প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে ১ হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ
দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিশু-কিশোর ও তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে অন্তত এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার বিকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মাঠের সংকট দূর করতে প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এসব মাঠে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মাঠগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সারা বছর সেখানে খেলাধুলার পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৭টি জেলায় মাঠ তৈরির জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাঠগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথাও বৈঠকে জানানো হয়।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে দেশের বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল ও খেলাধুলার উপযোগী করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং সারা বছর মাঠে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও নির্দেশনা দেন তিনি।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুর ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমীন উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ স্বীকৃতি এবং মর্যাদা নিশ্চিত ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ও গৌরব সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বঙ্গভবনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
তিনি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দাবি ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়।
এ সময় তারা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি, নিজস্ব বয়ানে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনাকে বিকৃত এবং রাজনীতিকে দূষিত করার অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব উদ্যোগে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি তাদের বক্তব্য শোনেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষায় উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর সৈয়দ মুনিবুর রহমান (অব.), সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান, সদস্য-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবুল বাশার, সদস্য-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিরাজুল হক, সদস্য-অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মনসুর আলী সরকার, সদস্য-কল্যাণ ও সেবা সম্পাদক অনিল বরণ রায়, সদস্য-ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আলহাজ্ব মো. নুরুল ইসলাম, সদস্য-ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, সদস্য-দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী জাকারিয়া আহমদ, ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নুরুল বাসার এবং সদস্য-সচিব মিজানুর রহমান খান (বীর প্রতীক)-সহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী নিহত আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ২০১৯ সালে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে। সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ ছেলে হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত স্বাধীনভাবে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন, ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এসব কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে, আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এছাড়া আবরার ফাহাদের কবর পাকাকরণ কার্যক্রম ও পাশের মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করেন।প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেন এবং আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেন। একসঙ্গে মসজিদটির নির্মাণকাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা তাঁর ছেলের হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
তিনি জানান, আবরার হত্যা মামলার একজন আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়েছিল। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। আর যেন কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘প্রত্যেক ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েই আমার মতো কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমি চাই, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আর আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে। আমার মতো কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’
সাক্ষাতে আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদের বিষয়ে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তাঁর ঘটনা অন্তর্ভুক্তির দাবিও জানান আবরার ফাইয়াজ। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।
আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে আবরার ফাহাদের মতো বিভিন্ন সময়ে যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদেরও একটি তালিকা করা হোক। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে। সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও উপস্থিত ছিলেন।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে। হত্যাকাণ্ডের আগের দিন, ৫ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আবরার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে স্বাক্ষরিত কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতার সমালোচনা করেন।
মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ, ফেনী নদীর পানি এবং গ্যাস রপ্তানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পরদিন রাতে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তাঁকে হলে ডেকে নিয়ে ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং একপর্যায়ে মারধর করেন। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে হলের সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়। ময়নাতদন্তে অতিরিক্ত মারধরের কারণে তাঁর শরীরে গুরুতর আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের প্রমাণ পাওয়া যায়।
হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীদের শাস্তিসহ ১০ দফা দাবি জানান। ৭ অক্টোবর আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। পরবর্তী সময়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা নয় আসামি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিও লিভ টু আপিল করেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমানের বক্তব্যের বিভ্রান্তিকর অনুবাদ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমানের বক্তব্যের বিভ্রান্তিকর অনুবাদ ছড়াল গণমাধ্যম। ডা. জাহেদুর রহমান ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয়’ বলেছেন দাবি করে বেশ কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের বিভ্রান্তিমূলক অনুবাদ করায় এই বক্তব্য নিয়ে পাঠকের মনে প্রশ্ন দেখা নিয়েছে। অনেকেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে ‘রাজনৈতিক পুনর্মিলন’ নয়, রিকনসিলিয়েশনের কথা বলেছেন তিনি। তাঁর সম্পূর্ণ বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বাংলাফ্যাক্ট নিশ্চিত হয়, তিনি আওয়ামী লীগের রিকনসিলিয়েশন, এর পূর্বশর্ত, দায় স্বীকার, ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন।
ডা. জাহেদুর রহমান ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয়’ বলেছেন দাবি করে বেশ কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব সংবাদের শিরোনামে, ফটোকার্ডে ও ক্যাপশনে এই উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদনে ‘রিকনসিলিয়েশন বা রাজনৈতিক পুনির্মিলন’ লেখা হয়েছে, অর্থাৎ ‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দটির ব্যাখ্যা বা অনুবাদ হিসেবে ‘রাজনৈতিক পুনর্মিলন’ ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ফেসবুকের কমেন্ট সেকশন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অনেক পাঠক এতে বিভ্রান্ত হয়েছেন।
