প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা সমস্যা দ্রুত ও কার্যকর উপায়ে সমাধানের জন্য দারুণ এক উদ্যোগ নিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘প্রবাসীদের কষ্ট লাঘবে মন্ত্রণালয় গঠন করেছে একটি বিশেষ ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল।’
প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের একদল অভিজ্ঞ কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত এই সেলের মাধ্যমে প্রবাসীরা এখন থেকে তাদের যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ খুব সহজেই সরাসরি ইমেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে পারবেন।
ইমেইলে আসা প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুত বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশেষ করে, প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি আবেদন ও অভিযোগ দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের নিকট উপস্থাপন করা হবে, যেন নীতিনির্ধারক পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
অফিস আদেশে বলা হয়, minister@probashi.gov.bd এবং inister.expat@gmail.com ই-মেইল ঠিকানায় প্রাপ্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সেলটি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পূর্বের এক প্রচেষ্টা বাতিল হওয়ার পর, এবার নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রাখছে ভারত ও বাংলাদেশ—এমনটিই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বা নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম দায়িত্ব গ্রহণের পর এ সফর পুনর্বিন্যাসের প্রচেষ্টা আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত অমিমাংসিত বিষয়টিই প্রধান উদ্বেগ—যা এই সফর বাস্তবে রূপান্তরিত হবে কি না তা নির্ধারণ করতে পারে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো তারেক রহমানের জন্মদিনের শুভেচ্ছা এবং তার জবাবে মোদির দ্রুত সাড়া সফরটির তারিখ দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল সম্প্রতি ঢাকা সফর করেছেন কি না—যেটি ১৭ সেপ্টেম্বর হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
নিয়োগপত্রের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নিয়োগবঞ্চিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রার্থীরা। আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার পর মিছিল নিয়ে নিয়োগ বঞ্চিতরা শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা ২ টা ৪৮ মিনিট) এখনও শাহবাগে অবস্থান করছেন তারা।
শাহবাগ থানার সামনে টিএসসি অভিমুখে সড়কে মেট্রোরেলের নীচে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছেন। ফলে সড়কে যানবাহন কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেছেন, প্রতিনিধি দল ফিরে না আসা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।
ভোলা থেকে আসা এস এম খোকন বলেন, 'প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগাযোগ করলে তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কথা বলার জন্য আমাদের সাতজন প্রতিনিধি সচিবালয়ে গেছেন। তারা না আসা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।'
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে আন্দোলনে যোগ দেওয়া সুপারিশপ্রাপ্ত রুবেল প্রধান বলেন, '৮ ফেব্রুয়ারি আমি সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। পরবর্তীতে মার্চ ও এপ্রিলে ১৫তম গ্রেডের দুটি সরকারি চাকরির ভাইভা থাকা সত্ত্বেও সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেব ধরে নিয়ে আমি সেগুলোতে অংশ নেইনি। এমনকি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের একটি সরকারি চাকরিতেও যোগ দিইনি; কারণ টিউশনি করে পড়াশোনা করা এই শিক্ষকতা পেশাটার প্রতি আমার আলাদা একটা ভালোবাসা ছিল। কিন্তু আজ আট মাস পর ২৪ তারিখে আমার নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি' তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নের পাঁচজনের মধ্যে চারজনের নিয়োগপত্র আসেনি।
'সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ' ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর আগে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পরে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা।
গতকাল শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধীরাজু ভাস্কর্যদ এক সংবাদ সম্মেলন থেকে রোববার অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেন চাকরিপ্রার্থীরা। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে দাবি করা হয়, ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশনে অন্তত ২ হাজার প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি।
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সফল। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষা করে আমেরিকা থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে।’
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, ‘যারা সেখানে আইন লঙ্ঘন করছে কিংবা কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করবে, সরকার অবশ্যই কঠোর হাতে তা দমন করবে। সরকার বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে ছাড় পাবে না, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সরকার কঠোরভাবে এসব দমন করবে।’
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী নিজেদের বক্তব্য সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেছেন। বিশ্বের রাষ্ট্র প্রধানরা প্রধানমন্ত্রীকে সাদরে গ্রহণ করেছেন।’
এদিকে নেতাকর্মীদের ভিড় প্রধানমন্ত্রী পছন্দ করছেন না; এটি একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী।
