ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫২ এএম

ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের আট জেলায় বন্যা হতে পারে। সেই সঙ্গে এই সময়ে বেশকিছু জেলায় নদ-নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। রোববার (১৯ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।


বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী দুই দিন দেশের অভ্যন্তরে রংপুর ও সিলেট বিভাগে এবং উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।


গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে, যা আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নদীগুলোর কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হতে পারে এবং লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক অথবা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।


গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে; যা আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় নদীগুলো কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হতে পারে এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে অথবা বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।


বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, অপরদিকে যমুনা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী পাঁচ দিন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ২০ থেকে ২৪ জুলাই ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।


গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, অপরদিকে সোমেশ্বরী ও ভুগাই নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নদীগুলোর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।


আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় নেত্রকোনা জেলার সোমেশ্বরী নদীর কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।


গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর এবং রাজশাহী বিভাগের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা ও যমুনেশ্বরী নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, অপরদিকে ঘাঘট, আত্রাই, করতোয়া ও ছোট যমুনা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী তিন দিন নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে।


বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ও সুনামগঞ্জের মারকুলি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।



  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:২২ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ এএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:২২ পিএম

সারাদেশে গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ লাগতে পারে। এ সময়ের মধ্যে আবাসিক, শিল্প, যানবাহন ও বিদ্যুৎ খাতে ভোগান্তি বাড়তে পারে। পাশাপাশি লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল শনিবারও গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন আবাসিক গ্রাহকরা। দিনের অধিকাংশ সময় ঘরে ঘরে জ্বলেনি চুলা। রান্নার কাজ প্রায় বন্ধ ছিল।


মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) গত মঙ্গলবার আগুন লাগে। এতে টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই দুর্ঘটনার পাঁচ দিন পার হলো গতকাল। কিন্তু জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়নি। দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে ৯০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট। মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট দৈনিক চাহিদার বিপরীতে ৩০ শতাংশ কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এখন ঘাটতি বেড়ে চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে।


কবে ঠিক হবে?

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শর্টসার্কিটের কারণে সৃষ্ট আগুনে টার্মিনালে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। এগুলো প্রতিস্থাপনের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে তিনজন প্রকৌশলী আনা হয়েছে। তারা গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কেবল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামত করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত টার্মিনাল চালুর তাগিদ দেওয়া হলেও এক্সিলারেট কর্তৃপক্ষ এখনও নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি।


সূত্রটির ভাষ্য, আগামী পাঁচ থেকে আট দিনের মধ্যে টার্মিনালটি আংশিক চালু করা সম্ভব হলে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। তবে পুরো সক্ষমতায় চালু হতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। 


সূত্রটি আরও জানায়, শুধু কারিগরি ত্রুটি মেরামতই নয়; আন্তর্জাতিক কোম্পানি হওয়ায় এক্সিলারেট এনার্জির ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্সসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। এসব শেষ হওয়ার পরই টার্মিনালটি পুরোদমে চালু করা হবে।


পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, শর্টসার্কিটের কারণে কেবল পুড়ে গেছে। বিদেশি প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজ করছেন। কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রকৌশলীরা বিরামহীনভাবে কাজ করছেন। কিছু যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হতে পারে। দ্রুত চালুর জন্য এক্সিলারেট এনার্জিকে বলা হয়েছে। তবে তারা নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানাতে পারেনি।


ঘরে ঘরে রান্না বন্ধ প্রায়

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা, বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না। কোথাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চাপ এতটাই কম থাকছে যে রান্না করাই সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ও ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করছে। গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে কেউ কেউ পরদিনের জন্য রান্না সেরে রাখছেন।


মগবাজারের বাসিন্দা রোজিনা পারভীন বলেন, সকাল থেকে গ্যাসের চাপ এতটাই কম ছিল যে কিছুই রান্না করা সম্ভব হয়নি। রাত ৯টার পর গ্যাস এলেও শুধু ভাত রান্না করতেই প্রায় এক ঘণ্টা লেগেছে। আর কিছু রান্না করা সম্ভব হয়নি। 


কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা জেসমিন আক্তার বলেন, দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা চুলায় কড়াই বসিয়ে তেলও গরম করা যায়নি। ছোট শিশুর জন্য সময়মতো খাবার তৈরি করতে না পেরে প্রতিদিন বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে।


পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি

সিএনজি স্টেশনগুলোতেও সংকট আরও তীব্র হয়েছে। রাজধানী থেকে জেলা শহর– সবখানেই গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক স্টেশন দিনের দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে। যেসব স্টেশন খোলা রয়েছে, সেখানে মধ্যরাত থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। 


ময়মনসিংহে গতকাল ভোরে কয়েকটি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও সকাল ১০টার পর অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। নরসিংদীতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালকরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের চাপ কখনও শূন্যে নেমে যাওয়ায় দিনে একাধিকবার সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।


সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর সমকালকে বলেন, একটি স্টেশন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য অন্তত ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। কিন্তু অনেক এলাকায় এখন ৪ থেকে ৫ পিএসআই, কোথাও আবার ২ পিএসআইরও কম চাপ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।


শিল্পে সংকট

গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে আনতে হয়েছে। কোথাও কোথাও বিকল্প হিসেবে ডিজেল ও এলপিজি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। শিল্প উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহে জটিলতা দেখা দেবে।


তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, তিতাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। টার্মিনালে ত্রুটির আগে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটে।


বাড়তে পারে লোডশেডিং

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক দিন সারাদেশে বৃষ্টি হওয়ায় এবং শুক্র ও শনিবার ছুটির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। তাই গ্যাস সরবরাহ কমলেও বড় ধরনের লোডশেডিং করতে হয়নি। তবে আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাপমাত্রা বাড়লে এবং শিল্পকারখানা পুরোপুরি চালু থাকলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। তখন লোডশেডিংও বাড়তে পারে।


গতকাল বিকেল ৫টায় দেশে লোডশেডিং ছিল ৮২১ মেগাওয়াট। তখন বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক প্রায় ৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা টার্মিনাল দুর্ঘটনার আগে ছিল গড়ে ৯০ কোটি ঘনফুট। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে প্রায় চার হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। আগে এসব কেন্দ্রে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো।


বাংলাদেশে ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি মহেশখালীতে দেশের প্রথম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু করে। ১৫ বছরের চুক্তিতে দৈনিক ৬০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার এই টার্মিনাল পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। পরে ২০২০ সালে সামিট গ্রুপ একই এলাকায় দ্বিতীয় ভাসমান টার্মিনাল চালু করে, যার দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। 


তবে দুটি টার্মিনালের একটিতে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হচ্ছে। চলতি বছর কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি টার্মিনালের কার্যক্রম অন্তত তিনবার ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিকল্প উৎস বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্টরা।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম

আগামী বছরের জন্য হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হচ্ছে সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ নিবন্ধন কার্যক্রম। এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।


ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, ১৫ বছরের কম বয়ই কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া, দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন- হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমনেশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন-এমন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবে না। এছাড়া জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন-যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলা হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবেন না। প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরণ ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যে কোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে হজযাত্রীদের ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে। 


সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবেন। এতে আরও বলা হয়, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে। এ ছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।


সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। তবে বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:১১ পিএম

অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ এবং পুলিশে জনবল ও যানবাহনের সংকট থাকায় ১৮ জন মন্ত্রীর চলাচলের সময় দেওয়া পুলিশের এসকর্ট বা প্রটোকল প্রত্যাহার করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার নিজের প্রটোকল কমিয়ে এনেছেন। বর্তমানে শুধু ১৪ জন পুলিশের মুভমেন্ট এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন। সরকারি ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার এক সদস্য গতকাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের যানবাহনেরও সংকট রয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নিজেরাই তাদের এসকর্ট প্রত্যাহারের জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন।


মন্ত্রিসভার একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নিজের প্রটোকল কমিয়েছেন। তার চলাচলের সময় এসকর্ট হিসেবে থাকা চারটির জায়গায় এখন দুটি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।


সূত্রটি আরও জানায়, এরপর প্রধানমন্ত্রী যাদের জন্য এসকর্ট সুবিধা আর প্রয়োজন বলে মনে করেননি, সেই সব মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন। গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ডিএমপিকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।


ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখন থেকে শুধু যাদের প্রয়োজন, তাদেরই চলাচলের সময় এসকর্ট দেওয়া হবে।


এখন যারা পুলিশ এসকর্ট পাচ্ছেন তাদের মধ্যে সাতজন হলেন জাতীয় সংসদের পদাধিকারী স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, চিফ হুইপ এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।


বাকি সাতজনের মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।


ডিএমপি সূত্র জানায়, এসকর্ট প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত শুধু ঢাকার ভেতরে চলাচলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সরকারি সফরে ঢাকার বাইরে গেলে মন্ত্রীরা আগের মতোই গানম্যান, হাউস গার্ড এবং পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তাসুবিধা পাবেন।


গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই ১৮ মন্ত্রী ঢাকায় পুলিশের মুভমেন্ট এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় আরও ২৪ জন মন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া সরকারে ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা আছেন।


সাধারণত একজন মন্ত্রীর মুভমেন্ট এসকর্টে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), চারজন কনস্টেবল এবং পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান থাকে। এদের বেতন, ভাতা ও জ্বালানি খরচ সরকার বহন করে।


যাদের এসকর্ট প্রত্যাহার হলো


যে ১৮ জন মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে, তারা হলেন—ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ; পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু; মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান; সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা; বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির; শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী; তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।


