মনিরা শারমিন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৭:২৭ এএম

সরকারি চাকরি ছেড়ে আসার তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।


ইসি বলছে, এই মনোনয়ন বাতিলের ফলে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে একটি আসন ফাঁকা থাকল। এই আসনটি পরে উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং পরবর্তীতে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল ও জোট অংশ নিতে পারবে। 


তবে মনিরা শারমিনের প্রার্থীতা ফিরে পেতে ইসিতে আপিলের সুযোগও থাকছে। মনিরা শারমিন নিজেও বলেছেন, তিনি প্রার্থীতা ফিরে পেতে আপিল করবেন।


আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দিন খান মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান। 


আজ ছিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় ও শেষ দিন। দুইদিনে ৫৩টি মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করে ইসি।


মো. মঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘গতকাল ২২ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় আমরা উল্লেখ করেছিলাম যে মনিরা শারমিনের কিছু নথিতে ঘাটতি ছিল। সেগুলো আজ দুপুর ১২টার মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য তাকে বলা হয়েছিল। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা জমা দিয়েছেন।’


মঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা সংরক্ষিত মহিলা আসন সংক্রান্ত আইন এবং আরপিও এর প্রাসঙ্গিক ধারাগুলো পর্যালোচনা করেছি। এতে দেখা যায়, মনিরা শারমিন কৃষি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন যা একটি স্ট্যাটিটিউরি পাবলিক অথরিটি বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১২ এর (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়া বা অবসর নেওয়ার পর কমপক্ষে তিন বছর অতিক্রান্ত হতে হয়। কিন্তু, তার ক্ষেত্রে তিন বছর পার হয়নি। বিধায়, এই মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হলো।’


মঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘বাতিল হওয়া প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করতে পারবেন। কমিশন তখন তা বহাল বা বাতিল করতে পারবেন।’


যে মনোননয়পত্রটি বাতিল হলো, সেই সংরক্ষিত আসনের কী হবে জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির উপসচিব মো. মনির হোসেন বলেন, ‘যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আসন শূন্য থাকে তাহলে পরবর্তীতে তা উন্মুক্ত হয়ে যাবে। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ এ বলা আছে, বাতিল হওয়া আসনটি পরে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। সেই আসনের নির্বাচনে তখন সকল জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবে।’


মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, আমার চাকরি ছাড়ার বয়স তিন বছর হয়নি এটা ঠিক। কিন্তু, আইনে যা উল্লেখ আছে, সেটি আমার মতো একজন ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তার জন্য প্রযোজ্য না বলে মনে করি। আমি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব। 


সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হলে নির্বাচন করা যাবে না- যে কারণে এই আইনটি করা হয়েছিল, তা আমার জন্য প্রযোজ্য না বলে মনে করি। কারণ, এটা একটা ব্যাংকের চাকরি।’




নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। 


বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আজ সোমবার বিকালে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, “আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি আমরা তখনই সফলভাবে করতে পারব, যখন তোমরা আজকে যারা গ্যালারিতে বসে আছ এবং যারা খেলার মাঠে পুরস্কার পেয়েছ, তোমরা নিজেদেরকে আগামী দিনের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে।”


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা সঠিকভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের দিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরা যদি নিজেদের গড়ে তুলতে পারো, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। এই কাজ আমরা হয়তো শুরু করেছি। কিন্তু বাংলাদেশ গড়ার কাজ তোমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”




আমার দৃঢ় বিশ্বাস-আজ প্যান্ডেল ও গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার শিশুর মধ্য থেকেই আগামী দিনের সফল ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার, সাঁতারু ও টেনিস খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে; যারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা শক্তভাবে নিজেদের আত্মগঠনে মনোযোগ দাও।


