাত


সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান রুম্মান ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী হোসাইন শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। তাঁকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করায় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।


রাতুলের ভাষ্য, ক্লাস শেষে ক্লান্ত থাকায় তিনি হোসাইন শরীফকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলে লিফটটি ধরতে বলেছিলেন। এতে শরীফ তাঁর পরিচয় জানতে চান এবং তাঁকে লিফটে উঠতে বাধা দেন। পরে রাতে শেরেবাংলা হলের ডাইনিংয়ের সামনে দুপুরের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়।


রাতুল অভিযোগ করেন, ২১ ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী মারুফের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে হোসাইন শরীফ তাঁকে বকাঝকা ও মারধর করেন। এতে তাঁর কপাল কেটে রক্তপাত শুরু হলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।


তবে হোসাইন শরীফের দাবি, দুপুরের ঘটনার পর রাতে রাতুলসহ কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। তাঁরা তাঁর পরিচয় জানতে চান এবং একপর্যায়ে তাঁকে আঘাত করেন। নিজেকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর হাত লেগে রাতুলের কপাল কেটে যায় বলে দাবি করেন তিনি।


ঘটনাস্থলে ছাত্রদল নেতার উপস্থিতি, পরে উত্তেজনা


রাতুল হাসান রুম্মান ১৭ ব্যাচের ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের অনুসারী বলে জানা গেছে। রাতের ঘটনার একপর্যায়ে জিবরাইল শরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


জিবরাইল শরীফ বলেন, ‘আমি শেরেবাংলা হলের সামনে ছিলাম। হলের ভেতর হইচই শুনে সেখানে গিয়ে দেখি, আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর সিনিয়রের কোনো একটি বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ ও তাঁর ব্যাচের অন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে হলের গেস্টরুমে বসতে চেয়েছিলাম।’


ঘটনার এপর্যায়ে ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।


অন্যদিকে, হোসাইন শরীফের অভিযোগ, জিবরাইল শরীফ অন্তত ১৫ জনকে নিয়ে এসে তাঁর কলার ধরে তাঁকে হলের বাইরে নিয়ে যান। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয় এবং ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশে দেওয়া ও মামলা করার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।


নেতার কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগ


জিবরাইল শরীফ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর একদল শিক্ষার্থী তাঁকে না পেয়ে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলে গিয়ে তাঁর কক্ষে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় কক্ষের আসবাব ও ব্যবহারের বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে তছনছ করা হয় বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে, উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিজয়-২৪ হলে গিয়ে রাতুল হাসান রুম্মানের কক্ষে প্রবেশ করে তাঁর বিছানা ও ব্যবহার্য সামগ্রী বাইরে ফেলে দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।


নিজের কক্ষ ভাঙচুরের বিষয়ে জিবরাইল শরীফ বলেন, ‘কিছু ছেলে কারও উসকানিতে হলে এসে রুম ভাঙচুর করেছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। ক্যাম্পাসকে স্থিতিশীল রাখতে ও শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এসব মববাজ ও ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’


প্রশাসন যা বলছে


ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে বসব। ইতোমধ্যে সকালে এক পক্ষের সঙ্গে বসেছি। দুপুরে আরেক পক্ষের সঙ্গে বসব।’


কক্ষ ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার দিকে আমরা এগোচ্ছি।’


থানায় যোগাযোগের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘আমরা থানায় যোগাযোগ করেছিলাম। আমরা যদি ঘটনাটি মীমাংসা করে ফেলতে পারি, তাহলে বাইরের হস্তক্ষেপের আর প্রয়োজন হবে না।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৭ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ ও মেধার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দসহ পাঁচ দফা দাবিতে হল প্রভোস্টের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে হল শাখা ছাত্রশিবির।


আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজার কাছে স্মারকলিপিটি জমা দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।


স্মারকলিপিতে তাদের দাবিগুলো হলো- অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ করে মেধার ভিত্তিতে আসন নিশ্চিত করা; সুষ্ঠু ও স্থায়ী আসন বণ্টন নীতিমালা প্রণয়ন এবং নিয়মিত সিট অ্যালটমেন্ট; হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি স্থাপন; নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিশ্চিত করা।


