জোনায়েদ সাকি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ পিএম

সরকারের অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে শিগগিরই একটি ১৮০ দিনের রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই রোডম্যাপ দেবেন বলেও জানান তিনি।


গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। 


প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত কাজ শুরু করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।


তিনি আরও জানান, পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে। এ সময়ে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


সাকি বলেন, মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে নতুন সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট করা হবে না। নির্বাচনকালে যে অঙ্গীকারগুলো করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনই শুরু হবে।


প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


সরকার একটি ‘ক্লিন সরকার’ গঠনের অঙ্গীকার করেছে এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। 


১৮০ দিনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা তুলেছেন এবং খুব দ্রুত একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবেন। 


তিনি জানান, রমজানকে সামনে রেখে বাজার তদারকি জোরদার, দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।




আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগে যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান।


বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এজন্য তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ন্যস্ত করা হয়েছে।


পৃথক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বর্তমান মহাপরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হাফিজুল্লাহ খানকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মহাপরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ন্যস্তকৃত কার্যালয়ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্ধারণ করা হয়েছে।


জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। 


ইলেকট্রিক ট্রেন (ছবি-সংগৃহীত)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আজ তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।


একনেকের সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জয়দেবপুর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ-একটা প্রকল্প পাশ হয়েছে...ইলেকট্রিক ট্রেনের ব্যবস্থা। এটা কমিউটার ট্রেনের মতো। এর সাথে মেট্রোরেলের একটা সাদৃশ্য আছে। তবে এটা ট্র্যাডিশনাল ট্র্যাকের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হবে।


জোনায়েদ সাকি বলেন, অনেকে প্রশ্ন করেছে, বিদ্যমান ট্র্যাক লাইন দিয়ে চলবে কি না। বিদ্যমান ট্র্যাক লাইন ও কমিউটার ট্র্যাক লাইনের স্পিডে পার্থক্য হবে। তবে কমিউটার ট্রেন আবার বুলেট ট্রেনের মতো স্পিডে যাবে না। এটার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। ১৬০ কিলোমিটার বেগে চলার মতো যে ট্র্যাক লাইন দরকার, এটা তৈরি করা হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, ইলেকট্রিক ট্রেনের ট্র্যাক তৈরির কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ এগিয়ে গেছে।



একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প এবং একটি ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প। ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পের অনুমোদনও এই সভায় দেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে এই ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়বলে জানিয়েছেন জোনায়েদ সাকি। 



 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মেট্রো রেল যেভাবে চলে এটাও সেভাবে চলবে। তবে এটা ট্রেডিশনাল ট্রেন লাইন ট্র্যাকের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হবে। এই প্রকল্প পাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ইলেকট্রিক ট্রেন লাইনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।’

তি

নি আরো বলেন, ‘এটা সফল হলে এখানে একটা ইলেকট্রিক ট্রেন লাইন যুক্ত হবে এবং একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম ইলেকট্রিক ট্রেন লাইন হবে। তার জন্য ট্র্যাক তৈরি করার প্রকল্প আছে। অনেকের প্রশ্ন—বিদ্যমান ট্র্যাক লাইন দিয়ে এটা চলবে কিনা।


সর্বোচ্চ গতি হবে ১৬০

বিদ্যমান ট্র্যাক লাইনের যে স্পিড ওঠে, আর এই কমিউটার ট্রেনের যে স্পিড হবে—দুয়ের মধ্যে একটু পার্থক্য হবে।’


জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘তবে এই কমিউটার ট্রেন আবার বুলেট ট্রেনের মতো ৩০০ কিলোমিটার পার আওয়ার—এ রকম স্পিডে যাবে না, এটার সর্বোচ্চ গতি হবে ১৬০। এই ১৬০ কিলোমিটার চলার মতো যে ট্র্যাক লাইন দরকার, সেটা তৈরি করা হচ্ছে। প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যে এগিয়ে গেছে।’


