দেশের ৩৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ঘিরে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের জিমনেশিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৭ মে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় ব্যাডমিন্টন ইভেন্টে রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্বাগতিক বাকৃবি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হলেও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি আসন ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ. এম. শোয়াইব ও সদস্য-সচিব শফিকুল ইসলাম অতিথিদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসেন। ফলে আয়োজক কমিটির দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বিষয়টি উপস্থিতদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়।
উপস্থিত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা প্রয়োজন ছিল। তাদের পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অন্যদের অগ্রাধিকার দেওয়াকে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দৃষ্টিকটু বলে মন্তব্য করেন।
এই বিষয়ে বাকৃবির সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বটি মোটেও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়নি। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। পুরো আয়োজনজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-মর্যাদা জড়িত। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সবকিছু নিয়মমাফিক ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
এ বিষয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক এ. এম. শোয়াইব বলেন, ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালকের আমন্ত্রণে আমরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। ওখানে সর্বপ্রথম উপাচার্য স্যার আসেন এরপর আমরা ছিলাম বাকিরা সবাই দেরিতে আসছে। উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং কোষাধ্যক্ষ মহোদয়সহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ আসন গ্রহণ করার পর আমরাও আসন গ্রহণ করি । অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে আর কারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসেছেন, সেদিকে আলাদাভাবে খেয়াল করা হয়নি। তবে অবশ্যই সকল শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বসার পর আমরা বসেছি।
সদস্য-সচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্রীড়া প্রশিক্ষন বিভাগের পক্ষ থেকে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং আমরা বৃহত্তম ছাত্র সংগঠন হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলাম । অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের বসার জায়গা ছিল কিন্তু তারা বসেনি পাশাপাশি অনেক আমন্ত্রিত অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন না । যে সকল শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন তারাও ছবি তোলার সময় আর অতিথির আসনে বসতে চান নি।
আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, 'আমাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রেজিস্ট্রার, ভিসি স্যার আমাকে বসতে বলছে। কে কাকে সম্মান দিবে না দিবে, এটা তো আমরা বলতে পারিনি। এখানে আমি কারো ত্রুটি দেখি না। আমাদের ফোন দিয়ে, কার্ড দিয়ে ইনভাইট করেছে আমরা তাদের গেস্ট। এ হিসেবে যেখানে সম্মান দিয়েছে আমরা সেখানে গিয়েছি। প্রোগ্রামগুলো বাস্তবায়নে আমরা ভূমিকা পালন করেছি আইন শৃংখলা রক্ষার্থে, যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়। এজন্য সম্মানার্থে ওনারা আমাদেরকে নিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, তারা আমাদের সবসময় ইনভাইটেড গেস্ট হিসেবে বলেছে। এটা আমার পক্ষ থেকে স্পষ্ট, আমাকে ডেকেছে, আমি গিয়েছি। অন্য দুইজনের বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। ওখানে অনেক শিক্ষক ছিল কাকে বসতে দিবে, কাকে দিবে না, এটা নিয়েই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিলো। এজন্য তারাই আমাদের বসতে বলছে। যেহেতু আমি বিশেষ অতিথি ছিলাম কারণ যারা বিশেষ অতিথি ছিলো তারাই বক্তব্য দিয়েছে। এজন্য বিশেষ অতিথির চেয়ারে বসেছি, অন্য দুইজনের বিষয়ে তো বলতে পারিনা। '
অনুষ্ঠানের এই আয়োজন নিয়ে ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আসাদুল হক সজল বলেন, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ব্যানারে যে কয়জনের নাম ছিল তার মধ্যে ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক আসে নাই। ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা না থাকায় তার পরিবর্তে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি । ফলে আসন ফাঁকা থাকায় সেগুলোতে রেজিস্ট্রার স্যারকে বসতে বলছিলেন ভিসি স্যার। পরে ছাত্র নেতারা এমনিতেই সেখানে বসে গিয়েছিল। ছাত্রনেতাদের সম্মান করে আমরা আমাদের অনুষ্ঠান গুলোতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে থাকি। আসলে অতিথি হিসেবে চেয়ারের জন্য কাউকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। ব্যানারে যাদের নাম ছিল দুইজন না আসায় তাদের পরিবর্তে দুইজন বসার কথা। এর বাইরে কারও বসার সুযোগ ছিল না
নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ।
নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘ভাইভা বোর্ডের বিরুদ্ধে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইভা বোর্ডের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘কোটা গেছে যেই পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’, ‘আবু সাঈদ মুক্ত, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ এবং ‘মেধা না কোটা? মেধা, মেধা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে এতে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বাড়বে। ভাইভা একটি ব্যক্তি-নির্ভর পরীক্ষা। ভাইভা বোর্ডের সদস্যদের হাতে পরীক্ষার্থীর মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা থাকে। সেই ক্ষমতার যথাযথ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে কোনোভাবেই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তারা আরও বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা তৃণমূল পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন। এ পর্যায়ের নিয়োগে যদি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে, তাহলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। লিখিত পরীক্ষায় একজন প্রার্থী বেশি নম্বর পেয়েও যদি ভাইভায় কম নম্বরের কারণে পিছিয়ে পড়েন, তাহলে তার মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে না। অন্যদিকে লিখিত পরীক্ষায় তুলনামূলক কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে ভাইভায় বেশি নম্বর দিয়ে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৬তম আবর্তনের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ড. মো. হাসান উদ্দিন এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. মহিনুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. গোলাম মোস্তফা। এছাড়াও বিভাগের সর্বস্তরের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল ও সম্মাননা স্মারক দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সংবর্ধনা পর্বে ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিদায়ী ব্যাচের উদ্দেশ্যে তাদের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও স্মৃতিচারণ তুলে ধরেন। পরবর্তীতে বিদায়ী ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তি ও আবেগঘন অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সার্বিক সাফল্য ও উজ্জ্বল উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। ডিন ও বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞানকে দেশের সমুদ্রসম্পদ রক্ষা ও গবেষণায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। পরে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এতে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সবাই অংশ নেন।আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