প্রেস উইংয়ের সদস্যরা জানান, পাঁচদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থ, সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন বিশ্ব দরবারে। ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে রোববার সকাল ৮টা ২১ মিনিটে দেশে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সফরসঙ্গীরা।
এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ সরকারের প্রতিনিধিদল বিমানবন্দর অভ্যর্থনা জানায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি ভিকটিম হয়েছেন এটি পুলিশ প্রাথমিকভাবে দেখেছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। এ ঘটনায় জিডি বা মামলা করার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শনিবার সালমান মুক্তাদিরের একটি স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা খুবই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন এবং বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ ছিল, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তার স্টুডিওতে ভাঙচুর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করেননি। এমনকি তিনি নিজেই বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি এবং চাঁদা চাইলে তিনি দিতেন। ফলে নির্দিষ্টভাবে কার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে, তা এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায়নি।
এদিকে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে যে ঢালাও অভিযোগ করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। সালমান মুক্তাদির যদি চাঁদাবাজির বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করেন, তাহলে পুলিশ সেটি তদন্ত করে দেখবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ঘটনাস্থল মানিকদী নামাপাড়া, যা ক্যান্টনমেন্ট থানার অন্তর্গত। সেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এক পক্ষ একটি বিল্ডার প্রতিষ্ঠান এবং অন্য পক্ষ একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ওই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে কিছু লোক রাতের অন্ধকারে জায়গাটি দখল করতে যায়। সেখানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ওই স্থাপনার মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেড স্থাপনা ছিল, যেখানে সম্ভবত বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরির কাজ হতো। ওই স্থাপনাতেও বেশ কিছু ভাঙচুর হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। তবে বিষয়টির বিস্তারিত জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি। তার ফেসবুক লাইভে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে ঘটনাটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা, কিছু দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিতর্কিত জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং দখল-বেদখলের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে, তাই তদন্তের অগ্রগতি হলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
হামলায় বিধ্বস্ত স্টুডিও এবং সালমান মুক্তাদির
চাঁদা না দেওয়ায় রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নতুন সৃজনশীল স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা স্টুডিওতে থাকা মূল্যবান ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, শুটিং সরঞ্জাম, কর্মীদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ লুট করে নিয়ে গেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, চাঁদা দাবি করার পর তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রতিশোধমূলকভাবে এ হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।
ঘটনার সময় সালমান মুক্তাদির ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত বিমানে করে ঢাকায় ফিরে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওতে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে ফেসবুক লাইভে এসে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্টুডিওর চিত্র তুলে ধরেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ক্ষোভ ও শ্লেষ প্রকাশ করেন।
স্টুডিওর এক প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক হঠাৎ করে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে ধারালো চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। প্রাণভয়ে অফিসের কর্মীরা শৌচাগারে গিয়ে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও ঢুকে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। তবে ঘটনায় কোনো কর্মী শারীরিকভাবে গুরুতর আহত হননি।
লাইভে এসে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আজকে আমাদের লাস্ট ব্রাউনফিশ (Brownfish) স্টুডিওর শুট। একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল। আর এই পুরা অ্যাটাকে আমাদের ফুল স্টুডিও ডেস্ট্রয় হয়ে গেছে।’ তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘এই ভিডিওটা শুধুমাত্র খুবই স্পেশালি বানানো আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ওনার জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না। দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ। দ্যাটস হোয়াই আই অ্যাম স্মাইলিং।’
তিনি আরও দাবি করেন, এমন নান্দনিক স্টুডিও দেশের মূলধারার চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনেও (এফডিসি) ছিল না। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটা দেশ, যেই দেশে যদি আপনি কিছু করতে চান, অ্যান্ড এইটা করার সময় যদি আপনি কারো তোষামোদি না করেন, আপনার যদি কোনো ব্যাকআপ না থাকে, আপনি যদি কোনো পার্টিকে ফলো না করেন, আপনি যদি সিকিউরিটি টাকাপয়সা দিয়ে কিনতে না পারেন—দিস ইজ হোয়াট হ্যাপেনস টু ইউ!’