তিনি বলেন, ‘ইলেকট্রিক ট্রেন লাইনের প্রকল্প সম্পন্ন হলে এই ট্র্যাক লাইনে কমিউটার ট্রেন প্রায় ১৬০ গতিতে চলবে, যেমনটা মেট্রো রেল চলে।’



#

ক্যাপশন

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি


‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৮ পিএম

চলচ্চিত্রকে সমাজ ও মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান। আজ বুধবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) অডিটোরিয়ামে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।



তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সময় সিনেমা যে বার্তা দিতো, তা আমরা হয়তো চোখ দিয়ে দেখতাম কিন্তু তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে যেত। প্রতিটি সিনেমায় নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা উচিত। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের প্রতিটি সিনেমায় সামাজিক ও মানবিক বার্তা ছিল।’ আগামী দিনে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে আগামীতে এমন কাজ করতে, যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবার কথা বলে।



সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের বাস্তবতা বদলেছে। বর্তমানে বহু তরুণ মাদকের ভয়াবহতায় জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বিশাল ক্ষতি। এর পাশাপাশি সমাজে নানাবিধ বৈষম্য রয়েছে। এই সংকট থেকে সমাজকে পথ দেখাতে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।’



চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই একসাথে কাজ করলে বাংলাদেশের সিনেমাকে আবারো তার পুরোনো ও গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।’



অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘অতীতের সোনালি দিনগুলোর তুলনায় আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি যে পর্যায়ে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, তা হয়তো হয়ে ওঠেনি। তাই শুধু এফডিসিকেন্দ্রিক নয়, বরং পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত ও উন্নত করা যায়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।’



চলচ্চিত্র অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে বিএফডিসির উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র খাতের স্বকীয়তা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত আগ্রহী।



তিনি বলেন, ‘আমরা সম্ভবত সেই শেষ প্রজন্ম, যারা বাংলা সিনেমার সেরা সময়গুলোর মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। চলচ্চিত্র খাতের বর্তমান সংকট কাটাতে এবং এর আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করবে।’ অনুষ্ঠানে বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।



অনুভূতি প্রকাশ করে কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছোটবেলায় প্রতিদিন এফডিসিতে রেকর্ডিং করতাম। এখান থেকে হাজার হাজার কালজয়ী গান সৃষ্টি হয়েছে। চলচ্চিত্র পরিচালকদের কারণেই আমি আজ সাবিনা ইয়াসমিন হতে পেরেছি।’



চলচ্চিত্র শিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য গুণী ব্যক্তিত্ব ও নির্মাতাদের অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এ জে মিন্টু, প্রযোজক ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, চলচ্চিত্র পরিচালক ড. মতিন রহমান ও মশিউদ্দীন শাকের। 



অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহিন সুমন। এছাড়া সমিতির মহাসচিব শাহিন কবির টুটুল, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি-সহ অনুষ্ঠানে দেশবরণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।







প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

দেশে আরও ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও ৩টি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। জ্বালানি খাতে সরকারের নানা উদ্যোগের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধানে মধ্য মেয়াদে দেশজুড়ে ১৫০টি নতুন কূপ খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের কার্যক্রম শুরু হবে। এলএনজির সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুটি টার্মিনালের সঙ্গে আরও তিনটি টার্মিনাল যোগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর জন্য এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া গেছে এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।



বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মাহদী আমিন। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি দেশের প্রধান ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস সরবরাহের সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি দ্রুততম সময়ে বাস্তবতার নিরিখে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর গ্যাসের প্রবাহ অনেকটাই বেড়েছে। গ্যাসের দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।



বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়, বিশেষ করে আশপাশের যেকোনো দেশের তুলনায় ডিজেলের দাম বাংলাদেশে অপেক্ষাকৃত কম বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এই খাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণের ওপর চাপ না পড়ে।



