ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ এএম

রিয়া মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যাংক হিসাবে রেমিটেন্স এনে মোটরসাইকেল পুরস্কার পেয়েছেন দুজন।


ব্যাংকটি রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রোজার মাসে প্রতি কর্ম দিবসে ইসলামী ব্যাংকের একজন গ্রাহককে একটি করে মোট ২০টি মোটরসাইকেল উপহার দেয় রিয়া মানি। এর অংশ হিসেবে ১৯তম মোটরসাইকেল পেয়েছেন কুমিল্লা নাঙ্গলকোট শাখার গ্রাহক মাঈন উদ্দিন এবং ২০তম মোটরসাইকেল পেয়েছেন ফেনী শাখার সেলফিন গ্রাহক জিয়াউল হক।


যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নাসির উদ্দিনের পাঠানো রেমিটেন্সের বিপরীতে দেশে থাকা গ্রাহক মাঈন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী মোহাম্মদ মমিনুল হকের পাঠানো রেমিটেন্সের জন্য জিয়াউল এ পুরস্কার পান।


রোববার মতিঝিলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে ডিজিটাল র‌্যাফেল ড্রর মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খাঁন।


এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম, বৈদেশিক রেমিটেন্স বিভাগের প্রধান মোতাহার হোসেন মোল্লা, বৈদেশিক ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের প্রধান দাউদ খান এবং রিয়া মানি ট্রান্সফার বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম তালুকদার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট অপারেশনস ম্যানেজার আরাফাত হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০৭ পিএম

দুর্দশাগ্রস্থ পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আজ সোমবার থেকে অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। ঘোষিত স্কিমের বাইরে আমানতকারীদের থেকে আবেদন নিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। অর্থ ফেরত পেতে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ঝামেলার খবর পাওয়া যায়নি। ঘোষিত স্কিমের বাইরে ১ সেপ্টেম্বর থেকে রোববার পর্যন্ত একীভূত পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেন। অর্থ ফেরত দেওয়ার সুবিধার জন্য টাকা ছাপিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে রোববার পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।


দীর্ঘ দিন ধরে আমানতকারীদের জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। ব্যাংকগুলো হলো— এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এর মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। বাকি চার ব্যাংকের কতৃর্ত্ব ছিল চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মাসুদ ওরফে এস আলমের।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী- ব্যাংকগুলোকে এর আগে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বিশেষ ধার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুদসহ যা এখন প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে নতুন করে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতিতে এর যে প্রভাব পড়বে তা মেনেই ব্যাংক খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা আনতে এটা করা হয়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়া বা তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই।


পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে। ওই স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের থেকে আবেদন নিয়ে অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।


২৫ আগস্ট সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরতে কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকছে না এমন ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন বলেও জানানো হয়। এরপর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক অর্থ ফেরতের বিশেষ উদ্যোগ নেয়। গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন করতে হয়েছে। আবেদন যাচাই করে পাওনা অর্থ পরিশোধ হচ্ছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা ও মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহক মেয়াদি আমানতের মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা দেওয়া হবে।


বাংলাদেশ ব্যাংক

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০৯ পিএম

বিদেশ ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা ১২ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রকৃত ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


বিদ্যমান ভ্রমণ-সুবিধা সংশোধন করে আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এর আওতায় বাংলাদেশে বসবাসরত প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের বার্ষিক সীমা বাড়ানো হয়েছে।


সার্কুলার অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো কোনো প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিককে একটি পঞ্জিকাবর্ষে বিদেশ ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে পারবে। এর আগে এ সীমা ছিল ১২ হাজার ডলার।


বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নতুন সীমা একটি পঞ্জিকাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে ১২ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুমোদিত সীমার ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে।


এদিকে, মার্কিন ডলারের নোট আকারে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। প্রযোজ্য বার্ষিক ভ্রমণ কোটার মধ্যে প্রতি ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার নগদ ডলার নোট নেওয়ার সুযোগ থাকবে।


ভ্রমণ কোটার সীমা বাড়ানোর ফলে পর্যটন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং অন্যান্য অনুমোদিত বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণে আরও বেশি নমনীয়তা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বার্ষিক ভ্রমণ কোটা আগে ১২ হাজার ডলার নির্ধারিত ছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে তা ৬ হাজার ডলার বা ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য শিথিলতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৬ পিএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে। তাঁরা মার্জনা চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন রাষ্ট্রপতি। ইতিমধ্যে শাস্তি মওকুফ করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।


গত বছর রাজস্ব খাতের সংস্কার আন্দোলনের ওই কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে তাঁদের বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন। কেউ কেউ আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। কেউ নিজ নিজ দপ্তর বন্ধ রেখে আন্দোলনে অংশ নেন।


