• প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ পিএম

দুই বছর আগের সেই উত্তাল জুলাই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, তখন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শহীদ মিনার প্রাঙ্গণও হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের প্রতীক। 


শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির ঘটনার বিরুদ্ধে যখন অধিকাংশ শিক্ষক নীরব ছিলেন, তখন মাত্র তিনজন শিক্ষক প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে নিপীড়নবিরোধী সমাবেশ করেছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই তিন শিক্ষকই আজ দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।


তাঁরা হলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নোবিপ্রবির শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি জানান এবং নিপীড়নের প্রতিবাদে কণ্ঠ মিলিয়েছিলেন।


সেই সময় আন্দোলন ঘিরে দেশে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছিল। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির খবর আসছিল বিভিন্ন স্থান থেকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কিংবা ব্যক্তিগত ঝুঁকির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও এই তিন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের ভাষায়, এটি ছিল একজন শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ব পালন।


দুই বছর পর ফিরে তাকালে দেখা যায়, তাঁদের তিনজনই এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। আন্দোলনের পর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ প্রথমে নোবিপ্রবির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার সম্প্রতি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন।


সেই সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ বলেন, ঐসময় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে গিয়েছিল, এক পর্যায়ে তারা সব শিক্ষকদের মেইল করে অনুরোধ করে ওদের সাথে থাকার জন্য। আমরাও আগে থেকে প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম এরপর ওদের মেইল পেয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেই আমরাও ওদের সাথে গিয়ে আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করবো। বিশেষ করে আমি, জাহাঙ্গীর স্যার, শফিক স্যার আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেই। 


তিনি আরও বলেন, তখন আমরা কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশায় আন্দোলনে নামিনি। আমার অনুভূতি ছিলো আমরা তো শিক্ষক আমাদের ছাত্রদের উপর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। 


তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে থাকা যতটা ইম্পর্ট্যান্ট, যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা মারা যাচ্ছে তখন তাদের পাশে থাকা আরো বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। এতে আমরা চাকরিচ্যুত হওয়া, এরেস্ট হওয়া এবং মেরেও ফেলতে পারতো এগুলো নিয়ে চিন্তা না করে আন্দোলনে ছাত্রদের পাশে দাড়াই।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শহিদ মিনারের সামনে দাড়িয়েছি যখন দেখেছি আমাদের ছাত্রদের দাবি ন্যায্য, তারা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছিলো তখন তাদের উপর গুলি ছোড়া হচ্ছিলো, তাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছিলো। বিশেষ করে আবু সাঈদকে যখন গুলি করে হত্যা করা হয় তখন আমরা ছাত্রদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করি। ঐসময় এই চিন্তা করিনি আমাদের চাকরি চলে যাবে আমাদের ক্ষতি হবে বা এরকম কিছু। 


তিনি জানান, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। আমাদের ১৯৭১ এ জন্ম হয়নি দেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি, আমার জীবদ্দশায় ভবিষ্যতে আবার যদি কখনো দাড়াতে হয় দেশের জন্য আবারো দাড়াবো, ইনশাআল্লাহ।


অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, আমি আন্দোলন করেছি একটি বৈষম্যবিরোধী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠুক, প্রত্যেকে প্রত্যেকের অধিকার ফিরে পাক। এর জন্য যে আমাকে কিছু পেতে হবে তাই আন্দোলন করিনি। ছাত্র সমাজের উপর হামলা, সারাদেশে গুম, খুন, হত্যা এর প্রতিবাদে ঐ সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। 


তিনি বলেন, আমি একটি বিষয় ধারণ করি; আজকের ছাত্র আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এজন্য আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে যতটুকু করার আমি করি। দায়িত্ব পেয়েছি এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, সরকারকেও ধন্যবাদ। দায়িত্ব পাওয়াই বড় কথা নয় এই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারাই মূল বিষয়।


দুই বছরের ব্যবধানে নোবিপ্রবির শহীদ মিনারের সেই ছোট্ট প্রতিবাদ আজ ইতিহাসের একটি অধ্যায় হয়ে আছে। সেই সমাবেশে উপস্থিত তিন শিক্ষক এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের অংশ। তাঁদের এই পথচলা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং সংকটময় সময়ে নৈতিক অবস্থান, শিক্ষকের সামাজিক দায়িত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবারও একটি উপলক্ষ।