ফ্যাসিবাদী সংগঠনের নেতাদের বিচার তরান্বিত

মাহদী আমিন বলেন, গত এক মাসে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অসাধারণ অগ্রগতি দেখেছি। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের প্রতি সুবিচার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় ফ্যাসিবাদী সংগঠনের গণহত্যাকারীদের সাত জনের বিরুদ্ধে আদালতের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে গত মঙ্গলবার রায় দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের সমস্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে এ বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বৃত্তি করে প্রাপ্ত অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোন বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার এবং আহতদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করার আদেশ দিয়েছে আদালত। 



মুডিস রেটিং এ ‘সুখবর’

বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে আবার ‘স্থিতিশীল’ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিস রেটিংস। এ ঘটনাকে ‘সুখবর’ উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিসের রেটিংয়ে বাংলাদেশ একটা লম্বা সময় পর নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফেরত এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য সারা বিশ্বে একটা স্থিতিশীল রাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদা বাড়বে। এছাড়া ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট অর্থাৎ নারী-যুবকদের ক্ষমতায়নের জন্য যে কর্মসংস্থান প্রয়োজন, সেটিও একটি ইতিবাচক ধারায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে কিংবা গত মাসে এই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে মূল্যস্ফীতি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে মূল্যস্ফীতির হার কমে এসেছে। খাদ্যপণ্য ও দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির যে হার, সেটা কমে এসেছে।



সাত ভাগে জনকল্যাণ উদ্যোগ

সাত ভাগে বিভক্ত করে সরকার জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এগুলো হচ্ছে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, গণমানুষের সার্বিক কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়ন, নারীর অগ্রযাত্রা, সর্বজনীন কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীল শিল্পায়ন, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, জনকূটনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক।



বর্তমান সরকার প্রথাগত শাসনপদ্ধতির বেড়াজাল ভেঙে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে চায় দাবি করে মাহদী আমিন বলেন, আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে দায়বদ্ধতা ও পরিকল্পনার পরিচয় দিয়ে চলেছেন, তা আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও প্রশংসিত হচ্ছে। তরুণ সমাজের ক্ষমতায়ন থেকে শুরু করে কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, যুগোপযোগী যোগাযোগব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার যে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পদযাত্রা।



প্রবাসী আয় বাড়ছে

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও বিশ্ববাজারের তীব্র চাপের মধ্যেও সরকারের সফল মুদ্রানীতিতে ৬ মাসে দেশে প্রবাসী আয় ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রতিবছর ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈধ উপায়ে ইতালিতে অভিবাসনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। ওমানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশ কর্মীদের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কৃষি ও আধুনিক মৎস্য আহরণ খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার চেয়ে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত রেখে সারের সরবরাহ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা মাহদী আমিন।


১৬ বছরের ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুনভাবে পুনর্গঠন শুরু

১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে বাংলাদেশকে সরকার নতুনভাবে পুনর্গঠন করছে বলে মন্তব্য করে মাহদী আমিন বলেন, মাত্র সাত মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা দুরূহ। তবে সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা দৃশ্যমান। বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহির মাধ্যমেই জনগণের প্রকৃত কল্যাণ সাধনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈদেশিক ঋণের চাপ সফলভাবে মোকাবিলা করা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভিন্ন ধরনের অতিপ্রয়োজনীয় সংস্কার, দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, আধুনিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে। এ ছাড়া প্রতিটি পদক্ষেপে সরকারের দেশপ্রেম ও জনকল্যাণমুখী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে। এই সাফল্যগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল, স্বাবলম্বী ও মেধাভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রূপান্তরের যে সুদৃঢ় পথযাত্রা, সেটি আরও বিকশিত করবে। দল, মত, পথ ও ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সরকারের মূল লক্ষ্য সবার আগে বাংলাদেশ।



