নজরুলবর্ষ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫২ এএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কর্ম ও দর্শনের ব্যাপক প্রসারের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। 


আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বছরব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে তিনি কবি নজরুলের সাহিত্য ও মূল্যবোধকে সরকারি অফিসের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।


জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম এই ভূখণ্ডে না হলেও তাঁর হৃদয়ের বিশাল অংশ জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। কবিও এ দেশের মানুষের গভীর ভালোবাসায় সিক্ত। 


১৯১৪ সালে কিশোর বয়সে প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহের ত্রিশালে এসেছিলেন তিনি। কবির স্মৃতি বিজড়িত সেই ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সরকার। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কালকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‌‌‘বিদ্রোহী কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, তারুণ্যের কবি, বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কবি, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কবির কলম ছিল শানিত অস্ত্র। প্রেম, প্রকৃতি থেকে শুরু করে ইসলামী মূল্যবোধ কিংবা শ্যামা সংগীত প্রতিটি ক্ষেত্রেই নজরুল আমাদের শুদ্ধ প্রকাশের নামান্তর।’


তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবন, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য তাঁর রচনার মধ্যে মহিমাময় সৌন্দর্য নিয়ে বাক্সময় হয়েছে। কবি নজরুলের সৃষ্টিশীলতার মধ্যে আতিথ্য রয়েছে সকল কালের, সকল মানুষের। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি আমাদের অনুপ্রেরনা। তাঁর প্রাসঙ্গিকতা এবং প্রয়োজন ফুরানোর নয়।’


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পীদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আবদ্ধ ঘরে বসে এই কর্মসূচি উদ্বোধন করাটা তাঁর প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি। আমন্ত্রণপত্রে বিভাগীয় কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকায় তিনি কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।


তিনি বলেন, এর পরিবর্তে আমন্ত্রণ পত্রে যদি লেখা থাকতো ‘সকল বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে নজরুল গবেষক, নজরুল শিল্পী, নজরুলপ্রেমীগণ ভার্চুয়ালী সংযুক্ত থাকবেন’ সেটি বরং বেশি যৌক্তিক এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো বলে আমার বিশ্বাস।’


তিনি আরও যোগ করেন, আমার এই উপলব্ধির কারণ হলো, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যদি বলা হয় ‘নজরুল গবেষক নজরুল শিল্পী নজরুলপ্রেমী মানুষেরা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’ এটি যেমন অনুষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়না ঠিক একইভাবে একই কারণে নজরুল বর্ষ উদযাপনে ‘সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’ কথাটিও উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হওয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।


বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মকে নজরুলের নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’ কিংবা ‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে’ কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘এই ধরনের ছড়া বা কবিতা বর্তমান প্রজন্মের জন্য আশা জাগানিয়া আলোকবর্তিকা।’


তিনি জোর দিয়ে বলেন, কবির সাহিত্যকর্ম যেন কেবল মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের চার দেয়ালে আটকে না থাকে। কবি নজরুলের উক্তি, আমি গেলে যারা আমার পতাকা ধরিবে বিপুল বলে- সেই সে অগ্রপথিকের দল এসো এসো পথতলে’ এই চেতনা ধারণ করে তাঁর জীবনবোধ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।


নজরুল বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নানা বিশেষণের বাইরে কবিকে ‘বাংলাদেশের মন’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম যেমন বলেন, গাহি সাম্যের গান, সেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যবধান, সেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টান।


অপশক্তি বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের মানুষ আবহমান কাল ধরেই মিলেমিশে থাকতে অভ্যস্ত। বর্তমান সরকারও এমন এক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিরাপদে বাস করবে এবং কোনো প্রাণীই হিংস্রতার শিকার হবে না।


‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সাহিত্য সম্মেলন, সেমিনার, সংগীতের আসর, নাট্যোৎসবসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে কবির সৃষ্টিকে জনপরিসরে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ডিজিটাল মাধ্যমে কবির সাহিত্যকর্ম সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারের সুযোগকেও কাজে লাগানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।


সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্‌যাপনের মাধ্যমে দেশে বিদেশে জাতীয় কবির সৃষ্টিকর্ম নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে।’




প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩১ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন। আজ সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সোয়া ৬টা) তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটটি জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান সহ টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে, রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।


প্রেস উইং জানিয়েছে, তারেক রহমান জাপানের নারিতা বিমানবন্দরে পৌঁছে জাপানি নেত্রী তাকাইচির কার্যালয়ে তার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এরপর যৌথ সংবাদ  বিবৃতি প্রকাশ করা হবে এবং জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা থাকবে।


সরকারি এই সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাপানের বড় কোম্পানি ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। 


তিনি ‘জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আজ সোমবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।


তিনি বলেন, এই সফর বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে। এছাড়া বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গতি ত্বরান্বিত করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।


যেসব বিষয় গুরুত্ব পাবে


আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের’ (ইপিএ) কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করা। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে।


প্রধানমন্ত্রী ‘জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরাম’-এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। তিনি জাপানি ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।


সফরসূচিতে কী থাকছে


তার সফরসূচিতে ‘জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ’ এবং ‘জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের’ চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।


এছাড়া, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।


সফরসূচির মধ্যে রয়েছে চিবা প্রিফেকচারের ফুত্তসু সিটিতে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন, এবং নাগোয়াতে ইউনিক্লো’র সদর দপ্তর ও টয়োটা কারখানা পরিদর্শন।