  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৪৬ পিএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে সক্রিয় হয়েছে একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্র। পুলিশ সদর দপ্তরের সাইবার বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) পরিচয়ে ফোন করে মামলা, গ্রেপ্তার ও ক্যাম্পাসে পুলিশ পাঠানোর ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 


ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ডজনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত তিন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় দেড় লক্ষ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই কৌশলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছ থেকেও দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।


ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রতারণার শুরু হয় একটি ফোনকল দিয়ে। ওপাশের ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ সদর দপ্তরের সাইবার বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর তিনি এমন সব তথ্য বলতে শুরু করেন, যা সাধারণত কেবল সংশ্লিষ্ট লেনদেনকারী ও নগদ এজেন্টের জানার কথা যেমন কখন, কোথায়, কত টাকা এবং ঠিক কত সময়ে লেনদেন হয়েছে। এসব তথ্য জানিয়ে মুহূর্তেই বিশ্বাস অর্জন করেন তিনি। এরপর শুরু হয় ভয়ভীতি। বলা হয়, তাদের আগে একজন জাল টাকা দিয়ে লেনদেন করেছেন এবং মোবাইল নম্বরের শেষ অংশ মিল থাকায় মামলায় তাদের নাম জড়িয়ে গেছে। কখনও গ্রেপ্তার, কখনও ক্যাম্পাসে পুলিশ পাঠানোর হুমকি, আবার কখনও সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার ভয় দেখিয়ে মানসিকভাবে আতঙ্কিত করা হয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন কৌশলে ভুক্তভোগীদের নগদ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে প্রতারক চক্র।


ভুক্তভোগীদের একজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেভেল-১ এর শিক্ষার্থী মাহবুব আহমেদ ফাহিম জানান, গত ৬ আগস্ট তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মিনিবাজারের ‘বিসমিল্লাহ স্টেশনারি’ নামের একটি নগদ এজেন্ট পয়েন্ট থেকে লেনদেন করেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে এক ব্যক্তি ফোন করে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমে তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায় করেন। পরে তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে একইভাবে ব্ল্যাকমেইল করে আরও ৫৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র।


একই ধরনের প্রতারণার শিকার হন লেভেল-১ এর শিক্ষার্থী মোছা. মোবাশ্বিরা মুস্তারিন। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মিনিবাজারের বিসমিল্লাহ স্টেশনারি থেকে ক্যাশ আউট করার পরদিন নিজেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি আমাকে ফোন করেন। তিনি জানান, যে দোকান থেকে আমি টাকা তুলেছি, সেই দোকানদার একজন মহিলার বিরুদ্ধে জাল টাকা দেওয়ার অভিযোগে জিডি করেছেন। ভুলবশত ওই মহিলার নম্বরের পরিবর্তে আমার নম্বর দেওয়া হয়েছে। পরে জাল টাকা লেনদেনের একটি মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে আমার নগদ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান। এরপর ওটিপি এবং নিজের নম্বরে টাকা ক্যাশ ইন করতে বলে প্রতারণার মাধ্যমে আমার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মোট ২০ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে জানতে পারি, একই কৌশলে ওই একই দোকান থেকে লেনদেন করা আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও প্রতারণার শিকার হয়েছেন।”


একই কৌশলে প্রতারণার শিকার হন লেভেল-২ এর শিক্ষার্থী সুরাইয়া আফরিন রিশা। তিনি জানান, ল্যাপটপ কেনার জন্য পরিবারের পাঠানো ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রতারক চক্র ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়।


একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষিকাকে প্রতারক চক্র ভয়ভীতি দেখিয়ে দেড় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। 


