ইশরাক হোসেন
প্রথমে পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবরকে গুজব বলা, সংবাদমাধ্যমকে দোষারোপ করা, পরে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার– ইশরাক হোসেনের এই প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব স্বাভাবিক ঘটনা নয়।
দেশে এর আগে বিতর্কের মুখে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের নজির আছে। ২০২১ সালে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য এবং একই সময়ে ফাঁস হওয়া একটি অডিও কথোপকথন নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন। দলের সাধারণ সম্পাদক সে তথ্য সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। এর মধ্যে মুরাদ হাসান ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম চলে যান এবং সেখান থেকে ইমেইলে মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠান। মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে ইশরাক হোসেনের পদক্ষেপের বড় ফারাক আছে। তবে একমাত্র মিল, তারা কেউই নিজের দোষ স্বীকার করেননি।
২০১২ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারীর গাড়িতে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। সে সময় তিনি ঘটনার দায় নিয়ে পদত্যাগের কথা বললেও নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছিলেন।
এ ধরনের পদত্যাগের রাজনৈতিক তাৎপর্য নির্ভর করে অভিযোগের প্রকৃতি, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী তদন্তের ওপর। এদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে দুটি পর্ব শেষ হয়েছে। একটি পর্ব বাকি থেকে গেছে। আওয়ামী লীগের ওই দুই নেতা মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছেন।
ইশরাক হোসেন এদের ঠিক উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য ভবিষ্যতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত এবং অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তাঁর পক্ষে কাজ করবেন– এমন কথাও বলেছেন।
ইশরাকের গত দুদিনের ধারাবাহিক কথাবার্তায় তিনটি প্রবণতা দেখা যায়। নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন। ঘটনার ব্যাখ্যায় নিজের বয়ান ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন এবং পদত্যাগের মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচনী এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে দলের কাছে একটি বার্তা হিসেবে সামনে এনেছেন।
সংকটের মুখে একজন রাজনীতিক কী বলেন, কীভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং নিজের সিদ্ধান্তের দায় কতটা গ্রহণ করেন– এগুলো তাঁর নেতৃত্বের ধরন ও রাজনৈতিক চরিত্র বুঝতে সাহায্য করে। সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনাটি এ বিবেচনায় একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হতে পারে।
গত শনিবার ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর উপস্থিতির ভিডিও তিনি নিজেই প্রকাশ করেন। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেন। এর মাঝের সময়টায় তাঁর কর্মকাণ্ডকে পদত্যাগের নির্দেশের খবরের ফলে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে সমর্থকদের মনোবল অক্ষুণ্ন রাখার উদ্যোগ হিসেবে দেখলে ভুল হবে না। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সমর্থকদের উপস্থিতিও এমন সাক্ষ্য দিচ্ছে।
তবে বাস্তব সমস্যা হচ্ছে, প্রথমে একটি সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে, পরে সেই সংবাদের মূল বার্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করায় ইশরাকের নিজের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। ভবিষ্যতে তাঁর বক্তব্যের নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণে এই পর্বটি প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেছেন, গেণ্ডারিয়ার অভিযানে তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়দের উদ্যোগে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এবং আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, অস্ত্র হাতে নিয়ে তিনি ভুল করেননি।
ইশরাক অভিযানের উদ্দেশ্য সামনে এনেছেন, কিন্তু অস্ত্র হাতে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি বিতর্কের দায় স্বীকার করেননি। ব্যাখ্যায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমের গুরুত্ব এবং নিজের নিরাপত্তাকে সামনে এনেছেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আত্মপক্ষ সমর্থনের পরিচিত কৌশল। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আচরণকে বৃহত্তর কোনো জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করা। এর মাধ্যমে নিজের কর্মকাণ্ডের নৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা থাকে। কিন্তু জনস্বার্থের উদ্দেশ্য থাকলেই যে সব কিছু গ্রহণযোগ্য হয়ে যাবে, তা ঠিক না।
একই উদ্দেশ্যে ইশরাক গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, অস্ত্র হাতে থাকার দৃশ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে চলে গেছে।
আসলে ইশরাক মাদকবিরোধী উদ্যোগের পক্ষে যে যুক্তি তুলে ধরেছেন, তা বিতর্কের সব প্রশ্নের উত্তর দেয় না। তাই তাঁর অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া, পুলিশের ভূমিকা এবং অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করাই হবে যথাযথ পথ।
ইশরাকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তাঁর পরবর্তী কাজের ওপর। তিনি যদি মাদকবিরোধী উদ্যোগকে আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন এবং নিজের আচরণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের স্বচ্ছ জবাব দেন, তাহলে বর্তমান বিতর্ক থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান নেওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রয়োজনে নিজের আচরণ পর্যালোচনা করা, জবাবদিহি মেনে নেওয়া এবং ক্ষমতার সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকাও জরুরি। ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনা তাঁকে সেই পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেছেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে আরও উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন। মাদকবিরোধী কর্মসূচি জোরদার করা এবং সংগঠনের কার্যক্রম চালানোর কথাও বলেছেন। বলা যায়, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি পদত্যাগকে রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে নয়, বরং দায়িত্ব পালনের নতুন পরিসর হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। এটা করতে গিয়ে তিনি তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আপাতত মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে উপস্থাপন করেছেন।
এখন দেখার বিষয়, ইশরাক কি নিজের উদ্দেশ্যের প্রতি দৃঢ় থাকার পাশাপাশি সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিতে পারবেন? তিনি কি মাদকবিরোধী কাজকে ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও ক্ষমতা প্রদর্শনের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা, আইনের শাসন এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারবেন?