এ বিষয়ে হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আতিয়ার রহমান বলেন, “আমরা প্রভোস্ট স্যারের কাছে পাঁচটি বিষয় নিয়ে গিয়েছিলাম। স্যার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।”


হলের আসন বরাদ্দের বিষয়ে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, “আমি প্রভোস্ট হিসেবে যোগদানের আগেই হলে কিছু সমস্যা ছিল। বিগত প্রভোস্টের সময়ে অতিরিক্ত প্রায় ৩৩ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সিট খালি না থাকায় তাদের সিটে উঠানো সম্ভব হয়নি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের মধ্যে ৮-৯ জন ছাড়া প্রায় সবাইকে সিট দিতে পেরেছি।”


তিনি আরও বলেন, “২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এখন ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করেছে। আশা করছি, খুব দ্রুত কিছু সিট খালি হবে। ওই ৮-৯ জনকে সিট দেওয়ার পর নতুন করে যখন সিট বরাদ্দ শুরু করব, তখন সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই সিট দেওয়া হবে।”


হল পরিচালনা প্রসঙ্গে প্রভোস্ট বলেন, “আমি খুব সুন্দরভাবে হলটি পরিচালনা করতে চাই। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম, মেধার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা বহিরাগতদের কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না।”

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪০ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অধ্যয়নরত রাজবাড়ী জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘রাজবাড়ী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন আংশিক কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 


শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর যৌথ স্বাক্ষরে আগামী ১ (এক) বছরের জন্য এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। 


নবগঠিত এই আংশিক কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইনজাম উল হাসান সিহাব এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলা বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইসরাফিল। 


কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই আংশিক কমিটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর কমিটি গঠন করে তা প্রকাশের জন্য বিশেষ নির্দেশ প্রদান করেছেন। রাজবাড়ী জেলা থেকে আগত সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে তাঁদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে বলে উপদেষ্টারা জানিয়েছেন। 


নতুন কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর নবনির্বাচিত সভাপতি ইনজাম উল হাসান সিহাব তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “রাজবাড়ী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতিকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও কার্যকর প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ক্যাম্পাসে আমাদের জেলার সকল শিক্ষার্থীর সার্বিক কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় আমি সবাইকে সাথে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। এই কল্যাণমুখী উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আমি সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টামণ্ডলী, জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করছি।” 


অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর মোহাম্মদ ইসরাফিল সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। ঢাকার বুকে রাজবাড়ী জেলা থেকে আগত জবিয়ান ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করার এই এক বিরাট সুযোগ আমার সামনে তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি, রাজবাড়ী জেলার সকল জবিয়ানকে এক সুতোয় গেঁথে একটি সুন্দর ও কল্যাণমুখী আদর্শ সংগঠন আমরা উপহার দিতে পারব। এই লক্ষ্য পূরণে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া, পরামর্শ এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করি।” 


ঘোষিত এই আংশিক কমিটিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মো. হাবিবুর রহমান, শ্রেয়া বিশ্বাস ও শরিফুল ইসলাম শিপন। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আবু সায়েম, নাদিয়া নোভা ও মুহাইমিন। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন মুহাম্মাদ নাঈমুল, নাজমুন্নাহার নাদিয়া ও মেহেদী হাসান।

সর্বশেষ সব খবর

নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার এক যুগ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪১ পিএম

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৪। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয় একটি নতুন নাম, রোভার স্কাউট গ্রুপ। একই বছরের ২১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ তা এক যুগের গৌরবময় পথচলায় পরিণত হয়েছে। গত ১২ বছরে সংগঠনটি শুধু একটি স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য শিক্ষাঙ্গনে পরিণত হয়েছে।


রোভার স্কাউটিং এমন একটি আন্দোলন, যেখানে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়। দলগত কাজ, আত্মনির্ভরশীলতা, সময়ানুবর্তিতা, সংকট মোকাবিলা এবং সমাজসেবার মতো মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে তারা নিজেদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।আজ আমরা জানবো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউটের সেবা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার ইতিহাস, ঐতিহ্যের দীর্ঘ পথচলার গল্প। 



বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সভাপতি হিসেবে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম। গ্রুপ সম্পাদক ও রোভার স্কাউট লিডার (আরএসএল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লোক-প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়া উদ্দিন। গার্ল-ইন-রোভার স্কাউট লিডার হিসেবে রয়েছেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস।


শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিনিয়র রোভারমেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাঈদ হাসান কানন এবং গার্ল-ইন সিনিয়র রোভারমেট হিসেবে রয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবিহা সুলতানা বেলী।


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী রোভার স্কাউট সদস্য হতে হলে প্রথমে মৌলিক প্রশিক্ষণ ও দীক্ষা গ্রহণ করতে হয়। এরপর ধাপে ধাপে ডে ক্যাম্প, সার্ভিস ক্যাম্প, হাইকিং, নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একজন সদস্য দক্ষ রোভারে পরিণত হন।এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তারা শুধু স্কাউটিংয়ের নীতি নয়, বরং বাস্তব জীবনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দায়িত্ব পালন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও অর্জন করেন।



কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভারদের কাজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও মানবিক দুর্যোগে তারা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার সহায়তা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নেয়। পাশাপাশি রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও সংগঠনটির সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।


জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউটের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্কাউটিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছেন। উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণের মধ্যে রয়েছে সুবর্ণ জয়ন্তী রোভার মুট-২০২৪, দ্বিতীয় ইন্দো-বাংলা স্কাউট ফ্রেন্ডশিপ ক্যাম্প, ৩২তম এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল জাম্বুরি এবং ১১তম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরি। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের হজ ক্যাম্পে প্রতিবছর স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সেবা প্রদানও তাদের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের একটি অংশ।


একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও বিভাগীয় প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনারে অংশ নিয়ে সদস্যরা নিজেদের দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করছেন।


রোভার সদস্যদের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ অর্জনগুলোর একটি হলো প্রেসিডেন্টস রোভার স্কাউট (পিআরএস) অ্যাওয়ার্ড। নির্ধারিত প্রশিক্ষণ, সেবা ও দক্ষতার শর্ত পূরণকারী সদস্যরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির হাত থেকে এ সম্মাননা গ্রহণের সুযোগ পান। এটি একজন রোভারের নেতৃত্ব ও সেবার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।



কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সিনিয়র রোভারমেট সাঈদ হাসান কানন বলেন, “রোভার স্কাউটিং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে তারা দলগত কাজ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট মোকাবিলার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। বন্যা ও অন্যান্য মানবিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের লক্ষ্য দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলে বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।”


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সিনিয়র রোভারমেট সাঈদ হাসান কানন বলেন, “রোভার স্কাউটিং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে তারা দলগত কাজ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট মোকাবিলার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। বন্যা ও অন্যান্য মানবিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের লক্ষ্য দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তুলে বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।”


গ্রুপ সম্পাদক ও রোভার স্কাউট লিডার (আরএসএল) লোক-প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের এক যুগপূর্তি আমাদের জন্য গর্বের একটি মাইলফলক। ২০১৪ সাল থেকে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে আমি দেখেছি, কীভাবে এটি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।


রোভার স্কাউটিংয়ের মূল দর্শন ‘সেবা’। দুর্যোগে সহায়তা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম ও জনসচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে আমাদের রোভাররা বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনেও তারা স্কাউটিংয়ের আদর্শ ধারণ করে সমাজ ও দেশের কল্যাণে আরও কার্যকর অবদান রাখবে।”


১২ বছরের পথচলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ অসংখ্য শিক্ষার্থীকে নেতৃত্বের শিক্ষা দিয়েছে, মানবিক কাজে যুক্ত করেছে, ক্যাম্পাসে স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মুহূর্তে সংগঠনটির প্রত্যাশা, আগামী দিনেও আরও বেশি শিক্ষার্থীকে স্কাউটিংয়ের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে সেবা, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়া।




সর্বশেষ সব খবর

পূর্ণাঙ্গ কমিটি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০০ পিএম

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) শাখার ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক সাইশা সুলতানা সাদিয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে শাখাটির সভাপতি হিসেবে টাইমস টুডের প্রতিনিধি মো. ইকবাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাহমিনা আক্তার মীমের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।

নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন ফারজানা ইয়াছমিন শ্রাবণী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আফসান জানি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও খবরের কাগজের প্রতিনিধি মো. তাসনিম হক রাফি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ ইবনে শহিদ, অর্থ সম্পাদক গোলাম রাসূল ইকরা, দপ্তর সম্পাদক ও এশিয়া পোস্টের প্রতিনিধি মো. রবিউল ইসলাম এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক ফারজানা আঞ্জুম বর্ষা।

এ ছাড়া প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক সাকিবুন নাহার, সাহিত্য প্রকাশনা ও পাঠচক্র সম্পাদক সেলিনা আক্তার শেলী, প্রচার সম্পাদক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ, উপ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ তুর্জয় এবং তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সামিহা আক্তার জুঁই দায়িত্ব পেয়েছেন।

সম্পাদনা পর্ষদে রয়েছেন আরফান উদ্দিন ও ইসতিয়াক আহমেদ। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ইরিন জাহান ইকরা ও সামিয়া সুলতানা সাবনম।

নবনির্বাচিত সভাপতি ইকবাল হোসেন এর আগে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা আক্তার মীমও এর আগে সংগঠনটির উপ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, “এই দায়িত্ব আমার কাছে একটি দায়বদ্ধতার মতো। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শাখার কার্যক্রমকে আরও সুন্দর ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া আমার লক্ষ্য। মেধাবী ও সম্ভাবনাময় লেখকদের লেখালেখিতে উৎসাহ দেওয়া এবং তাঁদের জন্য একটি ভালো পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “পাশাপাশি শাখায় নতুন কিছু কার্যক্রম যুক্ত করার চেষ্টা থাকবে। প্রতিটি কাজে দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই।”

সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা আক্তার মীম বলেন, “আমরা চাই, আমাদের শাখা শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত লেখালেখি, পাঠচক্র, আলোচনা, কর্মশালা, প্রকাশনা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি সক্রিয় ও প্রাণবন্ত লেখকসমাজ গড়ে তুলুক।”

তিনি বলেন, “একটি সংগঠনের সফলতা কোনো একজনের একক প্রচেষ্টায় আসে না। এখানে প্রত্যেক সদস্যের মতামত, শ্রম ও অংশগ্রহণ সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমি সবার পরামর্শকে গুরুত্ব দিতে চাই এবং দল-মত নির্বিশেষে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম তরুণ লেখক, চিন্তাবিদ ও মতামতপ্রকাশকারীদের লেখালেখি, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। সেমিনার, কর্মশালা, আলোচনা সভা, প্রশিক্ষণ ও প্রকাশনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের লেখার দক্ষতা বিকাশ এবং তাঁদের সৃজনশীল চিন্তাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়ে থাকে সংগঠনটি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৯ পিএম

‘শিক্ষার অধিকার ফিরে চাই’ ব্যানারে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার নেতাকর্মীরা।


শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে এ মিছিল করা হয়।


জানা যায়, মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ‘রাজনীতি যার যার, শিক্ষা সবার’, ‘শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এছাড়াও মিছিলে থাকা পোস্টারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ছবি দেখা যায়।


মিছিলের নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।


এবিষয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনটির জবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, "রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শিক্ষাজীবন থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মবের সংস্কৃতি দূর করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব মতের শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও পড়াশোনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার আশঙ্কা করছি। নিয়োগ ব্যবস্থায় মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।"


নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, "আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, আমরা চাই আমাদের ন্যায্য অধিকার। ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আপসহীন অবস্থানের কারণে আজ আমাদের অনেকের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরীক্ষা দেওয়া, শিক্ষা সম্পন্ন করা ও সার্টিফিকেট পাওয়ার অধিকার কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এগুলো একজন শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার। রাজনীতি যার যার, শিক্ষা সবার। শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া চলবে না। আমরা করুণা চাই না, আমরা আমাদের অধিকার ফিরে চাই।"

সর্বশেষ সব খবর