বাংলাদেশে চলমান গুজব, ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এর প্রভাবে একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিকারকদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগস্ট শেষে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে চীন। মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ অবস্থান অবশ্য ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান করছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩৯ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম।
অন্যদিকে, একই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৫৬৩ কোটি ৭ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। ফলে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। তবে চীনের পোশাক রপ্তানিতেও বড় ধরনের পতন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটির রপ্তানি কমেছে ৩৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে এই পতন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে অবশ্য চীনের চেয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। তবে আগস্টের হিসাব যুক্ত হওয়ার পর সামগ্রিক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায় চীন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। একক দেশ হিসেবে এটিই বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। দেশের মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি রেকর্ড ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধির প্রভাবে রপ্তানি ২৫ শতাংশ কমে ৭২৯ কোটি ডলারে নেমে আসে।
পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সামান্য বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ফলে রপ্তানি আরও বেড়ে ৮২০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
এদিকে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানিতেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অটেক্সার হিসাবে, জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা মোট ৪ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মার্কিন পোশাক আমদানি কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ।
এই বাজারের সামগ্রিক চাহিদা কমে যাওয়ার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী হিসেবে ভিয়েতনামের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ভিয়েতনামের রপ্তানিও শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদলের (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ) বৈঠক শুরু হয়েছে। স্থলবন্দরের বাধা দূর করা, পাটপণ্যে ভারতের শুল্ক পুনর্বিবেচনা ও আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক করা বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে যোগ দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল গতকাল নয়াদিল্লি গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের বাণিজ্য–ঘাটতি কমানো, পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করা আর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক এবং ভারতীয় সুতা আমদানিতে বাংলাদেশের বিধিনিষেধও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
তিন বছর পর বৈঠক
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদলের আগের বৈঠক হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায়। এর আগে ১৪তম বৈঠক হয় ২০২২ সালের ২ ও ৩ মার্চ নয়াদিল্লিতে।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বাণিজ্য আলোচনায়। ফলে নিয়মিত এই বৈঠক নির্ধারিত সময়ে হয়নি। আগের বৈঠকগুলোয় স্থলবন্দর ও সমন্বিত সীমান্তচৌকির অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সীমান্ত হাট চালু, রেলপথে পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পণ্যের মানদণ্ড নির্ধারণে সমন্বয় ও পারস্পরিক স্বীকৃতি, বাংলাদেশ-ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে যৌথ সমীক্ষা ও পেট্রাপোল-বেনাপোল চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার বিষয়ও আলোচনায় ছিল।
বিধিনিষেধে কমেছে স্থলপথের বাণিজ্য
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের বড় বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে স্থলবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানির সুবিধা বন্ধ করে দেয়। সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ অবশ্য রাখা হয়।
এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্য স্থলপথে আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ওই বছরের জুনে পাট ও নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়।
এর প্রভাব পড়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের রপ্তানি পরিসংখ্যানে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ টন। আগের অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ টন।
তবে পরিমাণ কমলেও রপ্তানি আয় প্রায় একই ছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি আয় হয় ১৭৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে তা ছিল ১৭৬ কোটি ডলার।
পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক
বৈঠকের আগে বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়টি সামনে এসেছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা ও টুইন, হেসিয়ান কাপড়, পাটের বস্তা ও স্যাকিং ক্লথের ওপর সংশোধিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশি পাটের সুতা ও টুইনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন তদন্তের ভিত্তিতে এই শুল্ক আরোপ করা হয়নি। আগের শুল্কের মধ্যবর্তী পর্যালোচনার ভিত্তিতে হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ থেকে আমদানি করা পিইটি ফিল্মের ওপর প্রতি টনে সর্বোচ্চ ২১৮ ডলার অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে ভারতের বাণিজ্য প্রতিকার অধিদপ্তর (ডিজিটিআর)। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান আকিজ বায়াক্স ফিল্মসের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত শুল্ক ৫৮ ডলার। তবে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত এই সুপারিশ কার্যকর হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীদের দাবিও আলোচনায়
নয়াদিল্লির বৈঠকের এজেন্ডা তৈরির আগে গত মে মাসে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ব্যবসায়ীরা স্থলবন্দরের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, অশুল্ক বাধা দূর করা ও আগে বাতিল হওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট–সুবিধা পুনরায় চালুর সুপারিশ করেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস বাধে গত মাসে এফবিসিসিআই নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে যৌথ ব্যবসায়ী টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এর আগে গত আগস্ট মাসে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে সীমান্ত হাট চালু, স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো ও ভারতীয় সুতা আমদানিতে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় রাতে অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিদের প্রবেশের ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদারে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এখন থেকে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশের সময় অবশ্যই নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট দেশের বিচার অঙ্গনের সর্বোচ্চ স্থান এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা এখানকার বিভিন্ন ভবনের কোর্ট রুমে বিচার কার্য পরিচালনা করেন। ফলে বিচারপতি, মামলা পরিচালনায় নিয়োজিত আইনজীবী এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, রাতে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিরা প্রবেশ করছেন। এতে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে ওই সময়ে কেউ সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা অফিসিয়াল পরিচয়পত্র প্রদর্শনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।