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পদত্যাগপত্রও জমা দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পাশাপাশি জানা গেছে, আজই প্রকাশিত হতে পারে প্রজ্ঞাপন।
এর আগে, আজ বেলা ২টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
নিয়ম অনুযায়ী, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সেটি রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেন। পরে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন আহমেদ আযম খান। আর প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ইশরাক হোসেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৬ জন পূর্ণ মন্ত্রী রয়েছেন।
এছাড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ২৪ জন। ইশরাকের পদত্যাগের পর প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৩ জনে।
এর আগে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্রহাতে এক মাদকবিরোধী অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া
ফৌজদারি অপরাধ ঢাকতেই ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) এই মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, একজন এমপি বা মন্ত্রীকে যখন অস্ত্র নিয়ে মাদক নির্মূলে নামতে হয়, তার মানে দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাংশন করছে না। দেশ এখন নো-গভর্নমেন্ট সিচুয়েশনে আছে।
তিনি বলেন, ইশরাকের সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে আরও যারা ছিল, তাদের অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে কি না- তা খতিয়ে দেখতে হবে। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে যে ছিল, তার বিষয়েও খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে যখন সুইপারের কাজ দেখতে হয়, তার মানে এর মাঝে যারা দায়িত্বশীল রয়েছেন, তারা কেউ কাজ করছেন না।
সৌদিতে বাংলাদেশি দুই নাগরিকের শিরচ্ছেদের ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলেন মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যর্থতার দায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে নিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিভিন্ন জায়গায় তার দলের নেতাকর্মীরা হামলা ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
ইশরাক হোসেনের প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, ইশরাক ভাই নতুনভাবে রাজনীতিতে নেমেছেন। তার ভালো উদ্দেশ্য ছিল মাদকের বিস্তার বন্ধ করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষ করেন, আরেকজনকে সেই পাপের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এটা আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বললেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভালো নেই। গত তিন-চার মাসে বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, তাদের ক্ষোভ ও কষ্টের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পাটওয়ারী বলেন, সবকিছু করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ কষ্ট না পান বা আহত বোধ না করেন।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কথা বলার কারণে তাকে যেন শাহবাগী বা হিন্দুদের নতুন সংস্করণ বলে আখ্যা দেওয়া না হয়। ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে তাদের উদ্বেগ ও অভিযোগ শোনারও আহ্বান জানান তিনি।
নরসিংদী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের তামজীদ হোসেনকে সভাপতি ও মোহাম্মদ সিয়ামকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির অন্যান্যরা হলেন সিনিয়র সহ সভাপতি পারভেজ মাহমুদ। সহ-সভাপতি আহসান হাবিব শান্ত, আবদুল্লাহ আল মুঈদ,সাগর সাহা, তানজিল আহমেদ, মো: ইশতিয়াক হোসেন, মো: কাজী রিফাত উদ্দীন, সমুদ্র খন্দকার। সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক তানভীর সরকার সিয়াম। যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার আজীম দীপ্ত, মোঃ উৎস খান, আমিনুল হক পিয়াস, মোঃ রায়হান, সানডু কুমার, মাইশা আক্তার, আবদুল্লা, মহিদুর রহমান মাহি, সহ - সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম। সাংগঠনিক সম্পাদক মমো সূত্র ধর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান ও আতিকুল রহমান। ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা সাজিয়া আক্তার প্রীতি সহ ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা সাদিয়া আক্তার, প্রচার সম্পাদক রবিউল আলম রুবিন, সহ-প্রচার সম্পাদক ইয়াসিন, দপ্তর সম্পাদক তানভীর হাসান শান্ত, সহ-দপ্তর সম্পাদক আশফাক কবির টুটুল ও মোঃ মেহরাজ, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইবাদুর রহমান মেরাজ সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহিম।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশেষ কারণে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেন, তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত দল চায়নি; বরং দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। পদত্যাগের পর মাদকের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসীভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে যাওয়ার পথে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানটা করতে গিয়েই আজকের এই পরিস্থিতি। যেখানে আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। দল চায়নি, দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেটা আমি বক্তব্যে বলবো।’
মাদকের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ইশরাক আরও বলেন, ‘এখন তো আমি আরও অ্যাগ্রেসিভলি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো। যুদ্ধ করবো আমি।’