স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ

মাহদী আমিন বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাকি আটটি বিভাগীয় শহরে ১৫ তলা বিশিষ্ট সর্বাধুনিক বিশেষায়িত পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা, বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিতে নবনির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল আধুনিক আন্তর্জাতিক কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা মডেলে পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তৃণমূলের কিডনি রোগীদের জীবন বাঁচাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সুলভে আধুনিক ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বগুড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংখ্যাকে ১৮‘শতে উন্নীতকরণের বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



উন্নত চিকিৎসায় রংপুর মেডিকেল কলেজ চত্বরে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি সেন্টারের নির্মাণের ভিত্তি স্থাপন, দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবা ও রোগীদের তথ্য একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করতে ন্যাশনাল ই হেলথ প্লাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা, তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কমিউনিটি ক্লিনিকে জরুরি ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ পুনর্বহাল, সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলে বিগত পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সারাদেশে মোট ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার শিশুকে সফলভাবে হাম রুবেলের টিকা প্রদান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে ভ্যাকসিন তৈরির কারখানা স্থাপনের জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় তীব্র সংকট নিরসনে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিশুদ্ধ সুপ্রিয় পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ, ডেঙ্গুর প্রকোপ রুখতে হাসপাতালে বিশেষ ওয়ার্ডে প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সমন্বিত তিন মাসের দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর নীতিমালার ফলে বিগত ছয় মাসে সরকারের গুদামে অতিরিক্ত দেড় লক্ষে খাদ্যশস্য মজুদ বৃদ্ধির কথা বলেন মাহদী আমিন।



সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ২১২ দিন চলছে। সরকারের অনেক কাজের ইতিবাচক ফল এরই মধ্যে জনগণ পেয়েছে। কিছু কাজের ফল পেতে সময় লাগবে। ধৈর্য ধরলে ভালো ফল পাবে দেশের জনগণ। তিনি আরও বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। জনজীবনে স্বস্তি, শাস্তি, নিরাপত্তা বিধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক, তা জনগণ অনুভব করতে শুরু করেছে।



প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এএসএম মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আশরোফা ইমদাদ, মিডিয়া সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম, চিকিৎসক আ ন ম মনোয়ারুল কাদির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।






এহসান মাহমুদ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩০ পিএম

সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। 


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬-এর ধারা ১২(২) অনুযায়ী তাকে এই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের মেয়াদে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। এই নিয়োগের অন্যতম শর্ত হিসেবে তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করতে হবে। উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।


নবনিযুক্ত মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ তার নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তির পর বলেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। এর গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 


তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে এ দেশের মানুষের নতুন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র, সম-অধিকার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে শিক্ষা জুলাই থেকে পাওয়া গেছে, তা সামনে রেখেই তিনি কাজ করতে চান। সবার সম্মিলিত সংযোগ ও সক্রিয়তায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, চর্চা ও গবেষণার পাশাপাশি এই জাদুঘরকে একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠে রূপ দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।


মাদারীপুরে জন্মগ্রহণকারী এহসান মাহমুদের পৈতৃক নিবাস বরিশালের মুলাদীতে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রিধারী এই সাংবাদিক তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে দৈনিক সমকাল, দেশ রূপান্তর, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা, মানবজমিন এবং নেত্র নিউজসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সৃজনশীল সাহিত্যেও তার উজ্জ্বল উপস্থিতি রয়েছে। তার প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উপন্যাস ‘একাত্তরের লালমিয়া’ ও ‘কোকিল অসময়ে ডাকিয়াছিল’, এবং কবিতার বই ‘আদিবাসী প্রেমিকার মুখ’। এছাড়া প্রবন্ধ ও রাজনীতি বিষয়েও তার প্রকাশনা রয়েছে। 


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১১ পিএম

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩২০ শিশু। বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।


এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৪৪ শিশুর। হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ৪৪ শিশু মারা গেছে। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৩৯। এই সময়ে ১ হাজার ১৪১ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৭৯ শিশু।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ২৮২। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে।