জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আব্দুল মঈন খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান বলেছেন, বিএনপি প্রতিহিংসা নয়, বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। মঙ্গলবার সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলা হচ্ছে, জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতরা দেশে ফিরছে, এ ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান কী? এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট, বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছে। ১৯৭১ সালের সেই কালো রাতে যেদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হায়েনার মতো এ দেশের নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেদিন প্রতিবাদের ঝান্ডা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আমরা সেই আদর্শে বিশ্বাসী—বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। বিএনপি একদলীয় বাকশাল শাসন, যেটা বাংলাদেশের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো আওয়ামী লীগ চাপিয়ে দিয়েছিল, সেই ধ্যান-ধারণায় বিএনপি বিশ্বাস করে না। বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে।’
মঈন খান বলেন, ‘আমরা আপনাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, বিএনপি একটি উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল। আমরা সবাইকে নিয়ে আমরা রাজনীতি করি। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। এটা আমাদের নেতা তারেক রহমান বারবার বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র আমরা বারবার ফিরিয়ে এনেছি, আমরা ২০২৪ সালে ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার যে বিপ্লব হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। এই গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আমরা রক্ষা করব।’
শোনা যাচ্ছে আপনি রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন— এ নিয়ে দলে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সাংবাদিকের প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।
নরসিংদী-১ আসনের বিএনপির সাংসদ খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনের মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ আসনের সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (স্বাস্থ্যমন্ত্রী), নরসিংদী-৫ আসনের আশরাফ উদ্দিনকে নিয়ে জিয়া উদ্যানে আসেন নরসিংদী-২ আসনের সাংসদ মঈন খান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইউনিক্লোর শীর্ষ নির্বাহীরা
জাপানের বিশ্বখ্যাত পোশাক প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বুধবার জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রতি ইউনিক্লোর আস্থা এবং ফাস্ট রিটেইলিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে আরও বিনিয়োগের জন্য ইউনিক্লোকে আহ্বান জানানো হয়।
বিশেষ করে ম্যান-মেড ফাইবার (কৃত্রিম তন্তু), টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং টেকসই পোশাক উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যে উদ্ভাবন, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ইউনিক্লোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে জমির ব্যবস্থা, বিনিয়োগের অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজীকরণে সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ। এ চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাপানি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক তাকেশি ওকাজাকি এবং প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ইয়োশিহিরো কুনিই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জেবিআইসির গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকোর
জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এসময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার জন্য জেবিআইসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিধিবিধান সংস্কার ও সহজীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জেবিআইসির অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বৈঠকে বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার অনুরোধ জানানো হলে সংস্থাটির গভর্নর প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ।
রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিরা
বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের জন্য পাচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী চক্রের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। তাঁদের অনেককে পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কেউ নিহত, আহত, বন্দী কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশন ৪৮টি দেশের নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা তদন্ত করে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রতারণা বা জবরদস্তির প্রমাণ পেয়েছে।
এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপাইন, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও উজবেকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ। রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে পাচার বাংলাদেশি এক ব্যক্তির স্ত্রী তার স্বামীর সঙ্গে সেখানে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু বিষয়ের বর্ণনা দিয়েছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশী এক ভুক্তভোগীর স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত বলা হয়েছে, তাঁর স্বামীর পাসপোর্ট নিয়ে তাঁকে চুক্তির বিভিন্ন জায়গায় স্বাক্ষর করতে হয়েছিল। চুক্তিটি ছিল শুধু রুশ ভাষায়।
ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছিলেন। তাঁর সামনে কার্যত কোনো বিকল্প ছিল না। বেসামরিক চাকরির প্রলোভনের ফাঁদে রাশিয়ায় নিয়ে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষরে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ।
কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ বাহিনীতে নিয়োগের পর বিদেশি নাগরিকদের ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয় এবং বিপজ্জনক দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের অনেকে নিহত, আহত, বন্দি কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের ওপরও নেমে এসেছে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপ। চাকরির আশায় বিদেশে যেতে কেউ কেউ নিয়োগ ফি হিসেবে বিপুল অর্থ দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা ঋণ করেছেন কিংবা সম্পদ বিক্রি করেছেন। পরে স্বজনের মৃত্যুসংবাদ পেলেও কোনো কোনো পরিবার তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও অনেক পরিবার নির্ভরযোগ্য তথ্য পায়নি।
বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী চক্রের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এসব ব্যক্তির অনেককে পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কেউ নিহত, আহত, বন্দি কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও আরও যেসব দেশ থেকে রাশিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে পাচারের করা হয়েছে তা হলো– ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপাইন, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, উজবেকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ।
জাতিসংঘের এই সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে চক্রের ফাঁদ ও পাচারের আন্তর্জাতিক ভয়াবহ রূপকেই বিশ্বমঞ্চে নতুন করে তুলে ধরল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতারণা বা জবরদস্তির শিকার ব্যক্তিরা সবাই পুরুষ। তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং সীমিত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া মানুষ। তাঁদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাশিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হতো।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে তদন্ত কমিশন রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি ব্যবসায়িক ভিসার অনুলিপি সংগ্রহ করা হয়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ভিসায় রাশিয়ার একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি নাগরিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ভ্রমণের উদ্দেশ্য কাগজপত্রে বেসামরিক হিসেবে দেখানো হলেও কমিশনের সামগ্রিক তদন্তে দেখা গেছে, এ ধরনের ব্যবস্থার আড়ালে বিদেশি নাগরিকদের রুশ সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী এজেন্ট ও সংস্থাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাশিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিত।
নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, নির্মাণশ্রমিক, মেকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান, কারখানার শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশায় চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাশিয়ার নাগরিকত্ব ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হতো। নিয়োগকারী এজেন্টরা নিজেদের বৈধ বা সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিত। চাকরির প্রস্তাব বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখানো হতো। এরপর ভিসা, উড়োজাহাজের টিকিট এবং ভ্রমণসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যবস্থা করে তাঁদের রাশিয়ায় পাঠানো হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এজেন্টরা নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে রাশিয়ায়ও যেত। বাংলাদেশিদের নিয়ে পাওয়া সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্যেও একই ধরনের প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর অনেক বিদেশি নাগরিককে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এসব চুক্তি রুশ ভাষায় লেখা হওয়ায় অনেকেই এর শর্ত বুঝতে পারেননি। তাঁদের কারও কারও পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। চলাফেরার স্বাধীনতাও সীমিত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা জানতে পারেন, প্রতিশ্রুত বেসামরিক চাকরির পরিবর্তে তাঁদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করতে হবে।
পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিয়োগকারী এজেন্টরা অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পরিবারের ফোনও ধরত না। এসব ঘটনা ২৯টি দেশের নাগরিকদের নিয়োগের সামগ্রিক চিত্র হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। মানবপাচারের প্রমাণ, ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান তদন্ত কমিশন বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী চক্রের সঙ্গে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের উচ্চমাত্রার সমন্বয়ের প্রমাণ পেয়েছে। কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, প্রতারণা, আর্থিক ও সামাজিক দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া এবং জোর করে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করানোর মতো কর্মকাণ্ড বিদেশি নাগরিকদের পাচার করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে কমিশন সংশ্লিষ্ট ঘটনায় রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের মানবপাচার ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। কমিশন রাশিয়াকে এ ধরনের নিয়োগ বন্ধ করা, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে ভুক্তভোগীদের মুক্ত করতে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতারণামূলক নিয়োগ ঠেকাতে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর সুপারিশও করেছে। আগেই সতর্ক করেছিল ব্র্যাক রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিদের যুদ্ধে পাঠানোর ঘটনা এর আগেও সামনে এসেছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনেও রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের পাচারের বিষয় উঠে এসেছিল। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভালো বেতনের চাকরির আশায় বৈধ ভিসায় রাশিয়ায় যাওয়ার পর তাঁদের জোর করে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ, ভুক্তভোগীদের উদ্ধার এবং সরকারি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল ব্র্যাক।
তিন বছরে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে অন্তত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্দশা, ঋণের বোঝা এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারার বিষয়গুলোও সামনে এসেছে। জাতিসংঘের এই অনুসন্ধান বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা করে মানুষকে সশস্ত্র সংঘাতে যুক্ত করার আন্তর্জাতিক মাত্রা তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রকৃত সংখ্যা, নিয়োগকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এবং নিখোঁজ বা আটকে পড়া ব্যক্তিদের অবস্থান নির্ধারণে আরও তদন্ত ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়েছে।
রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিরা। ছবি-সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, দাম্মামসহ কয়েকটি বিমানবন্দরে ইয়েমেনের স্বশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার কারণে বন্ধ থাকা রিয়াদ-ঢাকা রুটে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বুধবার চালু হতে পারে। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বার্তায় বলেছে, সব ঠিক থাকলে বুধবার থেকে রিয়াদ-ঢাকা রুটে ফ্লাইট চালু হতে পারে।
এদিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতিদের হামলা শুরুর পর ঢাকা থেকে দেশটির বিভিন্ন রুটে এ পর্যন্ত ১৪৬টি ফ্লাইট বাতিল স্থগিত হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ২২ হাজার ২৪১ জন যাত্রী।
এরইমধ্যে হামলার ঘটনায় দাম্মাম ও রিয়াদ রুটে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান। আর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুই রুটে ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম মঙ্গলবার বলেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কারও যদি ভিসা সংক্রান্ত ইস্যু থাকে, কেউ আর্জেন্ট যেতে চায়, তবে জেদ্দা হয়ে যেতে পারবে। ওই রুটে ফ্লাইট চালু রয়েছে।”
একইভাবে বিমানের যাত্রীরা জরুরি প্রয়োজনে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাওয়া এবং বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে বিমানের পক্ষ থেকে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, বাতিল ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের। ভারতীয় এই এয়ারলাইন্সের ৩০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এছাড়া ইমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, সালাম এয়ারের ৭টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি
জাপান সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৈঠক শেষে স্ট্যাটাসে এই সাক্ষাতের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি। সেখানে তিনি বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি জাপানের জোরালো সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার স্ট্যাটাসে জানান, ‘গণতন্ত্র’ এবং ‘আইনের শাসন’-এর মতো অভিন্ন মূল্যবোধের অংশীদার হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসনের পথচলাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে একটি ‘গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের’ পর গঠিত এই নতুন সরকারের রাষ্ট্র গঠনের সকল প্রচেষ্টায় জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। স্ট্যাটাসে বলা হয়, মঙ্গলবারের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিশেষ করে ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি)’ রূপকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ‘বিগ-বি’ (BIG-B) উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন দুই নেতা।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশকে একটি ‘শান্তিপূর্ণ জাতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বিভিন্ন খাতে জাপান সরকার ও জনগণের দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি বিশাল বাজার হিসেবে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়টি জাপানের অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যকার ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ ওপর ভিত্তি করে আজ একটি ‘যৌথ বিবৃতি’ প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী দিনে উভয় দেশ বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে, যাতে বাংলাদেশ ও জাপান সম্মিলিতভাবে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হতে পারে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের অগ্রভাগের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এটি উপকূলটিতে আঘাত হানবে। বাংলাদেশে কেবল দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির প্রভাব থাকবে। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া এমন তথ্য জানিয়েছে।
ভারতের আবহাওয়াবিদ উমশঙ্কর দাশ জানিয়েছেন, বর্তমানে ঘণ্টায় ৬ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। অর্থাৎ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে।
দুপুরে অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপাটনাম থেকে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ১৮০ কিলোমিটার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে, মাচিলিপাটনাম থেকে ২৭০ কিলোমিটার পূর্বে, বাপটলা থেকে ৩৫০ কিলোমিটার পূর্বে ও ওড়িশার গোপালপুর থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থান করছিল।
এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, একই সময়ে ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৩০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৯৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল ২৮ অক্টোবর দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা এবং বিশাখাপাটনামের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে বুধবার দুপুরের দিকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব উপকূলে উঠে আসবে। সে সময় এর গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। মূলত ভোরেই এর অগ্রভাগ ১৬০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানবে। এরপর ধীরে ধীরে শক্তিক্ষয় করে বৃহস্পতিবার স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে। পরের দিন এটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে।
আন্দামান দ্বীপ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, বিহারে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ঝড়ের সঙ্গে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, সিকিমে হতে পারে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি।
২৮ অক্টোবর সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে সমুদ্রের অবস্থা অতি প্রতিকূল হতে পারে। একই সময়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের আশপাশের সমুদ্রও বিক্ষুব্ধ থেকে অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ হয়ে ২৮ অক্টোবর সকালে অতি প্রতিকূল অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। ইতোমধ্যে জেলেদের অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশা উপকূলের আশপাশে সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশায় ঝড়ের প্রভাবে কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি এবং খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘর পুরোপুরি ধ্বংস হতে পারে। পাকা বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের খুঁটি বাঁকা বা উপড়ে যেতে পারে। ভেঙে পড়তে পারে গাছের ডাল, উপড়ে যেতে পারে বড় গাছ।
এ ছাড়া ফসল, বাগান ও ফলের বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। রাস্তা, রেলপথ, বিদ্যুৎ ওভারহেড লাইন ও সিগন্যালিং ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। ছোট নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নোঙর করা নৌযানও বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে অর্ণবের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের কিছু অংশ এবং উত্তরাঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে কমতে থাকবে ঝড়ের প্রভাব।