খাবারের গামলায় পা, জবির ক্যাফেটেরিয়ায় স্বাস্থ্যবিধির চরম লঙ্ঘন
শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। খাবার প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত বড় গামলার ওপর কর্মীদের পা রাখার পাশাপাশি রান্নাঘরের মেঝেতেই চলছে খাদ্য প্রস্তুতির কাজ। ফলে ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের গুণগত স্বাস্থ্যমান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘরের মেঝেতে বড় ধাতব গামলায় খাবার প্রস্তুতের কাজ চলছে। এর পাশেই বসে আছেন কয়েকজন কর্মী। তাদের একজনকে খাবার প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত গামলার ওপর পা রেখে বসে থাকতে দেখা যায়। রান্নাঘরের মেঝেতেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও রান্নার উপকরণ।
এছাড়াও রান্নাঘরের সার্বিক পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। খাবার তৈরির সরঞ্জাম, খাদ্যসামগ্রী ও মেঝের ব্যবহারের ধরন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। প্রতিদিন এই ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অবস্থান করেন। অনেক শিক্ষার্থীই ক্লাস ও পরীক্ষার ফাঁকে ক্যাম্পাসের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের ওপর নির্ভর করেন। ফলে খাবার প্রস্তুতের স্থান ও প্রক্রিয়া স্বাস্থ্যসম্মত না হলে তার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়তে পারে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান ও পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠলেও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাদের দাবি, শুধু ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস নয়, ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘর নিয়মিত পরিদর্শন, খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত এবং খাবারের মান নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
জবির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থী শওকত হাসান দীপ্ত বলেন, “আসলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কপালে যেন দুঃখ ছাড়া আর কিছুই নেই। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাচ্ছি, সেটার মান ও প্রস্তুতপ্রক্রিয়া নিয়ে যদি এমন প্রশ্ন ওঠে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা চাই, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, “বিষয়টি দেখার পর আমরা ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মাসুদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিব্রতকর হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকে এ ধরনের বিষয় আর দেখা যাবে না। খাবারের মান ও অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়েও তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। খাবারের মান আরও উন্নত করার জন্য আমরা ক্রমাগত চেষ্টা করছি। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার সাশ্রয়ী রাখতে গিয়ে বিষয়টি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আজকের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আমাদের সজাগ দৃষ্টি থাকবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক কে. এ. এম. রিফাত হাসান বলেন, “আমরা আসলে ছবিটা দেখেছি। তবে ছবিটি এআই জেনারেটেড কি না, নাকি সত্যিকার ছবি এবং ঘটনাটি বাস্তবে ঘটেছে কি না এগুলো আমরা আগে তদন্ত করে দেখব। যদি ঘটনাটি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের একটি খাদ্যের মান ও উন্নয়ন কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। যেভাবে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে, তা খুবই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।”
এ বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মোঃ মাসুদ রানা বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত বিব্রতকর। আমার কর্মচারীরা এভাবে খাবার প্রস্তুত করছে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। হঠাৎ কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, সেটিও আমার বোধগম্য নয়। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পরবর্তীতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি খাবারের মান ও অন্যান্য সমস্যাগুলোও সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ভর্তি কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)।
কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সূত্র জানায়, কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তি পরীক্ষার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।
ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, আসনসংখ্যা, পরীক্ষার সময় ও কেন্দ্রসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, “কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, কৃষি গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের কৃষি ও কৃষিসংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমন্বিতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমে মোট ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাদ্দাম হোসেন হল- এর নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে, সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ-এর মেয়াদ শেষ হওয়ায় দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদীকে আগামী ১ বছরের জন্য ওই হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ড. মাসউদ আল মাহদী জানান, আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মর্মে অবগত করেছে প্রশাসন। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পাইনি। যোগদান করার পর হল কেন্দ্রিক পরিকল্পনা হাতে নিব।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ‘সাদা দল’ নামে একটি শিক্ষক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে।
একই সাথে সংগঠনটির পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়েদুল ইসলাম আহ্বায়ক এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু জোফার মো. মোসলেহ উদ্দিন, ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া এবং মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এইচ এম নাজমুল হুসাইন নাজির।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সংগঠনটির এক ঘোষণাপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অধিকার বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পেশাগত সমস্যা সমাধানে একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল সংগঠন প্রয়োজন।
ঘোষণাপত্রে ‘সাদা দল’-কে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির লক্ষ্য হিসেবে সত্য, ন্যায়, সততা, সাম্য ও ইনসাফভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক ও সুন্দর শিক্ষক সমাজ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটি সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সদস্যপদ-সংক্রান্ত নীতিমালা নির্ধারণ এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়।