ছোট্ট শিশুদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা, তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। এই দেশটা আমাদের সকলের। এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি, তাহলে একটি সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারব। তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তোমার বাসার আশপাশে অনেকে বিভিন্ন রকম ময়লা, প্লাস্টিকের বোতল ফেলে যায়। কেউ এগুলো ফেলছে-সেটি পুকুর হোক, নদীনালা হোক বা বাসার আশপাশে; এখন থেকে যদি এরকম কোনো দৃশ্য তোমাদের চোখে পড়ে, প্লিজ! তোমরা তাকে বারণ করবে। দরকার হলে সেই ময়লাটি তোমরা তুলে নিয়ে গিয়ে যেখানে ময়লা ফেলার জায়গা, নির্দিষ্ট সেই জায়গায় ফেলবে। যাতে আমাদের পরিবেশ, আমাদের নদীর পানি, পুকুরের পানি পরিষ্কার থাকে। সেখানে মানুষ সুন্দরভাবে হাঁটাচলা করতে বা বসতে পারে।”


শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রতিবছর চেষ্টা করবে, তোমার বাড়ির আশপাশে হোক, স্কুলের আশপাশে হোক অথবা যেখানে তুমি সুবিধা মনে কর সেইখানে একটি করে গাছ লাগাতে হবে। গাছ যদি আমরা লাগাতে পারি, আমাদের পরিবেশটা সুন্দর হবে, পরিষ্কার হবে। আমরা সকলে মিলে বুকভরে শ্বাস নিতে পারব।”


তিনি আরও বলেন, “কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা প্রকৃতির প্রতি, বিভিন্ন পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত নির্দয়। আজকে আমার সকল ছোট্ট বন্ধুদের আমি অনুরোধ করব, আসো আমাদের আশপাশে যত কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল যত রকম পশুপাখি আছে আমরা চেষ্টা করব এই যে প্রকৃতির, আল্লাহ দেওয়া বিভিন্ন জীব, পশুপাখি এদের যত্ন নেওয়ার। যত্ন যদি নিতে না পারি, অন্তত আমরা চেষ্টা করব তাদের যাতে কোনো প্রকার ক্ষতি হতে না পারে।”


বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সরকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। শিশুরা যে ক্ষেত্রে নিজেদের বিকশিত করতে চায়, তা পড়ালেখা, খেলাধুলা, গান বা ছবি আঁকা-যা-ই হোক না কেন-সরকার তাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২২ পিএম

৪৫ দিন পর পুনরায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন পেয়েছে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স ফেরত দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা চালুর অনুমতি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লাইসেন্স ফেরত পাওয়ায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, জরুরি বিভাগসহ সবধরনের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালু হবে।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৪৫.০০.০০০০.০০০.১৬৩.২৭.০০১৪.২৬ (অংশ-২).১০৩ নং স্মারকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেয়া হয়।


এদিকে লাইসেন্স ফেরত পাওয়ায় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া আদায় করছে। একই সঙ্গে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবাগ্রহীতা, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠন, আইনজীবী, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সোস্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট, শুভানুধ্যায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে যারা আদ্-দ্বীনের পক্ষে সোচ্চার থেকে কথা বলেছেন তাদের সবার প্রতি কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে।

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহকে আগামী ৫ বছরের জন্য জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ড. মাহবুব উল্লাহ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তিনি কোনো গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকে নিজের পছন্দমতো ক্ষেত্রে গবেষণামূলক কাজ করবেন। গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) অবহিত করবেন। পাশাপাশি গবেষণাকাজের অগ্রগতি সম্পর্কেও প্রতিবেদন জমা দেবেন।


এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ তার গবেষণাকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত রাখবে। একই সঙ্গে গবেষণার তথ্য-উপাত্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে পাঠাবে।


প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর গ্রেড-১ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।


তবে এ সময়ে তিনি অন্য কোনো চাকরিতে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।


আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

রাজধানীর বড় মগবাজারে অবস্থিত আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সন্তোষজনক বিবেচনা করে শর্তসাপেক্ষে হাসপাতালটিকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


আদেশে বলা হয়, হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাখিল করা আপিল ও এর বিস্তারিত বিবরণ পর্যালোচনার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটিকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত শেষে কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।


তবে হাসপাতালটির কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২- এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যতে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ হলে সরকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।


স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা আদেশে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তার কাছেও আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।


এর আগে হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার পর হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপিল করলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়।


 চিকিৎসাসেবা চালুর দিন-তারিখ জানালো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল


সিএনজি স্টেশন মালিকদের কর্মসূচি স্থগিত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৪৭ পিএম

