ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ নিয়ে ভারত সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। তবে জানিয়েছে, যেকোনো প্রত্যর্পণ আইনগত বিষয়। আইনি প্রক্রিয়াতেই তার নিষ্পত্তি হবে। গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাঁকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। পলাতক শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ফেরার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফিরতেই হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। যদি মৃত্যুই আসে, আমি চাই আমার নিজের মাটিতেই মৃত্যু হোক, যেখানে আমার মা–বাবা সমাহিত আছেন এবং যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছিল।’
আজ নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার ওই সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে ভারতের মনোভাবের কথা জানতে চান এক সাংবাদিক। তিনি জানতে চান, শেখ হাসিনার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের আলোচনা হয়েছে কি না।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সরাসরি এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি। তিনি বলেছেন, যেকোনো প্রত্যর্পণই আইনি বিষয়। আইনি প্রক্রিয়াতেই এর নিষ্পত্তি হবে।
শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের মনোভাবের কোনো বদল ঘটেনি বলেও উল্লেখ করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে কিছু ভারতীয় উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এক সাংবাদিক জানতে চান, ১১টি প্রকল্প যা ঘোষিত হয়েছিল পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কি না।
এই প্রশ্নের উত্তরে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, উন্নয়নমূলক সহযোগিতা প্রকল্প পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
শনিবার নভোথিয়েটারে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশীয় উদ্ভাবনকে ল্যাবরেটরি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর এবং সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ মেলায় দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, নতুন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এসএমই) এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন। আয়োজনে প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে বহু সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও ধারণা তৈরি হলেও নীতি সহায়তা, প্রাথমিক তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে তা বাস্তবে রূপ পায় না। প্রশাসনিক ও আর্থিক এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ করাই এ প্রদর্শনীর প্রধান লক্ষ্য।
আগামীকাল মেলার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এক বিশেষ আন্তর্জাতিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
এই মেলায় কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি), ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই) এবং কারিগরি অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলবে। ঢাকা কেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এ সময় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনলাইনে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশন ভবন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়া আজ শনিবার শুরু হয়ে চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি, ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা এবং আইনানুগ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ব্যবহার করে ভোট দিতে পারবেন।
সকালে ইসির ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম আহমেদ খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঠাকুরগাঁও- ১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দিতে ইচ্ছুক প্রবাসী ভোটাররা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১২ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধিতরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।’
ইসির তথ্যমতে, দেশের ভেতর ও বাইরের ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি পোস্টাল ব্যালট বিতরণ করা হবে।
ইসি ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর। ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করা যাবে। ৬ অক্টোবর ইসি সেই আপিলগুলোর নিষ্পত্তি করবে। প্রার্থীরা ৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
ইসির তথ্যমতে, ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এই উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জন ভোটার ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন পরিচালনায় ৩ হাজার ১৫২ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন; যার মধ্যে রয়েছেন ১৮৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৯৮৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৯৭৮ জন পোলিং অফিসার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বাসযোগ্য দেশ গড়তে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা সময় দিতে হবে।
তরুণেরাই পারে একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে অনলাইনে দেশের সব জেলার স্কাউটস, বিএনসিসি, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লাখ লাখ তরুণের সঙ্গে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান তরুণদের শক্তির পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে স্কাউটসের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, বিএনসিসি সদস্য ২২ হাজার। এ ছাড়া হাইস্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এত বিশাল সংখ্যক মানুষ দেশ পুনর্গঠনে নামলে কেউ আমাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
