সিলেট মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর আ ন ম এহছানুল হক মিলন
শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, "সিলেট সবসময় ফার্স্ট হয়। তবে শুধু ডলারে আর পাউন্ডে না, পড়ালেখায়ও ফার্স্ট হতে হবে। পাবলিক পরীক্ষায় সিলেটের ফলাফল লন্ডনের ওয়েদারের মত উঠানামা করে। বর্তমানে শিক্ষকরা ফেইলিওর হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে যায়। এজন্য সংশ্লিষ্টদের সর্তক থাকতে হবে।"
আজ বুধবার সকালে সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস অডিটরিয়ামে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ড, অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবসহ শিক্ষা সংশ্লিস্টদের সাথে মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এমনটি বলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে সরকার। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাখাতে জিডিপি ৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের শিক্ষাখাত উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার সরকার তা করবে। মতবিনিময় সভায় প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুসংগঠিত নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক ধারার অস্তিত্ব থাকলেও তা কোনো ভাবেই সরকারি নীতিমালার বাইরে থাকতে পারে না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি-বিধানের বাইরে থাকবে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, এই খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করা হয়েছে এবং একটি কার্যকর রেগুলেটরি বোর্ড গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে উচ্চ বেতনে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ফি আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় মান নিয়ন্ত্রণ, কারিকুলামের সামঞ্জস্য এবং শিক্ষার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষা যদি শুধুমাত্র বিত্তবানদের নাগালের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তাহলে সামগ্রিকভাবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার চায় দেশের প্রতিটি শিশুই মানসম্মত শিক্ষা পাবে সে ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মাধ্যম বা মাদ্রাসা যেখানেই পড়ুক না কেন। এজন্য একটি সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে আনা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার, এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
সভায় তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও মান নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার একা সব করতে পারবে না- শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর করা হবে বলেও এসময় জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ জায়গা দিলে উনার নামে স্কুল করে দেবো। বিল্ডিং আমরা করবো। ফেসবুকে তাকে নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ম্যানেজমেন্ট কমিটি নিয়ে আমাকে তুলোধুনো করা হচ্ছে ফেসবুকে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি বাতিল করার পর আমাকে নিয়ে কত ট্রল হলো। আজকাল আমার কিছু পেলেই হলো ফেসবুকে। সেই নির্বাচনের আগে, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আমি আমার এলাকয় গিয়ে বাচ্চাদের বলেছি, ‘তোমাদের জায়মাকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে’। কারণ পুতুলকে যদি প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে দেয়! তাই আমি আমার এলাকায় গিয়ে রাজনৈতিকভাবে এই কথা বলছি। তাও নির্বাচনের আগে। এখন এটা নিয়ে আমাকে ট্রল করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আগামীদিনের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এই স্বপ্ন তো আমরা দেখতেই পারি। আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেই স্বপ্ন পুরণ হয়েছে। আল্লাহ কবুল করলে সেও (জায়মা রহমান) প্রধানমন্ত্রী হবে, আমি হয়তো বেঁচে থাকতে দেখে যেতে পারবো। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা নিজের বিশ্ববিদ্যালয় খবর না নিয়ে আমার নামে পোস্ট করেন মন্ত্রী ব্যর্থ। এখন শিক্ষকরা মন্ত্রীদের খাতা দেখা শুরু করে দিয়েছে।
কোচিং সেন্টারকে আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা ফেইলিওর হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে যায়। শিক্ষকরা ভাল করে পড়ান না বলেই নকল করে। তিনি বলেন, আগের দিনে জেলার স্কুলগুলো ছিল নাম্বার ওয়ান। কারণ ডিসি-এসপিদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করত।
মতবিনিময় সভায় তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানে অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলনামূলক বেশি। কিন্তু সেই আর্থিক শক্তি শিক্ষার মানোন্নয়নে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে একই অঞ্চলের ভেতরেই সুযোগের অসম বণ্টন দেখা যাচ্ছে।
এসময় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মন্ত্রী আরিফুর হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, ডেপুটি কমিশনার সারওয়ার আলম, শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী প্রমুখ।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা নিয়ে ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা আবারো আগামী ডিসেম্বরে আসার কথা জানিয়েছেন একটি ইন্টারভিউতে, এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ কী হবে- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রথম কথা হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে কি করছে না, সেটা আপনি কীভাবে জানেন? অবশ্যই চেষ্টা করছে, আমি বলছি। দ্বিতীয়ত হলো- একজন ফাঁসির আসামি হলেও সে যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়, বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বাংলাদেশে এসে সারেন্ডার করতে চায়, সেখানে হয়তো তার সারেন্ডারের আগেই অ্যারেস্ট হবে। কিন্তু তার সেই তো অধিকার তো আছে।
‘এলে আসবেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সেখানে তো আমাদের... আইনের ব্যত্যয় করে আমরা কিছু করবো না। আইন যেভাবে আমাদের অথরিটি দিয়েছে, আমরা সে অথরিটি এক্সারসাইজ করব।’ বলেন আইনমন্ত্রী।
ওনার কাছে পাসপোর্ট নেই, উনি এলে কীভাবে আসবেন? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, উনি কীভাবে আসবেন এটা ওনার সমস্যা। এটা আমার সমস্যা না। আমাদের... এটা হলো আমার চৌহদ্দির মধ্যে যখন ঢুকবেন, সেই চৌহদ্দিতে ঢুকলে আইন যেটা আমাকে ক্ষমতা দিয়েছে, আমি আইনের প্রয়োগটা করবো। দ্যাটস সিম্পল এজ ইট ইজ।
আপনি বলেছিলেন যে, সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তো এখন কি সে পর্যায়ে আছে? নাকি স্পেশাল অধিবেশন ডাকতে হবে? এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এটা এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো আলোচনায় আসেনি। আমি বলেছি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা। আমার সংবিধানে আছে, ১২৩-এর ২ অনুচ্ছেদে, রাষ্ট্রপতি যেদিন পদত্যাগ করবেন, তার থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রশ্ন এসেছিল যে, আমরা বিশেষ অধিবেশন ডাকবো কি না। তো ৯০ দিন যেহেতু সময় আছে, আর আমার নেক্সট অধিবেশন ৬০ দিনের মধ্যে ডাকতে হবে, গত অধিবেশন শেষ হওয়া থেকে আগামী অধিবেশন পর্যন্ত ৬০ দিনের মধ্যে আমার ডাকতে হবে। সুতরাং এই দুইটা টাইম যেহেতু ম্যাচ করছে, আমি সে কারণে বলছি বিশেষ অধিবেশনের আপাতত প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। যদি সরকার মনে করে, নিশ্চয়ই ডাকতে পারেন।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত এক দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে আরো একজন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুধবার জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৬ জনের। আর হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩২০ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১০৭ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৪, ময়মনসিংহে ৬৯, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১১ জন মারা গেছে।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯৯৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯২৫ জন।
