নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের পূর্বাভাস

ভোটে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বেশি

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এটিই প্রথম এমন নির্বাচন এবং দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ব্যালটে থাকছে না আওয়ামী লীগ।


২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন যে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন, তা শুধু শাসকই বদল করেনি; বরং দেশের পুরো রাজনৈতিক মানচিত্রই বদলে দিয়েছে।


ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট থেকে শুরু করে ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের মতো সাতটি প্রধান জাতীয় জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের পূর্বাভাস বলছে, অত্যাসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান ও অনিশ্চয়তা অনেকের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।


জরিপগুলোর তথ্য কী বলছে, কী আড়াল করছে এবং বাংলাদেশের ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ (এমন এক নির্বাচনী ব্যবস্থা, যেখানে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই জয়ী হন। ভোটের ব্যবধান যা-ই হোক) নির্বাচনী ব্যবস্থা কেন সামান্য ভোটের ব্যবধানকেও আসনের বড় ব্যবধানে রূপান্তর করবে; সেটির একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো-


জরিপ ও তথ্যের ব্যবধান


হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিচালিত প্রতিটি জরিপেই জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বিএনপিকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে এ ব্যবধানের মাত্রা একেক জরিপে একেক রকম, যেমন ন্যারেটিভ/ আইআইএলডির জরিপে দুই দলের ব্যবধান মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ, আবার ইনোভিশনের সর্বশেষ প্যানেল স্টাডিতে বিএনপি ২১ দশমিক ৮ পয়েন্টে এগিয়ে।


জরিপের এই ভিন্নতা এলোমেলো কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির ফলাফল। ২৯৫টি আসনের ২২ হাজার ১৭৪ জন উত্তরদাতার ওপর করা ন্যারেটিভ কনসোর্টিয়ামের জরিপটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের চিত্র তুলে ধরেছে। 


অন্যদিকে ইনোভিশন আগে সাক্ষাৎকার নেওয়া ৫ হাজার ১৪৭ জনের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেছে। ফলে সময়ের সঙ্গে জনমতের প্রকৃত পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে এটি ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য পন্থা।


আওয়ামী লীগের বিরাট ভোটব্যাংক


এ নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আওয়ামী লীগের ভোট। দলটি নিয়মিতভাবে মোট ভোটের ৩৫ থেকে ৪৮ শতাংশ পেয়ে আসছিল। এখন দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রায় ৪ কোটি ভোটারকে নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজতে হচ্ছে। সিআরএফ/ বিইপিওএস জরিপ অনুযায়ী, এই ভোটারের প্রায় অর্ধেকই বিএনপির দিকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক শক্তির এই বিশাল কাঠামোগত স্থানান্তরই বিএনপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে পারে।


তবে জামায়াতও এ ভোটব্যাংকের দ্বিতীয় সুবিধাভোগী। আওয়ামী লীগকে আগে যাঁরা ভোট দিতেন; তাঁদের প্রায় ৩০ শতাংশ বলছেন, তাঁরা একটি ইসলামপন্থী দলকে ভোট দেবেন। ইসলামপন্থী দলটিকে শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং তাঁদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া ও গুম করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান এর দুটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রথমত, স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রতি বিএনপির কঠোর আচরণের কারণে তাঁরা জামায়াতকে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, কিছু আওয়ামী ভোটার হয়তো জামায়াতকে বেছে নিচ্ছেন হাসিনার সেই দাবিকে প্রমাণ করতে যে তিনি ছাড়া বাংলাদেশ একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।


এফপিটিপি নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রভাব


বাংলাদেশের ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) নির্বাচনী ব্যবস্থা বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ভারসাম্যহীন ব্যবস্থা। এখানে ৩০০টি একক নির্বাচনী এলাকায় যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই জয়ী হন। এ ব্যবস্থা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দলকে কঠোরভাবে ‘শাস্তি’ দেয় এবং সুনির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত সমর্থনের চেয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমর্থনকে বেশি পুরস্কৃত করে।


২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য এর প্রভাব হবে অত্যন্ত প্রকট। ন্যারেটিভ জরিপের দাবি অনুযায়ী, যদি জাতীয়ভাবে জামায়াত বিএনপির চেয়ে মাত্র ৩-৫ শতাংশ ভোটে পিছিয়েও থাকে, তবু নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে আসনের ব্যবধান ৬০ থেকে ১০০ পর্যন্ত হতে পারে। 