এ ছাড়া পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এসকর্টও প্রত্যাহার করা হয়েছে।


পুলিশ সূত্র জানায়, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ (ভিআইপি) ঢাকায় ভিআইপিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও চলাচলের জন্য পুলিশের ১ হাজার ৬৯১ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।


বর্তমান প্রটোকল অনুযায়ী, একজন ভিআইপির বাসভবনে শিফট অনুযায়ী চারজন পুলিশ সদস্য পাহারায় থাকেন, একজন তার কার্যালয়ে থাকেন এবং পাঁচজন তার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকেন। স্পেশাল ব্রাঞ্চও (এসবি) একজন গানম্যান দিয়ে থাকে।


ভিআইপিদের তালিকায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যক্তিকেও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হতে পারে।


সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকেও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং তার নিরাপত্তার জন্য পাঁচজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০২ পিএম

বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনায় অনেক সময় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভিসা প্রক্রিয়া। তবে বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য এশিয়ার কয়েকটি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। কোথাও সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশ করা যায়, আবার কোথাও পৌঁছানোর পর নেওয়া যায় ভিসা অন অ্যারাইভাল (Visa on Arrival)।


যুক্তরাজ্যভিত্তিক হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাই সংস্করণ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৫টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন। সূচকে বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়ে ৯৭তম স্থানে উঠেছে। এ অবস্থানে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে উত্তর কোরিয়া।


এশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে মোট ছয়টি দেশে।


ভুটান

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি পরিবেশ ও শান্ত জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ভুটানে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাংলাদেশি নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন।


মালদ্বীপ

সমুদ্র, প্রবাল দ্বীপ ও বিলাসবহুল রিসোর্টের জন্য বিশ্বখ্যাত মালদ্বীপে বাংলাদেশিরা পৌঁছানোর পর ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পান। অবকাশ যাপন ও হানিমুনের জন্য এটি অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য।


নেপাল

হিমালয়ঘেরা নেপালেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন। কাঠমান্ডু, পোখারা এবং এভারেস্ট অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।


শ্রীলঙ্কা

ঐতিহাসিক নিদর্শন, সমুদ্রসৈকত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ভ্রমণ সুবিধা রয়েছে। তবে যাত্রার আগে দেশটির সর্বশেষ ভিসানীতি যাচাই করে নেওয়া উচিত।


কম্বোডিয়া

বিশ্বখ্যাত আঙ্কোর ওয়াট মন্দিরের দেশ কম্বোডিয়াতেও বাংলাদেশি নাগরিকরা পৌঁছানোর পর ভিসা অন অ্যারাইভাল নিতে পারেন। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বে আগ্রহীদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।


তিমুর-লেস্তে (ইস্ট তিমুর)

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রেও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা রয়েছে। শান্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দেশটি ধীরে ধীরে পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠছে।


ভ্রমণের আগে যা জানা জরুরি

আগাম ভিসা ছাড় বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা থাকলেও ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ প্রবেশনীতি যাচাই করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে অন্তত ছয় মাস মেয়াদি পাসপোর্ট, ফেরার টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে হতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিদেশ সফরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা সরকারি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করেই ভ্রমণ পরিকল্পনা করা সবচেয়ে নিরাপদ।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ এএম

পছন্দ-অপছন্দ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্ব ও আনুগত্যের ভিত্তিতে সেনাসদস্যদের পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (২৬ জুলাই) সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ (১ম পর্ব)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। এই পর্ষদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদবিতে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শুরুতে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদ, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সশস্ত্র বাহিনীর সকল বীর সেনানীদের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তাদের এই মহান আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।’ পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে আহত ও শহীদ সেনা সদস্যদের প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।


কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পর্ষদের সদস্যদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কাজ না করে। তিনি কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য ও নিযুক্তিগত উপযুক্ততাকে পদোন্নতির মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।


দেশের নিরাপত্তা ও সার্বিক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে যেভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশমাতৃকার প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর এই ত্যাগের জন্য তিনি সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।


এর আগে, সকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। শত ব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত হয়ে পর্ষদের উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সেনাবাহিনীর পরিদর্শক বইয়ে তাঁর মূল্যবান মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।



সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ পিএম

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। 


তবে আপাতত এই লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর।


আজ শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, বর্তমানে লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এটি সর্বোচ্চ সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। তাই, এর বড় ধরনের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে তিনি বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়তে পারে। এছাড়া ২৮ জুলাইয়ের পর উত্তরাঞ্চলেও বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিনে অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। 


অন্যদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় মৌসুমি বায়ু প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।


আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের লঘুচাপ সৃষ্টি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এর অবস্থান ও গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং সমুদ্রের পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই, উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এবং সমুদ্রে থাকা জেলেদের সর্বশেষ আবহাওয়া বার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।