পররাষ্ট্রসচিব জানান, উভয় পক্ষ কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও সহযোগিতা চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা করছে।


তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই সফরকালে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।’ বর্তমানে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে তিন থেকে চারটি এই সফরকালে স্বাক্ষরিত হতে পারে। এছাড়া শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও আলাদা চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে।


এছাড়া অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাপানি সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।


উভয় পক্ষের মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।


জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গত এপ্রিলে তারেক রহমান একটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায়ই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই বৈঠকে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল।


কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে


এই সফরের প্রাক্কালে, ২০২৬-২০৩১ সময়কালে ১২টি অগ্রাধিকার খাতের জন্য প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু উদ্যোগ ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্টের (বিআইজি-বি)’ সঙ্গে যুক্ত।


প্রস্তাবিত এই প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে—পরিবহন ও নগর সংযোগের জন্য ৩.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মাতারবাড়িসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের জন্য ৩.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, উৎপাদন শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর ও অটোমোবাইল খাতের জন্য ১.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের জন্য ১.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামোর জন্য ৯৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।


এছাড়া কৃষি, ওষুধ শিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি (নীল অর্থনীতি), পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং অন্যান্য খাতের জন্য আরও ৩.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি’-এর চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অন্য সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।


১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। জাপানি সহায়তা ঢাকা মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।


রিয়াদ-দাম্মামগামী বিমানের ফ্লাইট স্থগিত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম

ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আজ রোববার বিমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে অব্যাহত হামলার মধ্যে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। 


এর আগে ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দাম্মামগামী এবং ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছিল এই বিমান সংস্থা। 


এদিকে যাত্রীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি। ৪ নভেম্বর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা-মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করছে।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা সৌদি আরবে যাওয়া কিংবা বাংলাদেশে ফেরার জন্য জেদ্দা বা মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারেন।


ফ্লাইট পরিচালনা ও সময়সূচি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পরে জানানো হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের বিমানের নিকটস্থ বিক্রয় কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে।


সোমবার ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১১ পিএম

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আজ রোববার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 


বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে নাম হবে ‘অর্ণব’। তবে আরব সাগরে সক্রিয় আরেকটি লঘুচাপ আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে সেটির নাম হবে ‘অর্ণব’।


আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের দিকে আসার আশঙ্কা খুব কম; অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। যদিও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি আজ রোববার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি দক্ষিণপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরও ঘণীভূত হয়ে আগামীকাল সোমবার পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে বুধবার নাগাদ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।


গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২৭ অক্টোবর থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ২৯ অক্টোবর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক প্যানেলের সদস্য দেশগুলো হলো– বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। এসব দেশের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাব করা, যার অর্থ সাগর। তবে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সক্রিয় দুটি লঘুচাপের মধ্যে যেটি আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে, সেটিই এই নাম পাবে।


এর পরের নাম ‘মুরাসু’, যা প্রস্তাব করেছে ভারত। তামিল ভাষায় মুরাসু বলতে ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কাকে বোঝায়। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের উদ্দেশ্য পূর্বাভাস, সতর্কবার্তা ও জনসাধারণের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ করা। একই সময়ে একাধিক ঘূর্ণিঝড় সক্রিয় থাকলে নামের মাধ্যমে সেগুলো আলাদা করে শনাক্ত করা যায়।


গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।


এদিকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ রোববার চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। 


আগামীকাল সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।


মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।


বুধবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।


বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪০ পিএম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে এর অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 


এ ব্যাপারে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী সংক্রান্ত যে রায় জাস্টিস খায়রুল হক দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত সেটা বাতিল করেছে। আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।


মন্ত্রী বলেন, আইনসভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আবার প্রতিস্থাপন করতে হবে। এটা আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। এটাই আমাদের আন্দোলন ছিল যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা। এটা হবে ইনশাল্লাহ। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এটা প্রতিস্থাপন করা হবে।


সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চান- সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যাবর্তন চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকার ভারত সরকারকে কয়েক দফায় চিঠি পাঠিয়েছে। এটা আমরাও শুনছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ডিসেম্বরে আসতে চান। আমরা তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুসারে আমাদের নেইবারিং কান্ট্রিকে, পার্শ্ববর্তী দেশকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতেও ফ্যাসিবাদী শক্তির এ রকম অপপ্রয়াস প্রথম থেকেই চালু ছিল। তবে, পলাতক শক্তির কোন অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না।


তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। সেটা তারা তাদের স্ট্রাটেজি অনুসারে করতেই পারে। তবে আমরা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেব না। গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে তারা বাংলাদেশে অপতৎপরতা চালাবে এটা হতে দেওয়া হবে। 


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৯ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৪৯ জন। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৩৯ জন । এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বচ্চ ১৪৮ জন,  আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। 


বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৮৯৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ হাজার ২৬৮ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।


গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ১৫৩ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২১৭ জন, খুলনায় ২৯৭ জন, বরিশালে ২১১ জন, রাজশাহীতে ২২৪ জন, ময়মনসিংহে ১৫৫ জন এবং রংপুরে ৮২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৭ পিএম

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ২২৭ জনে। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৩ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৪ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।


গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ১৬৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৪০০ জন।


বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৫৬ জন রোগী এসেছেন।