বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সময়সূচি পরিবর্তন এবং লাইব্রেরিতে নিজস্ব বই নিয়ে প্রবেশের সুযোগের দাবিতে উপাচার্যের কাছে আবেদন জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর এ আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়।
আবেদনপত্রে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সময় সীমিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী সুবিধাজনকভাবে পড়াশোনা করতে পারছেন না। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কাজের কারণে বিদ্যমান সময়সূচির মধ্যে লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে তাদের শিক্ষার মান উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, লাইব্রেরির বর্তমান সময়সূচি পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি। এতে শিক্ষার্থীরা আরও ভালোভাবে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন।
আবেদনে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— লাইব্রেরির সময় বৃদ্ধি করে সকাল ৯টা থেকে সর্বনিম্ন রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা, লাইব্রেরির ভেতরে বই নিয়ে প্রবেশের সুযোগ প্রদান এবং পর্যাপ্ত আসন, আলো-বাতাস, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম আশিকুর রহমান বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যায় তার শিক্ষার মান ও গবেষণার মাধ্যমে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বিকেল ৪টায় বন্ধ হয়ে যায়। তাহলে শিক্ষার্থীরা পড়বে কখন? আমরা চাই লাইব্রেরি সকাল ৭টা থেকে ন্যূনতম রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা হোক। সেই সঙ্গে লাইব্রেরি সম্প্রসারণ করে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
আবেদন জমা দেওয়ার সময় উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এছাড়া আগামী রোববার লাইব্রেরির পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ'র প্রদর্শিত ছবি দুটি ছিড়ে ফেলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং সবশেষ ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ছবি ছিঁড়ে সময় আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, বাংলা হবে না বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রটা জিন্নাহ তৈরি করে দিয়েছিলেন। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র তখন প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, জিন্নাহ সাহেব, আপনার এই সিদ্ধান্ত আমরা মানি না।’
তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১১ মার্চ ১৯৪৮ শুরু করেছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বে হরতাল পালন হয়েছিল। সেখানে অনেক ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, দুই হাজারের ওপরে। সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’
জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা প্রসঙ্গে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সমকালকে বলেন, ‘আমরা জিন্নাহকে দায়মুক্তি দেইনি। জিন্নাহ যে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল আমরা সেটাই তুলে ধরেছি। বরং যারা জিন্নাহর ছবি ছিঁড়েছে তারাই মূলত জিন্নাহ প্রেম দেখাচ্ছে।’
আবার ছবি লাগানো হবে কিনা সে ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ডাকসুর সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নার ছবি টাঙানোর প্রতিবাদ জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছেছবিটিঅপসারণে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে সংগঠনটি।
উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ শেষে ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস সাংবাদিকদের বলেন, বিতর্কিত ডাকসু থেকে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের অধিকাংশ ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দগজন বিতর্কিত ব্যক্তির ছবি তারা টাঙিয়েছে। আমরা এটা সহ্য করতে পারি না। এটা অপসারণ করা না হলে ছাত্রদলে ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিস এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, অভ্যুত্থানকে স্মরণ করতে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তি প্রস্তর ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করেছে। কিন্তু তার আগেই বিতর্কিত ডাকসু রাতের অন্ধকারে ডাকসু ও মধুর ক্যান্টিনের সামনে একটি স্তম্ভ করেছে।কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে আরেকটি করতে চাচ্ছে। এভাবে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে কেউ যদি রাজনৈতিকভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তা আমরা মানব না।
ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রসঙ্গে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (একাংশ) ঢাবি সংসদের সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা জিন্নাহর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতা আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন, যা উনসত্তরের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। ডাকসু এই ভাষা আন্দোলনসহ স্বাধিকার আন্দোলনে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখে। ডাকসুর সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা। চাওয়া ছিল– মহান মুক্তিযু্দ্ধকে আওয়ামী দখলদারিত্ব এবং হেয় করা– এই দ্বিমুখী অপতৎপরতার বিপরীতে ডাকসু এদেশের মানুষের প্রকৃত লড়াইয়ের ইতিহাস ছাত্র-জনতার কাছে তুলে ধরবে । ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হবে না, ডাকসু হবে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর। কিন্তু ডাকসু এদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে সামনে আনার পরিবর্তে মুছে দেওয়ার অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ, যা এদেশের মানুষের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অর্জন। এটা কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অসংখ্য কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ফসল। এদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ডাকসুর ঐতিহাসিক অবদান আছে। ডাকসুর বর্তমান নেতৃবৃন্দ লড়াইয়ের এই জন-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেনি। বরং বিকৃতি ও দলীয়করণের অপচেষ্টা করছে। ডাকসুকে সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি সংসদের আহবায়ক সৈকত আরিফ বলেন, ডাকসু লজ্জাজনকভাবে ইতিহাসকে বিকৃতি করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলনের প্রথম পর্যায় ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিলো তা জিন্নার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই তৈরী হয়েছিলো। রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে তিনি বলেছিলেন "উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্থানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।" সেখানে ডাকসু জিন্নাহকে হিরো হিসেবে উত্থাপন করেছে তা ইতিহাস বিকৃতি। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একইসাথে ডাকসু সংগ্রহশালায় ইতিহাসকে যেভাবে উত্থাপন করা হয়েছে তা ইতিহাসের বিকৃতি। এই ঘটনায় ডাকসুর নেতৃবৃন্দের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ডাকসু ভবনের নিচতলায় সংস্কার করা এ সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি দেখা যায় সংগ্রহশালায়। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরেকটি১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবিতেও জিন্নাহ রয়েছেন। ওই সম্মেলনেই ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের দাবি সংবলিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল।
অপর ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শেকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য ও সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি। শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি আহমদুল কবীর তাপসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাশার।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি আগামী তিন মাস সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শেকৃবি ঢাকার মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি আহমদুল কবীর তাপস বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি হলেই ডেঙ্গু রোগী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
পরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও দিকনির্দেশনামূলক ব্যানার প্রদর্শনের পাশাপাশি ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য এবং এক নারী শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েকটি ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এক নারী শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে প্রকাশ্যে তাঁর সম্মানহানি করা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
সমাবেশ শিক্ষার্থীরা সাইবার বুলিং ও মানহানির সঙ্গে জড়িত পেজগুলোর পরিচালকদের দ্রুত শনাক্ত করা,অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত সাইবার আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সাইবার পরিবেশ নিশ্চিত করা সহ পাচঁটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনা হলে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন।
আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থী ইসরাত সূচি বলেন"আজকে একজন নারী শিক্ষার্থীর সাথে যা ঘটেছে, কাল তা আমার সাথেও ঘটতে পারে। আমি একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, এবং প্রশাসনের কাছে এর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি "।
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব বাচ্চু বলেন" আপনারা দেখেছেন গতকাল থেকে আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের, একজন নারী শিক্ষার্থীকে কিভাবে স্লাটসেইমিং বা তার চরিত্র হরনের চেষ্টা করা হচ্ছে যা নোবিপ্রবিয়ান হিসেবে আমাদের অত্যান্ত লজ্জার বিষয়। আমাদের বোনদেরকে মাদক এবং দেহব্যবসার সাথে তুলনা করে হয়ে যা খুবই জঘন্য অপরাধ। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি যাতে করে এরকম ঘটনা দ্বিতীয়বার না ঘটে।
পরিসংখ্যান বিভাগের নারী শিক্ষার্থী মার্জনা তাকওয়া বলেন" আমি একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, এবং প্রশাসনের কাছে এর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি "।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, "আমরা এ ব্যাপারে অবগত আছি এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টিকে আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং আমি প্রো ভিসি স্যারের সাথে কথা বলেছি। যেহেতু আমাদের ভিসি স্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কাজে বিশ্ববিদ্যালয় বাইরে আছেন। আগামীকাল তিনি আসবেন। আগামীকাল তিনি আসার পরে আমি, প্রো-ভিসি স্যারসহ একসাথে ভিসি স্যারের সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিব এ ব্যাপারে কি করা যায়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সুধারাম থানায় একটি জিডি করা হয়েছে এবং আশা করি তারাও এ ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করবে।"
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদের একটি অংশ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে। আমরা এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছি এবং সুধারাম থানার এসপির সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে তিনি আমাদের এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা পুরো ঘটনা জানার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
উল্লেখ্য যে, NSTU Outsider সহ আরো কয়েক পেজ থেকে একটা ভিডিও প্রকাশ করে নোবিপ্রবি নারী শিক্ষার্থীর নামে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে।
এর প্রতিবাদে আজ নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেন ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান
দীর্ঘ ৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন। রাষ্ট্রপতির সম্মতি নিয়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির ১, ২ ও ৩ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সমাবর্তন আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য ড. এ কে মতিনুর রহমান , উপ-উপাচার্য ড. মো. অধ্যাপক এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ অর্থাৎ চতুর্থ সমাবর্তন ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার খবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
বামপন্থী ছাত্রসংগঠন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছয় সদস্যের কমিটিতে রাফিউর রহমান রুহানকে আহ্বায়ক এবং মীর আবির হোসেন ও মাহির আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শেকৃবি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী শাখার এক কর্মিসভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন এ কমিটি গঠন করা হয়। পরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন মো. মারুফ আল্লম, সাদ আহমেদ ও অরণ্যা সেন।
নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক রাফিউর রহমান রুহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রগতিশীল রাজনীতির একটি প্ল্যাটফর্মের শূন্যতা অনুভব করছিলাম। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষির সংকটে কথা বলা ও কাজ করা এবং টেকসই কৃষির নামে কৃষিকে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দিয়ে মাটি ও কৃষককে জিম্মি করার প্রতিবাদের দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এই যাত্রা।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদল হলেও রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেই কর্তৃত্ববাদী কাঠামো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বজায় আছে। প্রগতিশীল আন্দোলনই এসব সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। মেহনতি কৃষক ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মূল্যায়নে ওয়েবসাইট চালু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। গত ১১ সেপ্টেম্বর ডাকসুর সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েম, কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াসহ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে ‘ডিউইভালুয়েশন’ নামে ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। রোববার সন্ধ্যায় উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ডাকসু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কে ঘাটতি তৈরি করেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রোববার ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ওয়েবসাইটটির উন্নয়নের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিভিউ গোপন রাখা হয়েছে। তবে গত ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়েবসাইটের রিভিউগুলো উন্মুক্ত ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে সংগ্রহ করেছে।
এতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট দুই হাজার ৪৫ জন শিক্ষকের মধ্যে এক হাজার ২৪৩ জন, অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষক রিভিউ পেয়েছেন। বাকি ৮০২ জন শিক্ষকের কোনো রিভিউ পাওয়া যায়নি। রিভিউ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ৬৩৩ জনের গড় রেটিং ৪ বা তার বেশি, যা মোট রিভিউ পাওয়া শিক্ষকের ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে ১৪৮ জন শিক্ষক পূর্ণ ৫ রেটিং পেয়েছেন এবং ৪ থেকে ৪ দশমিক ৯৯ রেটিং পেয়েছেন ৪৮৫ জন। এ ছাড়া ৩ থেকে ৩ দশমিক ৯৯ পেয়েছেন ২৩৫ জন, ২ থেকে ২ দশমিক ৯৯ পেয়েছেন ১৯২ জন এবং ২-এর নিচে রেটিং পেয়েছেন ১৮৩ জন শিক্ষক, যা মোট শিক্ষকের প্রায় ১৫ শতাংশ।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় পাস হওয়া থেকে নানা অনুরোধের পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটি চালু করার সদিচ্ছা দেখায়নি। তাই প্রশাসনের আশায় বসে না থেকে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য ওয়েবসাইটটি তৈরি করছি। এতে করে আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে জবাবদিহিতা এবং পেশাদারিত্ব আরও বেশি শক্তিশালী হবে, পাঠদান মানসম্মত হবে।
ওয়েবসাইটে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কোর্স অনুযায়ী শূন্য থেকে ৫ পর্যন্ত পয়েন্ট দিতে পারেন এবং রিভিউ লিখতে পারেন। তবে শিক্ষার্থীর রিভিউ ম্যানুয়ালি যাচাই করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ইনস্টিটিউশনাল মেইলের মাধ্যমে সাইন করলে একটি কোড পান, সেটি প্রবেশ করিয়ে সাইন ইন করে শিক্ষার্থী শুধু তাঁর ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের রিভিউ দিতে পারেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নের নামে ডাকসু যেটা করছে, তা অনধিকার চর্চা। এর ফলে এখন অনানুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকদের রেটিং হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, যা পরে মবে রূপান্তরিত হতে পরে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষক মূল্যায়নের ইতিবাচক ফলাফল থেকে বঞ্চিত হবে। আমি বরং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষক মূল্যায়নে যথাদ্রুত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন চালুর বিষয়টি প্রশাসন ইতোমধ্যে অনুমোদন করেছে এবং ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে ডাকসু সেটাকে হঠাৎ করে নিজের মতো করে একটা মূল্যায়ন করেছে, যা ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের একটা ঘাটতি তৈরি করেছে। আমরা এই বিষয়ে ইউনিভার্সিটির আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া ফেসবুকে পোস্টে উল্লেখ করেন, ডাকসু নির্বাচনে দাঁড়ানোর সময় আমার প্রথম এবং প্রধান ইশতেহার ছিল শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রশাসনের বাইরে গিয়ে হলেও কিছু করে যাওয়া চাই। সে জায়গা থেকে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও শিক্ষার্থীরা এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নের মাধ্যম শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষকরা বুঝতে পার