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতারণার শিকার হওয়া প্রায় সবাই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মিনিবাজারের ‘বিসমিল্লাহ স্টেশনারি’ থেকে লেনদেন করেছিলেন। তাদের দাবি, লেনদেনের পরপরই প্রতারকরা ফোন করে কখন, কত টাকা, কোন মাধ্যমে এবং ঠিক কত সময়ে লেনদেন করা হয়েছে এসব তথ্য নির্ভুলভাবে জানিয়ে দেয়। এতে তাদের সন্দেহ, ওই এজেন্ট পয়েন্টের সঙ্গে প্রতারক চক্রের কোনো না কোনো যোগাযোগ থাকতে পারে। অন্যথায় এত সংবেদনশীল লেনদেনের তথ্য প্রতারকদের হাতে কীভাবে পৌঁছায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, এখন পর্যন্ত যেসব শিক্ষার্থী প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তাদের সবাই ওই একই এজেন্ট পয়েন্ট থেকেই লেনদেন করেছিলেন।


তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত এজেন্ট পয়েন্টের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।


এ ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের বিপরীতে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ নিয়ে সার্বক্ষণিকভাবে শেরেবাংলা নগর থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তারাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।”


শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এ ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।”


এদিকে, এ ধরনের প্রতারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের পরামর্শ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কেউ ফোন করে টাকা পাঠানো, ওটিপি বা মোবাইল ব্যাংকিং-সংক্রান্ত কোনো তথ্য চাইলে তা কোনোভাবেই দেওয়া উচিত নয়।


শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) আবাসিক হলগুলোতে পরিবেশিত 'উন্নতমানের' খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে।


ওই ঘটনার জেরে কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা (AGEC) বিভাগের লেভেল-৩, সেমিস্টার-১ এর AGEC 333 কোর্সের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়। তবে হল প্রশাসন খাবারের সঙ্গে অসুস্থতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ৫ আগস্ট রাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সব আবাসিক হলে 'উন্নতমানের' খাবার পরিবেশন করা হয়। এর আগে এই খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০ টাকা নেওয়া এবং নির্ধারিত মেনু নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে, নির্ধারিত অর্থের তুলনায় খাবারের মান ও মেনু সন্তোষজনক নয়। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতিবাদস্বরূপ ফিস্ট বয়কটও করেন।


ফিস্টের পর রাত থেকেই বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বমি, পাতলা পায়খানা ও পেটের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, বিশেষ করে পরিবেশিত ডাল খাওয়ার পর একই ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য তারা হল প্রশাসনের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন।


পরদিন সকাল ১০টায় AGEC 333 কোর্সের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে অসুস্থ কয়েকজন শিক্ষার্থী মৌখিকভাবে বিষয়টি কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জাকির হোসেনকে জানান।


এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন বলেন, "পরীক্ষা শুরু হওয়ার দেড় ঘণ্টা আগে কয়েকজন মেয়ে ফোন দিয়ে এই বিষয়টি জানান। আমি তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত নিইনি। প্রথমে সংশ্লিষ্ট লেভেলের ক্লাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলি। তিনি বিষয়টির সিদ্ধান্ত আমার ওপর ছেড়ে দেন। সময়ের স্বল্পতা এবং নারী শিক্ষার্থীদের অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই।"


তবে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে একমত নন অনেক শিক্ষার্থী। তারা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হন। এমনকি উত্তরপত্র বিতরণের পর হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, "সব প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছি। খাতা পর্যন্ত হাতে পেয়েছি। এরপর পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলো। পান থেকে চুন খসলেই পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। একাডেমিক রুটিনের কোনো মূল্য নেই, একাডেমিক শৃঙ্খলাও নেই। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।"


অন্যদিকে অপরাজিতা-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. তাহমিনা আক্তার খাবারের কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।


তিনি বলেন, "সবগুলো হলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো বাজার করা হয়েছে আমাদের হলে। রান্না থেকে শুরু করে প্যাকেজিং পর্যন্ত আমি ও হল প্রশাসন পুরো বিষয়টি মনিটরিং করেছি। প্রায় সাড়ে বারোশ মানুষের জন্য আয়োজন ছিল। একজন শিক্ষার্থীও আমাকে কোনো অভিযোগ করেনি। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে সবার আগে আমার জানার কথা। আমি এবং হল প্রশাসনের সবাই এই খাবার খেয়েছি। আমাদের কারো কোনো সমস্যা হয়নি। যদি কেউ এমন দাবি করে থাকে, তাহলে পরীক্ষা পেছানোর অজুহাত হিসেবেও দিতে পারে।"