জামায়াতের ভোট মূলত উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্দিষ্ট ঘাঁটিতে কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থন সারা দেশে সুষমভাবে ছড়িয়ে আছে; যা এফপিটিপি নির্বাচনী ব্যবস্থায় আসন জয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা।


জামায়াত কখনো সংসদে ১৮টির বেশি আসন পায়নি এবং তাদের ভোটের হার ১২ শতাংশ অতিক্রম করেনি। তাই বর্তমান জরিপগুলোতে তাদের ২৯-৩৪ শতাংশ সমর্থনের যে দাবি করা হচ্ছে, তা এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর অর্থ হলো, হয় বাংলাদেশে কোনো প্রকৃত ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ ঘটছে অথবা কিছু জরিপে জামায়াতের সমর্থনকে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে।


ফলাফল নির্ধারণ করবে তিন সমীকরণ


১. বিদ্রোহী প্রার্থী


বর্তমানে বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দলের মনোনয়ন না পেয়ে ৯২ জন নেতা ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় স্বতন্ত্র বা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই সাবেক সংসদ সদস্য বা জেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতা।


অন্তত ৪৬টি আসনে এই বিদ্রোহীদের শক্তিশালী নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। নির্বাচনী পাটিগণিত খুব সহজ—যেখানে লড়াই শুধু বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে; সেখানে বিএনপি অনায়াসে জিতবে। কিন্তু যেখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ভোট ভাগ করবেন, সেখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সুযোগে মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোট পেলেই জামায়াত জয়ী হতে পারে। গাণিতিক মডেল বলছে, এ বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিএনপি ১৫ থেকে ৩০টি আসন হারাতে পারে।


২. তরুণ ভোটারের উপস্থিতি


জামায়াতের ছাত্রসংগঠন দেশের প্রধান চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। প্রথমবার ভোট দেবেন, এমন তরুণদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশের পছন্দ জামায়াত। বর্তমানে মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশই জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম; সংখ্যায় যা প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ। যদি তরুণদের ভোট দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি হয়, তবে জামায়াতের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আর এই তরুণ ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রে না আসেন, তবে দলটির আসনসংখ্যা বড় ব্যবধানে কমে যাবে।


৩. অনিশ্চিত বা দোদুল্যমান ভোটার


প্রতিটি জরিপেই দেখা গেছে, ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি কিংবা তাঁদের পছন্দের কথা প্রকাশ করতে রাজি হননি। ন্যারেটিভের জরিপে ১৭ শতাংশ ভোটার এখনো দোদুল্যমান। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করেন না। এই ভোটাররাই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। তাঁরা যদি সব দলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়ে যান, তবে বিএনপির বর্তমান লিড বজায় থাকবে। কিন্তু তাঁরা যদি ২:১ অনুপাতে জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে ভোটের লড়াই তীব্র হয়ে উঠবে নাটকীয়ভাবে।


আসন পূর্বাভাস


সংসদের আসন: ৩০০


একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা: ১৫১


বিএনপি ও জোট: ১৫৫–২১৫


জামায়াত ও এনসিপি: ৫৫–১১০


জাতীয় পার্টি: ৫–১৮


ইসলামী আন্দোলন: ২–১০


অন্যান্য/স্বতন্ত্র: ১০–৩৫


ভোটের গড় হার, ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট মডেল এবং বিদ্রোহী প্রার্থী ও ভোটার উপস্থিতির প্রভাব সমন্বয় করে এ পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে।


সবচেয়ে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা (কেন্দ্রীয় প্রাক্কলন)


বিএনপি ও জোট: ১৮৫


জামায়াত ও এনসিপি: ৮০


জাতীয় পার্টি: ১০


ইসলামী আন্দোলন: ৫


অন্যান্য/ স্বতন্ত্র: ২০


সম্ভাব্য চারটি চিত্র


১. বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (সম্ভাবনা ৫০%)


এ সমীকরণে বড় জনসমর্থন নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। এখানে মূলত ইনোভিশনের প্যানেল ডেটা বা জরিপের তথ্যের প্রতিফলন ঘটবে। ভোটার উপস্থিতি ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সৃষ্ট আবেগ দোদুল্যমান ভোটারদের বিএনপির পক্ষে টানবে। পূর্বাভাস: বিএনপি ১৮৫-২১৫ আসন। জামায়াত ৫৫-৮০ আসন।


