ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬, সময় : ৬:০৬ এএম

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণার এক দিনের মাথায় আসছে পরিবর্তন। নিম্ন আয়ের মানুষকে বাড়তি দাম থেকে রেহাই দিতে আবাসিকের প্রথম শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য বাড়তি দাম থাকবে না। আগের দামেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন তাঁরা। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এ ঘোষণা দিতে পারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আবাসিকের লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। আজ বিইআরসির কাছে এ আবেদন করে তারা। বিইআরসি সব বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই সিদ্ধান্ত দেবে বলে সূত্র জানিয়েছে।


বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সব কোম্পানির পক্ষ হয়ে দুই শ্রেণির দাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছে পিডিবি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে কমিশন। এখন আলাদা করে সব কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।


গতকাল বুধবার পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। এ কারণে বাড়তি দামের চাপ পড়বে সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর। বাদ যাননি গ্রামের প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা।


পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকেই কার্যকর হবে।


আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে কম দাম বাড়ানো হয়েছে লাইফলাইন শ্রেণিতে। এই শ্রেণির গ্রাহকেরা মাসে সর্বোচ্চ ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। তাঁরা বাসায় সাধারণত একটি ফ্যান ও একটি বা দুটি বাতি ব্যবহার করেন। তাঁদের প্রতি ইউনিটে দাম বেড়েছে ৬৯ পয়সা। পিডিবি এই শ্রেণির দাম না বাড়ানোর প্রস্তাব কর। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে দাম বাড়ানো হয়। এর ফলে নিম্ন আয়ের এসব গ্রাহকের কাছ থেকে বছরে অতিরিক্ত ৭৮১ কোটি টাকা আদায় হতে পারে।


নতুন দর অনুযায়ী, আবাসিকে প্রান্তিক গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ টাকা ৩২ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৬৯ পয়সা বেশি। এ কারণে মাসে তাঁদের বিল বাড়বে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা।


০-৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি নতুন দাম ৬ টাকা ১৮ পয়সা। এই শ্রেণিতে বেড়েছে ৯২ পয়সা। মাসে বিল বাড়বে ৬৯ টাকা।


এই দুই শ্রেণির গ্রাহকেরা সাধারণত একাধিক বাতি ও একটি বা দুটি ফ্যান ব্যবহার করেন। মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের ৬৫ শতাংশ এই দুই শ্রেণির ব্যবহারকারী।


বিদ্যুতের দাম সংশোধন করা হলে আবাসিকে ‘লাইফলাইন’ শ্রেণির গ্রাহকের জন্য আগের দাম প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা ও প্রথম ধাপের ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর দাম হবে প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা।




বাংলাদেশ সচিবালয়

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

সরকারি কাজে গতি ফেরাতে সচিবদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। 


গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিএনপি সরকারের প্রথম সচিব সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।


সভায় প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। কোন কর্মকর্তা কীভাবে তাঁর কর্মজীবন পরিকল্পনা করবেন, সে বিষয়ে প্রত্যেক সচিবের কাছে পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের সব ধরনের দপ্তর ও কর্মস্থলে কাজের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।


বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নাসিমুল গনি সচিবদের বলেন, একটি কার্যকর ক্যারিয়ার প্ল্যান বা পেশাগত পরিকল্পনা হলো আপনার ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ, যা আপনাকে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। এ জন্য সব সচিবকে দ্রুত একটি ক্যারিয়ার প্ল্যান দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সচিব বলেছেন, সভায় বলা হয়, আমলাতন্ত্রের কাঠামো ও কাজের ধরন এখন আর আগের মতো নেই। পরিবর্তিত বাস্তবতায় কর্মকর্তাদের নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এ জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ডি-নথির ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়। সচিবালয় নির্দেশমালা মেনে চলার বিষয়েও সচিবদের সতর্ক করা হয়েছে।


