ছবি : সংগৃহীত
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা মানুষের নিত্য অভ্যাস। শিশু থেকে বয়স্ক– সব বয়সী মানুষের ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় টুথপেস্ট নিয়ে এবার উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টের প্রায় চারটির মধ্যে তিনটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের নয়, শিশুদের জন্য বাজারজাত টুথপেস্টেও মিলেছে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) এক বছরের গবেষণায় বাজারের ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছে, এর মধ্যে ২৬টিতে, অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক ইন টুথপেস্ট’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।
সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। গবেষণার উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে লক্ষ্যবস্তু করা নয়; বরং ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে ব্যবহারযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যভান্ডার তৈরি করা।
এক বছরে সংগ্রহ ও পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ
গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত। এই সময় দেশের বিভিন্ন সুপারশপ, খুচরা দোকান ও পাইকারি বাজার থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি (ইএইচই) গবেষণাগারে এসব নমুনার বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার দুই হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর চালানো হয় একটি জরিপ।
পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫ নমুনার মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
কোন টুথপেস্টে সবচেয়ে বেশি
গবেষণায় সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে। প্রতি ১০০ গ্রামে এতে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি কণা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট, হোয়াইট প্লাস রেড, হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল, মেরিল বেবি স্ট্রবেরি, সিগন্যাল হোয়াইটেনিং ও মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলা টুথপেস্টে ৬০টি করে কণা শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে এএমপিএম হার্বাল, মেডিপ্লাস ডিএস, পেপসোডেন্ট জার্মিচেক+, মেরিল বেবি অরেঞ্জ, ম্যাজিক হারবাল, মেসওয়াক ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ডেন্টিন জেল, পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ, ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট, ব্রাশআপ হোয়াইটেনিং জেল এবং হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে পাওয়া গেছে ২০টি করে কণা।
মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি আটটিতে
গবেষণায় আটটি টুথপেস্টে কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো জেনফ্রেশ, প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো), ক্লোজআপ রেড-হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি, প্যারোডনট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার, সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল, কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশ, কোলগেট অ্যাক্টিভ সল্ট এবং কোদোমো অরেঞ্জ।
শিশুদের টুথপেস্টও মুক্ত নয়
শিশুদের জন্য বাজারজাত করা ছয়টি টুথপেস্টও গবেষণার আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে চারটিতে অর্থাৎ, প্রায় ৬৭ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি পর্যন্ত কণা শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৪০টি কণা পাওয়া যায় কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলায়। মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে পাওয়া গেছে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জে ২০টি কণা। তবে প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি ও কোদোমো অরেঞ্জে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
মোড়কে নেই কোনো তথ্য
গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়কে মাইক্রোপ্লাস্টিক কিংবা ব্যবহৃত সিনথেটিক পলিমারের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এসডো বলছে, এর ফলে ভোক্তারা সচেতনভাবে পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্যও বাজার তদারকি কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসডোর মহাসচিব ও সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, গবেষণায় ব্যবহৃত সব নমুনা সরাসরি সুপারশপ, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে নকল বা ভেজাল পণ্য গবেষণার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, প্রতিদিন ব্যবহৃত একটি পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে এ বিষয়টি অধিকাংশ ভোক্তারই অজানা। তাই টুথপেস্টের উপাদান লেবেলে উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদার করা জরুরি।
ভোক্তাদের সচেতনতা সীমিত
গবেষণার অংশ হিসেবে পরিচালিত ভোক্তা জরিপে দেখা গেছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখনও খুবই সীমিত। জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা আগে কখনও এ বিষয়ে শোনেননি। ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, শুনেছেন তবে বিস্তারিত জানেন না। মাত্র ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে সচেতন। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা নিয়মিত টুথপেস্ট ব্যবহার করেন এবং ৯০ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়মিত টুথব্রাশ ব্যবহার করেন। ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ দিনে একবার এবং ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করেন।
টুথপেস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হিসেবে উঠে এসেছে মেডিপ্লাস। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা এই ব্র্যান্ড ব্যবহার করেন। এর পর রয়েছে ক্লোজআপ ও পেপসোডেন্ট, যেগুলো ব্যবহার করেন ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ করে উত্তরদাতা। কোলগেট ব্যবহার করেন ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
মান সংশোধনের উদ্যোগ নেবে বিএসটিআই
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) উপপরিচালক (রসায়ন) মো. মনজুরুল করিম বলেন, বর্তমানে টুথপেস্টের জাতীয় মানে ৪০টি অনুমোদিত উপাদান এবং কণার আকারের সীমা নির্ধারণ রয়েছে। কিছু উৎপাদক কম খরচে ওজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার করতে পারেন, যা একটি খারাপ চর্চা। তিনি জানান, ২০১৯ সাল থেকেই প্রসাধনী পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয়টি বিএসটিআইয়ের নজরে রয়েছে। ইতোমধ্যে ফেসওয়াশ ও ফেসপ্যাকের মান সংশোধন করা হয়েছে। এখন টুথপেস্টের মানেও একই ধরনের সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
