৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১:২৩ এএম

৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা-২০২৬ উদ্বোধন হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল ৪ নম্বর সেক্টরে মেলার স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) ভবনে পঞ্চমবারের আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি শেশ বশির উদ্দিন মেলার সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন। এ মেলা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলার কার্যক্রম চলবে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান (প্রধান নির্বাহী) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান।


গত ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করে ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জানুয়ারি করা হয়।


দেশের পণ্য প্রদর্শনীর সব থেকে বড় আয়োজন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। এবারের (৩০তম) আসরে বাংলাদেশ ছাড়াও আরো ৬টি দেশের ১১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


এবারের মেলার বিদেশি ১১টি সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট, দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।


মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে।


১৯৯৫ সাল থেকে যথারীতি বছরের প্রথম দিন থেকেই বসে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার (বিবিসিএফইসি) স্থায়ী ভেন্যুতে মেলার আয়োজন শুরু হয়। পূর্বাচলে এবার পঞ্চমবারের মতো মেলার আয়োজন করা হয়েছে। 




বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৬ পিএম

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। উভয় দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।


মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার রূপরেখা ও কার্যপরিধি নির্ধারণে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) স্বাক্ষরিত হয়। প্রথম দফার এ আলোচনা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব বলেন, ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আশাব্যঞ্জক হলেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বহুমুখীকরণের বিপুল সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।


তিনি জানান, গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।


বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বাংলাদেশ মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার। হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ সময় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।


মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ কেবল শুল্ক হ্রাসের চুক্তি নয়; বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত উদ্যোগ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তি কার্যকর হলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।


তিনি পারস্পরিক সমঝোতা, নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর এ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন বলেন, এফটিএ কার্যকর হলে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য হবে।


তিনি জানান, আলোচনায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন (পণ্যের উৎপত্তিবিধি) এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণ করে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নমনীয়তার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।







  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৯ পিএম

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৬ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।


আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফরোজা আক্তারের সই করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. মাহবুব আলমকে জনতা ব্যাংক, নূর মোহাম্মদকে অগ্রণী ব্যাংক এবং মো. নূরুল হুদাকে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ৩ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মো. মাহবুব আলম এর আগে বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসিতে অতিরিক্ত পরিচালক ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


অন্যদিকে মো. নূরুল হুদা বর্তমানে জনতা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অর্থাৎ জনতা ব্যাংকের শীর্ষ পদে বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক একজন কর্মকর্তা নিয়োগ পেলেও বেসিক ব্যাংকের দায়িত্ব পাচ্ছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটিরই একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।


এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়া নূর মোহাম্মদ যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৯ অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এ নিয়োগ দেওয়া হলো। এর আগে সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ ও চুক্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে বিভিন্ন কার্যক্রম চলে। নতুন নিয়োগের মধ্য দিয়ে জনতা ও বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:২৮ পিএম

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে বেসরকারি ব্যাংকের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার মো. মাহবুব আলমকে জনতা ব্যাংক এবং যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।


একই সঙ্গে জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল হুদাকে বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। 


এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. শওকত আলী খানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের আগের আদেশ প্রত্যাহার করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ফলে তিনি সোনালী ব্যাংকের এমডি পদে বহাল থাকছেন।


সোমবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক-১ শাখা থেকে এসব নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে এ-সংক্রান্ত পৃথক চারটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।  


দুই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বেসরকারি ব্যাংকের এমডি


আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, সাউথইস্ট ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার মো. মাহবুব আলমকে জনতা ব্যাংক পিএলসির এমডি ও সিইও পদে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নিমিত্ত মনোনয়নে সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নিমিত্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১’ অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।


রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ পদে বেসরকারি ব্যাংকের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের এভাবে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা।


বেসিক ব্যাংকের এমডিও পরিবর্তন


অন্য একটি চিঠিতে জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল হুদাকে বেসিক ব্যাংক পিএলসির এমডি ও সিইও পদে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নিমিত্ত মনোনয়নে সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১’ অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে সোনালী ব্যাংকের এমডি মো. শওকত আলী খানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে ১৯ অক্টোবর দেওয়া আদেশটি প্রত্যাহার করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। 


আজ সোমবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগের ওই আদেশ এতদ্বারা প্রত্যাহার করা হলো। ফলে শওকত আলী খান সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে বহাল থাকছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ এএম

আপনি আয়কর রিটার্ন জমা দিলেন না। ভাবুন তো, আপনার কী হবে। কর কর্মকর্তারা কঠোর হলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এমনকি গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হতে পারে। দেশে সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএনধারী) আছেন। বছরে রিটার্ন দেন প্রায় ৫০ লাখ করদাতা। বাকি ৭৫ লাখ করদাতা রিটার্ন দেন না।


আইন অনুসারে, টিআইএনধারী সবার রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। করযোগ্য আয় থাকলে রিটার্ন দিতে হয়। আর ৪৫ ধরনের সরকারি–বেসরকারি সেবা নিতে হলে রিটার্ন দিতে হয়।


এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক মানুষ রিটার্ন দেননি। এবার দেখা যাক, আয়কর রিটার্ন না দিলে কী জরিমানা হয়।


