স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ শিগগির সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


এক সাংবাদিক জানতে চান, অগাস্ট ঘিরে আওয়ামী লীগ তৎপর হয়ে উঠতে পারে কি না? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগের এত মুরোদ আছে বলে তো আমার মনে হয় না।


“একে তো নিষিদ্ধ ঘোষিত দল, মাফিয়া শক্তি; তারা মাঝে-মধ্যে বিদেশ থেকে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে, এর বেশি তৎপরতা তো দেখি না।”


গণঅভ্যুত্থানের পর দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তোলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। ওই দাবির মুখে ২০২৫ সালের ১২ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।


সম্প্রতি দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ আসে শেখ হাসিনার এক বক্তব্যকে ঘিরে। গেল মাসে রয়টার্সে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ তিনি দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তার সঙ্গে দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ ফিরবেন বলেও আভাস দেন শেখ হাসিনা।


এর মধ্যে রোববার ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর প্রথমবার কোনো অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হতে যাচ্ছেন।


আগামী ৫ অগাস্ট নয়া দিল্লিতে ওই ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে; যে দিনটিতে ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে কি না?


জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, “বিষয়টি এমন নয়। পুলিশ বাহিনীর মধ্যে একটা সবসময় চালু থাকে আনঅ্যাটেন্ডেন্ট কোন কিছু না থাকে, কোন ভ্যাহিকেল না রাখে।


“টিমের পুরো সদস্য যেন এক সাথে চা না খেতে যায়, গাড়ি রেখে সবাই যেন বিশ্রাম না করে, সবাই যেন সতর্ক থাকে; এটা নরমাল প্রাকটিস।“


সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জামিনে মুক্ত হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিষয়টায় জানার পরে- আমাদের নিয়োজিত যে ল ফার্ম আছে, তাদেরকে বিষয়টা জানিয়েছি। ইউএই অ্যাম্বাসেডরের সাথে আমাদের সচিব মহোদয় কথা বলেছেন। উনার (বেনজীর) সহধর্মিণী তারা হয়তো আছেন।


“কী কী শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে- ইউএই না ছাড়ার শর্ত তো একটা শুনেছি, অন্যান্য শর্ত কী আছে-সেটা সার্টিফাইড কপি তোলার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। আর আমাদের যে ল ফার্ম নিয়োজিত আছে তার বিষয়ে রিপ্যাট্রিয়েশনের জন্য, যা যা কাগজপত্র আমরা পাঠাই, সেগুলো ওখানে আদালতে সাবমিট করার জন্য; সেই ল ফার্মকে আমরা অনুরোধ করেছি যেন ইমিডিয়েটলি তার জামিন বাতিলের ব্যবস্থা করে, তারা আদালতে পিটিশন দাখিল করে।”


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একসময়েরি আইনের ছাত্র সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আদালতের বিষয়ে পুরোপুরি না জেনে আমি বক্তব্য দিতে চাই না। আমাদের ল ফার্মকে আমরা অনুরোধ করেছি সার্টিফাইড কপি তুলে কথা বলবে এবং আমরা ইনস্ট্রাকশন দিয়েছি যেন তার জামিন বাতিলের জন্য তারা পিটিশন দেয়।


“কারণ তার কাছে অন্যান্য দেশেরও পাসপোর্ট থাকতে পারে, সেটা আমাদের সন্দেহ। কিন্তু প্রক্রিয়া তো চলছে! কিন্তু ওইখানে তার আদালতে যাওয়ার হয়তো একটা অধিকার আছে, সেজন্য সে আদালতে গিয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়াতেই আমরা ফেরত আনার চেষ্টা করছি।”


উল্টা রথযাত্রার দিন গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ।


এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রথযাত্রা এবং উল্টো রথযাত্রা-এই দুইটাকে আমরা নিরাপদ করার জন্য সমন্বিত প্রয়াস নিয়েছিলাম। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ খুব সমন্বিত প্রচেষ্টা নিয়েছিল। কোনো অসুবিধা হয় নাই এবং শান্তিপূর্ণভাবে সেটা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


“তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে উল্টো রথযাত্রার দিনে কমলাপুরের ওইদিকে, মতিঝিলের ওইদিকে একটা মেট্রো রেলের পিলারের নিচে একটা বোমা সদৃশ জিনিস পাওয়া যায়- একটা ছাতার মধ্যে…


“এতে করে খুব শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নাই। কোনো পক্ষ হয়তো চেষ্টা করেছিল যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কোনো কিছু করা যায় কি না।”


এরপরে আশুলিয়াতে বোমা উদ্ধার হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সেটা একই কায়দায় উদ্ধার করে আমরা বিস্ফোরণ করেছি। এই ঘটনাগুলোর যোগসূত্র আছে কি না, সেটা তদন্ত করতে বলেছি আমরা, তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।


“তবে আগের সময়ের তুলনায়, যদি আমরা তুলনামূলক বিবরণী দেই-একই সময়ে এই বিষয়গুলো কীরকম হয়েছে, তার তুলনায় এটা অনেকটাই কম। তবে আমরা সবসময় সতর্ক আছি এবং আমাদের এই জাতীয় বিষয়গুলো যারা অ্যাড্রেস করে আরকি-আমাদের উগ্রবাদী তৎপরতা বা এই জাতীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট করার যে সমস্ত তৎপরতা, এগুলো যারা মনিটর করে-আমাদের স্পেশাল টিম আছে, তারা এ ব্যাপারে সতর্ক আছে।”


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে এসে শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন বলেন, “সার্জিও গোর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কল অনের পরেই নিজেই তো স্টেটমেন্ট দিয়েছেন যে, তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে আশাবাদী এবং আস্থাশীল।


“এবং যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছেন এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অগ্রগতি সাধিত হবে-তিনি আশা প্রকাশ করেছেন; এটা তার মুখেরই কথা।”




বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:১৮ পিএম

যান্ত্রিক ত্রুটির সমাধান শেষে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আজ বিকেল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ফলে আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে গ্যাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলেও জানান তিনি।  বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।


এফএসআরইউ মেরামত বিকেলের মধ্যে শেষ হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিকেল থেকে গ্যাস সঞ্চালন আবার শুরু হবে। সঞ্চালন শুরু হলে ধীরে ধীরে আমাদের যেখানে প্রেসার কমে গেছে, প্রেসারটা উন্নত হবে এবং মোটামুটি যে সমস্যার মধ্যে পড়েছি, সে সমস্যা উৎরে যেতে পারবো।  


গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত দিন লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাভাবিক হতে দুই-তিন দিন তো লাগবে। মিনিমাম দু-তিনদিন লাগবে। এটা (এফএসআরইউ) বন্ধ হওয়ার আগে যেমন ছিল, তেমনই হবে।


গ্যাস সংকটের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর লোডশেডিং হচ্ছে? এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবে গ্যাস না থাকলে মানুষও পাবে না, আমার পাওয়ার স্টেশনও পাবে না। এখন আমার যে পাওয়ার স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে, ওগুলা আবার চালু করবো।  


আপনাদের অনেক কাজের প্রশংসা হচ্ছে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্যাস নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে প্রচুর। এটা নিয়ে সিরিয়াসলি কী চিন্তা করছেন আপনারা? এ বিষয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, যেটা হয়েছে, সেটা কি মানুষের হাতের মধ্যে আছে? 


বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল নিয়ে কথা হচ্ছে- এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ভূতুড়ে বিল, এটা যখন আমরা বলি, বিলগুলো নিয়ে আসেন, তখন তো বিল নিয়ে আসে না কেউ আমাদের কাছে।  


তিনি বলেন, জুন থেকে জুলাই, জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছি আমরা। দুই নম্বর, মার্চ মাসে যে গরম ছিল, জুন মাসে সে গরম ছিল না। এখন আমরা কিছুদিন আগে আপনাদেরই এক সাংবাদিক ফেসবুকে দিয়েছিলেন যে তার বিল ছিল সাড়ে ৩ হাজার টাকা, ৭ হাজার টাকা আসছে। আমার লোক যে, পরীক্ষা করে দেখে আসছে, উনি দুটি এসি চালান। উনার ফ্রিজ আছে। ব্লেন্ডার চালান উনি। এত কিছু চালানোর পরেও ৭ হাজার টাকা যদি বেশি বিদ্যুতের বিল হয়, আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোথাও ৭ হাজার টাকা দিয়ে এরকম এত কিছু চালানো যায়?


ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে মিটিং হয়েছে। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে রুটিন মিটিং হয়েছে। যেহেতু আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আমাদের অনেক স্বার্থের ব্যাপার আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 


আগের মতো ডিজেল চেয়েছেন কি না ভারত থেকে? এ বিষয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ভারতের সঙ্গে একটা পাইপলাইন আছে, সেখান থেকে ডিজেল আসে, তাদের বলেছি আরও বেশি দেওয়ার জন্য। 


শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কি না? জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেন, আমি শেখ হাসিনা সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না, উনি তো অনেক কিছুই করেন। দেশটা ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন উনি। দেশটাকে শেষ করে দিয়েছেন।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪৭ পিএম

রাজধানীর ইংলিশ রোডের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সরকারি অফিস চলাকালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অভিযোগে এক সরকারি চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল ও চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মইনুল হাসান চিশতীকে রোগী দেখার সময় হাতেনাতে আটক করেন তিনি।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় অফিস চলাকালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়ম করে আসার অভিযোগে ডা. মইনুল হাসান চিশতীর বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিল এবং চাকরি থেকে বরখাস্তের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকেও নির্দেশ দেন তিনি।


অভিযানকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতির (রেজিগনেশন) কোনো কাগজপত্র বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংরক্ষণ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিকের ম্যানেজারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


তিনি বলেন, একজন সরকারি চিকিৎসক চাকরি পরিবর্তন বা অন্য কোথাও কাজ করতে চাইলে তার রেজিগনেশন লেটার ও এনওসি বাধ্যতামূলক। কেবল চিকিৎসকের কথার ভিত্তিতে তাকে রোগী দেখার সুযোগ দেওয়া আইনসম্মত নয়। লাভের আশায় এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


এ সময় ম্যানেজার নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ না করা তাদের ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।


অভিযান শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক রেখে জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। অথচ কেউ যদি সরকারি দায়িত্ব ফেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অনিয়মে জড়িত চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠান—উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রাম আসছেন প্রধানমন্ত্রী

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শন


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩৫ পিএম

এক দিনের সরকারি সফরে আগামী ৯ আগস্ট (রোববার) কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এছাড়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, কবর জিয়ারত এবং একটি সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।


দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণ করবেন।


এরপর দুপুর ২টায় ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।


বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.)-এর কবর জিয়ারত করবেন। পরে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।


দিনের শেষ কর্মসূচিতে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।


সফর শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখান থেকে বিমানযোগে ঢাকায় ফিরবেন। রাত ১০টা ৪০ মিনিটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।


বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৯ পিএম

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে সেদিন বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।


ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। আর ভোট গ্রহণ ২০ আগস্ট।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরকারি দলের দেওয়া একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। এ ক্ষেত্রে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয় না। একক প্রার্থী থাকলে ১৮ আগস্ট নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে যাবেন। 


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।


প্রার্থীর সংখ্যা একজনের বেশি না হলে তাঁকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশনকক্ষে বিধিমালা অনুযায়ী ভোট হবে।


সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় হবে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাইয়ের স্থান। ভোটের স্থান হবে সংসদের অধিবেশনকক্ষ।


রাষ্ট্রপতির পদ থেকে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ইসিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হয়।



  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩২ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি। এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।


বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আগামী প্রজন্মের সামনে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ উন্মোচ করবে। এই জাদুঘর আমাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ আর সাহসকে জাতীয় স্মৃতিতে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।’


তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনটি দেশের জন্য যুগান্তকারী মাইলফলক। সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আমলে গুম-খুনকে স্বাভাবিক করে ফেলা হয়েছিল।’


তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাস স্বাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ চক্র দেশে গণতান্ত্রিক শাসন মেনে নিতে পারেনি।’


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপদেষ্টা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৮ এএম

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। 


বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়, পলাতক অভিযুক্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ (বুধবার) বিকেলে নয়া দিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। যেখানে তিনি এবং অনুচররা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন।


বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের এ অনুষ্ঠানের প্রভাব নিয়ে আগে থেকে ভারত সরকারের কাছে উদ্বেগ জানানোর পরও তা হতে দেওয়ায় গভীর ক্ষোভ জানাচ্ছে ঢাকা।


জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষকীতে বুধবার বিকালে দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।

এতে বলা হয়, আত্মগোপনে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করে যে, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্গঠনে এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই আলাপচারিতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি মারাত্মক অপমান। ফ্যাসিবাদী শাসন দ্বারা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক লোকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা পলাতক দোষী সাব্যস্ত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তার অপরাধী সহযোগীদের ইতিহাসের জোয়ারকে বিপরীত করার একটি বৃথা প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং এখনও করছে। প্রবাসসংবাদ


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের জনগণ দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে যে, জাতি আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনও ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র হবে না। সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনও স্থান পাবে না।


এতে আরও বলা হয়, সার্বভৌম সাম্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দূরদর্শী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিপরীতে, যেকোনও অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতির জন্য গভীরভাবে ক্ষতিকর এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশের জন্যও ক্ষতিকর।