২. বিএনপির সামান্য ব্যবধানে জয় (সম্ভাবনা ২০%)


বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তৃণমূল পর্যায়ে জামায়াতের শক্তিশালী প্রচারের কারণে ৩০ থেকে ৪০ আসনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা কমবে। তারা সরকার গঠন করবে ঠিক, তবে হাতে খুব বেশি বাড়তি আসন থাকবে না। ফলে সরকার পরিচালনায় জোটসঙ্গীদের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। পূর্বাভাস: বিএনপি ১৫৫-১৮৫ আসন। জামায়াত ৮০-১০০ আসন।


৩. ঝুলন্ত সংসদ (সম্ভাবনা ২০%)


যদি ন্যারেটিভ/ আইআইএলডির জরিপ সঠিক হয়, তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখানে দলটির সর্বোচ্চ ক্ষতি করবেন এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের জোয়ার বাস্তবে রূপ নেবে। কোনো জোটই সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ফলে শুরু হবে জোট গঠনের দর–কষাকষি ও রাজনীতি। পূর্বাভাস: বিএনপি ১৩০-১৫৫ আসন। জামায়াত ৯০-১১০ আসন।


৪. জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের জয় (সম্ভাবনা ১০%)


সবকিছু যদি জামায়াতের অনুকূলে যায়, তবেই এমনটি ঘটা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ব্যাপক বাড়বে, ৫০টির বেশি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপির ভোট ব্যাপকভাবে ভাগ করবেন এবং আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেন না; যদিও এটি ঐতিহাসিকভাবে নজিরবিহীন। তবে এবারের নির্বাচন যেকোনো নজিরবিহীন ঘটনার জন্য প্রস্তুত। পূর্বাভাস: বিএনপি<১৩০ আসন। জামায়াত ১৩০+ আসন।


শেষ কথা


আমাদের (দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়াল কর্তৃপক্ষের) মূল পূর্বাভাস বলছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে দেশের পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল অর্জন করতে পারে। 


তাদের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা হতে পারে ৬০ থেকে ১০০টি। এর মাধ্যমে দলটি নিজেকে দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে; যা আগামী এক প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুন করে বদলে দেবে।


তবে নির্বাচনের গভীর অনিশ্চয়তা কে জিতবে তা নিয়ে নয়; বরং জয়ের ব্যবধান কতটা হবে, তা নিয়ে। বিএনপির ২১০-এর বেশি আসনের নিরঙ্কুশ সমর্থন আর ১৫৫ আসনের নড়বড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যবর্তী ব্যবধানটুকুই হলো বিশ্লেষণের প্রকৃত ক্ষেত্র। আর এটি নির্ধারিত হবে মূলত তিন নিয়ামকের ওপর; যা কোনো জরিপেই পুরোপুরি ধরা সম্ভব নয়। 


এ নিয়ামক হলো-১৭ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, বিএনপির ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব ও জামায়াতের একনিষ্ঠ তরুণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে উপস্থিত হন কি না, সেই বিষয়।


বাংলাদেশের ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার এমন এক রায় দিতে যাচ্ছেন; যা আগামী এক প্রজন্মের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করবে। তথ্য-উপাত্ত বলছে, পাল্লা বিএনপির দিকেই ভারী। তবে এ তথ্য-উপাত্ত একই সঙ্গে এ-ও বলছে, যেকোনো অভাবনীয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন।



সর্বশেষ সব খবর

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৫ পিএম

ভোলা থেকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নিতে পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নেওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষায় না থেকে ভোলাতেই শিল্প-কারখানা স্থাপন, সার কারখানা গড়ে তোলা এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সুলতানা আহমেদের করা সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে বা মেইনল্যান্ডে নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে তা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছরের মতো সময় লেগে যাবে। তাই সরকার বিকল্প ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। ভোলায় যাতে বিপুল পরিমাণ শিল্প-কারখানা স্থাপন করা যায়, সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। অনেক শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে এই গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পায়ন হলে একদিকে যেমন ভোলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতির আকারও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।


ভোলার গ্যাসকে দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে ও জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, সেখানে একটি বড় সার (ফার্টিলাইজার) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর পাশাপাশি একই স্থানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।


জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদি এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভোলার আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য, স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ, সাধারণ মানুষের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনায় নিয়েই সাজানো হচ্ছে এই সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান।


ভোলার বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদকে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানানো হয় সংসদে। ভোলা জেলায় একটি নতুন ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। 


এর পাশাপাশি ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজি-তে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো চালু হলে ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের কার্যকর অবদান বাড়াতে প্রণীত বিশেষ বিন্যাসে ভোলাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নতুন কৌশলগত কাঠামোর অধীনে ভোলা জেলা এবং এর আশেপাশের দ্বীপগুলোকে ব্লু ইকোনমির সেন্ট্রাল জোনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশেষ জোনের আওতায় জাতীয় রুপালি সম্পদ ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, উপকূলীয় বিস্তৃত চরাঞ্চলের সমন্বিত কৃষি বিকাশ, জলবায়ু সহনশীল সুরক্ষিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। 


ভোলার বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান, গ্যাস ক্ষেত্র, উর্বর কৃষি জমি এবং বিপুল উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে দ্বীপ জেলা ভোলার সার্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনায় ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে সরকার।’ আজ বুধবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 


মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্ন ছিলো, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা; থাকলে কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে? 


উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ফলে ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকা হতে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পাবে এবং গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। তাই অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।’


সরকার ঢাকা হতে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী- আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। তন্মধ্যে, লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে।’


তারেক রহমান বলেন, ‘আশা করি এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা এবং ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাবে।’


জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৩ পিএম

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পুলিশকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। 


তিনি বলেছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের পাশাপাশি পুলিশেরও সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব রয়েছে। 


আজ বুধবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সিইসি এসব কথা বলেন। 


কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা দলভিত্তিক কোনো নির্বাচন না। আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারাই নির্বাচন করতে পারবেন। যারা আইনে বাধার কারণে যোগ্য হবেন না তারা বাতিল হবেন।


নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। 


নাসির উদ্দীন বলেন, খুব শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে মূলত পুলিশের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত হবেন, অথচ আগে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেননি, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আইজিপিকে অনুরোধ করা হয়েছিল। 


তিন বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচন যত সুন্দরভাবে করেছি, একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটাও করতে চাই। জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি, আমরা পারি। নির্বাচন কমিশনের ওপর যে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেটি অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। 


পুলিশ বাহিনীর কিছু সময়সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, তাদের গাড়ির সঙ্কট রয়েছে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে।


তিনি আরও বলেন, এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ২২ কোটি টাকা খরচ হবে। তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ তহবিল থেকেই এই টাকা খরচ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে বিজিবি ও আনসারও প্রশিক্ষণ শুরু করবে।


বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পুলিশ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি নতুন না। জাতীয় নির্বাচনে যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থার চেয়ে এখনকার অবস্থা খারাপ না। পুলিশের ওপর আস্থা আছে। 


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা কমাতে পরিকল্পনা সম্পর্কে সিইসি বলেন,  নির্বাচনের সময় সিসি ক্যামেরা, বডি-অন ক্যামেরা থেকে শুরু করে নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা থাকবে। 


অন্যদিকে দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকায় পুলিশ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চাপমুক্ত থাকবে কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, বর্তমানে দেশে দলীয় সরকার থাকলেও এটি গণতান্ত্রিক সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।


গত ছয় মাসে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি দাবি করেন, এ ক্ষেত্রে পুলিশের সাফল্য শতভাগ।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪২ পিএম

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০২ জনের। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ৬৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে।


চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও ঢাকা জেলার বাসিন্দা। 


রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম যে কোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব মৃত্যু হয়, সেগুলোকে হামের কারণে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। 


সর্বশেষ সব খবর

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৫ পিএম

দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদের আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।


আজ বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে এ অনুরোধ জানানো হয়। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তানিয়া আফরোজ।


পরিপত্রে বলা হয়, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে মহামান্য ও মাননীয় শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।


এতে বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ পাঠানোর ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির পূর্বে যথাক্রমে মহামান্য ও মাননীয় কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

সর্বশেষ সব খবর

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) লোগো

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক কর্মকর্তা। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। 


এতে বলা হয়, আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দু’জন সৈনিক নিহত এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। 


আইএসপিআর জানিয়েছে, আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।


সর্বশেষ সব খবর