রিটার্ন না দিলে কী হয়


আয়কর আইন অনুসারে, পাঁচ ধরনের ঝামেলায় পড়তে পারেন করদাতারা। এগুলো হলো—


১. জরিমানা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা


নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুসারে ব্যবস্থা নিতে পারবেন কর কর্মকর্তারা। এ ধারায় বলা হয়েছে, আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে করদাতার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করা যাবে। তবে এ জরিমানা কমপক্ষে সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করতে পারবেন। কোনো তদন্তের ক্ষেত্রে রিটার্নের তথ্য চাওয়া হলে তা দিতে ব্যর্থ হলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।


২. কর ছাড় পাওয়া যাবে না


নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে কর অব্যাহতির সুবিধা পাওয়া যাবে না। আয়কর আইনের ১৭৪ ধারা অনুসারে কর অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকোচন করা হবে। আপনি প্রতিবছর সঞ্চয়পত্রসহ সরকার নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করে কর পেতেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে এই কর ছাড় পাবেন না।


৩. বাড়তি ২ শতাংশ কর


নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে প্রতি মাসে আরোপিত করের ওপর ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।


৪. গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন


সময়মতো আয়কর রিটার্ন না দিলে আপনার বাড়ির গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কর কর্মকর্তাদের। এমনকি শিল্পকারখানার মালিকেরা যদি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের আয়কর রিটার্ন না দেন, তাহলে গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দিতে পারবেন তাঁরা।


শুধু বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন নয়, গ্যাস, পানিসহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে।


৫. বেতন পাওয়া নিয়ে ঝামেলা


সরকারি–বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নির্ধারিত উচ্চ গ্রেডের (প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা) কর্মকর্তাদের সীমা দিয়ে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে বেতন–ভাতা পাওয়ায় জটিলতা হতে পারে। অফিস থেকে রিটার্ন জমার কপি চাওয়া হয়, তা না হলে বেতন–ভাতা কেটে রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়। বেসরকারি খাতের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।


রিটার্ন দেওয়ার সময় শেষ কবে


চলতি অর্থবছর থেকে রিটার্ন দেওয়া যাবে সারা বছর। প্রথম তিন মাস (জুলাই–সেপ্টেম্বর) রিটার্ন কর ছাড় পাওয়া যাবে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে যা কর বসবে, তা–ই দিতে হবে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রিটার্ন দিলে করের পাশাপাশি জরিমানা বসবে।


তাই অর্থবছর পেরিয়ে গেলেই শুধু রিটার্ন–সংক্রান্ত জরিমানা, বাড়তি করসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও ছয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের বিপি পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এবং কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে এক কার্গো কেনা হবে। 


গতকাল শনিবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৫১তম এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৫তম সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিপির কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এসব এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) বেঞ্চমার্ক মূল্যের চেয়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ০.১৭ ডলার কম।


এ ছাড়া কাতারের সঙ্গে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অতিরিক্ত আরও এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি এই কার্গো সরবরাহ করবে। এর দাম হবে জেকেএম বেঞ্চমার্কের চেয়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ০.১০ ডলার কম। কার্গোটির সম্ভাব্য সরবরাহের তারিখ আগামী ২০ ডিসেম্বর।


অন্যদিকে, জাপানের জেরা গ্লোবাল মার্কেটসের সঙ্গে এলএনজি কেনাবেচার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পেট্রোবাংলা ও জেরার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বিক্রয় ও ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) এবং টার্ম শিটের খসড়া নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।


পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯ (২) বিধির আওতায় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। তবে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার আগে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের আইনি যাচাই বা ভেটিং সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে প্রস্তাবটি কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০২ পিএম

বৈশ্বিক সতর্কতার মুখে ঝুঁকি এড়াতে আগে থেকেই বন্ধ রাখার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। ওয়েবসাইটের অন্তত দুটি স্থানে ‘স্প্যাম’ বা হামলার চিহ্ন শনাক্ত হওয়ার পর তা ঠিক করতে কাজ করছেন ব্যাংকটির তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের কর্মীরা। এ কারণে ছুটির পর ব্যাংকিং লেনদেন শুরু হলেও রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি চালু করা যায়নি।


জনতা ব্যাংকের আইটি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়েবসাইটে দুটি জায়গায় হামলার আলামত পাওয়া গেছে। ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। আজকের মধ্যেই সাইটটি পুরোপুরি নিরাপদ করে সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।


এদিকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ শূন্য থাকায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর জনতা ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। পরদিন থেকেই দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ব্যাংক খাতে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়।


বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে (PHP) দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তের পর বৈশ্বিক সাইবার হামলার আশঙ্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনিসা (ENISA) ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গত ২১ অক্টোবর যৌথ সতর্কতা জারি করে। 


সতর্কবার্তায় বলা হয়, এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা আক্রান্ত সার্ভারে দূর থেকে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। দ্রুত সিকিউরিটি প্যাচ বা হালনাগাদ দেওয়া সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলো সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।


সেই সতর্কতার অংশ হিসেবে বাড়তি সুরক্ষার তাগিদে গত বৃহস্পতিবার থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাধারণের জন্য সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। ছুটি শেষে আজ রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পোর্টাল যথারীতি চালু করা হলেও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ম্যালওয়্যার সংক্রমণের কারণে সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।