প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০০ এএম

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে সরকারপ্রধান পৌঁছান বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।


তিনি বলেন, “বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে অভ্যর্থনা জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।”


বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালের পথ দিয়ে মোটর শোভাযাত্রাসহ নিয়ে যাওয়া হয় ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলে।


যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এ হোটেলেই থাকবেন। হোটেলের প্রবেশ মুখে বিএনপির নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা হাতে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেন।


এর আগে বিমানবন্দরে ৮ নম্বর টার্মিনালের বাইরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা সড়কের একপাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রিয় নেতাকে ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগান দেন। এসময় হাতে হাতে জাতীয় পতাকা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিকৃতি শোভা পাচ্ছিল।


সড়কের অপর পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।


বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে টার্কিশ এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। ইস্তাবুলে আড়াই ঘণ্টা যাত্রাবিরতি শেষে সন্ধ্যয় প্রধানমন্ত্রী কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান।


গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম সফর। এর আগে গত জুন মাসে সরকারপ্রধান মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন।


কর্মসূচি: ২২ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া প্রাতরাশ সভায় যোগ দেবেন। এরপর তিনি অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।


এদিন সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক রহমান।


২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন।


এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। সেদিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।


বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের তথ্য দিয়ে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বরে তিনি রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।


এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আগের সরকারপ্রধানদের মত তারেক রহমানও বাংলায় ভাষণ দেবেন বলে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন।


রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বক্তব্যে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।”


২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।


সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক চূড়ান্ত হয়েছে।


পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।


অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট, মেটাসহ আরো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও প্রধানমন্ত্রীর সূচিতে থাকার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব।


নিউ ইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ এএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে এই নিম্নচাপের ঘোষণা দেয় আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবেই আজ দেশের বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে রাজধানীতেও আজ সকালে বৃষ্টি হয়েছে বলে অধিদপ্তরের সূত্র জানিয়েছে। 


সূত্র জানিয়েছে, আজ থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপ আকারে ভারতের অন্ধ্র ও ওডিশা উপকূলের দিকে ব্যাপক বৃষ্টি ঘটাতে পারে। এ নিম্নচাপটির ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা আপাতত দেখছেন না আবহাওয়াবিদেরা।


গতকাল রাতে দেওয়া আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় থাকা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পশ্চিম ও উত্তর–পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।


নিম্নচাপটি গতকাল রাত ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।


আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম ও উত্তর–পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর আজ বলেন, নিম্নচাপের প্রভাব ইতিমধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ করে খুলনা ও বরিশালে। আজ রাজধানীর সকালের বৃষ্টিও এর কারণেই হয়েছে।


আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীতে এক মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।


তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, আজ রাজধানীতে আরও বৃষ্টি হতে পারে। আজ থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে।


নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া আকারে এই গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে বলে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।


এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৮ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন।


প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে তাঁরা তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন। নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।


প্রধানমন্ত্রীর উপ–প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম এ কথা জানান। তিনি জানান, বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রাসহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সেখানেই অবস্থান করবেন।


প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপির নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ওই হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন হাতে মিছিল-স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।


প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে জুবাইদা রহমান ছাড়া আরও আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত; আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম; যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।


২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি-নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকটসহ বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রাধান্য পাবে।


মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩২ পিএম

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, গণহত্যায় জড়িত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর একটি মহল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, ‘খুনি হাসিনা পালিয়ে গেছে, তার নেতাকর্মীরাও পালিয়ে গেছে। কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান এখন কারা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সেখান থেকে অর্জিত অর্থ নাশকতা ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা, সেটি এখন আমাদের ভেবে দেখার সময় চলে এসেছে।’


বিরোধী দলের প্রসঙ্গ তুলে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আজকে আমাদের যারা বিরোধীদলের অবস্থানে রয়েছে, ’৭১-এ যারা বাংলাদেশকে অস্বীকার করেছিল, সেই ঘাতক-দালাল-রাজাকাররা বাংলাদেশ চায় নাই। কিন্তু যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিরোধী দলের আসন গ্রহণ করেছে, আমরা তাদের ততটুকু সম্মান দিতে চাই।


তিনি বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করবেন, তারা লং মার্চের নামে গাড়ি নিয়ে শোভাযাত্রা করছে। কিন্তু কোথাও এই ফ্যাসিবাদী খুনি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো বক্তব্য তাদের মঞ্চ থেকে আসে নাই।


তিনি বলেন, ‘একদিকে যারা বিরোধীদল, তারা আমাদের পতনের জন্য আন্দোলন করছে বলে তারা বলে। অন্যদিকে পলাতক খুনি স্বৈরাচারী হাসিনা দিল্লিতে বসে নাশকতার মাধ্যমে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের রাষ্ট্রকে, আমাদের সরকারকে অস্থিতিশীল করে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। তাহলে কি এটা প্রমাণ হয় না, তাদের মধ্যে একটা যোগসাজশ হতে পারে? আমি মনে করি, এটা হতে পারে এবং এটা হলে অবাক হওয়ার কোনো কিছু থাকবে না।’