ইশরাকের বক্তব্যে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত তার দলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে পদত্যাগের পেছনে বিশেষ কারণ কী এবং এ বিষয়ে দলের সঙ্গে তার কী ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা তিনি পরবর্তী বক্তব্যে বিস্তারিত জানাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।
ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেও মাদকের বিরুদ্ধে তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসছে না; বরং এ বিষয়ে আরও কঠোর ও আগ্রাসী ভূমিকা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
ইশরাক হোসেন
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আজ সোমবার দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ইশরাক হোসেন।
পোস্টে ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’
ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’
ফেসবুকে প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!
গত শনিবার ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গেণ্ডারিয়া এলাকায় ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং গতকাল দিনভর তা আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল। এ নিয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং সরকারের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়। এর আগে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (স্বাস্থ্যকেন্দ্র) হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেন বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদত্যাগসংক্রান্ত সংবিধানের ৫৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করতে পারবেন এবং মন্ত্রী অনুরোধ রাখতে অসমর্থ হলে প্রধানমন্ত্রী তাকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে প্রতিমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর তাকে একটি খসড়া পদত্যাগপত্র সরবরাহ করা হয়।
গতকাল সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। তবে সূত্র জানায়, বৈঠক শেষে আবারও ইশরাক হোসেনকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কী আলোচনা হয়, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর আগে এক অডিও বার্তায় বলেন, এ ধরনের সংবাদ কোনো উড়ো খবর হয়ে আসবে না। অবশ্যই আনুষ্ঠানিক প্রেস কনফারেন্স করে বলব এবং আপনারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
একের পর এক বিতর্কে বিএনপিতে অস্বস্তি
বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখানোর ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভারও। কারণ, সরকারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণ পুরো মন্ত্রিসভাকে বিব্রত করেছে।
বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে দলীয় রাজনীতিতে আসা ইশরাক হোসেন নানা সময়ে বিতর্কের জন্ম দেন। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিউইয়র্কে মারা যাওয়ার পর ইশরাক হোসেন তার বাবার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ ও রাজধানীর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরের বছর ৩৩ বছর বয়সে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে বিএনপির তরুণ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ওই নির্বাচনে অবশ্য হেরে যান বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী ইশরাক হোসেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীর রাজনীতিতে সামনের সারিতে ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি শপথ নিতে পারেননি। এ নিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ান ইশরাক। ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত প্রধান ফটকে তালা দিয়ে নগর ভবন অবরোধ করে রাখেন ৪০ দিন। এতে নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা ঘিরে আন্দোলনও করেন ইশরাক।
আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছি: ইশরাক
গতকাল দিনের বেলায় দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, একটি অস্থায়ী মাদক আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ ব্যক্তি হইচই করে তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। হামলার শঙ্কায় তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিবৃতিতে স্থানীয়ভাবে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আগে নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবল সংকট দূর করার বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলেও দাবি তার।
তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ইশরাক আগে পুলিশের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও গত শনিবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি নিজেই বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে আসতে বলেন।
ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা গত শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে জানাননি। তারা পরে বিষয়টি জেনেছেন। ফলে সাধারণভাবে মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হলেও নির্দিষ্ট এ অভিযান বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে আগে থেকে সমন্বয় ছিল কি না–সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে।
ইশরাকের ঘটনা ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয়: জামায়াত
ইশরাক হোসেন মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয় বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটেছে। এই স্বল্প সময়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা কৃত্রিম তৎপরতা শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ইশরাক হোসেন গেণ্ডারিয়া এলাকায় পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ।’