তরুণ সমাজের পরিবর্তনের ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, একটি দেশের এত বড় তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে সেটা করা সম্ভব। তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তারা সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই হয়েছে।
দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস আমরা ডেঙ্গু সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব। হয়তো আমরা ১০০ ভাগ পারব না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ সফল হতে পারব বলে আমার বিশ্বাস। ডেঙ্গু সাধারণত ভাঙাচোরা পাত্র, প্লাস্টিক বা জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয়। আমরা যদি সবাই মিলে এসব পরিষ্কার করি, তাহলে দেশ পরিবর্তন করা সম্ভব।
সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কাজটা খুব কঠিন নয়। প্রতি সপ্তাহে আপনি যদি আপনার নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার করার জন্য এক ঘণ্টা সময় দেন, তাহলে দ্রুততার সঙ্গে আমরা পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে সক্ষম হব। রাস্তাঘাটে অনেকে অসচেতনভাবে ময়লা ফেলে দেন। আমরা যারা পরিচ্ছন্নতা অভিযান করব, তারা যেন এসব মানুষকে নিরুৎসাহিত করি এবং সচেতন করি।
ময়লা-আবর্জনা থেকে রোগজীবাণু ছড়িয়ে আপনজনেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে সতর্ক করেন তিনি। বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন সমাজ এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং উপস্থিত তরুণদের এই কাজে ব্রতী হওয়ার শপথ পড়ান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও মন্দিরে আর্থিক অনুদান দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিদেশ থেকে আমদানি করা গ্যাস এনে রাখার জন্য সাগরে দুটি জাহাজ রয়েছে। যার মালিকানা বিদেশি কোম্পানির। তার মধ্যে একটি জাহাজে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। যে কারণে অন্য একটি জাহাজের ওপর চাপ পড়েছে। পাইপ লাইনে সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমরা চেষ্টা করছি গ্যাস আনার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ গত সপ্তাহ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। হয়তো আরও ৫-৭ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে ইনশা আল্লাহ।’
তেলের মতো গ্যাসের ক্ষেত্রেও একটি অসাধু চক্র তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যারা একটি মেশিন দিয়ে জোর করে পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস নিয়ে যাচ্ছে। তিনি নিজে লাভবান হলেও অন্য দশজনকে কষ্টে ফেলছেন। এই জিনিসগুলোকে আমাদের রোধ করতে হবে।’
অবৈধভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল নেওয়া বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার একা এটা পারবে না। কেউ অবৈধভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল নিয়ে গেলে সবাইকে প্রতিরোধ করতে হবে।’
‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এটা অনেক কঠিন দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে বিগত ১ যুগেরও বেশি সময় একটি স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্টের অধীনে ছিল এই বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশকে শক্তি দিয়ে মানুষের সমর্থন দিয়ে নয়, বরঞ্চ অস্ত্রের ঝনঝনানি দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের ও কথা বলার অধিকার জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে মানুষের কাঁধে তারা চেপে বসেছিল।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সেসময় দেশের মানুষের ওপর কীভাবে অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে তা দেশের মানুষই দেখেছে। আমরা বিভিন্নভাবে দেখেছি ও জেনেছি কীভাবে দেশের মানুষের ও রাষ্ট্রের সম্পদ নিজেদের স্বার্থে ব্যয় করেছে। এমনকি বিদেশেও পাচার করেছে।’
বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচারের কথা শ্বেতপত্রে
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকাশিত শ্বেতপত্রের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে যে, বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে। এই অর্থ ও এই সম্পদ সম্পূর্ণভাবে দেশের মানুষের।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার গঠনের পর থেকে এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা করছি। এসব সম্পদ যাতে দেশের মানুষের জন্য ব্যয় করা হয়।’
সরকারের দুটি লক্ষ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো দুইটি। একটি- মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে- তৃণমূল ও সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।’
‘৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাতে পারবো’
দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তখন তিনি নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়ে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা অনার্স পর্যন্ত ফ্রি করে দেবো। আমরা ঢাকা-১৭ আসনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মধ্য দিয়ে সেই কাজ উদ্বোধন করেছি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘নভেম্বর বা ডিসেম্বর থেকে ৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাতে পারবো। আমাদের একটি শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী জাতি চাই। এভাবে দেশ আস্তে আস্তে স্বাবলম্বী হবে।’
‘ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই’
ধর্মের কারণে সরকারের কাছে কোনো ভেদাভেদ নেই উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে ধর্মের কারণে কোনো ভেদাভেদ নেই।’