এ সময় আর উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, বিএনপি নেতা নবী উল্লাহ নবী, রফিকুল ইসলাম রাসেলসহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ আয়োজিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনার

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৫ পিএম

ভিন্নমত ও বাক্‌স্বাধীনতা দমনে সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‌‘জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতায় বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন। সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধন করে কালাকানুন রাজনীতিক আর সাংবাদিকদের ওপর চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে হয়তো এটাই হবে অনিবার্য পরিণতির নতুন মাত্রা।’ 


আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেছেন তিনি। জামায়াতের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ এ সেমিনার আয়োজন করে। 


সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজজামান রুমান। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত ডিজাটাল নিরাপত্তা আইনে শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা, মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন শাস্তিযোগ্য অপরাধ ছিল। কুখ্যাত এই আইনের এসব ধারায় সেই সময়কার বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা মামলার আসামি হন। দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে শেখ হাসিনা সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন করেছিল। এই আইনেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীদের কটূক্তি করার অভিযোগে বহু মামলা হয়। 


প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করে। তা বিএনপি গত এপ্রিলে আইনের রূপান্তর করে। তবে ‘বাকশালীনতা’ রক্ষায় পাঁচ মাসের মাথায় সরকার আইনটি সংশোধন করতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ আমলের মতোই মানহানি, হেয়প্রতিপন্নকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে যুক্ত করতে যাচ্ছে। এতে আবারও হয়রানি, নিপীড়নের পথ খুলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে প্রবন্ধে। 


আইনের সংশোধনীর খসড়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের মানহানি হলে কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সরকারকে। কিন্তু রাষ্ট্রের মানহানি কী করলে হবে তা বলা নেই। ফলে সরকারের বিরুদ্ধে যে কোনো সমালোচনাকে রাষ্ট্রের জন্য মানহানিকর আখ্যা দিয়ে কনটেন্ট ব্লক করা হবে।


আইনের খসড়ায় মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন, গুজব, অপতথ্য, বুলিং এর যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এগুলো অস্পষ্ট। ফলে যে কোনো আইনের অপব্যবহার হতে পারে। একজন ব্যাংক লুটেরাকে লুটেরা বললে, তিনি এর বিরুদ্বে মামলা করতে পারবেন- আইনের খসড়াটি পাস হলে। সাংবাদিকতা চাপের মুখে পড়বে। 


বিদ্যমান আইন বহাল রাখার দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘চার-পাঁচ মাসে এমন কী হলো যে, সাইবার আইন সংশোধনে সরকার অস্থির হয়ে গেল? আসলে তাদেরকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভুতে ধরেছে। যা ইচ্ছা তাই বলবে এবং আইন বদলাবে, জনগণের রায় মানবে না।’


জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘মেজরিটির জোরে অতীতের অনেক সরকার কর্তৃত্ববাদী হয়েছিল। তাদের পরিণতি বর্তমান সরকার ভুলে গেছে। মেজরিটির জোরে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী হেবা আইনকে পরিবর্তন করল, গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষের রায় বাতিল করতে চেষ্টা করছে’। 


গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা আইনে মানহানি, গুজব, অসত্য, তল্লাশি, জব্দ এসব পরিভাষার যে ব্যাখ্যার মধ্যে রহস্য রাখা হয়েছে, এগুলো দিয়েই তো সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের আটকানো হবে। গুজবের কী ব্যাখ্যা? অপত্যথ্য, মিস ইনফরমেশন-ডিজইফরমেশন এগুলোর ব্যাখ্যা ব্যাপকভাবে নেই। কারণ কী? শুভংকরের ফাঁকি দিয়ে এগুলো হাতে রাখা হয়েছে, যা দিয়ে বিরোধী দলকে ধরা যায়।’ 


অস্পষ্টতা থাকলে অপব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন গোলাম পরওয়ার। আইন প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না, কে প্রয়োগ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ‘ম্যান বিহাইন্ড দ্য মেশিন’ গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শাসকের চরিত্র যদি কর্তৃত্ববাদী হয়, তাহলে আইনকে অপব্যাখ্যা, অপব্যবহার ও ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ মানুষকেও শাস্তি দেওয়া সম্ভব।


সেমিনারে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও নাজমুন্নাহার নীলু এমপি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, আমার দেশের যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, এনটিভির হেড অব নিউজ ফখরুল আলম কাঞ্চন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ প্রমুখ।


৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৩ পিএম

চাকরি থেকে পলায়নের অভিযোগে ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।


আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে।


পৃথক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, সচিবালয়ের নিরাপত্তা সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, এটিইউ এর সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে এবং ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিষয় :


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। চিরকুটগুলো গণমাধ্যমে আসার পর নেটিজেনদের একাংশ নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। লেখাগুলো মরিয়মের কিনা সেটি নিয়ে কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করছেন। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চিরকুটগুলোর ফরেনসিক ব্যাখ্যা খুঁজতে গণমাধ্যম অনলাইন যোগাযোগ করেছিল হস্তাক্ষর বিশ্লেষক ও ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট মো. মিরাজ হোসেনের সঙ্গে।


বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সাইকোলজি অ্যান্ড সাইন্সেসের পরিচালক মিরাজ হোসেন ইতিমধ্যে চিঠিগুলো দেখেছেন। প্রাথমিক বিশ্লেষণ শেষে তিনি বলেন, ‘যে চিঠগুলো পেয়েছি, তার মধ্যে একটির ওপরে তারিখ দেখতে পাচ্ছি। সেটি চলতি বছরের জুলাই মাসের ১২ তারিখ লেখা। আর এখন চলে সেপ্টেম্বর।’


তিনি বলেন, ‘কালো ও লাল রঙের লেখাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তার হাতের লেখা দুই ধরনের। যাদের লেখার প্যাটার্ন এমন, তাদের ব্যক্তিত্ব সময়ের সঙ্গে বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে।’


মিরাজ বলেন, ‘জুলাই মাসের লেখাগুলো তুলনামূলক সোজা। একটু কাটাকাটি, একটু ওভাররাইটিং আছে। এর মানে তার ভেতর বিরক্তি ভাব ছিল।’


তিনি আরও বলেন, ‘‘এবার অন্য লেখাগুলোর কথা বলি। ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী’ এই চিরকুটে লম্বা লম্বা দাগ দিয়েছেন। এভাবে টান দেওয়ার অর্থ হলো ওই সময় তিনি ইমোশনাল ছিলেন। এ সময় তার আচরণ ছিল সব ঠিকঠাক থাকতে হবে। হাতের লেখাগুলো শেষের দিকে একটু বড় থাকার অর্থ হলো সঙ্গীর প্রতি তার প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। এগুলো বোঝা যায় এই লেখার মাত্রা দেখে। যেমন ‘সম্মান করে’ শব্দগুলোর পর অতিরিক্ত মাত্রা দিয়েছেন। এগুলো আমার কাছে মনে হচ্ছে আত্মহত্যার আগের হাতের লেখা হতে পারে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আগের লেখাগুলো দেখতে হবে।’’


দুটি লেখার অমিলের বিষয়ে এই গবেষক বলেন, ‘লাল এবং কালো রঙের হাতের লেখার মধ্যে অমিল আছে। এখন প্রশ্ন হলো, এগুলো আসলেই তার লেখা কিনা, এটি শতভাগ নিশ্চিত হতে হলে তার আগের হাতের লেখা আমাদের দেখতে হবে। তবে মনে হয়েছে অন্যের লেখার সম্ভাবনা কম।’


তিনি যোগ করেন, ‘কালো রঙের হাতের লেখাগুলো দেখলে বোঝা যায়, এখানে আর্কেড কানেকশন আছে, মানে লেখাগুলো উপর থেকে কানেক্ট করা। এর অর্থ হলো তিনি তখন প্রটেকটিভ নেচারে চলে গিয়েছিলেন। মানে তার কাছে প্রটেকশন, কেয়ারিংটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এগুলো দেখে আত্মহত্যার আগের মানসিক অবস্থা বোঝা যায়। এ কারণে বলছি, কালো এবং লাল রঙের লেখায় কিছু অমিল থাকলেও আত্মহত্যা করতে যাওয়া মানুষের আচরণের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।’


এই গবেষক বলেন, ‘কালো রঙের লেখার বাম পাশের মাত্রা খেয়াল করলে দেখা যায়, লাইনগুলো একেকবার একেক জায়গা থেকে শুরু হয়েছে। অর্থাৎ তিনি খুব অগোছালো অবস্থায় ছিলেন। মানে এই সময় তিনি ডিসিপ্লিনড লাইফে ছিলেন না। আবার আগের লেখা, মানে লাল কালির লেখাগুলোর সময় কিছুটা ডিসিপ্লিন ছিলেন।’


অমিলের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে গিয়ে মিরাজ হোসেন বলেন, ‘লাল রঙের লেখার সঙ্গে কালো রঙের লেখাগুলোয় বেশ অমিল আছে। আত্মহত্যা করতে যাওয়া মানুষের আচরণের সঙ্গে এমনটা হতে পারে। যখন তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন, তখন হাতের লেখায় পরিবর্তন আসে। পুরোপুরি নিশ্চিত হতে ভুক্তভোগীর আগের লেখা যাচাই করতে হবে।’