নীতিমালা নেই, বাধ্যতামূলক নয় পরীক্ষা
এসডো বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো জাতীয় মানদণ্ড, অনুমোদিত সীমা, পরীক্ষার পদ্ধতি কিংবা বাধ্যতামূলক লেবেলিং নীতি নেই। ফলে উৎপাদকরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশে বাধ্য নন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থারও কার্যকর নজরদারির সুযোগ সীমিত।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মারগুব মোরশেদ বলেন, বিশ্বাসযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতেই কার্যকর জননীতি প্রণয়ন করা উচিত। এই গবেষণা টুথপেস্টের মানদণ্ড উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা জোরদার এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশে সম্ভাব্য ঝুঁকি
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাঁত ব্রাশের সময় টুথপেস্টের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিক বর্জ্য পানির মাধ্যমে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা নদী, জলাশয় ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে। খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানবদেহেও প্রবেশের শঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শের সঙ্গে শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, হৃদরোগ, স্নায়ুতন্ত্র ও প্রজননস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণার ফল প্রকাশের পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শুধু ভোক্তার স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তাই দ্রুত জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, বাধ্যতামূলক লেবেলিং, নিয়মিত পরীক্ষাগার তদারকি এবং উৎপাদকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক শূন্যতা পূরণ হয়েছে। এর ফলাফল ভবিষ্যতে ওরাল কেয়ার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড নির্ধারণ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক লাইন ডিরেক্টর দন্ত চিকিৎসক অধ্যাপক মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার বলেন, মুখ পরিষ্কারে ব্যবহৃত পণ্যগুলোতে এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থাকা উচিত নয়। দাঁতের সুরক্ষায় ফ্লোরাইড, কার্বনেট ও সিলিকাকে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। মাইক্রোপ্লাস্টিক তার ঘর্ষণ ক্ষমতার কারণে দাঁত সাদা করতে পারলেও, এটি দাঁতের এনামেলের ওপর বিরূপ ও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহমুদা তামান্না খান বলেন, গবেষণায় যে বিষয়টি উন্মোচিত করেছি, এর ওপর ভিত্তি করে আমরা কাজ করতে আগ্রহী। বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত। সরকারি সংস্থা ও এনজিওগুলো একযোগে কাজ করলেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
প্রায় চার দশক পর এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবছরই বিশ্বনেতাদের এই সমাবেশ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এবার বাংলাদেশের গুরুত্বের জায়গাটি কিছুটা আলাদা। কারণ, এই অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন এবং আগামী এক বছর ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এটি অবশ্য বাংলাদেশের জন্য প্রথমবারের ঘটনা নয়।
প্রায় চার দশক আগে, ১৯৮৬–৮৭ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন। ফলে খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও কোনো বাংলাদেশি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরলেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের দায়িত্বের মূল জায়গা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নয়, বরং সব সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা, সমঝোতা ও ঐকমত্য তৈরির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেছেন, সব সদস্যরাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করে আস্থা পুনর্গঠন এবং আলোচনার মাধ্যমে অভিন্ন জায়গা খুঁজে বের করাই তার অন্যতম লক্ষ্য। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্যও ‘আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন সামলানো এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।
এই দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে কিছু বাড়তি সুযোগ তৈরি করতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি রোহিঙ্গা সংকট। খলিলুর রহমান নিজেই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরাসরি কাজ করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থেকে তিনি সংকটটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ পাবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন অর্থায়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং জাতিসংঘের সংস্কারের মতো বিষয়ও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খলিলুর রহমান তার মেয়াদের অগ্রাধিকার হিসেবে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু কার্যক্রম, শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়গুলো সামনে এনেছেন।
এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও স্বার্থ আন্তর্জাতিক আলোচনায় আরও দৃশ্যমান করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সভাপতির পদকে বাংলাদেশের জন্য সরাসরি কোনো বিশেষ সুবিধা আদায়ের মাধ্যম হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। খলিলুর রহমান নিজেও বলেছেন, তিনি সব সদস্যরাষ্ট্রের সভাপতি এবং তার দায়িত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে পুরো সাধারণ পরিষদ। তাই বাংলাদেশের জন্য এবারের বিশেষত্ব মূলত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতার চেয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রস্থলে থাকার সুযোগে।
প্রায় চার দশক পর আবার একজন বাংলাদেশি যখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল আন্তর্জাতিক ফোরামটির সভাপতির আসনে, তখন এবারের সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য যে বাড়তি দৃশ্যমানতার সুযোগ তৈরি করেছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ‘নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জ’-এ সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বক্তব্য রাখেন।
অধিবেশনস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ এই বৈশ্বিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন তিনি।