তিনি বলেন, ‘সারাদেশে অনেক ধর্মগুরু আছেন যারা কষ্ট করেন। আমরা তাদের সহায়তার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই কাজও আমরা শুরু করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ।’
কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড দেওয়ার ওয়াদা করেছিলাম। কৃষকের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করতে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘এভাবে যেসব প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম তার প্রত্যেকটিই আমরা শুরু করতে পেরেছি। এখানেই স্বৈরাচার ও বর্তমান সরকারের পার্থক্য।’
তারেক রহমান বলেন, ‘যেহেতু আমাদের নির্বাচিত করেছে এই দেশের জনগণ। সেজন্য আমাদের দায়িত্ব হলো সরকারের পক্ষে যতটুকু সম্ভব জনগণের ওয়াদা পূরণের চেষ্টা করব। পর্যায়ক্রমে আমরা অন্যান্য প্রতিশ্রুতি পালনের চেষ্টা করবো।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমি সবগুলো বিষয় খেয়াল রাখার চেষ্টা করি। আমি চেষ্টা করি কারও কোনো সমস্যা হলে সেগুলো সমাধানের জন্য। তবে যে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি সময় লাগে।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি খাতে
চলমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বহু দেশে আছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ ব্যাপারে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষও এ ব্যাপারে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার গঠনের ১২ দিন পর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরু হয়। স্বাভাবিকভাবেই অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রভাব পড়ে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রথমে আমরা জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে কীভাবে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া যায় সেটা করেছি। বিভিন্ন দেশের তেলের দাম বাড়লেও দেশে প্রথমে আমরা দাম বাড়াইনি। কিন্তু কিছু অসাধু মানুষ তেলের ব্যবহার এমনভাবে শুরু করলো আমরা বাধ্য হয়ে তেলের দাম বাড়িয়েছি।’
‘বাপেক্সকে পঙ্গু বানিয়ে রাখা হয়েছিল’
দেশীয় গ্যাস উত্তোলন বাদ দিয়ে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই বলেন দেশের গ্যাস উত্তোলন বাদ দিয়ে বিদেশ থেকে কেন গ্যাস আমদানি করছে? হয়তো দেশের মাটিতে গ্যাস থাকতে পারে। কিন্তু সেটার প্রকৃত অবস্থা আমরা এখনও জানি না।’
তিনি বলেন, ‘কারণ গত ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকার পুরো জিনিসটাকে এমনভাবে বিদেশনির্ভর করে তুলেছিল যে, দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পঙ্গু বানিয়ে রেখেছিল।’
অন্যদিকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্নভাবে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ যাতে জ্বালানিখাতে পুরোপুরি বিদেশনির্ভর হয় সেই ব্যবস্থা তারা করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘তবে বর্তমান সরকার আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে বাপেক্সকে সক্রিয় করতে যেসব উদ্যোগ দরকার সেগুলো করেছি।’
গ্যাস অনুসন্ধান ব্যয়বহুল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু গ্যাসের অনুসন্ধান অনেক ব্যয়বহুল। ১৩০টি গ্যাস কূপ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছি। ফলে যখনই আমরা গ্যাস পাব তখন এই সমস্যার উন্নতি হবে।’
প্রতীকী ছবি
চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনেই ডেঙ্গুতে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগস্টে মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে বেশি। আগস্টে এডিস মশাবাহিত এই রোগে মারা গিয়েছিল ৪৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ডেঙ্গুতে দুজন মারা গেছেন। একই সময়ে ৭৯০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুজনের একজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। দুই সিটি করপোরেশনসহ এ বিভাগে মারা গেছেন ৭২ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫, ময়মনসিংহে ১৪, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১০, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ২৪৯ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬, ময়মনসিংহে ৭৩, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬১, খুলনায় ৬০, রংপুরে ৩৮, রাজশাহীতে ৩৩ ও বরিশালে ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪৯ হাজার ২২০ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭৮৮ জন। এ নিয়ে এ বছর মোট ৪৫ হাজার ৬৪৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
ফরিদপুরে প্রকোপ বাড়ছে
ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৩১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাবে, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এ বছর ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় জেলার প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও ওষুধের ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
সামনে আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনও শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি, তাপমাত্রা ও এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশের কারণে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে সংক্রমণ বাড়তে পারে। ডেঙ্গুর প্রকোপ সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথমদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক অভিযান জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
আজ থেকে অভিযান
বাসস জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।