বৈঠকে বলা হয়, সব কর্মকর্তা সব ধরনের কর্মস্থলে চাকরি করতে চান না। কিন্তু সরকারের প্রতিটি দপ্তর ও সংস্থাকে কাজের উপযোগী করে তুলতে হবে। কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী কাজের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কেউ সরকারের কাজ করছেন না বা দায়িত্বে অবহেলা করছেন- এমন কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।


সচিব সভায় বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ খাতটির সার্বিক অবস্থা, চলমান কার্যক্রম ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। 


পরে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বর্তমান অবস্থা, সমস্যা এবং অগ্রাধিকারের বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় সরকারি দপ্তরগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধির নির্দেশ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।


স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের দপ্তরগুলোতে প্রাথমিকভাবে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিগগির সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। 


শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’


দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণের মাধ্যমে প্রশাসনের কার্যক্রম গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে সচিবদের একটি ক্রাশ প্রোগ্রাম নিতে বলা হয়েছে। 


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব পাবলিক সার্ভেন্টস-২০২৪’ অনুযায়ী, সব শ্রেণি মিলিয়ে বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত। এর বিপরীতে শূন্য আছে চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ। 


গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ এএম

দেড় মাসের বেশি সময় পর দেশে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর গত সোমবার রাত থেকেই বেড়েছে সরবরাহ। গতকাল মঙ্গলবার যা আরও কিছুটা বেড়েছে।


পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ানোর পর সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে শিল্প গ্রাহকদের। বাড়তি গ্যাসের অধিকাংশ যাচ্ছে শিল্প খাতে।


তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আর আমদানি করে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। 


এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনায় শুরুতে সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সময়মতো এলএনজির কার্গো না আসায় সরবরাহ বাড়াতে দেরি হয়েছে। এখন নিয়মিত আসছে কার্গো।


পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। গত সোমবার রাত ১০টায় এলএনজি সরবরাহ করা হয় ৯৮ কোটি ঘনফুট। আর গতকাল রাত আটটায় এটি বেড়ে হয়েছে ১০১ কোটি ঘনফুট। এতে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২৬৩ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে ১৬২ কোটি ঘনফুট।


এর আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তার আগে দিনে সরবরাহ করা হচ্ছিল ২৬৪ কোটি ঘনফুট। তখন এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হতো ৯৯ কোটি ঘনফুট। এখন এলএনজি থেকে একই পরিমাণ সরবরাহ করা হলেও দেশি গ্যাস থেকে এরই মধ্যে উৎপাদন কমেছে ৪ কোটি ঘনফুট।


পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বরে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একাধিকবার দরপত্র দিলেও সব কটি পাওয়া যায়নি। দামও অনেক বেড়ে গেছে। এ মাসে সব মিলিয়ে ৯টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার থেকে কেনা হয়েছে পাঁচটি।


আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, এ মাসে আরামকোর দুটি, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম ও পস্কোর একটি করে কার্গো ইতিমধ্যে এলএনজি সরবরাহ করেছে। এরপর আজ ১৬ সেপ্টেম্বর গানভর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো ও ২৮ সেপ্টেম্বর গানভরের একটি করে কার্গো আসার কথা। ফলে এলএনজি থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। 


এর মধ্যেই অক্টোবরের জন্য ১১টি এলএনজি কার্গো কেনার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে অক্টোবরের ৮টি কার্গো নিশ্চিত হয়েছে। আরও ৩টি কিনতে গতকাল দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।


নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকার ফকির নিটওয়্যার লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ইমতিয়াজ রাজীব বলেন, চাপ ১০ পিএসআই থাকার কথা, আসছে ৪ পিএসআই। আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।


নারায়ণগঞ্জ ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, কারখানা চালাতে যতটুকু চাপ প্রয়োজন, সেই পরিমাণ চাপ গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।


লোডশেডিং থামেনি, কিছুটা কমেছে


গ্যাসের সংকটে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও কয়লার স্বল্পতা ও কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছিল না। এতে এক মাস ধরেই সারা দেশে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এটি কমাতে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফার্নেস তেলের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় বেশি করা যাচ্ছে না। ২০ সেপ্টেম্বরের পর তেল থেকে উৎপাদন বাড়ানো হতে পারে।