বিএনপিকে সরাসরি দায়ী করে সালমান বলেন, ‘হুএভার ব্রোক দিস—এই বিএনপির লোকজন যারা করছে এটা—তোমাদের চাঁদাবাজি ক্যান নট টেক অ্যাওয়ে মাই ড্রিম! তোমাদের চাঁদাবাজি তোমাদেরকে এই যে ফকিন্নি, মিসকিন রাখছে এইজন্য বিকজ তোমরা স্বপ্ন দেখতে পারো না। তোমরা যতকিছু চুরি করে ফেলো, চাঁদাবাজি করে ফেলো, তোমরা এর থেকে বড় আর হইতে পারবা না। দিস ইজ ইওর লেভেল।’
হামলার পর কান্নারত তরুণ সহকর্মীদের বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেন তিনি। কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা কান্নাকাটি করিস না। দিস ইজ নাথিং। তোমরা সালমান মুক্তাদিরকে চেনো নাই! আমি এর থেকে বড় কিছু করব, ইনশাআল্লাহ। আমরা কালকে থেকেই আবার কাজ শুরু করব।’ তিনি উল্লেখ করেন, স্টুডিওটি গড়ে তুলতে তার স্ত্রী দিনের পর দিন নিজে দাঁড়িয়ে কাজ তদারকি করেছেন এবং সহকর্মীরা রাত জেগে পাহারা দিয়েছেন।
আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে সালমান জানান, আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ জন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের মূল্যবান ফুটেজ ও কাজ স্টুডিওর সিস্টেমে জমা ছিল। সবকিছু খোয়া যাওয়ায় সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি মামলা দায়ের করা হবে।
ভিডিওর শেষভাগে তিনি আবারও প্রশাসন ও দেশের বাস্তবতাকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আপনি এটা নিয়ে একদম টেনশন কইরেন না। আপনার জন্য এই ভিডিওটা না, বাংলাদেশি মানুষের জন্য এই ভিডিও। ইফ ইউ ওয়ান্ট টু স্টে ইন বাংলাদেশ, প্লিজ চাটুকারিতা করে চাঁদাবাজিকে সাপোর্ট করবেন, যাতে এই ধরনের কাহিনী আপনাদের সাথে না হয়। অ্যান্ড সালাহউদ্দিন আহমদ, গ্রেট জব! আই লাভ ইওর ওয়ার্ক। থ্যাংক ইউ সো মাচ। বিএনপি জোস কাজ করছে।’
হামলায় বিধ্বস্ত স্টুডিও এবং সালমান মুক্তাদির
‘এটা বাংলাদেশ, যদি পারি চলে যাব’—রাজধানীর মিরপুরে নিজের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের পর এভাবেই অভিমানের সুরে কথাগুলো বলছিলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে তার স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে। এর আগে স্টুডিও থেকে কে বা কারা চাঁদা চেয়েছে বলে শুনেছেন সালমান মুক্তাদির। যা তিনি নিজেই জানান। তার ভাষ্য, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই এই হামলা হয়েছে।
হামলাকারীরা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্টুডিওটির কর্মকর্তারা।
পরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাকে বলেছে যে চাঁদা দেয়নি এই জন্য ঘটনাটি ঘটেছে। এখন চাঁদাতো আমার কাছে চায়নি। চাঁদা চাইলে আমি ডেফিনেটলি দিতাম। যদি আমার পোষাতো তখন আমি অবশ্যই দিতাম। তবে উনারা কেন দেয়নি, কত টাকা দেয়নি। এই ব্যাপারে আমার কোনো আইডিয়া নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা মাত্র পুলিশদের কাছ থেকে শুনলাম। বাহিরের লোকজনদের কাছ থেকে শুনলাম। বাট আই ডোন্ট কেয়ার। যে কারণেই হোক না কেন, হয়েছেতো; এটাই বাংলাদেশ।’
বাংলাদেশের আইনে বিশ্বাস করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আইনের ব্যাপারে আমি নাস্তিক।’
‘লাকিলি (সৌভাগ্যক্রমে) আমার পক্ষে এটা কোপআপ করা সম্ভব। আমি সব সময় নিজের দমে কাজ করে আসছি। আর এই সেম জিনিসটা আমি করবো। তবে টেনশন হচ্ছে- আমার মতো মনোবল নিয়ে কয়জন আগাতে পারবে?’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছেন- তিনি এসব ভিডিও প্রায়ই দেখেন। উনাকে যদি কিছু বলা হয়, আমি জানি না উনি কতদূর স্বীকার করেন কি না। তবে উনার প্রতি আমার কোনো রাগ বা অভিযোগ নেই। বিএনপির একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বা দেশের একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে উনার যা করার কথা- উনি ভালো করেই জানেন। আর উনি কতদূর করেছেন এটাতো আমার বলা কিছু না। আপনারা আছেন, দেশবাসী আছে; তারাই বলতে পারে যে উনি কতটুকু ভালো কাজ করেছেন।
অভিমানের সূরে তিনি বলেন, ‘এটা বাংলাদেশ; এখানে আমার দোষ দেওয়ার কিছু নাই। নতুন করে বলার কিছু নাই। আপনারা বাংলাদেশের চিত্র চুলে ধরতেছেন। বাংলাদেশ এ রকমই; এখানে জন্মেছি এভাবেই জন্মাবো; যদি পারি বের হয়ে চলে যাব। যারা পারছে না তারা এখানে থেকে যাবে।’