শাস্তি বাতিল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন কমিশনার জাকির হোসেন (চলতি দায়িত্বে), অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ন, আ আ আমীমুল ইহসান, সাধন কুমার কুণ্ডু, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান, সানোয়ারুল কবির, উপ কর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম, শাহাদাৎ জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর।


প্রজ্ঞাপন অনুসারে, শাস্তি মওকুফ করা এনবিআরের কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের জুন মাসে রাজস্ব খাতের আন্দোলনের সময় তাঁদের বদলি করা হয়। পরে তাঁরা প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন। ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার ৩০এ বিধির লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮–এর বিধি (খ) অনুসারে ‘অসদাচরণ’।


পরে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়। যেমন সাময়িক বরখাস্ত, বেতন গ্রেড অবনমন ইত্যাদি।


আইআরডির প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তারা মার্জনা প্রার্থনা করে আপিল আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি আপিল আবেদন মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ প্রদান করেন।


২০২৫ সালের ১২ মে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারির পর এর বিরোধিতা করে প্রায় দেড় মাসজুড়ে আন্দোলন করেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ওই বছরের জুন মাসের শেষের দিকে দেশের শুল্ক-কর কার্যালয়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অর্থবছরের শেষ সময়ে রাজস্ব আদায় হুমকির মুখে পড়ে। ওই সময়ে টানা কয়েক দিন রাজধানীর এনবিআরসহ দেশের সব শুল্ক-কর কার্যালয়ে কাজ বন্ধ থাকে। এনবিআর ইতিহাসে এমন কখনো হয়নি। সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি মিছিল-সমাবেশ চলে। তখন স্থবির হয়ে যায় পুরো রাজস্ব খাত।


একপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরপর এনবিআরে আন্দোলনের জেরে বরখাস্ত, বদলিসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৩ এএম

চলতি ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির সামগ্রিক নিম্নমুখী প্রবণতার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানিতেও। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।


শুধু জুলাইয়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গতি কিছুটা মন্থর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। তবে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পতন তুলনামূলক কম। জানুয়ারি–জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ভারতের ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।


এ সময়ে পাকিস্তানের রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ১ দশমিক ০৩ শতাংশ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।


পণ্য সরবরাহের পরিমাণের হিসাবেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। তবে এ ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের পতন ছিল আরও বেশি-যথাক্রমে ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ ও ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ। বিপরীতে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া পরিমাণের হিসাবে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।


মূল্যের হিসাবে প্রায় সব প্রধান সরবরাহকারী দেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে চীনের পোশাকের গড় দাম, ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে সামগ্রিক আমদানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন ঘটছে। বিশেষ করে চীন থেকে অর্ডার সরিয়ে বিকল্প উৎস খুঁজছেন অনেক মার্কিন ক্রেতা ও ব্র্যান্ড। এর ফলে কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাচ্ছে।


তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, মার্কিন বাজারে পোশাক আমদানি ও সরবরাহের পরিমাণ কমে যাওয়ায় শীর্ষ সরবরাহকারী দেশগুলোর রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে চীনের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের রপ্তানিতেও মন্দার প্রভাব পড়েছে।


তিনি বলেন, চীন থেকে অর্ডার সরে আসার কারণে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে। তুলনামূলক ছোট রপ্তানিকারক হওয়ায় এসব দেশের প্রবৃদ্ধির হার বেশি মনে হলেও সামগ্রিক বাজারের বড় অংশ এখনো প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর দখলে।


মার্কিন বাজারের ভোক্তা আচরণের পরিবর্তন প্রসঙ্গে মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, দেশটির ভোক্তাদের কেনাকাটার অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ক্রেতাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব পোশাকের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে সেকেন্ডহ্যান্ড পোশাক ব্যবহারের প্রবণতাও বাড়ছে। এসব পরিবর্তন নতুন পোশাকের আমদানিতে প্রভাব ফেলতে পারে।


উদ্যোক্তা ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যৎ শুল্কনীতি ও মার্কিন নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বায়ার ও ব্র্যান্ড তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করছে। ঝুঁকি কমাতে তারা কোনো একক দেশ বা অঞ্চলের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে পোশাক সংগ্রহের দিকে ঝুঁকছে।


ফলে কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো নতুন অর্ডার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে চীন থেকে অর্ডার স্থানান্তরের সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্যও সুযোগ তৈরি করতে পারে।


সার্বিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বর্তমান নিম্নমুখী প্রবণতা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, তেমনি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তাই মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম

ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪ কোম্পানির নামে থাকা ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।


শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরোর করা আবেদনের পর বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।


এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আদেশটির লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান আইনজীবী শিশির মনির।


রিটে বলা হয়, আইন অনুযায়ী কোনো একই গ্রুপ বা পরিবারের হাতে একটি ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার থাকার সুযোগ নেই। তবে ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত হয়ে মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে।


এর আগে গত বছর ইসলামী ব্যাংকের এস আলম-সংশ্লিষ্ট ২৪ প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক ও ব্যক্তিবিশেষের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডার-পরিচালকদের আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

