প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম

দেশে নিশ্চিত হামে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে দুজন। এ নিয়ে হাম-সংক্রান্ত রোগে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬৭ জনে। শনিবার (৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।


এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে দুজন এবং সন্দেহজনক হামে দুজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৮ এবং সন্দেহজনক হাম রোগে ৭৬৯ জনের প্রাণ গেছে।


এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৯৯ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৭৭ জন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে এক লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন।




শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ডা. জুবাইদা রহমান । ছবি: পিএমও

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১২ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ঐতিহ্য, পেশাগত সক্ষমতা ও মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ভবিষ্যতে চিকিৎসকদের কল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস করি।


ড্যাব দেশের চিকিৎসক সমাজের মানবিকতা ও পেশাগত উৎকর্ষের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলেও মন্তব্য করেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।


আজ শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে ড্যাবের সব সদস্য ও দেশের চিকিৎসক সমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি।


ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ দেশের চিকিৎসক সমাজের মানবিকতা ও পেশাগত উৎকর্ষতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’


তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ঐতিহ্য, পেশাগত সক্ষমতা ও মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও চিকিৎসকদের কল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ড্যাবের ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সংগঠনের সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।


এর আগে সকালে এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন।


পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।


ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন।


ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:২৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মশা দমনে নতুন একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চালু হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৬ লাখ পুরুষ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব মশার শরীরে থাকে ‘ওলবাকিয়া’ নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া। পুরুষ মশাগুলো মানুষকে কামড়ায় না। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।


এসব পুরুষ মশা যখন এই ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন স্ত্রী মশার ডিম আর ফুটে না। ফলে নতুন মশার জন্ম বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ধীরে ধীরে মশার সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় প্রায় ৬ লাখ মশা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ২৫ জন গ্রাহক এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। প্রত্যেকে ১৬ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৫০০টি করে পুরুষ মশা পাচ্ছেন।


মন্টগোমারি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে রোগ ছড়ানো মশার বংশবিস্তার ও সক্রিয় থাকার সময়ও বাড়ছে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প খুঁজে বের করা প্রয়োজন।


এই পদ্ধতি মূলত এশিয়ান টাইগার মশার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। মশাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রজাতি নয়। তবে এটি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।


মন্টগোমারি জানান, কীটনাশকের ব্যবহার কমানোই তার উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তার কয়েকজন গ্রাহকও পরিবার ও পোষা প্রাণীর ওপর রাসায়নিকের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই তারা মশা নিয়ন্ত্রণে এই বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন।


ওলবাকিয়া পদ্ধতি অবশ্য নতুন নয়। সিঙ্গাপুরে ২০১৬ সাল থেকে ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’ নামে বড় পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি চলছে। সেখানে প্রতি সপ্তাহে এক কোটিরও বেশি পুরুষ মশা ছাড়ার কথা জানা গেছে।


গবেষণায় দেখা গেছে, ওলবাকিয়াযুক্ত মশা ব্যবহারের মাধ্যমে এডিস ইজিপ্টাই মশার সংখ্যা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশা নিয়ন্ত্রণে এই পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।


‘ভ্যানগার্ড’ যন্ত্র এবং গবেষণা দলের চার সদস্য–মোহাম্মদ ওমায়ের আহমেদ, মো. সাদাত রহমান, তাসনিম আল হোসাইন এবং কাজিম আল শাহরিয়ার

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫১ পিএম

দেশে বাসাবাড়ি ও রেস্তোরাঁগুলোয় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণ এখন আর নিছক কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং এক ভয়াবহ ও সার্বক্ষণিক জাতীয় আতঙ্কের নাম। এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েটের একদল শিক্ষার্থী সিদ্ধান্ত নেন একটি বাস্তবমুখী, নির্ভরযোগ্য ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা প্রযুক্তি তৈরির। গবেষণা দলটির সদস্যরা হলেন–মোহাম্মদ ওমায়ের আহমেদ (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), মো. সাদাত রহমান (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), তাসনিম আল হোসাইন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) এবং কাজিম আল শাহরিয়ার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং)। সুপারভাইজার হিসেবে রয়েছেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী আহম্মাদ শওকত চৌধুরী।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মোট ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে; যেখানে সব মিলিয়ে গ্যাসসংশ্লিষ্ট অগ্নিকাণ্ডের হার ১৬ শতাংশেরও বেশি।