গত বুধবার রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে উৎপাদন আরও কমায় দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়। 


গত রোববার দুপুর ১২টায় আদানির দ্বিতীয় ইউনিট থেকে সরবরাহ শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রটি থেকে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি করে সরবরাহ করা হচ্ছে।


আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যায় বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট। এক ইউনিট বন্ধের পর গতকাল ৬১০ মেগাওয়াট উৎপাদন করেছে কেন্দ্রটি। এটি আবার পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরতে আরও দুই দিন লাগতে পারে।


পটুয়াখালীতে চীন ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে দুটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। প্রতিটি কেন্দ্র ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতায় নির্মিত হয়। এর মধ্যে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ আছে। এতে উৎপাদন হচ্ছে ৫৭০ মেগাওয়াট। এখানে পর্যাপ্ত কয়লা আছে। আর একই জেলার আরেকটি কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর গতকাল ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা হয়েছে।


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র বলছে, সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় কয়লা থেকে। কিন্তু এক মাস ধরে কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পুরো সক্ষমতায় উৎপাদন করা যাচ্ছে না। জ্বালানি তেল থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন করা হচ্ছে। গত সোমবার দিবাগত রাত একটায় আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। 


গতকাল দিনের বেলায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এর আগে গত মাসে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হয়েছে। এ হিসাবে আগের তুলনায় লোডশেডিং কমে এসেছে।


‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১১ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, নির্বাচিত বিএনপি সরকার গত সাত মাসে দেশে মানুষের অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ পরবর্তী পুঞ্জীভূত জঞ্জাল একবারে রাতারাতি মূলোৎপাটন করা দুরূহ। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এই সাত মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। কোথাও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো গুম হয়নি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। রাষ্ট্রীয় মদদে বিরোধী দলের ভিন্ন মত, পথ, ভিন্ন আদর্শ কিংবা রাজনৈতিক মূল্যবোধকে হরণ করা হয়নি।



আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত কোনো প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আমাদের জানা মতে ঘটেনি।’



তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মদদে’ কথাটি স্পষ্ট করে বলার কারণ— অতীতে একটি নির্দিষ্ট সরকারি কার্যালয় থেকে বা রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিরোধী মতের মানুষের তালিকা করা হতো এবং নির্দেশ দিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হতো। বর্তমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা প্রশাসনিক ভুলভ্রান্তি ঘটে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তা জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আইনের অনুশাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে।



প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এই গণতান্ত্রিক ধারাকে সরকার স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি ঘটে থাকলে অতীতের মতো তা ধামাচাপা না দিয়ে তথ্য পাওয়ামাত্রই দ্রুত তদন্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে দমন-নিপীড়নের সংস্কৃতি ভেঙে এখন প্রান্তিক মানুষের অভিযোগকে মূল্যায়ন করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটিই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন। সামনের দিনগুলোতে এই স্বচ্ছতা আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।



জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, এই ঐতিহাসিক আন্দোলন নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, এমন একটি জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, যেখানে সবাই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছিল।



বিভিন্ন আইনের ক্ষেত্রে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, বিগত অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের একশ’র বেশি অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতো দ্রুত সময়ে এতো বিপুল সংখ্যক আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পাস করার নজির অতীতে বিরল। তবে, নতুন যে কয়েকটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলোতে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের খসড়াগুলো অনেক আগেই উন্মুক্ত করা হয়েছিল। মনে রাখতে হবে, আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া।



দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন শেষে যখন একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করে, তখন আইন প্রণয়নকারী সংসদ সদস্যরা সর্বস্তরের মানুষের মতামত ধারণ করার চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়তো প্রথমবারেই শতভাগ নিখুঁত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে, বিভিন্ন পর্যায়ে অংশীজনদের মতামত নিয়ে যেখানে বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে, সেখানে সরকার প্রয়োজনীয় সংশোধনীও নিয়ে আসছে। 



মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনা রয়েছে— একটি আইনকে কীভাবে জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত করা যায়, সেজন্য যারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারবেন তাদের সঙ্গে নিবিড় পরামর্শ চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আইনের অক্ষরের চেয়ে সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। ফ্যাসিবাদের সময়ে সংবিধানের নানা ধারার অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। কাজেই আইনের ভাষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার মানবিক ব্যাখ্যা এবং প্রায়োগিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি।



প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আদর্শ ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশে এখন সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা বিরাজ করছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অশালীন বা অশ্রাব্য আচরণ করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পরমসহিষ্ণুতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা হচ্ছে। সংকীর্ণ রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা ও দর্শনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল।


তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক ও অবিচল থাকতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বকে মূল অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন মত ও পথকে এক ছাদের নিচে এনে দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেওয়াকেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বলে অভিহিত করেন তিনি।



মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি সংকটে এবং গণতান্ত্রিক পালাবদলে বিএনপির ভূমিকা অপরিসীম। বাকশাল, সামরিক শাসন কিংবা দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের পর প্রতিবারই বিএনপির হাত ধরে এ দেশে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাকশালের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটে এবং দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ পুনরায় গণতান্ত্রিক কক্ষপথে ফিরে এসেছে।



প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুষম জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এক্ষেত্রে স্বাধীনতা, অখণ্ড সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আজকের এই মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। ফ্যাসিবাদী আমলে কেবল বিএনপিরই ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম ও শহীদ হয়েছেন। গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই এই কঠিন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।



মাহ্দী আমিন আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে, রাষ্ট্র ক্ষমতার একমাত্র উৎস এবং প্রকৃত মালিক এ দেশের জনগণ। তাই জনগণের প্রতি শতভাগ দায়বদ্ধতা ও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিয়ে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, কেবল রাজনীতিকরা নন; দেশের সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত এবং বিশেষ করে তরুণ ও নারী সমাজকে মূল চালিকাশক্তি করে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তারুণ্যের অপার সম্ভাবনা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ঋণ শোধ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে কাঙ্ক্ষিত মর্যাদার আসনে পৌঁছে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।



টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের পরিচালনায় আলোচনায় আরো অংশ নেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা প্রমুখ। এছাড়া শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০৯ পিএম

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং তা রক্ষা করাই দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে, কিন্তু বিভিন্ন সময়ে সেই পথে বাধা এসেছে। এবার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই অবহেলায় গণতন্ত্র হারানো যাবে না।


আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।




রাষ্ট্রপতি বলেন, গত ১৫-১৬ বছর দেশের ইতিহাসে একটি জটিল সময় গেছে। ওই সময়ে গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। সেই ত্যাগের বিনিময়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির সুযোগ এসেছে।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা, রক্তপাত ও আমাদের সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছি। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি সুযোগ আমরা পেয়েছি।


রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে। এখন সরকারের সামনে বড় দায়িত্ব হচ্ছে ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে আবার জাগিয়ে তোলা এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা।


তিনি বলেন, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হয়। সংসদকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক। তবে সেই মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।


মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। সংসদকে কার্যকর করা, সংসদ যেন ঠিকমতো কাজ করে, সেই চেষ্টা করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে যে দ্বিমত রয়েছে, তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা।

আগামী দিনের রাজনৈতিক দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, অতীতে তাঁরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। এখন দেশের পুনর্গঠন এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন লড়াই শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে হবে।


তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনের লড়াই হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি বাসযোগ্য আবাস নির্মাণ করা।


রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশে সরকার ও বিরোধী দল থাকবে। বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকবে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোতে সবাইকে একমত হয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।


তিনি বলেন, ‘আসুন, আমাদের যে সাধারণ বিষয়গুলো আছে, সেই বিষয়গুলোতে আমরা একমত হই। একমত হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাই।’


বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। এই সম্প্রীতি বাংলাদেশের অন্যতম বড় সৌন্দর্য। দেশের অগ্রযাত্রায় এই সম্প্রীতি ও ঐক্য ধরে রাখতে হবে।


সিলেটের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি বহুবার সিলেটে এসেছেন। অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। গণতন্ত্রের আন্দোলনেও সিলেটের মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।


সিলেটের মানুষের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন অতিথিপরায়ণতা ও শান্তিপ্রিয়তা রয়েছে, অন্যদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার ঐতিহ্যও রয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য সিলেটের মানুষ অতীতেও অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।


সিলেটের গুণী ব্যক্তিদের স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, সুফি সাধক শাহ আবদুল করিম, হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও সৈয়দ মুজতবা আলীর মতো বহু কৃতী মানুষের জন্ম ও কর্মের সঙ্গে সিলেটের সম্পর্ক রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধেও সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।


সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা কাজ করছেন। ইতিমধ্যে বেশ কিছু বড় প্রকল্প সামনে এসেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তিনি আশা করেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য নিজেদেরও উদ্যোগী হতে হবে। কেউ এসে সবকিছু করে দিয়ে যাবে-এমন প্রত্যাশা না করে নিজেদের সামর্থ্য ও ঐক্যকে কাজে লাগাতে হবে।


তিনি বলেন, ‘আমরা যদি নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে না পারি, আমরা যদি নিজেদের দাবি নিজেরা আদায় করে নিতে না পারি, কেউ এসে আমাদের জন্য করে দিয়ে যাবে না।’


অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছসহ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


মঙ্গলবার দুপুর সোয়া একটার দিকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৪ পিএম

সুপ্রিম কোর্টের সড়কসংলগ্ন মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। কে বা কারা এই ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে আজ দুপুরে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এই রায় ঘোষণার পর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।


শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বেলা ১টা ১৫ থেকে ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে মোটরসাইকেলে করে দুজন ব্যক্তি আসেন। তাঁরা মূল ফটকের সামনে সড়কে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যান। ককটেল বিস্ফোরিত হয়।


ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছেন বলে জানান ওসি মো. মনিরুজ্জামান।


ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এ ঘটনায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।


ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না—স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এ মন্তব্যের বিষয়ে কোনো পাল্টা মন্তব্য করতে রাজি নন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 


ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে ‘নো কমেন্টস’। তবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের পর স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে। ‎আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। 


‎স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘উনি যেটা বলেছেন সেটা শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমি দেখাব না। নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।’


ইসি সচিব বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে এটি নিশ্চিত। তবে নির্বাচন কবে এবং কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে গত দুইদিন ধরে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘এর ধারাবাহিকতায় গতকাল (সোমবার) একটি টেন্টেটিভ (প্রাথমিক) সময়সূচি করা হয়েছে। সেখানে পাঁচটি ধাপে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দু’টি ধাপ রিজার্ভ রাখা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি।’


‎ইসি সচিব বলেন, ‘আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ইনপুট নেওয়া হবে। এরপর এসব মতামতের ভিত্তিতে কমিশন নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।’


তিনি বলেন, ‘১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের জন্য প্রয়োজনীয় উপাত্ত হিসেবেই প্রাথমিকভাবে পাঁচ ধাপ ও দু’টি রিজার্ভ ধাপের ধারণা দেওয়া হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুছিয়ে কমিশনকে জানাতে পারেন।’

‎মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর প্রয়োজনীয় ইনপুট পাওয়ার ভিত্তিতে কমিশনই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।’


‎আলোচনা হয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জানান, আলোচনা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া। কার সঙ্গে কখন, কীভাবে আলোচনা হয়েছে, এ বিষয়ে এই মুহূর্তে বাড়তি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন বলেও জানান তিনি।


‎ছয় মাস ধরে নির্বাচন হলে প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর কমিশন এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানাবে।’