খাবারের মান নিয়ে আগেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ, ফিস্ট বয়কটের ঘোষণা, খাবার খাওয়ার পর একাধিক শিক্ষার্থীর একই ধরনের অসুস্থতার অভিযোগ এবং শেষ পর্যন্ত একটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, “ডিন পরীক্ষা বাতিল করার পর বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ১২০০ বা ৭০০ শিক্ষার্থীর হলে দু-একজনের ফুড পয়েজনিং হতেই পারে, এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে সাধারণত বড় কোনো অনুষ্ঠানের পরদিন পরীক্ষা রাখা হয় না, হয়তো ভুলবশত তাঁরা পরীক্ষাটি রেখেছিলেন।”

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৩৪ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৩৪ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৩৪ পিএম

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রদের আবাসিক হল ‘শাহপরাণ হল’-এর প্রভোস্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ। তাঁর পদত্যাগের পর নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের  অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, শাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। এ আদেশ তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে। আদেশে নবনিযুক্ত প্রভোস্টকে বিদায়ী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদের নিকট থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জন্য এবং বিদায়ী প্রভোস্টকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।


এদিকে, ড. ইফতেখার আহমদ পদত্যাগ করলেও তাঁর দায়িত্বকালে বেশ কিছু সমালোচিত ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে, শাহপরাণ হলে আবাসিক শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকারের ওপর হামলার ঘটনাটি সে সময় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোড়ন তুলে।


সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, সে সময় হলের ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ তুলেছিলেন ওই শিক্ষার্থী। খাবারের মানোন্নয়নের দাবিতে হল প্রভোস্টকে মেনশন দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি মেসজ পাঠিয়েছিলেন। এর জেরেই তাঁর ওপর  হামলা হয়। সেই হামলার ঘটনায় প্রভোস্টকেও দোষী সাব্যস্ত করে তখন তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন শিক্ষার্থীরা।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৬ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) চার শিক্ষার্থীর উপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে তাঁরা। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।


শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হামলার শিকার ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. এহসানুল হক রাফি, রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব ও মাহিন জামান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।


গতকাল বৃস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট সংলগ্ন রাস্তায় চারজন শিক্ষার্থীকে বুটেক্স ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর মারধরের অভিযোগ উঠে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, ৪৮তম ব্যাচের ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বর্ষণ বণিক, ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার দপ্তর সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত, একই ব্যাচের ও বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন সরকার এবং ৪৯তম ব্যাচের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দেবনাথ সৌমিক চন্দ্রসহ অন্যান্যরা মারধরে সম্পৃক্ত ছিলেন। 


সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সহপাঠী তাসনিম আনোয়ার ও এস এম সাদিকুজ্জামান বক্তব্য দেন। সংবাদ সম্মেলনে ৪৯তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম আনোয়ার বলেন, “বুটেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।গত ৫ আগস্ট হলে মিষ্টি বিতরণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করায় পরদিন ক্লাস ও ল্যাব শেষে ফেরার সময় পকেট গেটের সামনে মিরাজুলের ওপর হামলা করা হয়।”


তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলের পরিচয়ধারী কয়েকজন মিরাজুলকে এলোপাতাড়ি ঘুষি ও লাথি মারেন। এসময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের সহপাঠী রাইয়ান সিদ্দিকী পর্বের ওপরও হামলা করা হয় এবং তাঁর চশমা ভেঙে দেওয়া হয়। এতে তাঁর চোখ ও মুখে আঘাত লাগে।”


ঘটনার পর উপাচার্য, প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে তাসনিম বলেন, “তাঁরা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাইলেও প্রশাসন তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একদিকে রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন, হলে সিট দখল করছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাচ্ছেন।”


সংবাদ সম্মেলনে হামলার মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সম্প্রতি  গণস্বাক্ষর কর্মসূচি আয়োজন করেছি। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। বুটেক্সের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের রাজনীতি চায় না। আমরা এই গণস্বাক্ষর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেব।”


এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন ৪৯তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম সাদিকুজ্জামান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে হামলার মূল অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব দ্রুত বাতিল, হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের অন্তত দুই বছরের জন্য বহিষ্কার এবং ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে ঘটনাস্থলের সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা ইত্যাদি।


এছাড়া নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগ, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা এবং রাজনৈতিক কমিটিতে থাকা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।


শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, উপাচার্যের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব দাবির বাস্তবায়ন ও হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত বুটেক্সের সব ব্যাচের ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের ঘোষণাও দেন তাঁরা।


উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অফিস আদেশ অনুযায়ী, উক্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রক্টর বরাবর জমা দিতে বলা হয়েছে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২২ পিএম

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। 


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ক্যাম্পাসের ভেতরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।




বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।


সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নিরাপত্তাকর্মী ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে।


অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা জবি ছাত্রদলের


এদিকে কর্মসূচিকে ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দেখা গেছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনার, ভাষাশহীদ রফিক ভবন, অবকাশ ভবন ও ভাস্কর্য চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অবকাশ ভবনের জকসু কক্ষে অবস্থান করছেন।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইস উদদীনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রশাসনিক ভবনে অপেক্ষা করছেন বলে জানা গেছে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৪ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) চার শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. এহসানুল হক রাফি, রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব ও মাহিন জামান।


ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ল্যাব শেষে বের হওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী মিরাজকে অনুসরণ করে পকেট গেটের সামনে তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁদের ভাষ্য, এ সময় ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুমন সরকার ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার দপ্তর সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত এবং ৪৮তম ব্যাচের ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বর্ষণ বণিক মিরাজকে মারধর করেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা ৪৯তম ব্যাচের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দেবনাথ সৌমিক চন্দ্র, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের সুজিত রায় ও ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আবিদ হাসান শিশিরসহ কয়েকজন এতে সহযোগিতা করেন বলেও জানান তাঁরা। একপর্যায়ে মিরাজের পরনের জামা ছিঁড়ে যায়। পরে পর্ব মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে বর্ষণ বণিক তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন পর্ব।


ঘটনার বিষয়ে মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “গতকাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুটেক্সের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের নামে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এর প্রতিবাদে আমি ফেসবুকে একটি পোস্টে মন্তব্য করি। সেখানে আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের মিষ্টি বিতরণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলাম। আমার ধারণা, ওই মন্তব্যের জেরেই আজ আমার ওপর হামলা করা হয়েছে।”


তিনি আরো বলেন, “দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এফএসডি ল্যাব থেকে বের হলে পকেট গেটের সামনে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরেন। প্রান্ত আমাকে জোর করে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রাজি না হওয়ায় আমার কলার ধরে টান দিলে টি-শার্ট ছিঁড়ে যায়। পরে আমাকে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।”


আহত শিক্ষার্থী রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব বলেন, “মিরাজকে মারধরের সময় তাঁকে রক্ষা করতে আমরা এগিয়ে যাই। এ সময় প্রান্ত একটি বাঁশ নিয়ে মিরাজকে মারতে এগিয়ে আসেন। তখন আমি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করি। ভিডিও করার সময় বর্ষণ বণিক আমার কলার ধরে মুখে ঘুষি মারেন।”


অভিযোগের বিষয়ে মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের উসকানিমূলক কথা বলা ও ‘লীগ’ ট্যাগ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই মিরাজের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি উসকানিমূলক আচরণ করায় পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কির পর্যায়ে যায়। আমরা মারামারি এড়ানোর চেষ্টা করেছি। তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের ফাঁসাতে ও নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।”


এ ছাড়া অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী বর্ষণ বণিকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।


এ বিষয়ে বুটেক্স ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, “আজকের এই অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। যেই ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট ছাত্রসংগঠন কর্তৃক হতো, এখন সেই ট্যাগিংয়ের অপরাজনীতি গুপ্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে হচ্ছে। আমরা এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”


বুটেক্সের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দাও তোমরা। অভিযুক্তদের নামের তালিকাসহ আবেদন করো। আমরা সব অভিযোগ গ্রহণ করব এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করব। সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর দোষীদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”