আমাদের একটি সাধারণ অভ্যাস হলো–গ্যাস লিকেজ কিংবা গ্যাসের গন্ধকে ‘সাময়িক’ ভেবে অবহেলা করা। অথচ এটি এক নীরব ঘাতক। বদ্ধঘরে জমে থাকা দাহ্য গ্যাসে আগুন ধরার জন্য দেশলাই জ্বালানোর প্রয়োজন হয় না। ঘরের একটি সাধারণ বৈদ্যুতিক সুইচের স্পার্ক, রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসরের অটো-কাট, এমনকি মশা মারার ব্যাটের সামান্য স্ফুলিঙ্গেই মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হতে পারে।


বাজারে বিদ্যমান প্রযুক্তিগুলোর দিকে তাকালে প্রধান দুটি সীমাবদ্ধতা চোখে পড়ে। প্রথমত, প্রচলিত সাধারণ গ্যাস অ্যালার্মগুলো লিকেজ শনাক্ত করে কেবল উচ্চশব্দে অ্যালার্ম বাজাতে পারে। এরা নিজ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা বা গ্যাস নিষ্কাশন করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, উন্নত বিশ্বের আধুনিক মেকানিক্যাল ও শিল্পমানের অটোমেশন সিস্টেমগুলো এতটাই ব্যয়বহুল, তা দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধ্যের একেবারেই বাইরে।


এই জটিল সামাজিক ও প্রযুক্তিগত সংকট নিরসনে বুয়েটের গবেষক দল তৈরি করেন ‘ভ্যানগার্ড’। এটি মানুষের উপস্থিতি ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম একটি সমন্বিত ওয়্যারলেস নিরাপত্তা ইকোসিস্টেম। এটি কেবল দুর্ঘটনা ঘটার পর সংকেত দিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ করে না, বরং নিজ থেকে সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ নিশ্চিত করে।


গবেষণা দলের সুপারভাইজার আলী আহম্মাদ শওকত চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইমার্জেন্সি ডেটা ইন্টিগ্রেশন এবং নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে এই সিস্টেম স্থাপনে সরকার এবং আবাসন খাতের ডেভেলপারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা।’


গবেষকরা জানান, দেশের সর্বস্তরের মানুষের নাগালের মধ্যে এই জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে সম্পূর্ণ ভ্যানগার্ড হার্ডওয়্যার প্যাকেজটির উৎপাদন ব্যয় অত্যন্ত সাশ্রয়ী রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আলী আহম্মাদ শওকত চৌধুরী আরও বলেন, ‘সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে তৈরি এই স্মার্ট গ্যাস লিকেজ ডিটেক্টর ইকোসিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেন্টিলেশন ফ্যান চালু এবং গ্যাস পাইপ বা সিলিন্ডার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধ করে প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রক্ষা করবে।’ 


ডিজিএফআই সদর দপ্তরে থাকা জেআইসি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪২ পিএম

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) আটকে রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১/১১ এর সময় তারেক রহমানকে জেআইসির একটি কক্ষে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর নির্যাতন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষীদের বর্ণনা ও আমাদের তদন্তে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআইয়ের 'জেআইসি সেল' নামের গোপন বন্দিশালা বা 'আয়নাঘর' পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।


চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করেছিল। সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ‘আয়নাঘর’ নামে টর্চার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আমরা আজকে আমাদের বিচারের অংশ হিসেবে ডিজিএফআইয়ের কমপ্লেক্সের ভেতরে জেআইসি... এটি টর্চার সেল, 'আয়নাঘর' হিসেবে পরিচিত... সেই জেআইসি পরিদর্শনে তিনজন বিচারপতি, সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী, আমাদের প্রসিকিউশন টিমের সদস্য উপস্থিত ছিলাম। আমাদের ডিফেন্স টিমের আইনজীবী বন্ধুরাও উপস্থিত ছিলেন। সবাই আমরা আমাদের বিচারপতিদের নেতৃত্বে এই জেআইসিটি পরিদর্শন করেছি।