গ্যাস সংকটের কারণে আগামী ৩০ জুলাই সিএনজি স্টেশন বন্ধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে স্টেশন মালিক সমিতি। ৩০ জুলাইয়ের কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও দাবি মানতে। এজন্য আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।


সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের কারণে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। দাবি না মানলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানান সমিতির নেতারা।


সংগঠনটির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ, ভবিষ্যতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশন সমন্বয়ের ব্যবস্থা চালু করা, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেওয়ার প্রথা বাতিল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি ইজারাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা।


এর আগে কমিশন বৃদ্ধিসহ ৪ দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই সারা দেশের সব সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।


সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:২৫ পিএম

আগামী সপ্তাহে গ্যাস সংকট পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।


সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সংকট পরিস্থিতি উত্তরণে সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি বাসা-বাড়িতে মা-বোনেরা, গৃহিণীরা সংসারের রান্নার কাজে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন। ইন্ডাস্ট্রিগুলোর প্রোডাকশন কম্প্রোমাইজড হয়েছে। এই কারণে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি জনগণের কাছে।


তিনি বলেন, বলতে কোনো দ্বিধা নেই এটা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি নয়। একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু, স্টিল তারা দেশের এই সাপ্লাইটা এনসিওর করে। আমরা তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। আমরা এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারছি না, এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। আমরা এজন্য বারবার দুঃখপ্রকাশ করছি। কিন্তু, একেবারে ২৪/৭ আমাদের টিম তাদের সঙ্গে একান্তভাবে কাজ করছে। আমরা যেটা বললাম, আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে ইনশাআল্লাহ।


প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, টোটাল সাপ্লাইটা (ত্রুটি দেখা দেওয়া ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ থেকে) ৫০০-৫৫০ এর মতো, আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকে ২৮০-৩০০ তারা ন্যাশনাল গ্রিডে, অর্থাৎ ২৮০-৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট পার ডে তারা ন্যাশনাল গ্রিডে সাপ্লাই দিতে সমর্থ হবে। এটা তাদের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী বলছি। এটা আমাদের নয়, তাদের তথ্যের ভিত্তিতে।


অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আগামী সপ্তাহে ৫০ শতাংশ সরবরাহ চালু করতে পারলে পরের সপ্তাহে ১০০ শতাংশ করতে পারবে। এটাই এখন পর্যন্ত প্ল্যানিং আছে।


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়।


তিনি বলেন, আমদানিকৃত এলএনজি দুটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) দিয়ে রি-গ্যাসিফাই করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গত সপ্তাহে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। পরে ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও সমাধান না হওয়ায় আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে। পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এক্সিলারেট এনার্জির বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।


বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় স্পেয়ার পার্টস আনা হচ্ছে। এগুলো এয়ার ফ্রেইটে আনা হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাস্টম ছাড়পত্র দিয়ে মেরামত কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।


প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এফএসআরইউতে একটি বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, ওই সময় কাছাকাছি একটি এলএনজি কার্গো থাকলেও দ্রুত সেটি সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।


তিনি আরও জানান, এলএনজি দীর্ঘ সময় মজুত করে রাখা হয় না। জাহাজে করে এলএনজি আসে এবং এফএসআরইউতে তা গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। একটি টার্মিনাল অচল থাকায় কার্গোর সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তবে সামিট পরিচালিত অন্য এফএসআরইউ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।


স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা


জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলা নয়, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও সরকার একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। স্বল্পমেয়াদে ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস ব্যবহার এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যমেয়াদে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর দীর্ঘমেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।


তিনি বলেন, বর্তমানে রি-গ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় প্রয়োজন থাকলেও অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন টার্মিনাল স্থাপন করা গেলে সরবরাহ বাড়ানো যাবে।


অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ভোলার স্থানীয় চাহিদা, শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন মেটানোর পর যদি উদ্বৃত্ত গ্যাস থাকে, তাহলে তা মূল ভূখণ্ডে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সঙ্গে আলোচনা শেষে সবকিছু অনুকূলে থাকলে প্রায় এক বছরের মধ্যে সেই গ্যাস শিল্পকারখানা বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।


প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে অফশোর বিডিং রাউন্ড চালু করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো এতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আগামী নভেম্বরে বিড জমা দেওয়ার শেষ সময়।


তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।