খেলাপি ঋণে যেভাবে বিশ্বে শীর্ষে উঠল বাংলাদেশ

১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৩ পিএম

বাংলাদেশে এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। আর এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণের হারের দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষে চলে এসেছে বাংলাদেশে।  এরপরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে।


অন্যদিকে বাংলাদেশে আগে আড়ালে থাকা অনিয়মিত ও বেনামি ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। ফলে ইউক্রেন তালিকার বাইরে চলে গেছে এবং বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।



বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ ৩২.৯২%

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।


২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।


খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই খেলাপি ঋণের বড় অংশ হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক সমস্যাগ্রস্ত ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়েছিল।


রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও বেনামি ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে এসেছে। ফলে আগে আড়ালে থাকা বিপুল ঋণ এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।


দ্বিতীয় খেলাপি ঋণ চাদের

মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।


তৃতীয় অবস্থানে ইকুয়েটোরিয়াল গিনি

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি। আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।


চতুর্থ আলজেরিয়ার খেলাপি ঋণের হার ২০.০৫ শতাংশ

উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।


ঘানার খেলাপির হার ১৮.১১ শতাংশ

তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।


ইউক্রেন ছিল শীর্ষে 

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।  ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে। উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া। বড় পরিবর্তনটি ঘটে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। 


ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ব্যাংক প্রিভাতব্যাংকসহ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বিপুল পরিমাণ পুরোনো খেলাপি ঋণ হিসাব থেকে অবলোপন করে। এর ফলে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর ইউক্রেনের পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ২৩ দশমিক ৯১ শতাংশ থাকলেও ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি তা কমে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে আসে। তবে অবলোপনের অর্থ এসব ঋণ মাফ করে দেওয়া নয়। ঋণগুলো আগেই শতভাগ সঞ্চিতি দিয়ে সংরক্ষিত ছিল। অবলোপনের পর সেগুলো ব্যাংকের মূল ব্যালান্স শিট বা স্থিতিপত্র থেকে সরিয়ে বাইরের হিসাবে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের কাছে পাওনা আদায়ের অধিকার ব্যাংকের রয়েছে। প্রিভাতব্যাংক এসব অর্থ উদ্ধারে ইউক্রেনের পাশাপাশি লন্ডন, সাইপ্রাস ও ইসরায়েলে আইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


এরপরও ইউক্রেনে খেলাপি ঋণ কমার ধারা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার আরও কমে ১২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। প্রায় ১৭ বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন। ফলে দেশটি এখন সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের পাঁচ দেশের তালিকার অনেক বাইরে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।


যেভাবে শীর্ষে উঠল বাংলাদেশ 

ইউক্রেন ও বাংলাদেশের গতিপথ প্রায় বিপরীত। ইউক্রেন পুরোনো ও সম্পূর্ণ সঞ্চিতি রাখা খেলাপি ঋণ ব্যালান্স শিট থেকে অবলোপন করেছে, ঋণ আদায় ও পুনর্গঠন করেছে এবং ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়িয়েছে। এতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও অনুপাত—দুটিই কমেছে।


বাংলাদেশে ঘটেছে উল্টোটি। ২০২৪ সালের জুনে দেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।


কী পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতি রাখার নিয়ম আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা করা হচ্ছে; পুনর্গঠন করা হয়েছে কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। ঝুঁকিভিত্তিক তদারকিও চালু করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণে আগে নিয়মিত দেখানো অনেক সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে শনাক্ত হচ্ছে।


পরিস্থিতি থেকে বের হতে একই সঙ্গে ঋণখেলাপিদের নানাভাবে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। যদিও ঋণ অবলোপন বা পুনঃ তফসিল করলে কাগজে খেলাপি ঋণ কমতে পারে; কিন্তু তাতে পাওনা টাকা আদায় হয় না। আইএমএফও বলেছে, কঠোর শ্রেণীকরণনীতি ও সম্পদের মান পর্যালোচনায় আরও খেলাপি ঋণ বেরিয়ে আসতে পারে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল পেতে হলে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সম্পদ জব্দ ও অর্থ আদায়, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ব্যাংকের পরিচালনা ও ঋণ অনুমোদনে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ এবং নতুন করে খারাপ ঋণ সৃষ্টি ঠেকাতে হবে। এগুলো ধারাবাহিকভাবে করা গেলে মধ্য মেয়াদে খেলাপি ঋণ কমতে পারে। কিন্তু আবারও নির্বিচার পুনঃ তফসিল ও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে হার সাময়িকভাবে কমলেও ব্যাংক খাতের মূল সমস্যার সমাধান হবে না।


তথ্যসূত্র: আইএমএফের ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস, বাংলাদেশ ব্যাংক, আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বিশ্বব্যাংকের খেলাপি ঋণ সূচক, ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, লিগা ডট নেট ও ফিন্যান্সিয়াল ক্লাব।