আমিনুল ইসলাম বলেন, 'জেআইসি ছিল মানুষকে ধরে এনে বন্দি রেখে তাদের ওপর অত্যাচার এবং নির্যাতনের একটা সেল, যেটা পরে সর্বজন পরিচিত 'আয়নাঘর' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সেখানে কী অমানবিকভাবে বন্দিদের ধরে এনে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হয়েছে, সেই নির্মম চিত্র আজকে এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কিছুটা অনুভব করা গেছে।'


তিনি আরও বলেন, 'আজকে যে জেআইসি, এখানে কিন্তু ব্রিগেডিয়ার আজমীসহ বন্দিদের এই জেআইসিতে রাখা হয়েছে। দিনের পর দিন তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে।'


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'আরও একটি বিষয় দেখবেন, এক-এগারোর সময় আজকের প্রধানমন্ত্রী... আজকে যে জেআইসি সেলটি আমরা পরিদর্শন করেছি, তারই কোনো একটি কামরায় তাকেও কিন্তু আনা হয়েছে। তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল। আমাদের ইনভেস্টিগেশনে বিভিন্ন সাক্ষীদের মুখের বর্ণনা থেকে সেই তথ্য পাওয়া গেছে এবং পর্যায়ক্রমে এগুলো বিচারের রিফ্লেকশন হবে।'


তিনি আরও বলেন, 'বিগত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছিল। যেখানে কিছুসংখ্যক অতি উৎসাহী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরকারের কিছু অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই আয়নাঘর নামে টর্চার সেলগুলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনের নেতা, যারা মত-পথের ভিন্ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদের ধরে এনে অনেক মানুষকে সেখান থেকে পরে গুম করা হয়েছে। সেই গুমের অনেক ভিকটিমদের আমরা কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের হদিস পাইনি। অনেক ভিকটিমদের সেখানে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছে। তাদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন করা হয়েছে।'


চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'আপনারা ইতোমধ্যে জানবেন যে, এই ডিজিএফআই এবং জেআইসি সেলের সম্পৃক্ত যেসব কর্মকর্তারা ছিল, তাদের অনেককেই বিচারের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের বিচার চলছে। ভবিষ্যতেও যাদের সংশ্লিষ্টতা এভাবে পাওয়া যাবে, তাদেরও এই অমানবিক ঘটনার জন্য বিচারের সম্মুখীন করা হবে।'


চিফ প্রসিকিউটর বলেন, 'হুম্মাম কাদের চৌধুরী, তাকেও কিন্তু এই জেআইসি সেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তিনি কতদিন বন্দি ছিলেন, তার নিজের হাতের একটা লেখা ছিল এবং এইচ কিউ সি নামে একটা ব্যাপার ছিল, সেটি কিন্তু তারা সাদা রং করে প্লাস্টার করে দিয়েছে। প্লাস্টারের পরেও তার এই লেখাটা জেআইসি সেলের একটি রুমের মধ্যে বিদ্যমান আছে এবং সেখানে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বর্ণনা থেকে কিন্তু আমরা এটা পেয়েছি।'


তিনি বলেন, 'তার (হুম্মাম) বর্ণনার সঙ্গে জেআইসিতে যে রুমটি, এটার হুবহু মিল পাওয়া গেছে। আমরা এগুলো সিলগালা করে রেখেছি। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়তো এগুলো আমাদের কাস্টডিতে থাকবে।'


ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরে থাকা জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারের (জেআইসি) গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজার নেতৃত্বে এই পরিদর্শন দলে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও। এর আগে, গত শনিবার উত্তরায় র‍্যাব পরিচালিত বন্দিশালা বা গুমঘর পরিদর্শন করেন তারা।