এবারের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সংঘাত নিরসন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া তিনি সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে (জেনারেল ডিবেট) বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন।
বক্তব্যে তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
মনজুর রহমান পিপিএম পদকে ভূষিত
বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলার উপপরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান পেশাগত দায়িত্বে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পদকে ভূষিত হয়েছেন।
পুলিশের দায়িত্ব পালনকালে গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত, অপরাধ উদঘাটন এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ মর্যাদাপূর্ণ পদকের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পিপিএম পদক লাভ করায় সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসআই মনজুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা তার কর্মজীবনের সাফল্য ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এসআই মনজুর রহমান বলেন, পিপিএম পদক তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও গৌরবের। এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে তাকে অনুপ্রাণিত করবে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা হিসেবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।
রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা খরচ হয়েছিল। অথচ দীর্ঘদিন দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে।
সম্প্রতি ডিজেলের দাম ২০ টাকা সমন্বয় করা হলেও লোকসান পুরোপুরি কাটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।
বিভিন্ন দেশের দামের তুলনা
আলোচনায় বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দাম তুলে ধরে রিজভী বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে প্রায় ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সময়ও বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ১১৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে। পরে দাম ২০ টাকা বাড়ানো হলেও সরকারের লোকসান এখনো রয়েছে।
নাশকতার বিরুদ্ধে কর্মসূচির আহ্বান
দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে আগুন এবং ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মসূচির পাশাপাশি পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা নেই। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণে তারা কখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান ও মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ অন্যরা।
মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন
সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীনকে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তিনি মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ রদবদলের কথা জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মেজর জেনারেল মো. আলীমুল আমীন এর আগে ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও সিলেট এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যদিকে, প্রায় চার বছর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল মো. নুরুল আনোয়ারকে অবসরের আগে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন) এ টি এম আবু আসাদ জানান, মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই তাঁকে নিজ বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
নতুন পে স্কেল
নতুন বেতন কাঠামোয় পদোন্নতি পেয়ে উচ্চতর গ্রেডে গেলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়ি ভাতার হার কমবে। ফলে গ্রেড বাড়লেও বাড়ি ভাতা কম পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একইভাবে কিছু ক্ষেত্রে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর মোট বেতন ঊর্ধ্বতন গ্রেডের কর্মচারীর চেয়েও বেশি হচ্ছে। বাড়ি ভাতার হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম অঙ্ক উল্লেখ না থাকায় এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির সঙ্গে সাধারণত কর্মচারীর আর্থিক সুবিধা বাড়ার কথা। কিন্তু নতুন বেতন কাঠামোর এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- উচ্চতর গ্রেডে পদোন্নতি পেলে যদি বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমে যায়, তাহলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোট মাসিক প্রাপ্যও কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়বে না।
শেষ করে একই কর্মস্থলে কর্মরত দুই গ্রেডের কর্মচারীর ক্ষেত্রে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারী যদি বাড়ি ভাড়া বাবদ তুলনামূলক বেশি পান, তাহলে বেতন কাঠামোর গ্রেডভিত্তিক যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে।
বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৫ হাজার ৬০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পান চাকরিজীবীরা। ৯ হাজার ৭০১ টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা মূল বেতন হলে ৬০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। মূল বেতন ১৬ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা হলে ৫৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়।
আর মূল বেতন ৩৫ হাজার ৫০১ টাকার বেশি হলে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। অন্যান্য এলাকার ক্ষেত্রে বাড়ি ভাতার হার ও ন্যূনতম অঙ্কে ভিন্নতা রয়েছে।
গেজেট প্রকাশের পর এ নিয়ে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন। কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন, এই ভুলের জন্য তাদের কিছু করার নেই। তারা সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করেছেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, গতকাল ১২টি সংগঠনের জোট মিলে তারা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর অসংগতিগুলো সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও অর্থ সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা) মো. নাজমুল হুদা সিদ্দিকী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগতভাবে বলার কিছু নেই। এ বিষয়ে আমি অবহিত নই।’ নতুন পে স্কেল যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু না, এটা ভিন্ন উইংয়ের কাজ। এটা আমার দায়িত্বাধীন না, এজন্য ভিন্ন কর্মকর্তা রয়েছেন।’
নতুন বেতন কাঠামোয় বৈশাখী ভাতা নিয়েও কর্মচারী সংগঠনগুলো বিদ্যমান সুবিধার সঙ্গে তুলনা করেছে। এতে বিদ্যমান ২০ শতাংশের বিপরীতে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।