আর যাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল, তাদের ৭৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এই সময়ে। তবে হাসপাতালে যাওয়া সবার নমুনা পরীক্ষা হয় না বলে এই সংখ্যা দিয়ে এ রোগের বিস্তারের প্রকৃতি চিত্র পাওয়া যায় না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। ওই সময় থেকে এক লাখ ২৬ হাজার ৫৪০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে।
তাদের মধ্যে এক লাখ ৯ হাজার ৩৬৬ জন হাসপাতালে ভার্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। আর নমুন পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫ হাজার ৭৩৯ জনের ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৫০ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও ৩০ জন নারী।
আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৪৪ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বরিশাল বিভাগ ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্ককে ফের কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল ও ঢাকায় নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। বুধবার জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে তাদের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেছেন যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সার্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সার্ককে আবার কার্যকর করে সেই লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ এখনও রয়েছে।
এক্ষেত্রে তিনি নেপালকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালে রাষ্ট্রদূত তাতে একমত হন।
নেপালের ফেডারেল পার্লামেন্টে ‘বাংলাদেশ-নেপাল সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ গঠিত হওয়ায় দেশটির স্পিকার দোল প্রসাদ আর্যালকে ধন্যবাদ জানান কায়সার কামাল।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেও শিগগির এই মৈত্রী গ্রুপ গঠন করে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময়ের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, উভয় দেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ কার্যকর হলে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব হবে।
এছাড়া পারস্পরিক সংসদীয় সফর আয়োজন, আইন প্রণয়ন ও সুশাসনের অভিজ্ঞতা বিনিময়, আন্তর্জাতিক ফোরামে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা এবং দুই দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির প্রসঙ্গ তুলে কায়সার কামাল বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, পানি, জ্বালানি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্র বাড়ানোর সুযোগ দুই দেশ কাজে লাগাতে পারে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেপালের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ‘নতুন অভিযাত্রার’ প্রশংসা করেন এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন তিনি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অর্জন করতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন নেপালের রাষ্ট্রদূত।
সাক্ষাতকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব দ্য মিশন প্রতিক কার্কি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।
প্রতীকী ছবি
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব আষাঢ়ী পূর্ণিমা আজ বুধবার। আষাঢ়ী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র দিন। কেননা এই দিনে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন, ২৯ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন এবং ভারতের সারানাথে পাঁচজন শিষ্যের কাছে প্রথম ধর্মপ্রচার করেন, যাকে ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র বলা হয়।
এ উপলক্ষে আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। বৌদ্ধ সম্প্রদায় নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার দিনটি উদযাপন করবে।
বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মহাবিহারে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালা আয়োজিত হবে। অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে- ভোরে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, সকালে ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, বৌদ্ধ পূজা ও ভিক্ষু সংঘের শীল গ্রহণ, ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান, অতিথি আপ্যায়ন, বিকেলে পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা সভা, সন্ধ্যায় প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা ও প্রদীপ প্রজ্জালন এবং দেশের সমৃদ্ধি ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত উপাসনা।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের উদ্যোগে রাজধানীর সবুজবাগের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে দিনব্যাপী অনুরূপ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হবে।
সিআইডির প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর নতুন প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সিআইডি সদর দপ্তরে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তালেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ২৮ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিআইডির প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি প্রেষণে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এনএসআইতে কর্মরত থাকাকালেই তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। প্রায় তিন দশকের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করে তদন্ত, গোয়েন্দা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও কারিকুলাম উন্নয়ন-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া সিআইডির সদর দপ্তর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা ইউনিটে বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। মাঠপর্যায়ে পিরোজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করে তিনি পেশাগত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
শিক্ষাগত জীবনে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সিটি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। আধুনিক পুলিশিং, তদন্ত ও ফরেনসিক বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় ফরেনসিক ল্যাবরেটরি কোর্স, পাকিস্তানে বিশেষ আঞ্চলিক কর্মশালা এবং তুরস্কে অনুষ্ঠিত ১০তম ইন্টারপা সম্মেলনে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।
দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে সিআইডির ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত সিআইডি প্রধানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।