প্রসিকিউশন জানায়, র‍্যাব ও ডিজিএফআই পরিচালিত বন্দিশালায় গুম করে রাখার অভিযোগে দুটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এই বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এসব বন্দিশালা পরিদর্শন করছেন বিচারপতিরা।



তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বহনকারী একটি কার্গো

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ পিএম

গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দেশের জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটেনি। মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল আংশিক চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। সংকট মোকাবিলায় নবম কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। 


শুক্রবার বিকেলে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনলাইন বৈঠকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতিতে সৌদি কোম্পানি আরামকোর কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।


সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১১-১২ আগস্ট ডেলিভারির জন্য এই কার্গো কেনা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ দশমিক ৫৫ মার্কিন ডলার। একটি কার্গোতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকায় মোট দাম দাঁড়াবে প্রায় ৭ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলার।


এর আগের দিন গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আট কার্গো এলএনজি কেনার নীতিগত অনুমোদন দেয়। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে দুই কার্গো করে মোট আট কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে দুই দিনের ব্যবধানে মোট ৯ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিল সরকার।


এদিকে গত বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা ১০ মিনিট থেকে মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে টার্মিনালটি থেকে প্রায় ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বয়লার চালু হলে আরও প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। প্রয়োজনীয় এলএনজি কার্গোর সরবরাহও নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দুর্ঘটনার আগে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর সরবরাহ কমে প্রায় ২১২ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক খাতে সংকট অব্যাহত রয়েছে।


গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়েছে। গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। মাহমুদাবাদ, অনন্তপুর, নিউ মুসলিম কোয়ার্টার, শ্যামলী, পিটিআই, রাজনগর, কলেজ কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস থাকছে না। অনেক পরিবারকে গভীর রাত কিংবা ভোরে রান্না করতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করছেন।


জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানির হবিগঞ্জের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মো. আলী আক্কাছ বলেন, জাতীয়ভাবে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় চাপ কমে গেছে। তবে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


রদবদল

পেট্রোবাংলার উচ্চপদে রদবদল ঘটেছে। পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামকে পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দপ্তরে সংযুক্ত থাকবেন।


একই দিনে পেট্রোবাংলার নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি শাখা থেকে জারি করা পৃথক আদেশে পরিচালক (পিএসসি) পদে কর্মরত ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. শোয়েবকে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী সময়ে নিয়মিত নিয়োগ বা পদায়ন হলে তিনি নিজ পদে ফিরে যাবেন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ পিএম

বঙ্গোপসাগরে আজ শনিবারের মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা পাঁচদিন বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। 


আজ শনিবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।


এর প্রভাবে আজ রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া রোববার রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সোমবার রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। মঙ্গলবার রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। বুধবার রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। 


নদনদীর পানি আরও বাড়তে পারে

শুক্রবার দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায়। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ১০৭, পটুয়াখালীতে ৯৪, বরগুনায় ৯১ এবং পাবনায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। উজানের মেঘালয় ও ত্রিপুরাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদনদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।


বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, আগামী তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদনদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার অববাহিকায় আগামী এক দিন নদীর পানি কিছুটা কমতে পারে। এর পর পরবর্তী দুই দিন পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। আত্রাই নদীর পানি আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা ছুঁতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সুরমা নদীর কানাইঘাট এবং কুশিয়ারা নদীর মারকুলি, অমলশীদ ও শেওলা পয়েন্টে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।


উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

এদিকে তিস্তা ও কুশিয়ারা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে এক থেকে তিন দিনের মধ্যে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাস এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। 


বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে দুটি স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল ৮৪টি স্টেশনে নদনদীর পানি বেড়েছে। কমেছে ৪১টি স্টেশনে এবং দুটি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।


গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদনদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে। তবে এ সময়ে পানি বিপৎসীমার নিচেই থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদনদীতে আগামী তিন দিন স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি জোয়ার হতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকায় পানি ওঠার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।